এই উম্মাহর অধঃপতন কোথায় গিয়ে ঠেকবে?
আমরা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করি। মুখে স্বীকার করি যে আমাদের দ্বীন ইসলাম। আমরা জানি, আখিরাতে জান্নাত ও জাহান্নাম রয়েছে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, আমাদের মধ্যে কতজন ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছি?আল্লাহ তাআলা বলেন,
"হে মুমিনগণ! তোমরা পুর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শক্ৰ।"
(সূরা আল-বাকারা, ২:২০৮)
আজ অনেকেই দ্বীনকে ততটুকুই গ্রহণ করতে চান, যতটুকু তাদের প্রবৃত্তি ও অভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু আল্লাহর বিধান মানুষের প্রবৃত্তির অনুসারী নয়। বরং মানুষের উচিত নিজের জীবনকে আল্লাহর বিধানের অনুসারী করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"তবে কি আপনি লক্ষ্য করেছেন তাকে, যে তার খেয়াল-খুশীকে নিজ ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? আর তার কাছে জ্ঞান আসার পর আল্লাহ তাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তিনি তার কান ও হৃদয়ে মোহর করে দিয়েছেন। আর তিনি তার চোখের উপর রেখেছেন আবরণ। অতএব, আল্লাহর পরে কে তাকে হেদায়েত দিবে? তবু কি তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ করবে না?"
(সূরা আল-জাসিয়াহ, ৪৫:২৩)
কোনো দাঈ যখন কাউকে তার গুনাহ, বিদআত বা শরিয়াহবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নসিহত করেন, তখন অনেকেই তা গুরুত্ব না দিয়ে হাসি-ঠাট্টায় উড়িয়ে দেন, এমনকি নসিহতকারীকেই আক্রমণ করেন। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আর যখন তাকে বলা হয়, ‘আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর’, তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপাচারে লিপ্ত করে, কাজেই জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই তা নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল।"
(সূরা আল-বাকারা, ২:২০৬)
আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহর রাসূল ﷺ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আশা রাখে আল্লাহ্ ও শেষ দিনের এবং আল্লাহ্কে বেশী স্মরণ করে।"
(সূরা আল-আহযাব, ৩৩:২১)
কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ সমাজের অনেক মুসলিম তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করছে অভিনেতা, গায়ক, খেলোয়াড়, ইনফ্লুয়েন্সার এবং ইসলামবিরোধী জীবনব্যবস্থার অনুসারীদের। অথচ একজন মুসলিমের প্রকৃত আদর্শ হওয়া উচিত রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ –যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং তারা বিনীত ।"
(সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৫৫)
এছাড়াও আল্লাহ বলেন,
"হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে নিশ্চয় তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।"
(সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৫১)
আমাদের উচিত আত্মসমালোচনা করা। আমরা কি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিচ্ছি, নাকি সমাজ, প্রবৃত্তি ও দুনিয়াবি মোহকে?
আজ মানুষ দুনিয়ার সামান্য স্বার্থ, খ্যাতি, অর্থ কিংবা মানুষের সন্তুষ্টির জন্য নিজের দ্বীন, আদর্শ ও নীতিকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। অথচ একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। সত্যের পথে চলতে গিয়ে যদি কষ্ট, উপহাস বা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়, তবুও সে আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। কারণ সে জানে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজেকে বিকিয়ে দেয়। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল।"
(সূরা আল-বাকারা, ২:২০৭)
সুতরাং আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত, আমরা কি মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বেঁচে আছি, নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য? একজন প্রকৃত মুমিন সবসময় আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই নিজের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানায়।
والله أعلم
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে একমাত্র আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সত্যের ওপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।