আসমা ওয়াস সিফাত সাব্যস্ত আল্লাহর সিফাত, বাতিলের উপর আল্টিমেট আঘাত

Joined
Nov 17, 2023
Threads
428
Comments
563
Solutions
1
Reactions
14,000
আব্দুর রহমান একজন হানাফি এবং আব্দুল্লাহ একজন সালাফী। আব্দুল্লাহ একদা মসজিদে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ বলছিলেন যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর হাত, পা রয়েছে কিন্তু তা কোন সৃষ্টির সাদৃশ্য নয়।
আমাদের এক প্রজাতি প্রাণীর সাথে অন্য প্রজাতির কোন মিল নেই; আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তো স্বয়ং স্রষ্টা। তার সম্পর্কে তোতাপাখির মতো সেই টুকুই বলবেন যতটুকু তিনি ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছেন। মানুষ কে যার সম্পর্কে জ্ঞান নেই সেই বিষয় সম্পর্কে বলতে নিষেধ করা হয়েছে; আর জ্ঞান হলো ওহীরজ্ঞান কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস। তাই ওহীতে আল্লাহ সম্পর্কে যতটুকু বলা হয়েছে ততটুকুই শুধু তোতাপাখির মতো আওরাবেন। বাড়তি কথা ,ধারণা ও দূরবর্তী ব্যাখ্যা থেকে দূরে থাকবেন। আল্লাহ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখি না তাহলে কিভাবে আমরা তাকে ব্যাখ্যা করবো। তাই আমাদের উচিত শুধু আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা তোতাপাখির মতো আওরানো। নিজের থেকে কিছুই যোগ করবেন না বরং বুঝবেন আমি এক তোতাপাখি; যাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার সম্পর্কে কিছু শব্দ শিখিয়েছেন। আর মনে রাখবেন আল্লাহ বলে দিয়েছেন যে, তার মত কোন কিছুই নেই।

এই আলোচনা শুনার পর আব্দুর রহমান বললেন:-

আব্দুর রহমান:- আল্লাহ হাত, পা থাকলে তো এটা দেহবাদী আকিদা হয়ে গেল। কারণ হাত পা থাকলে দেহথাকা আবশ্যক। তাই আপনার কথা একদমই বাতিল।

আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা! তাহলে বলুন যে, আল্লাহর কি শুনেন, দেখতে পারেন, জ্ঞানী ?

আব্দুর রহমান:- হ্যাঁ অবশ্যই।

আব্দুল্লাহ:- তাহলে তো তুমিও দেহবাদী। কারণ কোন কিছু শুনতে বা দেখতে গেলে বা কৌশল করতে গেলে তো দেহ থাকা আবশ্যক। যদি হাত, পা বললে দেহ থাকা আবশ্যক হয় তাহলে কৌশল করতে গেলে, শুনতে গেলে বা দেখতে খেলেও দেহ থাকা আবশ্যক হয়। তাহলে তো আমরা দুইজনেই দেহবাদী হয়ে গেলাম তাই না?

আব্দুর রহমান:- না। আমি আল্লাহর দেহ আছে বিশ্বাস করি না বরং আপনিই দেহ বাদী।

আব্দুল্লাহ:- আপনার এই উত্তরে কোন প্রমাণ নেই। বরং সত্য হলো যে, আমি এবং আপনি কেউই দেহবাদী নয় কারণ আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন যে,

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير

অর্থ: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা"।

যখন আল্লাহর সাদৃশ্য কিছুই নেই তাহলে তুমি কিভাবে আল্লাহকে কোন সৃষ্টির মত কল্পনা করতে পারো? তোমার এই সমস্যার কারণ হলো:- তুমি সৃষ্টির উপর কিয়াস করছো; তাই তোমার কাছে হাত, পা থাকলে দেহ থাকা আবশ্যক হয়। এমন ধরলে তুমিও দেহবাদী কারণ দেখতে, শুনতে বা কৌশল করতেও দেহ থাকা আবশ্যক হয়। কিন্তু এগুলো সৃষ্টির উপর কিয়াস করার জন্য। আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন যে, তারমত কিছুই নেই। এটা আমাদের সৃষ্টির জন্য আবশ্যক যে, হাত, পা, দেখতে,শুনতে বা কৌশল করতে দেহের প্রয়োজন হয়; কিন্তু আল্লাহ কোন সৃষ্টি নয় বরং স্রষ্টা এবং তার এগুলোর জন্য দেহ থাকা আবশ্যক হয় না কারণ তার মত কিছুই নেই। আমরা আল্লাহ সম্পর্কে অতটুকু বলবো যতটুকু ওহীর মাধ্যমে জানতে পারবো। আর যা কিছু জানবো না সেই সম্পর্কে চুপ থাকবো। আমরা হলাম এই বিষয়ে তোতাপাখি। আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, তার হাত, পা আছে এবং তিনি দেখতে, শুনতে ও কৌশল করতে পারেন তাই আমরা তারই কথা তোতাপাখির মত রিপিট করবো; কিন্তু তিনি এটা কিভাবে করেন তা আমাদের বলেন নি। তাই আল্লাহ এগুলো কিভাবে করেন তা আমাদের জানা নেই। আর যে, বিষয়ে আমাদের জানা নেই তাকে আমরা গ্রহণও করবো না আবার অশ্বিকারও করবো না কারণ আমাদের তা জানানো হয়নি। এরূপ আল্লাহর দেহ সম্পর্কে আমাদের কিছুই জানানো হয় নি; তাই আমরা আল্লাহর দেহ আছে এরূপ বলবো না,আবার অশ্বিকারও করবো না বরং চুপচাপ থাকবো কারণ এই সম্পর্কে আমাদের জানানো হয়নি।

তুমি যে আমাকে দেহবাদী বলছো,তুমি কি আমাকে বা আমাদের কখনো আল্লাহর দেহ আছে বলতে শুনেছো? আল্লাহর দেহ আছে কে বলেছে? আল্লাহর হাত, পা আছে আল্লাহ স্বয়ং বলেছেন, রাসূল বলেছেন। আমরা তো শুধু আল্লাহ ও রাসূলের কথা রিপিট করছি তোতাপাখির মত। আল্লাহ তার দেহের কথা বলেন নি তাই আমরা আল্লাহর দেহের কথা বলিও না। আল্লাহর দেহবাদী স্পষ্ট প্রথভ্রষ্ট কারণ আল্লাহ তারجسم সম্পর্কে হা অথবা না, কিছুই বলেনি। আমরা যদি দেহবাদী হতাম তাহলে কুরআন ও হাদীস থেকেই প্রমাণিত করতাম। এই নয় যে, আমরা হাদীস জানি না; কিন্তু আমরা নিজে থেকে কিছুই বলি না বরং তোতোপাখির মতো কুরআন ও হাদীসে আল্লাহ ও রাসূল যা বলেছেন তাই আওরাতে থাকি (তোতাপাখির মতো)। বুঝার সুবিধার্থে একটি উদাহরণ দেয়:-

দাজ্জাল সম্পর্কে একটি হাদীসে এসেছে যে, দাজ্জাল এসে মানুষ কে বলবে সেই আল্লাহ এবং মানুষ তা বিশ্বাস করবে। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলো তাহলে সেই ফিতনা থেকে বাঁচার উপায় কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি বললেন যে, সে কানা হবে,আর তোমাদের রব কানা নয়।

এই হাদীসের কথাগুলোর দিকে ভালো করে লক্ষ্য করুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহ ও দাজ্জালের পরিচয় চেনার জন্য এটা বলেন নি যে, আল্লাহর দেহ নেই আর দাজ্জালের দেহ থাকবে; বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেহ সম্পর্কে কিছুই বললেন না কিন্তু দাজ্জাল কে চিনার জন্য চোখের ক্রুটি বর্ণনা করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীরা জানতেন যে দাজ্জাল দেহ সহ আসবে, তাই তারা ইবনু সায়্যাদ কে দাজ্জাল সন্দেহে পরিক্ষাও করেছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই দাজ্জালের দেহ সহ একটি দীপে বন্দি থাকার বিষয়টিও জানিয়েছিলেন। এগুলো সত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দেহ নেই আর দাজ্জালের দেহ থাকবে এমন বললেন না বরং দেহের একটা অংশ কে স্বীকার করলেন এবং এক চোখ কে কানা বললেন আর আল্লাহ কানা হবে না বললেন।

এই হাদীস থেকে চাইলেই আল্লাহর দেহের পক্ষে দলিল দেওয়া যায়, কিন্তু তবুও আমরা হা ও না কিছুই বলছি না কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেহ সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। আমরা হলাম তোতাপাখি তাই রাসূলের হুবহু কথায় থেমে গিয়েছি এবং দেহ সম্পর্কে রাসূলের মত হা অথবা না কিছুই বলি না। তাই যদি আমরা দেহবাদী হতাম তাহলে কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণও করতে পারতাম। কিন্তু পূর্বেই তো বলেছি যে, আমরা হলাম তোতাপাখি। আল্লাহ ও রাসূল স্বয়ং যা বলেছেন, তা হুবহু বলি। আল্লাহ বলেছেন তার হাত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তিনি হাত মুঠো করবেন; আমরা শুধু এই কথার রিপিট করি হুবহু তোতাপাখির মতো। আমরা শব্দকে তার আসল অর্থে নেই; তাকে ব্যাখ্যা বা তাবিল করি না বরং তোতাপাখি মত রিপিট করি রাসূলের কথা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস ইমাম ইবনে মাযাহ তার সুনানে بَاب فِيمَا أَنْكَرَتْ الْجَهْمِيَّةُ এর অধীনে নিয়ে এসেছেন। হাদীসটি হলো:-

"আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ (কিয়ামতের দিন) আসমান ও যমীনসমূহকে ধরে তাঁর হাতে মুষ্টিবদ্ধ করে নিবেন। (এই কথা বলতে বলতেই) তিনি নিজের হাত মুঠো করলেন এবং তা খোলেন ও বন্ধ করেন বারবার...।

[সুনানে ইবনে মাযাহ ১৯৮]

এই স্থানে আমরা দেখছি যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর শুধু হাত সাব্যস্ত করেন নি বরং মুষ্টি করবেন আল্লাহ তাও বলেছেন। এবং শুধু বলেই ক্ষ্যান্ত হননি বরং এটা যেন মানুষ হাতের আসল অর্থ না নিয়ে অন্য অর্থে না নিতে পারে বা তাবিল বা ব্যাখ্যা করতে না পারে তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই হাত মুঠো করে দেখিয়েছেন যে, এখানে হাতই উদ্দেশ্য। কিন্তু আমাদের ভুললে চলবে না যে, আল্লাহর অনুরূপ কিছুই নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে আল্লাহর হাতের সাথে নিজের হাতের তাশবীহ দেননি বরং তাকিদ করেছেন যে, হাত অর্থ হাতই, অন্য কিছু নয়। এটাকে জাহমিয়ারা অশ্বিকার করে তাই ইবনে মাজাহ এই বাবে এটা নিয়ে এসেছেন।

আমি বা আমরা এখানে হুবহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত বলি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাকে তাবিল না করে তোতাপাখির মতো রিপিট করি শুধু কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই বলেছেন ও করেছেন।

এর পড়েও যে, আমাদের দেহবাদী বলবে সে যেন তার নিজেকে নিয়ে চিন্তা করে। আমরা দেহের উপর দলিল দিতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ১ ইঞ্চি বুদ্ধি না খাটিয়ে শুধু তোতাপাখির মতো আল্লাহ ও রাসূলের কথা রিপিট করি; আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহর দেহ সম্পর্কে সরাসরি কিছুই বলেননি তাই আমরা তা বলিনা কারণ আমরা তোতাপাখি। আমরা সেই শব্দ ব্যবহার করি না যা আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেনি। এরপরও যদি কেউ আমাদের দেহবাদী বলো তাহলে একটু সতর্ক থাকিও। মিথ্যা অপবাদের জন্য মৃত্যুর পূর্বে এই দেহবাদী অভিযোগ তোমার তাকদিরে যেন এসে না পরে।

আব্দুর রহমান:- আপনি বলছেন যে, আপনারা তাবীল করেন না তাহলে, সূরা রহমানে আল্লাহ বলেছেন সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে শুধু وَجۡهُ বা তার চেহারা ব্যাতীত। তাহলে এখন কি এই আয়াতের তাবীল করবে? নাকি বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহর চেহারা ব্যাতীত সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে?

