Altruistic
Uploader
Salafi User
- Joined
- Nov 17, 2023
- Threads
- 421
- Comments
- 542
- Solutions
- 1
- Reactions
- 13,720
- Thread Author
- #1
আব্দুল্লাহ একদা বক্তব্য দিচ্ছিলেন যে, কুরআন মাজিদ বুঝতে হলে অবশ্যই তোমাকে হাদীস পড়তে হবে বুঝতে হবে । নিজের মনগড়া ফতোয়া দিলে হবে না। এইকথা আব্দুর রহমান শুনে বলে উঠলো....
আব্দুর রহমান:- তাহলে আল্লাহ এমন কিতাব পাঠালেন কেনো যে তা মানুষ বুঝতে না পারে?
আব্দুল্লাহ:- কারণ আল্লাহ শুধু কিতাব পাঠায়নি বরং একটি মানুষও পাঠিয়েছে। সেই মানুষটির নাম হলো মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।তোমার কথা তখন ঠিক ছিল যদি আল্লাহ শুধু কিতাব পাঠাতেন।
আব্দুর রহমান:- আল্লাহর কমিউনিকেশন স্কিল খারাপ বলছেন নাকি? আল্লাহ তো কুরানে বলল, তিনি কুরানকে সহজ করে নাজিল করেছেন যেন সবাই বুঝে!
কুরানে আবার বলা হয়েছে, কুরানেই একমাত্র মানদন্ড।
কুরানে আবার বলা হয়েছে, কুরান সম্পূর্ণ।
আপনি কী কুরানের সব দাবি অস্বীকার করছেন?
আব্দুল্লাহ:- কুরআনে এই সকল আয়াতের পাশাপাশি এটাও বলছে যে,
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে (রাসূলকে) অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)
مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ
"যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন আমাদের জন্য একমাত্র নির্ভুল মডেল:
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا
"রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" (সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭)
কুরআন সম্পূর্ণ জীবন বিধান ১০০% সঠিক। কিন্তু তুমি কুরআন আনেক বিধান বাদ দিচ্ছো এবং অনেক বিধান গ্রহণ করছো। তোমার মত এই কাজ আহলে কিতাবরা করতো যার জন্য তারা ধ্বংস হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:-
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ
অনুবাদ: তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো?
আমার তো ভয় হচ্ছে যে, তোমার অবস্থা না আবার তাদের মত হয়! আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের হেফাজত করুন।
আব্দুর রহমান:- আল্লাহ বলে কোরান পরিপূর্ণ আর আপনি কন বাদ দিছে! হা হা হা।
আব্দুল্লাহ:- মদন মূর্খ নাকি? আমি কি বলছি আল্লাহ বাদ দিছে? আল্লাহ তো আয়াত উল্লেখ করেছে যা আমি উল্লেখ করেছি। আমি বললাম তুমি বাদ দিয়েছো কুরআনের এই সব আয়াত। আল্লাহ কুরআন কে পরিপূর্ণ করেছেন; সেই পরিপূর্ণ কুরআনের মধ্যে আমার উল্লেখকৃত আয়াত ও আছে। তুমি এক আয়াত নিয়ে অন্য আয়াত ছেড়ে দিয়েছো। এত মদন মার্কা বুদ্ধি দিয়ে কুরআন বুঝ কেমনে?
আব্দুর রহমান:- কুরান বুজতে হলে হাদিস পড়তে হবে এটি কতো নাম্বার আয়াত?
আব্দুল্লাহ:- আমার কমেন্টে চারটি কুরআনের আয়াত দিয়েছি যে, কুরআন বুঝতে হলে হাদীস লাগবে।আরও লাগবে কি? সূরা আল-বাক্বারাহ-এর ১৯৭ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। আয়াতটির শুরু এভাবে:
الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُوْمٰتٌ
বাংলা অনুবাদ:
"হজ্জের মাসসমূহ সুপরিচিত
তুমি আমাকে শুধু কুরআন থেকে হজ্বের মাসের নাম বল। কোরআনের কোন যায়গায় হজ্বের মাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে? কারণ কুরআন বলছে হজ্জের মাস জানা অর্থাৎ পূর্বেই কুরআন হজ্বের মাস জানিয়েছেন। কিন্তু আমি তো হজের মাসই খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু কুরআন কি পরিপূর্ণ নয়? তাহলে আমাকে কুরআন থেকে হজ্বের মাস দেখাও?
আব্দুর রহমান:- হাদীস কি রাসুল সাঃ লিখে গিয়েছেন?তিনি তো লিখতে অথবা পড়তে পারতেন না।যা তিনি নিজে লেখেন নি এবং যা তার মৃত্যুর অনেক বছর পরে লিখা হয়েছে তা ১০০% সত্য আপনি কীভাবে বলতে পারেন ?কে আপনাকে গ্যারান্টি দিবে যে ,হাদীস মানুষের মুখে মুখে আসছে তা পরিবর্তন হয় নি?
পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সব কালের পরিবর্তে পরিবর্তন হয়েছে।মানুষ নিজেদের সুবিধা মতো গল্প লিখে আল্লাহ্ প্রদত্ত বলে চালিয়ে দিয়েছে
কুরআন নাহয় আল্লাহ পরিবর্তন হতে দিবেন না।
তবে হাদীস নিয়ে ঐটা আপনি কীভাবে বলতে পারেন?
হাদীস অস্বীকার মানে রাসুলে অস্বীকার না।
হাদীস অস্বীকার মানে এমন কিতাবে অস্বীকার যা আসমানী কিতাবের আইন উপেক্ষা করে নিজেকে বড় আইন প্রবর্তক বানাতে চায়।
আব্দুল্লাহ:- হাদীস অশ্বিকার করা অর্থই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অশ্বিকার করে কুরআন কে অশ্বিকার করা। এটা পূর্বে দিয়েছি যে, আহলে কিতাবরা কুরআনের কিছু আয়াত গ্রহণ করতো এবং কিছু বাদ দিত; যেমন তুমি করছো। কুরআন কে বুঝতে হয় সামগ্রীকভাবে। এখন তোমার প্রশ্ন হলো যে, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে লেখেন নি এবং যা তার মৃত্যুর অনেক বছর পরে লিখা হয়েছে তা ১০০% সত্য আপনি কীভাবে বলতে পারেন ?কে আপনাকে গ্যারান্টি দিবে যে ,হাদীস মানুষের মুখে মুখে আসছে তা পরিবর্তন হয় নি?
উত্তর হলো:- কুরআন বলেছে যে, যখন কেউ সংবাদ নিয়ে আসে তা জাচাই করে দেখ অর্থাৎ কুরআন বলছে যে যেকোনো সংবাদ তুমি যাচাই করে গ্রহণ করতে পারো। দলিল:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ
বাংলা অনুবাদ:
"হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখবে, যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধন না করো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।"সূরা আল-হুজুরাত-এর ৬
অর্থাৎ যাচাই করে সংবাদ গ্রহণ করতে হবে কুরআনের নির্দেশ। তাই হাদীস যেহেতু সংবাদ; তাই হাদিস যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে কুরআনের নির্দেশ মত। যদি যাচাই করে দেখা যায় সকল বর্ণনা কারি সহীহ এবং মতন শায বা অন্য কোন ক্রুটি যুক্ত নয় তাহলে গ্রহণ করতে হবে। আর যদি দেখা যায় বর্ণনা কারীগণ সহীহ নয় বা মতন শায বা অন্য কোন ক্রুটি যুক্ত তাহলে বর্জন করতে হবে। এখন তুমি যদি গ্রহণ না কর তাহলে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে। তাই পূর্বে গিয়ে সম্পূর্ণ কুরআন পড় তারপর তর্ক কর। কুরআনের এক অংশ গ্রহণ করা আর অন্য অংশ ছেড়ে দেওয়া ইহুদীদের স্বভাব বাদ দাও।
আব্দুর রহমান:- যদি সহীহ হাদীস ধরিও তাহলে একই ঘটনা পরস্পর বিরোধী দেখা যায়। ওহী কিভাবে পরস্পর বিরোধী হতে পারে?
আব্দুল্লাহ:- সহীহ হাদীস কখনও কুরআনের সাথে সংঘর্ষ করে না বরং ব্যাখ্যা ও হুকুম বৃদ্ধি করে। যেমন কুরআনে এসেছে:-
সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৩
আরবি:
حُرِّمَتۡ عَلَیۡكُمۡ اُمَّهٰتُكُمۡ وَ بَنٰتُكُمۡ وَ اَخَوٰتُكُمۡ وَ عَمّٰتُكُمۡ وَ خٰلٰتُكُمۡ وَ بَنٰتُ الۡاَخِ وَ بَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَ اُمَّهٰتُكُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَكُمۡ وَ اَخَوٰتُكُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَ اُمَّهٰتُ نِسَآئِكُمۡ وَ رَبَآئِبُكُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِكُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِكُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِهِنَّ ۖ فَاِنۡ لَّمۡ تَكُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡكُمۡ ۫ وَ حَلَآئِلُ اَبۡنَآئِكُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِكُمۡ ۙ وَ اَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
বাংলা অনুবাদ:
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগিনেয়ী, তোমাদের সেই মায়েরা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের শাশুড়ি, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে তোমরা সহবাস করেছ তার গর্ভজাত কন্যা যারা তোমাদের আশ্রয়ে আছে; কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমাদের সহবাস না হয়ে থাকে তবে (তাদের কন্যাদের বিয়ে করলে) তোমাদের কোন গুনাহ নেই। আর তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; আগে যা হয়েছে তা হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, এই মহিলাদের ছাড়া অন্য সব মহিলাদের বিবাহ করা যাবে। কুরআনে খালা ও খালার ভাঞ্জিকে একত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিন্তু হাদীসে এসেছে:-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُجْمَعُ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا، وَلَا بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَخَالَتِهَا»
বাংলা অনুবাদ:
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো নারীকে (বিবাহে) তার ফুফুর সাথে এবং কোনো নারীকে (বিবাহে) তার খালার সাথে একত্রে রাখা যাবে না।"
(সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫১০৯, সহীহ মুসলিম: ১৪০৮)
তুমি কি মনে কর একত্রে করা যাবে?(( যদি না বলে তাহলে তো মেনেই নিল যে, হাদীস লাগবে কুরআন বুঝতে ও আমল করতে। আর যদি বলে...))
আব্দুর রহমান:- কুরআন যেহেতু নিষিদ্ধ করেনি তাই খালা ও খালার ভাঞ্জিকে একত্রে বিবাহ করা যাবে।
আব্দুল্লাহ:- তাহলে তো তুমি কুরআন কেই উল্টিয়ে দিলে। একই সাথে ফুফু ও ভাতিজিকে বিয়ে করা রক্তের সম্পর্ক (সিল্যাতুর রাহিম) ছিন্ন করে, তার মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণগুলো নিচে দেয়া হলো:-
১. সতীনদের চিরাচরিত প্রতিযোগিতা ও শত্রুতা:-
সংসারে যখন দুইজন নারী সতীন হিসেবে থাকেন, তখন তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের প্রতিযোগিতা এবং অনেক ক্ষেত্রে তিক্ততা বা হিংসা তৈরি হয় (এটি মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি)।
ফুফু এবং ভাতিজি হলো ঘনিষ্ঠ রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়। যদি তারা দুইজন একই স্বামীর সতীন হয়, তবে তাদের মধ্যকার এই 'সতীন সুলভ' তিক্ততা ও রেষারেষি সরাসরি তাদের রক্তসম্পর্কীয় ভালোবাসাকে ধ্বংস করে দেবে। যে ফুফু তার ভাতিজিকে মেয়ের মতো ভালোবাসতেন, সতীনের দ্বন্দ্বে সেই ভালোবাসা ঘৃণা ও শত্রুতার রূপ নেবে।
২. কুরআনি নির্দেশ 'সিল্যাতুর রাহিম' বা আত্মীয়তা রক্ষার লংঘন কুরআন মজিদে বারবার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার (সিল্যাতুর রাহিম) কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে (যেমন: সূরা নিসা, আয়াত ১)।
ইসলাম কি এমন কোনো কাজকে বৈধতা দিতে পারে যা একটি অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ককে চিরতরে বিষিয়ে দেয়?
ফুফু-ভাতিজি বা খালা-বোনঝির মধ্যে যদি সতীনের লড়াই শুরু হয়, তবে দুই পরিবারের মধ্যে আজীবনের জন্য মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, রাসূল (সা.) এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মূলত কুরআনেরই একটি বড় বিধান—"আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা"—কে নিশ্চিত করেছেন।
৩. বোনদের ক্ষেত্রে কুরআনের নিষেধাজ্ঞা থেকে শিক্ষা:-
কুরআন নিজেই দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম করেছে (সূরা নিসা: ২৩)। কেন দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম? নিশ্চয়ই এর কারণ হলো তাদের মধ্যকার বোনের সম্পর্ক যেন সতীনের ঝগড়ায় নষ্ট না হয়।
তাহলে ফুফু-ভাতিজি বা খালা-বোনঝির সম্পর্কও তো বোনের সম্পর্কের মতোই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কুরআনের ওই একই যুক্তিতে (রক্তের সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করা) রাসূল (সা.) এই অতিরিক্ত বিধিটি দিয়েছেন। এটি কুরআনের বিরোধী নয়, বরং কুরআনেরই মূল দর্শনের যৌক্তিক সম্প্রসারণ।
এই ধরনের বিবাহ পরিবারে যে ফাটল ধরাবে, তা জোড়া লাগানো অসম্ভব। ইসলাম একটি সুশৃঙ্খল সমাজ চায়, বিশৃঙ্খলা নয়।
রাসূল (সা.)-এর এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে ফাটল ধরা থেকে সমাজকে বাঁচানোর একটি রক্ষাকবচ। হাদিস অস্বীকার করে এই বিয়েকে বৈধতা দিলে তুমি সরাসরি কুরআনের "আত্মীয়তা রক্ষা"র নির্দেশকেই অমান্য করবে।
(((পরিশেষে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের তাদের অনিষ্ট হতে হিফাজত করুন। আমিন)))
আব্দুর রহমান:- তাহলে আল্লাহ এমন কিতাব পাঠালেন কেনো যে তা মানুষ বুঝতে না পারে?
আব্দুল্লাহ:- কারণ আল্লাহ শুধু কিতাব পাঠায়নি বরং একটি মানুষও পাঠিয়েছে। সেই মানুষটির নাম হলো মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।তোমার কথা তখন ঠিক ছিল যদি আল্লাহ শুধু কিতাব পাঠাতেন।
আব্দুর রহমান:- আল্লাহর কমিউনিকেশন স্কিল খারাপ বলছেন নাকি? আল্লাহ তো কুরানে বলল, তিনি কুরানকে সহজ করে নাজিল করেছেন যেন সবাই বুঝে!
কুরানে আবার বলা হয়েছে, কুরানেই একমাত্র মানদন্ড।
কুরানে আবার বলা হয়েছে, কুরান সম্পূর্ণ।
আপনি কী কুরানের সব দাবি অস্বীকার করছেন?
আব্দুল্লাহ:- কুরআনে এই সকল আয়াতের পাশাপাশি এটাও বলছে যে,
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে (রাসূলকে) অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)
مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ
"যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন আমাদের জন্য একমাত্র নির্ভুল মডেল:
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا
"রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" (সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭)
কুরআন সম্পূর্ণ জীবন বিধান ১০০% সঠিক। কিন্তু তুমি কুরআন আনেক বিধান বাদ দিচ্ছো এবং অনেক বিধান গ্রহণ করছো। তোমার মত এই কাজ আহলে কিতাবরা করতো যার জন্য তারা ধ্বংস হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:-
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ
অনুবাদ: তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো?
আমার তো ভয় হচ্ছে যে, তোমার অবস্থা না আবার তাদের মত হয়! আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের হেফাজত করুন।
আব্দুর রহমান:- আল্লাহ বলে কোরান পরিপূর্ণ আর আপনি কন বাদ দিছে! হা হা হা।
আব্দুল্লাহ:- মদন মূর্খ নাকি? আমি কি বলছি আল্লাহ বাদ দিছে? আল্লাহ তো আয়াত উল্লেখ করেছে যা আমি উল্লেখ করেছি। আমি বললাম তুমি বাদ দিয়েছো কুরআনের এই সব আয়াত। আল্লাহ কুরআন কে পরিপূর্ণ করেছেন; সেই পরিপূর্ণ কুরআনের মধ্যে আমার উল্লেখকৃত আয়াত ও আছে। তুমি এক আয়াত নিয়ে অন্য আয়াত ছেড়ে দিয়েছো। এত মদন মার্কা বুদ্ধি দিয়ে কুরআন বুঝ কেমনে?
আব্দুর রহমান:- কুরান বুজতে হলে হাদিস পড়তে হবে এটি কতো নাম্বার আয়াত?
আব্দুল্লাহ:- আমার কমেন্টে চারটি কুরআনের আয়াত দিয়েছি যে, কুরআন বুঝতে হলে হাদীস লাগবে।আরও লাগবে কি? সূরা আল-বাক্বারাহ-এর ১৯৭ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। আয়াতটির শুরু এভাবে:
الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُوْمٰتٌ
বাংলা অনুবাদ:
"হজ্জের মাসসমূহ সুপরিচিত
তুমি আমাকে শুধু কুরআন থেকে হজ্বের মাসের নাম বল। কোরআনের কোন যায়গায় হজ্বের মাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে? কারণ কুরআন বলছে হজ্জের মাস জানা অর্থাৎ পূর্বেই কুরআন হজ্বের মাস জানিয়েছেন। কিন্তু আমি তো হজের মাসই খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু কুরআন কি পরিপূর্ণ নয়? তাহলে আমাকে কুরআন থেকে হজ্বের মাস দেখাও?
আব্দুর রহমান:- হাদীস কি রাসুল সাঃ লিখে গিয়েছেন?তিনি তো লিখতে অথবা পড়তে পারতেন না।যা তিনি নিজে লেখেন নি এবং যা তার মৃত্যুর অনেক বছর পরে লিখা হয়েছে তা ১০০% সত্য আপনি কীভাবে বলতে পারেন ?কে আপনাকে গ্যারান্টি দিবে যে ,হাদীস মানুষের মুখে মুখে আসছে তা পরিবর্তন হয় নি?
পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সব কালের পরিবর্তে পরিবর্তন হয়েছে।মানুষ নিজেদের সুবিধা মতো গল্প লিখে আল্লাহ্ প্রদত্ত বলে চালিয়ে দিয়েছে
কুরআন নাহয় আল্লাহ পরিবর্তন হতে দিবেন না।
তবে হাদীস নিয়ে ঐটা আপনি কীভাবে বলতে পারেন?
হাদীস অস্বীকার মানে রাসুলে অস্বীকার না।
হাদীস অস্বীকার মানে এমন কিতাবে অস্বীকার যা আসমানী কিতাবের আইন উপেক্ষা করে নিজেকে বড় আইন প্রবর্তক বানাতে চায়।
আব্দুল্লাহ:- হাদীস অশ্বিকার করা অর্থই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অশ্বিকার করে কুরআন কে অশ্বিকার করা। এটা পূর্বে দিয়েছি যে, আহলে কিতাবরা কুরআনের কিছু আয়াত গ্রহণ করতো এবং কিছু বাদ দিত; যেমন তুমি করছো। কুরআন কে বুঝতে হয় সামগ্রীকভাবে। এখন তোমার প্রশ্ন হলো যে, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে লেখেন নি এবং যা তার মৃত্যুর অনেক বছর পরে লিখা হয়েছে তা ১০০% সত্য আপনি কীভাবে বলতে পারেন ?কে আপনাকে গ্যারান্টি দিবে যে ,হাদীস মানুষের মুখে মুখে আসছে তা পরিবর্তন হয় নি?
