জীবনী ইলম হাছিলের জন্য ইমাম বুখারী রহ. সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেছেন।

  • Thread Author
এ বিষয়ে কিছু বর্ণনা নিম্নে পেশ করা হল-

حكى أبو الحسن يوسف بن أبي ذر البخاري أن محمد بن إسماعيل مرض فعرضوا ماءه على الأطباء فقالوا إن هذا الماء يشبه ماء بعض أساقفة النصارى فإنَّهم لا يأتدمون قصدقهم محمد بن إسماعيل وقال لم أقدم منذ أربعين سنة فسألوا عن علاجه فقالوا علاجه الآدم فامتنع على ألح عليه المشايخ وأهل العلم فأجابهم إلى أن يأكل مع الخير سكرة​

ইমাম বুখারী (রহঃ) একদা অসুস্থ হলে ডাক্তার তার মূত্রের পরীক্ষা করে জানান, এই মূত্র নাছারাদের গুরু-সন্ন্যাসীদের মূত্রের মত। কারণ, তারা সবজি বা তরকারী খান না। তখন ইমাম বুখারী (রহঃ) তাদের কথার সত্যায়ন করে বললেন, আমি গত চল্লিশ বছরে কোন দিন তরকারী খাইনি। লোকেরা তার চিকিৎসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ডাক্তারগণ তাকে সবজি-তরকারী খাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সবজি খেতে রাজী হলেন না। কিন্তু ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর শিক্ষক-ছাত্রগণ রুটির সাথে তরকারী খাওয়ার জন্য খুব চাপাচাপি করলেন। ফলে, তিনি রুটির সাথে হালকা চিনি খেতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন'। - তারীখে দিমাশকু, পৃঃ ৫২/৮০।

তাহক্বীক: ইমাম ইবনু আসাকির এই ঘটনা সনদসহ তার বইয়ে বর্ণনা করেছেন। সনদের সকল রাবী পরিচিত। যথা-

ক. আবুল মাহাসিন আব্দুর রাযযাক বিন মুহাম্মাদ। ইমাম হাকেম তার প্রশংসা করেছেন। - তক্তিউদ্দিন আল-ইরাক্বী, তাহক্বীক খালিদ হায়দার, মুন্তাখাব তারীখ নিশাপুর, পৃঃ ৩৯২।

খ. ফাযলুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ। তিনি এবং তার পিতা উভয়েই মুহাদ্দিছ। - তারীখুল ইসলাম ১১/৮১।

গ. আহমাদ বিন হাসান আবুবকর আন-নিশাপুরী। তিনি বিচারক ও আলেম ছিলেন। ইমাম ইবনু কাছীর তাকে ন্যায়পরায়ণ বলেছেন। - তবাকাত আশ-শাফিঈন ১/৩৮৪।

ঘ. আবুল হাসান ইউসুফ বিন আবি যার। ইমাম ইবনু কাছীর তাকে সৎ শায়খ বলেছেন। - তবাকাত আশ-শাফিঈন ১/২৩৪।

অতএব, সনদ ছহীহ।

আর ঘটনার সাথে বাস্তবতার মিল রয়েছে। যেমন-

২. হাসান আল-বাযযায বলেন,

رأيت محمد بن إسماعيل شيخا تحيف الجسم، ليس بالطويل، ولا بالقصير​

আমি ইমাম বুখারীকে দেখেছি, তিনি ছিলেন পাতলা ও চিকন গড়নের। অত্যধিক লম্বাও নন, আবার খাটও নন'। - আছামী ১/৫।

তাহক্বীক: ইমাম বুখারীর শারিরীক গঠন বিষয়ে এই একটি বর্ণনাই পাওয়া যায়। বর্ণনাটি ইমাম ইবনু আদী তার 'আছামী' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী রাবী হাসান আল-বাযযায ইবনু আদী (রহঃ)-এর উস্তাদগণের একজন। তিনি তার আল-কামিল ও আছামী গ্রন্থে কয়েক জায়গায় হাসান আল-ব্যযযাযের বর্ণনা এনেছেন। কিন্তু তার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না।

৩. মুহাম্মাদ বিন আবি হাতিম ওররাক্ব আল-বুখারী বলেন,

وَكَانَ أَبُو عَبْدِ اللهِ رُبَّمَا يَأْتِي عَلَيْهِ النهار فلا يأكل فيه رقاقة، إنما كان يأكل أحياناً لوزتين أو ثلاثاً وكان يجنيب توابل القدور​

ইমাম বুখারী দিনে খুব কম সময়ই পূর্ণ একটি রুটি খেতেন। তিনি কখনো কখনো দুই-তিনটি বাদাম খেতেন। আর তিনি মশলা জাতীয় খাবার পরিহার করতেন'। - সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১০/১০৯।

অত্যধিক খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। আজ মানুষ না খেয়ে থাকার জন্য যতটা মৃত্যু বরণ করে, তারচেয়ে বেশী মৃত্যু বরণ করে অত্যধিক খাওয়ার কারণে। বেশী খাবার খেলে ঘুম বেশী ধরে। ইবাদত যেমন করা যায় না, তেমনি ইলমের জন্য পরিশ্রম করা যায় না। ইমাম বুখারী (রহঃ) এজন্য অত্যধিক খাবার ও মশলা জাতীয় খাবার পরিহার করে চলতেন। শুধু রুটি ও হালকা বাদাম ছিল তার একমাত্রা খাবার।

৪. মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরী বলেন,

حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن يُوسُفَ البخاري، قال: كنت مع محمد بن إسْمَاعِيلَ بِمَنْزِلِهِ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَأُحصيت عَلَيْهِ أَنَّهُ قَامَ وَأَسْرَجَ يَسْتَذكر أَشْيَاءَ يُعَلِّقُهَا فِي لَيْلَةٍ ثَمَانٍ عَشَرَةً مرة​

একদা এক রাতে আমি ইমাম বুখারীর সাথে তার বাড়ীতে ছিলাম। আমি দেখলাম, রাতে যখন তার কোন কিছু স্মরণ হচ্ছিল, তখন তিনি উঠে বাতি জ্বালিয়ে তা লিখছিলেন। আমি গণনা করলাম, তিনি এভাবে সারা রাতে প্রায় ১৮ বার উঠেছেন। - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-গাসসানী, ডঃ ওমর আব্দুস সালাম, মু'জামুশ শুয়ূখ, পৃঃ ১৭৯। তাহযীবুল কামাল ২৪/৪৪৮।

তাহক্বীক্ব: এই ঘটনাটি ইমাম মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-গাসসানী তার লিখিত 'মু'জামুশ শুয়ূখ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিখ্যাত ইমাম আবু আলী আল-গাসসানীর পিতা। এই ঘটনায় মূল রাবী মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরী। তিনি ইমাম বুখারীর ছাত্র এবং ছহীহ বুখারীর বর্ণনাকারী। এই বর্ণনার সকল রাবী পরিচিত হলেও মুহাম্মাদ আল-গাসসানীর উস্তাদ আবু সাঈদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আদাম অপরিচিত। তার বিষয়ে আমি কিছু জানতে পারিনি।

তবে এই বর্ণনার অনুরূপ আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যা এই বর্ণনাকে মযবুত করে। মুহাম্মাদ বিন আবি হাতিম বলেন,

قال محمد بن أبي حاتم الوراق كان أبو عبد الله، إذا كُنتُ مَعَهُ في سفرٍ ، فَكُنتُ أَرَاهُ يَقومُ في لَيْلَةٍ واحدة لخمس عشرة مرة إلى عشرين مرة، في كل ذلك يأحمد القداحة، فيُورِي نَاراً، وَيُسْرِحُ، ثُمَّ يُخرجُ أَحَادِيثَ، فَيُعلق عَلَيْهَا​

একদা আমি ইমাম বুখারীর সাথে সফরে ছিলাম। আমি তাকে দেখছিলাম, তিনি রাত্রে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার উঠছেন। প্রত্যেকবার বাতি জ্বালিয়ে হাদীছ বের করছেন এবং তার উপর টীকা লিখছেন'। - ইমাম সুবকী, তবাক্বাত আশ-শাফিয়্যাহ ২/২২০। তারীখে বাগদাদ ২/৩২২।



সোর্স: মিন্নাতুল বারী।
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক হাফি.​
 
Last edited by a moderator:
Similar content Most view View more
Back
Top