- Joined
- May 20, 2024
- Threads
- 26
- Comments
- 47
- Reactions
- 347
- Thread Author
- #1
কাটরা মসজিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
আব্দুর রাকিব নাদভী
মুর্শিদাবাদের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান ঢাকা থেকে ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। তাঁর নিজের নামানুসারে নতুন রাজধানীর নামকরণ করেন মুর্শিদাবাদ। কাটরা মসজিদটি নতুন রাজধানীর জামে মসজিদ হিসেবে নির্মিত হয় ১১৩৭ হিজরি মোতাবেক ১৭২৩-১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে।
কাটরা নামকরণ: মসজিদটি কাটরা মসজিদ নামে নামকরণ করা হয়েছে, কাটরা একটি ফার্সি শব্দ, অর্থ— বড় প্রাঙ্গণবিশিষ্ট স্থাপনা, যেখানে মসজিদ, মাদরাসা, থাকার ঘর (মুসাফিরখানা, সরাইখানা) ও বাণিজ্যিক কক্ষ থাকে। যেহেতু কাটরা মসজিদ ছিল একসাথে— মসজিদ,মাদরাসা, ছাত্রাবাস, মুসাফিরখানা (সরাইখানা) এবং তার আসে পাশে বাণিজ্যিক স্থল, তাই মসজিদটি কাটরা মসজিদ নামে পরিচিত।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: বিশাল আয়তাকার প্রাঙ্গণ
চারদিক ঘিরে কক্ষ (হুজরা), পূর্ব পাশে প্রবেশদ্বার,
একসময় চারটি সুউচ্চ মিনার ছিল ইসলামি-মোগল স্থাপত্যরীতির অনন্য নিদর্শন, এটি ছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নতুন রাজধানী " মুর্শিদাবাদ" এর জামে মসজিদ, একটা বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রায় ৭০০ ছাত্র আবাসিকভাবে পড়াশোনা করত, বড় মাপের কাফেলায় ও সরাইখানা, চারপাশে বাজার।
মসজিদের ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান অবস্থা: ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাটরা মসজিদের একটা অংশ বিশেষ এবং চারটি মিনারের মধ্যে দু'টি মিনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ আমলে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে মসজিদটি কার্যকর ইবাদতকেন্দ্র হিসেবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ দিকে ও পরবর্তীতে ১৯১০ সালের পর Archaeological Survey of India (ASI) এটিকে সুরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ (Protected Monument) হিসেবে ঘোষণা করে, এবং তখন থেকেই এটি যেন একটি ধর্মীয় মসজিদ হিসেবে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি একটি ঐতিহাসিক পর্যটন ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত।
আবেদন: মসজিদ আল্লাহর ঘর, ইবাদতের স্থান, আমাদের পূর্বপুরুষরা মসজিদ নির্মাণ করে গেছেন আল্লাহর ইবাদত এবং দ্বীন প্রচার ও প্রসারের জন্য, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কাটরা মসজিদ আজকে আবালদবিহীন অবস্থায়, সেখানে আল্লাহর ইবাদতে ব্যর্থ। শিক্ষিত সমাজ, বিশেষ করে মুসলিম ওয়াকাফ বোর্ডের নিকট আমার আবেদন, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে এ বিষয়ে একটু ভাবুন, পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। হে আল্লাহ, আমাদের রব! মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত তোমার ঘর মসজিদ আবাদ করার তৌফিক দাও। আমীন।
আব্দুর রাকিব নাদভী
মুর্শিদাবাদের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান ঢাকা থেকে ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। তাঁর নিজের নামানুসারে নতুন রাজধানীর নামকরণ করেন মুর্শিদাবাদ। কাটরা মসজিদটি নতুন রাজধানীর জামে মসজিদ হিসেবে নির্মিত হয় ১১৩৭ হিজরি মোতাবেক ১৭২৩-১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে।
কাটরা নামকরণ: মসজিদটি কাটরা মসজিদ নামে নামকরণ করা হয়েছে, কাটরা একটি ফার্সি শব্দ, অর্থ— বড় প্রাঙ্গণবিশিষ্ট স্থাপনা, যেখানে মসজিদ, মাদরাসা, থাকার ঘর (মুসাফিরখানা, সরাইখানা) ও বাণিজ্যিক কক্ষ থাকে। যেহেতু কাটরা মসজিদ ছিল একসাথে— মসজিদ,মাদরাসা, ছাত্রাবাস, মুসাফিরখানা (সরাইখানা) এবং তার আসে পাশে বাণিজ্যিক স্থল, তাই মসজিদটি কাটরা মসজিদ নামে পরিচিত।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: বিশাল আয়তাকার প্রাঙ্গণ
চারদিক ঘিরে কক্ষ (হুজরা), পূর্ব পাশে প্রবেশদ্বার,
একসময় চারটি সুউচ্চ মিনার ছিল ইসলামি-মোগল স্থাপত্যরীতির অনন্য নিদর্শন, এটি ছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নতুন রাজধানী " মুর্শিদাবাদ" এর জামে মসজিদ, একটা বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রায় ৭০০ ছাত্র আবাসিকভাবে পড়াশোনা করত, বড় মাপের কাফেলায় ও সরাইখানা, চারপাশে বাজার।
মসজিদের ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান অবস্থা: ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাটরা মসজিদের একটা অংশ বিশেষ এবং চারটি মিনারের মধ্যে দু'টি মিনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ আমলে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে মসজিদটি কার্যকর ইবাদতকেন্দ্র হিসেবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ দিকে ও পরবর্তীতে ১৯১০ সালের পর Archaeological Survey of India (ASI) এটিকে সুরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ (Protected Monument) হিসেবে ঘোষণা করে, এবং তখন থেকেই এটি যেন একটি ধর্মীয় মসজিদ হিসেবে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি একটি ঐতিহাসিক পর্যটন ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত।
আবেদন: মসজিদ আল্লাহর ঘর, ইবাদতের স্থান, আমাদের পূর্বপুরুষরা মসজিদ নির্মাণ করে গেছেন আল্লাহর ইবাদত এবং দ্বীন প্রচার ও প্রসারের জন্য, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কাটরা মসজিদ আজকে আবালদবিহীন অবস্থায়, সেখানে আল্লাহর ইবাদতে ব্যর্থ। শিক্ষিত সমাজ, বিশেষ করে মুসলিম ওয়াকাফ বোর্ডের নিকট আমার আবেদন, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে এ বিষয়ে একটু ভাবুন, পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। হে আল্লাহ, আমাদের রব! মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত তোমার ঘর মসজিদ আবাদ করার তৌফিক দাও। আমীন।