Altruistic
Uploader
Salafi User
- Joined
- Nov 17, 2023
- Threads
- 414
- Comments
- 533
- Solutions
- 1
- Reactions
- 13,612
- Thread Author
- #1
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। আসমান ও জমীনে তাঁর কোন শরীক নেই । আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তার পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ নাবী। তাঁর (মুহাম্মাদ ﷺ) উপর, তাঁর পরিবার বর্গের উপর এবং তাঁর সকল সাহাবার উপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত সদা-সর্বদা অজস্র সালাম ও শামিত্মর ধারা বর্ষিত হোক।
মূলপাঠ:-কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন হলো মানুষের জীবন পরিচালনা করার শরয়ী পদ্ধতি মূলক অলৌকিক গ্রন্থ। কুরআনের উদ্দেশ্য হলো মানব জাতির হিদায়াত। তাই কুরআন সর্বদা মানুষের বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে। মানুষ যা দেখতে পায় এবং যা কিছু অনুধাবন করতে পারে সেই বিষয়ে কুরআন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের হিদায়েতর পথ দেখায়। তাই কুরআন যখন কোন কথা বলে মানব জাতির উদ্দেশ্যে তখন কুরআন তাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন যোগ্য দৃষ্টিতে বিষয়টি তুলে ধরে। যেমন:- কুরআন বলে যে, সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদয় হয় আবার অস্ত্র যায়। এসব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে সূর্য কখনোও বাস্তবে উদিতও হয় না এবং অস্তও যায় না। সে রূপ কুরআনের কিছু আয়াত বলে যে পৃথিবী কার্পেটের মতো সমতল। কুরআন এটা বলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কারণ মানুষ যা কিছু বুঝে কুরআন সেই দৃষ্টিতে তার বর্ণনা দেয়। ১৪০০ বছর পূর্বে যদি কুরআন বলতো যে পৃথিবী গোলাকার বা এই বিষয় ও সেই বিষয় তাহলে, তখন কার মানুষ নির্দ্বিধায় কুরআন কে অশ্বিকার করতো কারণ সেই যুগে না ছিল কোন স্যাটেলাইট আর না ছিল কোন উন্নত প্রযুক্তি। সেয় যুগে যদি আরবের বলা হয় যে, পৃথিবী গোলাকার তাহলে কুরআন কে কেউ ঐশী গ্রন্থ বিশ্বাস করতো না কারণ তারা নিজেদের স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে যে পৃথিবী সুন্দর করে বিছানো। আখেরি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মানুষ কে বলতো পৃথিবী গোলাকার তাহলে সকল আরবই তাকে অশ্বিকার করতো। যদি কাউকে বলা হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত আসমানের উপর গিয়েছিল তাহলে এটা তাও বিশ্বাস করার যোগ্য কারণ সাত আসমান কোন মানুষ দেখেনি এবং দেখতে কেমন কোন মানুষ জানেনা। মোটা না লোম্বা না অন্যকিছু। এই সম্পর্কে কোন মানুষের কোন ধারণা নেই। তাই যেহেতু মানুষ নিজের চোখে আসমান দেখেনি তাই তারা সাত আসমানের বর্ণনা কারির কথা শিকার না করলেও অশ্বিকারও করতে পারবে না। কারণ অশ্বিকার করার জন্য সেই বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন কিন্তু মানুষ প্রথম অসমানও দেখেনি বা তার দরজাও দেখেনি। আবার সিদরাতুল মুনতাহাও দেখেনি আবার কুল গাছও দেখেনি। মানুষ তাই কিভাবে অশ্বিকার করবে যে কুল গাছ নেই। কারণ সে কুলগাছ দেখেনি। তাই হতে পারে এটা সত্য অথবা অসত্য এবং মানুষের কোন ধারণা নেই কুলগাছ সম্পর্কে। কিন্তু যদি ১৪০০ বছর পূর্বে বলা হতো পৃথিবী গোলাকার তাহলে মানুষ বলতো যে, আমাদের কি পাগল পেয়েছো! আমরা নিজেরাই দেখছি পৃথিবী সমতল আর তুমি বলছো গোলাকার। তাই মানুষরা এটা বলা মাত্রই অশ্বিকার করে দিত কারণ বাস্তবিক অর্থেই তারা দেখছে পৃথিবী সমতল এবং বিছানো। তাই কুরআনের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ও অনুধাবনের আলোকেই পৃথিবীকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। কুরআনের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, মানুষ যে বাস্তবিক বিষয় দেখে ও অনুধাবন করে তাকে এমন ভাবে বর্ণনা করা যাতে তারা তা থেকে উপকার গ্রহণ করতে না পারে। মানুষ কে যদি বলা হও পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে তাহলে এটা তাদের কাছে একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় কারণ মানুষ তো আরব থেকে মিশর দেখতে পারে না তাহলে সে পুরো পৃথিবীর আকৃতি কিভাবে দেখবে ও অনুধাবন করবে । তাই কুরআন বাস্তবিক দেখা যায় এমন বিষয় কে সর্বদা মানুষের বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে যেন মানুষ তা বুঝতে পারে। কুরআন যেখানে বলে সূর্য উদয় হয় বা অস্ত যায় সেখানে কুরআন মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বলে না বরং তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। বাস্তবে কখনো সূর্য উদয় বা অস্ত যায় না বরং ঘুড়তেই থাকে এবং এটা আমরা চাইলেই প্রমাণ করতে পারি। কুরআন যেখানে বলে যে, পৃথিবীকে কার্পেটের মতো বিছানো হয়েছে তা মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বলা হয় না বরং মানুষের বাস্তবিক উপলব্ধির আলোকে বলা হয়। বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি কেমন তা নিয়ে কুরআনে বিন্দু পরিমাণ কিছু বলা হয়নি। এরূপ চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি ইত্যাদি যে সকল বিষয় মানুষ বাস্তবিক দেখে থাকে তাকে কুরআন মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বর্ণনা করে না বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। তাই কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং মানুষের হিদায়াতের মহাগন্থ।
ডিবেট:-
এবার এক সমতল বাদীর সাথে কিছু মতোবিনিময় উল্লেখ করা হলো।
সমতল বাদী:- (( এক সমতল বাদী অবজ্ঞা শুরে বলছে)) গোল্লাবাদীরা এবার গেল রে...ইহ ইহ ইহ..।
উত্তর:- জ্ঞানপাপী। আগে বলো যে, সূর্য কি উদিত হয়? কুরআনুল কারিমের ৩ নম্বর পারার ২ নম্বর পৃষ্ঠায় ইব্রাহিম আঃ ফেরাউন কে চ্যালেঞ্জ করেছিল যে, আল্লাহ সূর্য পূর্ব দিক হতে উদিত করেন তুমি পশ্চিম দিক হতে কর। অনুরূপভাবে সুরা কাহাফে জুলকারনাইন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন যে, অতঃপর সে সূর্য উদয়ের স্হলে পৌঁছল। এখন তোমার মতো মূর্খদের কাছে একটি প্রশ্ন যে, সূর্য কি উদিত হয়? আশাকরি উত্তর দিবে মূর্খ। আমি বিশ্বাস করি কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে কোন কিছু বলা হয়নি এবং এটা মোটা নাকি চ্যাপ্টা তাতে কিছু যায় আসে না। এখন সাইন্স যা বলে তাতে বিশ্বাস করতে বাঁধা নেই কারণ কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে মোটা-পাতলা কিছুই বলা হয়নি। কিছু মূর্খ বলে যে, কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আছে যে নক্ষত্র পৃথিবীতে খশে পড়বে। এটা প্রমাণ করে পৃথিবী নক্ষত্রের চেয়ে বড়। সেই মূর্খরা একটি বিষয় ভুলে যায় যে, আল্লাহ চাইলে সব করতে পারে। সেই মূর্খদের কাছে প্রশ্ন যে, আল্লাহ চাইলে বড় সৃষ্টিকে ছোট সৃষ্টির মধ্যে ঢুকাতে পারে কি না? এইসব মূর্খদের কথা এরূপ যে, আল্লাহ বলেছেন তার হাত, পা ইত্যাদি আছে। আর যখন হাত পা আছে তার দেহ থাকতেই হবে। যেমন এই মূর্খরা বলে যে, নক্ষত্র পৃথিবীতে খশে পড়লে পৃথিবীকে বড় হতেই হবে। তাহলে এই মূর্খদের আর কি বলবো। আমি পৃথিবীকে গোলাকার মনে করি সাইন্সের উপর ভিত্তি করে কারণ কুরআনের কোথাও পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি বরং মানুষ যা কিছু দেখে তার আলোকে। অর্থাৎ কুরআন মানুষ যা কিছু দৃষ্টি সরাসরি দেখে, সেই দৃষ্টিতে বর্ণনা করে। এখানে পৃথিবীর মোটা-চ্যাপ্টা হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। যদি এগুলোকে তোমাদের মত মূর্খ রা পৃথিবীর আকৃতি সাথে তুলনা করে তাহলে, সূর্য উদয় নিয়ে বলবে মূর্খ।
সমতোল বাদী:- আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাবঃ
সূর্য কি উদিত হয়?
