অন্যান্য বুদ্ধিজীবিদের বৈশিষ্ট্য

Joined
Sep 7, 2026
Threads
4
Comments
4
Reactions
46
বুদ্ধিজীবিদের বৈশিষ্ট্য​

লেখক : তাজাম্মুল হক সালাফী​

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ (190)

কুরআন ও হাদীসে বুদ্ধিমানদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর বর্ণনা করা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে সেগুলিই উপস্থাপন করব ইন শা আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

১) গভীর আল্লাহভীতি (তাকওয়া) তাদের থাকে : বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সবসময় এবং সর্বত্র মহান আল্লাহকে ভয় করে চলেন। দুনিয়ার জীবনের চেয়ে তারা পরকালীন জবাবদিহিতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ (197) "সুতরাং হে বুদ্ধিমানেরা! তোমরা আমাকেই ভয় করো।" (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৯৭)।

২) তারা আল্লাহর সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে : তারা মহাবিশ্বের চমৎকার সব সৃষ্টি যেমন—আকাশ, পৃথিবী, দিন-রাত্রির পরিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন এবং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা স্রষ্টার শক্তিকে অনুধাবন করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ (190)

"নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯০)।

৩) তারা আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থাকেন : তারা কেবল নির্দিষ্ট উপাসনার সময়েই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এবং যেকোনো শারীরিক অবস্থায় (বসা, দাঁড়ানো বা শোয়া) আল্লাহকে স্মরণ করেন। আল্লাহ তাআালা বলেন-

الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ

"যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে গবেষণা করে " (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯১)।

৪) উত্তম কথার অনুসরণ : বুদ্ধিমান মানুষেরা যেকোনো কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তার মধ্য থেকে যা সত্য, সুন্দর ও

কল্যাণকর, তা গ্রহণ করেন। তারা গোঁড়ামি বা অন্ধ অনুকরণ থেকে দূরে থাকেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :

الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ (18)

যারা মনোযোগসহকারে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম, তা অনুসরণ করে। তাদেরই আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।" (সূরা জুমার, আয়াত: ১৮)

৫) ভালো ও মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা : তারা কখনো সাময়িক লাভের জন্য মন্দ বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন না। মন্দের সংখ্যা বা আধিক্য যত বেশিই হোক না কেন, তারা সর্বদা ভালো ও পবিত্র পথকেই বেছে নেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

قُلْ لَا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (100)

"বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে চমৎকার লাগে। কাজেই হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় করো।" (সূরা মায়েদা-১০০)।

৬) আল্লাহর দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ : বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা আল্লাহর সঙ্গে এবং সমাজের মানুষের সঙ্গে করা যেকোনো সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে বজায় রাখেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ (19) الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنْقُضُونَ الْمِيثَاقَ (20)

"তারাই উপদেশ গ্রহণ করে, যারা বুদ্ধিমান। যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।" (সূরা রাআদ, আয়াত: ১৯-২০)।



৭) আত্মীয়তার সম্পর্ককে অটুট রাখে এবং আখেরাতে হিসাবের ভয় পায় :
আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ (21)

যারা সেই সম্পর্ককে জুড়ে রাখে েয সম্পর্ককে আল্লাহ জুড়ে রাখতে বলেছেন, নিজেদের রবকে ভয় পায় এবং মন্দ হিসাবের আশংকা করে (সূরা রাআদ-২১)।

৮) ধৈর্যধারণ করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে অবিচল থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ (22)


যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় চরম ধৈর্যের (সবর) পরিচয় দেন এবং রাগ বা ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং যারা তাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য ধৈর্য ধারণ করে..." (সূরা রাআদ, আয়াত: ২২)।

৯) বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণকারী :

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَهُ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا» ، قَالَ: فَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ؟ قَالَ: «أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لِمَا بَعْدَهُ اسْتِعْدَادًا، أُولَئِكَ الْأَكْيَاسُ»




ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে তাকে সালাম দিলো। অতঃপর বললো, হে আল্লাহর রাসূল! মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম কে? তিনি বলেনঃ স্বভাব-চরিত্রে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক উত্তম। সে পুনরায় জিজ্ঞেস কররো, মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান কে? তিনি বলেনঃ তাদের মধ্যে যারা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য উত্তমরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তারাই সর্বাধিক বুদ্ধিমান (ইবনু মাজাহ-৪২৫৯, সহীহ)।

১০) আল্লাহর নিকটে ভয় ও ভরসা নিয়ে দুআ করে :

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (191) رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ (192) رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ (193) رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ (194)


(বলো) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর’। ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই’। ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে’।‘হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না (সূরা আলে ইমরান : ১৯১-১৯৪)’।

পরিশেষে বলতে চাই যে, আমাদেরকে বুদ্ধিমানদের গুণাবলী অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে এবং তার জন্য আল্লাহর নিকটে দুআও করতে হবে। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে বুদ্ধিমান বানাও, আমীন। وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِين
 

Attachments

Back
Top