Altruistic
Uploader
Salafi User
- Joined
- Nov 17, 2023
- Threads
- 426
- Comments
- 551
- Solutions
- 1
- Reactions
- 13,865
- Thread Author
- #1
যখন এই কথা বলা হয় যে, উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু তা’যীর (শাসন) এবং শাস্তি হিসেবে তিন তালাককে কার্যকর করেছিলেন, তখন কিছু আবেগপ্রবণ লোক আপত্তি করে বসেন যে, যখন একটি জিনিস শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ ছিল, তখন উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু কীভাবে সেই বৈধতাকে হারামে পরিবর্তন করার অধিকারী হলেন? তারা কি তবে হালালকে হারাম করার মর্যাদায় পৌঁছে গিয়েছিলেন?
এর উত্তর হলো এই যে:
প্রথমত:
তা’যীর এবং শাস্তির অর্থই হলো এই যে, কোনো মানুষকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে কিছু বৈধ জিনিস এবং নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া।
উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যক্তির নিজের ঘরে তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে বসবাস করা একটি সম্পূর্ণ বৈধ বিষয়। কিন্তু সে যখন কোনো অপরাধ করে বসে এবং তাকে তার ঘর ও স্ত্রী-সন্তানদের থেকে দূরে সরিয়ে জেলে বন্দি করে দেওয়া হয়, তখন কি এই আপত্তি তোলা যাবে যে—তার নিজের ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে থাকা তো বৈধ ছিল, তাহলে তা তার জন্য হারাম কেন করা হলো?
একইভাবে, কোনো ব্যক্তিকে যখন শাস্তি হিসেবে দেশান্তর করা হয়, তখনো কি এই আপত্তি তোলা যাবে যে—তার নিজের দেশে থাকা তো বৈধ ছিল, তাহলে তা তার জন্য কেন হারাম করা হলো? কারণ, শাস্তির অর্থই হলো কোনো মানুষকে এমন কিছু জিনিস এবং সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া, যা তার জন্য (স্বাভাবিক অবস্থায়) বৈধ ছিল।
দ্বিতীয়ত:
তালাকের বিষয়টিই একমাত্র ক্ষেত্র নয় যেখানে উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু তা’যীর ও শাস্তি হিসেবে কোনো বৈধ জিনিসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। বরং আরও অনেক বিষয়েও উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু শাস্তি হিসেবে হালাল ও বৈধ বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ:
এক নারী তার গোলামের (দাসের) সাথে বিয়েবহির্ভূত চুক্তি করে সহবাস করে ফেলেছিল। তখন উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু ফয়সালা দিলেন যে—এখন থেকে তুমি জীবনের অন্য কোনো পুরুষের সাথে আর বিয়ে করতে পারবে না।
যেমনটা ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু: ২১১ হিজরি) বর্ণনা করেছেন:
"عبد الرزاق، عن ابن جريج قال: أخبرني أبو الزبير قال: سمعت جابر بن عبد الله يقول: جاءت امرأة إلى عمر بن الخطاب ونحن بالجابية نكحت عبدها فانتهرها، وهم أن يرجمها فقال: لا يحل لك مسلم بعده"
"জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: আমরা যখন জাবিয়া নামক স্থানে ছিলাম, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এক নারী এলো, যে তার গোলামের সাথে নিকাহ (সহবাস) করেছিল। উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে ধমক দিলেন এবং তাকে রজম (পাথর ছুড়ে শাস্তি) দেওয়ার ইচ্ছে করলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বললেন: এর পর থেকে কোনো মুসলিম পুরুষ আর তোমার জন্য হালাল নয় (অর্থাৎ তুমি এখন থেকে আর কখনো বিয়ে করতে পারবে না)।" [মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ২০৯/ হাদিস নম্বর: ১২৮১৭; এর সনদ সহীহ এবং ইবনে হাজামও সহীহ বলেছেন আল-মুহাল্লা ৯/৭২]
লক্ষ্য করুন, এই ঘটনার পরেও সেই নারীর জন্য এটি বৈধ ছিল যে সে অন্য কোনো স্বাধীন পুরুষের সাথে বিয়ে করতে পারত। কিন্তু উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু শাস্তি হিসেবে তার জন্য অন্য কোনো মুসলিম পুরুষের সাথে বিয়ে করা হারাম করে দিয়েছিলেন। স্পষ্টতই উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু এটি তা’যীর ও শাস্তি হিসেবে করেছিলেন; তাই একে কোনোভাবেই বলা যাবে না যে তিনি একটি হালাল জিনিসকে (স্থায়ীভাবে) হারাম করে দিয়েছেন।
এছাড়াও উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু শুধু (তালাকদাতার জন্য) হারাম করার সিদ্ধান্তই দেননি, বরং কোনো প্রকার তালাক ছাড়াই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছিলেন। [দেখুন: তাফসীরে তাবারী, তাহকীক: শাকের: ৪/৩৬৭, এবং ইবনে কাসীর বলেন: এর সনদ সহীহ; আরও দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড: ১/৫৮৩, এবং আরও দেখুন: মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, খণ্ড: ৭/১৭৭]
ইমাম ইবনে আবি শায়বাহ তার মুসান্নাফে বিশুদ্ধ সনদে হাদীস নিয়ে এসেছেন:
হাদিস এবং অনুবাদ
الحديث:
حدثنا أبو بكر قال: حدثنا علي بن مسهر، عن الأعمش، عن شقيق قال: تزوج حذيفة يهودية بمداين، فكتب إليه عمر: «أن خل سبيلها»، فكتب إليه حذيفة: أتزعم أنها حرام؟ فكتب إليه عمر: «أما إني لا أزعم أنها حرام، ولكني أخاف أن تعاطوا المومسات منهن».
বাংলা অনুবাদ:
শাকীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হযরত হুজায়ফা (রা.) মাদায়েন শহরে থাকাকালীন একজন ইহুদী মহিলাকে বিবাহ করেন। এ সংবাদ শুনে হযরত উমর (রা.) তাকে লিখে পাঠালেন— "তাকে ছেড়ে দাও (তালাক দিয়ে দাও)।" হুজায়ফা (রা.) উত্তরে লিখলেন— "আপনি কি মনে করেন যে তাকে বিবাহ করা হারাম?" তখন উমর (রা.) জবাবে লিখলেন— "আমি বলছি না যে তা হারাম, কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি যে (তোমরা যদি এভাবে আহলে কিতাবদের বিবাহ শুরু করো তবে) তোমরা তাদের মধ্য থেকে যারা ব্যভিচারিণী (মুমিসাত) তাদেরও গ্রহণ করে ফেলবে।"
তথ্যসূত্র:
মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ।
অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ (বিবাহ অধ্যায়)।
হাদিস নম্বর: ১৬৫৭১ (সংস্করণ ভেদে পরিবর্তন হতে পারে)।
এই ঘটনার আরেকটি সনদে হযরত তালহা (রা.)-এর নামও স্পষ্টভাবে এসেছে:-
আরবী হাদীস:
"عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ، عَنْ خَلَفِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ: تَزَوَّجَ حُذَيْفَةُ كِتَابِيَّةً، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ: أَنْ خَلِّ سَبِيلَهَا. فَكَتَبَ إِلَيْهِ: أَنَّهَا حَرَامٌ؟ فَكَتَبَ إِلَيْهِ: لا، وَلَكِنِّي أَخَافُ أَنْ تَرْتَغِبُوا عَنْ نِسَاءِ الْمُسْلِمِينَ. وَتَزَوَّجَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ كِتَابِيَّةً، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بِمِثْلِ ذَلِكَ."
বাংলা অনুবাদ:
"শাকীক ইবনু সালামা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হযরত হুজাইফা (রা.) একজন কিতাবী নারীকে বিয়ে করেছিলেন। হযরত উমর (রা.) তাঁর কাছে চিঠি লিখলেন যে, 'তাকে পৃথক করে দাও।' হযরত হুজাইফা লিখলেন, 'এটি কি হারাম?' হযরত উমর (রা.) জবাবে লিখলেন, 'না, তবে আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে (তোমরা যদি কিতাবী নারীদের প্রতি আগ্রহী হও, তবে) তোমরা মুসলিম নারীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।' এবং হযরত তালহা ইবনু উবাইদিল্লাহ (রা.)-ও একজন কিতাবী নারীকে বিয়ে করেছিলেন, হযরত উমর (রা.) তাঁর কাছেও একই রকম চিঠি লিখেছিলেন।"
তথ্যসূত্র:
(সুনানে সাঈদ ইবনু মনসুর; হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর 'তালখীসুল হাবীর' ৩/১৭২ গ্রন্থে এবং ইমাম বায়হাকী তাঁর 'সুনানে কুবরা' ৭/১৭১ গ্রন্থে এর সনদকে সহীহ বা বিশুদ্ধ বলেছেন। দেখুন: সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর অধ্যায়: কিতাবুত তালাক, হাদীস ৭৪০,ড. সা’দ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ-এর তাহকীক, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী' হাদিস নং ১৩৯৩২ )
আব্দুর রহমান আস-সাবুনী লিখেছেন:
"وقد فرق عمر بين كل من طلحة وحذيفة وزوجتيهما الكتابيتين وقال: لا أعدمه ولكن أخشى الإعراض عن أزواج بالمسلمات ، فزواج المسلم بالكتابية مباح على ما ذهب إليه جمهور المسلمين ومع هذا فقد رأى عمر أن من المصلحة منع مثل هذه الزيجات بل وفسخها إن حصلت، فإذا كان من يسلك حق التفريق دون طلاق بين الزوجين ، ألا يسلك التفريق بعد طلاق محرم فيجعله ثلاثاً؟"
"হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু, হযরত তালহা এবং হযরত হুযাইফা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়কে তাঁদের কিতাবী (ইহুদি/খ্রিস্টান) স্ত্রীদের থেকে আলাদা করে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: আমি একে হারাম বলছি না, কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে মানুষ মুসলিম নারীদের বিয়ে করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। মুসলমানদের জন্য কিতাবী নারীদের বিয়ে করা জুমহুর (অধিকাংশ) ওলামাদের মতে বৈধ। তা সত্ত্বেও হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে এই ধরনের বিয়ে বন্ধ করা এবং হয়ে থাকলে তা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমীচীন মনে করেছিলেন। সুতরাং, যে ব্যক্তিত্বের তালাক ছাড়াই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর অধিকার ছিল, তাঁর পক্ষে কি এই অধিকার থাকা সম্ভব নয় যে—তিনি (একবারে) হারাম তালাক দেওয়ার পর সেই দম্পতিকে আলাদা করে দেবেন?" [মাদায়েন হুররিয়্যাতুয যাওজাইন ফিত তালাক, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৫৩]
উমর রাদিআল্লাহু আনহু কোন হালাল বিষয় কে হারাম করেননি বরং তিনি হালাল কে হালাল এবং হারাম কে হারাম মেনে তার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচক্ষণতার সাথে কাজ করেছেন। উমর রাদিআল্লাহু আনহু যখন হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে আহলে কিতাব স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে বলেছেন তখন উমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজেই এই সংশয় কে দূর করে দিয়েছেন। যখন তাকে বলা হলো যে, আপনি কি আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ হারাম মনে করেন? উমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজেই বলেছেন না বরং বৃহত্তর ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থে। এরূপভাবে একই বৈঠকে তিন তালাক দিলে তিনি বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে কোন হালাল কাজ কে হারাম করেন নি কারণ, একই