Altruistic
Uploader
Salafi User
- Joined
- Nov 17, 2023
- Threads
- 419
- Comments
- 539
- Solutions
- 1
- Reactions
- 13,621
- Thread Author
- #1
আব্দুল্লাহ একজন হানাফী মুকাল্লিদ এবং আব্দুর রহমান একজন আহলে হাদীস বা সালাফি। একদা আব্দুল্লাহ প্রশ্ন করে আব্দুর রহমান কে
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা আহলে হাদিস তারা কি মাজহাব মানে না??? যদি না মানে তাহলে তারা মাসআালা মানে কিভাবে??? হযরত প্রশ্নের উত্তর টা দিলে খুশি হতাম।
আব্দুর রহমান:- আহলে হাদীস মাযহাব মানে কিন্তু এক ইমামের মুকাল্লিদ নয় বরং যে কথা শক্তিশালী তাকে মানে কুরআন ও হাদীসের আলোকে। আহলে হাদীস নতুন মত তৈরি করে না বরং পূর্ববর্তী আলেমদের মতামত থেকে শক্তিশালী মত নেয়। একটি মাসআলা দেখাও যেখানে আহলে হাদীস শক্তিশালী দলিলের অনুসরণ করে না। বীপরিতে হানাফিদের শত শত আছে।
আব্দুল্লাহ:-আচ্ছা!পূর্ববর্তী কোন কোন আলেম দেরকে মানেন?? আর হাদীসের কোন কিতাব এর আলোকে কথা মানেন??
আব্দুর রহমান:- আমরা পূর্ববর্তী সকল আলেমদের মানি যাদের কথা কুরআন ও হাদীসের সাথে মিশে যায়। আর সাহাবীরা যেই মাযহাব মানতো আমারা তা মানি।
আব্দুল্লাহ:- সাহাবিরা কোন মাযহাব মানছিলো???
আব্দুর রহমান:-মাযহাব অর্থ পন্থা; আর সাহাবীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাযহাব মানতেন।
আব্দুল্লাহ:- তো আপনরা কোন কোন সাহাবি কে পাইছিলেন যাদের থেকে রাসুল সা, এর পন্থা জানছেন??
আব্দুর রহমান:- হ্যাঁ। সনদের মাধ্যমে তাও সহীহ সুত্রে। হাদীসের কিতাব যার সাক্ষি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ওহীর অনুসরণ করতেন এবং সাহাবিরা কিভাবে তার মাযহাব মনতেন তা হাজার হাজার সাক্ষ্যের মাধ্যমে সুরক্ষিত।
আব্দুল্লাহ:- কোন কিতাব নামটা বললে ভালো হতো আমিও জানতাম,,,লোখকের নামটাও বইলেন,,,।
আব্দুর রহমান:- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগীরা ইবনে বারদিজবাহ আল-জুফি আল-বুখারী। এছাড়াও আরোও আছে যার মাধ্যমে আমরা সহীহ সনদের সাক্ষ্য পায়।
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা! উনি তো মনে হয় শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী,,, মিথ্যা বললাম নাকি??
আব্দুর রহমান:- ১০০% মিথ্যা।
তাজউদ্দীন আস-সুবকী (রহ.): তিনি তাঁর 'তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ'-তে (২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ২-৬) ইমাম বুখারীকে শাফেয়িদের তালিকায় রাখলেও স্বীকার করেছেন যে, অনেক মাসআলায় তিনি ইমাম শাফেয়ির সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
ইমাম নবাবী (রহ.): শাফেয়ি মাযহাবের বড় ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিনি 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত'-এ স্বীকার করেছেন যে, ইমাম বুখারীর অনেক ইজতিহাদ ও ফতোয়া চার মাযহাবের ইমামদের মতের বাইরে ছিল।
ইমাম তকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া (রহ.): তিনি তাঁর 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-তে (২০তম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ৪০) স্পষ্টভাবে বলেছেন: "ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ প্রমুখ ইমামগণ ছিলেন ইজতিহাদের অধিকারী এবং তাঁরা সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের মুকাল্লিদ ছিলেন না।"
আর এই কথার বাস্তব প্রমাণের একটি হল,শাফেয়ি মাযহাবে নারীর শরিরে হাত লাগলেও অযু নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ইমাম বুখারী তার বিরোধিতা করেছেন।
আব্দুল্লাহ:- সঠিক যাচাই করেন,,উনার উস্তাদ ও শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী।
আব্দু্র রহমান:- উনার উস্তাদ শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী! তুমি এখন আমার প্রথম কমেন্টে যাও। আমরা নতুন মতামত তৈরি করি না বরং পূর্ববর্তী ইমামদের মত থেকে একটি মত ফলো করি। তাহলে কি আমরা কি শাফেয়ি মাযহাবের? যদিও সকল বিষয় শাফেয়ি মাযহাব কে ফলো করি না? ইমাম বুখারী ইমাম শাফেয়ির বিপরীত মত দিয়েও যদি শাফেয়ি থাকে তাহলে আমাদের হানাফী হতেও কোন দোষ নেই। আমরাও হানাফী কিন্তু যখন ইমাম আবু হানিফার কথার দলিল পায়না বা দুর্বল বা মুনকার দলিল পায় তখন ছেড়ে দেয় ইমাম বুখারীর মত। যেমন ইমাম বুখারী ইমাম শাফেয়ির দুর্বল মত ছেড়ে দিয়েছেন।তাহলে কি আমিও হানাফী? যেমন ইমাম বুখারী শাফেয়ি?
আব্দুল্লাহ:-আচ্ছা! আপনারা তাহলে বুখারী শরীফ মানেন? আচ্ছা, সহিহ বুখারী যে সহীহ তার প্রমান কি?? উনি কি সাহাবিদের পেয়েছেন?? নাকি কারো থেকে শুনেছেন??
অব্দুর রহমান:- আমরা পূর্ববর্তী সকল ইমামকেই মানি কুরআন ও হাদীসের আলোকে। আমরা ইমাম বুখারীকেউ মানি এবং সহীহ বুখারী যে, সহীহ তার প্রমাণ:- সহীহ সনদের সাক্ষী।
আব্দুল্লাহ:- সহীহ সনদ কিভাবে তিনি পাইছেন?? তিনি তো ১৯৪ হিজরীতে জন্ম,,, আর সাহাবীদের যুগ ১১০ হিজরী তে শেষ হয়েছে ,, তো তিনি সহীহ সনদ কার থেকে পাইছেন?
আব্দুর রহমান:- তিনি সহীহ সনদ অন্য সঠিক মানুষ থেকে পেয়েছেন।
আব্দুল্লাহ:- সঠিক মানুষ গুলোর নাম বলেন?? সহীহ সনদ তো,, নাম না বললে সহীহ দাবি করা ঠিক হবে??
আব্দুর রহমান:- আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (ইমাম বুখারীর উস্তাদ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন মালিক, তিনি নাফে থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:------।
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা! কিন্তু বুখারীর সনদে তো তার উস্তাদ আবু বকর আব্দুল্লাহ আল হুমাইদী মক্কী বিন ইব্রাহীম এর নাম দেওয়া,, যিনি ইমাম আবু হানীফার বিশিষ্ট শাগরেদ,,,
আব্দুর রহমান:-তাতে কি হয়েছে? ইমাম বুখারী কি হুময়দির থেকে আবু হানিফার সনদে হাদিস বর্ণনা করেছে? আর ধরেও নিলাম করেছে তাতে কি? ইমাম বুখারী কি ইমাম আবু হানিফাকে রদ করেনি? এখন কি ইমাম বুখারী শাফেয়ি থেকে হানাফী! আচ্ছা ধরেও নিলাম যে, ইমাম বুখারী হানাফী। আমরাও ইমাম বুখারীর মত হানাফী হতে চাই। ইমাম বুখারী যেমন ইমাম আবু হানিফার দুর্বল বা মুনকার মতামত মানতেন না; ঠিক এভাবেই আমরাও হানাফী ১০০% কিন্তু ইমাম আবু হানিফার দুর্বল ও মুনকার মতামত মানি না।
আব্দুল্লাহ:- আপনি প্রথম থেকে এই পর্যন্ত যা বলছেন তাতে বুঝা যায় আপনারা সুভিধাবাদি লোক,,, আপনারা মাযহাব মানেন না,, তবে দলিল দেন বুখারীর,, অথচ ইমাম বুখারী রহ, নিজেও মাযহাবের অনুসারী ছিলেন,,,
আব্দুর রহমান:- তোমার স্মৃতিশক্তি কি দূর্বল? পূর্বের কথপোকথন স্বরণ করে বল তো কি বলেছি! মযহাব শব্দের অর্থ জানো? ইমাম বুখারী কেন সাহাবিরাও মাজহাব অনুসরণ করতেন কিন্তু তাকলিদ ও গোঁড়ামি করতেন না হাদীসের মোকাবেলায়। ভালো করে স্বরণ কর। তাহলে বুঝতে পারবে যে, আমিও হানাফী কিন্তু ইমাম আবু হানিফার রদ করি ও দূর্বল ফতোয়া গ্রহণ করি না ঠিক ইমাম বুখারীও শাফেয়ি। তাহলে কি আমি হানাফী ইমাম আবু হানিফার তাকলিদ না করেও?আর ইমাম বুখারী কি শাফেয়ি ইমাম শাফেয়ির তাকলিদ না করেও? ইমাম বুখারী যদি শাফেয়ি মাযহাবের রদ করেও শাফেয়ি হতে পারে তাহলে আমরাও হানাফী এবং ইমাম বুখারীর মত হানাফী মাযহাবের দুর্বল ফতোয়া রদ করি।
এটা সুবিধা বাদি নয় বরং জবাব ও দলিলের অনুসরণ। ইমাম বুখারী হানাফী ছিল না এবং শাফেয়িও ছিল না বরং মুহাম্মাদী ছিলেন অর্থাৎ ওহীর অনুসারী। তিনি ইমাম শাফেয়িকে তো তাও কম রদ করেছেন কিন্তু ইমাম আবু হানিফাকে এতো রদ করেছেন যা সহীহ বুখারী পড়লেও বুঝা যায়। যদি এমন কোন ব্যক্তি হয় যে নিজেকে হানাফী দাবি করে কিন্তু যখন হাদীসের মোকাবেলায় ইমামদের বক্তব্য দেখে তখন তা ফেলে দেয়; ইমাম যদি দুর্বল বা মুনকার দলিল পেশ করে দলিল দেয় তাহলে শক্তিশালী দলিলের মোকাবেলায় তা ফেলে দেয়; তাহলে এমন হানাফী হওয়াতে কোন দোষ নেই। দোষ হলো তাকলিদ করাতে।
এখন তুমি বলতে পারো যে,হাদীসের সনদ কি তাহলে তাকলিদ নয়? তোমারা কি ইমাম বুখারীর কথার তাকলিদ করছো না? উত্তর হলো:- না। কারণ হাদীস সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয় আর সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করাকে তাকলিদ বলে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিচার কার্যক্রমে মানুষের সাক্ষী নিতেন তাহলে কি তিনি তাকলিদ করতেন? নাকি প্রমাণের অনুসরণ করতেন? সাহাবি তাবেঈরা সাক্ষীর মাধ্যমে হাদীস নিতেন; তাহলে তারা তাকলিদ করতেন? নাকি প্রমাণের অনুসরণ করতেন? তুমি যদি এমন হানাফী হও যে, ইমামের সহিহ হাদিসের আলোকের কথাকে গ্রহণ কর এবং সহীহ হাদীসের মোকাবেলায় ইমামদের বক্তব্য, দুর্বল বা মুনকার হাদীস গ্রহণ না করো; তাহলে আমিও হানাফী আমি সত্যিই হানাফী; কিন্তু ইমাম আবু হানিফার দুর্বল ফতোয়াকে মানি না। দুর্বল ফতোয়া না হলে ইমাম আবু হানিফার কথা সব মানি ; যেমন:- ইমাম আবু হানিফা বলে মহিলাদের হাত লাগলেও অযু নষ্ট হয় না; আমি তা মানি; কিন্তু ইমাম আবু হানিফা বলে রক্ত বের হলে অযু নষ্ট হয়; তা আমি মানি না কারণ মারফু হাদীসের বিরোধী। যদি আবু হানিফার দুর্বল ফতোয়াকে পরিত্যাগ করার পরও হানাফী হওয়া যায় তাহলে আমিও হানাফী। কিন্তু এটাকে কি হানাফী বলে?তুমি এখনও তাকলিদ ও সাক্ষী কে আলাদাকরতে পারো না।।। তোমাদের কথামত তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ সবাই মুকাল্লিদ।
আব্দূল্লাহ :- আচ্ছা তুমি মাসআলা রদ করো,, আচ্ছা তাহলে রক্তের যে মাসআলা তুমি বলছো সেটা বুঝাও,,হানাফি মাযহাব মতে ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়াইয়া না পড়লে অযু ভাঙে না,, তুমি বলছো তোমারা এটা রদ করছো,,তো দলিল দেও
আব্দুর রহমান:- হাদিসের বর্ণনা:-
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ‘জাতুর রিকা’ যুদ্ধ থেকে ফিরছিলেন, তখন বিশ্রামের জন্য একটি জায়গায় যাত্রা বিরতি করেন। পাহারার দায়িত্ব পড়ে দুইজন সাহাবীর ওপর—একজন আনসারী এবং একজন মুহাজির। আনসারী সাহাবী ছিলেন আব্বাদ ইবনে বিশর (রা.) এবং মুহাজির সাহাবী ছিলেন আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)।
রাত গভীর হলে আনসারী সাহাবী নামাজে দাঁড়ান। এমন সময় এক শত্রু সৈন্য এসে তাকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়লে তার গায়ে এসে লাগে। তিনি সেটি টেনে বের করে নামাজ চালিয়ে যান। এভাবে একে একে তিনটি তীর তার শরীরে বিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি নামাজ ছাড়েননি। যখন শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল বোধ করেন, তখন রুকু ও সেজদা করে নামাজ শেষ করেন এবং পাশের সঙ্গীকে জাগিয়ে দেন।
মূল দলিল (হাদিস)
أَنَّ رَجُلاً مِنَ الْمُشْرِكِينَ رَمَى رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ بِسَهْمٍ فَوَضَعَهُ فِيهِ فَنَزَعَهُ ثُمَّ رَمَاهُ بِآخَرَ فَنَزَعَهُ ثُمَّ رَمَاهُ بِثَالِثٍ فَنَزَعَهُ ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ...
বাংলা অনুবাদ: "একজন মুশরিক সেই আনসারী সাহাবীকে (আব্বাদ ইবনে বিশর) লক্ষ্য করে একটি তীর ছুড়ল যা তার শরীরে বিদ্ধ হলো। তিনি তা টেনে বের করে ফেললেন। এরপর সে আরেকটি তীর ছুড়ল, সেটিও তিনি বের করে ফেললেন। এরপর সে তৃতীয়টি ছুড়ল, সেটিও তিনি বের করে ফেললেন। এরপর তিনি রুকু ও সেজদা (করে নামাজ শেষ) করলেন..."
সূত্র ও গ্রন্থ
এই হাদিসটি বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:
সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নম্বর ১৯৮।
মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নম্বর ১৪৭০১।
সুনানে দারেমী: হাদিস নম্বর ১০৭৭।
সহীহ ইবনে খুজাইমা: হাদিস নম্বর ৩৬।
এটা মারফু হাদীস। বীপরিতে রক্ত গরিয়ে পড়লে অযু নষ্ট হয় কোন হাদীসের মধ্যে আছে?
আব্দুল্লাহ:-তার মানে আপনার মতে এই অবস্থায় রক্ত গড়াইয়া পড়ে নাই?? একটা পাগলও বলতে পারবে এই অবস্থায় রক্ত অবশ্যই গড়াইয়া পরবে,,
আব্দুর রহমান:- হাদীস বুঝ! রক্ত,পুজ বা পানি গরিয়ে পড়লে হানাফী মাযহাবে নামায বাতিল হয় অথচ সাহাবী নামাজ আদায় করেই যাচ্ছিলেন। আচ্ছা, হানাফী মাযহাবের অযু ভঙের ৭ টি কারণ বল?
আব্দুল্লাহ:-আপনার মত বুঝি না,, তবে ভাই হাদীস টা কি সহিহ?? নাকি হাসান? নাকি অন্য কিছু???
আব্দূর রহমান:- এটা হাসান সহীহ হাদীস। হাদীসের সনদ দেখ "
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي صَدَقَةُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আবু তাওবাহ আর-রাবী ইবনে নাফে: তিনি একজন বিশ্বস্ত (সিকাহ) বর্ণনাকারী।
ইবনুল মুবারক (আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক): তিনি আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস হিসেবে পরিচিত, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক: তিনি সিরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের ইমাম। তবে হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তার ব্যাপারে কিছুটা সমালোচনা রয়েছে। তিনি যখন 'আম্বানা' বা 'হাদ্দাসানা' (সরাসরি শোনার শব্দ) ব্যবহার করেন, তখন তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হয়। এখানে তিনি 'হাদ্দাসানী' (আমাকে বর্ণনা করেছেন) বলেছেন, যা তার বর্ণনাকে শক্তিশালী করেছে।
সাদাকাহ ইবনে ইয়াসার: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) মক্কী বর্ণনাকারী।
আকীল ইবনে জাবির: তিনি সাহাবী জাবির (রা.)-এর পুত্র এবং নির্ভরযোগ্য।
জাবির (রা.): তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর বিশিষ্ট সাহাবী।
ইমাম ইবনে খুজাইমাহ: তিনি তার 'সহীহ ইবনে খুজাইমাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যা প্রমাণ করে তার নিকট এটি সহীহ।
ইমাম ইবনুল জারুদ: তিনি তার 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন (হাদিস নং ৯২), যা কেবলমাত্র সহীহ হাদিসের জন্য সংকলিত।
ইমাম আল-হাকিম: তিনি তার 'আল-মুসতাদরাক' গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করে একে 'সহীহ' বলেছেন (১/১৫৬)।
ইমাম আয-যাহাবী: তিনি ইমাম হাকিমের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
এছাড়াও নাসিরুদ্দিন আলবানী, আরনাউত, আহমাদ শাকের, যুবায়ের আলী যায় সহ অসংখ্য আছে।
তুমি যদি আমার চেয়ে শক্তিশালী মারফু হাদীস পেশ করতে পারো তাহলে আমি রক্ত গড়িয়ে পড়লে অযু নষ্ট হয় মেনে নিব কিন্তু যদি আমর চেয়ে শক্তিশালী মারফু হাদীস পেশ করতে না পার তাহলে, আমার মতামত বা সেই সকল সালাদের মতামত শক্তিশালী দলিলের আলোকে মেনে নাও যারা রক্ত গড়িয়ে পড়লে অযু নষ্ট হয় না বলেছেন। এরপরও না মানলে এটাকে গোঁড়ামি ও তাকলিদ বলে। ইনিয়ে-বিনিয়ে, টেনে-টুনে শক্তিশালী দলিলের মোকাবেলায় মাযহাবের দুর্বল ফতোয়া গ্রহণ করা গোঁড়ামি ছাড়া আর কিছুই না।
আব্দুল্লাহ:- আপনি বলছে যে আপনারা বুখারী মানেন,,, কারণ ইমাম বুখারী ওহী অনুসরণ করে লিখছেন,, প্রশ্ন হলো তিনি ওহী কোথা থেকে পেলেন?? আরেকটা প্রশ্ন হলো মানেন বুখারি আবার দলিল দেন আবু দাউদ শরিফ এর,,?? নাকি এটাও ইমাম বুখারীর লেখা?? অথচ ইমাম আবু দাউদ রহ, এর উস্তাদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ,,,,,
আব্দুর রহমান:- তুমি কি বাস্তবেই স্মৃতি হীন নাকি? প্রথম দিকেই এই প্রশ্নের উত্তর চলে গিয়েছে। সহীহ সনদের সাক্ষী। আমরা বুখারী মানি কিন্তু আমরা মুকাল্লিদ না। মনে হয় মাথায় বুদ্ধি নায় আপনার। কুরআন ও হাদীস কি ওহী না? তাহলে কোথা থেকে এলো? । এটা পূর্বে বলা হয়েছে যে সহীহ সনদের সাক্ষী। তাও বুঝেন না।
আব্দুল্লাহ:-এটাই তো বললাম,, ইমাম বুখারী ওহী পাইছে কোথায়?? নাকি কোন ফেরেস্তা আইসা দিয়া গোছে?? প্রায় ১৫০ বছর পর,,,,,,
আব্দুর রহমান:- সহীহ সাক্ষীর মাধ্যমে কতবার বলবো! একই কথা অনেকবার বলেছি।
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা ওহী কাকে বলে??
আব্দুর রহমান:-ওহী বলতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর প্রেরিত নবী বা রাসূলগণের নিকট পাঠানো পবিত্র বাণী বা সংবাদকে বোঝায়।
আব্দুল্লাহ:- তো ইমাম বুখারীর নিকট কে পাঠইলো??
আব্দুর রহমান:- আল্লাহ তার সেই সুরক্ষিত ওহী যা, নাযিল করেছিলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর তা সহীহ সনদের মাধ্যমে পৌছে দিয়েছেন। এক কথা কয়েকবার বলা হয়েছে যে, সহীহ সনদের সাক্ষী।
ইমাম বুখারী শুধু ওস্তাদ বললো আর লিখলো এমন করেনি বরং উস্তাদের কাছে জানতে চেয়েছে সহীহ সনদ। যদি কোন কথা কেউ বলতো এবং সনদের সাক্ষী না দিত তাহলে সে দূর দুরান্ত সফর করে সহীহ সনদের সাক্ষী নিতেন। এটাকে বলা হয় ওহী প্রমাণ সহ গ্রহণ করা। ওহীকে আল্লাহ সুরক্ষিত করেছেন এবং তার প্রচারের জন্য সহীহ সনদ দেখতে বলেছেন। নতুন কোন ওহী নাজিল হবে না কিন্তু ওহী পৌঁছবে ও সুরক্ষিত হবে সহীহ সনদের সাক্ষীর মাধ্যমে এবং বাতিলকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে। আশা করি বুঝতে পারছো।
আব্দুল্লাহ:- তো আপনি ওহী বলেন কেন??
আব্দুর রহমান:- তাহলে তোমার হাতে যেই কুরআন এটা কি ওহী না? নাকি ওহীয়ে মাতলু আমাদের কাছে পৌছেনি? তোমার কাছে যে হাদীস; এগুলো কি ওহী না? নাকি ওহীয়ে গায়রে মাতলু আমাদের কাছে পৌছেনি?
নতুন কোন ওহী নাজিল হবে না কিন্তু ওহী পৌঁছবে ও সুরক্ষিত হবে সহীহ সনদের সাক্ষীর মাধ্যমে এবং বাতিলকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে। ১৪০০ বছর পূর্বে যেই কুরআন ছিল; এটাই তা। উভয়ের মধ্যে বিন্দু পরিমাণ পার্থক্য নেই। ১৪০০ বছর পূর্বে যেই হাদীস ছিল; এগুলোই তা। বিন্দু পরিমাণ পার্থক্য নেই । আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:-
اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
অনুবাদ: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে (ওহী), তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাকে ছাড়া অন্য বন্ধুদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো।" (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৩)
তাহলে ওহী না থাকলে আমরা কিসের অনুসরণ করছি? সত্তাগতভাবে এটি 'ওহী'।
কুরআন কোনো মানুষের কথা বা কোনো ফেরেশতার নিজস্ব রচনা নয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া হুবহু বাণী। কুরআন নিজেই নিজেকে ওহী হিসেবে ঘোষণা করেছে:
"নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী নাযিল করেছি, যেমন নাযিল করেছিলাম নূহ ও তার পরবর্তী নবীদের প্রতি।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৩)
তাই মুসহাফের (লিখিত কুরআন) মধ্যে যা আছে, তা আল্লাহর কালাম বা বাণী হওয়ার কারণে তা সরাসরি ওহী।
আবার আমাদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে এটি 'সংবাদ'
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ওহী পেতেন, তখন সাহাবায়ে কেরামকে তিনি তা পাঠ করে শোনাতেন। সাহাবায়ে কেরাম সেই বাণী মুখস্থ করতেন এবং লিখে রাখতেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বাণীগুলো যেভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেই ধারাবাহিকতাকে বলা হয় 'খবরে মুতাওয়াতির' (এমন এক অকাট্য সংবাদ যা ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই)।
এছাড়াও আল্লাহ তার ওহীকে চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সুরক্ষিত করেছেন। আমরা যে কুরআন অনুসরণ করি, তা কেবল ওহীর বিবরণ বা গল্প নয়, বরং তা ওহীর অবিকৃত রূপ। সুতরাং এটি সরাসরি ওহী। তবে যেহেতু আমরা সেই অবতীর্ণ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলাম না এবং আমরা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার (খবর) মাধ্যমে এটি পেয়েছি, তাই একে ওহীর 'সংবাদ' হিসেবেও গণ্য করা হয় যা পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত।
আব্দুল্লাহ :- আপনারা সব বিষয় কোরআন আর হাদিস থেকে মানেন তাই না?? ইজমা আর কিয়াস সম্পর্কে মতামত কি?
আব্দুর রহমান:- এটা আমাদের উপর মিথ্যারোপ করা যে, আমরা ইজমা ও কিয়াস মানিনা। আমরা ইজমা ও কিয়াস মানি যদি সহীহ ইজমা ও কিয়াস হয়। এই বিষয়ে " তাওদ্বীহু উছূলিল ফিক্বহ আলা মানাহিজি আহলিল হাদীছ" বই পড়তে পারো।
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা আহলে হাদিস তারা কি মাজহাব মানে না??? যদি না মানে তাহলে তারা মাসআালা মানে কিভাবে??? হযরত প্রশ্নের উত্তর টা দিলে খুশি হতাম।
আব্দুর রহমান:- আহলে হাদীস মাযহাব মানে কিন্তু এক ইমামের মুকাল্লিদ নয় বরং যে কথা শক্তিশালী তাকে মানে কুরআন ও হাদীসের আলোকে। আহলে হাদীস নতুন মত তৈরি করে না বরং পূর্ববর্তী আলেমদের মতামত থেকে শক্তিশালী মত নেয়। একটি মাসআলা দেখাও যেখানে আহলে হাদীস শক্তিশালী দলিলের অনুসরণ করে না। বীপরিতে হানাফিদের শত শত আছে।
আব্দুল্লাহ:-আচ্ছা!পূর্ববর্তী কোন কোন আলেম দেরকে মানেন?? আর হাদীসের কোন কিতাব এর আলোকে কথা মানেন??
আব্দুর রহমান:- আমরা পূর্ববর্তী সকল আলেমদের মানি যাদের কথা কুরআন ও হাদীসের সাথে মিশে যায়। আর সাহাবীরা যেই মাযহাব মানতো আমারা তা মানি।
আব্দুল্লাহ:- সাহাবিরা কোন মাযহাব মানছিলো???
আব্দুর রহমান:-মাযহাব অর্থ পন্থা; আর সাহাবীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাযহাব মানতেন।
আব্দুল্লাহ:- তো আপনরা কোন কোন সাহাবি কে পাইছিলেন যাদের থেকে রাসুল সা, এর পন্থা জানছেন??
আব্দুর রহমান:- হ্যাঁ। সনদের মাধ্যমে তাও সহীহ সুত্রে। হাদীসের কিতাব যার সাক্ষি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ওহীর অনুসরণ করতেন এবং সাহাবিরা কিভাবে তার মাযহাব মনতেন তা হাজার হাজার সাক্ষ্যের মাধ্যমে সুরক্ষিত।
আব্দুল্লাহ:- কোন কিতাব নামটা বললে ভালো হতো আমিও জানতাম,,,লোখকের নামটাও বইলেন,,,।
আব্দুর রহমান:- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-মুগীরা ইবনে বারদিজবাহ আল-জুফি আল-বুখারী। এছাড়াও আরোও আছে যার মাধ্যমে আমরা সহীহ সনদের সাক্ষ্য পায়।
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা! উনি তো মনে হয় শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী,,, মিথ্যা বললাম নাকি??
আব্দুর রহমান:- ১০০% মিথ্যা।
তাজউদ্দীন আস-সুবকী (রহ.): তিনি তাঁর 'তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ'-তে (২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ২-৬) ইমাম বুখারীকে শাফেয়িদের তালিকায় রাখলেও স্বীকার করেছেন যে, অনেক মাসআলায় তিনি ইমাম শাফেয়ির সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
ইমাম নবাবী (রহ.): শাফেয়ি মাযহাবের বড় ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিনি 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত'-এ স্বীকার করেছেন যে, ইমাম বুখারীর অনেক ইজতিহাদ ও ফতোয়া চার মাযহাবের ইমামদের মতের বাইরে ছিল।
ইমাম তকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া (রহ.): তিনি তাঁর 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-তে (২০তম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ৪০) স্পষ্টভাবে বলেছেন: "ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ প্রমুখ ইমামগণ ছিলেন ইজতিহাদের অধিকারী এবং তাঁরা সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের মুকাল্লিদ ছিলেন না।"
আর এই কথার বাস্তব প্রমাণের একটি হল,শাফেয়ি মাযহাবে নারীর শরিরে হাত লাগলেও অযু নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ইমাম বুখারী তার বিরোধিতা করেছেন।
আব্দুল্লাহ:- সঠিক যাচাই করেন,,উনার উস্তাদ ও শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী।
আব্দু্র রহমান:- উনার উস্তাদ শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী! তুমি এখন আমার প্রথম কমেন্টে যাও। আমরা নতুন মতামত তৈরি করি না বরং পূর্ববর্তী ইমামদের মত থেকে একটি মত ফলো করি। তাহলে কি আমরা কি শাফেয়ি মাযহাবের? যদিও সকল বিষয় শাফেয়ি মাযহাব কে ফলো করি না? ইমাম বুখারী ইমাম শাফেয়ির বিপরীত মত দিয়েও যদি শাফেয়ি থাকে তাহলে আমাদের হানাফী হতেও কোন দোষ নেই। আমরাও হানাফী কিন্তু যখন ইমাম আবু হানিফার কথার দলিল পায়না বা দুর্বল বা মুনকার দলিল পায় তখন ছেড়ে দেয় ইমাম বুখারীর মত। যেমন ইমাম বুখারী ইমাম শাফেয়ির দুর্বল মত ছেড়ে দিয়েছেন।তাহলে কি আমিও হানাফী? যেমন ইমাম বুখারী শাফেয়ি?
আব্দুল্লাহ:-আচ্ছা! আপনারা তাহলে বুখারী শরীফ মানেন? আচ্ছা, সহিহ বুখারী যে সহীহ তার প্রমান কি?? উনি কি সাহাবিদের পেয়েছেন?? নাকি কারো থেকে শুনেছেন??
অব্দুর রহমান:- আমরা পূর্ববর্তী সকল ইমামকেই মানি কুরআন ও হাদীসের আলোকে। আমরা ইমাম বুখারীকেউ মানি এবং সহীহ বুখারী যে, সহীহ তার প্রমাণ:- সহীহ সনদের সাক্ষী।
আব্দুল্লাহ:- সহীহ সনদ কিভাবে তিনি পাইছেন?? তিনি তো ১৯৪ হিজরীতে জন্ম,,, আর সাহাবীদের যুগ ১১০ হিজরী তে শেষ হয়েছে ,, তো তিনি সহীহ সনদ কার থেকে পাইছেন?
আব্দুর রহমান:- তিনি সহীহ সনদ অন্য সঠিক মানুষ থেকে পেয়েছেন।
আব্দুল্লাহ:- সঠিক মানুষ গুলোর নাম বলেন?? সহীহ সনদ তো,, নাম না বললে সহীহ দাবি করা ঠিক হবে??
আব্দুর রহমান:- আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (ইমাম বুখারীর উস্তাদ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন মালিক, তিনি নাফে থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:------।
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা! কিন্তু বুখারীর সনদে তো তার উস্তাদ আবু বকর আব্দুল্লাহ আল হুমাইদী মক্কী বিন ইব্রাহীম এর নাম দেওয়া,, যিনি ইমাম আবু হানীফার বিশিষ্ট শাগরেদ,,,
আব্দুর রহমান:-তাতে কি হয়েছে? ইমাম বুখারী কি হুময়দির থেকে আবু হানিফার সনদে হাদিস বর্ণনা করেছে? আর ধরেও নিলাম করেছে তাতে কি? ইমাম বুখারী কি ইমাম আবু হানিফাকে রদ করেনি? এখন কি ইমাম বুখারী শাফেয়ি থেকে হানাফী! আচ্ছা ধরেও নিলাম যে, ইমাম বুখারী হানাফী। আমরাও ইমাম বুখারীর মত হানাফী হতে চাই। ইমাম বুখারী যেমন ইমাম আবু হানিফার দুর্বল বা মুনকার মতামত মানতেন না; ঠিক এভাবেই আমরাও হানাফী ১০০% কিন্তু ইমাম আবু হানিফার দুর্বল ও মুনকার মতামত মানি না।
আব্দুল্লাহ:- আপনি প্রথম থেকে এই পর্যন্ত যা বলছেন তাতে বুঝা যায় আপনারা সুভিধাবাদি লোক,,, আপনারা মাযহাব মানেন না,, তবে দলিল দেন বুখারীর,, অথচ ইমাম বুখারী রহ, নিজেও মাযহাবের অনুসারী ছিলেন,,,
আব্দুর রহমান:- তোমার স্মৃতিশক্তি কি দূর্বল? পূর্বের কথপোকথন স্বরণ করে বল তো কি বলেছি! মযহাব শব্দের অর্থ জানো? ইমাম বুখারী কেন সাহাবিরাও মাজহাব অনুসরণ করতেন কিন্তু তাকলিদ ও গোঁড়ামি করতেন না হাদীসের মোকাবেলায়। ভালো করে স্বরণ কর। তাহলে বুঝতে পারবে যে, আমিও হানাফী কিন্তু ইমাম আবু হানিফার রদ করি ও দূর্বল ফতোয়া গ্রহণ করি না ঠিক ইমাম বুখারীও শাফেয়ি। তাহলে কি আমি হানাফী ইমাম আবু হানিফার তাকলিদ না করেও?আর ইমাম বুখারী কি শাফেয়ি ইমাম শাফেয়ির তাকলিদ না করেও? ইমাম বুখারী যদি শাফেয়ি মাযহাবের রদ করেও শাফেয়ি হতে পারে তাহলে আমরাও হানাফী এবং ইমাম বুখারীর মত হানাফী মাযহাবের দুর্বল ফতোয়া রদ করি।
এটা সুবিধা বাদি নয় বরং জবাব ও দলিলের অনুসরণ। ইমাম বুখারী হানাফী ছিল না এবং শাফেয়িও ছিল না বরং মুহাম্মাদী ছিলেন অর্থাৎ ওহীর অনুসারী। তিনি ইমাম শাফেয়িকে তো তাও কম রদ করেছেন কিন্তু ইমাম আবু হানিফাকে এতো রদ করেছেন যা সহীহ বুখারী পড়লেও বুঝা যায়। যদি এমন কোন ব্যক্তি হয় যে নিজেকে হানাফী দাবি করে কিন্তু যখন হাদীসের মোকাবেলায় ইমামদের বক্তব্য দেখে তখন তা ফেলে দেয়; ইমাম যদি দুর্বল বা মুনকার দলিল পেশ করে দলিল দেয় তাহলে শক্তিশালী দলিলের মোকাবেলায় তা ফেলে দেয়; তাহলে এমন হানাফী হওয়াতে কোন দোষ নেই। দোষ হলো তাকলিদ করাতে।
এখন তুমি বলতে পারো যে,হাদীসের সনদ কি তাহলে তাকলিদ নয়? তোমারা কি ইমাম বুখারীর কথার তাকলিদ করছো না? উত্তর হলো:- না। কারণ হাদীস সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয় আর সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করাকে তাকলিদ বলে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিচার কার্যক্রমে মানুষের সাক্ষী নিতেন তাহলে কি তিনি তাকলিদ করতেন? নাকি প্রমাণের অনুসরণ করতেন? সাহাবি তাবেঈরা সাক্ষীর মাধ্যমে হাদীস নিতেন; তাহলে তারা তাকলিদ করতেন? নাকি প্রমাণের অনুসরণ করতেন? তুমি যদি এমন হানাফী হও যে, ইমামের সহিহ হাদিসের আলোকের কথাকে গ্রহণ কর এবং সহীহ হাদীসের মোকাবেলায় ইমামদের বক্তব্য, দুর্বল বা মুনকার হাদীস গ্রহণ না করো; তাহলে আমিও হানাফী আমি সত্যিই হানাফী; কিন্তু ইমাম আবু হানিফার দুর্বল ফতোয়াকে মানি না। দুর্বল ফতোয়া না হলে ইমাম আবু হানিফার কথা সব মানি ; যেমন:- ইমাম আবু হানিফা বলে মহিলাদের হাত লাগলেও অযু নষ্ট হয় না; আমি তা মানি; কিন্তু ইমাম আবু হানিফা বলে রক্ত বের হলে অযু নষ্ট হয়; তা আমি মানি না কারণ মারফু হাদীসের বিরোধী। যদি আবু হানিফার দুর্বল ফতোয়াকে পরিত্যাগ করার পরও হানাফী হওয়া যায় তাহলে আমিও হানাফী। কিন্তু এটাকে কি হানাফী বলে?তুমি এখনও তাকলিদ ও সাক্ষী কে আলাদাকরতে পারো না।।। তোমাদের কথামত তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ সবাই মুকাল্লিদ।
আব্দূল্লাহ :- আচ্ছা তুমি মাসআলা রদ করো,, আচ্ছা তাহলে রক্তের যে মাসআলা তুমি বলছো সেটা বুঝাও,,হানাফি মাযহাব মতে ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়াইয়া না পড়লে অযু ভাঙে না,, তুমি বলছো তোমারা এটা রদ করছো,,তো দলিল দেও
আব্দুর রহমান:- হাদিসের বর্ণনা:-
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ‘জাতুর রিকা’ যুদ্ধ থেকে ফিরছিলেন, তখন বিশ্রামের জন্য একটি জায়গায় যাত্রা বিরতি করেন। পাহারার দায়িত্ব পড়ে দুইজন সাহাবীর ওপর—একজন আনসারী এবং একজন মুহাজির। আনসারী সাহাবী ছিলেন আব্বাদ ইবনে বিশর (রা.) এবং মুহাজির সাহাবী ছিলেন আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)।
রাত গভীর হলে আনসারী সাহাবী নামাজে দাঁড়ান। এমন সময় এক শত্রু সৈন্য এসে তাকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়লে তার গায়ে এসে লাগে। তিনি সেটি টেনে বের করে নামাজ চালিয়ে যান। এভাবে একে একে তিনটি তীর তার শরীরে বিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি নামাজ ছাড়েননি। যখন শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল বোধ করেন, তখন রুকু ও সেজদা করে নামাজ শেষ করেন এবং পাশের সঙ্গীকে জাগিয়ে দেন।
মূল দলিল (হাদিস)
أَنَّ رَجُلاً مِنَ الْمُشْرِكِينَ رَمَى رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ بِسَهْمٍ فَوَضَعَهُ فِيهِ فَنَزَعَهُ ثُمَّ رَمَاهُ بِآخَرَ فَنَزَعَهُ ثُمَّ رَمَاهُ بِثَالِثٍ فَنَزَعَهُ ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ...
বাংলা অনুবাদ: "একজন মুশরিক সেই আনসারী সাহাবীকে (আব্বাদ ইবনে বিশর) লক্ষ্য করে একটি তীর ছুড়ল যা তার শরীরে বিদ্ধ হলো। তিনি তা টেনে বের করে ফেললেন। এরপর সে আরেকটি তীর ছুড়ল, সেটিও তিনি বের করে ফেললেন। এরপর সে তৃতীয়টি ছুড়ল, সেটিও তিনি বের করে ফেললেন। এরপর তিনি রুকু ও সেজদা (করে নামাজ শেষ) করলেন..."
সূত্র ও গ্রন্থ
এই হাদিসটি বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:
সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নম্বর ১৯৮।
মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নম্বর ১৪৭০১।
সুনানে দারেমী: হাদিস নম্বর ১০৭৭।
সহীহ ইবনে খুজাইমা: হাদিস নম্বর ৩৬।
এটা মারফু হাদীস। বীপরিতে রক্ত গরিয়ে পড়লে অযু নষ্ট হয় কোন হাদীসের মধ্যে আছে?
আব্দুল্লাহ:-তার মানে আপনার মতে এই অবস্থায় রক্ত গড়াইয়া পড়ে নাই?? একটা পাগলও বলতে পারবে এই অবস্থায় রক্ত অবশ্যই গড়াইয়া পরবে,,
আব্দুর রহমান:- হাদীস বুঝ! রক্ত,পুজ বা পানি গরিয়ে পড়লে হানাফী মাযহাবে নামায বাতিল হয় অথচ সাহাবী নামাজ আদায় করেই যাচ্ছিলেন। আচ্ছা, হানাফী মাযহাবের অযু ভঙের ৭ টি কারণ বল?
আব্দুল্লাহ:-আপনার মত বুঝি না,, তবে ভাই হাদীস টা কি সহিহ?? নাকি হাসান? নাকি অন্য কিছু???
আব্দূর রহমান:- এটা হাসান সহীহ হাদীস। হাদীসের সনদ দেখ "
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي صَدَقَةُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আবু তাওবাহ আর-রাবী ইবনে নাফে: তিনি একজন বিশ্বস্ত (সিকাহ) বর্ণনাকারী।
ইবনুল মুবারক (আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক): তিনি আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস হিসেবে পরিচিত, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক: তিনি সিরাত ও মাগাযী শাস্ত্রের ইমাম। তবে হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তার ব্যাপারে কিছুটা সমালোচনা রয়েছে। তিনি যখন 'আম্বানা' বা 'হাদ্দাসানা' (সরাসরি শোনার শব্দ) ব্যবহার করেন, তখন তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হয়। এখানে তিনি 'হাদ্দাসানী' (আমাকে বর্ণনা করেছেন) বলেছেন, যা তার বর্ণনাকে শক্তিশালী করেছে।
সাদাকাহ ইবনে ইয়াসার: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) মক্কী বর্ণনাকারী।
আকীল ইবনে জাবির: তিনি সাহাবী জাবির (রা.)-এর পুত্র এবং নির্ভরযোগ্য।
জাবির (রা.): তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর বিশিষ্ট সাহাবী।
ইমাম ইবনে খুজাইমাহ: তিনি তার 'সহীহ ইবনে খুজাইমাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যা প্রমাণ করে তার নিকট এটি সহীহ।
ইমাম ইবনুল জারুদ: তিনি তার 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন (হাদিস নং ৯২), যা কেবলমাত্র সহীহ হাদিসের জন্য সংকলিত।
ইমাম আল-হাকিম: তিনি তার 'আল-মুসতাদরাক' গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করে একে 'সহীহ' বলেছেন (১/১৫৬)।
ইমাম আয-যাহাবী: তিনি ইমাম হাকিমের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
এছাড়াও নাসিরুদ্দিন আলবানী, আরনাউত, আহমাদ শাকের, যুবায়ের আলী যায় সহ অসংখ্য আছে।
তুমি যদি আমার চেয়ে শক্তিশালী মারফু হাদীস পেশ করতে পারো তাহলে আমি রক্ত গড়িয়ে পড়লে অযু নষ্ট হয় মেনে নিব কিন্তু যদি আমর চেয়ে শক্তিশালী মারফু হাদীস পেশ করতে না পার তাহলে, আমার মতামত বা সেই সকল সালাদের মতামত শক্তিশালী দলিলের আলোকে মেনে নাও যারা রক্ত গড়িয়ে পড়লে অযু নষ্ট হয় না বলেছেন। এরপরও না মানলে এটাকে গোঁড়ামি ও তাকলিদ বলে। ইনিয়ে-বিনিয়ে, টেনে-টুনে শক্তিশালী দলিলের মোকাবেলায় মাযহাবের দুর্বল ফতোয়া গ্রহণ করা গোঁড়ামি ছাড়া আর কিছুই না।
আব্দুল্লাহ:- আপনি বলছে যে আপনারা বুখারী মানেন,,, কারণ ইমাম বুখারী ওহী অনুসরণ করে লিখছেন,, প্রশ্ন হলো তিনি ওহী কোথা থেকে পেলেন?? আরেকটা প্রশ্ন হলো মানেন বুখারি আবার দলিল দেন আবু দাউদ শরিফ এর,,?? নাকি এটাও ইমাম বুখারীর লেখা?? অথচ ইমাম আবু দাউদ রহ, এর উস্তাদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ,,,,,
আব্দুর রহমান:- তুমি কি বাস্তবেই স্মৃতি হীন নাকি? প্রথম দিকেই এই প্রশ্নের উত্তর চলে গিয়েছে। সহীহ সনদের সাক্ষী। আমরা বুখারী মানি কিন্তু আমরা মুকাল্লিদ না। মনে হয় মাথায় বুদ্ধি নায় আপনার। কুরআন ও হাদীস কি ওহী না? তাহলে কোথা থেকে এলো? । এটা পূর্বে বলা হয়েছে যে সহীহ সনদের সাক্ষী। তাও বুঝেন না।
আব্দুল্লাহ:-এটাই তো বললাম,, ইমাম বুখারী ওহী পাইছে কোথায়?? নাকি কোন ফেরেস্তা আইসা দিয়া গোছে?? প্রায় ১৫০ বছর পর,,,,,,
আব্দুর রহমান:- সহীহ সাক্ষীর মাধ্যমে কতবার বলবো! একই কথা অনেকবার বলেছি।
আব্দুল্লাহ:- আচ্ছা ওহী কাকে বলে??
আব্দুর রহমান:-ওহী বলতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর প্রেরিত নবী বা রাসূলগণের নিকট পাঠানো পবিত্র বাণী বা সংবাদকে বোঝায়।
আব্দুল্লাহ:- তো ইমাম বুখারীর নিকট কে পাঠইলো??
আব্দুর রহমান:- আল্লাহ তার সেই সুরক্ষিত ওহী যা, নাযিল করেছিলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর তা সহীহ সনদের মাধ্যমে পৌছে দিয়েছেন। এক কথা কয়েকবার বলা হয়েছে যে, সহীহ সনদের সাক্ষী।
ইমাম বুখারী শুধু ওস্তাদ বললো আর লিখলো এমন করেনি বরং উস্তাদের কাছে জানতে চেয়েছে সহীহ সনদ। যদি কোন কথা কেউ বলতো এবং সনদের সাক্ষী না দিত তাহলে সে দূর দুরান্ত সফর করে সহীহ সনদের সাক্ষী নিতেন। এটাকে বলা হয় ওহী প্রমাণ সহ গ্রহণ করা। ওহীকে আল্লাহ সুরক্ষিত করেছেন এবং তার প্রচারের জন্য সহীহ সনদ দেখতে বলেছেন। নতুন কোন ওহী নাজিল হবে না কিন্তু ওহী পৌঁছবে ও সুরক্ষিত হবে সহীহ সনদের সাক্ষীর মাধ্যমে এবং বাতিলকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে। আশা করি বুঝতে পারছো।
আব্দুল্লাহ:- তো আপনি ওহী বলেন কেন??
আব্দুর রহমান:- তাহলে তোমার হাতে যেই কুরআন এটা কি ওহী না? নাকি ওহীয়ে মাতলু আমাদের কাছে পৌছেনি? তোমার কাছে যে হাদীস; এগুলো কি ওহী না? নাকি ওহীয়ে গায়রে মাতলু আমাদের কাছে পৌছেনি?
নতুন কোন ওহী নাজিল হবে না কিন্তু ওহী পৌঁছবে ও সুরক্ষিত হবে সহীহ সনদের সাক্ষীর মাধ্যমে এবং বাতিলকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে। ১৪০০ বছর পূর্বে যেই কুরআন ছিল; এটাই তা। উভয়ের মধ্যে বিন্দু পরিমাণ পার্থক্য নেই। ১৪০০ বছর পূর্বে যেই হাদীস ছিল; এগুলোই তা। বিন্দু পরিমাণ পার্থক্য নেই । আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:-
اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
অনুবাদ: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে (ওহী), তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাকে ছাড়া অন্য বন্ধুদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো।" (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৩)
তাহলে ওহী না থাকলে আমরা কিসের অনুসরণ করছি? সত্তাগতভাবে এটি 'ওহী'।
কুরআন কোনো মানুষের কথা বা কোনো ফেরেশতার নিজস্ব রচনা নয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া হুবহু বাণী। কুরআন নিজেই নিজেকে ওহী হিসেবে ঘোষণা করেছে:
"নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী নাযিল করেছি, যেমন নাযিল করেছিলাম নূহ ও তার পরবর্তী নবীদের প্রতি।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৩)
তাই মুসহাফের (লিখিত কুরআন) মধ্যে যা আছে, তা আল্লাহর কালাম বা বাণী হওয়ার কারণে তা সরাসরি ওহী।
আবার আমাদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে এটি 'সংবাদ'
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ওহী পেতেন, তখন সাহাবায়ে কেরামকে তিনি তা পাঠ করে শোনাতেন। সাহাবায়ে কেরাম সেই বাণী মুখস্থ করতেন এবং লিখে রাখতেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বাণীগুলো যেভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেই ধারাবাহিকতাকে বলা হয় 'খবরে মুতাওয়াতির' (এমন এক অকাট্য সংবাদ যা ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই)।
এছাড়াও আল্লাহ তার ওহীকে চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সুরক্ষিত করেছেন। আমরা যে কুরআন অনুসরণ করি, তা কেবল ওহীর বিবরণ বা গল্প নয়, বরং তা ওহীর অবিকৃত রূপ। সুতরাং এটি সরাসরি ওহী। তবে যেহেতু আমরা সেই অবতীর্ণ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলাম না এবং আমরা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার (খবর) মাধ্যমে এটি পেয়েছি, তাই একে ওহীর 'সংবাদ' হিসেবেও গণ্য করা হয় যা পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত।
আব্দুল্লাহ :- আপনারা সব বিষয় কোরআন আর হাদিস থেকে মানেন তাই না?? ইজমা আর কিয়াস সম্পর্কে মতামত কি?
আব্দুর রহমান:- এটা আমাদের উপর মিথ্যারোপ করা যে, আমরা ইজমা ও কিয়াস মানিনা। আমরা ইজমা ও কিয়াস মানি যদি সহীহ ইজমা ও কিয়াস হয়। এই বিষয়ে " তাওদ্বীহু উছূলিল ফিক্বহ আলা মানাহিজি আহলিল হাদীছ" বই পড়তে পারো।