Altruistic
Uploader
Salafi User
- Joined
- Nov 17, 2023
- Threads
- 426
- Comments
- 547
- Solutions
- 1
- Reactions
- 13,853
- Thread Author
- #1
কিছু মানুষ আছে যাদের শরীয়তের ইলম সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো জ্ঞান নেই। কেউ যদি মসজিদে কোন কারণে জামাত শুরু হওয়ার পর উপস্থিত হয় তাহলে সেই জ্ঞানহীন মানুষরা বলে যে, এখন মেসওয়াক করা যাবে না কারণ:- মিসওয়াক করা হলো সুন্নাত আর সালাত হলো ফরজ। তাই মিসওয়াক না করে ফরজ সালাতের রাকআত ধরতে হবে।
এই সমস্ত মানুষের কথা এতটাই অজ্ঞতাসূলভ যে কি বলবো! এরা শরীয়তের বিধিবিধান এর নূন্যতম ধারণাও হয়তো রাখে না। হাদীসের উপর নিজেদের যুক্তি দিয়ে চলে। অথচ হাদীসের উপর কোন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু কত
সুন্দরই না বলেছেন " ধর্মের মাপকাঠি যদি রায়ের উপর নির্ভরশীল হত, তাহলে মোজার উপরিভাগের চেয়ে নীচের (তলার) দিক মাসাহ্ করাই উত্তম হত। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর (পায়ের) মোজাদ্বয়ের উপরিভাগ মাসাহ্ করতে দেখেছি। আবু দাউদ ১৬২"।
তাই কোন বিষয়ে নিজেদের রায় দেওয়ার পূর্বে দেখতে হবে যে, কুরআন ও হাদীস এরূপ আমল সম্পর্কে কি বলে। আমরা যদি কুরআন ও হাদীসের দিকে দৃষ্টি দেয় তাহলে তাদের মিসওয়াক না করার যুক্তির অসারতা দেখতে পায়। হাদীসে এসেছে:-
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কোন এক) জুমু‘আহর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, উঠ, সালাত আদায় করে নাও।* ( তাওহীদ পাবলিকেশন ৯৩০,৯৩১, ১১৬৬; মুসলিম ৭/১৪, হাঃ ৮৭৫, আহমাদ ১৪৯১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৩)
উক্ত হাদীসকে আমরা পর্যাবেক্ষন করলে দেখতে পায় যে, খুৎবা শুনাহ হলো ওয়াযিব এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদ সালাত হলো নফল বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। যদি খুৎবার সময় সুন্নাত পড়া হয় তাহলে ওয়াজিব খুতবার কিছু অংশ ছুটে যায় তবুও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত পড়তে বলেছেন। তাহলে এই হাদীস থেকে সুস্পষ্ট জানতে পারা যায় যে, যদি কোন বিষয় খুবই তাকিদী পূর্ণ নফল আমলও হয় এবং সেই নফল আমল করতে গিয়ে ওয়াজিবের কিছু অংশ ছুটেও যায় তাহলেও উভয় কে সমন্বয় করবে। এটা কতই না উত্তম যে, উভয় আমলকেই চালু রাখা এবং একত্রিত করে আদায় করা। কিন্তু তার মতো আহাম্মক একটিও নেই যে, একটি করে আর অন্যটি একদম ছেড়ে দেয়।
এরূপ ভাবে যদি আমরা মিসওয়াক সম্পর্কিত হাদীসের দিকে দৃষ্টি দেয় তাহলে দেখতে পায় যে, এটি এমন তাকিদীপূর্ণ সুন্নাত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি উম্মতের উপর কষ্টের ভয় না করতেন তাহলে ওয়াজিব করেই দিতেন। হাদীসে এসেছে:- " আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিস্ওয়াক করার হুকুম করতাম। (তাওহীদ পাবলিকেশন ৮৮৭,৭২৪০; মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫২, আহমাদ ৭৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৩)
অর্থাৎ মিসওয়াক করাও একটি অত্যন্ত তাকিদী সুন্নাত। এটি এমন সুন্নাত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকা অবস্থাতেও তা ছাড়েননি এবং মিসওয়াক করা ছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বশেষ আমল। তাই যেরূপ ওয়াজিব খুতবার সময় তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সালাত পড়া যায় তেমনি ফরজ সালাত চলাকালীন মিসওয়াক করতে কোন বাঁধা নেই। বরং যে সময়ের যে বিধান তার মধ্যেই অধিক পূর্ণাঙ্গতা রয়েছে।
যে সময়ের যে বিধান তার মধ্যে পূর্ণাঙ্গতার অর্থ হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাকে সেই ভাবেই অনুসরণ করা। এর উদাহরণ হলো:- " সালাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আহকাম"
আমরা সবাই জানি যে, অযুর মধ্যে কিছু সুন্নাত রয়েছে। এখন একজন ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশকরে দেখে যে, ইমামা সাহেব সূরা কাউছারের ২নং আয়াত পড়ছেন। এখন এই ব্যাক্তি কি করবে? শুধুমাত্র অযুর ফরজগুলো আদায় করে জামাতে অংশ গ্রহণ করবে? নাকি সম্পূর্ণ নববী পদ্ধতিতে অযু করে জামাতে প্রবেশ করবে?