উত্তরঃ অবশ্যই হ্যাঁ। কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্টভাবে নস এসেছে সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায়।
এসম্পর্কিত একটি হাদিসঃ
عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الشَّمْسَ تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَامِيَةٍ، فَتَسْجُدُ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَإِذَا حَانَ طُلُوعُهَا اسْتَأْذَنَتْ فَيُؤْذَنُ لَهَا"
আবু যার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
নিশ্চয় সূর্য অস্ত যায় একটি গরম পানির ঝর্ণায় অতঃপর আরশের নিচে সিজদা করে। যখন তার উদয়ের সময় হয়, তখন সে অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়।
( সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৯৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯ )
...
এখানে অস্তমিত হওয়া এবং উঠার কথা এসেছে।
আমরা উক্ত হাদীস বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করি যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,আমরা তা নির্দ্বিধায় সত্যায়ন করি, জাহমি মু'তাযিলা দার্শনিক মুতাকাল্লিমদের মতো কোনো তাও'য়ীল ব্যতিরেকেই।
...
এবার আসি আপনার সে প্রশ্নে, আপনি বলেছেন পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি, তাই আপনি বিজ্ঞানের কথাই বিশ্বাস করে বলেন পৃথিবী গোল।
এর জবাব আমার পোস্টে দেওয়া আছে তা দেখে আসতে পারেন, সেখানে ইমাম কুরতুবী রহঃ এর মাশহুর তাফসিরের কিতাব থেকে তার ক্বউল এনে দেখিয়েছি কুরআনের ঐসকল আয়াত শুধু সমতলে বিছানো পৃথিবীই প্রমাণ করেনা বরং যারা গোল আক্বীদাহয় বিশ্বাসি তাদের খন্ডন করে।((এখানে একটি লিংক ছিল)))
জবাব সমাপ্ত, আলহামদুলিল্লাহ।
উত্তর:- হাহাহা..। আল্লাহর কসম এটা বাস্তব সত্য যে সূর্য অস্ত যায় না এবং উদিত হয় না। এর প্রমাণ হলো পৃথিবীর সকল দেশে ২ জন করে তোমার প্রতিনিধি নিযুক্ত কর এবং মোবাইলের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডের খবর নাও। দেখবে সূর্য পৃথিবীর কোথাও না কোথাও আছে। তাই এটা মিথ্যা। এখন প্রশ্ন হলো যে, তাহলে কুরআন কি মিথ্যা বলছে? উত্তর হলো, কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন মানুষের উপলব্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। সূর্য বলে বাস্তবেই উদিত হয় ও অস্ত যায়..হাহাহা..। আর হ্যাঁ।তোমাকে উসূল সম্পর্কে আরও পড়াশোনা করা প্রয়োজন। তুমি যে বলছো যে, কুরআন ও হাদীসের মধ্যে যা এসেছে তা আমরা বিশ্বাস করি কিন্তু তাবিল করি না। এটা তখন করতে হয় যখন তুমি প্রকৃত ব্যাপার না জানো। কিন্তু যখন তুমি কোন কিছুর প্রকৃত ব্যাপার জানো তাহলে তার তাবিল করা সর্বোত্তম। যেমন:- আল্লাহ তার কুরআনের এক স্হানে বলেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষ কে হেদায়েত করেন। আমরা এটা বিশ্বাস করি। কিন্তু যখন অপর স্পষ্ট প্রমাণ আসে তখন আপনি কি করবেন? কারণ আল্লাহ নিজেই আবার বলেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি কে যে, তুমি হেদায়েত করতে পারবে না। এখন তুমি কোন আয়াতকেই লাফজি অর্থে নিতে পারবে না এবং এখানে তাবিল করে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সর্বোত্তম এবং দলিল সমন্বয় করার ৪ টি নীতিমালার সর্বোত্তম। ঠিক মুসলিমদের ইজমা রয়েছে যে, সূর্য বাস্তবিক ভাবে কখনো উদিত হয় না বা অস্ত যায় না।ইজমা একটি শরিয়তের দলিল। তাই এখানে তাবিল করা সর্বাত্তম এবং তাবিল না করা জ্ঞানহীনতার পরিচয়। তুমি উসুল সম্পর্কে আরও ভালো করে জানো। এইসব ফালতু পেজ বাদ দিয়ে আগে পড়াশোনা কর।
