যারা হিদায়াত পায়, তারা সাধারণত দুই ধরনের হয়।
একদল এমন পরিবেশে বড় হয়, যেখানে দীনের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই।
আরেকদল জন্ম নেয় এমন পরিবারে, যেখানে পুরো ঘরটাই দ্বীনের সুবাসে ভরা।
প্রথম শ্রেণির মানুষগুলো যেন মুজাহিদ—
নিজ নফস, সমাজ আর ফিতনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যায়।
আর দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষগুলো মুহাজির—
দীনের ছায়ায় থেকেও অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখার সংগ্রামে ব্যস্ত।
তবে উভয়ের জন্যই রয়েছে রবের বিশেষ রহমত।
কারণ আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকেই পরীক্ষা করেন।
রব্বে করীমের ঘোষণা—
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা দেন না।”
প্রিয় কাউকে কি কখনো একা ছেড়ে দেওয়া হয়?
না, কখনোই না।
অনেক সময় হিদায়াতের শুরুটা হয় এক ধরনের নীরব একাকিত্ব দিয়ে।
মানুষের ভিড়ে থেকেও হৃদয় কেমন যেন অচেনা লাগে।
আগের মতো সবকিছু ভালো লাগে না,
হাসির মাঝেও এক শূন্যতা কাজ করে,
গুনাহের পরিবেশে দমবন্ধ লাগে,
আর নির্জনতায় রবকে খুঁজতে ইচ্ছে করে।
তিক্ত কথা শুনেও প্রতিউত্তরে কঠোর না হওয়া,
চোখ ভিজে উঠলেও হৃদয়কে নরম রাখা,
গুনাহের দরজা খোলা থাকলেও আল্লাহর ভয়ে ফিরে আসা,
নামাজে অমনোযোগী হয়ে গেলে ভেতরটা কেঁপে ওঠা,
কারো কষ্টে নিরবে দোয়া করা—
এসবই হিদায়াতের সূক্ষ্ম আলামত।
সবাই তা বুঝতে পারে না।
কারণ হিদায়াত শব্দ করে আসে না,
এটি নিঃশব্দে হৃদয়ে নেমে আসে।
কখনো মানুষ চারপাশে শুধু অন্ধকারই দেখে,
তবুও সেই সময়টাতেই রব সবচেয়ে কাছে থাকেন।
শুধু দরকার ধৈর্য, তাওবা আর ফিরে আসার ইচ্ছা।
হিদায়াত কেবল জ্ঞানের নাম নয়—
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হৃদয়ে নেমে আসা এক বিশেষ রহমত।
যে ব্যক্তি সত্যকে খোঁজে,
নিজেকে বদলাতে চায়,
ভুল বুঝে তাওবা করে—
আল্লাহ তার জন্য হিদায়াতের দরজা খুলে দেন।
“আর যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত আরও বৃদ্ধি করে দেন।”
— Al-Quran 47:17
কখনো কখনো আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে এমন কিছু নীরব পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন,
যার ব্যথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সে না কাউকে পুরোটা বুঝিয়ে বলতে পারে,
না কারো কাছে নিজেকে ব্যাখ্যা করার মতো উপযুক্ত শব্দ খুঁজে পায়।
চারপাশে মানুষ থাকলেও ভেতরে ভেতরে সে একাই যুদ্ধ করে যায়।
তখন গভীর রাতে সিজদাহ আর অশ্রুই হয়ে ওঠে তার একমাত্র আশ্রয়।
আর হয়তো এভাবেই আল্লাহ তাঁর বান্দাকে দুনিয়ার উপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেন।
...
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি,
যেখানে ফিতনা প্রতিদিন ঈমানকে আঘাত করছে।
তবুও একজন মুমিন হার মানে না।
কারণ সে জানে—
ঈমান আঁকড়ে রাখতে হলে প্রয়োজন বিশুদ্ধ আকীদাহ, ধৈর্য আর ধারাবাহিক ইবাদাহ।
অন্ধকার রাতেই যেমন তারাগুলো সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে,
ঠিক তেমনি ফিতনার এই যুগে হিদায়াতপ্রাপ্ত হৃদয়গুলোও আলাদা করে আলো ছড়ায়।
নিজেদের ভেতরের অনীহা, কষ্ট, অপারগতা কিংবা দুনিয়ার তোয়াক্কা না করেই তারা নিজেকে সেই আলোর দিকে গড়ে তোলে।
কারণ হিদায়াত ছাড়া অন্ধকারে আলো অনুভব করা যায় না।
তখন মানুষ নিজেকে আলোয় নয়, বরং অন্ধকারের মাঝেই হারিয়ে যেতে দেখে।
...
আর এই নীরব আলোকিত পথের প্রথম সিঁড়ি হলো—
একনিষ্ঠতার সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
কারণ নামাজ ছাড়া হিদায়াতের পথ সুদৃঢ় হয় না।
তাই যখন কেউ নামাজ থেকে দূরে সরে যায়,
তখন তার হিদায়াত পাওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়…
Noor unseen library.
27-05-2026
একদল এমন পরিবেশে বড় হয়, যেখানে দীনের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই।
আরেকদল জন্ম নেয় এমন পরিবারে, যেখানে পুরো ঘরটাই দ্বীনের সুবাসে ভরা।
প্রথম শ্রেণির মানুষগুলো যেন মুজাহিদ—
নিজ নফস, সমাজ আর ফিতনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যায়।
আর দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষগুলো মুহাজির—
দীনের ছায়ায় থেকেও অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখার সংগ্রামে ব্যস্ত।
তবে উভয়ের জন্যই রয়েছে রবের বিশেষ রহমত।
কারণ আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকেই পরীক্ষা করেন।
রব্বে করীমের ঘোষণা—
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা দেন না।”
প্রিয় কাউকে কি কখনো একা ছেড়ে দেওয়া হয়?
না, কখনোই না।
অনেক সময় হিদায়াতের শুরুটা হয় এক ধরনের নীরব একাকিত্ব দিয়ে।
মানুষের ভিড়ে থেকেও হৃদয় কেমন যেন অচেনা লাগে।
আগের মতো সবকিছু ভালো লাগে না,
হাসির মাঝেও এক শূন্যতা কাজ করে,
গুনাহের পরিবেশে দমবন্ধ লাগে,
আর নির্জনতায় রবকে খুঁজতে ইচ্ছে করে।
তিক্ত কথা শুনেও প্রতিউত্তরে কঠোর না হওয়া,
চোখ ভিজে উঠলেও হৃদয়কে নরম রাখা,
গুনাহের দরজা খোলা থাকলেও আল্লাহর ভয়ে ফিরে আসা,
নামাজে অমনোযোগী হয়ে গেলে ভেতরটা কেঁপে ওঠা,
কারো কষ্টে নিরবে দোয়া করা—
এসবই হিদায়াতের সূক্ষ্ম আলামত।
সবাই তা বুঝতে পারে না।
কারণ হিদায়াত শব্দ করে আসে না,
এটি নিঃশব্দে হৃদয়ে নেমে আসে।
কখনো মানুষ চারপাশে শুধু অন্ধকারই দেখে,
তবুও সেই সময়টাতেই রব সবচেয়ে কাছে থাকেন।
শুধু দরকার ধৈর্য, তাওবা আর ফিরে আসার ইচ্ছা।
হিদায়াত কেবল জ্ঞানের নাম নয়—
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হৃদয়ে নেমে আসা এক বিশেষ রহমত।
যে ব্যক্তি সত্যকে খোঁজে,
নিজেকে বদলাতে চায়,
ভুল বুঝে তাওবা করে—
আল্লাহ তার জন্য হিদায়াতের দরজা খুলে দেন।
“আর যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত আরও বৃদ্ধি করে দেন।”
— Al-Quran 47:17
কখনো কখনো আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে এমন কিছু নীরব পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন,
যার ব্যথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
সে না কাউকে পুরোটা বুঝিয়ে বলতে পারে,
না কারো কাছে নিজেকে ব্যাখ্যা করার মতো উপযুক্ত শব্দ খুঁজে পায়।
চারপাশে মানুষ থাকলেও ভেতরে ভেতরে সে একাই যুদ্ধ করে যায়।
তখন গভীর রাতে সিজদাহ আর অশ্রুই হয়ে ওঠে তার একমাত্র আশ্রয়।
আর হয়তো এভাবেই আল্লাহ তাঁর বান্দাকে দুনিয়ার উপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেন।
...
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি,
যেখানে ফিতনা প্রতিদিন ঈমানকে আঘাত করছে।
তবুও একজন মুমিন হার মানে না।
কারণ সে জানে—
ঈমান আঁকড়ে রাখতে হলে প্রয়োজন বিশুদ্ধ আকীদাহ, ধৈর্য আর ধারাবাহিক ইবাদাহ।
অন্ধকার রাতেই যেমন তারাগুলো সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে,
ঠিক তেমনি ফিতনার এই যুগে হিদায়াতপ্রাপ্ত হৃদয়গুলোও আলাদা করে আলো ছড়ায়।
নিজেদের ভেতরের অনীহা, কষ্ট, অপারগতা কিংবা দুনিয়ার তোয়াক্কা না করেই তারা নিজেকে সেই আলোর দিকে গড়ে তোলে।
কারণ হিদায়াত ছাড়া অন্ধকারে আলো অনুভব করা যায় না।
তখন মানুষ নিজেকে আলোয় নয়, বরং অন্ধকারের মাঝেই হারিয়ে যেতে দেখে।
...
আর এই নীরব আলোকিত পথের প্রথম সিঁড়ি হলো—
একনিষ্ঠতার সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
কারণ নামাজ ছাড়া হিদায়াতের পথ সুদৃঢ় হয় না।
তাই যখন কেউ নামাজ থেকে দূরে সরে যায়,
তখন তার হিদায়াত পাওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়…
Noor unseen library.
27-05-2026