আকিদা ইসলামের প্রমাণিকতার আল্টিমেট ভ্যাকসিন

Joined
Nov 17, 2023
Threads
409
Comments
534
Solutions
1
Reactions
13,179
‎অনেক সময় আমাদের দ্বীনি ভাইয়েরা অমুসলিমদেরকে দেখতে পায় যে তারা ইসলাম ধর্মের সত্যতার উপর প্রশ্ন তুলছে কিন্তু তারা তাদের জবাব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেনা। এইবার দ্বীনি ভাইদের জন্য আমি এই পোস্টটি করছি। কোন দ্বীনি ভাই বা বোন যদি এটি মুখস্থ করতে পারেন তাহলে ইনশাআল্লাহ কখনো কোন অমুসলিম আপনার সাথে ইসলামের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক করতে পারবে না।


‎একজন মুসলিম ব্যাক্তি রাস্তা দিয়ে চলছিলেন। হটাৎ তিনি দেখতে পারলেন একজন ব্যক্তি কিছু নিরক্ষর মুসলিমদের মাঝে সৃষ্টি কর্তা বলতে কিছুই হয়না এটার প্রচার করছে। মুসলিম ব্যক্তি তার নিকটে গিয়ে বললেন:-

‎মুসলিম:- সুভ সকাল। আপনার সমস্যা কি? আপনি কেন এই মানুষদের ভুল তথ্য দিচ্ছেন?

‎অমুসলিম:-আমি তো ভুল তথ্য দেইনি। আমি বলেছি সৃষ্টি কর্তা বলতে কেউ নেই। মানুষ বিবর্তন এর মধ্যে এটা তার সর্বশেষ রূপ।মানুষ পূর্বে বানর ছিল।

‎মুসলিম:- আপনি কি কখনো দেখেছেন যে, মানুষ বানর ছিল? নাকি এটা শুধু আপনার ধারণা? আপনার নিকট কোন প্রমাণ আছে কি? এটা আবার কেমন বিবর্তন যে, মানুষ পূর্বে বানর ছিল এবং তারপূর্বে অন্য কিছু কিন্তু হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেলো কিন্তু মানুষ রূপ পরিবর্তন করে কোন অন্য প্রাণীর রূপ নিল না? যেমন:- মানুষ=পেঁচা, মানুষ=গরু ইত্যাদি?

‎অমুসলিম:- আসলে আমি দেখিনি কিন্তু মানুষ ও বানরের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে তাই ধরা হয় যে মানুষ পূর্বে বানর ছিল।

‎মুসলিম:- এটা একটা গবেষণা ও থিওরি এবং অনুমান ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি দৃঢ়ভাবে বলতে পারেন না যে মানুষ বানর ছিল কারণ আপনি তা দেখেন নি। এবং মানুষ বিবর্তন এর মাধ্যমে অন্য প্রাণীর রূপ ধারণ করেনি। যেমন মানুষ পূর্বে বানর ছিল আপনি বললেন। এখন বানর এবং মানুষ দুজনই অবস্থান করছে অর্থাৎ মানুষ বিবর্তন এর মাধ্যমে বানর থেকে নামে ভিন্ন আলাদা একটি প্রাণী হয়েছে এবং নাম পাল্টিয়ে ফেলেছে বানর=মানুষ। অথচ হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ বিবর্তন হয়ে অন্য কোন নাম ধারণ করলো না! তাহলে তোমার দাবি মিথ্যা মানুষের বিবর্তন সম্পর্কে এবং শুধু ধারণা। যেদিন মানুষ বিবর্তন নিয়ে অন্য কোন প্রাণীর রূপ ও নাম ধারণ না করে ততদিন তোমার দাবি মিথ্যা ও ধারণা। আর কিছু মিল থাকলেই প্রমাণ হয়না যে মানুষ বানর ছিল। তাহলে বিড়াল অবশ্যই গরু ছিল মনে হয়! কারণ উভয়ের প্রচুর মিল। তাই তোমার দাবি মিথ্যা।



‎অমুসলিম:- আচ্ছা। আমি তোমার এই কথা মেনে নিলাম কিন্তু যদি সৃষ্টি কর্তা বলতে কিছু থাকতো তাহলে মানুষের উপর এতো অন্যায় কিভাবে করতে পারে সৃষ্টি কর্তা? যেমন:- ছোট ছোট বাচ্চা রেখে পিতা-মাতার মৃত্যু, কত নিরীহ মানুষ হত্যা করে হচ্ছে। যদি সৃষ্টিকর্তা থাকতো তাহলে কিভাবে তিনি অপরের উপর জুলুম করতে বাঁধা দিচ্ছে না?

‎মুসলিম:- উত্তর হলো যে, সৃষ্টি কর্তা মানুষ কে পরিক্ষা করার জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি দেখতে চান যে কে পৃথিবীতে তার আদেশ মান্য করে এবং কে তার অবাধ্য। পরিক্ষা শেষ হলেই কিয়ামতের দিন সকলের মধ্যে সুবিচার করা হবে।

‎অমুসলিম:- তাহলে আল্লাহ পরিক্ষা করার জন্য অন্যের উপর জুলুম-নির্যাতন হতে দিচ্ছে! আপনি কি এটাই বলছেন?

‎মুসলিম:- আমি তো বলিনি আল্লাহ জুলুম নির্যাতন করছেন! বরং আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। ধরুন আপনি কাউকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে চুক্তি করলেন যে, আমি ঠিক ৩০ দিন পর দুপুর ২ টার সময় এই গাড়ি তোমার থেকে নিয়ে নেব তোমার যে অবস্থায় থাকুক না কেন। এবং এর উপর আপনি লিখিত চুক্তি করলেন। ঠিক ৩০ তম দিন আপনি তার কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তার মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং তার মেয়ে এবং জামায় সেই গাড়ি দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আপনি গিয়ে তাকে আপনার গাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র দেখালেন এবং গাড়ি কেরে নিলেন। এতে মেয়ে-জামায়ের কত কষ্ট। মেয়ে পিতা সেই ভাড়াটিয়ার মান সম্মান সব ধুলই মিটিয়ে দিলেন। এটা কি অন্যায় হয়েছে এবং সরকারী আইন কি তাকে শাস্তি দিতে পারে?

‎অমুসলিম:- এটা সেই ভাড়াটিয়ার দৃষ্টিতে দেখলে অন্যায় কিন্তু যদি নিরপেক্ষ হয়ে বিচার কর তাহলে কোন অন্যায় নয়। কারণ গাড়ির মালিক তার চুক্তি অনুযায়ী গাড়ি নিয়েছেন। তাই গাড়ির মালিক জুলুম কারী নন এবং তিনি শাস্তি পাবেন না।

‎মুসলিম:- আপনি ঠিক বলেছেন। ঠিক একই ভাবে আল্লাহ তায়ালা কোরআন এবং হাদিসের বিভিন্ন স্থানে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জন্ম মৃত্যু তিনি সৃষ্টির অনেক সময় পূর্বে নির্ধারণ করেছেন। তাই যখন কোন ব্যক্তির মৃত্যুর চুক্তিনামা চলে আসে তখন আল্লাহ তার মৃত্যু দেন। আল্লাহ তাআলা এখানে তার চুক্তিনামা অনুযায়ী কাজ করছেন। তাহলে সেই গাড়ির মালিক যেভাবে জুলুম-নির্যাতন কারী নয় তেমনি আল্লাহ তায়ালা জুলুম-নির্যাতন কারী নয়।

‎অমুসলিম:- থামুন স্যার! একটু ব্রেক মারেন! সেই গাড়ির মালিকের সাথে ভাড়াটিয়ার চুক্তি হয়েছিল। সেই গাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া দুজনই একমত ছিলেন কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তো নিজেই সৃষ্টি করে মানুষের অনুমতি ব্যতীত মেরে দেয়। তাহলে এখানে আল্লাহ ও গাড়ির মালিক এক হলো কিভাবে স্যার?

‎মুসলিম:- ভালো প্রশ্ন করেছেন জনাব! আল্লাহ তাআলা এই বিষয়েরও উত্তর দিয়েছেন । তিনি সৃষ্টি করার পর সকলকে রূহের জগতে একত্রিত করে সাক্ষ্য নিয়েছেন তাকে রব হিসেবে মেনে নেওয়ার এবং সবাই তাকে রব হিসেবে মেনে নিয়েছে। তাই আল্লাহ তায়ালা পূর্বেই তাদের মতামত নিয়েছেন এবং তারা তার যাবতীয় আদেশ- নিষেধ ক্ষমতা সবই মেনে নিয়েছে। তাই আল্লাহ তায়ালা জুলুম-নির্যাতন কারী নয়।

‎অমুসলিম:- আপনি একথা কি করে বলছেন যে, আল্লাহ এরূপ বলেছেন এরূপ করেছেন? আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে?

‎মুসলিম:- কেন! আমার কাছে" কুরআন" আছে এবং আমি সেখানে থেকেই বলছি।

‎অমুসলিম:- দুনিয়াতে কত ধর্ম! ইসলাম, খৃষ্টান, ইহুদি, শিখ, হিন্দু, বৌদ্ধ কোন ধর্ম সঠিক? এবং তোমাদের ইসলাম যে সত্য ধর্ম এর প্রমাণ আছে কি? তোমরাও দাবি করো আর অন্যরাও দাবি করো। এটাও তো হতে পারে! যে, হিন্দু ধর্ম ঠিক বা অন্য ধর্ম আর ইসলাম ভুল। ইসলামের পক্ষে তোমার কাছে কোন প্রমাণ আছে কি?

‎মুসলিম:- হ্যাঁ। ইসলাম ঠিক এবং অন্য সকল ধর্ম ভুল এর প্রমাণ আছে আমার কাছে। আমার প্রমাণ হলো "আল কুরআন"। পৃথিবীর কোন গ্রন্থে এই শব্দ টুকু পাবে না যে, যদি তোমরা এই গ্রন্থকে মিথ্যা মনে কর তাহলে এর মতো তৈরি করো তাহলে তোমাদের কথা মেনে নিব। মানুষের রচিত কোন গ্রন্থই এরূপ দুঃসাহস দেখাতে পারে না কারণ যা মানুষ তৈরি করতে পারে তা একদিন না হয় একদিন অন্য কেউ তৈরি করতে পারে। তাই কোন গ্রন্থ তেই এই চ্যালেঞ্জ করার কেউ দুঃসাহস দেখাতে যায়নি। অপরদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআন এর পূর্বে যত গ্রন্থ নাজিল করেছেন তিনি কোথাও এই কথা বলেননি যে এই গ্রন্থ তৈরি করতে পারবে না কারণ, পূর্বে নবীদের পরম্পরা জারি ছিল। যদি কোন গ্রন্থ বিকৃত হয়ে যেত তাহলে আল্লাহ তায়ালা অপর নবী পাঠিয়ে তা সংশোধন করতেন কিন্তু যখন তিনি নবীদের পরম্পরা বন্ধ করলেন তখ তিনি নবীর অনুপস্থিতিতে তার সত্য ধর্ম চেনার জন্য কুরআন দিলেন এবং ঘোষণা দিলেন কেউ যদি এরূপ তৈরি করতে পারে তাহলে তার কথা গ্রহণ করা হবে এবং ইসলাম ধর্ম মিথ্যা তা প্রমাণিত হয়ে যাবে। কিন্তু আজ ১৪০০ বছর পেরিয়ে গেছে কত বিজ্ঞ মনিষি চলে গেছে কিন্তু কেউ এই চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে পারে নি। এমনকি তুমি যদি ভন্ড নবীদের দেখ যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর নবুওতের দাবি করেছে তারাও কিছু তৈরি করতে পারে নি কারণ এরূপ কোন মানুষ তৈরি করতেই পারে না। অন্য কোন ধর্ম কি তার সঠিকতার উপর কোন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে যে, দুই লাইন সাহিত্য বা সংস্কৃতি ভাষায় শ্লোক তৈরি করো তাহলে মেনে নেওয়া হবে যে আমার ধর্ম মিথ্যা? আসলে কেউ এই চ্যালেঞ্জ করে না কারণ তারা যানে এতে বিপরীতে যাবে। কিন্তু কুরআন শুরু থেকেই এই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে কারণ কুরআন কোন মানুষের তৈরি গ্রন্থ নয় বরং আল্লাহর নাযিলকৃত একটি আশ্চর্য গ্রন্থ যার মতো অথবা যার চেয়ে উৎকৃষ্ট ভাবে কেউ বর্ণনা করতে পারে নি। পৃথিবীর ইতিহাসে ১ মাত্র গ্রন্থ যা তার ধর্মের সঠিকতার উপর সকল সৃষ্টি কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে। তুমি যদি কোরআন পর তাহলে ৩ পারার ২ পৃষ্ঠাতে ইব্রাহিম আঃ এর একটি কাহিনী পাবে যখন বাদশা ইব্রাহিম আঃ কে জিজ্ঞেস করেছিল তোমার রব কে? ইব্রাহিম আঃ উত্তর দিয়েছিলেন আল্লাহ । যিনি সূর্য কে পূর্ব দিকে থেকে উদিত করে এবং তারপর ইব্রাহিম আঃ তাকে চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমে উদিত করতে বলে এবং তাকে বলে যদি বাদশা ইব্রাহিম আঃ কে ভুল প্রমাণিত করে সূর্য পশ্চিমে থেকে উদিত করতে পারে তাহলে বাদশা যিতে যাবে। কিন্তু বাদশা নিশ্চুপ হয়ে গেলেন এবং ইব্রাহিম আঃ কে এই প্রশ্নটিও করলেন না যে তুমি যদি আমায় সূর্য পশ্চিম দিকে থেকে উদিত করে দেখাতে পারো তাহলে আমি মুসলমান হয়ে যাব। বাদশাহর এটা না বলার কারণ হলো:- এটা একটি চ্যালেঞ্জ। যদি বাদশা একবার এই কথা বলতেন তাহলে ইব্রাহিম আঃ আল্লাহর রহমতে এটা নিমিষেই করে দিতেন তাই বাদশা ইব্রাহিম কে চ্যালেঞ্জ করে নি। সে রূপ কোন মানব রচিত গ্রন্থ এই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে না যে এরূপ করতে পারলে আমি মেনে নেব এবং আমি মিথ্যা বলে সাব্যস্ত হবো কারণ যা কোন মানব রচিত তা অন্য মানুষের তৈরি করা কঠিন হতে পারে কিন্তু অসাধ্য নয়। কিন্তু কুরআন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং বলেছে একে বাতিল প্রমাণ কর এবং এর চেয়ে ভালো বা এরূপ কিছু লিখে আনো সমস্ত সৃষ্টি মিলে। এখন পর্যন্ত ভন্ড নবী সহ বড় বড় জ্ঞানী কেউ এটাকে অতিক্রম করতে পারে নি। আল্লাহ সর্বশক্তিমান।

‎(((এই কথা শুনে সকল অমুসলিমই উত্তর হীন হয়ে যাবে। যদি কোন অমুসলিম এটি করার চেষ্টাও করে তাও সে সফল হতে পারবে না। কারণ:- যদি কোন অমুসলিম কুরআনের সর্বছোট সূরা কাওসার এর অনুরূপ নিয়ে আসার চেষ্টা করে তাহলে,

‎ (১) তার আনিত বাক্যের অক্ষর সংখ্যা দেখা হবে। যদি তা সূরা কাওসার এর অক্ষরের চেয়ে বেশি হয় তাহলে তা বাতিল হয়ে যাবে।

‎(২) তারপর দেখা হবে তার আনিত বাক্যের মধ্যে আরবি ব্যাকারণ গত কোন ভুল আছে কিনা। যদি কোন আরবি ব্যাকারণ গত ভুল থাকে তাহলে তা বাতিল হয়ে যাবে।

‎(৩) তারপর দেখা হবে তার আনিত বাক্যের মধ্যে সূরা কাওসার এর মধ্যে যতগুলো তাজভীদ আছে তার কম আছে কিনা। যেমন:- গুনাহ, মদ্দে আসলি, "র " অক্ষরের পোর ও বারিক ইত্যাদি এবং এগুলো এই কয়টি অক্ষরের মধ্যে কতবার ব্যবহার করা হয়েছে। যদি তার আনিত বাক্যের মধ্যে কম থাকে তাহলে বাতিল হয়ে যাবে।

‎(৪) যদি তার অনিত বাক্যের মধ্যে সূরা কাওসার তেলোয়াত করার মত যে মাধুর্য ও ছন্দ এবং সুর না থাকে তাহলে তা বাতিল হয়ে যাবে।

‎(৫) যদি তার আনিত বাক্যের মধ্যে সূরা কাওসার এর মতো সুন্দর অর্থ না থাকে তাহলে তা বাতিল হয়ে যাবে।

‎এই পরিক্ষায় এখন পর্যন্ত কেউই কুরআন কে হারাতে পারে নি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও পারবে না কারণ কুরআন কোন মানুষের তৈরি করা গ্রন্থ নয় এবং কোন বিকৃত করা গ্রন্থও নয়))))

‎অমুসলিম:- মেনে নিচ্ছি যে, কুরআন এর মত গ্রন্থ প্রনয়ন করতে আজ পর্যন্ত কেউ সক্ষম হয়নি এবং আমিও সক্ষম নয়। কিন্তু তুমি কিভাবে বলতে পারো যে এটা আল্লাহ তৈরি করেছেন এবং তোমাদের নবী তৈরি করেন নি? হতে পারে তোমরা যাকে নবী মানো সে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী তাই সে তৈরি করেছে এবং তার জ্ঞানের সমান কেউ নেই তাই কেউ তৈরি করতে পারে নি?

‎মুসলিম:- ভালো প্রশ্ন করেছো। তুমি বলছো যে, আমি তুমি আর পৃথিবীর সকল মানুষই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে কম জানি তাই আমরা কুরআন তৈরি করতে পারি না। আর যেহেতু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের চেয়ে বেশি জানেন তাই তিনি কুরআন তৈরি করেছেন। অতএব কুরআন মানব রচিত গ্রন্থ। তাই না?

‎অমুসলিম:- হ্যাঁ হ্যাঁ তাই।

‎মুসলিম:- পূর্বেও তোমাকে বলা হয়েছে যে, মানব রচিত গ্রন্থের মধ্যে এরূপ ঘোষণা থাকে না। পৃথিবীতে মিলিয়ন, বিলিয়ন ও অগণিত গ্রন্থ রয়েছে কোন গ্রন্থ এই চ্যালেঞ্জ করেনি শুধু মাত্র কুরআন ব্যাতিত। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বেও গ্রন্থ রচনা হয়েছে এবং তার মৃত্যুর ১৪০০+ বছর পেরিয়ে গেছে আর কত মিলিয়ন, বিলিয়ন ও অগণিত গ্রন্থ রচনা হয়েছে কিন্তু কোন গ্রন্থে এই চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়নি। যদি কুরআন মানব রচিত গ্রন্থ হতো তাহলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কেউ একটি গ্রন্থ রচনা করে এরূপ চ্যালেঞ্জ করলেই তো হয় কিন্তু কেউ এটি করতে পারে নি কারণ কুরআন কোন মানুষের তৈরি করা গ্রন্থ নয়। এখন আসো দ্বিতীয় উত্তরে:- তুমি বলছো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের চেয়ে বেশি জ্ঞানী মানুষ। তাই না?

‎অমুসলিম:- হ্যাঁ। আমি তো এটাই বারবার বলছি কিন্তু তুমি এটার উত্তর দিচ্ছনা।

‎মুসলিম:- তোমার এই কথার উত্তর হলো:- তুমি আমাকে আগে বল যে, জ্ঞানহীন ব্যাক্তির জন্য কি জরুরি? (১) জ্ঞানহীন ব্যক্তির জন্য জ্ঞানী ব্যক্তি কে অনুসরণ করা ও কথা মান্য করা?(২) জ্ঞানহীন ব্যক্তির জন্য জ্ঞানহীন ব্যক্তি কে অনুসরণ করা ও মান্য করা?

‎অমুসলিম:- জ্ঞানহীন ব্যক্তির জন্য জ্ঞানী ব্যক্তি কে অনুসরণ করা ও কথা মান্য করা জরুরি।

‎মুসলিম:- তাহলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞানী এবং তোমার কথা অনুযায়ী তিনি কুরআন তৈরি করেছেন এবং পৃথিবীর অন্য কেউ তার মতো জ্ঞানী নয় তাই পৃথিবীর সকলেই কুরআন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমিও কুরআন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছি এবং আমিও জ্ঞানহীন। আমি জ্ঞানহীন হওয়ার জন্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো জ্ঞানী ব্যক্তির কথা মান্য করি ও অনুসরণ করি। আর তুমিও আমার মতো একজন জ্ঞানহীন যে, কুরআন তৈরি করতে পারো না। তাহলে তুমি কেন জ্ঞানহীন হয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ ও কথা মান্য না করে যারা তোমার আমার মতো জ্ঞানহীন ও যারা এতটা জ্ঞানী নয় যে, কুরআন তৈরি করতে পারে, তাদের কেন তুমি অনুসরণ করছো? জ্ঞানহীন ব্যক্তি জ্ঞানী কে অনুসরণ করবে নাকি জ্ঞানহীন ব্যক্তি তার মতই জ্ঞানহীন কে অনুসরণ করবে?


‎((( এখন সকল অমুসলিমই একদম থেমে যাবে এবং কোন কথা বলতে পারবে না কারণ তার কাছে কোন উত্তর নেই। যদি অমুসলিম ব্যাক্তি আবার শুরু করে যে, আল্লাহ মানুষের উপর এই অত্যাচার করে এই নির্যাতন করে তাহলে তাকে প্রথমে যেভাবে শুরু করেছিলে সেভাবে বলবে যে, দুনিয়া পরিক্ষার জন্য এবং আল্লাহ সকলকে রূহের জগতে একত্রিত করে সাক্ষ্য নিয়েছেন। এরপর তাকে কুরআনের দিকে নিয়ে আসবে এবং উপরের মত বিতর্ক করবে। যদি কোন সাইন্সের কথা বলে তাহলে বলবে এটা শুধু তোমার সাইন্সের থিউরি ও ধারণা যার কোন প্রমাণ নেই। একটা কম্পিউটার একা একা হতে পারে না তাহলে এই পূরো বিশ্ব সুনিপুণ ভাবে কিভাবে তৈরি হলো! যেখানে একটু এদিক-সেদিক হলে পুরো বিশ্বই ধ্বংস হয়ে যাবে? যদি সাইন্টেসরা বলে যে, তাহলে আল্লাহ তো কত বড় আশ্চর্য! তাহলে কি তারও কোন স্রষ্টা আছে? তখন মুসলিম ব্যক্তি উত্তরে বলবে, এভাবে তো অংক কখনও শেষ হবে না। আপনি এখানে ৩ দিয়ে ১০ কে ভাগ করছেন। ৩ দিয়ে ১০ অংক চিরকাল চলতেই থাকবে। তাই আপনাকে আল্টিমেটলি কাউকে মানতেই হবে আর তিনিই হলেন একক স্রষ্টা। যদি অমুসলিম আবার বলে যে, আমি আল্লাহ কে কেন মানবো? আমি তো অন্য দেব দেবিকেউ মানতে পারি?। তখন মুসলিম বলবে যে কারণ, তুমি যদি নিজের খেয়াল মত মানেন তাহলে এটা শুধু তোমার খেয়াল বা ধারণা। এটা সত্য নয় এটা তুমিও জানো। আর তুমি আল্লাহ কে মানবে কোন খেয়াল ও ধারণা দিয়ে নয় বরং স্পষ্ট মুজিজা কুরআন দিয়ে। তারপর মুসলিম ব্যক্তি আবার উপরে বর্ণিত কুরআনের প্রমাণ তুলে ধরবে। এভাবেই সকল বিতর্ক চলতে থাকবে এবং একজন সাধারণ মুসলিম সর্বদা জয়ী থাকবে। আল্লাহু আকবার)))

‎পরিশেষে দোয়া করি হে, আল্লাহ। তুমি আমাদের সকলকেই সবসময় তোমার সন্তুষ্টির মধ্যে থাকার তৌফিক দান কর। আমিন।
 
Back
Top