মানহাজ আহলে হাদীস ও সালাফি পরিচয় দেওয়া কি নিষিদ্ধ?

Joined
Nov 17, 2023
Threads
419
Comments
539
Solutions
1
Reactions
13,617
একজন কে আহলে হাদীস পরিচয় দিতে দেখে এক ভাই বলে:-

আব্দুল্লাহ:- আপনি ১০০% ভুল করছেন আমাদের পরিচয় মুসলিম । মুসলিমের বাহিরে সব ধরনের পরিচয় অগ্রহণযোগ্য। তবে একথা সত্য আমাদের কোরআন ও সহি হাদিস মানতে হবে। কিন্তু আমাদের পরিচয় শুধুই মুসলিম।

আব্দুর রহমান:-যদি মুসলিম দাবিদারের সংখ্যা বেশি হয় তাহলে অন্য সকল বিদআতি থেকে নিজেদের আলাদা করতে আহলে হাদীস বা অন্য নামে পরিচয় দিতে হয়। এটা ঠিক সাহাবিদের মত। তারাও মুসলিম ছিল কিন্তু অন্য সকল সাহাবী থেকে আলাদা করতে মুহাজির ও আনসার বলে ডাকা হতো। অনেক হাদীস আছে মুসলিম না ডেকে আনসারি শব্দ। এর বিস্তারিত জানতে ""আহলে হাদীস একটি বৈশিষ্ট্যগত নাম"" বইটি পড়ুন। নেটে ফ্রি পেয়ে যাবেন।

আব্দুল্লাহ:-আপনার কথা অমান্য করতে পারলাম না তবে, তবে ইদানীং তো একে অপরের সালাম ও দেয় না। অনলাইনে ঢুকলেই শুরু হানাফি সালাফি নিয়ে মারামারি, একে অপরে কে বিদাতি বিদাতি বলে চিতকার দেয়, একে অপরের সাথে মিলে কোন ধর্মীয় রাজনৈতিক এমনকি বিবাহ ও খুব কম করে। সাংগঠনিক ভাবে হানাফি সালাফি সম্পুর্ন আলাদা ভাবে কাজ করে। দৈনিক মাসিক পত্রিকা ভিন্ন এভাবে বললে কত যে হবে। এগুলো সুস্পষ্ট বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভিন্নতা দেখাবেই। তাই অন্তরে আহলে হাদিস কি হানাফি কি মালেকি কি হাম্বলি অন্তরে রাখা উচিত বাহিরে প্রকাশ করাই উচিত না। এতে অমুসলিমরা দ্বীধাদন্দ ও হাসি ঠাট্রা করে। একইসাথে শুনে রাখেন,, আল্লাহ বলেন যারা ইসলামের ভিতর বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত করেছে তাদের নবী আপনার কোন সম্পর্ক নাই সুরা আনয়াম ১৫৯ । আমাদের আসল মূল এক অভিন্ন চির এবং মাত্রই পরিচয় উই আর মুসলিম । আমরা মুসলিম জাতিসত্তা। আল মুসলিমু আখুল মুসলিম।