উক্ত ঘটনায় আহাম্মকদের কথা হলো, সুন্নাত বিষয়াবলী ছেড়ে দিয়ে জামাতের রাকাতে শামীল হবে। কিন্তু যারা জ্ঞানবান তড়াই বলবে যে, সম্পূর্ণ নববী অযু করে তারপর শামীল হবে। এটাই আহাম্মক ও জ্ঞানীদের পার্থক্য। জামায়াতের রাকাত ধরার জন্য শুধু অযুর ফরজগুলো আদায় করে জামাতে শামিল হওয়ার চাইতে জামায়াতের ১-২ রাকাত ছেড়ে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ নববী পদ্ধতিতে অযু হাজার গুণ ভালো। তেমনি মিসওয়াক করা সালাতের পূর্বে পবিত্রতার একটি বড় অংশ। তাই যে, মিসওয়াক করে পূর্ণাঙ্গ অযু করে সালাত আদায় করে, যদিও জামাতের কিছু অংশ চলে যায়; সে মূলত সম্পূর্ণ নববী পদ্ধতি অনুসরণ করে। আর যে, অযুর সুন্নাত গুলো ছেড়ে দিয়ে শুধু ফরজ গুলো আদায় করে জামাতে শামিল হয় সে মূলত নববী পদ্ধতির বাহিরে নিজ থেকে কিয়াস করে, যা একদমই বাতিল।
তবে হ্যাঁ, যদি সম্পূর্ণ জামাত ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে জামাতকে গুরুত্ব দিয়ে পবিত্রতার সুন্নাত বিষয়াবলী কে সংক্ষিপ্ত করবে। সুন্নাত বিষয় ছেড়ে দিয়ে ওয়াজিব কে গ্রহণ তখন করতে হয়, যখন একটি করতে গেলে অন্যটি করা যায় না। যদি এরূপ হয় যে, মিসওয়াক সহ অযুর সুন্নাত সমূহ পালন করতে গেলে জামাতই চলে যাবে তাহলে এখানে ওয়াজিব কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু যদি উভয়টি পালন করা সম্ভব হয় তাহলে উভয়টিই পালন করবে, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবীকে তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সালাত আদায় করে খুতবা শুনতে বলেছিলেন। কিছু মানুষ এটাই জানে না যে, কখন প্রাধান্য দিতে হয় এবং কখন পূর্ণতা দিতে হয় কারণ, এদের কাছে কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান নেই। আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন:
"যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।" (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬)।
সুতরাং আমলকে পূর্ণাঙ্গতা দিন এবং কাটছাট থেকে বিরত থাকুন। এক আমল করা অর অন্য আমল বাদ দিয়ে দেওয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি নয় বরং উভয়ইটিকে পালন করুন। নামাজের ভেতরের কোনো সুন্নাত বা মোস্তাহাব আমল লাভ করার জন্য নামাজের বাইরের একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের সুন্নাতসমূহ বর্জন করা সমীচীন নয়। পূর্ণাঙ্গ অযু করে আসার পর যদি প্রথম রাকাত বা জামাতের শেষ অংশও পাওয়া যায়, তবে অযুর পূর্ণ সওয়াব এবং জামাতের সওয়াব উভয়টিই বজায় থাকে।
অনেকেই আবার বলে যে, হাদীসে এসেছে:-
"আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে তখন ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ব্যতীত অন্য কোন সালাত নেই।" (সহীহ মুসলিম ৭১০)। এটা কি ফরজ সালাত ব্যতীত অন্যান্য সকল বিষয় কে নিষিদ্ধ করে না?
উত্তর হলো:- না। কারণ এখানে বলা হয়েছে فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَة অর্থাৎ এখানে শুধু সালাতের শব্দ প্রয়োগ করে খাস করা হয়েছে। এটি ফরজ সালাতের সময় অন্যান্য সকল সালাতকে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু এটি সালাত নয় এমন আমলকে নিষিদ্ধ করে না যেমন:- মসজিদে প্রবেশের দুয়া পড়া, সালাম দেওয়া ইত্যাদি।
হাদীসে এসেছে:-
"সুহাইব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতরত অবস্থায় আমি তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম করলে তিনি হাতের ইশারায় সালামের জবাব দেন।"(আবু দাউদ ৯২৫)। এই হাদীস প্রমাণ করে যে, ফরজ সালাতের জামায়াত অন্যান্য আমল কে নিষিদ্ধ করে না বরং ফরজ সালাত ব্যতীত অন্যান্য সালাত কে নিষিদ্ধ করে।
তাই ফরজ সালাতের মধ্যেও সালাম দেওয়া যায় এবং যাকে সালাম দেওয়া হলো সে হাতের ইশারায় জবাব দিবে। অনেকেই আবার এই হাদীস কে রহিত মনে করে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাবশাহ থেকে প্রত্যাবর্তন হাদীসের আলোকে; কিন্তু তাদের মতামত ভুল কারণ, ইবনে মাসউদের হাদীসে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা হলো, মৌখিক উত্তর দেওয়া কারণ, অন্য হাদীসে এসেছে:-
"জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বনু মুসত্বালিক্ব গোত্রের কাছে প্রেরণ করলেন। সেখান থেকে ফিরার পর আমি তাঁকে উটের পিঠে সালাত আদায় করতে দেখে তাঁকে সম্বোধন করে কথা বললে তিনি হাতের ইশারায় আমার কথার জবাব দিলেন। আমি পুনরায় কথা বললে তখনও তিনি হাতের ইশারায় জবাব দিলেন। আমি তাঁকে কুরআন পড়তে শুনছিলাম। তিনি রুকূ’ ও সিজদা্ ইশারায় আদায় করছিলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি আমাকে বললেনঃ আমি তোমাকে যে কাজে প্রেরণ করেছিলাম সেটার খবর কি? আমি সালাতের অবস্থায় ছিলাম বিধায় তোমার সাথে কথা বলি নাই।" (আবু দাউদ ৯২৬)। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইবনে মাসউদের হাবশাহর হাদীস হলো মৌখিক কথা বলা নিষিদ্ধের হাদীস কারণ জাবির বিন আব্দুল্লাহর এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু স্বয়ং বলেছেন যে, সালাতরত অবস্থায় ছিলেন বলে তিনি কথা বলতে পারেনি অর্থাৎ এটা সালাতে কথা বলা নিষিদ্ধের পরের হাদীস কিন্তু এই হাদীসের মধ্যেও হাত দিয়ে ইশারা করার বৈধতা রয়েছে। সূতরাং সালাতের মধ্যে সালামের উত্তরদিতে হাত দিয়ে ইশারা করা সুন্নাত। এছাড়াও সালাতে ইশরা করার আরও হাদীস রয়েছে।
সর্বোপরি ফরজ সালাতের ইকামত শুধুমাত্র অন্যান্য সালাত কে নিষিদ্ধ করে কিন্তু সলাত নয় এমন আমলকে নিষিদ্ধ করে না।
পরিশেষে বলতে চাই, আমলকে কাটছাট না করে পূর্ণাঙ্গতা দান কর এবং সব কার্জেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি অনুসরণ কর। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকলের জীবনকে তার সন্তুষ্টিমূলক কার্যক্রমে কবুল করে নিক। আমিন।
এই সমস্ত মানুষের কথা এতটাই অজ্ঞতাসূলভ যে কি বলবো! এরা শরীয়তের বিধিবিধান এর নূন্যতম ধারণাও হয়তো রাখে না। হাদীসের উপর নিজেদের যুক্তি দিয়ে চলে। অথচ হাদীসের উপর কোন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু কত
সুন্দরই না বলেছেন " ধর্মের মাপকাঠি যদি রায়ের উপর নির্ভরশীল হত, তাহলে মোজার উপরিভাগের চেয়ে নীচের (তলার) দিক মাসাহ্ করাই উত্তম হত। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর (পায়ের) মোজাদ্বয়ের উপরিভাগ মাসাহ্ করতে দেখেছি। আবু দাউদ ১৬২"।
তাই কোন বিষয়ে নিজেদের রায় দেওয়ার পূর্বে দেখতে হবে যে, কুরআন ও হাদীস এরূপ আমল সম্পর্কে কি বলে। আমরা যদি কুরআন ও হাদীসের দিকে দৃষ্টি দেয় তাহলে তাদের মিসওয়াক না করার যুক্তির অসারতা দেখতে পায়। হাদীসে এসেছে:-
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কোন এক) জুমু‘আহর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সামনে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তুমি কি সালাত আদায় করেছ? সে বলল, না; তিনি বললেন, উঠ, সালাত আদায় করে নাও।* ( তাওহীদ পাবলিকেশন ৯৩০,৯৩১, ১১৬৬; মুসলিম ৭/১৪, হাঃ ৮৭৫, আহমাদ ১৪৯১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৩)
উক্ত হাদীসকে আমরা পর্যাবেক্ষন করলে দেখতে পায় যে, খুৎবা শুনাহ হলো ওয়াযিব এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদ সালাত হলো নফল বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। যদি খুৎবার সময় সুন্নাত পড়া হয় তাহলে ওয়াজিব খুতবার কিছু অংশ ছুটে যায় তবুও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত পড়তে বলেছেন। তাহলে এই হাদীস থেকে সুস্পষ্ট জানতে পারা যায় যে, যদি কোন বিষয় খুবই তাকিদী পূর্ণ নফল আমলও হয় এবং সেই নফল আমল করতে গিয়ে ওয়াজিবের কিছু অংশ ছুটেও যায় তাহলেও উভয় কে সমন্বয় করবে। এটা কতই না উত্তম যে, উভয় আমলকেই চালু রাখা এবং একত্রিত করে আদায় করা। কিন্তু তার মতো আহাম্মক একটিও নেই যে, একটি করে আর অন্যটি একদম ছেড়ে দেয়।
এরূপ ভাবে যদি আমরা মিসওয়াক সম্পর্কিত হাদীসের দিকে দৃষ্টি দেয় তাহলে দেখতে পায় যে, এটি এমন তাকিদীপূর্ণ সুন্নাত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি উম্মতের উপর কষ্টের ভয় না করতেন তাহলে ওয়াজিব করেই দিতেন। হাদীসে এসেছে:- " আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিস্ওয়াক করার হুকুম করতাম। (তাওহীদ পাবলিকেশন ৮৮৭,৭২৪০; মুসলিম ২/১৫, হাঃ ২৫২, আহমাদ ৭৪১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৪৩)
অর্থাৎ মিসওয়াক করাও একটি অত্যন্ত তাকিদী সুন্নাত। এটি এমন সুন্নাত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকা অবস্থাতেও তা ছাড়েননি এবং মিসওয়াক করা ছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বশেষ আমল। তাই যেরূপ ওয়াজিব খুতবার সময় তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সালাত পড়া যায় তেমনি ফরজ সালাত চলাকালীন মিসওয়াক করতে কোন বাঁধা নেই। বরং যে সময়ের যে বিধান তার মধ্যেই অধিক পূর্ণাঙ্গতা রয়েছে।
যে সময়ের যে বিধান তার মধ্যে পূর্ণাঙ্গতার অর্থ হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাকে সেই ভাবেই অনুসরণ করা। এর উদাহরণ হলো:- " সালাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আহকাম"
আমরা সবাই জানি যে, অযুর মধ্যে কিছু সুন্নাত রয়েছে। এখন একজন ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশকরে দেখে যে, ইমামা সাহেব সূরা কাউছারের ২নং আয়াত পড়ছেন। এখন এই ব্যাক্তি কি করবে? শুধুমাত্র অযুর ফরজগুলো আদায় করে জামাতে অংশ গ্রহণ করবে? নাকি সম্পূর্ণ নববী পদ্ধতিতে অযু করে জামাতে প্রবেশ করবে?
উক্ত ঘটনায় আহাম্মকদের কথা হলো, সুন্নাত বিষয়াবলী ছেড়ে দিয়ে জামাতের রাকাতে শামীল হবে। কিন্তু যারা জ্ঞানবান তড়াই বলবে যে, সম্পূর্ণ নববী অযু করে তারপর শামীল হবে। এটাই আহাম্মক ও জ্ঞানীদের পার্থক্য। জামায়াতের রাকাত ধরার জন্য শুধু অযুর ফরজগুলো আদায় করে জামাতে শামিল হওয়ার চাইতে জামায়াতের ১-২ রাকাত ছেড়ে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ নববী পদ্ধতিতে অযু হাজার গুণ ভালো। তেমনি মিসওয়াক করা সালাতের পূর্বে পবিত্রতার একটি বড় অংশ। তাই যে, মিসওয়াক করে পূর্ণাঙ্গ অযু করে সালাত আদায় করে, যদিও জামাতের কিছু অংশ চলে যায়; সে মূলত সম্পূর্ণ নববী পদ্ধতি অনুসরণ করে। আর যে, অযুর সুন্নাত গুলো ছেড়ে দিয়ে শুধু ফরজ গুলো আদায় করে জামাতে শামিল হয় সে মূলত নববী পদ্ধতির বাহিরে নিজ থেকে কিয়াস করে, যা একদমই বাতিল।
তবে হ্যাঁ, যদি সম্পূর্ণ জামাত ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে জামাতকে গুরুত্ব দিয়ে পবিত্রতার সুন্নাত বিষয়াবলী কে সংক্ষিপ্ত করবে। সুন্নাত বিষয় ছেড়ে দিয়ে ওয়াজিব কে গ্রহণ তখন করতে হয়, যখন একটি করতে গেলে অন্যটি করা যায় না। যদি এরূপ হয় যে, মিসওয়াক সহ অযুর সুন্নাত সমূহ পালন করতে গেলে জামাতই চলে যাবে তাহলে এখানে ওয়াজিব কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু যদি উভয়টি পালন করা সম্ভব হয় তাহলে উভয়টিই পালন করবে, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবীকে তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সালাত আদায় করে খুতবা শুনতে বলেছিলেন। কিছু মানুষ এটাই জানে না যে, কখন প্রাধান্য দিতে হয় এবং কখন পূর্ণতা দিতে হয় কারণ, এদের কাছে কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান নেই। আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন:
"যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।" (সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬)।
সুতরাং আমলকে পূর্ণাঙ্গতা দিন এবং কাটছাট থেকে বিরত থাকুন। এক আমল করা অর অন্য আমল বাদ দিয়ে দেওয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি নয় বরং উভয়ইটিকে পালন করুন। নামাজের ভেতরের কোনো সুন্নাত বা মোস্তাহাব আমল লাভ করার জন্য নামাজের বাইরের একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের সুন্নাতসমূহ বর্জন করা সমীচীন নয়। পূর্ণাঙ্গ অযু করে আসার পর যদি প্রথম রাকাত বা জামাতের শেষ অংশও পাওয়া যায়, তবে অযুর পূর্ণ সওয়াব এবং জামাতের সওয়াব উভয়টিই বজায় থাকে।
অনেকেই আবার বলে যে, হাদীসে এসেছে:-
"আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে তখন ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ব্যতীত অন্য কোন সালাত নেই।" (সহীহ মুসলিম ৭১০)। এটা কি ফরজ সালাত ব্যতীত অন্যান্য সকল বিষয় কে নিষিদ্ধ করে না?
উত্তর হলো:- না। কারণ এখানে বলা হয়েছে فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَة অর্থাৎ এখানে শুধু সালাতের শব্দ প্রয়োগ করে খাস করা হয়েছে। এটি ফরজ সালাতের সময় অন্যান্য সকল সালাতকে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু এটি সালাত নয় এমন আমলকে নিষিদ্ধ করে না যেমন:- মসজিদে প্রবেশের দুয়া পড়া, সালাম দেওয়া ইত্যাদি।
হাদীসে এসেছে:-
"সুহাইব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতরত অবস্থায় আমি তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম করলে তিনি হাতের ইশারায় সালামের জবাব দেন।"(আবু দাউদ ৯২৫)। এই হাদীস প্রমাণ করে যে, ফরজ সালাতের জামায়াত অন্যান্য আমল কে নিষিদ্ধ করে না বরং ফরজ সালাত ব্যতীত অন্যান্য সালাত কে নিষিদ্ধ করে।
তাই ফরজ সালাতের মধ্যেও সালাম দেওয়া যায় এবং যাকে সালাম দেওয়া হলো সে হাতের ইশারায় জবাব দিবে। অনেকেই আবার এই হাদীস কে রহিত মনে করে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাবশাহ থেকে প্রত্যাবর্তন হাদীসের আলোকে; কিন্তু তাদের মতামত ভুল কারণ, ইবনে মাসউদের হাদীসে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা হলো, মৌখিক উত্তর দেওয়া কারণ, অন্য হাদীসে এসেছে:-
"জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বনু মুসত্বালিক্ব গোত্রের কাছে প্রেরণ করলেন। সেখান থেকে ফিরার পর আমি তাঁকে উটের পিঠে সালাত আদায় করতে দেখে তাঁকে সম্বোধন করে কথা বললে তিনি হাতের ইশারায় আমার কথার জবাব দিলেন। আমি পুনরায় কথা বললে তখনও তিনি হাতের ইশারায় জবাব দিলেন। আমি তাঁকে কুরআন পড়তে শুনছিলাম। তিনি রুকূ’ ও সিজদা্ ইশারায় আদায় করছিলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি আমাকে বললেনঃ আমি তোমাকে যে কাজে প্রেরণ করেছিলাম সেটার খবর কি? আমি সালাতের অবস্থায় ছিলাম বিধায় তোমার সাথে কথা বলি নাই।" (আবু দাউদ ৯২৬)। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইবনে মাসউদের হাবশাহর হাদীস হলো মৌখিক কথা বলা নিষিদ্ধের হাদীস কারণ জাবির বিন আব্দুল্লাহর এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু স্বয়ং বলেছেন যে, সালাতরত অবস্থায় ছিলেন বলে তিনি কথা বলতে পারেনি অর্থাৎ এটা সালাতে কথা বলা নিষিদ্ধের পরের হাদীস কিন্তু এই হাদীসের মধ্যেও হাত দিয়ে ইশারা করার বৈধতা রয়েছে। সূতরাং সালাতের মধ্যে সালামের উত্তরদিতে হাত দিয়ে ইশারা করা সুন্নাত। এছাড়াও সালাতে ইশরা করার আরও হাদীস রয়েছে।
সর্বোপরি ফরজ সালাতের ইকামত শুধুমাত্র অন্যান্য সালাত কে নিষিদ্ধ করে কিন্তু সলাত নয় এমন আমলকে নিষিদ্ধ করে না।
পরিশেষে বলতে চাই, আমলকে কাটছাট না করে পূর্ণাঙ্গতা দান কর এবং সব কার্জেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি অনুসরণ কর। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকলের জীবনকে তার সন্তুষ্টিমূলক কার্যক্রমে কবুল করে নিক। আমিন।