- Joined
- May 20, 2024
- Threads
- 31
- Comments
- 58
- Reactions
- 423
- Thread Author
- #1
শাবান মাস সহীহ হাদিসের আলোকে।
হিজরি সন অনুযায়ী মাসের সংখ্যা বারোটি। শাবান মাস হচ্ছে তার মধ্যে একটি। এই মাস সম্পর্কে সমাজে বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত প্রচলিত হয়েছে। কিন্তু পবিত্র আল কোরআন ও সহীহ হাদীসসমূহ পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায় যে, শাবান মাস একটি সাধারণ মাস, অন্যান্য মাসের প্রতি এর কোনো বিশেষ গুরুত্ব, ফজিলত ও মর্যাদা নেই। তবে হ্যা এই মাসে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি সিয়াম পালন করতেন।عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ قَالَتْ لَمْ يَكُنْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শা’বান মাসের চাইতে বেশী (নফল) সওম কোন মাসে পালন করতেন না। তিনি (প্রায়) পুরা শা’বান মাসই সওম রাখতেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯৭০)
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . وَلَمْ أَرَهُ صَائِمًا مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً .
আবূ সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন করে যেতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি সিয়াম পালন করে যাচ্ছেন (হয়ত আর বিরত হবেন না)। আবার তিনি কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন না করে অতিবাহিত করতেন যে, আমরা বলতাম, হয়ত তিনি আর সিয়াম পালন করবেন না। আমি তাকে শা’বান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত অধিক (নাফ্ল) সিয়াম পালন করতে দেখিনি। তিনি পুরো শা’বান মাসেই সিয়াম পালন করতেন। অর্থাৎ কয়েক দিন ছাড়া পূর্ণ শা’বান মাস সিয়াম পালন করতেন)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬১২)
উক্ত হাদিস থেকে স্পষ্ট যে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম শাবান মাসে বেশি বেশি সিয়াম পালন করতেন। পুরো শাবান মাস কখনো রোযা রাখেননি এবং কখনো রমযান মাসকে সন্বর্ধনা জানাবার জন্য একদিন বা দুই দিন পূর্বে রোযা রাখেননি।
عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عِكْرِمَةَ فِي يَوْمٍ قَدْ أُشْكِلَ مِنْ رَمَضَانَ هُوَ أَمْ مِنْ شَعْبَانَ، وَهُوَ يَأْكُلُ خُبْزًا وَبَقْلًا وَلَبَنًا، فَقَالَ لِي: هَلُمَّ، فَقُلْتُ: إِنِّي صَائِمٌ، قَالَ وَحَلَفَ بِاللَّهِ: لَتُفْطِرَنَّ، قُلْتُ: سُبْحَانَ اللَّهِ مَرَّتَيْنِ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُ يَحْلِفُ لَا يَسْتَثْنِي تَقَدَّمْتُ قُلْتُ: هَاتِ الْآنَ مَا عِنْدَكَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ سَحَابَةٌ أَوْ ظُلْمَةٌ، فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ عِدَّةَ شَعْبَانَ، وَلَا تَسْتَقْبِلُوا الشَّهْرَ اسْتِقْبَالًا، وَلَا تَصِلُوا رَمَضَانَ بِيَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ»
সিমাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমি ইকরামা (রাঃ)-এর কাছে এমন একদিন গেলাম যে দিনটি সষ্পর্কে সন্দেহ করা হচ্ছিল যে, তা কি রমযান না শা’বান। তিনি তখন রুটি ও সবজী খাচ্ছিলেন এবং দুধ পান করছিলেন। তিনি আমাকে বললেনঃ আসো (এবং খাও) আমি বললাম, আমি তো সাওম (রোযা) পালন করছি। তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন যে, তোমাকে অবশ্যই সাওম (রোযা) ভঙ্গ করতে হবে। আমি দুইবার বললামঃ সুবহানাল্লাহ্। যখন আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি শপথ করছেন এবং আমাকে ছাড়বেন না-আমি নিজেই অগ্রসর হয়ে বললামঃ এখন আপনার কাছে কি আছে আনুন। তিনি বললেন, আমি ইব্ন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা (রমযান মাসের) চাঁদ দেখে সাওম (রোযা) পালন করবে এবং (শাওয়াল মাসের) চাঁদ দেখে সাওম (রোযা) ভঙ্গ করবে। তবে হ্যাঁ, তোমাদের এবং চাঁদের মাঝখানে যদি মেঘ অথবা অন্ধকার আড়াল হয় তবে তোমরা শা’বান মাসের গননা পূর্ণ করে নেবে এবং রমযান মাস আগমন করার পুর্বে তোমরা সাওম (রোযা) পালন দ্বারা রমযান মাসকে সন্বর্ধনা জানাবে না, আর একদিনের সাওম (রোযা) পালন দ্বারা রমযান মাসকে শা’বান মাসের সাথে মিলিয়ে ফেলবে না। (সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২১৮৯ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
১৫ শাবানের রাত্রির ফজিলত সম্পর্কে সমাজে যে, ধারনা, কর্মকান্ড ও বিশেষ এবাদত প্রচলিত রয়েছে সকল ভিত্তিহীন।