বৈঠকে তিন তালাক দেওয়া হারাম ও গুনাহের কাজ কিন্তু এই গুনাহের জন্য কোন হুদুদ নেই। যখন কোন গুনাহের কাজের জন্য যখন হুদুদ থাকে না এবং সমাজে এই গুনাহের কুপ্রভাব দেখা দেয় তখন কোন বিচক্ষণ শাসক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাযীরী শাস্তি প্রয়োগ করতে পারে কারণ, এই গুনাহের কোন শাস্তি শরিয়তে নেই এবং শাসকের দায়িত্ব হলো সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখা। তাই এই পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতার সাথে তাযীরী শাস্তি দেওয়া যায়। উমর রাদিআল্লাহু আনহু যখন দেখলেন যে, শরিয়তে এই গুনাহের শাস্তি নেই এবং এটা সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই সে তাযীরী শাস্তি প্রয়োগ করে। শাস্তি দেওয়ার দাবিই হলো কোন হালাল বিষয় কে শাস্তি গ্রহিতার থেকে দূরে রাখা যা উপরে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তাই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কোন হালাল কে হারাম করেন নি বরং সাময়িকভাবে বিচক্ষণতার সাথে তাযীরী শাস্তি প্রয়োগ করেছেন।
তৃতীয়ত:
কিছু ভাই জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে বলে যে, কোন ফয়সালা কে তা’যীরী হওয়ার জন্য সেই বিধান শেষ হওয়ার দলিল প্রয়োজন। এই কথা একদম বাতিল কথা। কারণ উমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজেই বলেছেন যে, "মানুষ এমন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে যাতে তাদের জন্য ধীরস্থিরভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল। কাজেই আমরা যদি এটি তাদের ওপর কার্যকর করে দেই (তবে ভালো হতো)"।
একজন সাধারণ মানুষও বলতে পারে যে, এই ফয়সালা ছিল উমার রা আনহু এর মানুষের আল্লাহর বিধান নিয়ে খেলা করার শাস্তি স্বরূপ। এখান থেকেই বোঝা যায় এটা তা’যীরী শাস্তি ছিল। এছাড়াও উমর রাদিআল্লাহু আনহু শুধু পৃথক করতেন না বরং প্রহারও করতেন।
হাদীসে এসেছে :
الحديث:
عن معمر، عن الزهري، عن أنس بن مالك قال: كان عمر بن الخطاب إذا أتي برجل قد طلق امرأته ثلاثا في مجلس أوجعه ضربا، وفرق بينهما.
বাংলা অনুবাদ:
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর কাছে যখন এমন কোনো ব্যক্তিকে আনা হতো যে তার স্ত্রীকে এক মজলিশে তিন তালাক দিয়েছে, তখন তিনি তাকে কঠিন ভাবে প্রহার করতেন এবং তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিতেন।
উৎস:
মুসান্নাফ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক, কিতাবুত তালাক।
হাদিস নম্বর: ৬৫৮৪ , সুনানুল কুবরা, কিতাবুত তালাক ,হাদিস নং: ১৫১৩৮। (সংস্করণ ভেদে পরিবর্তন হতে পারে)।
এখান থেকে বোঝা যায় যে, উমর রাদিআল্লাহু আনহু শুধু বিচ্ছিন্ন করতেন না বরং প্রহারও করতেন।
এখন, শাস্তি হলো ২ প্রকার:- (ক) নির্ধারিত শাস্তি হদ ও কিসাস। একে 'হুদুদ' বলা হয়। (খ) তা’যীরী শাস্তি। বিচক্ষণ বিচারক বা রাষ্ট্র এই শাস্তি নির্ধারণ করে।
যদি উমর রাদিআল্লাহু আনহুর এর প্রহার করার শাস্তি হুদুদ হয় তাহলে কুরআন ও হাদীসের নস কোথায়? পৃথিবীর কোন স্থানেই একই বৈঠকে তিন তালাক দিলে প্রহার করা হয় না বরং শুধু বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়; তাহলে কি সম্পূর্ণ উম্মাহ গোমড়াহ হয়ে গেছে এবং একই বৈঠকে তিন তালাক দেওয়ার শরয়ী শাস্তি প্রহার করাকে ভুলে গেছে?
এখান থেকেই বুঝতে পারা যায় এটা হুদুদ ছিল না বরং তাযীরী শাস্তি।
যদি একই বৈঠকে তিন তালাক দেওয়ার জন্য তাযীরি শাস্তি হিসেবে প্রহার করা হয় তাহলে, এই শাস্তিকে কোন শাসক রহিত করলো এবং এর সনদ কোথায়? একই বৈঠকে তিন তালাক কার্যকর করা মানুষেরাও এটা প্রয়োগ করে না; তাহলে কি তারা এটা সমাপ্ত হওয়ার সহীহ সনদ পেয়েছে? নাকি সম্পূর্ণ উম্মাহ প্রথভ্রষ্ট ছিল যে, এই তাযীরী শাস্তি সমাপ্তের কোন প্রমাণ না পেয়ে পালন করা ছেড়ে দিয়েছে?
উপরের আলোচনা থেকে দিবালকের ন্যায় স্পষ্ট যে, কোন ফয়সালা কে তা’যীরী হওয়ার জন্য সেই বিধান শেষ হওয়ার দলিল প্রয়োজন বলা হলো বাতিল কথা। আল্লাহ সকলকে হেদায়েত দান করুন, আমীন।
তথ্যসূত্র:
(সংক্ষেপন ও পরিমার্জিত করা হয়েছে)
طلاق سے متعلق عمر فاروق رضی اللہ عنہ کا سیاسی وتعزیری فیصلہ – Kifayatullah Sanabili
এর উত্তর হলো এই যে:
প্রথমত:
তা’যীর এবং শাস্তির অর্থই হলো এই যে, কোনো মানুষকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে কিছু বৈধ জিনিস এবং নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া।
উদাহরণস্বরূপ: একজন ব্যক্তির নিজের ঘরে তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে বসবাস করা একটি সম্পূর্ণ বৈধ বিষয়। কিন্তু সে যখন কোনো অপরাধ করে বসে এবং তাকে তার ঘর ও স্ত্রী-সন্তানদের থেকে দূরে সরিয়ে জেলে বন্দি করে দেওয়া হয়, তখন কি এই আপত্তি তোলা যাবে যে—তার নিজের ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে থাকা তো বৈধ ছিল, তাহলে তা তার জন্য হারাম কেন করা হলো?
একইভাবে, কোনো ব্যক্তিকে যখন শাস্তি হিসেবে দেশান্তর করা হয়, তখনো কি এই আপত্তি তোলা যাবে যে—তার নিজের দেশে থাকা তো বৈধ ছিল, তাহলে তা তার জন্য কেন হারাম করা হলো? কারণ, শাস্তির অর্থই হলো কোনো মানুষকে এমন কিছু জিনিস এবং সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া, যা তার জন্য (স্বাভাবিক অবস্থায়) বৈধ ছিল।
দ্বিতীয়ত:
তালাকের বিষয়টিই একমাত্র ক্ষেত্র নয় যেখানে উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু তা’যীর ও শাস্তি হিসেবে কোনো বৈধ জিনিসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। বরং আরও অনেক বিষয়েও উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু শাস্তি হিসেবে হালাল ও বৈধ বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ:
এক নারী তার গোলামের (দাসের) সাথে বিয়েবহির্ভূত চুক্তি করে সহবাস করে ফেলেছিল। তখন উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু ফয়সালা দিলেন যে—এখন থেকে তুমি জীবনের অন্য কোনো পুরুষের সাথে আর বিয়ে করতে পারবে না।
যেমনটা ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু: ২১১ হিজরি) বর্ণনা করেছেন:
"عبد الرزاق، عن ابن جريج قال: أخبرني أبو الزبير قال: سمعت جابر بن عبد الله يقول: جاءت امرأة إلى عمر بن الخطاب ونحن بالجابية نكحت عبدها فانتهرها، وهم أن يرجمها فقال: لا يحل لك مسلم بعده"
"জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: আমরা যখন জাবিয়া নামক স্থানে ছিলাম, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এক নারী এলো, যে তার গোলামের সাথে নিকাহ (সহবাস) করেছিল। উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে ধমক দিলেন এবং তাকে রজম (পাথর ছুড়ে শাস্তি) দেওয়ার ইচ্ছে করলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বললেন: এর পর থেকে কোনো মুসলিম পুরুষ আর তোমার জন্য হালাল নয় (অর্থাৎ তুমি এখন থেকে আর কখনো বিয়ে করতে পারবে না)।" [মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ২০৯/ হাদিস নম্বর: ১২৮১৭; এর সনদ সহীহ এবং ইবনে হাজামও সহীহ বলেছেন আল-মুহাল্লা ৯/৭২]
লক্ষ্য করুন, এই ঘটনার পরেও সেই নারীর জন্য এটি বৈধ ছিল যে সে অন্য কোনো স্বাধীন পুরুষের সাথে বিয়ে করতে পারত। কিন্তু উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু শাস্তি হিসেবে তার জন্য অন্য কোনো মুসলিম পুরুষের সাথে বিয়ে করা হারাম করে দিয়েছিলেন। স্পষ্টতই উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু এটি তা’যীর ও শাস্তি হিসেবে করেছিলেন; তাই একে কোনোভাবেই বলা যাবে না যে তিনি একটি হালাল জিনিসকে (স্থায়ীভাবে) হারাম করে দিয়েছেন।
এছাড়াও উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহু শুধু (তালাকদাতার জন্য) হারাম করার সিদ্ধান্তই দেননি, বরং কোনো প্রকার তালাক ছাড়াই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছিলেন। [দেখুন: তাফসীরে তাবারী, তাহকীক: শাকের: ৪/৩৬৭, এবং ইবনে কাসীর বলেন: এর সনদ সহীহ; আরও দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড: ১/৫৮৩, এবং আরও দেখুন: মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, খণ্ড: ৭/১৭৭]
ইমাম ইবনে আবি শায়বাহ তার মুসান্নাফে বিশুদ্ধ সনদে হাদীস নিয়ে এসেছেন:
হাদিস এবং অনুবাদ
الحديث:
حدثنا أبو بكر قال: حدثنا علي بن مسهر، عن الأعمش، عن شقيق قال: تزوج حذيفة يهودية بمداين، فكتب إليه عمر: «أن خل سبيلها»، فكتب إليه حذيفة: أتزعم أنها حرام؟ فكتب إليه عمر: «أما إني لا أزعم أنها حرام، ولكني أخاف أن تعاطوا المومسات منهن».
বাংলা অনুবাদ:
শাকীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হযরত হুজায়ফা (রা.) মাদায়েন শহরে থাকাকালীন একজন ইহুদী মহিলাকে বিবাহ করেন। এ সংবাদ শুনে হযরত উমর (রা.) তাকে লিখে পাঠালেন— "তাকে ছেড়ে দাও (তালাক দিয়ে দাও)।" হুজায়ফা (রা.) উত্তরে লিখলেন— "আপনি কি মনে করেন যে তাকে বিবাহ করা হারাম?" তখন উমর (রা.) জবাবে লিখলেন— "আমি বলছি না যে তা হারাম, কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি যে (তোমরা যদি এভাবে আহলে কিতাবদের বিবাহ শুরু করো তবে) তোমরা তাদের মধ্য থেকে যারা ব্যভিচারিণী (মুমিসাত) তাদেরও গ্রহণ করে ফেলবে।"
তথ্যসূত্র:
মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ।
অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ (বিবাহ অধ্যায়)।
হাদিস নম্বর: ১৬৫৭১ (সংস্করণ ভেদে পরিবর্তন হতে পারে)।
এই ঘটনার আরেকটি সনদে হযরত তালহা (রা.)-এর নামও স্পষ্টভাবে এসেছে:-
আরবী হাদীস:
"عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ، عَنْ خَلَفِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ: تَزَوَّجَ حُذَيْفَةُ كِتَابِيَّةً، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ: أَنْ خَلِّ سَبِيلَهَا. فَكَتَبَ إِلَيْهِ: أَنَّهَا حَرَامٌ؟ فَكَتَبَ إِلَيْهِ: لا، وَلَكِنِّي أَخَافُ أَنْ تَرْتَغِبُوا عَنْ نِسَاءِ الْمُسْلِمِينَ. وَتَزَوَّجَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ كِتَابِيَّةً، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بِمِثْلِ ذَلِكَ."
বাংলা অনুবাদ:
"শাকীক ইবনু সালামা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হযরত হুজাইফা (রা.) একজন কিতাবী নারীকে বিয়ে করেছিলেন। হযরত উমর (রা.) তাঁর কাছে চিঠি লিখলেন যে, 'তাকে পৃথক করে দাও।' হযরত হুজাইফা লিখলেন, 'এটি কি হারাম?' হযরত উমর (রা.) জবাবে লিখলেন, 'না, তবে আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে (তোমরা যদি কিতাবী নারীদের প্রতি আগ্রহী হও, তবে) তোমরা মুসলিম নারীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।' এবং হযরত তালহা ইবনু উবাইদিল্লাহ (রা.)-ও একজন কিতাবী নারীকে বিয়ে করেছিলেন, হযরত উমর (রা.) তাঁর কাছেও একই রকম চিঠি লিখেছিলেন।"
তথ্যসূত্র:
(সুনানে সাঈদ ইবনু মনসুর; হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর 'তালখীসুল হাবীর' ৩/১৭২ গ্রন্থে এবং ইমাম বায়হাকী তাঁর 'সুনানে কুবরা' ৭/১৭১ গ্রন্থে এর সনদকে সহীহ বা বিশুদ্ধ বলেছেন। দেখুন: সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর অধ্যায়: কিতাবুত তালাক, হাদীস ৭৪০,ড. সা’দ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ-এর তাহকীক, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী' হাদিস নং ১৩৯৩২ )
আব্দুর রহমান আস-সাবুনী লিখেছেন:
"وقد فرق عمر بين كل من طلحة وحذيفة وزوجتيهما الكتابيتين وقال: لا أعدمه ولكن أخشى الإعراض عن أزواج بالمسلمات ، فزواج المسلم بالكتابية مباح على ما ذهب إليه جمهور المسلمين ومع هذا فقد رأى عمر أن من المصلحة منع مثل هذه الزيجات بل وفسخها إن حصلت، فإذا كان من يسلك حق التفريق دون طلاق بين الزوجين ، ألا يسلك التفريق بعد طلاق محرم فيجعله ثلاثاً؟"
"হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু, হযরত তালহা এবং হযরত হুযাইফা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়কে তাঁদের কিতাবী (ইহুদি/খ্রিস্টান) স্ত্রীদের থেকে আলাদা করে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: আমি একে হারাম বলছি না, কিন্তু আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে মানুষ মুসলিম নারীদের বিয়ে করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। মুসলমানদের জন্য কিতাবী নারীদের বিয়ে করা জুমহুর (অধিকাংশ) ওলামাদের মতে বৈধ। তা সত্ত্বেও হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে এই ধরনের বিয়ে বন্ধ করা এবং হয়ে থাকলে তা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমীচীন মনে করেছিলেন। সুতরাং, যে ব্যক্তিত্বের তালাক ছাড়াই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর অধিকার ছিল, তাঁর পক্ষে কি এই অধিকার থাকা সম্ভব নয় যে—তিনি (একবারে) হারাম তালাক দেওয়ার পর সেই দম্পতিকে আলাদা করে দেবেন?" [মাদায়েন হুররিয়্যাতুয যাওজাইন ফিত তালাক, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৫৩]
উমর রাদিআল্লাহু আনহু কোন হালাল বিষয় কে হারাম করেননি বরং তিনি হালাল কে হালাল এবং হারাম কে হারাম মেনে তার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচক্ষণতার সাথে কাজ করেছেন। উমর রাদিআল্লাহু আনহু যখন হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে আহলে কিতাব স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে বলেছেন তখন উমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজেই এই সংশয় কে দূর করে দিয়েছেন। যখন তাকে বলা হলো যে, আপনি কি আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ হারাম মনে করেন? উমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজেই বলেছেন না বরং বৃহত্তর ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থে। এরূপভাবে একই বৈঠকে তিন তালাক দিলে তিনি বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে কোন হালাল কাজ কে হারাম করেন নি কারণ, একই বৈঠকে তিন তালাক দেওয়া হারাম ও গুনাহের কাজ কিন্তু এই গুনাহের জন্য কোন হুদুদ নেই। যখন কোন গুনাহের কাজের জন্য যখন হুদুদ থাকে না এবং সমাজে এই গুনাহের কুপ্রভাব দেখা দেয় তখন কোন বিচক্ষণ শাসক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাযীরী শাস্তি প্রয়োগ করতে পারে কারণ, এই গুনাহের কোন শাস্তি শরিয়তে নেই এবং শাসকের দায়িত্ব হলো সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখা। তাই এই পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতার সাথে তাযীরী শাস্তি দেওয়া যায়। উমর রাদিআল্লাহু আনহু যখন দেখলেন যে, শরিয়তে এই গুনাহের শাস্তি নেই এবং এটা সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে তাই সে তাযীরী শাস্তি প্রয়োগ করে। শাস্তি দেওয়ার দাবিই হলো কোন হালাল বিষয় কে শাস্তি গ্রহিতার থেকে দূরে রাখা যা উপরে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তাই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কোন হালাল কে হারাম করেন নি বরং সাময়িকভাবে বিচক্ষণতার সাথে তাযীরী শাস্তি প্রয়োগ করেছেন।
তৃতীয়ত:
কিছু ভাই জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে বলে যে, কোন ফয়সালা কে তা’যীরী হওয়ার জন্য সেই বিধান শেষ হওয়ার দলিল প্রয়োজন। এই কথা একদম বাতিল কথা। কারণ উমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজেই বলেছেন যে, "মানুষ এমন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে যাতে তাদের জন্য ধীরস্থিরভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল। কাজেই আমরা যদি এটি তাদের ওপর কার্যকর করে দেই (তবে ভালো হতো)"।
একজন সাধারণ মানুষও বলতে পারে যে, এই ফয়সালা ছিল উমার রা আনহু এর মানুষের আল্লাহর বিধান নিয়ে খেলা করার শাস্তি স্বরূপ। এখান থেকেই বোঝা যায় এটা তা’যীরী শাস্তি ছিল। এছাড়াও উমর রাদিআল্লাহু আনহু শুধু পৃথক করতেন না বরং প্রহারও করতেন।
হাদীসে এসেছে :
الحديث:
عن معمر، عن الزهري، عن أنس بن مالك قال: كان عمر بن الخطاب إذا أتي برجل قد طلق امرأته ثلاثا في مجلس أوجعه ضربا، وفرق بينهما.
বাংলা অনুবাদ:
আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর কাছে যখন এমন কোনো ব্যক্তিকে আনা হতো যে তার স্ত্রীকে এক মজলিশে তিন তালাক দিয়েছে, তখন তিনি তাকে কঠিন ভাবে প্রহার করতেন এবং তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিতেন।
উৎস:
মুসান্নাফ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক, কিতাবুত তালাক।
হাদিস নম্বর: ৬৫৮৪ , সুনানুল কুবরা, কিতাবুত তালাক ,হাদিস নং: ১৫১৩৮। (সংস্করণ ভেদে পরিবর্তন হতে পারে)।
এখান থেকে বোঝা যায় যে, উমর রাদিআল্লাহু আনহু শুধু বিচ্ছিন্ন করতেন না বরং প্রহারও করতেন।
এখন, শাস্তি হলো ২ প্রকার:- (ক) নির্ধারিত শাস্তি হদ ও কিসাস। একে 'হুদুদ' বলা হয়। (খ) তা’যীরী শাস্তি। বিচক্ষণ বিচারক বা রাষ্ট্র এই শাস্তি নির্ধারণ করে।
যদি উমর রাদিআল্লাহু আনহুর এর প্রহার করার শাস্তি হুদুদ হয় তাহলে কুরআন ও হাদীসের নস কোথায়? পৃথিবীর কোন স্থানেই একই বৈঠকে তিন তালাক দিলে প্রহার করা হয় না বরং শুধু বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়; তাহলে কি সম্পূর্ণ উম্মাহ গোমড়াহ হয়ে গেছে এবং একই বৈঠকে তিন তালাক দেওয়ার শরয়ী শাস্তি প্রহার করাকে ভুলে গেছে?
এখান থেকেই বুঝতে পারা যায় এটা হুদুদ ছিল না বরং তাযীরী শাস্তি।
যদি একই বৈঠকে তিন তালাক দেওয়ার জন্য তাযীরি শাস্তি হিসেবে প্রহার করা হয় তাহলে, এই শাস্তিকে কোন শাসক রহিত করলো এবং এর সনদ কোথায়? একই বৈঠকে তিন তালাক কার্যকর করা মানুষেরাও এটা প্রয়োগ করে না; তাহলে কি তারা এটা সমাপ্ত হওয়ার সহীহ সনদ পেয়েছে? নাকি সম্পূর্ণ উম্মাহ প্রথভ্রষ্ট ছিল যে, এই তাযীরী শাস্তি সমাপ্তের কোন প্রমাণ না পেয়ে পালন করা ছেড়ে দিয়েছে?
উপরের আলোচনা থেকে দিবালকের ন্যায় স্পষ্ট যে, কোন ফয়সালা কে তা’যীরী হওয়ার জন্য সেই বিধান শেষ হওয়ার দলিল প্রয়োজন বলা হলো বাতিল কথা। আল্লাহ সকলকে হেদায়েত দান করুন, আমীন।
তথ্যসূত্র:
(সংক্ষেপন ও পরিমার্জিত করা হয়েছে)
طلاق سے متعلق عمر فاروق رضی اللہ عنہ کا سیاسی وتعزیری فیصلہ – Kifayatullah Sanabili