- Joined
- Aug 24, 2025
- Threads
- 7
- Comments
- 7
- Reactions
- 97
- Thread Author
- #1
রমাদান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত বরকতময় একটি মাস। এই মাসে আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দরজা খুলে দেন। রমাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর। এই রাতকে আল্লাহ তা‘আলা এমন মর্যাদা দিয়েছেন যে, এর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাই একজন মুমিনের জন্য এই রাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং যথাযথভাবে ইবাদতে মশগুল হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে লাইলাতুল কদরের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন যে, তিনি এই রাতেই কুরআন নাযিল করেছেন এবং এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমান সওয়াবের কারণ হতে পারে। এই রাতেই আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাগণ ও জিবরীল (আ.) পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত এই রাত শান্তি ও বরকতে পরিপূর্ণ থাকে।
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেন:
“নিশ্চয় আমরা কুরআন নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’। আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল-কদর’ কী ? লাইলাতুল-কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফিরিশ্তাগণ ও রূহ্(জিবরীল) নাযিল হয় তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে। শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।”[সুরা আল-কদর ৯৭:১–৫]
রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সে রাতের(লাইলাতুল কদর) কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।[আন-নাসায়ী ২১০৬]
এজন্যই লাইলাতুল কদর মুসলমানদের জন্য এক মহামূল্যবান সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে।
হাদিসেও লাইলাতুল কদরের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদ্রে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ‘ইবাদাত করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে। [সহিহুল বুখারী ১৯০১]
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, এই রাত গুনাহ মাফের একটি বিশেষ সুযোগ। তাই একজন মুমিনের উচিত আন্তরিকতার সাথে এই রাতকে ইবাদতে কাটানো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে হয় তা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে রাসূল ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন রমাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে এই রাত অনুসন্ধান করতে।[সহিহুল বুখারী ২০১৭]
অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাতগুলোতে বিশেষভাবে ইবাদত করা উচিত। অনেক আলেম ২৭ তারিখের রাতকে বেশি সম্ভাবনাময় বলেছেন, কিন্তু নিশ্চিতভাবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য উত্তম হলো পুরো শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত করা।
লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো কিয়ামুল লাইল বা রাতের নফল সালাত। রাসূল ﷺ রমাদানের শেষ দশকে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ইবাদত করতেন, রাত জাগতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন।[সহিহুল বুখারী ২০২৪]
এছাড়াও এই রাতে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, আল্লাহর জিকির করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
লাইলাতুল কদরের জন্য একটি বিশেষ দোয়া রাসূল ﷺ শিখিয়েছেন। আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তিনি লাইলাতুল কদর পান তাহলে কী দোয়া করবেন। তখন রাসূল ﷺ তাকে এই দোয়া শিখিয়ে দেন:
اَللّٰهُمَّ اِنَّكَ عَفُوٌّ(كَرِيْمٌ) تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল (উদার), আপনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
আল্লা-হুম্মা, ইন্নাকা ‘আফুওউন্ (কারীমুন) তুহিব্বুল ‘আফ্ওয়া ফা‘অ্ফু ‘আন্নী। [তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ্দাআওয়াত, ৮৫-বাব) ৫/৪৯৯ নং ৩৫১৩ (ভারতীয় ২/১৯১)]
এই মহান রাত থেকে প্রকৃতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার সাথে ইবাদত করা। দ্বিতীয়ত, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তৃতীয়ত, সময়কে মূল্যবান মনে করে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করা। চতুর্থত, নিজের পাশাপাশি পরিবারকেও ইবাদতে উৎসাহিত করা।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, লাইলাতুল কদর এমন একটি রাত যা একজন মুসলমানের জীবনে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। এই রাতে অল্প সময়ের ইবাদতও অনেক বড় সওয়াবের কারণ হয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত রমাদানের শেষ দশকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা, যাতে সে এই মহামূল্যবান রাতের বরকত লাভ করতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত বুঝে এই রাতকে যথাযথভাবে ইবাদতে কাটানোর তাওফীক দান করুন। আমীন।
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে লাইলাতুল কদরের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন যে, তিনি এই রাতেই কুরআন নাযিল করেছেন এবং এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের সমান সওয়াবের কারণ হতে পারে। এই রাতেই আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাগণ ও জিবরীল (আ.) পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত এই রাত শান্তি ও বরকতে পরিপূর্ণ থাকে।
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেন:
“নিশ্চয় আমরা কুরআন নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’। আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল-কদর’ কী ? লাইলাতুল-কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফিরিশ্তাগণ ও রূহ্(জিবরীল) নাযিল হয় তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে। শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।”[সুরা আল-কদর ৯৭:১–৫]
রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সে রাতের(লাইলাতুল কদর) কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।[আন-নাসায়ী ২১০৬]
এজন্যই লাইলাতুল কদর মুসলমানদের জন্য এক মহামূল্যবান সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে।
হাদিসেও লাইলাতুল কদরের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদ্রে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ‘ইবাদাত করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে। [সহিহুল বুখারী ১৯০১]
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, এই রাত গুনাহ মাফের একটি বিশেষ সুযোগ। তাই একজন মুমিনের উচিত আন্তরিকতার সাথে এই রাতকে ইবাদতে কাটানো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে হয় তা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে রাসূল ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন রমাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে এই রাত অনুসন্ধান করতে।[সহিহুল বুখারী ২০১৭]
অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাতগুলোতে বিশেষভাবে ইবাদত করা উচিত। অনেক আলেম ২৭ তারিখের রাতকে বেশি সম্ভাবনাময় বলেছেন, কিন্তু নিশ্চিতভাবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য উত্তম হলো পুরো শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত করা।
লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো কিয়ামুল লাইল বা রাতের নফল সালাত। রাসূল ﷺ রমাদানের শেষ দশকে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ইবাদত করতেন, রাত জাগতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন।[সহিহুল বুখারী ২০২৪]
এছাড়াও এই রাতে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, আল্লাহর জিকির করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
লাইলাতুল কদরের জন্য একটি বিশেষ দোয়া রাসূল ﷺ শিখিয়েছেন। আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তিনি লাইলাতুল কদর পান তাহলে কী দোয়া করবেন। তখন রাসূল ﷺ তাকে এই দোয়া শিখিয়ে দেন:
اَللّٰهُمَّ اِنَّكَ عَفُوٌّ(كَرِيْمٌ) تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল (উদার), আপনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
আল্লা-হুম্মা, ইন্নাকা ‘আফুওউন্ (কারীমুন) তুহিব্বুল ‘আফ্ওয়া ফা‘অ্ফু ‘আন্নী। [তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ্দাআওয়াত, ৮৫-বাব) ৫/৪৯৯ নং ৩৫১৩ (ভারতীয় ২/১৯১)]
এই মহান রাত থেকে প্রকৃতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্রথমত, আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার সাথে ইবাদত করা। দ্বিতীয়ত, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তৃতীয়ত, সময়কে মূল্যবান মনে করে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করা। চতুর্থত, নিজের পাশাপাশি পরিবারকেও ইবাদতে উৎসাহিত করা।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, লাইলাতুল কদর এমন একটি রাত যা একজন মুসলমানের জীবনে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। এই রাতে অল্প সময়ের ইবাদতও অনেক বড় সওয়াবের কারণ হয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত রমাদানের শেষ দশকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা, যাতে সে এই মহামূল্যবান রাতের বরকত লাভ করতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত বুঝে এই রাতকে যথাযথভাবে ইবাদতে কাটানোর তাওফীক দান করুন। আমীন।