সমতোল বাদিদের কাছে আর কোন উত্তর নেই কারণ, সমতল বাদীরা যদি শিকার করে যে, আল্লাহ বলেছেন সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদয় হয় তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তাহলে তাদের কে এটা মানতে হবে যে, আল্লাহ চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন এবং যা মানুষ দৃষ্টি দ্বারা দেখে তা আসলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কুরআন আলোচনা করা হয়েছে তাহলে, কুরআন ও সাইন্সের মধ্যে কোন বিরোধ থাকলো না বরং দুজনই আপন আপন যায়গায় সঠিক। আর যদি তারা কুরআন ও হাদীসের লাফজি অর্থ গ্রহণ করে এবং তাবিল না করে তাহলে, এর মতো বাস্তব মূর্খতা ও মিথ্যা কি হবে! কারণ সূর্য কখনোও বাস্তবে উদয় ও অস্ত যায় না বরং তা ২৪ ঘন্টায় ঘুড়তে থাকে। তখন সাধারণ মানুষও সমতল বাদীদের উপর হাসবে।
এখানে আরো একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন যে, জ্ঞান মূলত ২ প্রকার। (১) শরয়ী জ্ঞান (২) বৈশ্বয়ীক বা জাগতিক জ্ঞান।
(১) শরয়ী জ্ঞানে সর্বদা পূর্ববর্তী সালাফদের অনুসরণ করতে হবে কারণ, কুরআন ও হাদীস ১৪০০ বছর ধরে একই। কুরআন ও হাদীস কোন পরিবর্তনশীল জ্ঞান নয়। তাই এই বিষয় সম্পর্কে পূর্ববর্তী আলেমরা বেশি অভিজ্ঞ কারণ তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বা সাহাবাদের থেকে কুরআন হাদীস শিখেছে।
(২) জাগতিক জ্ঞান হলো যার জন্য কুরআন ও হাদীসের দরকার হয় না বরং মানুষ নিজেদের চেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমেই তার বিষয় জানতে পারে। জাগতিক জ্ঞানে সর্বদা পরবর্তী সালাফদের অনুসরণ করা হবে কারণ জাগতিক বিষয় পরিবর্তনশীল। জাগতিক বিষয় অল্প অল্প করে পরিবর্তন ও উন্নত হতেই থাকবে। পূর্ববর্তী সালাফরা তাদের জাগতিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে যে বিষয়টি যানতো না তা পরবর্তী সালাফরা উন্নয়নের ধারার মাধ্যমে জানতে পারে। তাই জাগতিক জ্ঞান সম্পর্কে সর্বদা পরবর্তী সালাফদের অনুসরণ করতে হবে কারণ উন্নয়নের ধারার কারনে পরবর্তীদের কাছে বিশ্ব জগতের বিভিন্ন রাজ খুলতে থাকে। আর যেহেতু জাগতিক জ্ঞান অল্প অল্প করে বৃদ্ধি পায় সেই কারণে পরবর্তী সালাফদের কাছে জাগতিক জ্ঞানের খুঁটিনাটি সম্পর্কে পূর্ববর্তী সালাফদের চেয়ে বেশি তথ্য থাকে। তাই জাগতিক জ্ঞানের বিষয়ে পরবর্তী সালাফদের অনুসরণ করতে হবে।
উপসংহার:- কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন মানুষের জীবন বিধান। কুরআন মানুষের বুঝার সুবিধার্থে দৃশ্যমান বিষয়াবলী তাদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই আলোচনা করে। কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর মূল আকৃতি গোলাকার না সমতল তা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি বরং মানুষের বাস্তবিক উপলব্ধির আলোকে আলোচনা করা হয়েছে। তাই বিজ্ঞান এখন বা ভবিষ্যতে পৃথিবীকে মোটা ফোটা যায় বানায়ে ফেলুক তাতে কুরআনের বিন্দু পরিমাণ যায় আসে না বরং কুরআন এই বিষয়ে নিরব। তাই এই বিষয় নিয়ে এখন বা ভবিষ্যতে কুরআনের উপর বিশ্বাস অমুসলিমদের আক্রমণ করা তাদের মূর্খতার পরিচয় ছাড়া আর কিছুই না। পরিশেষে আল্লাহ যেন সবাই কে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করেন। আমিন।
