আকিদা নবীদের দেহ সুরক্ষিত ও জুমাবারে দূরুদ প্রমাণিত

Joined
Nov 17, 2023
Threads
434
Comments
573
Solutions
1
Reactions
14,515
ইমাম আবু দাউদ باب فَضْلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন:-


حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ يَقُولُونَ بَلِيتَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ ‏"‏


আওস ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমু‘আহর দিন। এদিন আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিলো, এদিনই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিলো, এদিন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। আওস ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, লোকজন প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রসূল! কি করে আমাদের দরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে? আপনি তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। বর্ণনাকারী আওস ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, লোকেরা বুঝাতে চাচ্ছিল আপনার শরীর তো জরাজীর্ণ হয়ে মিশে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।


এই হাদীসের সনদ নিয়ে অনেকজন আপত্তি জানায় কারণ, "আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন তামিম? নাকি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবের?"। দুই মতের পক্ষেই মুহাদ্দিসরা রয়েছেন; তবে শক্তিশালী মতামতের দিক থেকে এখানে " ইয়াজিদ বিন তামিম" অধিক গ্রহণযোগ্য।


তবে সমস্যা হলো, কিছু ভাই হাদীসের সনদের বাহাসে মতন কেউ উরিয়ে দেয়। তারা অন্যান্য হাদীসের দিকে দৃঢ় দৃষ্টি রাখেনা। সঠিক কথা হলো, এই হাদীসের সনদ নিয়ে আলোচনা থাকতে পারে কিন্তু মতন ১০০% বিশুদ্ধ এবং প্রত্যেক মুসলিম এই মতন অনুযায়ী আকিদা ও আমল করবে। এটা মতন গত ভাবে সব তথ্যই সঠিক,ইন শা আল্লাহ। আমরা এখন এটার মতন বিশ্লেষণ করবো কয়েকটি পয়েন্টে।


[পয়েন্ট ১] জুমার দিন ও আদম আঃ:- জুমার দিন সম্পর্কে ও আদম আঃ সম্পর্কে এই হাদীসে যে তথ্যগুলো এসেছে তা "সহীহ মুসলিমের কিতাবুল জুমা এর باب فَضْلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ ও সুনান আবু দাউদের কিতাবুস সালাত باب فَضْلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ থেকে বিশুদ্ধ ভাবে প্রমাণিত"।


[পয়েন্ট ২] জুমার দিন দূরুদ:- জুমার দিন বেশি বেশি দূরুদ পড়তে কোন বাঁধা নেই কারণ, প্রতিদিনই বেশি বেশি দূরুদ পড়া বৈধ ও যায়েজ এবং একবার দুরুদ পড়লে দশবার রহমত নাযিল হয় " সহীহ মুসলিম কিতাবুস সালাতباب الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ التَّشَهُّدِ"। অর্থাৎ প্রতিদিনই বেশি বেশি দূরুদ পড়া বৈধ বা জায়েয। মূল বিষয় হলো যে, শুক্রবার, শনিবার, রবিবার ইত্যাদি প্রত্যেক দিনেই বেশি বেশি দূরুদ পড়া বৈধ ও ইজমা। হাদীসে শুধু শনিবার, রবিবার উল্লেখ না করে শুক্রবার করা হয়েছে। এখানে ১০০ বার বা ৮০ বার কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় নি। তাই অনির্দিষ্ট ভাবে প্রতিদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি দূরুদ পড়া মুস্তাহাব। তাই ইয়াজিদ বিন তামিমের সনদ শুক্রবার বেশি বেশি অনির্দিষ্টভাবে দুরুদ পড়ার কোন ক্ষতি করবে না। যদি সংখ্যা নির্দিষ্ট করে নেয় এই হাদীস থেকে তাহলে সমস্যা; কিন্তু যদি অনির্দিষ্ট ভাবে পড়ে বেশি বেশি তাহলে কোন সমস্যা নেই বরং উত্তম কারণ, শনি, রবি,সোম, মঙ্গল, বুধ , বৃহস্পতি, শুক্রবার সব দিনেই বেশি বেশি দূরুদ পড়া যায়। আর এই হাদীসটিতে শুধু শুক্রবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা সাধারণ ভাবে প্রমাণিত। তাই এই হাদীসের সনদ দুর্বল হলেও এরপ মতন গ্রহণ যোগ্য এবং আমল করা উত্তম।


[পয়েন্ট ৩] নবীদের দেহ সুরক্ষিত:- নবীদের দেহ সুরক্ষিত এটাতো কুরআনের আকিদা। সুলাইমান আঃ এর মৃত্যুর পরও তার দেহে পোকা ও গন্ধ ছড়ায় নি। পোকা সুলাইমান আঃ এর লাঠি ধিরে ধিরে খেয়েছে কিন্তু তার দেহের কোন কিছুই হয়নি, " দেখুন সূরা সাবা আয়াত: ১৪ "। এছাড়াও উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ সনদে নবী দানিয়াল আঃ এর সুরক্ষিত দেহ সম্পর্কে হাদীস রয়েছে মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ। সেখানে রয়েছে:-


فَكَتَبَ عُمَرُ: «إِنَّ هَذَا نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ وَالنَّارُ لَا تَأْكُلُ الْأَنْبِيَاءَ , وَالْأَرْضُ لَا تَأْكُلُ الْأَنْبِيَاءَ


অর্থাৎ:- অতঃপর উমার (রাঃ) লিখলেন: ‘ইনি নবীদের মধ্যকারই একজন নবী। আর আগুন নবীদের দেহ ভক্ষণ করে না এবং মাটিও নবীদের দেহ ভক্ষণ করে না।"


ج7 - ص4 - كتاب المصنف ابن أبي شيبة ت الحوت - ما ذكر في تستر - المكتبة الشاملة


সুতরাং মতন ১০০% সহীহ এবং নবীরা জীবিত থেকে সালাত আদায় করে যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা আঃ কে দেখেছিলেন।

তাই কোন ভাইদের উচিত নয় এই হাদীসের মতন নিয়ে বাড়াবাড়ি করা বরং মতন ১০০% বিশ্বাসযোগ্য অন্যান্য সহীহ হাদীস ও আছারের আলোকে।
 
Back
Top