আব্দুর রহমান:-আপনি ভুল। বিদআদিদের ইসলাম মানা দেখে মানুষ আরো ইসলাম থেকে দূরে সরে যায়। আপনি মনে হয় নেট দুনিয়ায় নতুন । যখন কোন অমুসলিম দেখে যে কেউ কবর পূজা করছে; কবরের কাছে চাইসে তখন বলে, তাহলে আমাদের কি দোষ? আমরাও তো মূর্তির কাছে চাই! এরা কবরের কাছে চাওয়ার পরও কি মুসলিম? তখন তুমি কি বলবে? তারা কাফের? তাদের উপর হুজ্জত কায়েম করেছ? যখন বিভিন্ন বিদআতি কুরআন সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করে জঙ্গিপনা করে তখন সেই টাইটেল কাদের উপর যায়? অমুসলিম সোজা বলে ইসলাম জঙ্গি। তখন তাদের বলতে হয় যে, আসল ইসলাম জানতে হলে আহলে হাদীস এর কাছে যাও। এভাবে খারেজি,শিয়া, হানাফী, শাফেয়ি ইত্যাদি কাউকে আপনি ঢালাও ভাবে কাফের বলতে পারবেন না। অমুসলিমরা এদের দেখে মনে করে ইসলাম মনে হয় এই ফালতু ধর্ম। যখন তাদের বলা হয় ইসলাম জানতে হলে আহলে হাদীস এর কাছে যাও তখন তারা সঠিক বিষয় জানে। বিদআদিদের সাথে মিশে যাওয়া এটা ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতি কারণ মানুষ মনে করবে ভ্রান্ত আকিদা নিয়েও মুসলিম হওয়া যায়। সালাফরা সব সময় বিদআতিদের থেকে আলাদা করতে বলেছেন? আহলে হাদীস বা সালাফি নাম হলো বৈশিষ্ট্য গত নাম। মুহাজির, আনসার, বদরী ইত্যাদি নামগুলোর মতো, যদি সবাই এক হয়ে মুসলিম পরিচয় দাও তাহলে অমুসলিম ও সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হবে। আহলে সুন্নাত নাম কিসের অন্তর্ভুক্ত? যুগে যুগে আয়িম্মায়ে মুজাহিদের ইজমা হয়ে আসছে যে, শিয়াদের বীপরিতে নিজেদের আহলে সুন্নাত পরিচয় দিবে। শিয়ারা কি সব কাফের? আর আহলে সুন্নাত এর হাজার হাজার বছরের সব আয়িম্মায় যুগে যুগে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে? এটা তখন হয় যখন কোন মানুষ নিজের জ্ঞানের পরিধি না বুঝে কুরআন ও হাদীস কে নিজের মত বুঝতে যায়। বিদআতিদের থেকে আলাদা দেখা ফরজ এবং আপনার কোন কাজে যদি বিদআতিদের সামান্য তম উপকার হয় তাহলে তোমার উপর আল্লাহ ও তার রসুলের লানত আছে। কামাল আহমাদ এর "লানতপ্রাপ্ত যারা" বই ও ""আমাদের নাম কি কেবল মুসলিম"" বই পড়। আমরা অবশ্যই মুসলিম ও আহলে সুন্নাত। এটাই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আহলে সুন্নাত এর আলেমদের পরিচয়। তুমি এতো বড় জ্ঞানের পাহাড় হওনি যে, এদের চেয়ে বেশি বুঝতে পারো। তাই আমি নিজে আহলে হাদীস এর চেয়ে সালাফি পরিচয় বেশি পছন্দ করি কারণ, কুরআন ও হাদীস বুঝতে হবে সালাফদের মতাদর্শের আলোকে; নিজে নিজে কুরআনের আয়াত ফিট করার কোন দরকার নেই। যেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিম নাম দিয়েছে; তিনিই মুসলিমদের থেকে আলাদা করতে মুহাজির,আনসার বৈশিষ্ট্য গত নাম দিয়েছে। হাদিসে খারেজিদের আলাদা করা হয়েছে খারেজি নাম দিয়ে। তোমার কি মনে হয় খারেজিরা মুসলিম না? সব খারেজি কি কাফের? জ্ঞানের অভাবের জন্য বই পড়তে হয়। উপরের দুইটা বই অবশ্যই পড়বেন। আমরা আহলে সুন্নাত; আমরা কোন শিয়া বা খারেজি না। আমরা আহলে হাদীস বা সালাফি; আমরা কোন বিদআতি না। আপনার জ্ঞান খুবই সামান্য। সাহাবি ইবনে উমর বিদআতিদের সালাম দিতেন না। উপরের দুটি বইয়ের সাথে "" মানহাজুস সালাফ ও এটা সালাফদের মানহায নয়। যদিও আমি সালাম দেয় কারণ তারা কাফের না কিন্তু ইবনে উমর রা এদের সালাম দিতেন না এবং তাবেইদের থেকে শুরু করে যুগে যুগে আলেমদের অবস্থা এমনই ছিল। অজ্ঞতা দূর করনের পদ্ধতি হলো বই পড়া।
 
Back
Top