সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
shafinchowdhury

আদম (আঃ) এর পূর্বে হিন ও বিন প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল?

shafinchowdhury

Salafi

Salafi User
LV
5
 
Awards
15
Credit
402
আদম আলাইহিস সালাম এর পূর্বে কি পৃথিবীতে হিন ও বিন নামক কিছু ছিল?

প্রখ্যাত ইসলামী ইতিহাসবিদ ইবন আয়বাক আদ দাওয়াদারি রাহিমাহুল্লাহ তার তারীখ এর কিতাবে হিন ও বিন সম্পর্কিত যাবতীয় সকল বর্ণনাসমূহ জমা করার পর বলেন,

যেই বর্ণনাগুলো আমরা উল্লেখ্য করেছি সেগুলো জাদ বিন সিনান তার তারীখ এর কিতাবে আশ শাবী এর সূত্রে উল্লেখ করেছে। এগুলো গরিব হাদিস, যা আমি কোনো ইতিহাসবিদকেই এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য করতে দেখিনি।

«قلت: هذا ما ذكره جدع بن سنان فى تأريخه بإسناده إلى الشعبى لما ذكرناه، وهو حديث غريب لم أرى أحد من المؤرخين ذكره على هذا الوجه، وإنما المذكور من قصة عوج أنه ابن عناق وأجمعوا أن عناق ولدتها حواء من آدم عليه السلام فوضعتها مشوهة الخلق لها رأسان وفى كل يد عشرة أصابع وأنها ولدتها بمفردها بغير توأم معها»
«كنز الدرر وجامع الغرر» (1/ 235):

কানযুদ দুরার ওয়া জামিউল গুরার, ১/ ২৩৫, মাক্তাবা শামেলা।

প্রখ্যাত আশআরী বিদ্বান ও মুহাক্কিক মুহাম্মাদ ত্বহির ইবন আশুর এই প্রসঙ্গে লিখেছেন,

«وأحسبه من المزاعم، وأن وضع هذين الاسمين من باب قول الناس: هيان بن بيان إشارة إلى غير موجود أو غير معروف. ولعل هذا أنجز لأهل القصص من خرافات الفرس أو اليونان فإن الفرس زعموا أنه كان قبل الإنسان في الأرض جنس اسمه الطم والرم كان اليونان يعتقدون أن الأرض كانت معمورة بمخلوقات تدعى التيتان وأن زفس وهو المشتري كبير الأرباب في اعتقادهم جلاهم من الأرض لفسادهم. وكل هذا ينافيه سياق الآية فإن تعقيب ذكر خلق الأرض ثم السماوات بذكر إرادته تعالى جعل الخليفة دليل على أن جعل الخليفة كان أول الأحوال على الأرض بعد خلقها فالخليفة هنا الذي يخلف صاحب الشيء في التصرف في مملوكاته ولا يلزم أن يكون المخلوف مستقرا في المكان من قبل،

আমার মনে হয় এগুলো সবই কল্পকাহিনী। হায়ান ও বায়ান এর অর্থ যার অস্তিত্ব নেই বা যা অজ্ঞাত - আর এখান থেকেই হিন ও বিন নাম দুটি মানুষদের মাঝে খ্যাত হয়েছে। হয়তো এসব কাহিনী মানুষদের মধ্যে পারস্য বা গ্রিকদের কল্পকাহিনীর মাধ্যমে প্রচলিত হয়েছিল। কারণ, পারস্যের অধিবাসীরাই এই দাবি করতো যে পৃথিবীতে মানুষের পূর্বে তাম এবং রুম নামক এক প্রজাতি ছিল। গ্রিকদের বিশ্বাস ছিল যে পৃথিবী তিতান নামক প্রাণীদের বসতি ছিল এবং তাদের বিশৃঙ্খলার দরুণ জিউস নামক এক দেব যাকে তারা তাদের দেবরাজ বলে মানতো, তিনি তাদেরকে পৃথিবী থেকে উচ্ছেদ করেন। এসব ইতিহাস পৃথিবী ও আসমান সৃষ্টির পর আল্লাহর কৃত ইচ্ছা সম্পর্কিত যে পর্যায়ক্রমিক আয়াতসমূহ এসেছে (সূরা বাকারা আয়াত ২৯-৩০) তাদের প্রেক্ষাপটে সাংঘর্ষিক। পর্যাক্রমে আয়াতে খলিফা সৃষ্টি করার উল্লেখই এটা প্রমাণ করে যে পৃথিবী সৃষ্টির পর খলিফা নিযুক্ত করাটাই ছিল সর্বপ্রথম শর্ত। এখানে খলিফা বলতে তাকে বুঝানো হয়েছে যিনি স্রষ্টার সৃষ্টির মাঝে তার অর্পিত কার্য সম্পাদনে নেতৃত্ব দিবেন। সেখানে আদমকে সৃষ্টির পূর্ব থেকেই অন্য কারো স্থলাভিষিক্ত থাকাটা জরুরি নয়।