আব্দুল্লাহ:- আপনি তাহলে আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন নি। আমি বিস্তারিত বুঝিয়ে বলছি। আল্লাহর সিফাতের উপর তিনটি মত রয়েছে:- [তাফবিজ••তাবীল••আছল]

[১] তাফবিজ:- এই মতাবলম্বীদের মতে আল্লাহর সিফাতের ব্যাপারে চুপ থাকতে হবে এবং কোন অর্থ বা ব্যাখ্যা করা যাবে না এবং হুবহু আরবি শব্দ বলতে হবে। এরা অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করে।

[২] তাবীল:- এরা অর্থ করে কিন্তু দূরবর্তী অর্থ। এরা শব্দের আসল অর্থ কে বিলুপ্ত করে দিয়ে দূরবর্তী ভিন্ন অর্থ নিয়ে থাকে।

[আছল]:- এই দল শব্দের মূল অর্থকে বিলুপ্ত করে না বরং শব্দকে তার আসল অর্থেই নিয়ে অন্যান্য সকল আয়াত বা হাদীসের আলোকে অর্থ করে। এরাই সঠিক মতের উপর রয়েছে।

এখন আরও একটু গভীরে যাওয়া যাক। এখানে আমরা মতোভেদ দেখতে পাচ্ছি। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মতোভেদ সম্পর্কে গোল্ডেন উসূল বর্ণনা করে দিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন যে,

فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا

অর্থ:- " অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর"। [সূরা নিসা:৫৯]

এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, কোন মতভেদ হলে কুরআন ও মারফু হাদীসের দিকে ফিরতে হবে। কুরআন ও মারফু হাদীসের দিকে না ফিরে অন্য কারো ফতোয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন শরীয়তে সকল ভুলক্রুটির উর্ধ্বে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্তি ভুল ক্রুটির উর্ধ্বে নয়। তাই যখন মতো বিরোধ হবে তখন সমস্ত ভুলক্রুটির উর্ধ্বে যেই সোর্স অর্থাৎ কুরআন ও সহীহ মারফু হাদীস; তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই নির্দেশ দিয়েছেন।
তাই আমরা এই মতোভেদে আলেমদের ফতোয়াকে একপাশে রেখে কুরআন ও সহীহ মারফু হাদীসের দিকে মতোভেদ কে ফিরিয়ে দিব।

এখন যদি আমরা আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক মতোভেদ কে কুরআন ও সহীহ মারফু হাদীসের দিকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে দেখতে পায় যে, তাফবীজ ও তাবীল করার মতামত বাতিল। এর দলিল হলো, পূর্বেই আলোচনা কৃত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস। সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই স্বয়ং আল্লাহর হাত ও মুষ্টির অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূরবর্তী কোন ভিন্ন অর্থ না করে এবং অর্থ অজ্ঞতার অযুহাত না দিয়ে আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করেছেন। তাই তাফবীজ ও তাবীল করা কুরআন ও সহীহ মারফু হাদীসের আলোকে বাতিল। যেখানে আল্লাহ স্বয়ং বলেছেন আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আসল অর্থে নিয়েছেন এবং মানুষ যেন আসল অর্থেই গ্রহণ করে তাই তিনি করে দেখিয়েছেন; তখন কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ সুন্নাহর মোকাবেলায় আলেমদের ফতোয়া গ্রহণযোগ্য নয়। আলেমদের কোন বিষয়ে ভুল হতেই পারে,তা দলিল না পৌছার কারণে হোক বা ইজতিহাদ এর কারণে হোক কিংবা অন্যান্য কারণে। মানুষের ভুল লাগতেই পারে কোন বিষয়ে, তাই আল্লাহর নির্দেশ মত মতোভেদে আমাদের গোল্ডেন উসূল অনুসরণ করতে হবে।

এখন আসো তোমার পেশ কৃত সূরা আর রাহমানের সেই আয়াতের দিকে। সেখানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর وجه বা চেহারা ব্যাতীত সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এখানে আমরা শব্দকে তার আসল অর্থে গ্রহণ করি এবং বাতিল মতবাদ তাফবীজ এর মতো অজ্ঞতার অযুহাত দেয় না আবার তাবীল কারীদের মত মূল অর্থ কে বিলুপ্ত করে দিয়ে অন্য দূরবর্তী অর্থ নেয় না। এই শব্দ দিয়ে প্রমাণিত হয় যে আল্লাহর চেহারা আছে।

এখন এখানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর চেহারা ব্যাতীত সকল কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু অন্যান্য আয়াতে আছে যে, আল্লাহর কখনো ধ্বংস হবে না।

