- Joined
- Sep 7, 2026
- Threads
- 4
- Comments
- 4
- Reactions
- 46
- Thread Author
- #1
লেখক : তাজাম্মুল হক সালাফী
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ (13)
বর্তমানে শিক্ষা দীক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু তবুও তারা প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিমান হতে পারেনি। কারণ তারা তাদের বুদ্ধির যথাযথ ব্যবহার করতে শেখেনি। কুরআন ও সহীহ হাদীসের পরিভাষায় পার্থিব ধন-সম্পদ বা জাগতিক জ্ঞানের অভাব থাকা ব্যক্তিকে নির্বোধ বলা হয় না। ইসলামে প্রকৃত নির্বোধ (السفهاء ) সে-ই, যে নিজের চিরস্থায়ী পরকালকে ধ্বংস করে, প্রবৃত্তির গোলামী করে এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে। কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে নির্বোধদের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো :إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ (13)
১) যারা আল্লাহর বিষয়ে মিথ্যা বলে তারা নির্বোধ : আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا (4) وَأَنَّا ظَنَنَّا أَنْ لَنْ تَقُولَ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا (5)
(জিনরা কুরআন শ্রবণ করে ঈমান আনল এবং বলল) ‘আর আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহর ব্যাপারে অবাস্তব কথা- বার্তা বলে। ‘অথচ আমরা তো ধারণা করতাম যে, মানুষ ও জিন কখনো আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করবে না’। (সূরা জিন-৪-৫)’।
২) ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ব্যক্তিরা নিবোর্ধ : আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ
আর যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে, সে ছাড়া কে ইবরাহীমের আদর্শ থেকে বিমুখ হতে পারে (সূরা বাকারাহ-১৩০)? আয়াতের ভাবার্থ : ইব্রাহিম (আঃ)-এর মিল্লাত বা আদর্শ হলো খাঁটি একত্ববাদ (তাওহীদ)। ইব্রাহিম (আঃ) সমস্ত প্রকার শিরক ও অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। ইসলাম হলো সেই ইব্রাহীমী দাওয়াতেরই পরিপূর্ণ রূপ। এখানে "নির্বোধ" বলতে শুধু বুদ্ধিমত্তার অভাবকে বোঝানো হয়নি; বরং আত্মিক ও নৈতিক অন্ধত্বকে নির্দেশ করা হয়েছে।
তৎকালীন ইহুদি, খ্রিস্টান ও আরব মুশরিকরা সকলেই হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে শ্রদ্ধার সাথে নিজেদের পূর্বপুরুষ ও পথপ্রদর্শক বলে দাবি করত। কিন্তু তারা তাঁর মূল একত্ববাদের শিক্ষাকে ছেড়ে দিয়েছিল। আয়াতটিতে তাদের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন ও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে—যদি তারা ইব্রাহিম (আঃ)-কে সত্যিই অনুকরণীয় মনে করে, তবে তাওহীদের আদর্শ (ইসলাম) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া তাদের নিজেদের জন্যই এক চরম নির্বুদ্ধিতা। সুতরাং নির্বোধরাই ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়।
৩) মুনাফিক্বরা নির্বোধ : আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে চারিত্রিক ও বিশ্বাসগত বিচ্যুতির কারণে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণীকে 'নির্বোধ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ (13)
"আর যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমরা ঈমান আনো যেমন অন্য লোকেরা ঈমান এনেছে’, তখন তারা বলে, ‘আমরা কি ঈমান আনব যেমন নির্বোধেরা ঈমান এনেছে?’ জেনে রেখো, নিশ্চয় তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা জানে না।" (সূরা আল-বাকারা- ১৩)। মুনাফিকরা মুমিনদেরকে নির্বোধ মনে করে অথচ আল্লাহ তাআলা তাদেরকেই নির্বোধ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
৪) সত্য ও হিদায়াত বর্জনকারী লোকেরা নির্বেোধ : যারা আল্লাহর স্পষ্ট নিদর্শন দেখার পরও সত্য গ্রহণ করতে পারে না তারা নির্বোধ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ نَظَرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ هَلْ يَرَاكُمْ مِنْ أَحَدٍ ثُمَّ انْصَرَفُوا صَرَفَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ (127)
আর যখনই কোন সূরা নাযিল করা হয়, তারা একে অপরের দিকে তাকায়। (এবং বলে) ‘তোমাদেরকে কি কেউ দেখছে’? অতঃপর তারা (চুপিসারে) প্রস্থান করে। আল্লাহ তাদের হৃদয়কে সত্যবিমুখ করে দেন। এ কারণে যে, তারা বোধশক্তিহীন কওম। (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৭)। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য সূরা বা আয়াত অবতীর্ণ করেন এবং নির্বোধরা সত্য বর্জন করে চুপিসারে পালিয়ে যায়।
৫) দ্বীনের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিরা নির্বোধ : ইসলামের প্রথম কিবলা পরিবর্তনের সময় যারা অযথা বিতর্ক তৈরি করেছিল, তাদেরকে আল্লাহ নির্বোধ বলেছেন-
سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا قُلْ لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (142)
"এখন নির্বোধ লোকেরা বলবে, কিসে তাদের ফিরিয়ে দিল তাদের সেই কিবলা থেকে, যার ওপর তারা ছিল?" (সূরা আল-বাকারাহ- ১৪২)। বাইতুল মাকদেস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তনের সময় কাফিররা নানা ধরণের সমালোচনা করেছিল। তাই আল্লাহ তাদেরকে নির্বোধ বলেছেন। কারণ কিবলা পরিবর্তন তো আল্লাহর ইচ্ছায় সংঘটিত হয়েছে। তাদের উচিত ছিল সমালোচনা না করে আল্লাহর আদেশ পালন করা। ইসলামের মূল কথাই হল আল্লাহর আদেশ পালন করা।
৬) যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে ভয় পায় তারা নির্বোধ : আল্লাহ তাআলা বলেন-
لَأَنْتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةً فِي صُدُورِهِمْ مِنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَفْقَهُونَ (13)
প্রকৃত পক্ষে, তাদের অন্তরে আল্লাহ অপেক্ষা তোমরাই অধিকতর ভয়ংকর। এটা এ জন্য যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায় (সূরা হাশর-১৩)।
ভাবার্থ : মুসলিমদের ভয় অমুসলিমদের অন্তরে প্রবেশ করার কারণ হল তাদের নির্বুদ্ধিতা। কেননা, তাদের যদি জ্ঞান-বুদ্ধি থাকত, তাহলে বুঝে নিত যে, মুসলিমদের জয় ও আধিপত্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। কাজেই ভয় করতে হলে আল্লাহকেই করতে হয়, মুসলিমদেরকে নয়।
পরিশেষে বলতে চাই যে, নির্বোধ বলতে মূলত সেই ব্যক্তিদের বোঝাানো হয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য থেকে বিচ্যুত এবং যারা মুমিনদের পথ ও আদর্শ থেকে দূরে তারাই প্রকৃতপক্ষে নির্বোধ। হে আল্লাহ! তুমি নির্বোধদেরকে সঠিক জ্ঞান দান করো এবং তাদেরকে হিদায়াত দাও, আমীন। وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِين
Attachments