মূলপাঠ:-কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন হলো মানুষের জীবন পরিচালনা করার শরয়ী পদ্ধতি মূলক অলৌকিক গ্রন্থ। কুরআনের উদ্দেশ্য হলো মানব জাতির হিদায়াত। তাই কুরআন সর্বদা মানুষের বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে। মানুষ যা দেখতে পায় এবং যা কিছু অনুধাবন করতে পারে সেই বিষয়ে কুরআন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের হিদায়েতর পথ দেখায়। তাই কুরআন যখন কোন কথা বলে মানব জাতির উদ্দেশ্যে তখন কুরআন তাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন যোগ্য দৃষ্টিতে বিষয়টি তুলে ধরে। যেমন:- কুরআন বলে যে, সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদয় হয় আবার অস্ত্র যায়। এসব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে সূর্য কখনোও বাস্তবে উদিতও হয় না এবং অস্তও যায় না। সে রূপ কুরআনের কিছু আয়াত বলে যে পৃথিবী কার্পেটের মতো সমতল। কুরআন এটা বলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কারণ মানুষ যা কিছু বুঝে কুরআন সেই দৃষ্টিতে তার বর্ণনা দেয়। ১৪০০ বছর পূর্বে যদি কুরআন বলতো যে পৃথিবী গোলাকার বা এই বিষয় ও সেই বিষয় তাহলে, তখন কার মানুষ নির্দ্বিধায় কুরআন কে অশ্বিকার করতো কারণ সেই যুগে না ছিল কোন স্যাটেলাইট আর না ছিল কোন উন্নত প্রযুক্তি। সেয় যুগে যদি আরবের বলা হয় যে, পৃথিবী গোলাকার তাহলে কুরআন কে কেউ ঐশী গ্রন্থ বিশ্বাস করতো না কারণ তারা নিজেদের স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে যে পৃথিবী সুন্দর করে বিছানো। আখেরি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মানুষ কে বলতো পৃথিবী গোলাকার তাহলে সকল আরবই তাকে অশ্বিকার করতো। যদি কাউকে বলা হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত আসমানের উপর গিয়েছিল তাহলে এটা তাও বিশ্বাস করার যোগ্য কারণ সাত আসমান কোন মানুষ দেখেনি এবং দেখতে কেমন কোন মানুষ জানেনা। মোটা না লোম্বা না অন্যকিছু। এই সম্পর্কে কোন মানুষের কোন ধারণা নেই। তাই যেহেতু মানুষ নিজের চোখে আসমান দেখেনি তাই তারা সাত আসমানের বর্ণনা কারির কথা শিকার না করলেও অশ্বিকারও করতে পারবে না। কারণ অশ্বিকার করার জন্য সেই বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন কিন্তু মানুষ প্রথম অসমানও দেখেনি বা তার দরজাও দেখেনি। আবার সিদরাতুল মুনতাহাও দেখেনি আবার কুল গাছও দেখেনি। মানুষ তাই কিভাবে অশ্বিকার করবে যে কুল গাছ নেই। কারণ সে কুলগাছ দেখেনি। তাই হতে পারে এটা সত্য অথবা অসত্য এবং মানুষের কোন ধারণা নেই কুলগাছ সম্পর্কে। কিন্তু যদি ১৪০০ বছর পূর্বে বলা হতো পৃথিবী গোলাকার তাহলে মানুষ বলতো যে, আমাদের কি পাগল পেয়েছো! আমরা নিজেরাই দেখছি পৃথিবী সমতল আর তুমি বলছো গোলাকার। তাই মানুষরা এটা বলা মাত্রই অশ্বিকার করে দিত কারণ বাস্তবিক অর্থেই তারা দেখছে পৃথিবী সমতল এবং বিছানো। তাই কুরআনের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ও অনুধাবনের আলোকেই পৃথিবীকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। কুরআনের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, মানুষ যে বাস্তবিক বিষয় দেখে ও অনুধাবন করে তাকে এমন ভাবে বর্ণনা করা যাতে তারা তা থেকে উপকার গ্রহণ করতে না পারে। মানুষ কে যদি বলা হও পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে তাহলে এটা তাদের কাছে একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় কারণ মানুষ তো আরব থেকে মিশর দেখতে পারে না তাহলে সে পুরো পৃথিবীর আকৃতি কিভাবে দেখবে ও অনুধাবন করবে । তাই কুরআন বাস্তবিক দেখা যায় এমন বিষয় কে সর্বদা মানুষের বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে যেন মানুষ তা বুঝতে পারে। কুরআন যেখানে বলে সূর্য উদয় হয় বা অস্ত যায় সেখানে কুরআন মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বলে না বরং তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। বাস্তবে কখনো সূর্য উদয় বা অস্ত যায় না বরং ঘুড়তেই থাকে এবং এটা আমরা চাইলেই প্রমাণ করতে পারি। কুরআন যেখানে বলে যে, পৃথিবীকে কার্পেটের মতো বিছানো হয়েছে তা মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বলা হয় না বরং মানুষের বাস্তবিক উপলব্ধির আলোকে বলা হয়। বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি কেমন তা নিয়ে কুরআনে বিন্দু পরিমাণ কিছু বলা হয়নি। এরূপ চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি ইত্যাদি যে সকল বিষয় মানুষ বাস্তবিক দেখে থাকে তাকে কুরআন মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বর্ণনা করে না বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। তাই কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং মানুষের হিদায়াতের মহাগন্থ।
ডিবেট:-
এবার এক সমতল বাদীর সাথে কিছু মতোবিনিময় উল্লেখ করা হলো।
সমতল বাদী:- (( এক সমতল বাদী অবজ্ঞা শুরে বলছে)) গোল্লাবাদীরা এবার গেল রে...ইহ ইহ ইহ..।
উত্তর:- জ্ঞানপাপী। আগে বলো যে, সূর্য কি উদিত হয়? কুরআনুল কারিমের ৩ নম্বর পারার ২ নম্বর পৃষ্ঠায় ইব্রাহিম আঃ ফেরাউন কে চ্যালেঞ্জ করেছিল যে, আল্লাহ সূর্য পূর্ব দিক হতে উদিত করেন তুমি পশ্চিম দিক হতে কর। অনুরূপভাবে সুরা কাহাফে জুলকারনাইন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন যে, অতঃপর সে সূর্য উদয়ের স্হলে পৌঁছল। এখন তোমার মতো মূর্খদের কাছে একটি প্রশ্ন যে, সূর্য কি উদিত হয়? আশাকরি উত্তর দিবে মূর্খ। আমি বিশ্বাস করি কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে কোন কিছু বলা হয়নি এবং এটা মোটা নাকি চ্যাপ্টা তাতে কিছু যায় আসে না। এখন সাইন্স যা বলে তাতে বিশ্বাস করতে বাঁধা নেই কারণ কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে মোটা-পাতলা কিছুই বলা হয়নি। কিছু মূর্খ বলে যে, কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আছে যে নক্ষত্র পৃথিবীতে খশে পড়বে। এটা প্রমাণ করে পৃথিবী নক্ষত্রের চেয়ে বড়। সেই মূর্খরা একটি বিষয় ভুলে যায় যে, আল্লাহ চাইলে সব করতে পারে। সেই মূর্খদের কাছে প্রশ্ন যে, আল্লাহ চাইলে বড় সৃষ্টিকে ছোট সৃষ্টির মধ্যে ঢুকাতে পারে কি না? এইসব মূর্খদের কথা এরূপ যে, আল্লাহ বলেছেন তার হাত, পা ইত্যাদি আছে। আর যখন হাত পা আছে তার দেহ থাকতেই হবে। যেমন এই মূর্খরা বলে যে, নক্ষত্র পৃথিবীতে খশে পড়লে পৃথিবীকে বড় হতেই হবে। তাহলে এই মূর্খদের আর কি বলবো। আমি পৃথিবীকে গোলাকার মনে করি সাইন্সের উপর ভিত্তি করে কারণ কুরআনের কোথাও পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি বরং মানুষ যা কিছু দেখে তার আলোকে। অর্থাৎ কুরআন মানুষ যা কিছু দৃষ্টি সরাসরি দেখে, সেই দৃষ্টিতে বর্ণনা করে। এখানে পৃথিবীর মোটা-চ্যাপ্টা হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। যদি এগুলোকে তোমাদের মত মূর্খ রা পৃথিবীর আকৃতি সাথে তুলনা করে তাহলে, সূর্য উদয় নিয়ে বলবে মূর্খ।
সমতোল বাদী:- আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাবঃ
সূর্য কি উদিত হয়?
উত্তরঃ অবশ্যই হ্যাঁ। কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্টভাবে নস এসেছে সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায়।
এসম্পর্কিত একটি হাদিসঃ
عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الشَّمْسَ تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَامِيَةٍ، فَتَسْجُدُ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَإِذَا حَانَ طُلُوعُهَا اسْتَأْذَنَتْ فَيُؤْذَنُ لَهَا"
আবু যার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
নিশ্চয় সূর্য অস্ত যায় একটি গরম পানির ঝর্ণায় অতঃপর আরশের নিচে সিজদা করে। যখন তার উদয়ের সময় হয়, তখন সে অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়।
( সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৯৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯ )
...
এখানে অস্তমিত হওয়া এবং উঠার কথা এসেছে।
আমরা উক্ত হাদীস বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করি যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,আমরা তা নির্দ্বিধায় সত্যায়ন করি, জাহমি মু'তাযিলা দার্শনিক মুতাকাল্লিমদের মতো কোনো তাও'য়ীল ব্যতিরেকেই।
...
এবার আসি আপনার সে প্রশ্নে, আপনি বলেছেন পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি, তাই আপনি বিজ্ঞানের কথাই বিশ্বাস করে বলেন পৃথিবী গোল।
এর জবাব আমার পোস্টে দেওয়া আছে তা দেখে আসতে পারেন, সেখানে ইমাম কুরতুবী রহঃ এর মাশহুর তাফসিরের কিতাব থেকে তার ক্বউল এনে দেখিয়েছি কুরআনের ঐসকল আয়াত শুধু সমতলে বিছানো পৃথিবীই প্রমাণ করেনা বরং যারা গোল আক্বীদাহয় বিশ্বাসি তাদের খন্ডন করে।((এখানে একটি লিংক ছিল)))
জবাব সমাপ্ত, আলহামদুলিল্লাহ।
উত্তর:- হাহাহা..। আল্লাহর কসম এটা বাস্তব সত্য যে সূর্য অস্ত যায় না এবং উদিত হয় না। এর প্রমাণ হলো পৃথিবীর সকল দেশে ২ জন করে তোমার প্রতিনিধি নিযুক্ত কর এবং মোবাইলের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডের খবর নাও। দেখবে সূর্য পৃথিবীর কোথাও না কোথাও আছে। তাই এটা মিথ্যা। এখন প্রশ্ন হলো যে, তাহলে কুরআন কি মিথ্যা বলছে? উত্তর হলো, কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন মানুষের উপলব্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। সূর্য বলে বাস্তবেই উদিত হয় ও অস্ত যায়..হাহাহা..। আর হ্যাঁ।তোমাকে উসূল সম্পর্কে আরও পড়াশোনা করা প্রয়োজন। তুমি যে বলছো যে, কুরআন ও হাদীসের মধ্যে যা এসেছে তা আমরা বিশ্বাস করি কিন্তু তাবিল করি না। এটা তখন করতে হয় যখন তুমি প্রকৃত ব্যাপার না জানো। কিন্তু যখন তুমি কোন কিছুর প্রকৃত ব্যাপার জানো তাহলে তার তাবিল করা সর্বোত্তম। যেমন:- আল্লাহ তার কুরআনের এক স্হানে বলেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষ কে হেদায়েত করেন। আমরা এটা বিশ্বাস করি। কিন্তু যখন অপর স্পষ্ট প্রমাণ আসে তখন আপনি কি করবেন? কারণ আল্লাহ নিজেই আবার বলেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি কে যে, তুমি হেদায়েত করতে পারবে না। এখন তুমি কোন আয়াতকেই লাফজি অর্থে নিতে পারবে না এবং এখানে তাবিল করে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সর্বোত্তম এবং দলিল সমন্বয় করার ৪ টি নীতিমালার সর্বোত্তম। ঠিক মুসলিমদের ইজমা রয়েছে যে, সূর্য বাস্তবিক ভাবে কখনো উদিত হয় না বা অস্ত যায় না।ইজমা একটি শরিয়তের দলিল। তাই এখানে তাবিল করা সর্বাত্তম এবং তাবিল না করা জ্ঞানহীনতার পরিচয়। তুমি উসুল সম্পর্কে আরও ভালো করে জানো। এইসব ফালতু পেজ বাদ দিয়ে আগে পড়াশোনা কর।
সমতোল বাদিদের কাছে আর কোন উত্তর নেই কারণ, সমতল বাদীরা যদি শিকার করে যে, আল্লাহ বলেছেন সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদয় হয় তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তাহলে তাদের কে এটা মানতে হবে যে, আল্লাহ চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন এবং যা মানুষ দৃষ্টি দ্বারা দেখে তা আসলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কুরআন আলোচনা করা হয়েছে তাহলে, কুরআন ও সাইন্সের মধ্যে কোন বিরোধ থাকলো না বরং দুজনই আপন আপন যায়গায় সঠিক। আর যদি তারা কুরআন ও হাদীসের লাফজি অর্থ গ্রহণ করে এবং তাবিল না করে তাহলে, এর মতো বাস্তব মূর্খতা ও মিথ্যা কি হবে! কারণ সূর্য কখনোও বাস্তবে উদয় ও অস্ত যায় না বরং তা ২৪ ঘন্টায় ঘুড়তে থাকে। তখন সাধারণ মানুষও সমতল বাদীদের উপর হাসবে।
এখানে আরো একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন যে, জ্ঞান মূলত ২ প্রকার। (১) শরয়ী জ্ঞান (২) বৈশ্বয়ীক বা জাগতিক জ্ঞান।
(১) শরয়ী জ্ঞানে সর্বদা পূর্ববর্তী সালাফদের অনুসরণ করতে হবে কারণ, কুরআন ও হাদীস ১৪০০ বছর ধরে একই। কুরআন ও হাদীস কোন পরিবর্তনশীল জ্ঞান নয়। তাই এই বিষয় সম্পর্কে পূর্ববর্তী আলেমরা বেশি অভিজ্ঞ কারণ তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বা সাহাবাদের থেকে কুরআন হাদীস শিখেছে।
(২) জাগতিক জ্ঞান হলো যার জন্য কুরআন ও হাদীসের দরকার হয় না বরং মানুষ নিজেদের চেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমেই তার বিষয় জানতে পারে। জাগতিক জ্ঞানে সর্বদা পরবর্তী সালাফদের অনুসরণ করা হবে কারণ জাগতিক বিষয় পরিবর্তনশীল। জাগতিক বিষয় অল্প অল্প করে পরিবর্তন ও উন্নত হতেই থাকবে। পূর্ববর্তী সালাফরা তাদের জাগতিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে যে বিষয়টি যানতো না তা পরবর্তী সালাফরা উন্নয়নের ধারার মাধ্যমে জানতে পারে। তাই জাগতিক জ্ঞান সম্পর্কে সর্বদা পরবর্তী সালাফদের অনুসরণ করতে হবে কারণ উন্নয়নের ধারার কারনে পরবর্তীদের কাছে বিশ্ব জগতের বিভিন্ন রাজ খুলতে থাকে। আর যেহেতু জাগতিক জ্ঞান অল্প অল্প করে বৃদ্ধি পায় সেই কারণে পরবর্তী সালাফদের কাছে জাগতিক জ্ঞানের খুঁটিনাটি সম্পর্কে পূর্ববর্তী সালাফদের চেয়ে বেশি তথ্য থাকে। তাই জাগতিক জ্ঞানের বিষয়ে পরবর্তী সালাফদের অনুসরণ করতে হবে।
উপসংহার:- কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন মানুষের জীবন বিধান। কুরআন মানুষের বুঝার সুবিধার্থে দৃশ্যমান বিষয়াবলী তাদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই আলোচনা করে। কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর মূল আকৃতি গোলাকার না সমতল তা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি বরং মানুষের বাস্তবিক উপলব্ধির আলোকে আলোচনা করা হয়েছে। তাই বিজ্ঞান এখন বা ভবিষ্যতে পৃথিবীকে মোটা ফোটা যায় বানায়ে ফেলুক তাতে কুরআনের বিন্দু পরিমাণ যায় আসে না বরং কুরআন এই বিষয়ে নিরব। তাই এই বিষয় নিয়ে এখন বা ভবিষ্যতে কুরআনের উপর বিশ্বাস অমুসলিমদের আক্রমণ করা তাদের মূর্খতার পরিচয় ছাড়া আর কিছুই না। পরিশেষে আল্লাহ যেন সবাই কে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করেন। আমিন।