ভ্রান্তি নিরসন সমতলবাদীদের আল্টিমেট অপারেশন "Operation Dismantling the Flat Earth"

Joined
Nov 17, 2023
Threads
417
Comments
536
Solutions
1
Reactions
13,584
‎সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। আসমান ও জমীনে তাঁর কোন শরীক নেই । আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তার পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ নাবী। তাঁর (মুহাম্মাদ ﷺ) উপর, তাঁর পরিবার বর্গের উপর এবং তাঁর সকল সাহাবার উপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত সদা-সর্বদা অজস্র সালাম ও
‎শামিত্মর ধারা বর্ষিত হোক।


‎মূলপাঠ:-কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন হলো মানুষের জীবন পরিচালনা করার শরয়ী পদ্ধতি মূলক অলৌকিক গ্রন্থ। কুরআনের উদ্দেশ্য হলো মানব জাতির হিদায়াত। তাই কুরআন সর্বদা মানুষের বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে।

‎মানুষ যা দেখতে পায় এবং যা কিছু অনুধাবন করতে পারে সেই বিষয়ে কুরআন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের হিদায়েতর পথ দেখায়। তাই কুরআন যখন কোন কথা বলে মানব জাতির উদ্দেশ্যে তখন কুরআন তাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন যোগ্য দৃষ্টিতে বিষয়টি তুলে ধরে। যেমন:- কুরআন বলে যে, সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদয় হয় আবার অস্ত্র যায়। এসব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে সূর্য কখনোও বাস্তবে উদিতও হয় না এবং অস্তও যায় না। সে রূপ কুরআনের কিছু আয়াত বলে যে পৃথিবী কার্পেটের মতো সমতল। কুরআন এটা বলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কারণ মানুষ যা কিছু বুঝে কুরআন সেই দৃষ্টিতে তার বর্ণনা দেয়।

‎১৪০০ বছর পূর্বে যদি কুরআন বলতো যে পৃথিবী গোলাকার বা এই বিষয় ও সেই বিষয় তাহলে, তখন কার মানুষ নির্দ্বিধায় কুরআন কে অশ্বিকার করতো কারণ সেই যুগে না ছিল কোন উন্নত প্রযুক্তি। সেয় যুগে যদি আরবদের বলা হয় যে, পৃথিবী গোলাকার তাহলে কুরআন কে কেউ ঐশী গ্রন্থ বিশ্বাস করতো না কারণ তারা নিজেদের স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে যে পৃথিবী সুন্দর করে বিছানো।আখেরি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মানুষ কে বলতো পৃথিবী গোলাকার তাহলে সকল আরবই তাকে অশ্বিকার করতো।

‎যদি কাউকে বলা হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত আসমানের উপর গিয়েছিল তাহলে এটা তাও বিশ্বাস করার যোগ্য কারণ সাত আসমান কোন মানুষ দেখেনি এবং দেখতে কেমন কোন মানুষ জানেনা। মোটা না লোম্বা না অন্যকিছু। এই সম্পর্কে কোন মানুষের কোন ধারণা নেই। তাই যেহেতু মানুষ নিজের চোখে আসমান দেখেনি তাই তারা সাত আসমানের বর্ণনা কারির কথা শিকার না করলেও অশ্বিকারও করতে পারবে না। কারণ অশ্বিকার করার জন্য সেই বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন কিন্তু মানুষ প্রথম অসমানও দেখেনি বা তার দরজাও দেখেনি। আবার সিদরাতুল মুনতাহাও দেখেনি আবার কুল গাছও দেখেনি। মানুষ তাই কিভাবে অশ্বিকার করবে যে কুল গাছ নেই। কারণ সে কুলগাছ দেখেনি। তাই হতে পারে এটা সত্য অথবা অসত্য এবং মানুষের কোন ধারণা নেই কুলগাছ সম্পর্কে। কিন্তু যদি ১৪০০ বছর পূর্বে বলা হতো পৃথিবী গোলাকার তাহলে মানুষ বলতো যে, আমাদের কি পাগল পেয়েছো! আমরা নিজেরাই দেখছি পৃথিবী সমতল আর তুমি বলছো গোলাকার। তাই মানুষরা এটা বলা মাত্রই অশ্বিকার করে দিত কারণ বাস্তবিক অর্থেই তারা দেখছে পৃথিবী সমতল এবং বিছানো।

‎তাই কুরআনের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ও অনুধাবনের আলোকেই পৃথিবীকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। কুরআনের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, মানুষ যে বাস্তবিক বিষয় দেখে ও অনুধাবন করে তাকে এমন ভাবে বর্ণনা করা যাতে তারা তা থেকে উপকার গ্রহণ করতে না পারে। মানুষ কে যদি বলা হয় পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে তাহলে এটা তাদের কাছে একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় কারণ মানুষ তো আরব থেকে মিশর দেখতে পারে না তাহলে সে পুরো পৃথিবীর আকৃতি কিভাবে দেখবে ও অনুধাবন করবে? আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে, এবং পৃথিবীর দিকে দেখো কিভাবে তাকে সমতল করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার এই বলা যদি মানুষের বাস্তবিক পর্যাবেক্ষন না হয়ে যদি সম্পূর্ণ পৃথিবীর ভৌগলিক আকৃতি সম্পর্কে হয় তাহলে, এটা একটা অবান্তর কথা কারণ, একজন মানুষ নিজের দৃষ্টি দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে দেখতে পারে না তাহলে, সে সম্পূর্ণ পৃথিবীর আকৃতি কিভাবে দেখবে?তাই কুরআন বাস্তবিক দেখা যায় এমন বিষয় কে সর্বদা মানুষের বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে যেন মানুষ তা বুঝতে পারে।

‎কুরআন যেখানে বলে সূর্য উদয় হয় বা অস্ত যায় সেখানে কুরআন মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বলে না বরং তা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। বাস্তবে কখনো সূর্য উদয় বা অস্ত যায় না বরং ঘুড়তেই থাকে এবং এটা আমরা চাইলেই প্রমাণ করতে পারি। কুরআন যেখানে বলে যে, পৃথিবীকে কার্পেটের মতো বিছানো হয়েছে তা মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বলা হয় না বরং মানুষের বাস্তবিক উপলব্ধির আলোকে বলা হয়। বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি কেমন তা নিয়ে কুরআনে বিন্দু পরিমাণ কিছু বলা হয়নি। এরূপ চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি ইত্যাদি যে সকল বিষয় মানুষ বাস্তবিক দেখে থাকে তাকে কুরআন মহাকাশের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বর্ণনা করে না বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। তাই কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং মানুষের হিদায়াতের মহাগন্থ।


‎এখনও অনেকেই না বুঝে প্রশ্ন করতে পারেন যে, তাহলে কুরআন ও হাদীস এবং সালাফরা যে পৃথিবীকে সমতল এবং সূর্য উদয় ও অস্ত বলেছেন তাহলে তাদের কথার অর্থ কি?

‎উত্তর হলো:- এগুলো ছিল পর্যাবেক্ষনের আলোকে। ১০০% সত্য যে, কুরআন ও হাদীস এবং সালাফরা বলেছেন পৃথিবী সমতল এবং সূর্য উদয় ও অস্ত যায়। যে ব্যক্তি পৃথিবীর সমতল ও সূর্য উদয় ও অস্ত যাওয়াকে অশ্বিকার করে, সে আসলেই কুরআন কে অশ্বিকার করে। কিন্তু কুরআন ও হাদীস কে অশ্বিকার তখন হবে যখন কেউ নিজের দৃষ্টিকেই অশ্বিকার করে। কুরআন ও হাদীস মানুষের পর্যাবেক্ষনের আলোকে আলোচনা করে কোন ভৌগলিক বা মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে না। অর্থাৎ, মানুষ যদি নিজের চোখে দেখার পড়ও সূর্য উদয় ও অস্ত এবং পৃথিবীর সমতল বিশ্বাস না করে তাহলে সে কুরআন ও হাদীস কেউ বিশ্বাস করলো না। কিন্তু মানুষ যদি তা ভৌগলিক বা মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে অশ্বিকার করে তাহলে সে, কুরআন ও হাদীস কে অশ্বিকার করে না কারণ, কুরআনে ও হাদীসের মধ্যে এই ব্যাপারে বিন্দু পরিমাণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

‎এই কথার প্রমাণ হলো যে, কুরআন ও হাদীসের মধ্যে সূর্য উদয় ও অস্ত যায় বলে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে এবং এটা এতটাই স্পষ্ট যে, কোন ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে না এবং একজন বেদুইন যাযাবর নিরক্ষর মানুষও তা বুঝতে পারে। কিন্তু ভৌগলিক ও মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে সূর্য না উদয় হয় আর না অস্ত যায় বরং সূর্য পৃথিবীতে ভৌগলিক ভাবে সবসময় উদিত থাকে। এমন ১ টি সেকেন্ড ও সময় নেই যেখানে সম্পূর্ণ পৃথিবী থেকে সূর্য অস্ত যায়।

‎তাই কুরআন ও হাদীস যে, বলে সূর্য উদয় ও অস্ত যায় তা হলো মানুষের সাধারণ পর্যাবেক্ষন কিন্তু ভৌগলিক ও মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে সূর্য অস্ত যায় না বরং সর্বদা উদয়ীমান থাকে। অর্থাৎ কুরআনের আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাই কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের কোন বিরোধ নেই।

‎আমাদের পরবর্তী সালাফরা অর্থাৎ খালাফরা কুরআন ও হাদীসের মহান পান্ডিত্যের পাশাপাশি পূর্ববর্তী স্বর্ণ যুগের সালাফদের একানিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতেন। খালাফরা তাই জানতেন যে, কুরআন ও হাদীস এবং সালাফরা যে পৃথিবীকে সমতল ও সূর্য উদয় ও অস্ত বলেছেন তা ছিল বাস্তবিক পর্যাবেক্ষনের আলোকে। তা ভৌগলিক ও মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে ছিল না। কুরআন ভৌগলিক বা মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে নিশ্চুপ। তাই খালাফরা বার বার বলেছেন যে, এগুলোর সাথে মহাকাশ বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক নেই কারণ এগুলো ছিল মানুষের সাধারণ পর্যাবেক্ষন। পরবর্তীতে ইসলামের মধ্যে একটি নতুন দল এসেছে যাদের দাবি হলো যে, এগুলোকে ভৌগলিক ও মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে ধরতে হবে। এই নতুন দল মনে করে যে, পরবর্তী সালাফরা অর্থাৎ খালাফরা ছিলেন জ্ঞানহীন পাগল নাউযুবিল্লাহ। তাই খালাফরা কুরআন ও হাদীস এবং পূর্ববর্তী সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারে নি কিন্তু তারা বুঝে নিয়েছে। অথচ এই নতুন দল বুঝেনা যে, তারাই বিভ্রান্তিতে আছে।


‎যেখান থেকে কুরআন-হাদীস এবং সালাফদের মতামতকে পর্যাবেক্ষনের আলোকে না নিয়ে ভৌগলিক ও মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে ফিট কারী সমতল বাদীদের কথা সমাপ্ত হয়, সেখান থেকেই আমাদের জবাব শুরু হয়।

‎কুরআন-হাদীস এবং পূর্ববর্তী সালাফরা ১০০% বলেছেন যে, সূর্য উদয় ও অস্ত যায় এবং পৃথিবী সমতল। কিন্তু প্রশ্ন হলো কিসের আলোকে?

‎তখন উত্তর হবে একটিই যেমন পরবর্তী সালাফরা অর্থাৎ খালাফরা বুঝেছেন এবং উপরে কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণিত করা হয়েছে যে, এগুলো ছিল মানুষের সাধারণ পর্যাবেক্ষনের আলোকে। কোন ভৌগলিক বা মহাকাশ বিজ্ঞানের আলোকে ছিল না। আর আমাদের এসব নব্য ফিতনাবাজ রা কুরআন-হাদীস এবং সালাফদের মতামতকে খালাফদের চেয়ে বেশি বুঝে না। বরং খালাফরা ছিল কুরআন-হাদীস এবং সালাফদের মতামত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং এই নব্য ফিতনাবাজরা একদমই মূর্খ।


‎এখানে আরও একটি উসূল যেনে রাখা সবার জন্য জরুরি যে, যদিও কখনো কুরআন ও হাদীস এমন কোন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয় যা স্পষ্ট। যেমন:- সূর্য উদয় ও অস্ত। তাহলে তোমাকে অবশ্যই বাস্তবতা শিকার করে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে অথবা কুরআন ও হাদীসের লাফজি অর্থের তাবিল করতে হবে। আর এখানে শুধু সমন্বয় নয় বরং কুরআন ও হাদীস বাস্তবিক অর্থেই শুধুমাত্র মানুষের হিদায়াতের জন্য নাযিল হয়েছে এবং মানুষের পর্যাবেক্ষনের আলোকেই আলোচনা করেছে। কুরআন বিজ্ঞানের কঠিন কঠিন গাণিতিক সূত্র শেখাতে নাযিল হয় নি। তাই সর্বদা এই উসূল কে মনে রাখবে। নিচে এক সমতল বাদী মূর্খের সাথে আলোচনা উল্লেখ করা হলো। যে ছিল উসূল সম্পর্কে নিহায়ত জাহেল।


‎ডিবেট:-

‎সমতল বাদী:- (( এক সমতল বাদী অবজ্ঞা শুরে বলছে)) গোল্লাবাদীরা এবার গেল রে...ইহ ইহ ইহ..।

‎উত্তর:- জ্ঞানপাপী। আগে বলো যে, সূর্য কি উদিত হয়? কুরআনুল কারিমের ৩ নম্বর পারার ২ নম্বর পৃষ্ঠায় ইব্রাহিম আঃ ফেরাউন কে চ্যালেঞ্জ করেছিল যে, আল্লাহ সূর্য পূর্ব দিক হতে উদিত করেন তুমি পশ্চিম দিক হতে কর। অনুরূপভাবে সুরা কাহাফে জুলকারনাইন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন যে, অতঃপর সে সূর্য উদয়ের স্হলে পৌঁছল। এখন তোমার মতো মূর্খদের কাছে একটি প্রশ্ন যে, সূর্য কি উদিত হয়? আশাকরি উত্তর দিবে মূর্খ। আমি বিশ্বাস করি কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে কোন কিছু বলা হয়নি এবং এটা মোটা নাকি চ্যাপ্টা তাতে কিছু যায় আসে না। এখন সাইন্স যা বলে তাতে বিশ্বাস করতে বাঁধা নেই কারণ কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে মোটা-পাতলা কিছুই বলা হয়নি। কিছু মূর্খ বলে যে, কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আছে যে নক্ষত্র পৃথিবীতে খশে পড়বে। এটা প্রমাণ করে পৃথিবী নক্ষত্রের চেয়ে বড়। সেই মূর্খরা একটি বিষয় ভুলে যায় যে, আল্লাহ চাইলে সব করতে পারে। সেই মূর্খদের কাছে প্রশ্ন যে, আল্লাহ চাইলে বড় সৃষ্টিকে ছোট সৃষ্টির মধ্যে ঢুকাতে পারে কি না? এইসব মূর্খদের কথা এরূপ যে, আল্লাহ বলেছেন তার হাত, পা ইত্যাদি আছে। আর যখন হাত পা আছে তার দেহ থাকতেই হবে। যেমন এই মূর্খরা বলে যে, নক্ষত্র পৃথিবীতে খশে পড়লে পৃথিবীকে বড় হতেই হবে। তাহলে এই মূর্খদের আর কি বলবো। আমি পৃথিবীকে গোলাকার মনে করি সাইন্সের উপর ভিত্তি করে কারণ কুরআনের কোথাও পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি বরং মানুষ যা কিছু দেখে তার আলোকে। অর্থাৎ কুরআন মানুষ যা কিছু দৃষ্টি সরাসরি দেখে, সেই দৃষ্টিতে বর্ণনা করে। এখানে পৃথিবীর মোটা-চ্যাপ্টা হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। যদি এগুলোকে তোমাদের মত মূর্খ রা পৃথিবীর আকৃতি সাথে তুলনা করে তাহলে, সূর্য উদয় নিয়ে বলবে মূর্খ।


‎সমতোল বাদী:- আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাবঃ

‎সূর্য কি উদিত হয়?

‎উত্তরঃ অবশ্যই হ্যাঁ। কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্টভাবে নস এসেছে সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত যায়।

‎এসম্পর্কিত একটি হাদিসঃ

‎عَنْ أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الشَّمْسَ تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَامِيَةٍ، فَتَسْجُدُ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَإِذَا حَانَ طُلُوعُهَا اسْتَأْذَنَتْ فَيُؤْذَنُ لَهَا"

‎আবু যার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
‎নিশ্চয় সূর্য অস্ত যায় একটি গরম পানির ঝর্ণায় অতঃপর আরশের নিচে সিজদা করে। যখন তার উদয়ের সময় হয়, তখন সে অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়।

‎( সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৯৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯ )

‎...

‎এখানে অস্তমিত হ‌ওয়া এবং উঠার কথা এসেছে।

‎আমরা উক্ত হাদীস বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করি যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,আমরা তা নির্দ্বিধায় সত্যায়ন করি, জাহমি মু'তাযিলা দার্শনিক মুতাকাল্লিমদের মতো কোনো তাও'য়ীল ব্যতিরেকেই।

‎...

‎এবার আসি আপনার সে প্রশ্নে, আপনি বলেছেন পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি, তাই আপনি বিজ্ঞানের কথাই বিশ্বাস করে বলেন পৃথিবী গোল।

‎এর জবাব আমার পোস্টে দেওয়া আছে তা দেখে আসতে পারেন, সেখানে ইমাম কুরতুবী রহঃ এর মাশহুর তাফসিরের কিতাব থেকে তার ক্ব‌উল এনে দেখিয়েছি কুরআনের ঐসকল আয়াত শুধু সমতলে বিছানো পৃথিবী‌ই প্রমাণ করেনা বরং যারা গোল আক্বীদাহয় বিশ্বাসি তাদের খন্ডন করে।((এখানে একটি লিংক ছিল)))
‎জবাব সমাপ্ত, আলহামদুলিল্লাহ।

‎উত্তর:- হাহাহা..। আল্লাহর কসম এটা বাস্তব সত্য যে সূর্য অস্ত যায় না এবং উদিত হয় না। এর প্রমাণ হলো পৃথিবীর সকল দেশে ২ জন করে তোমার প্রতিনিধি নিযুক্ত কর এবং মোবাইলের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডের খবর নাও। দেখবে সূর্য পৃথিবীর কোথাও না কোথাও আছে। তাই এটা মিথ্যা। এখন প্রশ্ন হলো যে, তাহলে কুরআন কি মিথ্যা বলছে? উত্তর হলো, কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন মানুষের উপলব্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করে। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। সূর্য বলে বাস্তবেই উদিত হয় ও অস্ত যায়..হাহাহা..। আর হ্যাঁ।তোমাকে উসূল সম্পর্কে আরও পড়াশোনা করা প্রয়োজন। তুমি যে বলছো যে, কুরআন ও হাদীসের মধ্যে যা এসেছে তা আমরা বিশ্বাস করি কিন্তু তাবিল করি না। এটা তখন করতে হয় যখন তুমি প্রকৃত ব্যাপার না জানো। কিন্তু যখন তুমি কোন কিছুর প্রকৃত ব্যাপার জানো তাহলে তার তাবিল করা সর্বোত্তম। যেমন:- আল্লাহ তার কুরআনের এক স্হানে বলেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষ কে হেদায়েত করেন। আমরা এটা বিশ্বাস করি। কিন্তু যখন অপর স্পষ্ট প্রমাণ আসে তখন আপনি কি করবেন? কারণ আল্লাহ নিজেই আবার বলেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি কে যে, তুমি হেদায়েত করতে পারবে না। এখন তুমি কোন আয়াতকেই লাফজি অর্থে নিতে পারবে না এবং এখানে তাবিল করে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সর্বোত্তম। এভাবে আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা বীপরিত মূখী। সে স্থানে তুমি কি করবে? ব্যাখ্যা করবে না অন্য কিছু? এখানে তাবিল করা সর্বাত্তম এবং তাবিল না করা জ্ঞানহীনতার পরিচয়।

‎তাই যখন কোন দলিল বা বাস্তবতা পারস্পরিক বিরোধী হয় তখন কুরআন ও হাদীস কে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে সমন্বয় করতে হয়।

‎অনুরূপ ভাবে, জাগতিক জ্ঞান কোন সীমাবদ্ধ জ্ঞান নয়। জাগতিক জ্ঞান মানুষের বৃদ্ধি পায়। তাই জাগতিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে পরবর্তী সালাফদের অনুসরণ করতে হবে। কারণ পরবর্তী সালাফরাও কুরআন ও হাদীস বুঝতো এবং তাদের কাছে জাগতিক জ্ঞানের তথ্য বেশি ছিল।

‎পূর্ববর্তী সালাফরা ওহীর জ্ঞানে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন কারণ তারা শ্রেষ্ঠ প্রজন্মকে নিজেদের স্বচক্ষে দেখেছে এবং বুঝেছে। কিন্তু পরবর্তী সালাফরাও কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন কিন্তু তারা শ্রেষ্ঠ প্রজন্মকে নিজেদের স্বচক্ষে দেখেনি। তাই খালাফরা ওহির জ্ঞনে নিপুণ পারদর্শী ছিলেন যদিও সালাফরা ছিল খালাফদের চেয়ে ওহির জ্ঞনে অধিক মর্যাদাশীল। কিন্তু জাগতিক জ্ঞানে খালাফরা বেশি পারদর্শী ছিলেন সালাফদের চেয়েও কারন জাগতিক জ্ঞান অল্প অল্প করে বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীদের কছে অধিক তথ্য থাকে।

‎তাই যে, বিষয় জগতের সাথে জড়িত সেই বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের অভিজ্ঞতার সাথে যে জাগতিক জ্ঞানের বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তাকেই অনুসরণ করতে হবে। এটা জরুরী নয় যে, ওহির ইলমের ব্যাপারে কেউ সর্বশ্রেষ্ঠ হলেই জাগতিক জ্ঞানের বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে যায়। নিচে এই বিষয়ে কিছু কুরআনের আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করা হলো:-

‎১. কুরআনের আয়াতসমূহ
‎কুরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান অন্বেষণ এবং অজানাকে জানার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন, যা সময়ের সাথে সাথে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

‎জ্ঞান বৃদ্ধির প্রার্থনা:
‎"বলুন, হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।" (সূরা ত্বহা: ১১৪) এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, জ্ঞান একটি স্থবির বিষয় নয় বরং এটি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির দাবি রাখে।

‎সৃষ্টিজগত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ:
‎"আমি শীঘ্রই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাবো বিশ্বজগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে..." (সূরা ফুসসিলাত: ৫৩) এখানে 'শীঘ্রই দেখাবো' (সা-নুরীহিম) শব্দটি ভবিষ্যৎ সূচক। এর অর্থ হলো, যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞানের উন্নতির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর এমন সব সৃষ্টি রহস্য জানতে পারবে যা আগের যুগের মানুষের কাছে অজানা ছিল।

‎অজানাকে জানার স্বীকৃতি:
‎"তিনি সৃষ্টি করেন এমন সব জিনিস যা তোমরা জানো না।" (সূরা নাহল: ৮) রাসূল (সা.)-এর যুগে যাতায়াতের মাধ্যম ছিল উট বা ঘোড়া। কিন্তু এই আয়াত ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে এমন সব যানবাহন বা প্রযুক্তি আসবে যা তখনকার মানুষ কল্পনাও করতে পারতো না। আজকের বিমান বা মহাকাশযান সেই অগ্রগতিরই অংশ।

‎২. হাদীসের বর্ণনা
‎রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বীনি বিষয়ে নিজেকে চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ রাখলেও জাগতিক বিষয়ে উম্মতকে অভিজ্ঞতার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
‎খেজুর গাছের পরাগায়ন সংক্রান্ত হাদীস: একবার রাসূল (সা.) মদিনার লোকদের খেজুর গাছে কৃত্রিম পরাগায়ন করতে নিষেধ করেছিলেন, ফলে ফলন কম হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন:
‎"তোমরা তোমাদের দুনিয়াবি বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি ভালো জানো।" (সহীহ মুসলিম: ২৩৬৩) এই হাদীসটি একটি বিশাল মূলনীতি। এটি প্রমাণ করে যে, জাগতিক বিষয়গুলো অভিজ্ঞতা এবং সময়ের সাথে সাথে উন্নত হবে এবং পরবর্তীতে আসা মানুষরা এতে আগের চেয়ে বেশি দক্ষ হতে পারে।


‎কুরাআন ও হাদীস সর্বদা এইসব বিষয়ে মানুষের পর্যাবেক্ষনের আলোকে আলোচনা করে যা পূর্বে প্রমাণিত করা হয়েছে। কুরআন ও হাদীসের বিন্দু পরিমাণ মাথাব্যথা নেই যে, ভৌগলিক ভাবে পৃথিবী সমতল না গোলাকার, সূর্য উদয় ও অস্ত যায় কি যায়না, সূর্য ঘুরে না পৃথিবী? বরং কুরআন ও হাদীস সর্বদা এইসব বিষয়ে সাধারণভাবে মানুষের পর্যাবেক্ষনের আলোকে আলোচনা করে যেন মানুষ তা অনুধাবন করে উপকৃত হতে পারে। কুরআন ও হাদীস বিজ্ঞানের সূত্র শিখানোর গ্রন্থ নয়। আর খালাফরা এই কথা বারবার বলে গিয়েছেন।

‎যখন কুরআন ও হাদীস এই ব্যাপারে নিশ্চুপ তখন আমরা নিজেদের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞানের উন্নত জ্ঞানের অনুসরণ করবো কেননা, কুরআন ও হাদীস এই ব্যাপারে নিশ্চুপ। আর নিজেদের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, পৃথিবীর ভৌগলিক আকৃতি সমতল নয় বরং গোলাকার। নিম্নে তার চক্ষুশ প্রমাণ দেওয়া হলো:-

‎চক্ষুশ প্রমাণ:-
‎আমরা জানি যে, সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদয় হয় এবং এটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এখন সূর্য জাপানে উদয় হয়েছে পশ্চিমে যাত্রা করে এবং ধাপে ধাপে আমেরিকাতে পৌঁছায়। অর্থাৎ আমেরিকা জাপানের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। আসলে আপনি পূর্বে বা পশ্চিমে যেই দিকেই আমেরিকাকে ধরুন না কেনো , দুই দিক থেকেই আমেরিকারতে পৌছা যায়। তবে যেহেতু এটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, সূর্য পূর্ব দিকে থেকে পশ্চিমে যাত্রা করে। তাই এখানে বোঝানোর জন্য পূর্ব দিকই যথেষ্ট। তবুও আমি সম্পূর্ণ বিষয় উল্লেখ করবো। তাহলে বাস্তবিক প্রমাণ দেখা যাক পৃথিবী সমতল নয় বরং গোলাকার।

‎জাপান থেকে পূর্ব দিকে যাত্রা করে আমেরিকায় পৌঁছানো ভৌগোলিকভাবে সম্পূর্ণ সম্ভব এবং এটি একটি প্রচলিত রুট। জাপানের মানুষজন এই পথেই যাত্রা বেশি করে কারণ এই পথ অনেক সাশ্রয়ী নিচে এর ধাপগুলো আলোচনা করা হলো:

‎১. প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়া: জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। আপনি যদি জাপান থেকে পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করেন, তবে আপনাকে বিশাল প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিতে হবে। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর।

‎২. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line) অতিক্রম: যাত্রাপথে আপনাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করতে হবে। পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় এই রেখা পার হলে ক্যালেন্ডারের হিসেবে আপনি এক দিন পিছিয়ে যাবেন (অর্থাৎ একই তারিখ দুইবার পাবেন)।

‎৩. আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছানো: প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আপনি সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে (West Coast) পৌঁছাবেন। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন বা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের শহরগুলো (যেমন: লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো বা সিয়াটল) হবে আপনার প্রথম গন্তব্য।

‎ভ্রমণের মাধ্যম:
‎বিমানে: এটি সবচেয়ে সহজ উপায়। টোকিও বা ওসাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে লস অ্যাঞ্জেলেস বা নিউ ইয়র্ক যাওয়া যায়। বিমানে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে।

‎জাহাজে: আপনি যদি সমুদ্রপথে যেতে চান, তবে ক্রুজ শিপ বা কার্গো জাহাজে করে যেতে পারেন। এতে প্রায় দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

‎আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আমেরিকা জাপানের পশ্চিম দিকে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও জাপানের পূর্ব দিকে ভ্রমণ করে আমেরিকা পৌছা যায় এবং এর প্রমাণ ইউটিউবে অনেক ভিডিও রেয়েছে এবং বর্তমান সময়েও প্রচুর ফ্লাইট এই পথে যাতায়াত করে। যদি পৃথিবীর আকৃতি বাস্তবিক অর্থে সমতল হতো তাহলে জাপান থেকে পূর্ব দিকে যাত্রা করে আমেরিকা পৌছা সম্ভব ছিল না কারণ আমেরিকা জাপানের পশ্চিমে অবস্থিত। এটাই বাস্তব ও চক্ষুস প্রমাণ যে, পৃথিবীর বাস্তবিক আকৃতি সমতল নয় বরং গোলাকার।

‎এখন আমরা পশ্চিম দিকের রাস্তা দেখাবো:-

‎জাপান থেকে পশ্চিম দিকে যাত্রা করে আমেরিকায় পৌঁছানো একটি দীর্ঘ কিন্তু রোমাঞ্চকর পথ। পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে আপনি যে কোনো এক দিকে যাত্রা শুরু করলে শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। পশ্চিম দিক দিয়ে আমেরিকা যাওয়ার প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:

‎১. এশিয়া মহাদেশ অতিক্রম: জাপান থেকে পশ্চিমে যাত্রা করলে আপনি প্রথমে এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে (যেমন: চীন বা রাশিয়া) পৌঁছাবেন। এরপর আপনাকে মধ্য এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে যেতে হবে।

‎২. ইউরোপ অতিক্রম: এশিয়া পার হওয়ার পর আপনি ইউরোপ মহাদেশে প্রবেশ করবেন। তুরস্ক, জার্মানি, ফ্রান্স বা যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো আপনার যাত্রাপথে পড়বে।

‎৩. আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়া: ইউরোপের পশ্চিম প্রান্ত (যেমন: লন্ডন বা লিসবন) থেকে আপনাকে বিশাল আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে হবে।

‎৪. আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছানো: আটলান্টিক মহাসাগর পার হলেই আপনি আমেরিকার পূর্ব উপকূলে (East Coast) পৌঁছাবেন। নিউ ইয়র্ক, মিয়ামি বা বোস্টনের মতো শহরগুলো হবে আপনার প্রথম গন্তব্য।

‎ভ্রমণের মাধ্যম:

‎বিমানে: টোকিও থেকে দুবাই, ইস্তাম্বুল বা লন্ডন হয়ে কানেক্টিং ফ্লাইটে আপনি আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারেন। এটি দীর্ঘ পথ হওয়ায় সরাসরি ফ্লাইটের চেয়ে অনেক বেশি সময় (প্রায় ২০-২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি) লাগবে।

‎স্থলপথে (ট্রেন বা গাড়ি): আপনি চাইলে 'ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে' ব্যবহার করে জাপান থেকে সমুদ্র পার হয়ে রাশিয়া হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত যেতে পারেন। এরপর সেখান থেকে বিমানে বা জাহাজে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে হবে।

‎সংক্ষেপে পার্থক্য:
‎জাপান থেকে পূর্ব দিকে গেলে আপনি প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাবেন। আর পশ্চিম দিকে যাত্রা করলে এশিয়া, ইউরোপ এবং আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছাবেন। দ্বিতীয় পথটি প্রথমটির তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ।

‎এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবী সমতল নয় বরং গোলাকার। পৃথিবী যদি সমতল হতো তাহলে দুই দিক থেকে এক স্থানে পৌঁছানো অসম্ভব। এখানে কেউ কোন ইন্জিনিয়ারিং করতে পারবে না কারণ এগুলো বাস্তবিক ব্যবহার হয় এমন রাস্তা। পূর্ব দিক দিয়ে গেলে প্রশান্ত মহাসাগর যা আপনি নিজের চোখে বিমানের জানালা দিয়ে দেখে পরিক্ষা করতে পারবেন। আবার পশ্চিম দিক থেকে গেলে আটলান্টিক মহাসাগর যা আপনি নিজের চোখে বিমানের জানালা দিয়ে দেখে পরিক্ষা করতে পারবেন। এতো বড় বড় দুই মহাসাগরের সাথে কিভাবে ইন্জিনিয়ারিং করবে?

‎অতএব, বাস্তবিক পর্যাবেক্ষনের আলোকে এটা প্রমাণিত হয় যে, নিঃসন্দেহে পৃথিবীর আকৃতি সমতল নয় বরং গোলাকার। এই বাস্তবিক পর্যাবেক্ষনের পড়েও যে, বলে সমতল,তার জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় ((এবং তাকে মূর্খ ও পাগল মনে হয়)) একথা বলেছেন শাইখ নাসিরউদ্দিন আলবানী((সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, টেপ ৪৯৭/১০))


‎এতোকিছু প্রমাণিত করার পরও কিছু মূর্খ কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন গায়েবী বিষয় জাহালাতের সাথে ফিট করে এবং বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর ক্ষমতাকে অশ্বিকার করে। নিম্নে তার কিছু তুলে ধরা হলো:-

‎(ক) সমতল বাদীরা বলে যে, কুরআনের মধ্যে আয়াত আছে যে, গ্রহ,নক্ষত্র, আকাশ-মহাকাশ ইত্যাদি সব ধ্বংস হয়ে পৃথিবীতে খশে পড়বে। তাহলে কুরআন বলছে পৃথিবী সবচেয়ে বড়।
‎আরা মিথ্যুক বিজ্ঞান বলছে সূর্য বড়।

‎উত্তর:- বিজ্ঞান যা খুশি তাই বলুক তাতে কিছু যায় আসে না কিন্তু তোমরা সমতল বাদীরা বলছো কুরআন বলেছে বাস্তবিক পৃথিবী বড় সূর্যের চেয়ে এটা কুরআনের উপর মিথ্যাচার। পূর্বে প্রমাণ করা হয়েছে যে, কুরআন সবসময় মানুষের পর্যাবেক্ষনের আলোকে আলোচনা করে অর্থাৎ কুরআনের কোন আয়াত দ্বারা যদি এটা মনে হয় যে, কুরআন বলছে পৃথিবী বড় তাহলে, এটা মানুষের পর্যাবেক্ষনের আলোকে। আর যদি বাস্তবিক ধরেও নি তাহলে এগুলো বিষয় সংগঠিত হবে কিয়ামতের সময় যখন পৃথিবীকেও পরিবর্তন করা হবে অন্য পৃথিবীতে। তাই কিয়ামতের সময়কার পৃথিবীর সাথে এখনকার পৃথিবীর তুলনা করা মূর্খতার পরিচয়। যদি ধরেও নি যে পৃথিবীর এখনকার আকৃতিতেই থাকবে, তাও প্রমাণ হয় না যে, কুরআন বলে, পৃথিবী বড় এবং সূর্য ছোট্ট কারণ আল্লাহ সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। তিনি চাইলে বড় বস্তুকেও ছোট বস্তুর মধ্যে প্রবেশ করাতে সক্ষম। তাই কুরআন কোথাও পৃথিবীকে সূর্যের চেয়ে বড় বলেনি বাস্তবিক ভাবে।

‎এই কথা সমতলবাদীরা শুনার পর প্রশ্ন করে যে, এরূপ ফাও পেচাল কৈ পেয়েছো?

‎সমতল বাদীদের প্রশ্নের উত্তর হলো, আল্লাহ নিজেই কুরআনে বলে দিয়েছেন যে, তিনি কুন-ফায়াকুন ক্ষমতার অধিকারী। এই সমতল বাদীরা এতটুকু মূর্খ যে, এরা আল্লাহর ক্ষমতাকে অশ্বিকার করে এবং আল্লাহর "কুন-ফায়াকুন" ক্ষমতাকে ভুলে যায়। আল্লাহ তায়ালা কুরআনের মধ্যে বলে দিয়েছেন যে, তিনি যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন বললে " কুন" সাথে সাথে তা" ফায়াকুন" হয়ে যায়। আর আকাশ মহাকাশ, গ্রহ নক্ষত্র সব কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্ত সমূহের একটি সিদ্ধান্ত। আকাশ মহাকাশ, গ্রহ নক্ষত্র যে পৃথিবীতে খশে পড়বে এটাও আল্লাহর সিদ্ধান্ত সমূহের একটি সিদ্ধান্ত। আর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন যে, তিনি যে কোন সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন তার জন্য কুন-ফায়াকুনই যথেষ্ট। অর্থাৎ এই সমতল বাদীরা আল্লাহর কুন-ফায়াকুন ক্ষমতাকে অশ্বিকার করে।

‎আল্লাহ সর্বদা কুন-ফায়াকুন ক্ষমতাকে প্রয়োগ করতে সক্ষম। তার কুন-ফায়াকুন ক্ষমতা থেকে সেই বিষয়ে বাদ যাবে যে সিদ্ধান্তগুলোকে আল্লাহ নিজেই নির্দিষ্ট করার ওয়াদা করেছেন। যেমন:- আল্লাহ চাইলে সকল অমুসলিম কাফেরকেউ তার সাথে শিরকে আকবার করার পরও ক্ষমা করে দিতে সক্ষম কিন্তু তিনি তাদের ক্ষমা করবে না কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পূর্বেই তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, আল্লাহ শিরক কারীকে কখনোও ক্ষমা করবে না। অনুরূপভাবে, আল্লাহ তায়ালা অমুসলিম কাফের সকলকেই জান্নাতে প্রবেশ করাতে সক্ষম ও ক্ষমতা বান কিন্তু আল্লাহ তা করবেন না কারণ, আল্লাহ নিজেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, অমুসলিম কাফেরদের জন্য জান্নাত হারাম।

‎আল্লাহ রব্বুল আলামিন সকল কাজ করতে সক্ষম। এমন কোন কাজ নেই যা মানুষ কল্পনা করতে পারে এবং আল্লাহ তা করতে সক্ষম নন। তবে আল্লাহ সে সকল কার্জ করতে ক্ষমতা বান হওয়া শর্তেও করবেন না যেই বিষয় কে তিনি পূর্বেই কুরআন ও হাদীসের মধ্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

‎কুরআন ও হাদীসের কোথাও বলা হয়নি যে, আল্লাহ পৃথিবীকে বড় করবেন না বা আকাশ মহাকাশ, গ্রহ নক্ষত্রকে ছোট করবেন না বা তিনি বড় বস্তুকে ছোট বস্তুর মধ্যে প্রবেশ করাবেন না। বরং কুরআনে বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের সময় এই পৃথিবীকে পরিবর্তন করা হবে।যখন এই বিষয়ে কোনো কিছু নির্দিষ্ট করা হয় নি তাহলে এই বিষয়গুলো আল্লাহর কুন-ফায়াকুন ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। কেননা সমস্ত সিদ্ধান্তই আল্লাহর কুন-ফায়াকুন ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত যদি না আল্লাহ কিছু নির্দিষ্ট করে দেন। তাই আল্লাহ তায়ালা আকাশ মহাকাশ, গ্রহ নক্ষত্রকে পৃথিবীর মধ্যে কেন বরং একটি পিঁপড়ার মধ্যেও প্রবেশ করাতে সক্ষম এবং তিনি তাকে কোন কিছু দিয়ে নির্দিষ্ট করে নি।


‎(খ) সমতল বাদীদের আরেকটি দাবী হলো, তাহলে ইয়াজুজ মাজুয ও দাজ্জাল কোথায় ?

‎উত্তর হলো:- আল্লাহ কুন ফায়াকুন ক্ষমতার অধিকারী। তিনি মানুষের থেকেও বেশী জিন শয়তান আবাদ করিয়েছেন এবং অগণিত ফেরশতাকে বিভিন্ন কার্যে নিযুক্ত করেছেন কিন্তু এগুলো মানুষ দেখতে পায়না। ঠিক তেমন ভাবেই আল্লাহ ইয়াজুজ মাজুয ও দাজ্জাল কে লুকিয়ে রেখেছেন কার তিনি কুন ফায়াকুন ক্ষমতার অধিকারী। আর ইয়াজুজ মাজুয ও দাজ্জাল হলো অলৌকিক পূর্ণ ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত করণ, বাদশাহ জুলকারনাইন যে দেয়াল বানিয়েছিল তা একবার চিকন হয় আবার আল্লাহর ক্ষমতায় পূর্বের মত হয়ে যায়। অর্থাৎ এটি আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার অংশ। আর অলৌকিক বিষয় কে অলৌকিক ভাবে না নিয়ে বাস্তবিক ভাবে বিশ্লেষণ করা হলো মূর্খদের কাজ। আল্লাহ ইয়াজুজ ও মাজুয কে অলৌকিক ভাবে কোথায় ও কিভাবে লুকিয়ে রেখেছেন আল্লাহ ভালো জানেন।

‎আবার দাজ্জালের সাথে পশম ওয়ালা প্রাণী এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস যে, এখন যারা বেঁচে আছে ১০০ বছরের মধ্যে তারা কেউ বেঁচে থাকবে না পৃথিবীর বুকে । তাও যদি দাজ্জাল বেঁচে থাকে তাহলে তা হলো আল্লাহর অলৌকিক বিষয়। আর অলৌকিক বিষয় কে অলৌকিক ভাবে না নিয়ে বাস্তবিক ভাবে বিশ্লেষণ করা হলো মূর্খদের কাজ। আল্লাহ দাজ্জাল কে অলৌকিক ভাবে কোথায় ও কিভাবে লুকিয়ে রেখেছেন বা বেঁচে আসেন না মরে গেছেন আল্লাহ ভালো জানেন।

‎(গ) সমতল বাদীদের আরেকটি দাবী হলো যে, হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে আল্লাহ আরশের উপরে বোঝানোর জন্য আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা যায়। এবং এটি সমতল পৃথিবীতে সম্ভব। গোলাকার পৃথিবী হলে,কেউ ডানে, কেউ বামে,কেউ উপর, কেউ নিচে আঙুল দিয়ে ইশারা করবে।

‎সমতল বাদীদের জন্য উত্তর হলো:- এগুলো বাস্তবিক পর্যাবেক্ষনের আলোকে। মানুষ বাস্তবিক অর্থেই পৃথিবীকে সমতল দেখে এবং কুরআন ও হাদীস সেই দৃষ্টিতেই আলোচনা করে। এখানে শুধু এই বিষয় দেখা হয় যে, মানুষ আল্লাহ কে কোথায় আছে বলে বিশ্বাস করে। হাদীসের মধ্যে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কোন কোন সিফাত বর্ণনা করার সময় হাত দিয়ে ইশারা করেছেন। এখন কি তোমরা সমতল বাদীরা আল্লাহর সেই সকল সিফাত কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইশারার সাথে সাদৃশ্য মনে করবে? নাকি মানুষ কে সাধারণ ভাবে বোঝানোর জন্য এরূপ করেছেন মনে করবে?

‎সেরূপ ভাবে আল্লাহর জন্য উলু সাব্যস্ত করা এটা আল্লাহর সিফাত। একথা বিশ্বাস করা অপরিহার্য যে আল্লাহ তার সকল সৃষ্টি জগতের থেকে পৃথক এবং সবকিছুর উপর। এখানে আকাশের দিকে আঙুলের ইশারার মাধ্যমে সাধারণ ভাবে মানুষের বিশ্বাস কে দেখা হয়েছে যে, মানুষ আল্লাহকে কোথায় বলে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর সিফাত বর্ণনা করার সময় ইশারা আর আল্লাহর জন্য উলু সাব্যস্ত করার ইশারা একই। কুরআন মানুষের হিদায়াতের জন্য সাধারণভাবে সহজ সরল মানুষের জন্য তাদের পর্যবেক্ষণের আলোকেই আলোচনা করে এটাই তার আরও বড় প্রমাণ।

‎(ঘ) সমতল বাদীরা আরও অভিযোগ করে যে, নামাজে কিবলা মুখে হওয়া ফরজ কিন্তু গোলাকার পৃথিবীতে কিবলামূখী হওয়া সম্ভব নয় তাই পৃথিবীকে সমতল হতে হবে।


‎সমতল বাদীদের প্রশ্নের উত্তর হলো:- ((এখানে islamqa এর ফতোয়া সরাসরি তুলে ধরা হলো))

‎পবিত্র কাবার দিকে মুখ করার ক্ষেত্রে যা চাওয়া হয়েছে তা হলো তার দিকের (অভিমুখের) দিকে ফেরা, যেমনটি আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “সুতরাং আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরান এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন, সেদিকেই মুখ ফেরাও।” [সুরা আল-বাকারা, ১৪৪]

‎আর 'মসজিদুল হারামের দিক' বলতে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে: “তার দিকে।” ~ আল-বারা বলেছেন: “তার অভিমুখে।” ~ ইবনে যায়েদ বলেছেন: “তার দিকে ও তার পার্শ্বে।” ~ আবুল আলিয়া বলেছেন: “তার সোজা দিকে।” [তাবারী রচিত ‘জামেউল বায়ান, ৩/১৭৬-১৭৭]

‎সুতরাং উদ্দেশ্য হলো দিক এবং অভিমুখ। পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে এটি জানা বিষয় এবং প্রাচীন ও আধুনিক সভ্যতার জ্ঞানে ও সুস্থ বিবেকের বিচারে এটি স্বীকৃত যে, পৃথিবীর এবং সকল নভোমণ্ডলের চারটি দিক রয়েছে যা তা থেকে অবিচ্ছেদ্য। সেগুলো হলো উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম। এটি পৃথিবীর সেই অক্ষের ওপর ভিত্তি করে যা ডান থেকে বামে ঘোরে এবং আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে যে নিজস্ব মেরুশক্তি দিয়েছেন তার ওপর ভিত্তি করে, যার ফলে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে কম্পাস উত্তর ও দক্ষিণ দিকে নির্দেশ করে।

‎এগুলো হলো নিজস্ব (প্রাকৃতিক) দিক, যা পৃথিবীর নিজের সাপেক্ষে কখনোই পরিবর্তিত হয় না, যদিও আপেক্ষিক অবস্থানের কারণে তা ভিন্ন মনে হতে পারে। এজন্য পৃথিবীর গোলাকার হওয়া এই চারটি দিককে বাতিল করে দেয় না, এমন দাবি করে যে— পশ্চিম দিকে ঘুরতে থাকলে তা পূর্বে গিয়ে পৌঁছাবে, অথবা উত্তর দিকে গেলে দক্ষিণে গিয়ে পৌঁছাবে। এখান থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে, যে ব্যক্তি পৃথিবীর নিজস্ব উত্তরে অবস্থান করছে, তার জন্য কিবলার দিক হলো দক্ষিণ। যে পৃথিবীর নিজস্ব দক্ষিণে আছে, তার জন্য কিবলার দিক উত্তর। যে পৃথিবীর নিজস্ব পূর্বে আছে, সে কিবলার জন্য পশ্চিমে মুখ করবে এবং যে পৃথিবীর নিজস্ব পশ্চিমে আছে, সে কিবলার জন্য পূর্বে মুখ করবে। এটিই হলো সেই কিবলার দিক, শরীয়তে যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎বিষয়টি কেবল কিবলা সম্পর্কিত নয়, বরং পৃথিবীর সমস্ত শহর এবং দিকগুলোর আনুপাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাই আপনি কাউকে এমন কথা বলতে শুনবেন না যে, ইউরোপ মহাদেশ আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত, কারণ কেউ যদি আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ দিকে যাত্রা করে, তবে পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার কারণে ঘুরতে ঘুরতে সে ইউরোপে পৌঁছে যাবে!

‎আপনি ভারতের কোনো আলেমকেও এমন কথা বলতে শুনবেন না যে, যদি তাকে আমেরিকা মহাদেশের দিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তিনি পূর্ব দিকে ইশারা করবেন। বরং তিনি পশ্চিম দিকেই ইশারা করবেন, যদিও পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার কারণে একেবারে পূর্ব দিকে চলতে থাকলে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু দিকের প্রশ্ন এক জিনিস, আর পৌঁছানো বা গন্তব্যে যাওয়ার পথ আরেক জিনিস।

‎সাধারণ মানুষের প্রথা অনুযায়ী এবং শরীয়তের পরিভাষাতেও উদ্দেশ্যকৃত দিক হলো: সমগ্র পৃথিবীর জন্য স্থির দিকগুলো—উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম। আর এটি সেই দিক যা স্থির ম্যাগনেটিক কম্পাস সব জায়গায় নির্দেশ করে। এটি পৃথিবীর নিজস্ব ও স্থায়ী দিক যা কখনো পরিবর্তিত হয় না

‎আমাদের শরীয়তে এই স্থির প্রথার ভিত্তিতেই কিবলার দিকে মুখ করা কাম্য, যে কোনো পথ দিয়ে সেখানে পৌঁছানো উদ্দেশ্য নয়। দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট।

‎এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীদের প্রস্রাব বা পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছিলেন, তখন তিনি "ইস্তিদবার" বা কিবলার দিকে পিঠ ফেরাতেও নিষেধ করেছিলেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন "ইস্তিদবার" (পিঠ ফেরানো), যদিও প্রশ্নকারীর যুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার কারণে পিঠ ফেরালেও তা শেষ পর্যন্ত কিবলার দিকেই ফিরে যায়। কিন্তু কিবলার ক্ষেত্রে যেহেতু পৃথিবীর নিজস্ব দিকগুলোকে ধর্তব্য করা হয় (যেমনটি আগে বর্ণনা করা হয়েছে), তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে পিঠ ফেরানো বলেছেন এবং তা থেকে নিষেধ করেছেন।

‎নবী সা. বলেন: “যখন তোমাদের কেউ শৌচাগারে যায়, সে যেন কিবলাকে সামনে না রাখে এবং তার দিকে পিঠও না ফেরায়; বরং তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ করো।” [বুখারী, হা/১৪৪ ও মুসলিম, হা/২৬৪ কর্তৃক বর্ণিত]

‎এজন্য যখন সম্মানিত কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ অবতীর্ণ হলো, আর মুসলমানরা তখন বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছিলেন, তখন তারা সিরিয়ার দিক থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। যদিও প্রশ্নকারীর নীতি অনুযায়ী সেটিও একটি সঠিক দিক হতে পারত, কারণ মদীনার লোকেরা যদি উত্তর দিকে সিরিয়া ও তার পেছনের দিকে মুখ করে পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার সাথে চলতে থাকে, তবে তারা মক্কা ও কিবলায় পৌঁছে যাবে। কিন্তু শরীয়ত এই দিকনির্দেশনাকে গ্রাহ্য করেনি; কারণ এটি পৃথিবীর সেই নিজস্ব দিকগুলোর ওপর ভিত্তি করে না,
‎যা আগেই বর্ণনা করা ও স্থির করা হয়েছে।

‎ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মানুষ যখন কুবায় ফজরের নামাজ পড়ছিল, তখন তাদের কাছে একজন আগন্তুক এসে বলল: আজ রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তোমরা সেদিকে মুখ করো। তখন তাদের চেহারা ছিল সিরিয়ার দিকে, এরপর তারা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন।" [মুসলিম, হা/৫২৬ কর্তৃক বর্ণিত]

‎যদি কোনো মুসলিম সম্মানিত কাবার কাছে দাঁড়িয়ে তার কোনো এক কোণার দিকে পিঠ দিয়ে নামাজ পড়ে, তবে ইসলামী আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। কারণ সে নিশ্চিতভাবে কিবলার দিকে পিঠ ফিরিয়েছে এবং তার দিকে মুখ করেনি, কারণ মুখ করা (ইস্তিকবাল) এবং পিঠ ফেরানো (ইস্তিদবার) পৃথিবীর নিজস্ব দিকগুলোর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

‎যদি প্রশ্নে উল্লেখিত ইস্তিকবাল এবং ইস্তিদবারের সংজ্ঞাই মানা হতো এবং বলা হতো যে এটি কাবার পৌঁছানোর পথের ওপর নির্ভর করে, পৃথিবীর দিকগুলোর ওপর নয়, তবে কাবার দিকে পিঠ দিয়ে নামাজ পড়া ব্যক্তির নামাজও শুদ্ধ হয়ে যেত। অথচ ইসলামী আলেমদের কেউ এই কথা বলেননি, যদিও প্রাচীন ও আধুনিক সকল আলেম পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার বিষয়ে একমত এবং শরীয়তের সুস্পষ্ট দলিলগুলোও পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

‎শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন:

‎"কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের আলেমদের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত যে, নভোমণ্ডল গোলাকার। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর তিনিই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে), আল্লাহ আরও বলেন: (সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদকে নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে)। ইবনে আব্বাস বলেন: তারা সুতা কাটার চরকার মতো একটি বৃত্তাকার পথে ঘোরে।

‎আর এভাবেই আরবী ভাষায় ফালাক (কক্ষপথ) হলো: গোলাকার বস্তু। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তিনি রাতকে দিনের ওপর জড়ান এবং দিনকে রাতের ওপর জড়ান) আর তাকওয়ীর (জড়ানো) মানে হলো গোলাকার করা।

‎আর আলেমদের ঐক্যমতের ব্যাপারে— তাবেয়ীদের যুগের বসরার বিখ্যাত বিচারক ইমাম ইয়াস ইবনে মুআবিয়া বলেন: পৃথিবীর ওপর আকাশ গম্বুজের মতো।

‎ইমাম আবুল হুসাইন আহমাদ ইবন জাফর ইবন আল-মুনাদী (যিনি ইমাম আহমাদের অনুসারীদের দ্বিতীয় স্তরের অন্যতম প্রধান আলেম এবং আসর ও ধর্মীয় বিজ্ঞানের বৃহৎ রচনাবলীর জ্ঞানে প্রসিদ্ধ) বলেন: আলেমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, আকাশমণ্ডল একটি গোলকের মতো, এবং এটি তার ভেতরের সকল গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গোলকের মতো ঘোরে, দুটি স্থির ও অচল মেরুর ওপর: যার একটি উত্তর দিকে এবং অন্যটি দক্ষিণ দিকে।

‎তিনি বলেন: তারা এ বিষয়েও একমত যে, পৃথিবী তার স্থলভাগ ও জলভাগের সকল গতিবিধি নিয়ে একটি গোলকের মতো।
‎তিনি বলেন: এর প্রমাণ হলো: সূর্য, চাঁদ এবং গ্রহ-নক্ষত্র পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তের মানুষের জন্য একই সময়ে উদিত বা অস্তমিত হয় না, বরং পশ্চিমের আগে পূর্বে উদিত হয়।

‎তিনি বলেন: পৃথিবীর গোলকটি আকাশের গোলকের মাঝখানে এমনভাবে স্থাপিত, যেমন বৃত্তের মাঝখানে একটি বিন্দু।
‎কিছু মানুষ হয়তো মনে করতে পারে যে, নবীর হাদিসগুলোতে যা এসেছে যে, আরশ হলো জান্নাতের ছাদ এবং আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর আছেন, তার সাথে নভোমণ্ডলের গোলাকার হওয়ার প্রমাণ সাংঘর্ষিক, অথবা এটি বোঝায় যে আল্লাহ তাঁর কিছু সৃষ্টির নিচে আছেন! যেমন কিছু জাহমিয়া সম্প্রদায় আল্লাহর আরশের ওপর হওয়াকে অস্বীকার করার জন্য নভোমণ্ডলের গোলাকার হওয়ার যুক্তি দেখিয়েছিল এবং বলেছিল যে এর মানে হলো রব নিচে থাকবেন।

‎এটি বিষয়টিকে বুঝতে পারার ক্ষেত্রে তাদের ভুল। যে ব্যক্তি জানে যে নভোমণ্ডল গোলাকার, এবং যে আবরণটি ছাদ তা হলো 'ইল্লিয়্যিন'-এর সর্বোচ্চ স্থান, আর এর কেন্দ্র যা এর ভেতর ও মধ্যভাগ এবং তা হলো পৃথিবীর তলদেশ, সেটি হলো 'সিজ্জিন' এবং 'আসফালা সাফিলিন' (সর্বনিম্ন স্তর)। সে আল্লাহর সর্বোচ্চ স্থান (ইল্লিয়্যিন) এবং সিজ্জিনের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি থেকে জানতে পারে যে... আকাশ সব অবস্থাতেই পৃথিবীর ওপরে, এটি কখনো পৃথিবীর নিচে হতে পারে না, যদিও তা গোলাকার এবং পরিবেষ্টনকারী হয়।

‎আর সে জানতে পারে যে দিক হলো দুই প্রকার: একটি নিজস্ব দিক। সেটি হলো কেবল ওপরে ও নিচে। আর একটি আপেক্ষিক দিক: যা প্রাণীর গতির ওপর নির্ভর করে। তার সামনে যা থাকে তাকে বলা হয় সামনে, পেছনে যা থাকে তাকে বলা হয় পেছনে, ডান দিকে যা থাকে তাকে বলা হয় ডান, বাম দিকে যা থাকে তাকে বাম, মাথার ওপরে যা থাকে তাকে ওপর এবং পায়ের নিচে যা থাকে তাকে নিচ বলা হয়, আর এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়।
‎আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যদি কোনো মানুষ তার পা আকাশের দিকে এবং মাথা পৃথিবীর দিকে ঝুলিয়ে রাখে, তবে কি আকাশ তার ওপরে থাকে না? যদিও সে তার পা দিয়ে আকাশের মুখোমুখি হচ্ছে।
‎একইভাবে, কোনো পিঁপড়া বা অন্য কিছু যদি ছাদের নিচে হাঁটে এবং তার পা দিয়ে ছাদের মুখোমুখি হয় ও পিঠ পৃথিবীর দিকে থাকে, তবে ওপরের দিকটা তার পায়ের সোজাসুজিই হবে যদিও তা তার ওপরে। আর 'আসফালা সাফিলিন' বা সর্বনিম্ন স্তর পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে গিয়ে শেষ হয়। আকাশে যে গ্রহ-নক্ষত্র আছে, যদিও তার কিছু আমাদের মাথার সোজাসুজি এবং কিছু বৃত্তের অপর অর্ধাংশে থাকে, তবুও তার কোনোটি কোনোটির নিচে নয়, বরং সবই আকাশে আমাদের ওপরে।

‎কিন্তু মানুষ যখন এটি কল্পনা করে, তখন তার ভাবনায় আপেক্ষিক নিচ-এর ধারণা চলে আসে, যেমনটি সেই জাহমি ব্যক্তি যুক্তি দিয়েছিল যে আল্লাহর আরশের ওপর হওয়াকে অস্বীকার করেছিল। আর যে জানে না তার মনে সে এই ধারণা তৈরি করেছিল যে, যে ব্যক্তি বলে: আল্লাহ আরশের ওপর আছেন, সে যেন তাঁকে সৃষ্টির অর্ধেক অংশের নিচে বানিয়ে দেয় অথবা তাঁকে আরেকটি গোলক বানিয়ে দেয়। মূর্খরা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।"

‎[মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৫/১৯৩-১৯৭ থেকে সংক্ষেপিত]

‎আর এখানে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার কথা থেকে মূল প্রমাণ হলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের স্বীকৃতি—

‎১. নভোমণ্ডলের গোলাকার হওয়া, এবং প্রাচীনকাল থেকে এ বিষয়ে আলেমদের ঐক্যমত।

‎২. এটি প্রমাণ করা যে, পৃথিবীর নিজস্ব দিকই হলো সেই দিক, যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার 'ওপরে থাকার' গুণের ক্ষেত্রে শরীয়তের সম্বোধন এসেছে, প্রতিটি সৃষ্টির জন্য আলাদা আলাদা আপেক্ষিক দিক নয়। কিবলার দিকের ক্ষেত্রেও ঠিক এই একই নীতি অনুসরণ করা উচিত। সুতরাং পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থানকারীকে অবশ্যই দক্ষিণ দিকে মুখ করতে হবে; কারণ পৃথিবীর উত্তরে থাকা ব্যক্তির জন্য পৃথিবীর (নিজস্ব) কিবলা হলো দক্ষিণ।

‎এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, কিবলার দিক কেবল একটিই এবং তা হলো পৃথিবীর নিজস্ব দিক। (ওয়াল্লাহু আলাম।)

‎[সোর্স: IslamQA; প্রশ্ন নং ২২৬৭৯১]
إذا كانت الأرض كروية فلماذا ليس ثمة إلا اتجاه واحد للقبلة ؟ - الإسلام سؤال وجواب




‎এককথায়, এই সমতল বিশ্বাসে কুরআন ও হাদীস ফিট কারীরা হয় আল্লাহর ক্ষমতাকে অশ্বিকার করে
‎অথবা বিভিন্ন গায়েবি বিষয় নিয়ে টানাহেঁচড়া করে যে গুলো সম্পর্কে আমাদের কে পরিপূর্ণ জানানো হয়নি আর যে গায়েবি বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান নেই, তা দিয়ে বাস্তবিক পৃথিবীতে ফিট করা মূর্খতার পরিচয় । আল্লাহ এদের কে হেদায়েত দান করুন এবং সমগ্র মানুষ কে তাদের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। আমিন ।


‎উপসংহার:- কুরআন কোন সাইন্সের বই নয় বরং কুরআন মানুষের জীবন বিধান। কুরআন মানুষের বুঝার সুবিধার্থে দৃশ্যমান বিষয়াবলী তাদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই আলোচনা করে। কুরআনের মধ্যে পৃথিবীর মূল আকৃতি গোলাকার না সমতল তা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি বরং মানুষের বাস্তবিক উপলব্ধির আলোকে আলোচনা করা হয়েছে। যখন কুরআন এই বিষয়ে নিশ্চুপ তখন বাস্তবিক পর্যাবেক্ষন ও বিজ্ঞানের আলোকে তা জানতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। আর বাস্তবিক চক্ষুশ প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত যে পৃথিবী সমতল নয় বরং গোলাকার। যার প্রমাণ জাপান থেকে আমেরিকা যাওয়ার বাস্তবিক পর্যাবেক্ষনের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে যোগ দিন " The glob squad BD" The Globe Squad (BD)








 
Similar content Most view View more
Back
Top