শিরক বিলাপ করা শরীয়ত সম্মত নয়।

ABDUR RAQUIB NADWI

Historophile

HistoryLover
Salafi User
Joined
May 20, 2024
Threads
38
Comments
73
Reactions
536
বিলাপ করা শরীয়ত সম্মত নয়।
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ ـ قَالَتْ كُنَّا نُنْهَى أَنْ نُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ، إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا
অনুবাদ: উম্মে আতিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ কোন মৃত ব্যক্তির জন্যে আমাদের তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হতে নিষেধ করা হতো। কিন্তু স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশদিন। (সহিহ আল বুখারী হাদীস নং ৩১৩)।
ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ: উক্ত হাদিস দ্বারা স্পষ্ট যে, কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। হ্যাঁ তবে মৃত ব্যাক্তি যদি স্বামী হন, এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর উচিত চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করা।
এখন কথা হল: হযরত হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হন ১০ মুহররম ৬১ হিজরিতে অর্থাৎ ১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে, প্রায় এক হাজারেরও বেশি বছর পূর্বে, আজকে যদি কেউ হযরত হুসেন রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতকে স্মরন করে শোক পালন করে, মাতম ও বিলাপ করে, সেটা কি শরীয়ত সম্মত হবে? কখনো না। কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা বৈধ নয়। তাহলে ইমাম হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত আজ থেকে প্রায় এক হাজারেরও বেশি বছর পূর্বে হয়েছে, তাঁর জন্য শোক পালন করা কেমনে জায়েজ হবে?
এর সাথে আরো একটি কথা মনে রাখা দরকার যে, মুহররম মাসের ফজিলতের সাথে হযরত হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের কোনো সম্পর্ক নেই। মুহররম মাসের ফজিলতের কারণ হচ্ছে: এ মাসে আল্লাহ রব্বুল আলামীন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর সম্প্রদায় এবং সঙ্গী সাথীদের কে অত্যাচার, জালিম শাসক ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের কবল থেকে নাযাত দিয়ে ছিলেন, মহররম মাসের ১০ তারিখ ফেরাউন তার সম্প্রদায় এবং সৈন্যবাহিনী সহ লোহিত সাগরের ডুবে মারা যায়। এই উপলক্ষে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা এবং শুকরিয়া আদায় করায় মুসা আলাইহিস সালাম এদিন রোজা রেখেছিলেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর অনুকরণ এবং অনুসরণে শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম স্বয়ং এদিন রোজা রেখেছেন এবং রোজা রাখার আদেশ করেছেন। এই মর্মে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে:
عن عَبْدَ اللَّهِ، بْنَ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - يَقُولُ حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ - إِنْ شَاءَ اللَّهُ - صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ‘আশূরার দিন সিয়াম পালন করেন এবং লোকদের সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়াহুদ এবং নাসারা এই দিনের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব। বর্ণনাকারী বললেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্হায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকাল হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৫৬)।
শেষ কথা: আমাদের উচিত মহরম মাসে প্রচলিত ইসলাম বিরোধী কাজকর্ম - হযরত হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুর স্মরনে শোক পালন করা, বিলাপ ও মাতম করা, ঢোল বাজানো ইত্যাদি-
থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশকে প্রাধান্য দিয়ে দুদিন ৯ এবং ১০ তারিখ সিয়াম পালন করা। হে আল্লাহ তুমি আমাদের কে ইসলামের বিধি-বিধান মেনে জীবন যাপন করার তৌফিক দান কর। আমীন।
 
Back
Top