উত্তর হলো:- কুরআন বলেছে যে, যখন কেউ সংবাদ নিয়ে আসে তা জাচাই করে দেখ অর্থাৎ কুরআন বলছে যে যেকোনো সংবাদ তুমি যাচাই করে গ্রহণ করতে পারো। দলিল:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ
বাংলা অনুবাদ:
"হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখবে, যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধন না করো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।"সূরা আল-হুজুরাত-এর ৬
অর্থাৎ যাচাই করে সংবাদ গ্রহণ করতে হবে কুরআনের নির্দেশ। তাই হাদীস যেহেতু সংবাদ; তাই হাদিস যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে কুরআনের নির্দেশ মত। যদি যাচাই করে দেখা যায় সকল বর্ণনা কারি সহীহ এবং মতন শায বা অন্য কোন ক্রুটি যুক্ত নয় তাহলে গ্রহণ করতে হবে। আর যদি দেখা যায় বর্ণনা কারীগণ সহীহ নয় বা মতন শায বা অন্য কোন ক্রুটি যুক্ত তাহলে বর্জন করতে হবে। এখন তুমি যদি গ্রহণ না কর তাহলে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে। তাই পূর্বে গিয়ে সম্পূর্ণ কুরআন পড় তারপর তর্ক কর। কুরআনের এক অংশ গ্রহণ করা আর অন্য অংশ ছেড়ে দেওয়া ইহুদীদের স্বভাব বাদ দাও।
আব্দুর রহমান:- যদি সহীহ হাদীস ধরিও তাহলে একই ঘটনা পরস্পর বিরোধী দেখা যায়। ওহী কিভাবে পরস্পর বিরোধী হতে পারে?
আব্দুল্লাহ:- সহীহ হাদীস কখনও কুরআনের সাথে সংঘর্ষ করে না বরং ব্যাখ্যা ও হুকুম বৃদ্ধি করে। যেমন কুরআনে এসেছে:-
সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৩
আরবি:
حُرِّمَتۡ عَلَیۡكُمۡ اُمَّهٰتُكُمۡ وَ بَنٰتُكُمۡ وَ اَخَوٰتُكُمۡ وَ عَمّٰتُكُمۡ وَ خٰلٰتُكُمۡ وَ بَنٰتُ الۡاَخِ وَ بَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَ اُمَّهٰتُكُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَكُمۡ وَ اَخَوٰتُكُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَ اُمَّهٰتُ نِسَآئِكُمۡ وَ رَبَآئِبُكُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِكُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِكُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِهِنَّ ۖ فَاِنۡ لَّمۡ تَكُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡكُمۡ ۫ وَ حَلَآئِلُ اَبۡنَآئِكُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِكُمۡ ۙ وَ اَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
বাংলা অনুবাদ:
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগিনেয়ী, তোমাদের সেই মায়েরা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের শাশুড়ি, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে তোমরা সহবাস করেছ তার গর্ভজাত কন্যা যারা তোমাদের আশ্রয়ে আছে; কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমাদের সহবাস না হয়ে থাকে তবে (তাদের কন্যাদের বিয়ে করলে) তোমাদের কোন গুনাহ নেই। আর তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; আগে যা হয়েছে তা হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, এই মহিলাদের ছাড়া অন্য সব মহিলাদের বিবাহ করা যাবে। কুরআনে খালা ও খালার ভাঞ্জিকে একত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিন্তু হাদীসে এসেছে:-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُجْمَعُ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا، وَلَا بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَخَالَتِهَا»
বাংলা অনুবাদ:
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো নারীকে (বিবাহে) তার ফুফুর সাথে এবং কোনো নারীকে (বিবাহে) তার খালার সাথে একত্রে রাখা যাবে না।"
(সূত্র: সহীহ বুখারী: ৫১০৯, সহীহ মুসলিম: ১৪০৮)
তুমি কি মনে কর একত্রে করা যাবে?(( যদি না বলে তাহলে তো মেনেই নিল যে, হাদীস লাগবে কুরআন বুঝতে ও আমল করতে। আর যদি বলে...))
আব্দুর রহমান:- কুরআন যেহেতু নিষিদ্ধ করেনি তাই খালা ও খালার ভাঞ্জিকে একত্রে বিবাহ করা যাবে।
আব্দুল্লাহ:- তাহলে তো তুমি কুরআন কেই উল্টিয়ে দিলে। একই সাথে ফুফু ও ভাতিজিকে বিয়ে করা রক্তের সম্পর্ক (সিল্যাতুর রাহিম) ছিন্ন করে, তার মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণগুলো নিচে দেয়া হলো:-
১. সতীনদের চিরাচরিত প্রতিযোগিতা ও শত্রুতা:-
সংসারে যখন দুইজন নারী সতীন হিসেবে থাকেন, তখন তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের প্রতিযোগিতা এবং অনেক ক্ষেত্রে তিক্ততা বা হিংসা তৈরি হয় (এটি মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি)।
ফুফু এবং ভাতিজি হলো ঘনিষ্ঠ রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়। যদি তারা দুইজন একই স্বামীর সতীন হয়, তবে তাদের মধ্যকার এই 'সতীন সুলভ' তিক্ততা ও রেষারেষি সরাসরি তাদের রক্তসম্পর্কীয় ভালোবাসাকে ধ্বংস করে দেবে। যে ফুফু তার ভাতিজিকে মেয়ের মতো ভালোবাসতেন, সতীনের দ্বন্দ্বে সেই ভালোবাসা ঘৃণা ও শত্রুতার রূপ নেবে।
২. কুরআনি নির্দেশ 'সিল্যাতুর রাহিম' বা আত্মীয়তা রক্ষার লংঘন কুরআন মজিদে বারবার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার (সিল্যাতুর রাহিম) কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে (যেমন: সূরা নিসা, আয়াত ১)।
ইসলাম কি এমন কোনো কাজকে বৈধতা দিতে পারে যা একটি অতি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ককে চিরতরে বিষিয়ে দেয়?
ফুফু-ভাতিজি বা খালা-বোনঝির মধ্যে যদি সতীনের লড়াই শুরু হয়, তবে দুই পরিবারের মধ্যে আজীবনের জন্য মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, রাসূল (সা.) এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মূলত কুরআনেরই একটি বড় বিধান—"আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা"—কে নিশ্চিত করেছেন।
৩. বোনদের ক্ষেত্রে কুরআনের নিষেধাজ্ঞা থেকে শিক্ষা:-
কুরআন নিজেই দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম করেছে (সূরা নিসা: ২৩)। কেন দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম? নিশ্চয়ই এর কারণ হলো তাদের মধ্যকার বোনের সম্পর্ক যেন সতীনের ঝগড়ায় নষ্ট না হয়।
তাহলে ফুফু-ভাতিজি বা খালা-বোনঝির সম্পর্কও তো বোনের সম্পর্কের মতোই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কুরআনের ওই একই যুক্তিতে (রক্তের সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করা) রাসূল (সা.) এই অতিরিক্ত বিধিটি দিয়েছেন। এটি কুরআনের বিরোধী নয়, বরং কুরআনেরই মূল দর্শনের যৌক্তিক সম্প্রসারণ।
এই ধরনের বিবাহ পরিবারে যে ফাটল ধরাবে, তা জোড়া লাগানো অসম্ভব। ইসলাম একটি সুশৃঙ্খল সমাজ চায়, বিশৃঙ্খলা নয়।
রাসূল (সা.)-এর এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যে ফাটল ধরা থেকে সমাজকে বাঁচানোর একটি রক্ষাকবচ। হাদিস অস্বীকার করে এই বিয়েকে বৈধতা দিলে তুমি সরাসরি কুরআনের "আত্মীয়তা রক্ষা"র নির্দেশকেই অমান্য করবে।
(((পরিশেষে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের তাদের অনিষ্ট হতে হিফাজত করুন। আমিন)))
Last edited: