প্রবন্ধ মানুষ সম্পদ উন্নয়নে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা

  • Thread Author
মানব সম্পদ উন্নয়নে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভূমিকা।

আব্দুর রাকিব নাদভী





মানব সম্পদ উন্নয়ন (Human Resource Development) বিষয়টি অনেক পুরনো এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানব সম্পদ যে কোনো সম্প্রদায়, সমাজ ও দেশের একটি মূল্যবান সম্পদ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীর মধ্যে এর বিশেষ গুরুত্ব পাওয়া যায়। যাইহোক, মানব সম্পদ উন্নয়নের আধুনিক ও প্রাচীন ধারণা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে গুলির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনীতে মানব সম্পদের বিকাশের ধারণাটি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত, এবং এটি মানব জীবনের সমস্ত আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু আধুনিক ধারণা অনুসারে, মানবসম্পদ উন্নয়ন হল কর্মীদের ব্যক্তিগত এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা, দক্ষতা ও জ্ঞান বিকাশে সহায়তার একটি ব্যবস্থা। এর মূল উদ্দেশ্য হল উচ্চ মানের কর্মী তৈরি করা, যাতে প্রতিষ্ঠান অথবা কর্মচারীরা গ্রাহক পরিষেবার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাজের উদ্দেশ্যগুলি অর্জন করতে পারে। এই বিষয়ে, জাতিসংঘ কর্তৃক প্রকাশিত মানব উন্নয়ন সূচকের একটি খাঁটি অবস্থান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, জীবনযাত্রার মান, গড় আয়ু এবং স্বাস্থ্যকর জীবন। কিন্তু এই সবকিছু মানুষের জীবনের একটি বিশেষ দিক বা কয়েকটি দিককে কভার করে।

কিন্তু মানব সম্পদ উন্নয়নে ইসলামী ধারণার হল যে, এটি প্রাথমিকভাবে আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে। মানব সম্পদের একক অর্থাৎ ব্যক্তির শিক্ষা, তারবিয়্যত, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতাকে ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে একত্রে উপস্থাপন করে। বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন

اقرَأ بِاسمِ رَبِّكَ الَّذى خَلَقَ، خَلَقَ الإِنسٰنَ مِن عَلَقٍ، اقرَأ وَرَبُّكَ الأَكرَمُ، الَّذى عَلَّمَ بِالقَلَمِ، عَلَّمَ الإِنسٰنَ ما لَم يَعلَم

পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (সুরা আলাক আয়াত নং ১-৫)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের অন্তর ও বাইর উভয় অংশ পরিশুদ্ধি করেন। আর শিক্ষার সাথে সাথে তাদের নৈতিকতা ও চরিত্র ঠিক করেন।

لَقَد مَنَّ اللَّهُ عَلَى المُؤمِنينَ إِذ بَعَثَ فيهِم رَسولًا مِن أَنفُسِهِم يَتلوا عَلَيهِم ءايٰتِهِ وَيُزَكّيهِم وَيُعَلِّمُهُمُ الكِتٰبَ وَالحِكمَةَ وَإِن كانوا مِن قَبلُ لَفى ضَلٰلٍ مُبينٍ

মুমিনদের প্রতি আল্লাহর একটি বড় অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের মধ্যে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াত পাঠ করেন এবংতিনি তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, নিশ্চয়ই তারা সবাই তাঁর পূর্বে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত ছিল। ( সুরা আল ইমরান আয়াত নং ১৬৪)

هُوَ الَّذى بَعَثَ فِى الأُمِّيّۦنَ رَسولًا مِنهُم يَتلوا عَلَيهِم ءايٰتِهِ وَيُزَكّيهِم وَيُعَلِّمُهُمُ الكِتٰبَ وَالحِكمَةَ وَإِن كانوا مِن قَبلُ لَفى ضَلٰلٍ مُبينٍ

তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।(সুরা জুময়া আয়াত নং ২)

বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ভিত্তির উপর মানব সম্পদ উন্নয়নের সুউচ্চ বুনিয়াদ নির্মাণ করেন। মানুষের আধ্যাত্মিক, শারীরিক, নৈতিক, সামাজিক, মানসিক ও বস্তুগত দিকগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে মানব সম্পদ উন্নয়নে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তার উপযুক্ত মানুষ তৈরি করেছিলেন। এই উদ্দেশ্যেই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনকে অতিবাহিত করেছেন। এর জন্য তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম মানুষের অন্তরে ঈমান জাগ্রত করে তাওহীদের ভিত স্থাপিত করেন । কারণ ঈমান ও তাওহীদ ছাড়া মানব সম্পদ উন্নয়ন সফল হতে পারে না। তাঁদের অন্তরে পরকালের উদ্বেগ জাগিয়ে দিলেন, যাতে মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ জেগে উঠে।

বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজার ও অফিসের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মানুষ ও কর্মচারী তৈরি করেননি, কিন্তু তৈরি করেছিলেন জীবন সেক্টরের সাথে সম্পর্কিত কর্মী ও সেবক, যাতে তাঁদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়, এবং প্রত্যেক কের হৃদয়ে তাঁদের দায়িত্ব ও কর্মের জন্য জবাবদিহির ভয় ও আশংকা থাকে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দেন

كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، الإِمَامُ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا، وَالْخَادِمُ رَاعٍ فِي مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ

তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের (দায়িত্ব) জিজ্ঞাস করা হবে। ইমাম [১] একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তাঁকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। পুরুষ তার পরিবার বর্গের অভিভাবক, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। নারী তার স্বামী-গৃহের কর্ত্রী, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। খাদিম তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।(সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৮৯৩)

عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَا فَعَلَ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَا أَبْلاَهُ ‏"

আবূ বারযা আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দার পদদ্বয় (কিয়ামাত দিবসে) এতটুকুও সরবে না, তাকে এ কয়টি বিষয় সম্পর্কে যে পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করা হবেঃ কিভাবে তার জীববনকালকে অতিবাহিত করেছে; তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কি আমল করেছে, কোথা হতে তার ধন-সম্পদ উপার্জন করেছে ও কোন কোন খাতে ব্যয় করেছে এবং কি কি কাজে তার শরীর বিনাশ করেছে।(জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৪১৭ হাদিসের মান: সহিহ)

বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আধ্যাত্মিক ও নৈতিক ভিত্তিতে মানব সম্পদ প্রক্রিয়ার বিকাশ ঘটান, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন কৌশল ও পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। উদাহরণ স্বরূপ:

ব্যাপক পরিকল্পনা:

বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় সুষ্ঠ সামাজ, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানব সম্পদের প্রচার ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত বিজ্ঞ পদ্ধতি এবং হিকমত গ্রহণ করেছিলেন। এবং এই প্রচারাভিযানটিকে পাঁচটি ভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করেন। সর্বপ্রথম, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন এবং বিশেষ বন্ধুদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যার ফলশ্রুতিতে, প্রথমত, তাঁর স্ত্রী সাইয়্যেদা খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা, বন্ধু আবু বকর সিদ্দিক (রা.), চাচাতো ভাই হযরত আলী(রা.) এবং খাদিম যায়েদ বিন হারিসাহ (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মানব সম্পদ আকারে বৃদ্ধি পায়। অতঃপর এই এঁদের প্রচেষ্টায় সাহাবীদের একটি বড় দল মানবতার এই আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে: আল্লাহর রাসুল নিজস্ব জাতি ও নগরবাসীকে তাঁর দাওয়াত ও মানবীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেন। এই লক্ষ্যে একদিন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে আরোহণ করেন এবং ইসলামী দাওয়াতের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজ প্রসারিত করার চেষ্টা করেন। আর মক্কার প্রসিদ্ধ বাজার উকাজ, যুলবাজায ও যুল-মাজনাও যান, সৌভাগ্যবান মানুষের অভ্যন্তরকে পরিশুদ্ধি করেন।

তৃতীয় পর্যায়ে: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলির দিকে তাঁর প্রচেষ্টাকে মনোনিবেশ করেন এবং তায়েফ প্রভৃতি গমন করেন। অতঃপর উকবায়ে উলা ও দ্বিতীয় উকবা সংঘটিত হয় এবং মদীনা হিজরতের হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে। মদীনায় পৌঁছে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজিরদের সাথে পরস্পর বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। এবং সেখানকার উপজাতি ও ধর্মাবলম্বীদের সাথে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্থাপন করেন।

চতুর্থ পর্যায়ে: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবের সকল শ্রেণীর মানুষ ও গোত্রের দিকে মনোনিবেশ করেন।