«التحرير والتنوير» (1/ 399):

আত তাহরীর ওয়াত তানউয়ীর, ১/৩৯৯, মাক্তাবা শামেলা।

হাদিস শাস্ত্রের ইমাম ইবন আস-স্বালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি) তার উলুমুল হাদিস নামক কিতাব যা "মুকাদ্দিমাহ ইবন আস্ব স্বলাহ" নামেও খ্যাত তাতে বলেছেন,

ومن أجلها وأكثرها فوائد كتاب " الاستيعاب " لابن عبد البر لولا ما شانه به من شجر بين الصحابة وحكاياته عن الأخباريين لا المحدثين. وغالب إيراده كثيرا مما على الأخباريين الإكثار والتخليط فيما يروونه

ইবন আব্দুল বার এর "আল ইতিসাব" গ্রন্থটি থেকে খুবই উপকৃত হওয়া যেতো, কিন্তু তিনি সাহাবীদের মধ্যে সংঘটিত বহু দ্বন্দ্ব-মতবিরোধের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের থেকে বর্ণনা না করে, ইতিহাসবিদদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইতিহাসবিদরা সাধারণত তাদের বর্ণনাকে অতিরঞ্জিত করে ও সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায়।

মুকাদ্দিমাহ ইবন আস সলাহ, ৩৯৫ পৃ:

শাইখ ড. সুলায়মান আর রুহাইলি (হাফি:) বলেন,

إلا أن روايات الجميع في التاريخ ينبغي أن تخضع لمنهج الجرح والتعديل سنداً ومتناً لتحديد ما يثبت منها وما يمكن التساهل في قبوله ورد ما عدا ذلك

ইতিহাসের কিতাবে থাকা প্রত্যেকটি বর্ণনার সনদ ও মতন কে জারাহ-তাদীল এর মানহাজের আলোকে পর্যালোচনা করতে হবে যাতে সেখানের কোন বর্ণনাটি সহীহ এবং কোনটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করতে হবে এবং কোনটি বর্জন করতে হবে তা সনাক্ত করা যায়।

আত তারীখু ইনদা ইবনে আবি শাইবাহ, পৃষ্ঠা ৫৭৩

ড. আকরাম দ্বিয়া আল উমারি (হাফি:) ইসলামী ইতিহাসের উপর মদিনা ভার্সিটিতে একজন প্রভাষক পদে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি বলেছেন,

كما أن استعمال قواعد المصطلح في نقد الروايات التأريخية ينبغي أن يشتد على قدر تعلق المادة بالأحداث الخطيرة التي تؤثر فيها الهواء ويشتط عندها الرواة كأن تكون الروايات لها مساس بالعقائد كالفتن التي حدثت في جيل الصحابة أو ذات صلة بالأحكام الشرعية كالسوابق الفقهية فإن التشدد في قبولها يجعل استعمال قواعد نقد الحديث بدقة أمرا مقبولا

এছাড়াও ঐতিহাসিক বর্ণনার সনদ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তার উপর হাদিসের উছুলসমূহের কঠোর প্রয়োগ তখনই করা উচিত যখন তা গুরুতর কোনো ঘটনার সাথে সম্পর্কিত থাকে, যা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে যখন বিষয়টি আকীদার সাথে সম্পর্কিত তথা সাহাবীদের যুগে সংঘটিত কোনো দ্বন্দ্ব বা শরীয়তের বিধিবিধান সম্পর্কিত কোনো ফিকহী বিষয় হয়, তখন সনদের বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনা করা অত্যাবশ্যক। তখন বর্ণনাটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণের জন্য কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করতে হাদিসের উছুলকে সেখানে ব্যবহার করাটাও যুক্তিযুক্ত হয়।

বুহুছ ফিত তারিখ, ৭৫ পৃষ্ঠা।

অতএব এসব ভোগাস গ্রিক ও পারস্যদের কুফরি
কল্পকাহিনীকে ইসরাঈলি বর্ণনা বলে চালানোটাও বিস্তর অপরাধ। আর ইতিহাসবিদগণ বিভিন্ন বর্ণনা তাদের কিতাবাদি জমা করেন। অতএব, শরীয়তের সাথে জড়িত হলে সেগুলোকে অবশ্যই তাহকীক করে গ্রহণ করতে হবে।

লেখা: সাফিন চৌধুরী।
 

Create an account or login to comment

You must be a member in order to leave a comment

Create account

Create an account on our community. It's easy!

Log in

Already have an account? Log in here.

Total Threads
13,354Threads
Total Messages
17,219Comments
Total Members
3,683Members
Latest Messages
rabc1Latest member
Top