সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
abdulazizulhakimgrameen

হালাল - হারাম ইসলামে ছবি ও ডিজিটাল ছবির বিধান।

abdulazizulhakimgrameen

Altruistic

Uploader
Salafi User
LV
12
 
Awards
23
Credit
17,712
بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِالرَّحِیۡم

الحمد لله على آلائه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في أرضه وسمائه، وأشهد أن محمدً عبده ورسوله وخاتم أنبيائه، صلى الله عليه وعلى وآله وأصحابه صلاة دائمة إلى يوم لقائه وسلم تسليمًا كثيرًا

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। আসমান ও জমীনে তাঁর কোন শরীক নেই । আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তার পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ নাবী। তাঁর (মুহাম্মাদ ﷺ) উপর, তাঁর পরিবার বর্গের উপর এবং তাঁর সকল সাহাবার উপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত সদা-সর্বদা অজস্র সালাম ও শামিত্মর ধারা বর্ষিত হোক।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। আমার নেয়ামত পূর্ণরূপে প্রদান করলাম এবং তোমাদের জন্য মনোনিত করলাম ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে।” (মায়েদা: ৩)

এ সম্মানিত আয়াতটি নাযিল হয়েছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর বিদায় হজ্জে আরাফাত ময়দানে শুক্রবার দিবসে। উমার বিন খাত্তাব (রা.)এর বর্ণনায় হাদীছটি বুখারী ও মুসলিমে আছে। (দেখুন, বুখারী, অধ্যায়: ঈমান, অনুচ্ছেদ: ঈমান বাড়ে ও কমে। মুসলিম, অনুচ্ছেদ: তাফসীর, হা/৩০১৭)

আয়াতটি নাযিল হওয়ার সময় সেই দিবসের বিকেলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৮১দিন বেঁচে ছিলেন।

এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট বিবরণ দিয়েছেন যে, তিনি আমাদের দ্বীনকে এমনভাবে পরিপূর্ণ করেছেন, যাতে ত্রুটির কোন অবকাশ নেই। আর তাতে কখনো কোন কিছু সংযোজন করারও প্রয়োজন নেই। এ কারণেই তিনি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে পাঠিয়ে নবী-রাসূল আগমণের ধারাবাহিকতার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন।

আল্লাহ আরো স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি জীবন ব্যবস্থা হিসেবে আমাদের জন্য যা পছন্দ করেছেন তা হচ্ছে ‘ইসলাম’। অতএব এই ইসলামকে তিনি কখনোই অপছন্দ করবেন না। আর এই ইসলাম ব্যতীত মানুষের নিকট থেকে অন্য কিছুও তিনি গ্রহণ করবেন না। তাই তিনি অন্য স্থানে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন,

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

“যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা অনুসন্ধান করবে, তার থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।” (আল ইমরান: ৮৫)

তিনি আরো এরশাদ করেন,

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনিত দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম।” (আল ইমরান: ১৯)



দ্বীনকে পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে এবং তার যাবতীয় বিধি-বিধান বিশদরূপে বর্ণনা করার মাঝেই আছে ইহ-পরকালিন যাবতীয় কল্যাণ। এ জন্যেই আল্লাহ বলেন,

وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي

“আমার নেয়ামত তোমাদেরকে পূর্ণরূপে দান করলাম।” (মায়েদা: ০৩)

এই আয়াত সুস্পষ্ট প্রমাণ এ কথার যে, দুনিয়া ও আখেরাতে যতকিছুর প্রয়োজন মানুষ তার জীবনে অনুভব করবে, তার কোন কিছুরই বিবরণ দিতে ও উল্লেখ করতে ইসলাম বাদ রাখেনি।

অনুরূপভাবে ইসলামে হালাল-হারামের সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং এর যাবতীয় বিধি-বিধান উল্লেখ্য করা হয়েছে।

নির্ধারণের অধিকার শুধু আল্লাহর

হালাল ও হারাম নির্ধারণের অধিকার শুধু আল্লাহর। আল্লাহ এই অধিকার আর কাউকে দেননি। ইরশাদ হয়েছে:- قُلۡ أَرَءَيۡتُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ لَكُم مِّن رِّزۡقٍ فَجَعَلۡتُم مِّنۡهُ حَرَامًا وَحَلَٰلًا قُلۡ ءَآللَّهُ أَذِنَ لَكُمۡۖ أَمۡ عَلَى ٱللَّهِ تَفۡتَرُونَ

‘বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ তোমাদের যে জীবিকা দিয়েছেন তোমরা যে তার কিছু হালাল ও কিছু হারাম করেছ? বলুন, আল্লাহ কি তোমাদের এর অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করছ?’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৫৯)।

অত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট বলে দিয়েছেন কোন কিছু হালাল করার বা কোন কিছু হারাম করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। অন্য কারো জন্যে জায়েজ নেই।

সব জিনিসের ব্যাপারেই মূলনীতি হচ্ছে তা বৈধ

ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হল সকল কিছুই অবৈধ যতক্ষণ না বৈধ হওয়ার দলিল পাওয়া যায় আর অন্যান্য দুনিয়াবি সকল বিষয়ের ব্যাপারেই মূলনীতি হচ্ছে তা বৈধ যতক্ষণ না অবৈধ হওয়ার দলিল পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:- هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ لَكُم مَّا فِى ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعًا ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَسَوَّىٰهُنَّ سَبۡعَ سَمَٰوَٰتٍۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَىۡءٍ عَلِيمٌ

তিনিই যমীনে যা আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারপর আসমানের প্রতি খেয়াল করলেন এবং তাকে সাত আসমানে সুবিন্যস্ত করলেন। আর সব কিছু সম্পর্কে তিনি সম্যক জ্ঞাত। (সূরা বাকারাহ ২৯)

وَسَخَّرَ لَكُم مَّا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعًا مِّنۡهُۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٍ لِّقَوۡمٍ يَتَفَكَّرُونَ

আর যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে যমীনে, তার সবই তিনি তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। চিন্তাশীল কওমের জন্য নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (জাসিয়া১৩)।

أَلَمۡ تَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلۡأَرۡضِ وَأَسۡبَغَ عَلَيۡكُمۡ نِعَمَهُۥ ظَٰهِرَةً وَبَاطِنَةًۗ وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُجَٰدِلُ فِى ٱللَّهِ بِغَيۡرِ عِلۡمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَٰبٍ مُّنِيرٍ

তোমরা কি দেখ না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে। আর তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিআমত ব্যাপক করে দিয়েছেন; মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করে জ্ঞান, হিদায়াত ও আলো দানকারী কিতাব ছাড়া। (লোকমান ২০)।

এসকল আয়াত দ্বারা উক্ত বিষয় সুস্পষ্ট হয়। তাছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:- وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ

নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। আর এ উভয়ের মধ্যে এমন অনেক সন্দেহভাজন বিষয় বা বস্ত্ত আছে, যে ব্যাপারে অনেক মানুষই এগুলো হালাল, কি হারাম- এ বিষয়ে অবগত নয়।(সহীহ : বুখারী ৫২, মুসলিম ১৫৯৯, তিরমিযী ১২০৫, আবূ দাঊদ ৩৩৩০, আহমাদ ১৮৩৭৪, দারিমী ২৫৭৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৭৩১ মিশকাত ২৭৬২)।

উপরোক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায় হালাল স্পষ্ট হারাম স্পষ্ট করে আল্লাহ তায়ালা বর্ননা করেছেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ:: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فُرِضَ عَلَيْكُمُ الْحَجُّ فَحُجُّوا» فَقَالَ رَجُلٌ: أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثًا فَقَالَ: لَوْ قُلْتُ: نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ ثُمَّ قَالَ: ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْء فدَعُوه

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দানকালে বললেন, হে মানবমণ্ডলী! আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ওপর হজ্জ/হজ ফরয করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ্জ/হজ পালন করবে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! এটা (হজ্জ পালন) কি প্রত্যেক বছরই? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চুপ থাকলেন। লোকটি এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করলো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তবে তা (হজ্জ প্রতি বছর) ফরয হয়ে যেতো, যা তোমরা (প্রতি বছর হজ্জ পালন করতে) পারতে না। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে কিছু বলিনি সে ব্যাপারটি সেভাবে থাকতে দাও। কেননা তোমাদের পূর্বের লোকেরা বেশি বেশি প্রশ্ন করে ও তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদেরকে কোন বিষয়ে নির্দেশ করবো তা যথাসাধ্য পালন করবে এবং যে বিষয়ে নিষেধ করবো তা পরিত্যাগ করবে।(সহীহ : মুসলিম ১৩৩৭, নাসায়ী ২৬১৯, আহমাদ ১০৬০৭, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২৫০৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৭০৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৬১৫, ইরওয়া ৯৮০, মিশকাত ২৫০৫)।

সুতরাং কোন জিনিস হালাল আর কোন জিনিস হারাম তা স্পষ্ট বর্ণনা হয়েছে।

ছবি এর পরিচয়

"ছবি বলা হয় এমন কিছু তৈরি করা যার আকৃতি কোন বস্তুর উপর স্থির হয়ে যায়।" ছবির অনেক প্রকার রয়েছে (১) এমন ছবি যার ভিতরে রূহ নেই। (২) এমন ছবি যার ভিতরে রূহ আছে। ছবি আসলে কি এটা আমাদের বুঝতে হবে এবং মানুষের চোখ কিভাবে কাজ করে থাকে তা আমাদের জানতে হবে। মানুষ যখন কোন কিছু দেখে, তথন সে মূলত সেই বস্তুটির উপর যে আলো পরে তার প্রতিফলন দেখে থাকে। উদাহরণত ধরুন, জায়েদ নামে কেউ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে। এখন সে যদি অন্ধকার এর ভিতর থাকে বা এমন ঘরের ভিতরে যা ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন তখন আপনি তাকে দেখতে পাবেন না কারণ তার ওপর কোন আলো নেই। কিন্তু তার উপর যখন আলো পড়বে তখন আপনি তাকে দেখতে পাবেন কারণ সেই আলো প্রতিফলিত হয়ে যখন আপনার চোখে আসবে তখন আপনি দেখতে পাবেন। তাহলে এখানে দুটো বিষয় পাওয়া যায় (১) মূলগত বিষয় (২) মূলথেকে প্রতিফলিত বিষয়। এখানে মূলগত বিষয় হল যায়েদ নামে ব্যাক্তি যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন । সেই হল আল্লাহর তৈরি মূর্তি যাকে আল্লাহ কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন। আর যা আমরা দেখছি সেটি হলো সেই যায়েদ নামক ব্যাক্তির প্রতিফলিত আলো। তাহলে এখানে মূল হল যায়েদ এবং আমরা দেখছি যায়েদ এর প্রতিচ্ছবি। তাহলে এখানে দুইটি বিষয়ে দাঁড়ালো মূল ও প্রতিফলন।

ইসলমে ছবির বিধান

ইহা দুই প্রকার:-

(১) যার কোন রূহ নেই। এই ছবির যাবতীয় ব্যবহার বৈধ।

(২) যার ভিতরে রূহ আছে। এই ছবি নিয়ে মতভেদ আছে। আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় এই প্রকার ছবি নিয়ে। এই প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে:-

عَن أبي طَلْحَة قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلَا تصاوير»

আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) সে ঘরে প্রবেশ করেন না যাতে কুকুর রয়েছে এবং সে ঘরেও না যাতে আছে (প্রাণীর) ছবি।(সহীহ : বুখারী ৫৯৪৯, মুসলিম (৫৬৩৬)-২৬, আবূ দাঊদ ৪১৫৩, তিরমিযী ২৮৪, নাসায়ী ৪২৮২, ইবনু মাজাহ ৩৬৪৯, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫৮, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার ৩৬১৮, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৪৮৩, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ১৯৯৫২, মিশকাত ৪৪৮৯)।

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ المصوِّرون»

আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে ছবি প্রস্তুতকারীদের।(সহীহ : বুখারী ৬১০৯, মুসলিম (২১০৯)-৯৮, নাসায়ী ৫৩৬৪, সহীহুল জামি‘ ২৪৪৩, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫৫, আহমাদ ৪৯৮২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৫১০৭, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০১৫৩, মিশকাত ৪৪৯৭)।

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَيُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ»

আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক ছবি প্রস্তুতকারী জাহান্নামী। সে যতগুলো ছবি তৈরি করেছে (কিয়ামতের দিন) সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান করা হবে এবং জাহান্নামের শাস্তি দেয়া হবে।(সহীহ : বুখারী ২২২৫, মুসলিম ৫৬৬২, আহমাদ ২৮১০, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫৪, মিশকাত ৪৪৯৮)।

উপরোক্ত হাদিস ছাড়াও এ সম্পর্কে আরো বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যা প্রমাণ করে ছবি তৈরি করা হারাম। তবে কিছু ক্ষেত্রে তা বৈধ ও অবৈধ হওয়া বিষয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে।

(ক) অসম্মানিত কাজে বৈধ

একদল আলেম মনে করেন অসম্মানিত কাজে তা ব্যবহার করা বৈধ তারা দলিল দেন নিম্নে বর্ণিত হাদীস দ্বারা,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ: أَتَيْتُكَ الْبَارِحَةَ فَلَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَكُونَ دَخَلْتُ إِلَّا أَنَّهُ كَانَ عَلَى الْبَابِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِي الْبَيْتِ قِرَامُ سِتْرٍ فِيهِ تَمَاثِيلُ وَكَانَ فِي الْبَيْتِ كَلْبٌ فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِي عَلَى بَابِ الْبَيْتِ فَيُقْطَعْ فَيَصِيرُ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعْ فَلْيُجْعَلْ وِسَادَتَيْنِ مَنْبُوذَتَيْنِ تُوطَآنِ وَمُرْ بِالْكَلْبِ فَلْيُخْرَجْ . فَفَعَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আ.) আমার কাছে এসে বললেনঃ আমি গত রাতে আপনার কাছে এসেছিলাম, কিন্তু ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে আমাকে যে জিনিস বিরত রেখেছিল তা হলো গৃহদ্বারের ছবিগুলো এবং ঘরের দরজায় একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল, তাতে ছিল অনেকগুলো প্রাণীর ছবি। আর ঘরের ভেতরে ছিল একটি কুকুর। সুতরাং ঐ প্রতিকৃতিগুলোর মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দিন, যা ঘরের দরজায় রয়েছে, তা কাটা হলে তখন তা গাছ-গাছড়ার আকৃতি হয়ে যাবে এবং পর্দাটি সম্পর্কে নির্দেশ দিন, তাকে কেটে দু’টি গদি তৈরি করে নেবে, যা বিছানা এবং পায়ের নিচে থাকবে। আর কুকুরটি সম্পর্কে নির্দেশ দিন, যেন এটাকে অবশ্যই ঘর হতে বের করে দেয়া হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই করলেন। (সহীহ : তিরমিযী ২৯৭০, আবূ দাঊদ ৪১৫৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৫৪, সহীহুল জামি‘ ৬৮, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৬০, শু‘আবুল ঈমান ৬৩১৪, আস্ সুনানুস্ সুগরা ২৭১৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৪৯৭০)।

এই মতের দুর্বলতা :- আসলে উক্ত দলিলের উপর মন সন্তুষ্ট হয় না কারণ (১) যদি অসম্মান তাকে বৈধ করে তাহলে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম কেন মাথা কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। (২) ছবি সম্পর্কে অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَاأَنَّهَا اشْتَرَتْ نُمْرُقَةً فِيهَا تَصَاوِيرُ فَلَمَّا رَآهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ عَلَى الْبَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ فَعَرَفْتُ فِي وَجْهِهِ الْكَرَاهِيَةَ قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أتوبُ إِلى الله وإِلى رَسُوله مَا أذنبتُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا بَالُ هَذِهِ النُّمْرُقَةِ؟» قُلْتُ: اشْتَرَيْتُهَا لَكَ لِتَقْعُدَ عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ . وَقَالَ: «إِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي فِيهِ الصُّورَةُ لَا تدخله الْمَلَائِكَة

আয়িশাহ্ সিদ্দিকা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি একটি গদি (আসন) ক্রয় করলেন। তাতে প্রাণীর অনেকগুলো ছবি ছিল। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখলেন, দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ঘরে প্রবেশ করলেন না। আমি তাঁর চেহারায় ঘৃণার ভাব দেখতে পেলাম। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি (আমার গুনাহের জন্য) আল্লাহ ও তাঁর রসূল-এর কাছে তওবা্ করছি। বলুন তো, আমি কি অপরাধ করেছি? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ গদিটি কেন? আমি বললামঃ আপনার বসার এবং বিছানা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমি কিনেছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সমস্ত ছবি যারা তৈরি করেছে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা বানিয়েছ তাতে জীবন দান করো, অতঃপর বললেন, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) কখনো এমন ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে। (সহীহ : বুখারী ২১০৫, ৫১৮১, ৫৯৫৭, ৫৯৬১; মুসলিম (২১০৭)-৯৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৪৫, আহমাদ ২৬০৯০, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৫৪৭, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫৩, নাসায়ী ৫৩৬২, ইবনু মাজাহ ২১৫১, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৪৯৪৬।)

এখানে দেখতে পাচ্ছি যে গদীর ওপর ছবিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে অথচ তা অসম্মান সূচক কাজ।

এই মতের আলেমরা আরো একটি হাদিস পেশ করেন:-

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لاَ تَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ بُسْرٌ ثُمَّ اشْتَكَى زَيْدٌ بَعْدُ فَعُدْنَاهُ فَإِذَا عَلَى بَابِهِ سِتْرٌ فِيهِ صُورَةٌ - قَالَ - فَقُلْتُ لِعُبَيْدِ اللَّهِ الْخَوْلاَنِيِّ رَبِيبِ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَلَمْ يُخْبِرْنَا زَيْدٌ عَنِ الصُّوَرِ يَوْمَ الأَوَّلِ فَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ أَلَمْ تَسْمَعْهُ حِينَ قَالَ إِلاَّ رَقْمًا فِي ثَوْبٍ

কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আবূ তালহাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন ছবি থাকে। বর্ণনাকারী বুস্‌র (রহঃ) বলেন, এরপর যায়দ (রহঃ) পীড়িত হয়ে পড়লে আমরা তাকে দেখতে গেলাম। লক্ষ্য করলাম তার দরজায় একটি পর্দা রয়েছে, যাতে ছবি রয়েছে। আমি সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মাইমূনাহ্ (রাযিঃ) এর পালিত সন্তান উবাইদুল্লাহ খাওলানী (রহঃ) কে বললাম— (পূর্বে এক দিন) ছবির বিষয়ে কি যায়দ (রহঃ) আমাদের নিকট হাদীস উল্লেখ করেছেন (আর এখন তার পর্দায় ছবি!)? উবাইদুল্লাহ বললেন, তুমি কি তার এ কথাটি শোননি। তিনি এটাও বলেছেন যে, কোন কাপড়ে আঁকা ছবি এর আওতাভুক্ত নয়। (মুসলিম ৫৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৩৯, ইসলামিক সেন্টার, ৫৩৫৬)

মতের দুর্বলতা: অধিকাংশ উলামার মতে এখানে প্রাণহীন বস্তু বা দৃশ্যাদির ছবি উদ্দেশ্য করা হয়েছে কারণ প্রাণীর ছবি ঝুলানো সম্পর্কে স্পষ্ট হারাম বলা হয়েছে। আর এখানে ছবি ঝুলানোকে বৈধ বলা হয়েছে। তাই উক্ত দলিলের ছবি সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়েছে । পর্দা যুক্ত ছবি ঝুলানো সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে,

حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ، بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مُتَسَتِّرَةٌ بِقِرَامٍ فِيهِ صُورَةٌ فَتَلَوَّنَ وَجْهُهُ ثُمَّ تَنَاوَلَ السِّتْرَ فَهَتَكَهُ ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُشَبِّهُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ ‏

মানসুর ইবনু আবূ মুযাহিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট (হুজরায়) আসলেন। সে সময় আমি একটি মসৃণ বস্ত্রের পর্দা লাগিয়ে রেখেছিলাম, যাতে কোন ছবি ছিল। যার দরুন তার চেহারা বিমর্ষ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি পর্দাটি হাতে নিয়ে তা ছিড়ে ফেললেন; তারপরে বললেনঃ কিয়ামতের দিবসে ভয়ঙ্কর শাস্তি ভোগকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ওরাও থাকবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তুলনা কার্যে অগ্রসর হয়। (মুসলিম ৫৪১৮,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৪৫, ইসলামিক সেন্টার ৫৩৬৩) ।

অতএব আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস দ্বারা বুঝতে হবে তা প্রানির ছবি ছিলনা।

(খ) পূজনীয় ছবি অবৈধ তাছাড়া বৈধ

এই মতের আলেমরা দলিল দেন নিম্নে বর্ণিত হাদীস দ্বারা,

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا اشْتَكَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ بَعْضُ نِسَائِهِ كَنِيسَةً يُقَالُ لَهَا: مَارِيَّةُ وَكَانَتْ أُمُّ سَلمَة وَأم حَبِيبَة أتتا أرضَ الْحَبَشَة فَذَكرنَا مِنْ حُسْنِهَا وَتَصَاوِيرَ فِيهَا فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: «أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا ثُمَّ صَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّور أُولَئِكَ شرار خلق الله

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (ওফাতের প্রাক্কালে) অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন তাঁর সহধর্মিণীদের কেউ (আবিসিনিয়ার) মারিয়্যাহ্ গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। (ইসলামের প্রাথমিক যুগে) উম্মু সালামাহ্ ও উম্মু হাবীবাহ্ (রাঃ) হিজরত করে হাবাশাহ্ দেশে গিয়েছিলেন, তাঁরা ঐ গির্জার সৌন্দর্য এবং তাতে যে সকল ছবি ছিল তার বর্ণনা করলেন। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঠিয়ে বললেনঃ তারা এমন এক সম্প্রদায়, যখন তাদের মধ্যে নেক বান্দা মারা যেত, তখন তারা ঐ ব্যক্তির কবরের উপরে মসজিদ বানিয়ে নিত। অতঃপর তথায় তারা এ সকল ছবি বানাত, বস্তুতঃ তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। (সহীহ : বুখারী ৪২৭, ১৩৪১, মুসলিম (৫২৮)-১৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ১১৮১৫, আহমাদ ২৪২৫২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৪৬২৯, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ৭৯০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩১৮১, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৭৮৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৪৭১।

তারা বলেন এখানে এমন ছবিকে দোষারোপ করা হয়েছে যাকে পূজনীয় করা হত ও যাকে ঝুলানো হতো এছাড়া যা পূজনীয় নয় ও যা ঝোলানো হয় না যা অমর্কাযাদা কর কাজে ব্যবহৃত হয় এবং যা সাজগোজ সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহার করা হয় তা বৈধ তারা তাদের কথা দলিল দেন নিম্নে বর্ণিত হাদীস দ্বারা,

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ شُعَيْبٍ قَالَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَبِي طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيِّ يَعُودُهُ فَوَجَدَ عِنْدَهُ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ فَأَمَرَ أَبُو طَلْحَةَ إِنْسَانًا يَنْزَعُ نَمَطًا تَحْتَهُ فَقَالَ لَهُ سَهْلٌ لِمَ تَنْزِعُ قَالَ لِأَنَّ فِيهِ تَصَاوِيرُ وَقَدْ قَالَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا قَدْ عَلِمْتَ قَالَ أَلَمْ يَقُلْ إِلَّا مَا كَانَ رَقْمًا فِي ثَوْبٍ قَالَ بَلَى وَلَكِنَّهُ أَطْيَبُ لِنَفْسِي

আলী ইবন শুআয়ব (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)-কে তাঁর রুগ্নাবস্থায় দেখতে গেলে তাঁর নিকট সাহল ইবন হুনায়ফকে দেখতে পান। আবু তালহা (রাঃ) এক ব্যক্তিকে তাঁর নিচ থেকে বিছানা বের করে ফেলতে আদেশ করলেন। তখন সাহল (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ কেন বের করবেন? তিনি বললেনঃ কেননা তাতে ছবি রয়েছে। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তা তো তুমি জান। সাহল বললেন, তিনি কি বলেন নি যে, কাপড়ে নকশারূপে থাকলে কোন ক্ষতি নেই? আবু তালহা (রাঃ) উত্তর করলেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু আমার মনের জন্য এটাই বেশি স্বস্তিকর। (নাসাঈ ৫৩৪৮ ইসলামীক ফাউন্ডেশন)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ ينقمعن فيسربهن إِلَيّ فيلعبن معي

আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খেলার পুতুল নিয়ে সঙ্গী-সাথীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে খেলতাম (তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন তারা আত্মগোপন করে থাকত। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে আমার নিকট (খেলতে) পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সাথে খেলা করত। (সহীহ : বুখারী ৬১৩০, মুসলিম ২৪৪০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৬৩)

এই মতের দুর্বলতা:আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসের ব্যপারে অধিকাংশ আলেমের বক্তব্য হল তা প্রাণীর ছবি ছিল না আর আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর হাদীস এটি তারা মেয়েদের জন্য খাছ করেছেন। কারণ হাদীসে অনেক হারাম বিষয়কে এভাবে খাছ বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে যেমন:-
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ لِلْإِنَاثِ مِنْ أُمَّتِي وَحُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهَا

আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণ ও রেশমের ব্যবহার আমার উম্মাতের নারীদের জন্য হালাল এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে।(সহীহ : তিরমিযী ১৭২০, নাসায়ী ৫১৪৮ শব্দবিন্যাস তাঁর, ইবনু মাজাহ ৩৫৯৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৯৩০, মুসনাদে আহমাদ ১৯৫০৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৬৫৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৩৯১, ইরওয়া ২৭৭)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا يَلْبَسُ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ فِي الْآخِرَة

আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই ব্যক্তিই দুনিয়াতে রেশমী পোশাক পরিধান করে থাকে, আখিরাতে যার ভাগে তা থাকবে না।
উপরোক্ত হাদীসদ্বয়ে রেশমি পোশাক হারাম করা হয়েছে। আবার এর খাছ করার দলিল রয়েছে যেমন:-

وَعَن أسماءَ بنت أبي بكر: أَنَّهَا أَخْرَجَتْ جُبَّةَ طَيَالِسَةٍ كِسْرَوَانِيَّةٍ لَهَا لِبْنَةُ ديباجٍ وفُرجَيْها مكفوفَين بالديباجِ وَقَالَت: هَذِه جبَّةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ عِنْدَ عَائِشَةَ فَلَمَّا قُبِضَتْ قَبَضْتُهَا وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُهَا فَنَحْنُ نَغْسِلُهَا للمَرضى نستشفي بهَا
আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি সূচীকর্ম খচিত এমন একটি জুব্বা বের করলেন, যা রেশম দ্বারা নকশী করা ছিল এবং তার গলা ও বুকের পট্টিগুলো রেশম দ্বারা জড়ানো ছিল। আর তিনি বলেনঃ তা ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুব্বা। তা ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকটই ছিল, তাঁর ইন্তিকালের পর আমিই তা হস্তগত করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিধান করতেন, এখন আমরা তাকে ধুয়ে উক্ত পানি দ্বারা রোগীদের রোগমুক্তি কামনা করি।(সহীহ : মুসলিম (২০৬৯)-১০, আল আদাবুল মুফরাদ ৩৪৮, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৯৬১৯, শু‘আবুল ঈমান ৬১০৮, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৯৭৪৯, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৩৮১)।

এই হাদিসে দেখছি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই রেশমি পোশাক ব্যবহার করেছেন অর্থাৎ এখানে কিছু পরিমাণ খাস করা হয়েছে। তাহলে কি এখন কেউ এটা বলতে পারেন যে রেশমি পোশাক পড়া হালাল? আসলে তা হালাল নয় শুধু নির্দিষ্ট তিন আঙ্গুল বা চার আঙ্গুল ব্যবহার করা বৈধ যেমন হাদিসে এসেছে,
وَعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ لُبْسِ الْحَرِيرِ إِلَّا هَكَذَا وَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إصبعيه: الْوُسْطَى والسبابة وضمهما

উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। তবে এ পরিমাণ অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যমা ও শাহাদাত অঙ্গুলিদ্বয়কে একত্রে মিলিয়ে উপর দিকে উঠিয়ে ইশারা করলেন।(সহীহ : বুখারী ৫৮২৯, মুসলিম (২০৬৯)-১২, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬২৯৬, শু‘আবুল ঈমান ৬০৯৮)

وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: أَنَّهُ خَطَبَ بِالْجَابِيَةِ فَقَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لُبْسِ الْحَرِيرِ إِلَّا مَوْضِعَ إِصْبَعَيْنِ أَوْ ثَلَاث أَو أَ
ربع

মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে আছে- একদিন ’উমার (রাঃ) সিরিয়ার জাবিয়াহ্ নামক শহরে এক ভাষণে বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই, তিন অথবা চার আঙ্গুলের অধিক পরিমাণ রেশমী কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।(সহীহ : মুসলিম (২০৬৯)-১৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৪৩৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৬৮৪, তিরমিযী ১৭২১, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৪/১৭৭ পৃঃ)

সুতরাং পুতুল খেলা একটি খাস বিষয়।

(গ) মেয়েদের জন্য পুতুল হিসেবে বৈধ

মেয়েদের জন্য পুতুল হিসেবে বৈধ হবে এটা অত্যন্ত জোরালো মত। এই মত পোষণকারী আলেমদের দলিল:-

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ ينقمعن فيسربهن إِلَيّ فيل
عبن معي

আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খেলার পুতুল নিয়ে সঙ্গী-সাথীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে খেলতাম (তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন তারা আত্মগোপন করে থাকত। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে আমার নিকট (খেলতে) পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সাথে খেলা করত। (সহীহ : বুখারী ৬১৩০, মুসলিম ২৪৪০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৬৩)

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ غَزْوَة تَبُوك أَو حنين وَفِي سَهْوَتِهَا سِتْرٌ فَهَبَّتْ رِيحٌ فَكَشَفَتْ نَاحِيَةَ السِّتْرِ عَنْ بَنَاتٍ لِعَائِشَةَ لُعَبٍ فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟» قَالَتْ: بَنَاتِي وَرَأَى بَيْنَهُنَّ فَرَسًا لَهُ جَنَاحَانِ مِنْ رِقَاعٍ فَقَالَ: «مَا هَذَا الَّذِي أَرَى وَسْطَهُنَّ؟» قَالَتْ: فَرَسٌ قَالَ: «وَمَا الَّذِي عَلَيْهِ؟» قَالَتْ: جَنَاحَانِ قَالَ: «فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ؟» قَالَتْ: أَمَا سَمِعْتَ أَنَّ لِسُلَيْمَانَ خَيْلًا لَهَا أَجْنِحَةٌ؟ قَالَتْ: فَضَحِكَ حَتَّى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ

আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক বা হুনায়নের যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনকালে তাঁর ঘরে (প্রবেশের সময়) পর্দা ঝুলানো দেখতে পেলেন, আর বাতাসে পর্দা দুলতে থাকায় পর্দার অপরদিক দিয়ে ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর খেলনাগুলো দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, হে ’আয়িশাহ্! এগুলো কী? ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আমার কন্যাগণ (খেলনা)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেলনাগুলোর মাঝে কাপড়ের দুই ডানাবিশিষ্ট ঘোড়া দেখতে পেয়ে বললেন, এগুলোর মধ্যখানে যা দেখছি, তা কী? ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, ঘোড়া। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তার উপরে ঐ দু’টি কী? আমি বললাম, দু’টি ডানা। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (বিস্ময়াভিভূত হয়ে) বললেন, ঘোড়ারও কি আবার দু’টি ডানা হয়? ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আপনি কি শুনেননি সুলায়মান (আঃ)-এর ঘোড়ার অনেকগুলো ডানা ছিল। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এটা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এত বেশি হেসে উঠলেন যে, আমি তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো পর্যন্ত দেখতে পেলাম।(সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৯৩২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৬৪)

এই মতের দুর্বলতা:- এই মতটি নিয়ে একদল আলেমদের বক্তব্য হল (১) এটি নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বের দলিল এর প্রমাণ হলো যখন আয়িশা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এর বিবাহ হয় তখন পুতুল খেলা বৈধ ছিল যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:-

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهْىَ بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ وَزُفَّتْ إِلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ وَلُعَبُهَا مَعَهَا وَمَاتَ عَنْهَا وَهِيَ بِنْتُ ثَمَانَ عَشْرَةَ

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন।(মুসলিম ৩৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)।
উক্ত হাদীসে আমরা দেখছি যে আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর বিবাহের পূর্বে পুতুল খেলা বৈধ ছিল আর নিষিদ্ধ হওয়ার হাদীস তার বিবাহের পরে বর্ননা করা হয়েছে।

(২) দুই এটি একটি খাস বিষয় যার উল্লেখ পূর্বে করা হয়েছে।

(৪) সকল ছবি অবৈধ

ছবি সম্পর্কে আরো একটি মতামত পাওয়া যায় যে রূহ বিশিষ্ট হোক বা না হোক সকল ফলদার বৃক্ষ ও প্রাণির ছবি অবৈধ তারা দলিল দেন নিম্নে বর্ণিত হাদীস দ্বারা:-

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ بِخلق كخلقي فلْيخلقوا ذَرَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً أَوْ شَعِيرَةً

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ আমার সৃষ্টির মতো করে যে ব্যক্তি (কোন প্রাণী) সৃষ্টি করতে যায়, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে আছে? তারা একটি পিঁপড়া বা শস্যদানা কিংবা একটি যব সৃষ্টি করুক তো দেখি?। (মিশকাত ৪৪৯৬,বুখারী ৭৫৫৯, মুসলিম (২১১১)-১০১, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৬১০৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৪৯৬২, আহমাদ ৭১৬৬, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫২১১)
এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মিরক্বাতুল মাফাতীহ ও ফাতহুল বারী গ্রন্থাগার বলেন :-

(وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ بِخلق كخلقي...) তার চেয়ে বড় যালিম আর কেউ নেই, যে তার সৃষ্টি কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর কর্মের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে। (যদি তারা তাই মনে করে থাকে) তাহলে তারা যেন ছোট একটি পিপড়া সৃষ্টি করে দেখায় অথবা একটি গম অথবা যব তৈরি করে দেখায়। মূলত এটা তাদের অক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জ। ইবনু বাত্ত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) এ হাদীস থেকে বুঝাতে চেয়েছেন, ছবি বলতে সব ধরনের ছবি অন্তর্ভুক্ত, যার ছায়া আছে এবং যার ছায়া নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৯৫৩)

এই মতের দুর্বলতা:- (১) মিশকাত এর ৪৪৯৮ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে:- প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা হারাম। আর তার ভয়াবহতা কঠিন, তবে কোন বৃক্ষ অথবা যার কোন প্রাণ নেই এমন ছবি অঙ্কন করা হারাম নয়, তা কোন ফলদায়ক বৃক্ষ হোক বা ফলদায়ক না হোক। এটাই অধিকাংশ ‘আলিমের মত কিন্তু মুজাহিদ এ মতের বিরোধী। তার মতে ফলদায়ক বৃক্ষের ছবি অঙ্কন করাও হারাম। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ২১১১/১০১)। অর্থাৎ এখানে মুজাহিদ রাহি: এর একার বক্তব্য।

(২) এই মতের বিরুদ্ধে হাদীস বর্ণিত হয়েছে:-

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَيُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ» . قَالَ ابْن عَبَّاس: فَإِن كنت لابد فَاعِلًا فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لَا رُوحَ فِيهِ
আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক ছবি প্রস্তুতকারী জাহান্নামী। সে যতগুলো ছবি তৈরি করেছে (কিয়ামতের দিন) সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান করা হবে এবং জাহান্নামের শাস্তি দেয়া হবে। ইবনু ’আব্বাস বলেন, যদি তোমাকে একান্তই ছবি তৈরি করতে হয়, তাহলে গাছ-গাছড়া এবং এমন জিনিসের ছবি তৈরি কর যার মধ্যে প্রাণ নেই। ( সহীহ : বুখারী ২২২৫, মুসলিম ৫৬৬২, আহমাদ ২৮১০, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩০৫৪)।

(৩) এই মতের কোন আলেম এখন আর পাওয়া যায় না।

(৫) ছায়া বিহীন ছবি বৈধ

এই মতামত প্রশনকারী আলেমরা দলিল দিয়ে থাকে নিম্নে বর্ণিত হাদীস দ্বারা :-
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ لَنَا سِتْرٌ فِيهِ تِمْثَالُ طَائِرٍ وَكَانَ الدَّاخِلُ إِذَا دَخَلَ اسْتَقْبَلَهُ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ حَوِّلِي هَذَا فَإِنِّي كُلَّمَا دَخَلْتُ فَرَأَيْتُهُ ذَكَرْتُ الدُّنْيَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ وَكَانَتْ لَنَا قَطِيفَةٌ كُنَّا نَقُولُ عَلَمُهَا حَرِيرٌ فَكُنَّا نَلْبَسُهَا

যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একটি পর্দা ছিল। এতে পাখীর ছবি ছিল। আর (গৃহে) প্রবেশকারীর প্রবেশের সময় তা তার সম্মুখে পড়ত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, এটি দূরে রেখ। কারণ যতবার আমি প্রবেশ করি এবং তা দেখি ততবার আমি ইহকাল স্মরণ করেছি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আর আমাদের একটি পশমী চাদর ছিল। আমরা দেখতাম যে, এটির কারুকার্য ছিল রেশমের। আমরা সেটি ব্যবহার করতাম। (মুসলিম ৫৪১৪,ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৫৩৪২, ইসলামিক সেন্টার ৫৩৫৯)
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَفَرٍ وَقَدْ سَتَّرْتُ عَلَى بَابِي دُرْنُوكًا فِيهِ الْخَيْلُ ذَوَاتُ الأَجْنِحَةِ فَأَمَرَنِي فَنَزَعْتُهُ

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। আমি দরজায় একটি আঁচলযুক্ত মসৃণ পর্দা ঝুলিয়ে দিলাম, তাতে পাখাযুক্ত ঘোড়া (এর ছবি) ছিল। তিনি আমাকে নির্দেশ করলেন। সে সময় আমি তা খুলে ফেললাম। (মুসলিম ৫৪১৬,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৪৩, ইসলামিক সেন্টার ৫৩৬১)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ الْقَاسِمِ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهُ كَانَ لَهَا ثَوْبٌ فِيهِ تَصَاوِيرُ مَمْدُودٌ إِلَى سَهْوَةٍ فَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي إِلَيْهِ فَقَالَ ‏ "‏ أَخِّرِيهِ عَنِّي ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَأَخَّرْتُهُ فَجَعَلْتُهُ وَسَائِدَ

মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তার এক টুকরো কাপড় ছিল, যার মধ্যে নানা রকম ছবি ছিল এবং তা একটা তাকের উপরে ঝুলানো ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। সে সময় তিনি বললেন, এটি আমার সম্মুখ হতে সরিয়ে নাও। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সে সময় আমি সেটি সরিয়ে ফেললাম এবং (পরে) সেটি দ্বারা কয়েকটি বালিশ তৈরি করে নিলাম। (মুসলিম ৫৪২২,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৪৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৩৬৭)

তারা আরো আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস দ্বারা দলিল দিয়ে থাকে।

তারা বলেন এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরিয়ে নিতে বলেছেন কারণ তা দুনিয়াকে স্মরণ করায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ছিঁড়তে বলেননি। তারা হারাম হওয়ার হাদীস গুলো রহিত করেছেন।

এই মতের দুর্বলতা :- (১) এই মত মেনে নিলে ছায়াহীন ছবি হারাম হওয়ার সম্পর্কিত সকল হাদিস রহিত মেনে নিতে হয় কিন্তু তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ কোন হাদিসটি রহিত তা স্পষ্ট করে করা হয়নি তবে যখন আমরা হাদিসের দিকে দৃষ্টিতে তখন দেখতে পায় হারাম হওয়ার হাদিস পরে বর্ণিত হাদিস এবং জায়েজের হাদিস পূর্বের । হাদীসে এসেছে :-

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهْىَ بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ وَزُفَّتْ إِلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ وَلُعَبُهَا مَعَهَا وَمَاتَ عَنْهَا وَهِيَ بِنْتُ ثَمَانَ عَشْرَةَ
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন।(মুসলিম ৩৩৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)।

উক্ত হাদীসে আমরা দেখছি যে আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা এর বিবাহের পূর্বে পুতুল খেলা বৈধ ছিল আর নিষিদ্ধ হওয়ার হাদীস তার বিবাহের পরে বর্ননা করা হয়েছে। কারণ তা আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন।

(২) এখানে শব্দগত কিছু পার্থক্য বর্ণিত হয়েছে শুধু কিন্তু অর্থ গত একই কারণ আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ وَقَدْ سَتَرْتُ نَمَطًا فِيهِ تَصَاوِيرُ فَنَحَّاهُ فَاتَّخَذْتُ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ

আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার গৃহে প্রবেশ করলেন। আমি সে সময় একটা মসৃণ চাদর দ্বারা পর্দা তৈরি করেছিলাম, যাতে অনেক ছবি ছিল। তিনি সেটি সরিয়ে ফেললেন। পরে আমি তা দিয়ে দুটি বালিশ তৈরি করলাম। (মুসলিম ৫৪২৪,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৩৫১, ইসলামিক সেন্টার ৫৩৬৯)।

এখানে বালিশের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ পরিশেষে ছবিটা কে নষ্ট করা হয়েছে এটাই উদ্দেশ্য।কারণ এরূপ সকল হাদিসে দরজাতে পর্দা ঝুলানোর কথা বলা হয়েছে। এই সবগুলো একই হাদিস শুধু শব্দগত কিছু পার্থক্য। আর এটা দোষের নয় কারণ কুরআন মাজিদে আদম আলাইহিস সালাম ও ইবলিসের কাহিনী ৭ জায়গায় বর্ণিত হয়েছে কিন্তু কোনটার সাথে কোনটা শব্দগত মিলে না কিন্তু অর্থতে সব একই। আর অত্র হাদিসগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছবিটা কে নষ্ট করা যা সকল হাদিসে অর্থগতভাবে ফুটে উঠেছে।আর তাক ঢাকার যে হাদিসটি সেখানে কোন প্রাণীর ছবি বলা হয়নি তাই আলেমরা বলেছেন যে ওটাতে কোন প্রাণীর ছবি ছিল না। সেটাতে অন্য নকশা ছিল যার কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাজে ব্যাঘাত ঘটেছিল।

ডিজিটাল ছবি

ডিজিটাল ছবির ব্যাপারে আলেমদের দুটি মত পাওয়া যায় ( ১) অবৈধ (২) বৈধ।

(১) যারা অবৈধ বলে তাদের দলিল

যারা ডিজিটাল ছবিকে বৈধ নয় বলে তারা ছবি তৈরি করা হারাম সংক্রান্ত হাদিস সমূহ উল্লেখ করেন। তারা সেই সকল হাদিস থেকে ইজতেহাদ করে থাকেন।

এই মতের দুর্বলতা:- তাদের এই ইজতেহাদ সঠিক হয়নি এবং এই মতামত অত্যন্ত দুর্বল কারণ:-

পূর্বে হালাল - হারাম বলা সংক্রান্ত দলিল গত হয়েছে। দুনিয়াবি কোন কিছুকে স্পষ্ট দলিল ছাড়া হারাম করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর তিনি ছাড়া আর কেউ তার অধিকার রাখে না। আর তিনি হালাল ও হারাম কে স্পষ্ট করে দিয়েছেন । তিনি কোথাও ডিজিটাল ছবিকে হারাম বলেন নি। কারণ তখন ডিজিটাল ক্যামেরায় আবিষ্কার হয়নি। আর তাদের ছবির উপর ডিজিটাল ছবিকে কিয়াস করা সঠিক হয়নি। আমরা এখন ছবি ও ডিজিটাল ছবির পার্থক্য তুলে ধরব।

ছবি ও ডিজিটাল ছবির পার্থক্য

পূর্বে আমরা ছবি কাকে বলা হয় বিস্তারিত আলোচনা করেছি"ছবি বলা হয় এমন কিছু তৈরি করা যার আকৃতি কোন বস্তুর উপর স্থির হয়ে যায়।" এর ভিতরে দুটি বিষয় থাকে (১) মূল (২) মূল থেকে প্রতিফলিত। আমরা পূর্বে চক্ষু সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যে তা কিভাবে দেখে থাকে। মানুষের চোখ সরাসরি কোন কিছু দেখতে পারে না। যখন কোন কিছুর উপর আলো পতিত হয় এবং সেখান থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে মানুষের চোখে যায় তখনই সে দেখতে পারে। উদাহরণত ধরুন কোন একজন কারিগর একটি অন্ধকার ঘরের ভেতরে হাত দিয়ে অনুমানের উপর একটি মূর্তি তৈরি করল কিন্তু সে মূর্তিটিকে দেখতে পারতেছেনা কারণ সেখানে কোন আলো নেই। কিন্তু যখন সেখানে আলো পতিত হয় তখন সেই মূর্তি থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে তার চোখে গিয়ে প্রবেশ করে তখনই সে সেই মূর্তিটাকে দেখতে পায়। এখানে মূল কোনটি? (১) তৈরি করা মূর্তি ?(২) নাকি তা থেকে প্রতিফলিত হয় সেই আলো যা মানুষ দেখতে পায়? ।অবশ্যই এখানে মূর্তিটি মূল এবং ইসলামের হুকুম সে মূর্তিটার উপর। তাই মূর্তি তৈরি করা হারাম করা হয়েছে এবং কঠিন শাস্তির কথা শোনানো হয়েছে। এবং ইসলামের আরেকটি মূলনীতি হলো যে সব বিষয় হারাম সেই সকল বিষয়কে চুপচাপ দেখাও হারাম। তাই এখানে মূল নিষিদ্ধতা মূর্তিটির উপরে।

এখন আমরা দেখব ক্যামেরা কিভাবে কাজ করে থাকে। ক্যামেরার মূলত আয়নার মতো কার্য করে থাকে। উদাহরণত ধরুন একজন ব্যক্তি একটি অন্ধকার রুমে দাঁড়িয়ে আছে। রুমের বাইরে একটি আয়না রয়েছে কিন্তু সেই আয়নাতে তাকে দেখা যাইতেছে না কারণ সে এখন অন্ধকারের ভিতর। কিন্তু যখনই তার উপর আলো পতিত হয় তখন ঐ আয়নাতে তাকে দেখা যায়। আয়না সেই আলোটাকে বন্দী করে না। সে যখন কোন নড়াচড়া করে তখন সেই আয়নাটিতেও তার নড়াচাড়া দেখা যায় কারণ আলো খুব দ্রুতগড়িতে চলাচল করে থাকে অনুমানিক ধরা হয়ে থাকে আলো প্রতি সেকেন্ডে 299,792,458 মিটারের সমান (প্রায় 300,000 কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড; 186,000 মাইল প্রতি সেকেন্ড; 671 মিলিয়ন মাইল প্রতি ঘন্টা) গতিতে চলাচল করে তাই যখন কেউ আয়নার সামনে নড়াচড়া করে আয়না সাথে সাথে তার প্রতিক্রিয়া দেখায়। কিন্তু আপনি যদি সেই আয়নাটিকে সূর্য বরাবর ধরেন তাহলে সে আয়নাটি সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবেনা কারণ সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে প্রায় ৮ মিনিট + সময় লাগে অর্থাৎ আপনি যখন দেখবেন তখন আপনি সূর্যের ৮ মিনিট পূর্বের অবস্থান দেখবেন। অর্থাৎ যখন আয়নাতে সূর্যের ছবি দেখা যাবে তখন সূর্য সেই অবস্থান থাকবে না। ডিজিটাল ক্যামেরা ঠিক সেই রকম কাজ করে থাকে। যখন আপনি কোন বস্তুর দিকে আপনার ক্যামেরার লেন্স ফিরান তখন সে ক্যামেরা লেন্স এই বস্তুর উপর পতিত আলোর প্রতিফলন ফুটিয়ে তুলে তা কখনো আলোটাকে বন্দি করে না। এটা জানার জন্য আপনি এমন একটি মোবাইল নিন যাতে শুধুমাত্র একটি ছবি তোলা যাবে এখন আপনি আপনার ক্যামেরা লেন্সকে সেই বস্তুটির দিকে ফেরান এবং ৫ ঘন্টা ১০ ঘন্টা সে ক্যামেরাকে ওপেন করে রাখুন দেখুন সেই ক্যামেরার মেমোরি পূর্ণ হবে না অথচ তাতেই মাত্র একটি ছবির জায়গা ছিল। ক্যামেরা যদি ছবিকে বন্দী করত তাহলে এতক্ষণে এই মোবাইলটির মেমোরি ভর্তি হয়ে যেত কিন্তু আপনি দেখতে পারবেন যে, তা এখনো ভর্তি হয়নি। কারণ ক্যামেরা কখনোই আলোকে বন্দী করে না । অর্থাৎ ক্যামেরা এখানে ঠিক আয়নার মতোই কাজ করছে। তাহলে এখানে মূল বিষয় দাঁড়ালো"প্রতিফলিত আলোর প্রতিফলন"। ক্যামেরা লেন্স এখানে ঠিক মানুষের চোখের মত কাজ করে থাকে। মানুষের চোখে মনোযোগের সাথে দৃষ্টি নিক্ষেপণ করলে দেখতে পাবেন তার চোখের ভিতর সেই প্রতিফলিত আলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ কেউ যদি যায়েদ কে দেখে তাহলে তার চোখের মধ্যেও যায়েদ কে দেখা যাবে। ঠিক ক্যামেরার লেন্স যদি জায়েদ কে দেখে তাহলে অপর পাশে সেই জায়েদ কে দেখা যায়।

তাহলে আমরা উক্ত আলোচনা থেকে পেলাম ক্যামেরা লেন্স এর মূল বিষয় হলো"প্রতিফলিত আলো এর প্রতিফলন" আর ছবি বা মূর্তির মূল বিষয় হলো সেই। " ছবি বা মূর্তি" তাই ডিজিটাল ক্যামেরাকে মূর্তি বা ছবির সাথে কিয়াস করা যাবে না। কারণ দুটি ভিন্নমূলের এটি যা গ্রহণযোগ্য নয়।

এখন ক্যামেরা লেন্সের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো সেটি আলোকে বন্দী করতে পারে । ক্যামেরার লেন্স যতক্ষণ পর্যন্ত ছবি ক্যাপচার করবে না তখন এটি ছবি এর আওতায় আসবেনা যার আলোচনা উপরে অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু ছবি ক্যাপচার করার পরে তার বিধান কি?

তার জন্য আমাদের জানতে হবে ক্যামেরা কিভাবে ছবি তুলে থাকে। যখন আপনি কোন বস্তুর সামনে ক্যামেরা লেন্স ফেরাবেন তখন তা আয়নার মতো সরাসরি আলো প্রতিফলিত করে। কিন্তু যখন আপনি ক্যামেরাতে ছবি তুলবেন তখন তা সেই আলোটিকে বন্দী করে নেয় কিছু ডিজিটের মাধ্যমে। যেমন:- "5655044" এটি উদাহরণ স্বরূপ দেখানো হয়েছে। ছবি তোলার পরে আমরা ক্যামেরা থেকে দুটি বিষয় পাই (১)মূল বিষয় কিছু ডিজিট যেমন:- "5655044"(২) তারপর এই ডিজিটের প্রতিফলিত আলোক ছবি। আর ছবি বা মূর্তি থেকে আমরা যে দুটি বিষয় পাই তা হলো (১) মূল বিষয় ছবি বা মূর্তি (২) তারপর সেই ছবি বা মূর্তির প্রতিফলিত আলোক ছবি। অতএব এখানে আমরা দেখছি যে উভয়টির মূল বিষয় ভিন্ন। ক্যামেরার মূল বিষয় হলো কিছু ডিজিট"5655044"। আর ছবি বা মূর্তির মূল বিষয় হলো সেটিই যা তার প্রকৃত রূপ। সুতরাং উভয়ের মধ্যে কিয়াস কড়া শুদ্ধ নয় কারণ তার মূল বিষয় ভিন্ন। এবং ডিজিটাল ক্যামেরার তোলা ছবি কোন ছবি বা মূর্তি ও নয় বরং তা কিছু ডিজিট।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ছবি এবং ডিজিটাল ছবি একই বিষয় নয়। তাই হয়তো সরাসরি কোন দলিল আনতে হবে ডিজিটাল ছবি হারাম করার জন্য। না হয় ছবি বা মূর্তির উপর ডিজিটাল ছবিকে কিয়াস করা শুদ্ধ নয়।

কার্টুন/এনিমেশন/গ্রাফিক্স

কার্টুন,এনিমেশন,গ্রাফিক্স কে আমরা দুইটি ভাগে ভাগ করতে পারি। (১) এগুলো তৈরি করা। (২)এগুলো দেখা। নিম্নে আমরা প্রথমে (২) নাম্বার বিষয় নিয়ে অতঃপর (১) নম্বর বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

(২)কার্টুন/এনিমেশন/গ্রাফিক্স দেখার বিধান

এর আলোচনা মূলত ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার আলোচনার মতই। এগুলো এখন কিছু ডিজিটাল রূপ মাত্র যেমন:- "5655044" । আর এই ডিজিটাল কোড কোন ছবি বা মূর্তি নয়। তাই এটি নিঃসন্দেহে দেখা বৈধ যদি অন্য কোন হারাম বিষয় থেকে মুক্ত হয়।

(১)কার্টুন/এনিমেশন/গ্রাফিক্স তৈরির বিধান

এগুলো তৈরি করার অবস্থার উপর এর বিধান নির্ভর করে। একটি ডিজিটাল ডিসপ্লে কয়েকটি লেয়ারের বা স্তরের মাধ্যমে গঠিত হয় । এবং তাতে মিলিয়ন বিলিয়ন কালার ফিল্টারের সাথে pixel থাকে। এখন এগুলো তৈরি করা দুই ভাবে হতে পারে। (১) যদি কিছু অংশ তৈরি করার পরে তা সেভ করা হয় অতঃপর কিছু অংশ তৈরি করা হয় তাহলে তা বৈধ। যেমন:- কেউ একটি মানুষের চেহারার ছবি তৈরি করছে। এখন সে শুধু চেহারার আকৃতি ফুটিয়ে তুললো কিন্তু এখনো চোখ নাক মুখ কিছুই দেয়া হয়নি শুধুমাত্র চেহারার অবয়ব আকা হয়েছে । অতঃপর সেটা সংরক্ষণ করে নিল ডিজিটাল ডিজিট মাধ্যমে যেমন"5655044"। অতঃপর সে সেই ডিজিটাল ডিজিট ওপেন করে তার উপর চোখ নাক মুখ অংকন করল তাহলে তা বৈধ। কারণ সে কোন ছবি বা মূর্তি আর্ট করেনি বরং সে ডিজিটাল কয়েকটি কোডের উপর চোখ নাক মুখ লাগিয়েছে। (২) যদি সম্পূর্ণ চেহারার অবয়ব তৈরি করে এবং তাতে চোখ নাক মুখ সকল কিছুই বিদ্যমান অর্থাৎ সম্পূর্ণ চেহারা। তখন দেখতে হবে ডিজিটাল ডিসপ্লের গ্লাস অপসারণ করার পরে যদি মিলিয়ন বিলিয়ন পিক্সেল এর উপর এই চিত্রটি সাধারণ দূরত্বে খালি চোখে দেখা যায় অর্থাৎ ছবিটি স্পষ্ট বোঝা যায় তাহলে তা অবৈধ হবে। কারণ তখন সেই ছবিটি একটি ছবির অস্তিত্বে পিক্সেল গুলোর উপর বিদ্যমান। কিন্তু যদি এই চিত্রটি সাধারণ দূরত্বে খালি চোখে পিক্সেল গুলোর উপর দেখা না যায় তাহলে তা বৈধ। কারণ তখন এটি ছবির অস্তিত্বে আগমন করেনি। কারণ ছবি বলা হয় "এমন কিছু তৈরি করা যার আকৃতি কোন বস্তুর উপর স্থির হয়ে যায়।"কারণ স্থির না হলে সেটা ছবি হয় না বরং সেটা আয়নার সাদৃশ্য হয় কারণ আয়নায় কোন কিছু স্ত্রী হয়না।

পরিশেষে বলতে চায় আল্লাহ তা'আলা সকল মুসলিমকে দুনিয়া এবং আখেরাতে কল্যাণ দান করুক, আমিন।

وصل الله علي نبينا محمد و على أله وأصحابه ومن تبعهم بالإحسان إلي يوم الدين. اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ وَارْفَعْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ ولوالدي و لأخيه وللمؤمنين وللمؤمنات. وأخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
 

tauhidulhasan

Member

LV
1
 
Awards
9
Credit
208
আসসালামু আলাইকুম, খুবই তথ্যনির্ভর আর্টিকেল, islamqa ওয়েবসাইট এর মত সারাংশ আকারে বিষয় গুলো শেষে যোগ করলে আমাদের মত সাধারণ পাঠকদের জন্যে খুবই সহজবোধ্য হত ইন শা আল্লাহ। জাজাকাল্লাহ খায়রান।
 

Create an account or login to comment

You must be a member in order to leave a comment

Create account

Create an account on our community. It's easy!

Log in

Already have an account? Log in here.

Total Threads
13,355Threads
Total Messages
17,220Comments
Total Members
3,683Members
Latest Messages
imranexLatest member
Top