পঞ্চম পর্যায়ে: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল সভ্য জাতি ও বিশ্বের প্রসিদ্ধ সকল ধর্মে মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করেন। রাষ্ট্রদূত ও দূত পাঠিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিকশিত এবং তাঁদের অধিকাংশকে ঐকমত্য করেন।

এই সকল প্রচেষ্টা ও কৌশলের ফলে আপনার আসেপাশে মানব সম্পদের ভিড় একত্রিত হয়ে উঠে, যার বাস্তব উদাহরণ বিদায় হজের সময় বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন প্রায় এক লক্ষ থেকে বেশি মানব সম্পদ।(বিস্তারিত আকারে পরুন, বিশ্ব বিখ্যাত গ্রন্থ রহমাতুল লিল আলামীন প্রথম খন্ড)।

জনগণনা: বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে জনগণনা করান।

عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اكْتُبُوْا لِيْ مَنْ تَلَفَّظَ بِالْإِسْلَامِ مِنْ النَّاسِ فَكَتَبْنَا لَهُ أَلْفًا وَخَمْسَ مِائَةِ رَجُلٍ فَقُلْنَا نَخَافُ وَنَحْنُ أَلْفٌ وَخَمْسُ مِائَةٍ فَلَقَدْ رَأَيْتُنَا ابْتُلِيْنَا حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيُصَلِّيْ وَحْدَهُ وَهُوَ خَائِفٌ

হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালিমাহ উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম লিখে আমাকে দাও। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমরা একহাজার পাঁচশ’ লোকের নাম লিখে তাঁর নিকট পেশ করি। তখন আমরা বলতে লাগলাম, আমরা এক হাজার পাঁচশত লোক, এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? (রাবী) হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পড়েছি যাতে লোকেরা ভীত-শংকিত অবস্থায় একা একা সালাত আদায় করছে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩০৬০)

বিভিন্ন পরিষেবার জন্য বহু-দক্ষ ব্যক্তি নির্বাচন:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবসম্পদ উন্নয়নে লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে উপযুক্ত ও উপযোগী লোক নির্বাচন করে, তাঁদেরকে তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব অর্পণ করেন। উদাহরণস্বরূপ:- প্রদেশর গভর্নরশিপের জন্য শক্তি এবং ক্ষমতার প্রয়োজন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পদের জন্য শক্তিশালী এবং ক্ষমতাশীল লোকদের বেছে নিয়েছিলেন। তাই কেউ যদি এই পদের জন্য আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু সে শক্তিশালী এবং যোগ্য না হয়, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিষেধ করেছেন।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِنِّي أَرَاكَ ضَعِيفًا وَإِنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي لاَ تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ وَلاَ تَوَلَّيَنَّ مَالَ يَتِيمٍ

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে আবূ যার! আমি দেখছি তুমি দুর্বল প্রকৃতির লোক আর আমি তোমার জন্য তাই পছন্দ করি, যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করি। কোন দু’ব্যক্তির উপরও কর্তৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করো না এবং ইয়াতীমের সম্পদের দায়িত্বশীল হতে যেয়ো না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৬১৪)

রাষ্ট্রের পরিচালনার আমানতদারী হওয়া প্রয়োজন। যে ব্যক্তি আমানতদার নয়, তাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অর্পণ করা ভুল হবে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسٍ يُحَدِّثُ الْقَوْمَ جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ مَتَى السَّاعَةُ فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ سَمِعَ مَا قَالَ، فَكَرِهَ مَا قَالَ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ بَلْ لَمْ يَسْمَعْ، حَتَّى إِذَا قَضَى حَدِيثَهُ قَالَ ‏"‏ أَيْنَ ـ أُرَاهُ ـ السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ ‏"‏‏.‏ قَالَ هَا أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ‏"‏‏.‏ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا قَالَ ‏"‏ إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ‏"‏‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মজলিসে জনসম্মুখে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতোমধ্যে তাঁর নিকট জনৈক বেদুঈন এসে জিজ্ঞেস করল,কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর আলোচনায় রত থাকলেন। এতে কেউ কেউ বললেন, লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেননি। আর কেউ কেউ বললেন বরং তিনি শুনতেই পাননি। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা শেষে বললেনঃ ক্বিয়ামাত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বলল, এই যে আমি হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেনঃ যখন কোন অনুপযুক্ত ব্যক্তির উপর কোন কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়, তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৯)

অনুরূপ আযানের ক্ষেত্রে উচ্চস্বরে আওয়াজ আবশ্যক। তাই মুআযযিন হবে ঐ ব্যক্তি যার কন্ঠ হবে সুন্দর ও আকর্ষণীয় এবং উচ আওয়াজ ওয়ালা

عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّاقُوسِ يُعْمَلُ لِيُضْرَبَ بِهِ لِلنَّاسِ لِجَمْعِ الصَّلاَةِ طَافَ بِي وَأَنَا نَائِمٌ رَجُلٌ يَحْمِلُ نَاقُوسًا فِي يَدِهِ فَقُلْتُ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَتَبِيعُ النَّاقُوسَ قَالَ وَمَا تَصْنَعُ بِهِ فَقُلْتُ نَدْعُو بِهِ إِلَى الصَّلاَةِ ‏.‏ قَالَ أَفَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ فَقُلْتُ لَهُ بَلَى ‏.‏ قَالَ فَقَالَ تَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ قَالَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ عَنِّي غَيْرَ بَعِيدٍ ثُمَّ قَالَ وَتَقُولُ إِذَا أَقَمْتَ الصَّلاَةَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا رَأَيْتُ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّهَا لَرُؤْيَا حَقٌّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقُمْ مَعَ بِلاَلٍ فَأَلْقِ عَلَيْهِ مَا رَأَيْتَ فَلْيُؤَذِّنْ بِهِ فَإِنَّهُ أَنْدَى صَوْتًا مِنْكَ ‏"‏ ‏.‏ فَقُمْتُ مَعَ بِلاَلٍ فَجَعَلْتُ أُلْقِيهِ عَلَيْهِ وَيُؤَذِّنُ بِهِ - قَالَ - فَسَمِعَ ذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ رِدَاءَهُ وَيَقُولُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ مَا رَأَى ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَلِلَّهِ الْحَمْدُ ‏"‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘নাকুস’ (ঘণ্টা ধ্বনি) দিয়ে লোকদের সলাতের জন্য একত্র করার নির্দেশ দিলেন, তখন আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, এক ব্যক্তি হাতে ঘণ্টা নিয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর বান্দা! ঘণ্টাটি বিক্রি করবে কি? লোকটি বললঃ তা দিয়ে তুমি কি করবে? আমি বললাম, আমরা এর সাহায্যে লোকদের সলাতের জন্য ডাকবো। লোকটি বললো, আমি কি তোমাকে এর চাইতে উত্তম জিনিস অবহিত করব না? আমি বললাম, অবশ্যই। লোকটি বললঃ তুমি বলবেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ। হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ(অর্থঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, (দু’বার) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই(দু’বার), আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল(দু’বার), এসো সলাতের দিকে(দু’বার), এসো সফলতার দিকে (দু’বার), আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই।)

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি কিছুটা দূরে গিয়ে বলল, যখন সলাতের জন্য দাঁড়াবে তখন বলবেঃ “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আশাহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশাহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ, হাইয়্যা আলাস সালাহ, হাইয়্যা আলাস ফালাহ, ক্বাদ ক্বামাতিস সালাতু ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

অতঃপর ভোর হলে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে স্বপ্নে দেখা বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বললেনঃ এটা সত্য স্বপ্ন, ইনশাআল্লাহ। তুমি উঠো, বিলালকে সাথে নিয়ে গিয়ে তুমি স্বপ্নে যা দেখেছো তা তাকে শিখিয়ে দাও, যেন সে (ঐভাবে) আযান দেয়। কারন তার কণ্ঠস্বর তোমার কণ্ঠস্বরের চেয়ে উচ্চ। অতঃপর আমি বিলালকে নিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাকে (আযানের শব্দগুলো) শিখাতে থাকলাম। বিলাল ঐগুলো উচ্চেঃস্বরে বলতে লাগল। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) নিজ ঘর থেকে আযান শুনতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ চাদর টানতে টানতে বের হয়ে আসলেন। এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ঐ মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য নাবীরূপে পাঠিয়েছেন, আমিও একই স্বপ্ন দেখেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই --। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯৯)

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন:

বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবসম্পদের বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জ্ঞান অর্জন করা পৃথিবীর প্রত্যেকে মানুষের আবশ্যিক কর্তব্য। এই প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয।(সুনান ইবনে মাজাহ হাদীস নং ২২৪)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র সাহাবীদের আত্ম-প্রশিক্ষণ, পরিশুদ্ধি ও সংস্কারের দায়িত্ব পালন করেননি, বরং তাঁদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে, মানব সম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَتَعَلَّمَ لَهُ كَلِمَاتِ كِتَابِ يَهُودَ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ إِنِّي وَاللَّهِ مَا آمَنُ يَهُودَ عَلَى كِتَابٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَمَا مَرَّ بِي نِصْفُ شَهْرٍ حَتَّى تَعَلَّمْتُهُ لَهُ قَالَ فَلَمَّا تَعَلَّمْتُهُ كَانَ إِذَا كَتَبَ إِلَى يَهُودَ كَتَبْتُ إِلَيْهِمْ وَإِذَا كَتَبُوا إِلَيْهِ قَرَأْتُ لَهُ كِتَابَهُمْ ‏.‏

যাইদ ইবনু সাবিত (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়াহূদীদের কিতাবী ভাষা (হিব্রু) অধ্যয়নের জন্য আদেশ করেন এবং বলেনঃ আল্লাহ্‌র কসম! আমি আমার পত্রাদির ব্যাপারে ইয়াহূহীদের উপর নিশ্চিন্ত হতে পারি না। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তারপর মাসের অর্ধেক যেতে না যেতেই আমি সুফিয়ানী ভাষা আয়ত্ত করে ফেললাম, এ ভাষা শিক্ষার পর থেকে তিনি ইয়াহূদীদের নিকট কোন কিছু লিখতে চাইলে আমিই তা লিখে দিতাম। আর তারা তাঁর নিকট কোন চিঠি পাঠালে, আমি তাঁকে তা পড়ে শুনাতাম।(জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৭১৫ হাদিসের মান: হাসান)

উদ্বেগ এবং পর্যালোচনা: বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনে মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে মনিটরিং, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবা বর্গ বিশেষ করে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের এমন ভাবে তারবিয়্যত ও প্রশিক্ষণ দেন, যাতে তাদের মধ্যে কোনো ধরণের দুর্নীতি স্থান না পায়।

এ ব্যাপারে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্ভাব্য সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেছেন।

عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَ ابْنَ الْأُتَبِيَّةِ عَلَى صَدَقَاتِ بَنِي سُلَيْمٍ فَلَمَّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَحَاسَبَهُ قَالَ هَذَا الَّذِي لَكُمْ وَهَذِهِ هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَهَلاَّ جَلَسْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَبَيْتِ أُمِّكَ حَتَّى تَأْتِيَكَ هَدِيَّتُكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ النَّاسَ وَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَسْتَعْمِلُ رِجَالاً مِنْكُمْ عَلَى أُمُورٍ مِمَّا وَلاَّنِي اللهُ فَيَأْتِي أَحَدُكُمْ فَيَقُولُ هَذَا لَكُمْ وَهَذِهِ هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِي فَهَلاَّ جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَبَيْتِ أُمِّهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ هَدِيَّتُهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا فَوَاللهِ لاَ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ مِنْهَا شَيْئًا قَالَ هِشَامٌ بِغَيْرِ حَقِّهِ إِلاَّ جَاءَ اللهَ يَحْمِلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلاَ فَلأَعْرِفَنَّ مَا جَاءَ اللهَ رَجُلٌ بِبَعِيرٍ لَهُ رُغَاءٌ أَوْ بِبَقَرَةٍ لَهَا خُوَارٌ أَوْ شَاةٍ تَيْعَرُ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ.

আবূ হুমায়দ সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু লুতাবিয়্যাকে বানী সুলায়ম-এর সদাকাহ সংগ্রহের জন্য নিযুক্ত করলেন। যখন সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে হিসেব চাইলেন, তখন সে বলল, এগুলো আপনাদের আর এগুলো হাদিয়া যা আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সত্যবাদী হলে তোমার হাদিয়া তোমার কাছে না আসা পর্যন্ত তুমি তোমার বাবার ঘরে ও মায়ের ঘরে বসে থাকলে না কেন,এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর বললেনঃ অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’আলা আমার উপর যেসব দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন তা থেকে কিছু কাজের জন্য তোমাদের কতক লোককে নিযুক্ত করে থাকি। তাদের
 
Back
Top