- Joined
- Sep 7, 2026
- Threads
- 9
- Comments
- 9
- Reactions
- 104
- Thread Author
- #1
২১) বিষয় ঃ বাড়ির আদব
লেখক ঃ তাজাম্মুল হক সালাফী
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ- إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ- فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ- إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ- فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً
ইসলামে পারিবারিক জীবনকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বরকতময় করার জন্য বাড়িতে প্রবেশের সময় থেকে শুরু করে অবস্থানের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আদব বা শিষ্টাচার মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১) বাড়িতে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া ঃ বাড়িতে কোনো মানুষ থাকুক বা না থাকুক, প্রবেশ করার সময় সালাম দেওয়া সুন্নাত। এটি ঘরে বরকত নিয়ে আসে এবং শয়তানকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً
"যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন।" — [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬১]
২( অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা (ইস্তিযান) ঃ অন্যের ঘরে বা নিজের মা-বোনের ঘরে হুট করে ঢুকে পড়া নিষেধ। ভেতরে যাওয়ার আগে অনুমতি নেওয়া এবং নিজের উপস্থিতি জানানো আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ (27)
"হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কোনো ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নাও এবং ঘরের অধিবাসীদের সালাম করো।" — [সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৭]
- দলীল (হাদিস): এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কি আমার মায়ের ঘরে প্রবেশের সময়ও অনুমতি নেব?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" লোকটি বলল, "আমি তো তাঁর সেবা করি।" রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "তুমি কি তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করবে?" সে বলল, "না।" তিনি বললেন, "তবে অনুমতি নাও।" — [মুয়াত্তা ইমাম মালিক]
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا أَتَى بَابَ قَوْمٍ لَمْ يَسْتَقْبِلِ الْبَابَ مِنْ تِلْقَاءِ وَجْهِهِ، وَلَكِنْ مِنْ رُكْنِهِ الْأَيْمَنِ، أَوِ الْأَيْسَرِ، وَيَقُولُ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ»
আবদুল্লাহ ইবনে বুশর (রা.) বলেন, "রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কারো দরজায় আসতেন, তখন দরজার মুখোমুখি দাঁড়াতেন না। বরং ডান বা বাম পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন— আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম।" — [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৫১৮৬]
৪ ) ঘরে প্রবেশের দোয়া পড়া ঃ ঘরে ঢোকার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করা এবং নির্দিষ্ট দোয়া পড়া শয়তানের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়।
إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ، فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ "،
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের সময় ও খাবারের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান (তার দলবলকে) বলে, 'তোমাদের জন্য এখানে রাত্রিযাপন ও নৈশভোজের কোনো সুযোগ নেই।'" — [সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২০১৭]।
বাড়িতে প্রবেশের দুআ ঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا ثُمَّ لْيُسَلِّمْ عَلَى أَهْلِهِ "
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাল মাউলিজি, ওয়া খাইরাল মাখরাজি; বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা; ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা।
অর্থ ঃ "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রবেশের উত্তম কল্যাণ এবং বাহির হওয়ার উত্তম কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম, আল্লাহর নামেই আমরা বাহির হলাম এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম। অতঃপর পরিবারের েলাকজনকে সালাম দেবে (সহীহা-২২৫)।
বাড়ি েথকে বের হওয়ার দুআ ঃ
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
বাংলা উচ্চারণ ঃ "বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"
বাংলা অর্থ ঃ"আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তিও নেই। আবূ দাঊদ-৫০৯৫।
৫) ঘরে আল্লাহর জিকির ও নফল সালাত আদায় করা বাড়িকে কেবল ঘুমানো বা খাওয়ার জায়গা না বানিয়ে সেখানে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল সালাতের পরিবেশ বজায় রাখা উচিত।
«اجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلاَتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا»
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা তোমাদের ঘরের কিছু অংশে সালাত (নফল) আদায় করো, ঘরগুলোকে কবর বানিয়ে ফেলো না।" — [সহীহ আল-বুখারী, হাদিস: ৪৩২]
«مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ، وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللهُ فِيهِ، مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ»
তিনি আরও বলেছেন, "যে ঘরে আল্লাহর জিকির হয় আর যে ঘরে আল্লাহর জিকির হয় না, তার উদাহরণ যথাক্রমে জীবিত ও মৃতের মতো।" — [সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৭৭৯]
পরিশেষে বলতে চাই েয, আমাদেরকে বাড়ির আদব পালন করার জন্য প্রয়োজনীয় দুআগুলো নিজে মুখস্ত করা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও মুখস্ত করানো জরুরী। হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে বাড়ির আদব পালন করার তাওফীক দাও, আমীন। وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِين