Altruistic
Uploader
Salafi User
- Joined
- Nov 17, 2023
- Threads
- 411
- Comments
- 529
- Solutions
- 1
- Reactions
- 13,508
- Thread Author
- #1
মৃত ব্যক্তির জন্য আমাদের কি করনীয় তাকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন সংশয়ের শিকার হয়ে থাকি। আশা করি আজকে আমি আল্লাহর বিশেষ রহমতে সকল সংশয় দূর করতে পারবো এবং কুরআন ও হাদীসের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় মূলক আলোচনা উপস্থাপন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
মৃত্যু ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যা যা করা যায় তাকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি যেমন:-
(১) ঋণ,
(২) নফল সাদকা।
(১) ঋণ:- এগুলো হলো এমন কিছু বিষয়াবলি যেগুলো করা অপরিহার্য। এগুলো না করলে মৃত ব্যক্তির গলায় ঝুলতে থাকবে। এগুলো কোন সাদকা নয় বরং ঋণ। যেমন:-
(ক)ঋণ পরিশোধ:-
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির রূহ ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার ঋণের সাথে বন্ধক অবস্থায় থাকে। ( সহীহ, তিরমীজি ১০৭৮ )
এটা বান্দার হক। এটা কোন নফল দান সাদকা নয়।
(খ) সাওম পালন করা:- যদি মৃত্যু ব্যক্তির উপর ফরজ বা ওয়াজিব কোন সাওম থাকে তাহলে তা কোন সাদকা নয় মৃত্যু ব্যক্তির জন্য বরং আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা। কারণ:- হাদীসে এসেছে,
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ হতে সওম আদায় করবে। ( বুখারী ১৯৫২,মুসলিম ১৩/২৭, হাঃ ১১৪৭)
এরূপ হজ্জ পালন করা, মানত পূরণ করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো কোন সাদকা নয় বরং মৃত ব্যক্তির উপর ঋণ। এগুলো পালন না করলে মৃত ব্যক্তির ঋণে থেকে যাবে।
(২) নফল সাদকা:- এটা এমন কাজকে বলা হয় যা মৃত্যু ব্যক্তির উপর ঋণ নয় কিন্তু নফল সাদকা হিসেবে মৃত ব্যক্তিকে উপকৃত করতে পারে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:-
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসে বলল, আমার মা আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার মনে হয় তিনি কথা বলতে পারলে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করি তার সাওয়াব কি তিনি পাবেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ পাবে।
( সহীহ : বুখারী ১৩৮৮, মুসলিম ১০০৪, আবূ দাঊদ ২৮৮১, নাসায়ী ৩৬৪৯, ইবনু মাজাহ্ ২৭১৭, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৮১৩, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১২০৭৭, আহমাদ ২৪২৫১, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৪৯৯, ইবনু হিব্বান ৩৩৫৩, মিশকাত ১৯৫০)
উপরে উল্লিখিত হাদীসে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, নফল সাদকা মৃত ব্যক্তির নিকট পৌছায়। এখন প্রশ্ন হলো সব নফল সাদকা কি মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়? আম (সাধারন)উত্তর হলো:- না। কারণ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:-
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যখন মারা যায় তখন তার ’আমল বন্ধ (নিঃশেষ) হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি ’আমলের সাওয়াব (অব্যাহত থাকে): (১) সদাক্বায়ি জারিয়াহ্, (২) জ্ঞান- যা থেকে মানুষ উপকৃত হতে থাকে এবং (৩) সুসন্তান- যে তার (পিতা-মাতার) জন্য দু’আ করে। (সহীহ : মুসলিম ১৬৩১, মিশকাত ২০৩)।
এটি একটি আম (সাধারণ) হাদীস।এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে স্বয়ং বলে দিয়েছেন যে, এই তিনটি কাজ ছাড়া অন্য কোন কিছুতেই মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌছানো যায় না। কিছু হাদীসের মধ্যে নলকূপ, বৃক্ষরোপণ, মসজিদ নির্মাণ ইত্যাদি ইত্যাদি যা বর্ণিত হয়েছে তাকে তুমি যদি সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টি দাও তাহলে দেখতে পাবে যে, তা সাদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ চলমান সাদকা। অর্থাৎ মূল বিষয় হলো ৩ টি পদ্ধতির বাহিরে মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌছানো যায় না যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।এই আম নিষেধাজ্ঞা সর্বদা সবকিছুতেই প্রয়োগ হবে ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ কোন খাস (নির্দিষ্ট) হাদীস এসে তাকে আম হাদীসের নিষেধাজ্ঞা থেকে খাস করে না নিয়ে যায়। তাই আম হাদীস সর্বদা আমলে থাকবে এবং উপরে উল্লেখিত ৩ টি পদ্ধতির বাহিরে মৃত ব্যক্তির কাছে সাদকা পৌছানোকে অশ্বিকার করবে। তবে যদি কোন নির্দিষ্ট আমলের ব্যাপারে খাস হাদিস পাওয়া যায় তাহলে তা আম হাদীসের উপর যিয়াদাহ (বৃদ্ধি) করবে। এখন আমরা তার কয়েকটি উদাহরণ দেখবো।
(ক) দুআ করা:- দুআ করাকে যদি আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ নিষেধাজ্ঞার হাদীসের আলোকে দেখি তাহলে শুধুমাত্র নেক সন্তানের দুআ মৃত ব্যক্তির নিকট পৌছাবে কারণ নেক সন্তানের দুআ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৩ টি কারণের একটি। অন্য কোন ব্যক্তির কোন দুআ পৌঁছবে না মৃত ব্যক্তির নিকট কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম হাদীসের আলোকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিয়েছেন যে, এই ৩ টি পদ্ধতির বাহিরে যতই কিছু কর কিছুই পৌঁছবে না। নেক সন্তানের দুআ ব্যতীত অপর কেউ এই রাস্তায় নেই। তাই এই নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের সাধারণ হুকুমের আলোকে শুধু নেক সন্তানের দুআ পৌঁছবে। এখন আমরা দেখবো যে এই নিষেধাজ্ঞা মূলক আম হাদীসকে কি কিছু খাস দলিল এসে মৃত ব্যক্তির নিকট নেক সন্তানের দুআ ব্যতীত অপরের দুআ এসে নির্দিষ্ট করে?। আমরা দেখতে পাই যে, হ্যাঁ খাস দলিল নির্দিষ্ট করে যেমন:- জানাযার সালাত। আমরা সবাই জানাযার সালাতে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করে থাকি। এছাড়াও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:-
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইয়্যিতের দাফন সম্পন্ন করে অবসর গ্রহণকালে কবরের নিকট দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমাদের ভাইয়ের জন্য (আল্লাহ তা’আলার নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা কর ও দু’আ কর, যেন তাকে এখন (মালায়িকার প্রশ্নোত্তরে) ঈমানের উপর সুদৃঢ় থাকার শক্তি-সামর্থ্য দেন। কেননা এখনই তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।
(সহীহ : আবূ দাঊদ ৩২২১, সহীহুল জামি‘ ৪৭৬০, মিশকাত ১৩৩)।
উপরের হাদীস দ্বারা দেখতে পায় যে মৃত ব্যক্তির কাছে খাস হাদীস দিয়ে প্রমাণিত যে মৃত ব্যক্তির কাছে দুআ পৌঁছবে এবং উপকৃত করবে।
এছাড়াও কুরআনের অনেক আয়াত রয়েছে ও হাদীস রয়েছে যা প্রমাণিত করে যে মৃত ব্যক্তির নিকট দুআ পৌঁছবে।
এখন, এগুলো হলো খাস কিছু স্থান। কিন্তু সব স্থানেই কি অপরের দুআ পৌঁছবে?
উত্তর হলো:- সমস্ত মুসলিম কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইজমা করেছে যে, সব অবস্থায় দুআ করা যায়। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মানুষ উঠতে-বসতে সর্বাবস্থায় জীবিত-মৃত সকলের জন্য দুআ করে আসছে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ও তার পরবর্তী মহান মানুষ ও ইজমার আলোকে সবস্থানেই মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা সকলের জন্য বৈধ শুধুমাত্র কিছু অপবিত্র অবস্থায় বা অবস্থান ব্যতীত। আর যে বিষয়ে ঐক্যমত হয় তা অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য।
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, নেক সন্তানের দুআ ব্যতীত অপরের দুআ মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছবে না নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের আলোকে কিন্তু খাস দলিল এসে এটাকে নির্দিষ্ট করে। সুতরাং খাস দলিলের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দিষ্ট ৩ টি রাস্তা ব্যতীত অন্য রাস্তা দিয়ে মৃত ব্যক্তির নিকট অপরের বা যে কারো দুআর বিষয়টি পৌছানো হয়।
এভাবে আমরা যখন কোন কাজ মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য করবো তখন তা পরিক্ষা করে দেখবো।
এখন আমরা আমাদের যুগে এমন কাজকে পরিক্ষা করে দেখবো যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কেউ মৃত ব্যক্তির জন্য সাদকা হিসেবে পৌঁছানোর জন্য করেনি। যেমন:- বাস, ট্রাক ক্রয় করে বা তৈরি করে মৃত ব্যক্তির জন্য সাদকা করে দেওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বাস,ট্রাক এর বদলি হিসেবে উট,গাধা ইত্যাদি ছিল কিন্তু কেউ মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য এগুলো দিয়েছে বলে জানতে পারিনি। এখন আমরা এই আমল কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর ৩ টি রাস্তার সাথে মিলিয়ে দেখবো যে, তা কি মিলে যায় কি যায়না। যদি না মিলে যায় তাহলে তা করা জায়েয নয় কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছেন যে, ৩ টি রাস্তা ব্যতীত অন্য রাস্তা দিয়ে মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন যদি আমরা দেখি তাহলে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত "" সাদকায়ে জারিয়ার"" রাস্তার সাথে মিলে যায় কারণ যতোদিন এগুলো চলবে ততদিন তার সাদকা চলতেই থাকবে আলহামদুলিল্লাহ। অর্থাৎ এগুলো করা বৈধ ও সওয়াবের কাজ।
এখন আমরা সর্বশেষ আর একটি উদাহরণ দেখবো । এই কাজগুলো আমাদের সমাজে বেশি হয় কিন্তু এগুলো কি সহীহ সুন্নাহ সম্মত কি সম্মত কিনা। আর তা হলো:- """"ভুঁড়িভোজ"""।
আমাদের সমাজে অনেক ভুঁড়িভোজ অনুষ্ঠান করা হয় মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য কিন্তু সেগুলোকে আমরা পরিক্ষা করে দেখিনা। তারমধ্যে রয়েছে মৃত্যু মাহফিল, মিলাদ মাহফিল, ইফতার মাহফিল, সীরাত মাহফিল ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলোর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কোন অস্তিত্ব ছিল না। তাই এখন আমরা এগুলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের আলোকে পরিক্ষা করে দেখবো। যদি এগুলোকে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের আলোকে পরিক্ষা করি তাহলে এগুলো কোন পদ্ধতিতেই মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা হিসেবে পৌঁছে না। (১) এগুলো কোন উপকারী ইলম নয় (২) সাদকায়ে জারিয়ার অংশও নয় কারণ এখন খাওয়ার পর এগুলোর ঠিকানা পায়খানা (৩) নেক সন্তানের দুআ নয়।
এগুলো যদি নেক সন্তান মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য করে তাহলে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞার আলোকে বৈধ নয়। এখন যদি কোন নেক সন্তান মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে না করে শুধুমাত্র নিজের তরফ থেকে করে তাহলে এসব কিছুর মধ্যে যা বৈধ যেমন:- ইফতার মাহফিল, মানুষ খাওয়ানো ইত্যাদি ইত্যাদি এগুলোর সওয়াব সরাসরি নেক সন্তান পাবে।
তাহলে প্রশ্ন হলো মৃত ব্যক্তিরা পাবে না? উত্তর হলো:- যদি নেক সন্তান খালেস অন্তরে মৃতের পক্ষ থেকে না করে নিজের জন্য করে তাহলে, নেক সন্তানের পিতা-মাতার নিকট তা পৌঁছাবে ""সাদকায়ে জারিয়া "" হিসেবে কারণ নেক সন্তান স্বয়ং একজন পিতা-মাতার জন্য সাদকায়ে জারিয়া। কিন্তু যদি কোন সন্তান তার মৃত পিতা-মাতার উদ্যেশ্য নিয়ে করে তাহলে তা পৌঁছবে না বরং হারাম হবে।
এখন যদি আমরা আরো একটি দৃষ্টিকোণ দেখি যে, বিভিন্ন হাদীসে এসেছে যে, নেক সন্তান মৃত পিতা-মাতার উদ্যেশ্য নিয়ে বিভিন্ন আমল করেছে যেমন:- সাওম, হজ্জ, মানত ইত্যাদি ইত্যাদি আবার হাদীসের মধ্যে দেখা যায় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তার বংশধরকে নিজের সাথে যুক্ত করে কুরবানী দিয়েছেন। এগুলোর কি হবে?
