- Joined
- Jan 8, 2025
- Threads
- 7
- Comments
- 9
- Reactions
- 88
- Thread Author
- #1
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনাবাসী এক মহিলা ছিল যার স্বামী ছিল একজন ব্যবসায়ী। সে (ব্যবসায় লাভের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে) বারবার যাতায়াত করতো। আর যখনই তার স্বামী তার কাছ থেকে অনুপস্থিত থাকতো, তখনই সে স্বপ্ন দেখতো। কিন্তু তার গর্ভাবস্থায় তাকে রেখে তার স্বামী খুব কমই বাইরে যেতো। এমতাবস্থায় সে মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললো: আমার স্বামী ব্যবসা উপলক্ষ্যে বাইরে যাতায়াত করেন। যখন তিনি আমাকে গর্ভাবস্থায় রেখে বাইরে গেলেন, তখন ঘুমন্ত ব্যক্তি যেরূপ (স্বপ্ন) দেখে, আমি তদ্রুপ (স্বপ্নে) দেখলাম যে, আমার ঘরের একটি খুঁটি ভেঙ্গে গিয়েছে এবং আমি একটি কানা সন্তান প্রসব করেছি।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “ভাল। ইন্শা আল্লাহু তা’আলা তোমার স্বামী তোমার নিকট ভালভাবেই ফিরে আসবে এবং তুমি একটি নেককার সন্তান প্রসব করবে।”
এরপর সে এ স্বপ্নটি আরো দু’বার বা তিনবার দেখলো। আর প্রত্যেক বারই সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলতো এবং তিনি তাকে (একথাই) বলতেন এবং তার স্বামীও ফিরে আসতো। আর সে একটি করে সন্তান প্রসব করতো। এরপর সে পূর্বে যেভাবে আসতো, সেভাবেই একদিন সে মহিলা এলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুপস্থিত ছিলেন। আর সে ঐ স্বপ্নই দেখেছিল। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর দাসী! তুমি কী ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করবে?
সে বললো, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি, তা। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসেন, তখন আমি তাঁকে সেই (স্বপ্নের) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তম কথা বলেন এবং তিনি যেমন বলেন, তেমনই হয়।
তখন আমি তাকে বললাম, তুমি আমাকে তোমার স্বপ্নে কথা বলো দেখি। সে বললো, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন, তখন আমি তাঁকে আমার স্বপ্নের কথা বলবো, যেমন আগে বলতাম।
কিন্তু আল্লাহর কসম! সে আমাকে তা না বলা পর্যন্ত আমি তাকে ছাড়লাম না। (এরপর যখন সে তার স্বপ্নের কথা বললো) তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! তোমার স্বপ্ন সত্য হলে, (এর অর্থ) অবশ্যই তোমার স্বামী মারা যাবে এবং তুমি একটি পাপাচারী সন্তান জন্ম দেবে। তখন সে কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়লো। সে বলতে লাগলো, আমি তোমার কাছে কেন আমার স্বপ্ন বলতে গেলাম?
তার কান্নারত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “হে আয়িশা! এর কি হয়েছে?”
আমি তাঁকে তার এ (স্বপ্নের) ঘটনাটি জানালাম এবং আমি এর যে ব্যাখ্যা দিয়েছি তাও বললাম।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “হে আয়িশা! থামো। তুমি কোনো মুসলিমের স্বপ্নের তা’বীর (ব্যাখ্যা) করলে, তার কল্যাণকর ব্যাখ্যা দেবে। কেননা, ব্যাখ্যা দাতা যেখাবে ব্যাখ্যা দেবে, স্বপ্ন সেভাবেই বাস্তবায়িত হবে।”আল্লাহর কসম! এরপর তার স্বামী মৃত্যুবরণ করলো এবং আমি তাকে একটি পাপাচারী সন্তান জন্ম দিতে দেখলাম।
তাখরীজ:
তাহক্বীক্ব: এর রাবীগণ বিশ্বস্ত তবে, ইবনু ইসহাক এটি ‘আন আন’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। তবে হাফিজ তার ফাতহুল বারী ১২/৪৩২ তে বলেছেন: এটি রয়েছে দারেমীতে হাসান সনদে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি আয়িশা হতে, তিনি বলেন......বলে তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
হাদীস থেকে শিক্ষা ও জ্ঞাতব্য:
এক. স্বপ্ন বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাকে তাকে স্বপ্নের কথা বলা উচিত নয়।
দুই. সর্বদা আলেম, শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে স্বপ্নের কথা বলবে। যে শুভাকাঙ্ক্ষী নয় তার কাছে কোনো ধরনের স্বপ্নের কথা বলবে না।
তিন. স্বপ্ন একটি উড়ন্ত পায়েরার মতো। এ কথার অর্থ হল শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা পা যেমন যে কোনো সময় মাটিতে রাখা যায় আবার নীচে আগুন থাকলে তাতেও রাখা যায়। স্বপ্ন এমনই, এর ব্যাখ্যা ভালো করা যায় আবার খারাপও করা যায়। যে ব্যাখ্যাই করা হোক, সেটিই সংঘটিত হবে।
চার. মদীনার এই মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে আসতেন। স্বপ্নটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে খারাপ হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালো ও সুন্দর ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। তাই স্বপ্ন দ্রষ্টার পরিচিতদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে ভালো আলেম তার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত।
পাঁচ. প্রশ্ন হতে পারে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কেন এ ধরনের ব্যাখ্যা দিলেন? এর উত্তর হলো:
(ক) এ মহিলার স্বপ্নের ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে করেছেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তা জানতেন না। তাই তিনি নিজের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
(খ) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বপ্নের বাহ্যিক দিক সামনে রেখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ঘরের চৌকাঠ দ্বারা স্বামী বুঝেছেন। আর এক চোখ অন্ধ সন্তান দ্বারা অপূর্ণাঙ্গ সন্তান বুঝেছেন।
(গ) স্বপ্নের খারাপ বা অশুভ ব্যাখ্যা করা অনুচিত। স্বপ্ন ব্যাখ্যার এ মূলনীতির কথা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আগে থেকে জানতেন না। এ ঘটনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানিয়েছেন। ফলে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
(ঘ) এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করা যেত, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। তাহল ঘরের চৌকাঠ ভেঙ্গে যাওয়ার অর্থ হলো, ঘর প্রশস্ত হবে। প্রাচুর্য ও সচ্ছলতা আসবে। আর এক চোখ কানা সন্তানের অর্থ হল, সন্তানটি তার চোখ দিয়ে শুধু ভালো বিষয় দেখবে। এটা হলো দূরবর্তী ব্যাখ্যা। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা করেছেন নিকটবর্তী ব্যাখ্যা।
ছয়. যার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে, তিনি যদি জানেন, এর ব্যাখ্যা খারাপ তবে তিনি তা বলবেন না। যথাসম্ভব ভালো ব্যাখ্যা করে দেবেন। নয়তো চুপ থাকবেন। অথবা বলবেন, আল্লাহ ভালো জানেন।
সায়ীদ ইবন মানসুর বর্ণনা করেন- আতা রহ. সব সময় বলতেন; স্বপ্নের ব্যাখ্যা যা দেওয়া হয়, সেটাই সংঘটিত হয়।
প্রশ্ন হতে পারে তাহলে তাকদীরের ব্যাপারটা কী হবে? উত্তর সোজা। তাকদীরে এভাবেই লেখা আছে যে, অমুক ব্যক্তি এভাবে ব্যাখ্যা করবে। আর তাই সংঘটিত হবে। কিন্তু আমাদের কর্তব্য হবে, কখনো খারাপ বা অশুভ ব্যাখ্যা না দেওয়া। তাকদীরে কী আছে আমরা তা জানি না। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোনো মানুষের কাছে স্বপ্নের কথা বলতে নিষেধ করেছেন। স্বপ্নের কথা শুধু তাকে বলা যাবে যে আলেম, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও কল্যাণকামী। এ ছাড়া অন্য কারো কাছে নয়।
আরেকটি ঘটনা:
এক মহিলা একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে ইমাম ইবন সীরীন রহ.র শিক্ষার মজলিসে আসল। তিনি ইমামের ছাত্রদের কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ইমাম সাহেব কোথায়? ইমাম সাহেবের একজন বোকা ছাত্র বলল, আপনি তার কাছে কেন এসেছেন?
মহিলাটি বলল, আমি এ ছেলেটির ব্যাপারে একটি স্বপ্ন দেখেছি, তার ব্যাখ্যা জানার জন্য এসেছি। ছাত্রটি বলল, কী স্বপ্ন দেখেছেন? মহিলাটি বলল, আমি দেখেছি আমার এ ছেলেটি সাগর থেকে পানি পান করছে।
ছাত্রটি তাড়াতাড়ি ব্যাখ্যা দিল, বলল, তাহলে তো সে পেট ফুলে মারা যাবে। তৎক্ষণাৎ শিশুটির পেট ফুলে উঠল। আর চিৎকার করে মারা গেল। মহিলাটি কাঁদা শুরু করল। এরই মধ্যে ইমাম সাহেব এসে পড়লেন। ঘটনা শুনে তিনি বললেন: যদি তুমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা না করে ছেড়ে দিতে তাহলে ছেলেটি এ দেশের সবচেয়ে বড় আলেম ও বিদ্বান হত।
সাগরের অর্থ শুধু পানের অযোগ্য নোনা পানিই নয়। সাগরের ব্যাখ্যা হল, মনি-মুক্তা, হীরা, প্রবাল। কাজেই যিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করবেন তিনি সব সময় ইতিবাচক ও কল্যাণকর ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “ভাল। ইন্শা আল্লাহু তা’আলা তোমার স্বামী তোমার নিকট ভালভাবেই ফিরে আসবে এবং তুমি একটি নেককার সন্তান প্রসব করবে।”
এরপর সে এ স্বপ্নটি আরো দু’বার বা তিনবার দেখলো। আর প্রত্যেক বারই সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলতো এবং তিনি তাকে (একথাই) বলতেন এবং তার স্বামীও ফিরে আসতো। আর সে একটি করে সন্তান প্রসব করতো। এরপর সে পূর্বে যেভাবে আসতো, সেভাবেই একদিন সে মহিলা এলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুপস্থিত ছিলেন। আর সে ঐ স্বপ্নই দেখেছিল। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর দাসী! তুমি কী ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করবে?
সে বললো, আমি যে স্বপ্ন দেখেছি, তা। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসেন, তখন আমি তাঁকে সেই (স্বপ্নের) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তম কথা বলেন এবং তিনি যেমন বলেন, তেমনই হয়।
তখন আমি তাকে বললাম, তুমি আমাকে তোমার স্বপ্নে কথা বলো দেখি। সে বললো, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসবেন, তখন আমি তাঁকে আমার স্বপ্নের কথা বলবো, যেমন আগে বলতাম।
কিন্তু আল্লাহর কসম! সে আমাকে তা না বলা পর্যন্ত আমি তাকে ছাড়লাম না। (এরপর যখন সে তার স্বপ্নের কথা বললো) তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! তোমার স্বপ্ন সত্য হলে, (এর অর্থ) অবশ্যই তোমার স্বামী মারা যাবে এবং তুমি একটি পাপাচারী সন্তান জন্ম দেবে। তখন সে কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়লো। সে বলতে লাগলো, আমি তোমার কাছে কেন আমার স্বপ্ন বলতে গেলাম?
তার কান্নারত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “হে আয়িশা! এর কি হয়েছে?”
আমি তাঁকে তার এ (স্বপ্নের) ঘটনাটি জানালাম এবং আমি এর যে ব্যাখ্যা দিয়েছি তাও বললাম।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “হে আয়িশা! থামো। তুমি কোনো মুসলিমের স্বপ্নের তা’বীর (ব্যাখ্যা) করলে, তার কল্যাণকর ব্যাখ্যা দেবে। কেননা, ব্যাখ্যা দাতা যেখাবে ব্যাখ্যা দেবে, স্বপ্ন সেভাবেই বাস্তবায়িত হবে।”আল্লাহর কসম! এরপর তার স্বামী মৃত্যুবরণ করলো এবং আমি তাকে একটি পাপাচারী সন্তান জন্ম দিতে দেখলাম।
তাখরীজ:
أخرجه الدارمي في سنته بسند حسن (٢٠٨٦) . وأورده ابن حجر في (الفتح) ١٢/٤٣٢ وحسن إسناده.
তাহক্বীক্ব: এর রাবীগণ বিশ্বস্ত তবে, ইবনু ইসহাক এটি ‘আন আন’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। তবে হাফিজ তার ফাতহুল বারী ১২/৪৩২ তে বলেছেন: এটি রয়েছে দারেমীতে হাসান সনদে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি আয়িশা হতে, তিনি বলেন......বলে তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
হাদীস থেকে শিক্ষা ও জ্ঞাতব্য:
এক. স্বপ্ন বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাকে তাকে স্বপ্নের কথা বলা উচিত নয়।
দুই. সর্বদা আলেম, শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে স্বপ্নের কথা বলবে। যে শুভাকাঙ্ক্ষী নয় তার কাছে কোনো ধরনের স্বপ্নের কথা বলবে না।
তিন. স্বপ্ন একটি উড়ন্ত পায়েরার মতো। এ কথার অর্থ হল শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা পা যেমন যে কোনো সময় মাটিতে রাখা যায় আবার নীচে আগুন থাকলে তাতেও রাখা যায়। স্বপ্ন এমনই, এর ব্যাখ্যা ভালো করা যায় আবার খারাপও করা যায়। যে ব্যাখ্যাই করা হোক, সেটিই সংঘটিত হবে।
চার. মদীনার এই মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে আসতেন। স্বপ্নটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে খারাপ হলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালো ও সুন্দর ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। তাই স্বপ্ন দ্রষ্টার পরিচিতদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে ভালো আলেম তার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত।
পাঁচ. প্রশ্ন হতে পারে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কেন এ ধরনের ব্যাখ্যা দিলেন? এর উত্তর হলো:
(ক) এ মহিলার স্বপ্নের ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে করেছেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তা জানতেন না। তাই তিনি নিজের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
(খ) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বপ্নের বাহ্যিক দিক সামনে রেখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ঘরের চৌকাঠ দ্বারা স্বামী বুঝেছেন। আর এক চোখ অন্ধ সন্তান দ্বারা অপূর্ণাঙ্গ সন্তান বুঝেছেন।
(গ) স্বপ্নের খারাপ বা অশুভ ব্যাখ্যা করা অনুচিত। স্বপ্ন ব্যাখ্যার এ মূলনীতির কথা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আগে থেকে জানতেন না। এ ঘটনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানিয়েছেন। ফলে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
(ঘ) এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা এভাবে করা যেত, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। তাহল ঘরের চৌকাঠ ভেঙ্গে যাওয়ার অর্থ হলো, ঘর প্রশস্ত হবে। প্রাচুর্য ও সচ্ছলতা আসবে। আর এক চোখ কানা সন্তানের অর্থ হল, সন্তানটি তার চোখ দিয়ে শুধু ভালো বিষয় দেখবে। এটা হলো দূরবর্তী ব্যাখ্যা। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা করেছেন নিকটবর্তী ব্যাখ্যা।
ছয়. যার কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে, তিনি যদি জানেন, এর ব্যাখ্যা খারাপ তবে তিনি তা বলবেন না। যথাসম্ভব ভালো ব্যাখ্যা করে দেবেন। নয়তো চুপ থাকবেন। অথবা বলবেন, আল্লাহ ভালো জানেন।
সায়ীদ ইবন মানসুর বর্ণনা করেন- আতা রহ. সব সময় বলতেন; স্বপ্নের ব্যাখ্যা যা দেওয়া হয়, সেটাই সংঘটিত হয়।
প্রশ্ন হতে পারে তাহলে তাকদীরের ব্যাপারটা কী হবে? উত্তর সোজা। তাকদীরে এভাবেই লেখা আছে যে, অমুক ব্যক্তি এভাবে ব্যাখ্যা করবে। আর তাই সংঘটিত হবে। কিন্তু আমাদের কর্তব্য হবে, কখনো খারাপ বা অশুভ ব্যাখ্যা না দেওয়া। তাকদীরে কী আছে আমরা তা জানি না। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোনো মানুষের কাছে স্বপ্নের কথা বলতে নিষেধ করেছেন। স্বপ্নের কথা শুধু তাকে বলা যাবে যে আলেম, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও কল্যাণকামী। এ ছাড়া অন্য কারো কাছে নয়।
আরেকটি ঘটনা:
এক মহিলা একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে ইমাম ইবন সীরীন রহ.র শিক্ষার মজলিসে আসল। তিনি ইমামের ছাত্রদের কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ইমাম সাহেব কোথায়? ইমাম সাহেবের একজন বোকা ছাত্র বলল, আপনি তার কাছে কেন এসেছেন?
মহিলাটি বলল, আমি এ ছেলেটির ব্যাপারে একটি স্বপ্ন দেখেছি, তার ব্যাখ্যা জানার জন্য এসেছি। ছাত্রটি বলল, কী স্বপ্ন দেখেছেন? মহিলাটি বলল, আমি দেখেছি আমার এ ছেলেটি সাগর থেকে পানি পান করছে।
ছাত্রটি তাড়াতাড়ি ব্যাখ্যা দিল, বলল, তাহলে তো সে পেট ফুলে মারা যাবে। তৎক্ষণাৎ শিশুটির পেট ফুলে উঠল। আর চিৎকার করে মারা গেল। মহিলাটি কাঁদা শুরু করল। এরই মধ্যে ইমাম সাহেব এসে পড়লেন। ঘটনা শুনে তিনি বললেন: যদি তুমি স্বপ্নের ব্যাখ্যা না করে ছেড়ে দিতে তাহলে ছেলেটি এ দেশের সবচেয়ে বড় আলেম ও বিদ্বান হত।
সাগরের অর্থ শুধু পানের অযোগ্য নোনা পানিই নয়। সাগরের ব্যাখ্যা হল, মনি-মুক্তা, হীরা, প্রবাল। কাজেই যিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করবেন তিনি সব সময় ইতিবাচক ও কল্যাণকর ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবেন।
বিস্তারিত দেখুন:
الكتاب: القواعد الحسنى في تأويل الرؤى
مؤلف الكتاب: د. عبدالله بن محمد السدحان
الكتاب: القواعد الحسنى في تأويل الرؤى
مؤلف الكتاب: د. عبدالله بن محمد السدحان