সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
Mehrab

ইতিহাস আহালুল হাদিস এর ইতিহাস

  • Thread starter
আজ আমরা সালাফি/আহালুল হাদীস সম্পর্কে ইতিহাস বিখ্যাত ইমামগনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জেনে দিব ইনশাআল্লাহ।


(১).ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম ১৫০ হি./৭৬৭ খ্রি. এবং মৃত্যু ২০৪ হি./৮২০) বলেছেন,অবশ্যই তোমরা আহলুল হাদীসদের অনুসরণ করবে। কেননা মানুষের মধ্যে তারাই সর্বাধিক সঠিক।(ইবনুল মুফলিহ, আল-আদাবুশ শার‘ঈয়্যাহ, খন্ড:১পৃষ্ঠা:২১১ পৃ.)

(২).শাইখুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেছেন,

الطائفة المنصورة أصحاب الحديث، فلا أدري من هم​

সাহায্যপ্রাপ্ত এই দলটি যদি আছহাবুল হাদীস (আহলে হাদীস) না হয়, তবে আমি জানি না তারা কারা?
(ইমাম হাকেম,মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীস হা/২,সনদ) হাসান।

(৩).শাইখুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বাল আশ-শাইবানী (রাহিমাহুল্লাহ) জন্ম ১৬৪ হি./৭৮০ খ্রি. এবং মৃত্যু ২৪১ হি./৮৫৫ খ্রি.। বলেছেন,আমার নিকটে ঐ ব্যক্তিই আহলেহাদীস, যিনি হাদীসের উপর আমল করেন(ইমাম খত্বীব বাগদাদী, আল-জামে‘খন্ড:১পৃষ্ঠা:৪৪)

(৪).খলীফা হারূনুর রশীদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

طَلَبْتُ الْحَقَّ فَوَجَدْتُهُ مَعَ أَصْحَابِ الْحَدِيْثِ،​

আমি হক অন্বেষণ করেছি, আর সেটা আহলে হাদীসদের কাছেই খুঁজে পেয়েছি’।(খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা;৫৫)

(৫).ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

المَلاَئِكَةُ حُرَّاسُ السَّمَاءِ، وَأَصْحَابُ الحَدِيْثِ حُرَّاسُ الْأَرْضِ،​

ফেরেশতাগণ আসমানের পাহারাদার আর আহলেহাদীছগণ যমীনের পাহারাদার’।(ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা খন্ড:৭ পৃষ্ঠা:২৭)

(৬).শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭২৮] বলেছেন,

,أَدْنَى خَصْلَة لِأهْلِ الْحَدِيْثِ مَحَبَّةُ الْقُرْآنِ وَالْحَدِيثِ وَالْبَحْثِ عَنْهُمَا وَعَنْ مَعَانِيْهِمَا وَالْعَمَلِ بِمَا عَلِمُوهُ مِنْهمَا​

‘আহলুল হাদীসদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হ’ল, তারা কুরআন-হাদীছের প্রতি অগাধ ভালোবাসা রাখেন, এ দু’টি নিয়ে গবেষণা করেন ও এর তত্ত্বানুসন্ধান করেন। আর তারা কুরআন ও হাদীছ থেকে যা জানতে পারেন, তার উপরে আমল করেন’(ইবনু তায়মিয়াহ,মাজমূ‘উল ফাতাওয়া,খন্ড:৪ পৃষ্ঠা:৫৯)

(৭).ইমাম সুফিয়ান বিন ‘উয়ায়না (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,

مَا أَرَى طُولَ عُمْرِيْ هَذَا إِلَّا مِنْ كَثْرَةِ دُعَاءِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ​

আমি আমার এই দীর্ঘ জীবনে আহলেহাদীছদের চেয়ে অন্য কারো দো‘আ এত বেশী কবুল হ’তে দেখিনি।(খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা : ৫১)

(৮).ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

أَثْبَتُ النَّاسِ عَلَى الصِّرَاطِ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ،​

মানুষের মাঝে আহলেহাদীসরাই সিরাতে মুস্তাক্বীমের উপর অধিক প্রতিষ্ঠিত।(শারফু আসহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা: ৫৮)

(৯).ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুফলিহ আল-মাক্বদেসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

أَهْلُ الْحَدِيثِ هُمْ الطَّائِفَةُ النَّاجِيَةُ الْقَائِمُونَ عَلَى الْحَق​

আহলে হাদীসরাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল। যারা হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন’(আল-আদাবুশ শারঈয়্যাহ খম্ড:১ পৃষ্ঠা: ২১১)

(১০).ইমাম আহমাদ বিন সিনান আল-ওয়াসিত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) মন্তব্য করেছেন,

لَيْسَ فِى الدُّنْيَا مُبْتَدِعٌ إِلاَّ وَ هُوَ يَبْغَضُ أَهْلَ الْحَدِيْثِ-​

দুনিয়াতে এমন কোন বিদ‘আতী নেই, যে আহলে হাদীসদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে না’(মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীস হা/৬ সনদ সহীহ)

(১১).ইমাম হাকেম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,‘আমি সর্বত্র যত বিদ‘আতী এবং নাস্তিকমনা মানুষ পেয়েছি, তারা সকলেই ‘ত্বায়েফাহ মানছূরাহ’ তথা আহলে হাদীসদেরকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখত এবং আহলেহাদীছদেরকে নিকৃষ্টভাবে সম্বোধন করত (যেমন হাশাবিয়া)।(মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীস, পৃষ্ঠা:১১৫)

(১২).হাফিয ইবনে হিববান (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আহলে হাদীসদে’র সম্পর্কে বলেছেন যে, ‘তারা হাদীছের উপরে আমল করেন, হাদীস সংরক্ষণ করেন এবং হাদীস বিরোধীদের মূলোৎপাটন করেন’।(সহীহ ইবনে হিববান হা/৬১২৯; অন্য একটি সংস্করণের হাদীস নং ৬১৬২)

(১৩).হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)[মৃত: ৭৫১ হি.] তার প্রসিদ্ধ ‘ক্বাসীদায়ে নূনিয়াহ’তে লিখেছেন, ‘ওহে আহলে হাদীসদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এবং গালি প্রদানকারী! তুমি শয়তানের সাথে বন্ধুত্ব ও সখ্যতা গড়ার সুসংবাদ গ্রহণ করো’।(ক্বাসীদায়ে নূনিয়া,পৃষ্ঠা: ১৯৯

(১৪).হাফেয ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৭৪ হি.] আহলে হাদীসদের একটি ফযীলত উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কতিপয় সালাফে সালেহীন এই আয়াতটি
সম্পর্কে বলেছেন,

هَذَا أَكْبَرُ شَرَفٍ لِأَصْحَابِ الْحَدِيْثِ لِأَنَّ إِمَامَهُمْ النَّبِىُّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ​

‘এটি আহলেহাদীছের জন্য সবচেয়ে বড় ফযীলত। কেননা তাদের ইমাম হচ্ছেন স্বয়ং রাসূল (ﷺ) (বাণী ইসরাঈল ১৭/৭১ তাফসীর ইবনে কাসীর খন্ড: ৪ পৃষ্ঠা: ১৬৪)

(১৫).সূরা বণী ইসরাইলের ৭১ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ)মন্তব্য করেছেন,আহলে হাদীছদের জন্য এর চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ আর কোন বক্তব্য নেই। কেননা রাসূল (ﷺ) ব্যতীত আহলে হাদীসদের আর কোন ইমামে আ‘যম বা বড় ইমাম নেই।(তাদরীবুর রাবী, খন্ড:২ পৃষ্ঠা:১২৬,২৭তম প্রকার)

(১৬).ইমাম বুখারীর শিক্ষক আলী ইবনুল মাদীনী রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ২৩৪হি.) বলেন,

هُمْ أَهْلُ الْحَدِيثِ، وَالَّذِينَ يَتَعَاهَدُوْنَ مَذَاهِبَ الرَّسُولِ، وَيَذُبُّوْنَ عَنِ الْعِلْمِ، لَوْلَاهُمْ لَمْ تَجِدْ عِنْدَ الْمُعْتَزِلَةِ وَالرَّافِضَةِ وَالْجَهْمِيَّةِ وَأَهْلِ الْإِرْجَاءِ وَالرَّأْيِ شَيْئًا مِنَ السُّنَنِ​

‘তারা হ’ল আহলুল হাদীস যারা রাসূল (ﷺ)-এর গৃহীত মাযহাব বা নীতিমালাকে সংরক্ষণ করেছেন, যারা জ্ঞান তথা কুরআন ও হাদীছকে (ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র কিংবা বিকৃতির হাত থেকে) রক্ষা করেছেন। যদি তারা না থাকত, তাহ’লে মু‘তাযিলা, রাফেযী (শী‘আ), জাহমিয়া, মুরজিয়া ও আহলুর রায়দের নিকট থেকে আমরা সুন্নাতের কিছুই আশা করতে পারতাম না’।(খত্বীব আল-বাগদাদী,শারফু আছহাবিল হাদীছস পৃষ্ঠা: ১০)

(১৭) খলীফা হারূণুর রশীদ (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃ. ১৯৩ হি.) বলেন, ‘আমি মুসলমানদের চারটি দলের মধ্যে চারটি বস্ত্ত পেয়েছি। (ক) আমি কুফরী সন্ধান করেছি ও তা পেয়েছি জাহমিয়া (অদৃষ্টবাদী)-দের মধ্যে। (খ) কুটতর্ক ও ঝগড়া পেয়েছি মু‘তাযিলাদের মধ্যে। (গ) মিথ্যা খুঁজেছি ও তা পেয়েছি রাফেযী (শী‘আ)-দের মধ্যে। আর (ঘ) আমি হক খুঁজেছি এবং তা পেয়েছি ‘আহলে হাদীস’দের মধ্যে।(খত্বীব আল-বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীস পৃষ্ঠা:৫৫)

(১৮).ইমাম কুতায়বা বিন সাঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,

إذا رأيت الرجل يحب أهل الحديث، ... فإنه على السن​

যদি তুমি কোন ব্যক্তিকে আহলে হাদীসদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করতে দেখ, .(তখন বুঝবে যে,) সেই ব্যক্তি সুন্নাতের উপরে (আছে)(খত্বীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীছ, হা/১৪৩, পৃঃ ১৩৪; সনদ সহীহ)

(১৯).হাফস বিন গিয়াছ (রাহিমাহুল্লাহ) আহলে হাদীসদের সম্পর্কে বলেছেন,

هم خير أهل الدنيا​

‘তারা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষ’।(মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীছ, পৃঃ ৩, সনদ সহীহ)

(২০).বিশর বিন হারেছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

يَا أَصْحَابَ الْحَدِيثِ أَدُّوا زَكَاةَ الْحَدِيثِ​

হে আহলে হাদীসগণ! তোমরা হাদীসের যাকাত আদায় কর। তাকে বলা হ’ল, কিভাবে আমরা তা আদায় করব? তিনি বললেন,

اعْمَلُوا مِنْ كُلِّ مِائَتَيْ حَدِيْثٍ سَمِعْتُمُوْهَا بِخَمْسَةِ أَحَادِيْثَ​

‘তোমরা যে সমস্ত হাদীস শ্রবণ করেছ তার প্রতি দু’শ হাদীছের মধ্যে অন্ততঃ পাঁচটি হাদীছের উপর আমল কর।(খলীল ক্বাযভীনী, আল-ইরশাদ ফী মা‘রেফাতে ওলামাইল হাদীস খন্ড:৩ পৃষ্ঠা:৮৬৭)

আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী (সংকলিত)



জুয়েল মাহমুদ সালাফি​
 

Create an account or login to comment

You must be a member in order to leave a comment

Create account

Create an account on our community. It's easy!

Log in

Already have an account? Log in here.

Total Threads
13,065Threads
Total Messages
16,663Comments
Total Members
3,449Members
Latest Messages
musfiqur rahmanLatest member
Top