যারা কুরআন ও হাদীসের অনুসারী তারা সবসময় শব্দকে আছল অর্থে নেয় এবং মূল অর্থ নেওয়ার পর অন্যান্য আয়াতের আলোকে অর্থ সামঞ্জস্য করে কিন্তু শব্দের মূল অর্থ কে কখনো বিলুপ্ত করে দেয় না। উদাহরণ স্বরূপ:- আল্লাহ তায়ালার يد বা হাত।

এই يد কে তাফবীজ কারীরা অজ্ঞাতার অযুহাত দিয়ে থাকে এবং তার অর্থ করে না।

এই يد কে তাবীল কারীরা তার মূল অর্থ না নিয়ে অন্য দূরবর্তী ব্যাখ্যা করে।

আর এই يد কে আমরা তার মূল হাত অর্থেই নেয় যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়েছিলেন। আমরা এর মূল অর্থ বিলুপ্ত করে দেয় না। এর মূল অর্থ নেওয়ার পর আমরা কুরআনের অন্যান্য আয়াতের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ করি। যেমন:- يد অর্থ হাত; আর একই শব্দ মানুষের জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। আর আল্লাহ যেহেতু বলেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই হাত বুঝিয়েছেন তাই এখানে আল্লাহর হাতই হবে। তাহলে এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, মানুষের ক্ষেত্রেও يد আবার আল্লাহর ক্ষেত্রেও তাহলে কি আল্লাহর হাত মানুষের হাত একই রকম? উত্তর হলো:- আমরা এখানে শব্দের আসল অর্থ কে বিলুপ্ত করবো না কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলুপ্ত করেন নি বরং তাকীদ করেছেন। তাই এখন আমরা কুরআনের অন্যান্য আয়াত দেখবো ও শব্দের মূল অর্থ কে ঠিক রেখে সকল আয়াতের সাথে সামঞ্জস্য করবো কারণ এভাবে সামঞ্জস্য করেই কুরআন ও হাদীস বুঝতে হয় । আমরা ভালো ভাবে লক্ষ্য করলে দেখি যে,কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِير

যেহেতু আল্লাহ অন্য আয়াতে বলছেন তার মতো কোনো কিছুই নেই,তাই আল্লাহর يد এর মূল অর্থ নিয়ে এই আয়াতের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ করতে হবে কারণ, কুরআন ও হাদীস সামগ্রীক ভাবে বুঝতে হয়। তাহলে আমাদের অর্থ দাঁড়াবে যে, আল্লাহর হাত আছে কিন্তু তা কোন কিছুর অনুরূপ নয় কারণ আল্লাহ বলেই দিয়েছেন لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ । আমরা আল্লাহর হাত আছে তা কুরআন ও সহীহ মারফু হাদীসের মাধ্যমে জানি কিন্তু তার ধরণ আমাদের অজানা। তাই আমরা হুবহু তোতাপাখির মতো আল্লাহ ও রাসূলের অনুসরণ করবো এবং তাফবীজ ও তাবীল কারীদের বাতিল পদ্ধতি থেকে দূরে থাকবো।

তোমার পেশ কৃত وجه শব্দের ব্যাপারটাও অনুরূপ। আমরা وجه শব্দের মূল অর্থ " চেহারা" কে গ্রহণ করি। এখন গ্রহণ করার পর কুরআনের অন্যান্য আয়াতের আলোকে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ করি। এখানে আল্লাহ বলেছেন তার চেহারা ধ্বংস হবে না কিন্তু সূরা আল-ফুরকান ৫৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন যে, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবে না আবার সূরা বাকারার আয়াতুল কুরসি তো অনেক প্রসিদ্ধ, যেখানে বলা হয়েছে তিনি চিরস্থায়ী ও চিরঞ্জীব। তাহলে এর সামঞ্জস্য অর্থ হলো, আল্লাহ কখনো ধ্বংস ও মৃত্যু বরণ করবে না। শব্দের মূল অর্থ কখনই বিলুপ্ত হবে না বরং শব্দের মূল অর্থকে গ্রহণ করে অন্যান্য আয়াতের আলোকে সামঞ্জস্য করে অর্থ করতে হবে কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূল অর্থকে
বাতিল করেন নি বরং মূল অর্থকেই নিতে হবে সেইজন্য নিজেই মুষ্টিমেয় করছিলেন।

আব্দুর রহমান:- তাহলে আপনি বলছেন যে, আপনারা তোতাপাখি এবং কুরআন ও হাদীসের মধ্যে যা এসেছে তাকে তোতাপাখির মতো রিপিট করছেন তাহলে, আল্লাহ তো কুরআন আর হাদিসে বার বার বলছেন যে , আমি তোমার কাছে আছি। তো এই কথা টা কুরআনে যেমন আছে এই রকম কেনো বিশ্বাস করো না?

আব্দুল্লাহ:- এটার উত্তর খুবই সহজ। এটা খাস করা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস দ্বারা। হাদীসে সরাসরি এই প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, " আল্লাহ কোথায়" [মুসলিম ১০৮৬] সরাসরি একদম এই বিষয়ে প্রশ্ন ছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উত্তর শিখিয়েছেন যে আসমানের উপরে। যখন এরূপ খাস দলিল পাওয়া যায় তখন এসব আম আয়াতের অন্য অর্থ হয়। এর কারণ, সাথে থাকা কয়েক ভাবে হতে পারে। আল্লাহ এসব আয়াতের শেষে سميع، بصير এইসব শব্দ উল্লেখ করেছে। যেমন আমরাও কথায় কথায় বলি যে, আপনি এগিয়ে যান আমরা আপনার সাথে আছি। আপনার কথা একদম ১০০% সঠিক ছিল কিন্তু সমস্যা হলো যে, এই প্রশ্নটাকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাস করে দিয়েছেন; তাই খাস কে ধরে আল্লাহ কে আরশের উপর বিশ্বাস করে, আম আয়াত কে তার পরে বর্ণিত শব্দ " সামি ও বাছির" অর্থে নিতে হবে।

আব্দুর রহমান:- আপনি যে হাদীস দিয়েছেন তাতে في السماء শব্দ রয়েছে। তাহলে আল্লাহ কি আকাশের ভিতরে?

আব্দুল্লাহ:- আরবি ভাষায় في এবং على অব্যয় বা হরফে জার ব্যবহারের বেশ কিছু সূক্ষ্ম ও সাবলীল নিয়ম রয়েছে, যার কারণে আরবি সাহিত্য ও হাদীসের ভাষায় في السماء ব্যবহার সম্পূর্ণ নির্ভুল ও অলঙ্কারপূর্ণ। আরবি ভাষায় অনেক সময় একটি হরফে জার অন্য আরেকটি হরফে জারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়। একে আরবি ব্যাকরণে تضمين বা إنابة الحروف বলা হয়। উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে আরবি ভাষায় في ব্যবহৃত হয়ে على এর অর্থ প্রকাশ করে। উদাহরণ স্বরূপ:-পবিত্র কুরআনে ফেরাউনের একটি উক্তি এসেছে:

ولأصلبنكم في جذوع النخل

অর্থ: "আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের ডালে শূলে চড়াবো"। এখানে গাছের কাণ্ডের ভেতরে ঢোকানোর কথা বলা হয়নি, বরং গাছের উপরে ঝোলানোর অর্থে في এসেছে, যা মূলত على-এর অর্থ দিচ্ছে। আরও এসেছে:-

قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ

এখানে সাধারণ অনুবাদে বলা হয় "জমিনে ঘুরে বেড়াও"। কিন্তু মানুষ মাটির ভেতরে বা ভেতরে ঢুকে চলাচল করে না; বরং মাটির উপরে পৃষ্ঠেই বিচরণ করে। ফলে এখানে في এসেছে কিন্তু অর্থ দিচ্ছে على ।

আব্দুর রহমান:- এই হাদীস মুযতারীব কারণ, কুরআন বলছে যে, রহমান আরশের উপর; আর হাদীস বলছে আকাশের। তাহলে এই হাদীস মুযতারীব।

আব্দুল্লাহ:- ভাই এটা সহীহ মুসলিম এর হাদীস। আর আপনি বলছেন মুযতারীব! এর জবাব কয়েক ভাবে দেওয়া যায়:-

[১] তাহলে আপনার কথা অনুযায়ী কুরআন মাজিদও মুযতারীব [নাউযুবিল্লাহ]। কারণ, কুরআনে যেমন বলা হয়েছে রহমান আরশের উপর উঠেছেন, তেমনি কুরআনের মধ্যে সূরা মূলকের ১৬,১৭ আয়াতে পরপর এসেছে যে:-

ءَأَمِنتُم مَّن فِي ٱلسَّمَآءِ أَن يَخۡسِفَ بِكُمُ ٱلۡأَرۡضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ0 أَمۡ أَمِنتُم مَّن فِي ٱلسَّمَآءِ أَن يُرۡسِلَ عَلَيۡكُمۡ حَاصِبٗاۖ فَسَتَعۡلَمُونَ كَيۡفَ نَذِيرِ0

এখানে আল্লাহর জন্য في السماء এসেছে, তাহলে কি এখন কুরআন মাজিদ মুযতারীব? [নাউযুবিল্লাহ]। অন্তরের বক্রতা ছাড়ুন ভাই। স্পষ্ট আয়াত ও স্পষ্ট খাস হাদীস থাকতেও ব্যাখ্যা মূলক আয়াতের পিছনে লেগে থাকা অন্তরকে বক্র করে দেয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই জন্যই কুরআনে বলে দিয়েছেন:-

يُضِلُّ بِهِۦ كَثِيرٗا وَيَهۡدِي بِهِۦ كَثِيرٗاۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِۦٓ إِلَّا ٱلۡفَٰسِقِينَ

অর্থ:- তিনি এ [কুরআন] দিয়ে অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এ দিয়ে অনেককে হিদায়াত দেন। আর এর মাধ্যমে কেবল ফাসিকদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন।

[২] আপনার দ্বিতীয় জবাব হলো, আরবি ভাষায় السماء বলতে কেবল নির্দিষ্ট ভৌত আকাশ বা নীল আসমান বোঝায় না; বরং ভাষাগতভাবে উঁচুতে অবস্থিত যেকোনো কিছুকেই 'সামা' বলা হয়। এটা আপনি পৃথিবী থেকে স্বয়ং পরিক্ষা করতে পারবেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুবহে সাদিক ও সুবহে কাযিব, মাগরিবের আকাশে লালীমা ইত্যাদি বিষয় কে আকাশের সাথে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু আজ আমরা সকলেই জানি যে, আমরা আকাশে যেই সুবহে কাযিব থেকে সুবহে সাদিক ও লালীমা দেখি তা সপ্ত আসমানের কোন আসমান নয় বরং বায়ূমন্ডল। এর প্রমাণ আপনি একটি স্পেস বেলুন ক্রয় করে মোবাইলের ক্যামেরা রেখে ছেড়ে দিন। বেলুনটি যখন উপরে উঠবে তখন দেখতে পারবেন যে, সপ্ত আকাশের আসল আকাশ দেখা যায় না বরং শুধু মহাশূন্য আর মূহাশূন্য। ইউটিউবের মধ্যেও এই স্পেস বেলুনগুলোর ভিডিও পাওয়া যায়।আমরা যেখানে সুবহে সাদিক দেখতে পারি তা হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। আরবি ভাষায় السماء বলতে কেবল নির্দিষ্ট ভৌত আকাশ বা নীল আসমান বোঝায় না; বরং উঁচুতে অবস্থিত যেকোনো কিছুকেই 'সামা' বলা হয়।

আর যখন উঁচুতে অবস্থিত যেকোনো কিছুকেই 'সামা' বলা যায় তাহলে তো আর বিরোধ থাকলই না কারণ, "সামা" বলতে এখানে সর্বোচ্চ উঁচু বোঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরশের উপরে সৃষ্টির মুখাপেক্ষী না হয়ে সর্বোচ্চ উঁচুতে আছেন।

[৩] তৃতীয় জবাব হলো, যদি আকাশ ধরে নেওয়া হয় তাও এখানে মুযতারীব হবে না কারণ, দাসী বলেছিল আল্লাহ আসমানের উপরে রয়েছেন। আর এটা প্রায় সকলেরই জানা যে, আরশ সবচেয়ে উপরে অবস্থিত। সপ্ত আসমান, কুরসি পার হয়ে সকল সৃষ্টির চুড়া হলো আরশ। তাই আল্লাহ আসমানের উপর আর আরশের উপরের কথায় কোন বিরোধ নেই কারণ, আল্লাহ আসমানেরও উপর --> কুরসিরও উপর --> আরশেরও উপরে আছেন। যেহেতু আসমান আরশের অনেক নিচে তাই, আল্লাহ কে আসমানের উপর বলা ও আরশের উপর বলার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। উদাহরণ স্বরূপ:-

আপনি মনে করুন একটি বাড়ির ছাদের নিচে অবস্থান করছেন; তাহলে যদি বলা হয় যে, আব্দুর রহমানের উপর আকাশ, তাহলে কি ভুল হবে? উত্তর হলো,অবশ্যই না। কারণ আপনি ছাদের নিচে অবস্থান করলেও আসমান আপনার উপর; আবার ছাদের নিচে অবস্থান না করলেও আসমান আপনার উপর। আসমান আপনার উপরেও রয়েছে আবার ছাদের উপরেও রয়েছে। আপনি যদি বলেন আসমান আমার উপর তা ভুল হবে না, আবার যদি বলেন আসমান ছাদের উপর তাও ভুল হবে না কারণ, আসমান দুইয়ের উপরেই উঁচুতে তাই দুটিই ঠিক। অর্থাৎ মধ্যবর্তী কোন অন্তারায় সর্বোচ্চ উচ্চতাকে অশ্বিকার করতে পারে না বরং স্বীকার করে। তেমনি ভাবে আসমান হলো আরশের তুলনায় অনেক অনেক নিচের অন্তরায়; তাই আসমান আরশের উঁচুতে হওয়াকে অশ্বিকার করতে পারে না কারণ সবসময় আরশ আসমানের উপরেই থাকে। তাই আল্লাহ হলেন আসমানের উপরে , কুরসির উপরে, আরশের উপরে সবোর্চ্চ উচ্চতায়। তাই উভয়ের মধ্যেই কোন বিরোধ নেই

আব্দুর রহমান:- আমি যদি এই ভাবে বলি যে, আল্লাহ যেখানে ছিলেন, যেমন ছিলেন; সেখানেই আছেন, তেমনই আছেন যেমন তার জন্য শোভনীয়। তাহলে সমস্যা কোথায়?

আব্দুল্লাহ:- সমস্যা হলো " আল্লাহ কোথায়" এই প্রশ্নটিতেই কি বলতে হবে তা আমাদের কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট শিখিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি যেমন প্রশ্ন করেছিলেন আল্লাহ কোথায়? সে রূপ আমিও আপনাকে প্রশ্ন করছি আল্লাহ কোথায়? একই প্রশ্ন তাই উত্তরটিও এক হওয়া চাই। আর উত্তর হলো:- আল্লাহ আকাশেরও উপরে। তাই সরাসরি স্পষ্ট আয়াত ও হাদীস থাকার পরও ব্যাখ্যা মূলক আয়াত অনুসরণ করবেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে শিখিয়েছেন তার অনুসরণ করুন। আল্লাহ "আস সামা" উঁচুতে অর্থাৎ সর্বোচ্চ উঁচুতে আছেন। তিনি আসমানের উপর পার হয়ে কুরসির উপর পার হয়ে আরশের উপর। আল্লাহ নিজেই স্বয়ং বলেছেন আল্লাহ আরশের উপর। বাবা দাদার ধর্মের জন্য স্পষ্ট বিষয় কে বাদ দিয়ে ব্যাখ্যা মূলক আয়াতের পিছনে ছুটলে আপনার অন্তরে বক্রতা চলে আসবে এবং আপনি গোমরাহ হয়ে যাবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই জন্যই বলে দিয়েছেন যে,

يُضِلُّ بِهِۦ كَثِيرٗا وَيَهۡدِي بِهِۦ كَثِيرٗاۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِۦٓ إِلَّا ٱلۡفَٰسِقِينَ

তিনি এ (কুরআন ) দিয়ে অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এ দিয়ে অনেককে হিদায়াত দেন। আর এর মাধ্যমে কেবল ফাসিকদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন।

অল্প মানুষই নসিহত গ্রহণ করে। তাই চিন্তা ভাবনা করুন এবং মানুষের মতো বিরোধ পূর্ণ ফতোয়াকে ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও তার রাসূলের সুন্নাহ কে আকরে ধরুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবাই কে হেদায়েত দান করুন, আমীন।

আব্দুর রহমান:- জি ভাই, আমি এই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করবো ইন-শা-আল্লাহ। আল্লাহই সকলকে হেদায়েত দেওয়ার মালিক। আল্লাহ আপনাকেও উত্তম প্রতিদান দিক, আমিন।
 
Back
Top