ব্যাখ্যা হলো:- এগুলোকে ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো কিছু সাদকা নয় বরং ঋণ এবং কিছু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৩ টি পদ্ধতি ব্যতীত নিষেধাজ্ঞা মূলক আম (সাধারণ) হাদীসের উপর খাস (নির্দিষ্ট) হয়েছে। তাই খাস হওয়ার জন্য কেউ চাইলেই তার নিজের কুরবানীর সাথে জীবিত-মৃত সকল বংশধরকে শামিল করতে পারে কিন্তু পৃথক ভাবে শুধুমাত্র মৃতের জন্য কুরবানী দেওয়া সাব্যস্ত হয়নি তাই পৃথক ভাবে কুরবানী দেওয়া ও মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিভিন্ন আমল করা অবৈধ। তবে একটি বিষয় রয়েছে যে, কোন বিষয়ে যদি ইজমা হয়ে যায় তাহলে তা বৈধ কারণ ইজমা হলো অকাট্য দলিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে, এগুলোর বিষয়ে কোনো ইজমা নেই। তাই খাস দলিলে যা এসেছে তার বাহিরে অতিরিক্ত কিছু করে শুধুমাত্র মৃতকে সওয়াব পৌঁছানোর জন্য মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ভুঁড়িভোজ ও কুরবানী সহ ইত্যাদি কার্যক্রম বাতিল ও পরিত্যাজ্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল কে হেদায়েত দান করুন। আমিন।
মৃত্যু ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যা যা করা যায় তাকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি যেমন:-
(১) ঋণ,
(২) নফল সাদকা।
(১) ঋণ:- এগুলো হলো এমন কিছু বিষয়াবলি যেগুলো করা অপরিহার্য। এগুলো না করলে মৃত ব্যক্তির গলায় ঝুলতে থাকবে। এগুলো কোন সাদকা নয় বরং ঋণ। যেমন:-
(ক)ঋণ পরিশোধ:-
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন ব্যক্তির রূহ ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার ঋণের সাথে বন্ধক অবস্থায় থাকে। ( সহীহ, তিরমীজি ১০৭৮ )
এটা বান্দার হক। এটা কোন নফল দান সাদকা নয়।
(খ) সাওম পালন করা:- যদি মৃত্যু ব্যক্তির উপর ফরজ বা ওয়াজিব কোন সাওম থাকে তাহলে তা কোন সাদকা নয় মৃত্যু ব্যক্তির জন্য বরং আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা। কারণ:- হাদীসে এসেছে,
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সওমের কাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার অভিভাবক তার পক্ষ হতে সওম আদায় করবে। ( বুখারী ১৯৫২,মুসলিম ১৩/২৭, হাঃ ১১৪৭)
এরূপ হজ্জ পালন করা, মানত পূরণ করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো কোন সাদকা নয় বরং মৃত ব্যক্তির উপর ঋণ। এগুলো পালন না করলে মৃত ব্যক্তির ঋণে থেকে যাবে।
(২) নফল সাদকা:- এটা এমন কাজকে বলা হয় যা মৃত্যু ব্যক্তির উপর ঋণ নয় কিন্তু নফল সাদকা হিসেবে মৃত ব্যক্তিকে উপকৃত করতে পারে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:-
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এসে বলল, আমার মা আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার মনে হয় তিনি কথা বলতে পারলে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করি তার সাওয়াব কি তিনি পাবেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ পাবে।
( সহীহ : বুখারী ১৩৮৮, মুসলিম ১০০৪, আবূ দাঊদ ২৮৮১, নাসায়ী ৩৬৪৯, ইবনু মাজাহ্ ২৭১৭, মুয়াত্ত্বা মালিক ২৮১৩, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১২০৭৭, আহমাদ ২৪২৫১, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৪৯৯, ইবনু হিব্বান ৩৩৫৩, মিশকাত ১৯৫০)
উপরে উল্লিখিত হাদীসে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, নফল সাদকা মৃত ব্যক্তির নিকট পৌছায়। এখন প্রশ্ন হলো সব নফল সাদকা কি মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়? আম (সাধারন)উত্তর হলো:- না। কারণ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:-
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যখন মারা যায় তখন তার ’আমল বন্ধ (নিঃশেষ) হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি ’আমলের সাওয়াব (অব্যাহত থাকে): (১) সদাক্বায়ি জারিয়াহ্, (২) জ্ঞান- যা থেকে মানুষ উপকৃত হতে থাকে এবং (৩) সুসন্তান- যে তার (পিতা-মাতার) জন্য দু’আ করে। (সহীহ : মুসলিম ১৬৩১, মিশকাত ২০৩)।
এটি একটি আম (সাধারণ) হাদীস।এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে স্বয়ং বলে দিয়েছেন যে, এই তিনটি কাজ ছাড়া অন্য কোন কিছুতেই মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌছানো যায় না। কিছু হাদীসের মধ্যে নলকূপ, বৃক্ষরোপণ, মসজিদ নির্মাণ ইত্যাদি ইত্যাদি যা বর্ণিত হয়েছে তাকে তুমি যদি সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টি দাও তাহলে দেখতে পাবে যে, তা সাদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ চলমান সাদকা। অর্থাৎ মূল বিষয় হলো ৩ টি পদ্ধতির বাহিরে মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌছানো যায় না যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।এই আম নিষেধাজ্ঞা সর্বদা সবকিছুতেই প্রয়োগ হবে ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ কোন খাস (নির্দিষ্ট) হাদীস এসে তাকে আম হাদীসের নিষেধাজ্ঞা থেকে খাস করে না নিয়ে যায়। তাই আম হাদীস সর্বদা আমলে থাকবে এবং উপরে উল্লেখিত ৩ টি পদ্ধতির বাহিরে মৃত ব্যক্তির কাছে সাদকা পৌছানোকে অশ্বিকার করবে। তবে যদি কোন নির্দিষ্ট আমলের ব্যাপারে খাস হাদিস পাওয়া যায় তাহলে তা আম হাদীসের উপর যিয়াদাহ (বৃদ্ধি) করবে। এখন আমরা তার কয়েকটি উদাহরণ দেখবো।
(ক) দুআ করা:- দুআ করাকে যদি আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ নিষেধাজ্ঞার হাদীসের আলোকে দেখি তাহলে শুধুমাত্র নেক সন্তানের দুআ মৃত ব্যক্তির নিকট পৌছাবে কারণ নেক সন্তানের দুআ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৩ টি কারণের একটি। অন্য কোন ব্যক্তির কোন দুআ পৌঁছবে না মৃত ব্যক্তির নিকট কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম হাদীসের আলোকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিয়েছেন যে, এই ৩ টি পদ্ধতির বাহিরে যতই কিছু কর কিছুই পৌঁছবে না। নেক সন্তানের দুআ ব্যতীত অপর কেউ এই রাস্তায় নেই। তাই এই নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের সাধারণ হুকুমের আলোকে শুধু নেক সন্তানের দুআ পৌঁছবে। এখন আমরা দেখবো যে এই নিষেধাজ্ঞা মূলক আম হাদীসকে কি কিছু খাস দলিল এসে মৃত ব্যক্তির নিকট নেক সন্তানের দুআ ব্যতীত অপরের দুআ এসে নির্দিষ্ট করে?। আমরা দেখতে পাই যে, হ্যাঁ খাস দলিল নির্দিষ্ট করে যেমন:- জানাযার সালাত। আমরা সবাই জানাযার সালাতে মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করে থাকি। এছাড়াও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:-
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইয়্যিতের দাফন সম্পন্ন করে অবসর গ্রহণকালে কবরের নিকট দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমাদের ভাইয়ের জন্য (আল্লাহ তা’আলার নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা কর ও দু’আ কর, যেন তাকে এখন (মালায়িকার প্রশ্নোত্তরে) ঈমানের উপর সুদৃঢ় থাকার শক্তি-সামর্থ্য দেন। কেননা এখনই তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।
(সহীহ : আবূ দাঊদ ৩২২১, সহীহুল জামি‘ ৪৭৬০, মিশকাত ১৩৩)।
উপরের হাদীস দ্বারা দেখতে পায় যে মৃত ব্যক্তির কাছে খাস হাদীস দিয়ে প্রমাণিত যে মৃত ব্যক্তির কাছে দুআ পৌঁছবে এবং উপকৃত করবে।
এছাড়াও কুরআনের অনেক আয়াত রয়েছে ও হাদীস রয়েছে যা প্রমাণিত করে যে মৃত ব্যক্তির নিকট দুআ পৌঁছবে।
এখন, এগুলো হলো খাস কিছু স্থান। কিন্তু সব স্থানেই কি অপরের দুআ পৌঁছবে?
উত্তর হলো:- সমস্ত মুসলিম কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইজমা করেছে যে, সব অবস্থায় দুআ করা যায়। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মানুষ উঠতে-বসতে সর্বাবস্থায় জীবিত-মৃত সকলের জন্য দুআ করে আসছে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ও তার পরবর্তী মহান মানুষ ও ইজমার আলোকে সবস্থানেই মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা সকলের জন্য বৈধ শুধুমাত্র কিছু অপবিত্র অবস্থায় বা অবস্থান ব্যতীত। আর যে বিষয়ে ঐক্যমত হয় তা অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য।
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, নেক সন্তানের দুআ ব্যতীত অপরের দুআ মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছবে না নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের আলোকে কিন্তু খাস দলিল এসে এটাকে নির্দিষ্ট করে। সুতরাং খাস দলিলের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দিষ্ট ৩ টি রাস্তা ব্যতীত অন্য রাস্তা দিয়ে মৃত ব্যক্তির নিকট অপরের বা যে কারো দুআর বিষয়টি পৌছানো হয়।
এভাবে আমরা যখন কোন কাজ মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য করবো তখন তা পরিক্ষা করে দেখবো।
এখন আমরা আমাদের যুগে এমন কাজকে পরিক্ষা করে দেখবো যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কেউ মৃত ব্যক্তির জন্য সাদকা হিসেবে পৌঁছানোর জন্য করেনি। যেমন:- বাস, ট্রাক ক্রয় করে বা তৈরি করে মৃত ব্যক্তির জন্য সাদকা করে দেওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বাস,ট্রাক এর বদলি হিসেবে উট,গাধা ইত্যাদি ছিল কিন্তু কেউ মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য এগুলো দিয়েছে বলে জানতে পারিনি। এখন আমরা এই আমল কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর ৩ টি রাস্তার সাথে মিলিয়ে দেখবো যে, তা কি মিলে যায় কি যায়না। যদি না মিলে যায় তাহলে তা করা জায়েয নয় কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে বলেছেন যে, ৩ টি রাস্তা ব্যতীত অন্য রাস্তা দিয়ে মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন যদি আমরা দেখি তাহলে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত "" সাদকায়ে জারিয়ার"" রাস্তার সাথে মিলে যায় কারণ যতোদিন এগুলো চলবে ততদিন তার সাদকা চলতেই থাকবে আলহামদুলিল্লাহ। অর্থাৎ এগুলো করা বৈধ ও সওয়াবের কাজ।
এখন আমরা সর্বশেষ আর একটি উদাহরণ দেখবো । এই কাজগুলো আমাদের সমাজে বেশি হয় কিন্তু এগুলো কি সহীহ সুন্নাহ সম্মত কি সম্মত কিনা। আর তা হলো:- """"ভুঁড়িভোজ"""।
আমাদের সমাজে অনেক ভুঁড়িভোজ অনুষ্ঠান করা হয় মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য কিন্তু সেগুলোকে আমরা পরিক্ষা করে দেখিনা। তারমধ্যে রয়েছে মৃত্যু মাহফিল, মিলাদ মাহফিল, ইফতার মাহফিল, সীরাত মাহফিল ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলোর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কোন অস্তিত্ব ছিল না। তাই এখন আমরা এগুলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের আলোকে পরিক্ষা করে দেখবো। যদি এগুলোকে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা মূলক হাদীসের আলোকে পরিক্ষা করি তাহলে এগুলো কোন পদ্ধতিতেই মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা হিসেবে পৌঁছে না। (১) এগুলো কোন উপকারী ইলম নয় (২) সাদকায়ে জারিয়ার অংশও নয় কারণ এখন খাওয়ার পর এগুলোর ঠিকানা পায়খানা (৩) নেক সন্তানের দুআ নয়।
এগুলো যদি নেক সন্তান মৃত ব্যক্তির নিকট সাদকা পৌঁছানোর জন্য করে তাহলে তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞার আলোকে বৈধ নয়। এখন যদি কোন নেক সন্তান মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে না করে শুধুমাত্র নিজের তরফ থেকে করে তাহলে এসব কিছুর মধ্যে যা বৈধ যেমন:- ইফতার মাহফিল, মানুষ খাওয়ানো ইত্যাদি ইত্যাদি এগুলোর সওয়াব সরাসরি নেক সন্তান পাবে।
তাহলে প্রশ্ন হলো মৃত ব্যক্তিরা পাবে না? উত্তর হলো:- যদি নেক সন্তান খালেস অন্তরে মৃতের পক্ষ থেকে না করে নিজের জন্য করে তাহলে, নেক সন্তানের পিতা-মাতার নিকট তা পৌঁছাবে ""সাদকায়ে জারিয়া "" হিসেবে কারণ নেক সন্তান স্বয়ং একজন পিতা-মাতার জন্য সাদকায়ে জারিয়া। কিন্তু যদি কোন সন্তান তার মৃত পিতা-মাতার উদ্যেশ্য নিয়ে করে তাহলে তা পৌঁছবে না বরং হারাম হবে।
এখন যদি আমরা আরো একটি দৃষ্টিকোণ দেখি যে, বিভিন্ন হাদীসে এসেছে যে, নেক সন্তান মৃত পিতা-মাতার উদ্যেশ্য নিয়ে বিভিন্ন আমল করেছে যেমন:- সাওম, হজ্জ, মানত ইত্যাদি ইত্যাদি আবার হাদীসের মধ্যে দেখা যায় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তার বংশধরকে নিজের সাথে যুক্ত করে কুরবানী দিয়েছেন। এগুলোর কি হবে?
ব্যাখ্যা হলো:- এগুলোকে ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো কিছু সাদকা নয় বরং ঋণ এবং কিছু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ৩ টি পদ্ধতি ব্যতীত নিষেধাজ্ঞা মূলক আম (সাধারণ) হাদীসের উপর খাস (নির্দিষ্ট) হয়েছে। তাই খাস হওয়ার জন্য কেউ চাইলেই তার নিজের কুরবানীর সাথে জীবিত-মৃত সকল বংশধরকে শামিল করতে পারে কিন্তু পৃথক ভাবে শুধুমাত্র মৃতের জন্য কুরবানী দেওয়া সাব্যস্ত হয়নি তাই পৃথক ভাবে কুরবানী দেওয়া ও মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিভিন্ন আমল করা অবৈধ। তবে একটি বিষয় রয়েছে যে, কোন বিষয়ে যদি ইজমা হয়ে যায় তাহলে তা বৈধ কারণ ইজমা হলো অকাট্য দলিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে, এগুলোর বিষয়ে কোনো ইজমা নেই। তাই খাস দলিলে যা এসেছে তার বাহিরে অতিরিক্ত কিছু করে শুধুমাত্র মৃতকে সওয়াব পৌঁছানোর জন্য মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ভুঁড়িভোজ ও কুরবানী সহ ইত্যাদি কার্যক্রম বাতিল ও পরিত্যাজ্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল কে হেদায়েত দান করুন। আমিন।