- Joined
- Sep 7, 2026
- Threads
- 4
- Comments
- 4
- Reactions
- 46
- Thread Author
- #1
ঘুমানোর আদব
লেখক : তাজাম্মুল হক সালাফী
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ- إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ- وَمِنْ آيَاتِهِ مَنَامُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَاؤُكُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَسْمَعُونَ (23)
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ- إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ- وَمِنْ آيَاتِهِ مَنَامُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَاؤُكُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَسْمَعُونَ (23)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেনে। তার মধ্যে একটি বিশেষ নিয়ামত হল ঘুম বা নিদ্রা। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمِنْ آيَاتِهِ مَنَامُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَاؤُكُمْ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَسْمَعُونَ (23)
"আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে রাতে ও দিনে তোমাদের ঘুম এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ করা। নিশ্চয়ই এতে মনযোগী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।"— সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৩
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا (47)
"তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাতকে করেছেন তোমাদের জন্য আবরণ (পোশাক) এবং ঘুমকে করেছেন আরাম (ক্লান্তি দূরকারী) আর দিনকে করেছেন পুনরুত্থানের সময়।"— সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৪৭
সুতরাং ইসলামে বিছানায় ঘুমানোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব ও সুন্নাহ রয়েছে, যা মেনে চললে মানুষের ঘুমও ইবাদতে পরিণত হয়। আজকের এই মহতি সভায় বিছানায় শোবার আদব ও শিষ্টাচার সম্পর্কে আলোচনা করব ইন শা আল্লাহ।
১) অযূ করে বিছানায় যেতে হবে : আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
" إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ، فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ،
"যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের অযূর মতো অযূ করে নাও।" (সহিহ বুখারি, হাদিস-২৪৭)।
২) বিছানা ভালো করে ঝেড়ে নিতে হবে : আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَنْفُضْ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي مَا خَلَفَهُ عَلَيْهِ
তোমাদের কেউ বিছানায় শয়ন করলে সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের ভিতর দিক (বা যেকোনো কাপড়) দিয়ে বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে সেখানে কী এসেছে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস- ৬৩২০)।
৩) ডান কাতে শয়ন করতে হবে : আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إِذَا أَتَيْتَ مَضْجَعَكَ، فَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ، ثُمَّ اضْطَجِعْ عَلَى شِقِّكَ الأَيْمَنِ،
যখন তুমি ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাবে,তখন তুমি সলাতের ওযূর মত ওযূ করে নিবে এবং ডান কাতে শোবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস- ২৪৭)।
৪) উপুড় হয়ে ঘুমানো থেকে বিরত থাকবে : হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مُضْطَجِعٌ عَلَى بَطْنِي، فَرَكَضَنِي بِرِجْلِهِ وَقَالَ: «يَا جُنَيْدِبُ، إِنَّمَا هَذِهِ ضِجْعَةُ أَهْلِ النَّارِ»
আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,"আমি পেটের ওপর ভর দিয়ে (উপুড় হয়ে) শুয়েছিলাম, এমন সময় নবী করীম (সা.) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর পা দিয়ে আমাকে মৃদু ধাক্কা দিলেন এবং বললেন : হে জুনাঈদিব (আবু যারের আসল নাম)! নিশ্চয়ই এভাবে শুয়ে থাকা তো জাহান্নামীদের শোয়ার পদ্ধতি" (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৭২৪, সহীহ)।”
৫) ঘুমানোর আগে দুআ পাঠ করতে হবেঃ
ক) দুআ-১ : «بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا» উচ্চারণ: "আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহয়া"।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি (ঘুমাই) এবং জীবিত (জাগ্রত) হই।" (সহিহ বুখারি, হাদিস- ৬৩২৪)।
খ) দুআ -২ :اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، اللَّهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ উচ্চারণ :"আল্লাহুম্মা আসলামতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদতু আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজা'তু জাহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়া লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আল্লাহুম্মা আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আনযালতা, ওয়া বিনাবিইয়িকাল্লাযী আরসালতা।"
অর্থ : "হে আল্লাহ! আমি আমার চেহারাকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার সমস্ত বিষয় আপনার ওপর ন্যস্ত করলাম এবং আমার পিঠকে আপনার আশ্রয়ে সঁপে দিলাম—আপনার রহমতের আশায় এবং আপনার আযাবের ভয়ে। আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল ও মুক্তির উপায় নেই। হে আল্লাহ! আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর।" বুখারী-২৪৭।
গ) তিন কুল ও আয়াতুল কুরসি :
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ، ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيهِمَا: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الفَلَقِ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ، يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ "
নবী করীম (সা.) প্রতি রাতে যখন তাঁর বিছানায় ঘুমাতে যেতেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাতের তালু একত্র করতেন। তারপর সেখানে ফুঁ দিতেন এবং এই সূরাগুলো পাঠ করতেন: 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস), 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক' (সূরা ফালাক) ও 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস' (সূরা নাস)। এরপর দুই হাতের তালু দিয়ে তাঁর শরীরের যতটুকু সম্ভব হাত বুলিয়ে দিতেন। হাত বুলানো শুরু করতেন তাঁর মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে। এভাবে তিনি তিনবার করতেন (বুখারী-৫০১৭)।"
৬. প্রদীপ নিভাতে হবে এবং দরজা বন্ধ করতে হবে। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
«أَطْفِئُوا المَصَابِيحَ إِذَا رَقَدْتُمْ، وَغَلِّقُوا الأَبْوَابَ، وَأَوْكُوا الأَسْقِيَةَ، وَخَمِّرُوا الطَّعَامَ وَالشَّرَابَ - وَأَحْسِبُهُ قَالَ - وَلَوْ بِعُودٍ تَعْرُضُهُ عَلَيْهِ»
"তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে, তখন প্রদীপগুলো নিভিয়ে দাও, দরজাগুলো বন্ধ করো, পানির পাত্রের মুখ ঢেকে রাখো এবং খাবার পাত্রগুলো ঢেকে দাও।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬২৪)।
পরিশেষে বলতে চাই যে, বিছানা কেবল শারীরিক ক্লান্তি দূর করার মাধ্যম নয়, বরং একজন মুমিনের জন্য এটি ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক পবিত্র স্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সুন্নাতগুলো একদিকে যেমন ক্ষতিকর পোকা-মাকড় ও অনিষ্টতা থেকে আমাদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে ঘুমের মাঝেও আল্লাহর যিকিরে অন্তরকে সজীব রাখে। তাই প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার সময় এই ছোট ছোট আদবগুলো মেনে চলা আমাদের দুনিয়াবী কল্যাণ ও পরকালীন সাওয়াব অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের তাওফীক দাও, আমীন। وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِين
Last edited: