সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
shafinchowdhury

প্রবন্ধ যেসব উলামাগণ শুধু গোপনাঙ্গ কে সতর বলেছেন পর্ব-১

shafinchowdhury

Salafi

Salafi User
LV
5
 
Awards
15
Credit
402
যেসব উলামাদের মতে কেবল সামনের ও পেছনের গোপনাঙ্গ সতর বলে পরিগণিত এবং উরু বা থাই আওরাহ/সতর এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের দলিলসমূহ: (পর্ব-১)

১. ইমাম ইবনু হাযম আল আন্দালুসি (রাহিমাহুল্লাহ)

ইবনু হাযম বলেন,

مسألة: والعورة المفترض سترها على الناظر وفي الصلاة -: من الرجل: الذكر وحلقة الدبر فقط؛ وليس الفخذ منه عورة وهي من المرأة: جميع جسمها، حاشا الوجه، والكفين فقط، الحر، والعبد، والحرة، والأمة، سواء في كل ذلك ولا فرق

সালাত আদায়কালীন সালাত আদায়কারী ব্যক্তিকে তার সতর ঢাকতে হবে। পুরুষের ক্ষেত্রে: সামনের এবং পেছনের গোপনাঙ্গ হচ্ছে আওরাহ। পুরুষের উরু আওরাহ নয়। আর নারীর ক্ষেত্রে: হাতের তালু ও চেহারা ব্যতীত সমস্ত শরীরই তার আওরাহ। স্বাধীন ও কৃতদাস পুরুষ এবং স্বাধীন ও কৃতদাস নারী - প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এই বিধান এক এবং এই বিধানের কোনো তারতম্য নেই।

(আল মুহাল্লা বিল আছার ২য় খণ্ড ২৪১ পৃষ্ঠা, মাক্তাবা শামেলা)

অতঃপর ইমাম ইবনু হাযম সহীহ মুসলিম এর এই হাদিসটি বর্ণনা করেন:

عن المسور بن مخرمة، قال أقبلت بحجر أحمله ثقيل وعلى إزار خفيف - قال - فانحل إزاري ومعي الحجر لم أستطع أن أضعه حتى بلغت به إلى موضعه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ارجع إلى ثوبك فخذه ولا تمشوا عراة ‏"‏

‎মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাঃ) বলেন, আমি একটি ভারী পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আর তখন আমার পরনে ছিল একটা পাতলা লুঙ্গি। তিনি বলেন, এরপর আমার লুঙ্গি খুলে গেল। পাথরটি তখন আমার কাছে ছিল। তাই আমি লুঙ্গি তুলে নিতে পারলাম না। এমনিভাবে আমি পাথরটি যথাস্থানে নিয়ে গেলাম। এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, তোমার কাপড়ের কাছে ফিরে গিয়ে তা নিয়ে এসো। আর কখনো উলঙ্গ হয়ে চলবে না (সহিহ মুসলিম, হা/৬৬০)

ইবনু হাযম বলেন, ইযার উপরে তোলা ফরয এটি সঠিক তবে উরুর ক্ষেত্রে বিধান এক নয়। কেননা - (ইবনু হাযম অতঃপর সহীহ বুখারীর হাদিসটি বর্ণনা করছেন)

عن أنس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم غزا خيبر، فصلينا عندها صلاة الغداة بغلس، فركب نبي الله صلى الله عليه وسلم وركب أبو طلحة، وأنا رديف أبي طلحة، فأجرى نبي الله صلى الله عليه وسلم في زقاق خيبر، وإن ركبتي لتمس فخذ نبي الله صلى الله عليه وسلم، ثم حسر الإزار عن فخذه حتى إني أنظر إلى بياض فخذ نبي الله صلى الله عليه وسلم

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ খাইবার অভিযানে বের হয়েছিলেন, তখন আমরা সেখানে খুব অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করি। অতঃপর নবী (ﷺ) সওয়ার হলেন। আবু তালহা (রাঃ)-ও সওয়ার হলেন এবং আমি আবূ তালহার পিছনে সওয়ার ছিলাম। নবী ﷺ খাইবারের পথ ধরে দ্রুত এগোলেন। আমার হাঁটু নবী ﷺ এর উরু স্পর্শ করছিল। অতঃপর, তিনি তার উরু থেকে ইযার সড়ালেন। এমনকি আমি তার উরুর শুভ্রতা পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিলাম। (সহীহ বুখারী ৩৭১ ইন্টা:)
.

ইমাম ইবনু হাযম হাদিসটি উল্লেখ্য করে বলেন,

فصح أن الفخذ ليست عورة ولو كانت عورة لما كشفها الله عز وجل عن رسوله - صلى الله عليه وسلم - المطهر المعصوم من الناس في حال النبوة والرسالة؛ ولا أراها أنس بن مالك، ولا غيره، وهو تعالى قد عصمه من كشف العورة في حال الصبا وقبل النبوة

উরু আওরাহ এর অন্তর্ভুক্ত নয় এটাই সত্য। এটা আওরাহ হলে আল্লাহ আজ্জা ওয়াযাল তার মনোনীত রাসূল, যিনি কিনা মানবকুলের মাঝে সবচেয়ে পবিত্র এবং নিষ্পাপ ব্যক্তি হিসেবে নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তার মাধ্যমে আওরাহ প্রকাশ করাতেন না। আনাস বিন মালিক বা অন্য কেউ নয় বরং আল্লাহ তা'আলা-ই রাসূল ﷺ এর যৌবনকালে এবং তার নব্যুয়তের পূর্বেও তার আওরাহ উন্মোচিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।

(আল মুহাল্লা ২/২৪২, মাক্তাবা শামেলা)

অতঃপর, ইবনু হাযম তার এই কথার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেন -

جابر بن عبد الله، يحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ينقل معهم الحجارة للكعبة وعليه إزاره‏.‏ فقال له العباس عمه يا ابن أخي، لو حللت إزارك فجعلت على منكبيك دون الحجارة‏.‏ قال فحله فجعله على منكبيه، فسقط مغشيا عليه، فما رئي بعد ذلك عريانا صلى الله عليه وسلم‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর রসূল (ﷺ) (নবুওয়াতের পূর্বে) কুরাইশদের সাথে কা’বার (মেরামতের) জন্যে পাথর তুলে দিচ্ছিলেন। তাঁর পরিধানে ছিল লুঙ্গি। তাঁর চাচা আ’ব্বাস (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ ভাতিজা! তুমি লুঙ্গি খুলে কাঁধে পাথরের নীচে রাখলে ভাল হ’ত। জাবির (রাঃ) বলেনঃ তিনি লুঙ্গি খুলে কাঁধে রাখলেন এবং তৎক্ষণাৎ বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। এরপর তাঁকে আর কখনো নগ্ন অবস্থায় দেখা যায়নি। (সহিহ বুখারী, হা/৩৬৪)
.
جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال لما بنيت الكعبة ذهب النبي وعباس ينقلان الحجارة فقال عباس للنبي صلى الله عليه وسلم اجعل إزارك على رقبتك يقيك من الحجارة فخر إلى الأرض وطمحت عيناه إلى السماء ثم أفاق فقال إزاري إزاري فشد عليه إزاره

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) আরো বলেন, যখন কা‘বা গৃহ পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন নবী (ﷺ) ও ‘আব্বাস (রাঃ) পাথর বয়ে আনছিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) নবী (ﷺ) - কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের উপর রাখ, পাথরের ঘর্ষণ হতে তোমাকে রক্ষা করবে। (লুঙ্গি খুলতেই) তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। তাঁর চোখ দু’টি আকাশের দিকে নিবিষ্ট ছিল। তাঁর চেতনা ফিরে এল, তখন তিনি বলতে লাগলেন, আমার লুঙ্গি, আমার লুঙ্গি। তৎক্ষণাৎ তাঁর লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। (সহিহ বুখারী, হা/ ৩৮২৯)
.

ইমাম ইবনু হাযম বর্ণনা করেন,

عن أبي العالية البراء، قال أخر ابن زياد الصلاة فجاءني عبد الله بن الصامت فألقيت له كرسيا فجلس عليه فذكرت له صنيع ابن زياد فعض على شفته وضرب فخذي وقال إني سألت أبا ذر كما سألتني فضرب فخذي كما ضربت فخذك وقال إني سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم كما سألتني فضرب فخذي كما ضربت فخذك وقال ‏ "‏ صل الصلاة لوقتها فإن أدركتك الصلاة معهم فصل ولا تقل إني قد صليت فلا أصلي

আবুল আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ) বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ সলাত আদায় করতে দেরী করল। এরপরেই আব্দুল্লাহ ইবনুস্ সামিত আমার কাছে এলেন। আমি তাকে একখানা চেয়ার পেতে দিলে তিনি বসলেন। তখন আমি তার কাছে আবদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ - এর কৃতকর্মের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি ঠোঁট কামড়িয়ে সজোরে আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন - আমিও এ ব্যাপারে আবূ যারকে জিজ্ঞেস করে ছিলাম, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে। আর যেভাবে আমি তোমার উরুর উপরে সজোরে হাত মারলাম তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে ঠিক তেমনি আমিও রসূলুল্লাহ (ﷺ) - কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর আমি যেমন তোমার উরুর উপর সজোরে আঘাত করলাম ঠিক তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নিবে। তবে সবার সাথে জামা‘আতে যদি সলাত আদায় করার সুযোগ হয় তাহলে তাদের সাথেও সলাত আদায় করে নিবে - এক্ষেত্রে বলবে না যে, আমি সলাত আদায় করে নিয়েছি তাই এখন আমি সলাত আদায় করব না। (সহিহ মুসলিম হা/১৩৫৫)

এই হাদিস পেশ করার পর ইবনু হাযম বলেন,

فلو كانت الفخذ عورة لما مسها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - من أبي ذر أصلا بيده المقدسة، ولو كانت الفخذ عند أبي ذر عورة لما ضرب عليها بيده: وكذلك عبد الله بن الصامت، وأبو العالية. وما يستحل مسلم أن يضرب بيده على ذكر إنسان على الثياب، ولا على حلقة دبر الإنسان على الثياب، ولا على بدن امرأة أجنبية على الثياب ألبتة وقد «منع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - من القود من الكسعة وهي ضرب الأليتين على الثياب بباطن القدم، وقال دعوها فإنها منتنة»

যদি উরু আওরাহ হতো তাহলে আল্লাহর রাসূল ﷺ তার পবিত্র হাতদ্বয় দিয়ে আবু যার এর উরু স্পর্শ করতেন না। যদি আবু যার এর উরু আওরাহ হতে তবে তিনি তার হাত দিয়ে তাতে আঘাত করতেন না, তেমনিভাবে আব্দুল্লাহ আস সামিত ও আবুল আলিয়াহ ও তা করতেন না। রাসূলুল্লাহ ﷺ কাসআ করতে তথা পশ্চাতদেশে পরিধেয় কাপড়ের উপর পায়ের তলা দিয়ে আঘাত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, "এরকম ডাকাডাকি বন্ধ করো, এটি খুবই ঘৃণিত কাজ"।
(আল মুহাল্লা ২/২৪৩, মাক্তাবা শামেলা)

বি:দ্র: ইমাম ইবনু হাযম এখানে الكسعة দিয়ে নিম্নোক্ত হাদিসকে ইঙ্গিত করেছেন (অনুবাদক) -

جابر بن عبد الله رضي الله عنهما يقول كنا في غزاة فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال الأنصاري يا للأنصار وقال المهاجري يا للمهاجرين فسمعها الله رسوله صلى الله عليه وسلم قال ما هذا فقالوا كسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال الأنصاري يا للأنصار وقال المهاجري يا للمهاجرين فقال النبي صلى الله عليه وسلم دعوها فإنها منتنة

জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এক যুদ্ধে আমরা যোগদান করেছিলাম। জনৈক মুহাজির আনসারদের এক ব্যক্তির নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী সাহাবী “আনসারী ভাইগণ!” বলে এবং মুহাজির সহাবী “হে মুহাজির ভাইগণ!” বলে ডাক দিলেন। আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের কানে এ কথা পৌঁছিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এটা কেমন ডাকাডাকি? উপস্থিত লোকেরা বললেন, জনৈক মুহাজির ব্যক্তি এক আনসারী ব্যক্তির নিতম্বে আঘাত করেছে। আনসারী ব্যক্তি “হে আনসারী ভাইগণ!” বলে এবং মুহাজির ব্যক্তি “হে মুহাজির ভাইগণ!” বলে নিজ নিজ গোত্রকে ডাক দিলেন। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) বললেন, এ রকম ডাকাডাকি বন্ধ কর, এগুলো অত্যন্ত ঘৃণিত কথা। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৯০৭ এবং ৪৯০৫)
.

অতঃপর ইমাম ইবনু হাযম একটি ইসরাঈলী রেওয়ায়েত বর্ণনা করেন -

كانت بنو إسرائيل يغتسلون عراة، ينظر بعضهم إلى بعض، وكان موسى يغتسل وحده، فقالوا والله ما يمنع موسى أن يغتسل معنا إلا أنه آدر، فذهب مرة يغتسل، فوضع ثوبه على حجر، ففر الحجر بثوبه، فخرج موسى في إثره يقول ثوبي يا حجر‏.‏ حتى نظرت بنو إسرائيل إلى موسى، فقالوا والله ما بموسى من بأس‏.‏ وأخذ ثوبه، فطفق بالحجر ضربا

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের লোকেরা নগ্ন হয়ে একে অপরকে দেখা অবস্থায় গোসল করতো। কিন্তু মূসা (‘আঃ) একাকী গোসল করতেন। এতে বানী ইসরাঈলের লোকেরা বলাবলি করছিল, আল্লাহর কসম, মূসা (‘আঃ) ‘কোষবৃদ্ধি’ রোগের কারণেই আমাদের সাথে গোসল করেন না। একবার মূসা (‘আঃ) একটা পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল করছিলেন। পাথরটা তাঁর কাপড় নিয়ে পালাতে লাগল। তখন মূসা (‘আঃ) “পাথর! আমার কাপড় দাও,” “পাথর! আমার কাপড় দাও”, বলে পেছনে পেছনে ছুটলেন। এদিকে বাণী ইসরাঈল মূসার দিকে তাকাল। তখন তারা বলল, আল্লাহর কসম মূসার কোন রোগ নেই। মূসা (‘আঃ) পাথর থেকে কাপড় নিয়ে পরলেন এবং পাথরটাকে পিটাতে লাগলেন। (সহিহ বুখারী, হা/২৭৮)

বিঃদ্রঃ - মূল কিতাবের নুসখায় আংশিক বর্ণনায় থাকায় সহীহ বুখারী থেকে মূল বর্ণনাটি উল্লেখ্য করা হলো। - অনুবাদক।

(আল মুহাল্লা ২/২৪৩, মাক্তাবা শামেলা)
.

এই বর্ণনাটির প্রেক্ষিতে যারা ইবনু হাযমের পূর্বে পেশ করা যুক্তিসমূহকে নাকোচ করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,

قلنا: نعم، ولا حجة لكم في هذا، لوجهين -: أحدهما: أنه ليس عندنا كشف العورات في شريعة موسى - عليه السلام - وفي ذلك الخبر نفسه: أن بني إسرائيل كانوا يغتسلون عراة، وكان موسى - عليه السلام - يغتسل في الخلاء، ولم يأت أنه - عليه السلام - نهاهم عن الاغتسال عراة وقد يستتر - عليه السلام - حياء، كما ستر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ساقه حياء من عثمان؛ وليست ساق الرجل عورة عند أحد والثاني: أنه ليس في الحديث: أنهم رأوا من موسى: الذكر - الذي هو عورة - وإنما رأوا منه هيئة تبينوا بها أنه مبرأ مما قالوه من الأدرة؛ وهذا يتبين لكل ناظر بلا شك بغير أن يرى شيئا من الذكر، لكن بأن يرى ما بين الفخذين خاليا - فبطل تعلقهم بهذا الخبر فإن ذكروا الأخبار الواهية في أن الفخذ عورة؛ فهي كلها ساقطة.

আমরা বলছি, দুটি কারণে এটি তাদের জন্য দলিল হতে পারে না: তন্মধ্যে একটি হলো, আমরা মূসা (আঃ) এর শরীয়তের আওরাহ এর ব্যাপারে জানি না। বনী ইসরাঈল এর নগ্ন হয়ে গোসল করার কথা ও মূসা (আঃ) এর একাকী খোলা জায়গায় গোসল করার কথা যেই বর্ণনায় এসেছে সেখানে মূসা (আঃ) থেকে তাদেরকে নগ্ন হয়ে গোসল করতে নিষেধ করার কোনো কথা উল্লেখ নেই এবং হতে পারে মূসা (আঃ) লজ্জার জন্য একাকী গোসল করতেন। যেভাবে রাসূল (ﷺ) লজ্জা পেয়ে উছমান (রাঃ) এর সামনে তার পা ঢেকেছিলেন। বস্তুত, পা কোনো পুরুষের জন্য আওরাহ নয়।

দ্বিতীয় কারণ, হাদিসে এটা উল্লেখ্য নেই যে তারা মুসা (আঃ) এর গোপনাঙ্গ দেখেছিল, যেটা তার আওরাহ। বরং তারা তাকে এমন এক অবস্থায় দেখেছিল যাতে তাদের আরোপিত অভিযোগ থেকে তিনি মুক্ত প্রমাণিত হয়েছিলেন। এতে সন্দেহাতীতভাবে পরিষ্কার হয়ে যায় যে কোনো গোপনাঙ্গ দেখা ব্যতীতই তারা দুই উরুর মাঝের পায়ের ফাঁকা জায়গা দেখেছে। তাই এই বর্ণনার সাথে তাদের দলিলের সম্পৃক্ততা বাতিল। এরপরেও এই বর্ণনাকে কেউ দলিল হিসেবে নিলে সে দুশ্চরিত্রবান লোক।

أما حديث جويبر -: فإنه عن ابن جوهر؛ وهو مجهول، وعن مجهولين، ومنقطع

জুওয়াইবির এর হাদিসটি ইবন জাওহার নামক এক মাজহুল থেকে মাজহুক রাবীদের সূত্রে বর্ণিত আর এর সনদ মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)।

(আল মুহাল্লা ২/২৪৪, মাক্তাবা শামেলা)

অতঃপর ইবনু হাযম বলেন,

وفي أن الفخذ عورة من طريق قبيصة بن مخارق، فيه: سليمان بن سليمان ومحمد بن عقبة، وجرير بن قطن؛ وهم مجهولون لا يعرف من هم. ومن طريق ابن جحش، فيه أبو كثير، وهو مجهول. ومن طريق علي، منقطع، رواه ابن جريج عن حبيب بن أبي ثابت، ولم يسمعه منه، بينهما من لم يسم ولا يدرى من هو، ورواية حبيب بن أبي ثابت عن عاصم بن ضمرة، ولم يسمعه منه، قال ابن معين: بينهما رجل ليس بثقة، ولم يروه عن ابن جريج إلا أبو خالد، ولا يدرى من هو. ومن طريق ابن عباس، فيها أبو يحيى القتات، وهو ضعيف. ومن طريق ابن عباس، فيه مجهولون لا يدرى من هم. ومن طريق سفيان الثوري: أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وهذا لا شيء. وحتى لو لم يأت من الآثار الثابتة التي ذكرنا شيء لما جاز أن يقطع على عضو بأنه عورة تبطل الصلاة بتركه -: إلا ببرهان، من نص أو إجماع.

"উরু হচ্ছে আওরাহ" এটি কুবাইসা বিন মুখারিক থেকে বর্ণিত, যার সনদে সুলায়মান বিন সুলায়মান, মুহাম্মাদ বিন উকবা এবং জারির বিন কাত্বান রয়েছে, তারা সকলেই মাজহুল। তাদের কোনো পরিচয় জানা যায় না। ইবন জাহশ এর বর্ণনাটিতে আবু কাছির নামক রাবী রয়েছে যে মাজহুল। আলীর সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি মুনকাতি। এটি ইবন জুরাইজ এর সূত্রে হাবিব বিন আবি ছাবিত থেকে থেকে বর্ণিত রয়েছে তবে তিনি তার থেকে হাদিস শ্রবণ করেননি। তাদের মাঝে একজন রাবী ছিল কিন্তু তিনি তার নাম উল্লেখ করেননি এবং সেই রাবী কে ছিল তা জানা যায় না। আর হাবিব বিন আবি ছাবিত আসিম বিন দ্বামরাহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তার থেকে শ্রবণ করেননি। ইবনু মাঈন বলেন, তাদের মাঝে এক বর্ণনাকারী রয়েছে যে ছিকাহ নয় এবং ইবন জুরাইজ এর সূত্রে আবু খালিদ ব্যতীত এর কেউই এটি বর্ণনা করেনি। ইবনু আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েতে আবু ইয়াহইয়া আল কাতাত রয়েছে এবং সে দ্বঈফ রাবী। ইবনু আব্বাসের সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েতে অনেক মাজহুল রাবী রয়েছে যাদের পরিচয় জানা যায় না। সুফিয়ান ছাওরীর সূত্রে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত হাদিসটিও শুদ্ধ নয়।

উরু আওরাহ কিনা এই সংক্রান্ত যেই দুর্বল বর্ণনাগুলো আমরা উল্লেখ্য করেছি সেগুলো থেকে কোনো দলিল না পেলেও কিছু আসে যায় না, কারণ শরীরের কোনো অংশকে আওরাহ সাব্যস্ত করে সেটা খোলা রাখলেই সালাত বাতিল হয়ে যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই দাবির স্বপক্ষে কোনো নস (কুরআন হাদিসের টেক্সট) বা ইজমা পাওয়া যায়।

(আল মুহাল্লা ২/২৪৫, মাক্তাবা শামেলা)

অতঃপর ইমাম ইবনু হাযম সারসংক্ষেপে হাদিস বর্ণনা করেন -
বদরের যুদ্ধে আলী (রাঃ) গণিমতের মাল স্বরূপ রাসূল ﷺ থেকে দুটো উট পেয়েছিলেন তখন হামযাহ সেই উটগুলো হত্যা করে। আলী (রাঃ) রাসূল ﷺ এর দরবারে নালিশ নিয়ে গেলে তিনি হামযাহ এর নিকট যেয়ে তাকে মদ্যপ/নেশাগ্রস্থ অবস্থায় পান।

فطفق رسول الله صلى الله عليه وسلم يلوم حمزة فيما فعل فإذا حمزة ثمل محمرة عيناه فنظر حمزة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم صعد النظر فنظر إلى ركبتيه ثم صعد النظر فنظر إلى سرته ثم صعد النظر فنظر إلى وجهه ثم قال حمزة وهل أنتم إلا عبيد لأبي فعرف رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه ثمل فنكص رسول الله صلى الله عليه وسلم على عقبيه القهقرى فخرج وخرجنا معه

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হামযাহকে তাঁর কৃতকর্মের জন্য র্ভৎসনা করতে লাগলেন। তখন হামযাহ ছিলেন নেশায় বিভোর, নেশার কারনে তার চোখ লাল হয়ে ছিলো। তিনি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে তার হাটুদয়ের প্রতি তাকালেন, কিছুক্ষন পর আবার দৃষ্টি সরিয়ে তাঁর নাভির দিকে লক্ষ্য করলেন; পুনরায় দৃষ্টি সরিয়ে তাঁর চেহারার দিকে তাকালেন; অতঃপর বললেন, তোমরা আমার পিতার গোলাম ছাড়া কিছু নও। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বুঝতে পারলেন, হামযাহ এখন নেশাগ্রস্থ। মাতাল অবস্থায় তার ক্রোধ আরো বাড়তে পারে আশঙ্কায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে ফিরে গেলেন। ফলে আমরাও তার সাথে বেরিয়ে আসি। (বর্ণনাটি আবু দাউদের, সুনানে আবু দাউদ, হা/২৯৮৬, হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম ও বর্ণনা করেছেন - সহীহ বুখারী ৩০৯১, সহীহ মুসলিম ৫০২৩)

ইবনু হাযম হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন,

فلو كانت السرة عورة لما أطلق الله حمزة ولا غيره على النظر إليها.

যদি রাসূল ﷺ এর নাভি আওরাহ হতো তাহলে আল্লাহ হামযাহ কে বা অন্য কাউকেই সেটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দিতেন না।

(আল মুহাল্লা ২/২৪৬, মাক্তাবা শামেলা)

অতঃপর ইমাম ইবনু হাযম হাদিস বর্ণনা করেন,

‎ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ عَلَى وَرِكِهِ مِنْ وَثْءٍ كَانَ بِهِ ‏.‏

নবী (ﷺ) এর হাড় মচ্‌কে গেলে তিনি এর জন্য হিজামা করান। (আবু দাউদ, হা/ ৩৮৬৩)

ইমাম ইবনু হাযম বলেন,

فلو كان الورك عورة ما كشفها - عليه السلام - إلى الحجام وهذا إسناد أعظم آمالهم أن يظفروا بمثله لأنفسهم وأما نحن فغانون بالصحيح على ما لا نراه حجة

যদি কটি (উরুর মাংসের সন্ধিস্থল) আওরাহ হতো তবে রাসূল ﷺ কখনোই হাজ্জামের (হিজামাকারী) সম্মুখে তা উন্মোচিত করতেন না। তার নিজে আমলই থেকেই তিনি নিজের জন্য কী মেনে চলতেন এর অন্যতম মজবুত দলিল দেয়া যায়। আর আমরা দলিল না দেখেই সঠিক কোনটা তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি।

(আল মুহাল্লা ২/২৪৬, মাক্তাবা শামেলা)

অনুবাদক - সাফিন চৌধুরী
Facebook: Shafin Chowdhury
 

Create an account or login to comment

You must be a member in order to leave a comment

Create account

Create an account on our community. It's easy!

Log in

Already have an account? Log in here.

Total Threads
13,355Threads
Total Messages
17,220Comments
Total Members
3,683Members
Latest Messages
imranexLatest member
Top