Salafi
Salafi User
- Joined
- Nov 27, 2025
- Threads
- 16
- Comments
- 46
- Reactions
- 169
- Thread Author
- #1
অনেক দ্বীনি বোনকে দেখা যায়, একটা সময় ছিল- যখন সে তাক্বওয়ার পর্দায় নিজেকে আবৃত করে আসত। কোথাও বেরুলে তাক্বওয়ার ওই বোরখা ছাড়া বেরুতে চাইত না সে। কিন্তু আস্তে আস্তে কিছু এরকম বোনকে এই তাক্বওয়ার বোরখা থেকে প্রথমে স্টাইলিস চোখ আকর্ষণ করা বোরখা, তারপর তা থেকে চোখ আকর্ষণ করা সালোয়ার-কামিজ এর সাথে মাথায় হিজাব, তারপর অনেককে তো ধীরে ধীরে শেষে গিয়ে এইটাও ছেড়ে দিতে দেখা যায়। এর অন্যতম কিছু প্রধান কারনগুলো যা আমার মনে হয় , তা আলোচনা করছি-
(১) সহশিক্ষার পরিবেশ- সহশিক্ষার পরিবেশে থেকেও নিজের নফসকে কন্ট্রোল করে রাখতে পারলে বেঁচে থাকা যায়। তবে এই পরিবেশ যদিও কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু অনেক বোনকে দেখা যায় না-মাহরামদের সাথে প্রথমে শুধু দরকারি কথা, পরে তাদের সাথে আড্ডাতেও সামিল হওয়া-এইভাবে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে তাক্বওয়ার স্তর কমে যেতে থাকে। আর তাক্বওয়ার স্তর যত কমে, তাক্বওয়ার পর্দা করাও তত কঠিন হয়ে ওঠে।
(২) বাদ্যবাজনার জায়গায় থাকা- স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির ফ্রেসার'স, রেগ ডে, ফেয়ারওয়েল, টিচার'স ডে ইত্যাদি আরো বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলোতে যেখানে নাচ-গান, বাদ্য-বাজনা করা হয়, আর তার সাথে থাকে না-মাহরামদের সাথে অবাধ আড্ডা-ইয়ার্কির পরিবেশ, এই জায়গায় একটা তাক্বওয়ার পর্দায় নিজেকে আবৃত করা পর্দাশীল মেয়ে গেলে প্রথমত অন্যরা তাকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি, উপহাস ইত্যাদি করে। তাই অনেক সময়ই দেখা যায়, এই ধরনের মেয়েরা ওই তাক্বওয়ার পর্দা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে স্টাইলিস পর্দায় সাজিয়ে আসে। তারপর সেই বাদ্যবাজনার পরিবেশে থেকে এমনিতেই তার তাক্বওয়ার স্তর যথেষ্ট পরিমান আগেই কমে যায়। এরপর না-মাহরামদের সাথে বিভিন্ন কথাবার্তা, আড্ডা-ইয়ার্কি আল্লাহর থেকে দূরত্ব তৈরি করে ফেলে। তারপর সে দিনশেষে ওই পরিবেশ থেকে এক শূন্য অন্তর নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
(৩) পরিবারিক না-মাহরাম মিশা অনুষ্ঠানের পরিবেশ- পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান যখন হয়, যেসব মেয়েদের বাবা-মা সেরকম দ্বীনের ব্যাপারে অতটা খেয়ালী নন, অনেকসময়ই মেয়েকে ওই অনুষ্ঠানের যায়গায় তাক্বাওয়ার পর্দা বাদ দিয়ে অন্য চোখ আকর্ষিত জামাকাপড় পড়ে যাওয়ার জন্য অনুরাধ বা অনেকসময় আদেশ করতে দেখা যায়। আর সেখানে খালাতো ভাই, মামাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, খালু, না-মাহরাম সম্পর্কের মামা, চাচা, দুলাভাই এদের সাথে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় মেয়েটাকে সমাজের খাতিরে। আর সেজেগুজে না-মাহরাম পরিবেশে যাওয়া, সেখানে তারা যাতে খারাপ না ভাবে তাই কুশল বিনিময় করা-এইসব কিছুই আল্লাহ থেকে দূরত্ব তৈরি করে দেয়। আর অন্তর যত আল্লাহ থেকে দূরে চলে যায়, তাক্বওয়ার স্তরও তত কমে যায়।
(৪) হারাম রিলেশনশিপ- কাউকে ভালোলাগা বা ভালোবেসে ফেলা খারাপ কিছু না। কিন্তু এটা হলে তাকে বিয়ে করার চেষ্টা করতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর যদি তা এক্ষুণি সম্ভব না হয় করা-তবে তার সাথে সমস্ত প্রকার গোপন আবেগী কথাবার্তা, যোগাযোগ বিনা কারনে, একান্তে দেখা করা বা কথা বলা এইসব এড়িয়ে চলতে হবে। কারন একবার যদি কোনো না-মাহরামের সাথে কেউ সহজ হতে শুরু করে, আর তাতে তার অন্তরে আর কোনো গুনাহের অনুশোচনা না হয়-তবে সেখান থেকেই আল্লাহর সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়া আর হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়ার শুরু। আর অবশ্যই এটা তাক্বওয়া ধ্বংসকারী। এরপর তোমার ইচ্ছা হবে, তার খুশির জন্য সেজেগুজে তার সামনে যেতে! আর তখন তাক্বাওয়ার পর্দা তোমার কাছে বোঝা মনে হবে।
(৫) সোশ্যাল মিডিয়া- সোশ্যাল মিডিয়াতে অতিরিক্ত আসক্তি সালাত-জিকির-ইবাদাত এগুলো থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়। আর যত এগুলো কমে, তত আল্লাহর নৈকট্য লাভ কমে, এবং দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। আর তাছাড়াও 'একটু পর্দাশীল ইনফ্লুয়েন্সার হলে কি হয়!!'-এই ভাবনা থেকে নিজের বোরখা পড়া ছবি, ভিডিও ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়েও দেয় অনেক মেয়ে। আর যখনই সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি, ভিডিও ইত্যাদি পোস্ট করল সে, তখনই তার লজ্জাশীলতা, তাক্বওয়ার পর্দা তার থেকে চলে গেল! শয়তান তাকে গোটা দুনিয়ার কাছে প্রদর্শনী রূপে উপস্থাপন করল। অর্থাৎ শয়তান জিতে গেল আর সে হেরে গেল!
তবে আমাদের অন্তরে সেই জিনিসটাই বেশি প্রভাব ফেলে, যেইটাতে আমরা যত বেশি নিজেকে ফ্রি অনুভব করি। আর এখনকার দিনে ছেলে-মেয়েদেরকে নিজেদের পরিবারের থেকে নিজেদের বন্ধু-বান্ধবদের মাঝেই বেশি ফ্রি হতে দেখা যায়। তাই সবথেকে সহ-শিক্ষার পরিবেশ আর হারাম রিলেশনশিপ এই দুটোই বেশি ভয়ানক তাদের ক্ষেত্রে তাক্বওয়া ধ্বংসের জন্য।
-এছাড়াও আরো অনেক কারন আছে। তবে এগুলো এখনকার দিনে তাক্বওয়ার পর্দা একটা মেয়ের থেকে চলে যাওয়ার প্রধান কতগুলো কারন বলে আমার মনে হয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার হিদায়াতের পথে অটল থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন। ইয়া রব।
'ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব, সাব্বিত ক্বালবি ‘আলা দ্বীনিক।'
(১) সহশিক্ষার পরিবেশ- সহশিক্ষার পরিবেশে থেকেও নিজের নফসকে কন্ট্রোল করে রাখতে পারলে বেঁচে থাকা যায়। তবে এই পরিবেশ যদিও কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু অনেক বোনকে দেখা যায় না-মাহরামদের সাথে প্রথমে শুধু দরকারি কথা, পরে তাদের সাথে আড্ডাতেও সামিল হওয়া-এইভাবে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে তাক্বওয়ার স্তর কমে যেতে থাকে। আর তাক্বওয়ার স্তর যত কমে, তাক্বওয়ার পর্দা করাও তত কঠিন হয়ে ওঠে।
(২) বাদ্যবাজনার জায়গায় থাকা- স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির ফ্রেসার'স, রেগ ডে, ফেয়ারওয়েল, টিচার'স ডে ইত্যাদি আরো বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলোতে যেখানে নাচ-গান, বাদ্য-বাজনা করা হয়, আর তার সাথে থাকে না-মাহরামদের সাথে অবাধ আড্ডা-ইয়ার্কির পরিবেশ, এই জায়গায় একটা তাক্বওয়ার পর্দায় নিজেকে আবৃত করা পর্দাশীল মেয়ে গেলে প্রথমত অন্যরা তাকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি, উপহাস ইত্যাদি করে। তাই অনেক সময়ই দেখা যায়, এই ধরনের মেয়েরা ওই তাক্বওয়ার পর্দা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে স্টাইলিস পর্দায় সাজিয়ে আসে। তারপর সেই বাদ্যবাজনার পরিবেশে থেকে এমনিতেই তার তাক্বওয়ার স্তর যথেষ্ট পরিমান আগেই কমে যায়। এরপর না-মাহরামদের সাথে বিভিন্ন কথাবার্তা, আড্ডা-ইয়ার্কি আল্লাহর থেকে দূরত্ব তৈরি করে ফেলে। তারপর সে দিনশেষে ওই পরিবেশ থেকে এক শূন্য অন্তর নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
(৩) পরিবারিক না-মাহরাম মিশা অনুষ্ঠানের পরিবেশ- পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান যখন হয়, যেসব মেয়েদের বাবা-মা সেরকম দ্বীনের ব্যাপারে অতটা খেয়ালী নন, অনেকসময়ই মেয়েকে ওই অনুষ্ঠানের যায়গায় তাক্বাওয়ার পর্দা বাদ দিয়ে অন্য চোখ আকর্ষিত জামাকাপড় পড়ে যাওয়ার জন্য অনুরাধ বা অনেকসময় আদেশ করতে দেখা যায়। আর সেখানে খালাতো ভাই, মামাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, খালু, না-মাহরাম সম্পর্কের মামা, চাচা, দুলাভাই এদের সাথে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় মেয়েটাকে সমাজের খাতিরে। আর সেজেগুজে না-মাহরাম পরিবেশে যাওয়া, সেখানে তারা যাতে খারাপ না ভাবে তাই কুশল বিনিময় করা-এইসব কিছুই আল্লাহ থেকে দূরত্ব তৈরি করে দেয়। আর অন্তর যত আল্লাহ থেকে দূরে চলে যায়, তাক্বওয়ার স্তরও তত কমে যায়।
(৪) হারাম রিলেশনশিপ- কাউকে ভালোলাগা বা ভালোবেসে ফেলা খারাপ কিছু না। কিন্তু এটা হলে তাকে বিয়ে করার চেষ্টা করতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর যদি তা এক্ষুণি সম্ভব না হয় করা-তবে তার সাথে সমস্ত প্রকার গোপন আবেগী কথাবার্তা, যোগাযোগ বিনা কারনে, একান্তে দেখা করা বা কথা বলা এইসব এড়িয়ে চলতে হবে। কারন একবার যদি কোনো না-মাহরামের সাথে কেউ সহজ হতে শুরু করে, আর তাতে তার অন্তরে আর কোনো গুনাহের অনুশোচনা না হয়-তবে সেখান থেকেই আল্লাহর সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়া আর হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়ার শুরু। আর অবশ্যই এটা তাক্বওয়া ধ্বংসকারী। এরপর তোমার ইচ্ছা হবে, তার খুশির জন্য সেজেগুজে তার সামনে যেতে! আর তখন তাক্বাওয়ার পর্দা তোমার কাছে বোঝা মনে হবে।
(৫) সোশ্যাল মিডিয়া- সোশ্যাল মিডিয়াতে অতিরিক্ত আসক্তি সালাত-জিকির-ইবাদাত এগুলো থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়। আর যত এগুলো কমে, তত আল্লাহর নৈকট্য লাভ কমে, এবং দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। আর তাছাড়াও 'একটু পর্দাশীল ইনফ্লুয়েন্সার হলে কি হয়!!'-এই ভাবনা থেকে নিজের বোরখা পড়া ছবি, ভিডিও ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়েও দেয় অনেক মেয়ে। আর যখনই সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবি, ভিডিও ইত্যাদি পোস্ট করল সে, তখনই তার লজ্জাশীলতা, তাক্বওয়ার পর্দা তার থেকে চলে গেল! শয়তান তাকে গোটা দুনিয়ার কাছে প্রদর্শনী রূপে উপস্থাপন করল। অর্থাৎ শয়তান জিতে গেল আর সে হেরে গেল!
তবে আমাদের অন্তরে সেই জিনিসটাই বেশি প্রভাব ফেলে, যেইটাতে আমরা যত বেশি নিজেকে ফ্রি অনুভব করি। আর এখনকার দিনে ছেলে-মেয়েদেরকে নিজেদের পরিবারের থেকে নিজেদের বন্ধু-বান্ধবদের মাঝেই বেশি ফ্রি হতে দেখা যায়। তাই সবথেকে সহ-শিক্ষার পরিবেশ আর হারাম রিলেশনশিপ এই দুটোই বেশি ভয়ানক তাদের ক্ষেত্রে তাক্বওয়া ধ্বংসের জন্য।
-এছাড়াও আরো অনেক কারন আছে। তবে এগুলো এখনকার দিনে তাক্বওয়ার পর্দা একটা মেয়ের থেকে চলে যাওয়ার প্রধান কতগুলো কারন বলে আমার মনে হয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার হিদায়াতের পথে অটল থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন। ইয়া রব।
'ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব, সাব্বিত ক্বালবি ‘আলা দ্বীনিক।'
Last edited: