- Joined
- May 20, 2024
- Threads
- 30
- Comments
- 55
- Reactions
- 410
- Thread Author
- #1
জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা
ইসলামী আক্বীদার আলোকে একটি গবেষণামূলক পর্যালোচনা।
আব্দুর রাকিব নাদভী
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে বিশ্বাস (আক্বীদা), আমল ও আচার—সবকিছুর জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। একজন মুসলমানের জীবনে আক্বীদার গুরুত্ব সর্বাধিক; কারণ আক্বীদা সঠিক না হলে কোনো আমলই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয় না। এই মৌলিক নীতির আলোকে জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান কিংবা যে কোনো সাহিত্যিক বক্তব্যও পর্যালোচনার দাবি রাখে। ভারতের জাতীয় সংগীত “জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা”—এই পংক্তিটি ইসলামী আক্বীদার আলোকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা প্রয়োজন।
ইসলামী আক্বীদার মূলভিত্তি হলো তাওহীদ—অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, নিয়ন্ত্রক ও ভাগ্যনির্ধারক। পবিত্র আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন:
اللَّهُ خٰلِقُ كُلِّ شَيءٍ ۖ وَهُوَ عَلىٰ كُلِّ شَيءٍ وَكيلٌ
“আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনিই সব কিছুর কর্মবিধায়ক।” (সূরা যুমার: ৬২)
অতএব সৃষ্টি, পরিচালনা ও তাকদীর (ভাগ্য) নির্ধারণ—এই সব গুণ একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট।
উক্ত জাতীয় সংগীতের আলোচিত পংক্তিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ রয়েছে— অধিনায়ক, জয় হে এবং ভাগ্য বিধাতা। ‘অধিনায়ক’ বলতে বোঝায় সর্বোচ্চ নেতা বা নিয়ন্ত্রক, ‘জয় হে’ বলতে বোঝায় বন্দনা বা বিজয় কামনা, আর ‘ভাগ্য বিধাতা’ শব্দটি সরাসরি ভাগ্য নির্ধারণকারীর অর্থ বহন করে। ইসলামী আক্বীদার দৃষ্টিতে এখানেই মূল সমস্যা সৃষ্টি হয়। কারণ ‘ভাগ্য বিধাতা’ হওয়া আল্লাহর একান্ত গুণ; এই উপাধি কোনো ব্যক্তি, জাতি, দেশ বা সৃষ্ট বস্তুর জন্য ব্যবহার করা আক্বীদাগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পবিত্র আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَما تَشاءونَ إِلّا أَن يَشاءَ اللَّهُ رَبُّ العٰلَمينَ
“আর তোমরা কিছুই ইচ্ছা করতে পার না, যদি না আল্লাহ রব্বুল আলামীন ইচ্ছা করেন।” (সূরা তাকবীর: ২৯)
এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মানুষের ইচ্ছা, জাতির উত্থান-পতন কিংবা কোনো দেশের ভাগ্য—সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরের অধীন। সুতরাং ‘ভাগ্য বিধাতা’ শব্দটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি আরোপ করা হয়, তবে তা শিরকের আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
অনেকে যুক্তি দেন যে এই পংক্তিতে ‘ভাগ্য বিধাতা’ বলতে আল্লাহকেই বোঝানো হয়েছে, অথবা এটি কেবল সাহিত্যিক ও রূপক অর্থে ব্যবহৃত। কিন্তু ইসলামী আক্বীদার ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থতাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর শব্দচয়ন গ্রহণযোগ্য নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لاَ يَرِيبُكَ
“যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে, তা পরিত্যাগ করো এবং যা সন্দেহমুক্ত, তা গ্রহণ করো।” (সুনান তিরমিযী: ২৫১৮, সুনান নাসায়ী: ৫৭১১, হাদীসের মান: সহীহ)।
অতএব যে বাক্যে শিরকের সম্ভাবনা থাকে, তা থেকে দূরে থাকাই একজন মুমিনের তাকওয়ার পরিচয়।
ইসলাম দেশপ্রেম বা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা অস্বীকার করে না। বরং ন্যায়, শান্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের প্রতি উৎসাহিত করে। নবী ﷺ নিজ মাতৃভূমি মক্কাকে ভালোবাসতেন—এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু ইসলাম স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে ভালোবাসা, বন্দনা, ভরসা ও ভাগ্যনির্ভরতা একমাত্র আল্লাহর জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। দেশ, জাতি বা রাষ্ট্র কখনোই আল্লাহর গুণাবলির অংশীদার হতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, “জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা”—এই পংক্তিটি ইসলামী আক্বীদার আলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে ‘ভাগ্য বিধাতা’ শব্দটি তাওহীদের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অর্থ বহন করে। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য আক্বীদা রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ ও অন্তর থেকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
একজন মুমিন রাষ্ট্রের আইন মেনে চলবে, দেশের কল্যাণ কামনা করবে, কিন্তু তার অন্তরের বন্দনা, ভরসা ও তাকদীরের বিশ্বাস থাকবে একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামিনের প্রতি—এটাই ইসলামী আক্বীদার সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত শিক্ষা।
ইসলামী আক্বীদার আলোকে একটি গবেষণামূলক পর্যালোচনা।
আব্দুর রাকিব নাদভী
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে বিশ্বাস (আক্বীদা), আমল ও আচার—সবকিছুর জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। একজন মুসলমানের জীবনে আক্বীদার গুরুত্ব সর্বাধিক; কারণ আক্বীদা সঠিক না হলে কোনো আমলই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয় না। এই মৌলিক নীতির আলোকে জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান কিংবা যে কোনো সাহিত্যিক বক্তব্যও পর্যালোচনার দাবি রাখে। ভারতের জাতীয় সংগীত “জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা”—এই পংক্তিটি ইসলামী আক্বীদার আলোকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা প্রয়োজন।
ইসলামী আক্বীদার মূলভিত্তি হলো তাওহীদ—অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, নিয়ন্ত্রক ও ভাগ্যনির্ধারক। পবিত্র আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন:
اللَّهُ خٰلِقُ كُلِّ شَيءٍ ۖ وَهُوَ عَلىٰ كُلِّ شَيءٍ وَكيلٌ
“আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনিই সব কিছুর কর্মবিধায়ক।” (সূরা যুমার: ৬২)
অতএব সৃষ্টি, পরিচালনা ও তাকদীর (ভাগ্য) নির্ধারণ—এই সব গুণ একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট।
উক্ত জাতীয় সংগীতের আলোচিত পংক্তিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ রয়েছে— অধিনায়ক, জয় হে এবং ভাগ্য বিধাতা। ‘অধিনায়ক’ বলতে বোঝায় সর্বোচ্চ নেতা বা নিয়ন্ত্রক, ‘জয় হে’ বলতে বোঝায় বন্দনা বা বিজয় কামনা, আর ‘ভাগ্য বিধাতা’ শব্দটি সরাসরি ভাগ্য নির্ধারণকারীর অর্থ বহন করে। ইসলামী আক্বীদার দৃষ্টিতে এখানেই মূল সমস্যা সৃষ্টি হয়। কারণ ‘ভাগ্য বিধাতা’ হওয়া আল্লাহর একান্ত গুণ; এই উপাধি কোনো ব্যক্তি, জাতি, দেশ বা সৃষ্ট বস্তুর জন্য ব্যবহার করা আক্বীদাগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পবিত্র আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَما تَشاءونَ إِلّا أَن يَشاءَ اللَّهُ رَبُّ العٰلَمينَ
“আর তোমরা কিছুই ইচ্ছা করতে পার না, যদি না আল্লাহ রব্বুল আলামীন ইচ্ছা করেন।” (সূরা তাকবীর: ২৯)
এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মানুষের ইচ্ছা, জাতির উত্থান-পতন কিংবা কোনো দেশের ভাগ্য—সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরের অধীন। সুতরাং ‘ভাগ্য বিধাতা’ শব্দটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি আরোপ করা হয়, তবে তা শিরকের আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
অনেকে যুক্তি দেন যে এই পংক্তিতে ‘ভাগ্য বিধাতা’ বলতে আল্লাহকেই বোঝানো হয়েছে, অথবা এটি কেবল সাহিত্যিক ও রূপক অর্থে ব্যবহৃত। কিন্তু ইসলামী আক্বীদার ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থতাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর শব্দচয়ন গ্রহণযোগ্য নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لاَ يَرِيبُكَ
“যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে, তা পরিত্যাগ করো এবং যা সন্দেহমুক্ত, তা গ্রহণ করো।” (সুনান তিরমিযী: ২৫১৮, সুনান নাসায়ী: ৫৭১১, হাদীসের মান: সহীহ)।
অতএব যে বাক্যে শিরকের সম্ভাবনা থাকে, তা থেকে দূরে থাকাই একজন মুমিনের তাকওয়ার পরিচয়।
ইসলাম দেশপ্রেম বা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা অস্বীকার করে না। বরং ন্যায়, শান্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের প্রতি উৎসাহিত করে। নবী ﷺ নিজ মাতৃভূমি মক্কাকে ভালোবাসতেন—এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু ইসলাম স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে ভালোবাসা, বন্দনা, ভরসা ও ভাগ্যনির্ভরতা একমাত্র আল্লাহর জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। দেশ, জাতি বা রাষ্ট্র কখনোই আল্লাহর গুণাবলির অংশীদার হতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, “জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা”—এই পংক্তিটি ইসলামী আক্বীদার আলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে ‘ভাগ্য বিধাতা’ শব্দটি তাওহীদের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অর্থ বহন করে। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য আক্বীদা রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের বাক্য উচ্চারণ ও অন্তর থেকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
একজন মুমিন রাষ্ট্রের আইন মেনে চলবে, দেশের কল্যাণ কামনা করবে, কিন্তু তার অন্তরের বন্দনা, ভরসা ও তাকদীরের বিশ্বাস থাকবে একমাত্র আল্লাহ রব্বুল আলামিনের প্রতি—এটাই ইসলামী আক্বীদার সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত শিক্ষা।