সালাত একাকি সালাত আদায় করবো না জামায়াতে?

Joined
Nov 17, 2023
Threads
427
Comments
561
Solutions
1
Reactions
13,978
এক ভাইয়ের প্রশ্ন যে ফজরের সালাত ও আসরের সালাত হানাফিদের সাথে জামায়াতে পরবো নাকি আওয়াল ওয়াক্তে একাকি পরে নিব?


উত্তর:- আওয়াল ও আখির ওয়াক্তের কোন কথা নেই বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করেছেন বা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে আদায় করা হলে, একাকি আদায় না করে জামাতেই আদায় করবেন। যদি আওয়াল ওয়াক্ত হয় তাহলে সবচেয়ে ভালো। কিন্তু যদি কোথাও আওয়াল ওয়াক্তে আদায় না করে দেরিতে জামাত করা হয় এবং তা রাসূলের আদায়কৃত ও নির্দেশিত ওয়াক্তে হয় তাহলে, দেরি করলেও একাকি না পড়ে জামাতে পড়বেন। কিন্তু যদি রাসূলের আদায়কৃত ও নির্দেশিত ওয়াক্তে না হয় তাহলে, আওয়াল ওয়াক্তে একাকি আদায় করবেন। আর যদি তারা মাকরুহ ওয়াক্তে সালাত পড়ে তাহলে নিজে এককি পড়ে মাকরুহ ওয়াক্তে তাদের সাথে পড়তে পারেন যদি বিপদের আশঙ্কা করেন বা এমনিতেই মাকরুহ ওয়াক্তে তাদের সাথে পড়তে পারেন। কিন্তু মাকরুহ ওয়াক্তে পড়া ফরজ নয় বরং ঐচ্ছিক।


রাসূলের নির্দেশ মত ও তার আদায়কৃত মূল ওয়াক্ত হলো:- ফজর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যদয় পর্যন্ত এবং আসর মূল ছায়ার সাথে এক মিছল ছায়া থেকে সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত। এই দুই সময়ের মধ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই ওয়াক্তের সালাত আদায় করেছেন।


এখন হানাফিরা ফজরের সালাত আদায় করেন সূর্য উদয় হওয়ার পূর্বেই যা আখেরি ওয়াক্ত। কিন্তু এই আখেরি ওয়াক্তেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। তাই হানাফিরা যদি শেষ ওয়াক্তে ফজরের সালাত আদায় করে তাহলে জামাতেই করবেন একাকি করবেন না। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের সালাত শেষ ওয়াক্তে আদায় করেছেন তখন সকল সাহাবী তার সাথে শেষ ওয়াক্তেই আদায় করেছেন। কোন সাহাবী আওয়াল ওয়াক্তের অযুহাতে রাসূলের পূর্বে আদায় করে নি। তাই ফজরের সালাত শেষ ওয়াক্তে হলেও জামাতে পড়বেন।


আর হানাফিরা আসরের সালাত আদায় করে মূল ছায়ার সাথে দুই মিছল ছায়া যুক্ত করে বা সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পর। তাই এখানে একাকি সালাত আদায় করে নিবেন সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পূর্বে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে কখনও আসরের সালাত মূল ছায়ার সাথে দুই মিছল ছায়াতে বা সূর্য হলুদ বর্ণ করে আদায় করেনি। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ওয়াক্তে আসরের সালাত আদায় করে নি তাই আপনিও আদায় করবেন না বরং রাসূলরের নির্দেশ মোতাবেক মূল ওয়াক্তের মধ্যে সালাত আদায় করে নিবেন। মূল ওয়াক্তে আসরের সালাত আদায় করার পর হানাফিদের সাথে মাকরুহ ওয়াক্তে জামাতে শামিল হওয়া পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করবে। যদি আপনি আসরের সালাতে হানাফিদের সাথে জামাতে শরীক না হলে মানুষ কিছুই মনে না করে (( হানাফির অধিকাংশ সালাতই পড়ে না)) তাহলে এটা আপনার ইচ্ছাধীন। কিন্তু যদি ফিতনা ফাসাদের ভয় থাকে তাহলে তাদের সাথেও আদায় করবেন কারণ এটা মাকরুহ ওয়াক্ত , হারাম ওয়াক্ত নয়। মাকরুহ ওয়াক্তে কারণ গত সালাত আদায় করতে কোন সমস্যা নেই। তাই একাকি আসরের মূল ওয়াক্ত সূর্য হলুদ বর্ণ হওয়ার পূর্বেই পড়ে নিবেন, পরবর্তীতে হানাফিদের সাথে মাকরুহ ওয়াক্তে যোগ দেওয়া আপনার পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু যার রাযিয়াল্লাহু আনহু কে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইমাম রা সালাতের ওয়াক্ত মেরে ফেললে (মূল ওয়াক্ত) একাকি পরে নিবে এবং পরবর্তীতে তাদের সাথে শামীল হতে চাইলে হতে পার যা তোমার জন্য নফল।


অনেক আলেম আবার এখানে একটি বিষয়ে ভুল করেছেন। সেই আলেমরা সালাত মেরে ফেলার অর্থ নিয়েছেন সূর্য ডুবে গিয়ে মাগরীবের ওয়াক্ত শুরু হওয়া। সেই সব আলেম একদমই ভুল করেছেন হাদীস বোঝার ক্ষেত্রে। সালাতের ওয়াক্ত মেরে ফেলার অর্থ মাকরুহ ওয়াক্তে সালাত আদায় করা। একটি বিষয় ভেবে দেখ যে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি হারাম কাজ করতে নির্দেশ দিতে পারে? কারণ ওয়াক্ত বের করে সালাত পড়া হারাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসের মধ্যে বলেছেন যে, ওয়াক্ত মত সালাত পরে নিবে এবং যদি তাদের সালাত অবস্থায় পাও তাহলে তাদের সাথেও পড়ে নিবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো হারাম ওয়াক্তে সালাত পড়তে নির্দেশ দিতে পারেন না বরং এটা ছিল মাকরূহ ওয়াক্ত।


আসরের সালাত যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে সূর্য হলুদ হওয়ার পর নিয়ে পড়ে আর বাকিরা জামায়াতের অযুহাতে তা ফলো করে তাহলে তারা অবশ্যই ভুল করবে কারণ রাসূল বলেছেন নিজে পরে নাও তারপর যদি তাদের জামাত পাও ( মাকরুহ ওয়াক্তে) তাহলে পড়ে নাও। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম ওয়াক্তে তাদের সাথে সালাত পড়তে বলেছিলেন! এটা অবশ্যই মিথ্যা। একদল হারাম কাজ করছে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে হারাম কাজে সহযোগি হতে বলেছেন! কত বড় ভয়ংকর কথা। সুতরাং ঠিক কথা হলো এটা মাকরুহ ওয়াক্তের নির্দেশ ছিল; হারাম ওয়াক্তের সাথে জড়িত হওয়া জায়েজ নয়। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি মাকরুহ ওয়াক্ত নিয়েই বলেছেন যে, প্রথমে ওয়াক্ত মত পড়ে নাও, তারপর যদি তাদের জামাত পাও (মাকরুহ ওয়াক্তে) তাহলে অনুসরণ কর। এটা হারাম ওয়াক্তের নির্দেশ ছিল না।


এখানে ওয়াক্ত হলো তিনটি:- (১) মূল ওয়াক্ত যা সূর্য হলুদ হওয়ার পূর্বে শেষ হয় (২) মাকরুহ ওয়াক্ত যা সূর্য হলুদ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (৩) সূর্যাস্তের শুরু থেকে বাকি সময়;এটা হারাম ওয়াক্ত।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযু যার কে দুইটি ওয়াক্ত অনুসরণ করতে বলেছি। একটি মূল ওয়াক্ত এবং অপরটি মাকরুহ ওয়াক্ত। কোন দল যদি ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম ওয়াক্তে সালাত শুরু করে তাহলে নফল হিসেবেও তাদের সাথে যুক্ত হওয়া বৈধ নয়। আবু যারের এই হাদীস টি এই মাকরুহ ওয়াক্ত সম্পর্কিত যা নিচের পিডিএফ ফাইলটি সম্পূর্ণ পড়লে জানতে পারবেন। হারাম ওয়াক্তে শরীক হওয়া জায়েজ নয়।


(আসরের সালাতের সঠিক ওয়াক্তের pdf)



তাহলে দাড়ালো যে, সেই দল আসরের সালাত কে মাকরুহ ওয়াক্তে আদায় করে (যেমন হানাফিরা) তাহলে, সেই সময় সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূল ওয়াক্তে পড়ে নিতে এবং চাইলে মাকরুহ ওয়াক্তে শরীক হতে। তাই আসরের সালাত কে অবশ্যই একাকি আদায় করে নিবে কারণ হানাফিরা মাকরুহ ওয়াক্তে আদায় করে। তারপর পরিস্থিতির বিবেচনা করে তাদের সাথে শামীল হতে পারো বা না পারো।


এখন অনেকর মনে সংশয় হতে পারে যে, মাকরুহ ওয়াক্তে তো সালাত আদায় নিষিদ্ধ তাহলে কেমনে কি?


উত্তর হলো:- মাকরুহ ওয়াক্তে সাধারণ নফল নিষিদ্ধ কি না এটা নিয়ে বিস্তর মতভেদ রয়েছে।


(আসরের পর দুই রাকাত সালাত)



এটা নিয়ে মতভেদ থাকার পরও, আমি এখানে নিষিদ্ধ ধরে নিচ্ছি। আসরের পর যেই সালাত কে নিষিদ্ধ ধরা হয়েছে তা হলো:- সাধারণ নফল সালাত। কোন কারণগত ছালাত এর অন্তর্ভুক্ত নয় যেমন:- তাওয়াফের সালাত বা তাহিয়্যাতুল মসজিদ। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই নিয়মিত দুই রাকাত সুন্নাত পড়তেন আসরের পর। তার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেরিতে পড়ার কারণ ছিল:- ব্যস্ততা এবং তিনি যেকোনো আমল শুরু করলে তা ছাড়তেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয়ই হারাম ওয়াক্তে সালাত আদায় করতেন না, বরং এই ওয়াক্তে কারণগত সালাত বৈধ। সে রূপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে ওয়াক্ত মত সালাত আদায় করে মাকরুহ ওয়াক্তে তাদের সাথে জামাতে পড়তে বলেছেন কারণ " জামাতের ঐক্যতা বা ফিতনা ফাসাদের ভয়", কিন্তু একাকি পড়ার পর সাধারণ পরিস্থিতিতে জামাতে পড়তেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। যদি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে তাহলে একাকি সালাত আদায় করার পর, মাকরুহ ওয়াক্তে জামাতে শামিল হওয়া ইচ্ছাধীন। আর সর্বপরী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ তো রয়েছেই যা, তিনি আবু যর রাযিয়াল্লাহু আনহু কে দিয়েছিলেন।অর্থাৎ মাকরুহ ওয়াক্তে কারণ আছে এসব সালাত পড়া যায় কিন্তু হারাম ওয়াক্তের সালাত আদায় করা গ্রহণ যোগ্য নয়। মানুষ কিভাবে অনুমান করতে পারে যে, কিছু মানুষ হারাম কাজ করছে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হারাম কাজের অনুসরণ করতে বলেছে। একটি হারাম কাজে জরিয়ে পড়া ঐক্যের নামে বৈধ নয় যদি তুমি বাধ্য না হও।


সুতরাং, সারসংক্ষেপ হলো:- শেষ ওয়াক্তে হলেও হানাফিদের সাথে ফজরের সালাত জামাতে আদায় করবে। আর আসরের সালাত একাকিই আদায় করে নিবে মূল ওয়াক্তে; তারপর পরিস্থিতির বিবেচনা করে তাদের সাথে আসরের জামাতে শরীক হওয়া বা না হওয়ার ফয়সালা হবে , যা তোমার পরিস্থিতি ও ইচ্ছাধীন হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কল্যাণমূলক জীবন দান করুন আমীন।
 
Similar content Most view View more
Back
Top