If you're in doubt ask الله.
Forum Staff
Moderator
Generous
ilm Seeker
Uploader
Exposer
HistoryLover
Q&A Master
Salafi User
- Joined
- Nov 25, 2022
- Threads
- 669
- Comments
- 1,236
- Solutions
- 17
- Reactions
- 8,141
- Thread Author
- #1
হামদ ও দুরুদের পর : আল্লাহর বান্দাগণ, আপনারা যথাযথভাবে আল্লাহর তাকওয় অবলম্বন করুন এবং নির্জনে ও গোপনে তাকে ভয় করে চলুন।
হে মুসলমনগণ! মহান আল্লাহ তাঁর একান্ত ইবাদাতের জন্য সৃষ্টিকে সৃি করেছেন এবং এই দুনিয়াকে আখিরাতের জন্য ক্ষেত্রস্বরূপ, তাঁর আনুগতে প্রতিযোগিতার ময়দান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি ভালো কাজে অগ্রগামী হওয়ার এবং নৈকট্য অর্জনের জন্য অগ্রসর হতে আহ্বান করেছেন আর সৎকর্মে প্রতিযোগিতা শুধু সৎকর্ম করার আদেশের চেয়ে বেশি কিছু; বর এতে রয়েছে তা সম্পাদন, পূর্ণতা দান এবং সর্বোত্তম পন্থায় তা বাস্তবায়ন আর এটাই হলো পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দাসত্বের প্রকাশ। তাছাড়া মহ আত্মাগুলো অগ্রগামী হতে ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভের স্পৃহায় প্রতিযোগিতা দ্বারা উপকৃত হয়। এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মহৎ চেতনা এবং গুণী মানুষের অনুকরণের পরিচ বহন করে।
আর সৎকর্মে অগ্রগামিতা ব্যক্তির সবচেয়ে প্রশংসনীয় গুণগুলোর একটি কারণ এতে আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার গভীর আগ্রহে-প্রমাণ মেলে। নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সর্বদ অগ্রগামী ছিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বলেছেন:
অর্থ: "হে আমার রব! আমি তাড়াতাড়ি আপনার কাছে ছুটে এসেছি- যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।” (সূরা ত্ব-হা: ৮৪)
আর আমাদের নবী মুহাম্মদ (সল্লাল্লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন তার সাহাবিদের সঙ্গে সালাত আদায় করলেন তারপর তিনি দ্রুত উঠে পড়লেন এবং মানুষের কাঁধ ডিঙিয়ে তার স্ত্রীদের কোনো একটি কক্ষে প্রবেশ করলেন। তার এই দ্রুততার কারণে লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তখন তিনি বললেন:
"আমাদের কাছে সদকার কিছু সোনার টুকরো থাকার কথা আমার মনে পড়ে গেল। আমি অপছন্দ করলাম যে তা আমাকে (কল্যাণের কাজে) আটকে রাখুক। তাই আমি তা বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছি।" (সহীহ বুখারী)
আল্লাহ্ তা'আলা জানিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী উম্মতের মুমিনদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যে:
অর্থ: "আর তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে এবং সৎকাজে দ্রুতগামী হয়।" (সূরা আলে ইমরান: ১১৪)।
আর আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মতকে তাঁর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুতগামী হতে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:
অর্থ: "আর তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সে জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার বিস্তৃতি আসমানসমূহ ও যমীন।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩৩)।
আর তিনি তাদের এতে প্রতিযোগিতা করতে উৎসাহিত করে বলেছেন:
অর্থ: "তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সে জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতা কর, যার প্রস্থ আসমান ও যমীনের প্রন্থের ন্যায়।" (সূরা আল-হাদীদ: ২১)।
রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবিরাও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা অর্জনে সদা অগ্রসর থাকতেন। একবার নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এই পতাকাটি এমন এক ব্যক্তিকে দেব, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন; সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাকে ভালোবাসেন।" (বুখারী ও মুসলিম)
সহল (রা.) বলেন: "সেদিন লোকেরা সারারাত এ নিয়েই কাটাল- কার হাতে এটি দেওয়া হবে। পরদিন সকালে সবাই এই আশায় উপস্থিত হলো যে, এটি তাকে দেওয়া হবে।"
তারা নবীর আতিথেয়তা লাভের জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেন যে, কে তা লাভ করবে। বারা (রা.) বলেন: "আমরা মদিনায় আগমন করলাম -অর্থাৎ হিজরতের সময়- তখন লোকেরা এ নিয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ল যে, কার বাড়িতে আল্লাহর রাসূল অবস্থান করবেন। তখন তিনি বললেন: 'আমি বনু নাজ্জারের কাছে অবস্থান করব। তারা আবদুল মুত্তালিবের মাতুলগোষ্ঠী; এর মাধ্যমে আমি তাদের সম্মানিত করব।” (সহীহ মুসলিম)
তারা রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতেন: "তারা মসজিদের ইট একটি একটি করে বহন করতো, আর আম্মার ইবনে ইয়াসির দু'টি করে ইট বহন করতেন।" (সহীহ বুখারী)
মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় আরো উল্লেখ আছে যে: "তখন রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: 'হে আম্মার, তুমি কেন তোমার সঙ্গীদের মতো একটি করে ইট বহন করছ না?' তিনি বললেন: 'আমি আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব চাই।'"
তারা চেষ্টা করতেন যাতে কেউ তাদের থেকে ইবাদতে এগিয়ে না যেতে পারে। গরীব মুহাজিররা রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: "ধনীরা সর্বোচ্চ মর্যাদা ও চিরস্থায়ী নেয়ামত নিয়ে গেলেন।"
তিনি বললেন: 'সেটা কীভাবে?' তারা বললেন: 'তারা আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের মতো সাওম পালন করে, কিন্তু তারা সদকা করে আমরা সদকা করি না, তারা দাসমুক্ত করে আমরা দাসমুক্ত করি না।" (বুখারী ও মুসলিম)
আর তারা নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ জানার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন, যাতে তা অনুসরণ করতে পারেন: "মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উসামা, বিলাল ও উসমান ইবন তালহা (রা.)-কে নিয়ে কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন, এবং দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। তারপর তিনি বের হলেন এবং লোকেরা ভেতরে প্রবেশের জন্য দৌড়াতে লাগল।"
ইবন উমর (রা.) বলেন: "আমি তাদের আগে ঢুকে বিলালকে দরজার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোথায় সালাত আদায় করেছেন?'" (বুখারী ও মুসলিম)
আর তারা নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রতি যা আহ্বান করতেন, তার দিকে দ্রুত ধাবিত হতেন এবং নিজেদের উপর তা অগ্রাধিকার দিতেন, এমনকি যদি তাদের নিজেদেরই তার প্রয়োজন থাকতো: "এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: আমি ক্ষুধায় কাতর হয়ে আছি।' তিনি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'কে আজ রাতে তাকে মেহমানদারি করবে, আল্লাহ তাকে রহম করবেন?' আনসারদের মধ্য থেকে একজন উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি।' তিনি তাকে মেহমানদারি করলেন, অথচ তার কাছে তার বাচ্চাদের খাবার ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন: কোন জিনিস দ্বারা তাদেরকে ভুলিয়ে রাখ, আর যখন আমাদের মেহমান আসবে, তখন বাতি নিভিয়ে দিও, আর তার কাছে এই ভান করবে যে আমরাও খাচ্ছি। যখন সে খেতে যাবে, তখন তুমি বাতির কাছে গিয়ে সেটা নিভিয়ে দিও।' অতঃপর তারা বসে পড়লেন এবং মেহমান খেলেন। সকাল হলে সে নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেল। তিনি বললেন: 'নিজ মেহমানের সাথে তোমাদের দু'জনের আজকের রাতে তোমাদের ব্যবহারে আল্লাহ বিস্মিত হয়েছেন!" (বুখারী ও মুসলিম)
এবং তারা প্রশংসনীয় গুণাবলী অর্জনের জন্য সদা সচেষ্ট থাকত, এমনকি তা যদি তাদের জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমেও হয়। একদল লোক রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে একজন আমানতদার লোক পাঠান।" তিনি বললেন: 'আমি অবশ্যই তোমাদের সাথে একজন প্রকৃত আমানতদার লোক পাঠাব।' রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবাগণ এ জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তিনি বললেন: 'হে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, উঠে দাঁড়াও।" (বুখারী ও মুসলিম)
যখন নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানালেন যে এই উম্মতের মধ্যে কিছু লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন উক্কাশা (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন: 'আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, যেন তিনি আমাকেও তাদের একজন করে দেন।' তিনি বললেন: 'তুমি তাদেরই একজন।' তখন আরেকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: 'হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, আমিও যেন তাদের একজন হই।' তখন তিনি বললেন: 'উক্কাশা এতে তোমার আগেই চলে গেছে।" (বুখারী ও মুসলিম)
আর যেমনিভাবে তারা ইবাদাতে প্রতিযোগিতা করতো, তেমনিভাবে সৃষ্টির মনে আনন্দ দেওয়ার ক্ষেত্রেও দ্রুতগামী হতো। কা'ব ইবন মালিক (রা.) বলেন: "যখন আমার তাওবা কবুলের আয়াত নাজিল হলো, তখন আমি একজন ঘোষকের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, যে জাবালে সালা'র উপর দাঁড়িয়ে তার উচ্চ কণ্ঠে বলছিল: 'হে কা'ব ইবন মালিক, সুসংবাদ গ্রহণ করো।' আর রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের উপর আল্লাহর তাওবা কবুলের ঘোষণা করলেন। তখন লোকজন আমাদের সুসংবাদ দিতে ছুটে এলো। আমার দু'জন সাথীর দিকেও সুসংবাদদাতারা গেল। আসলাম গোত্রের অপর এক ব্যক্তিদ্রুত আগমন করে পর্বতের উপর আরোহণ করতঃ চীৎকার দিতে থাকে। তার চীৎকারের শব্দ ঘোড়া অপেক্ষাও দ্রুত পৌঁছল। আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে রওনা দিলাম, লোকেরা দলবেঁধে আমার সাথে সাক্ষাত করতে লাগল, তাওবা কবুলের জন্য আমাকে অভিনন্দন জানাতে লাগল, অবশেষে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। দেখলাম রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে আছেন, তার চারপাশে লোকজন। তালহা ইবন উবাইদুল্লাহ দৌড়ে আমার দিকে উঠে এলেন, আমার সাথে মুসাফাহা করলেন এবং আমাকে অভিনন্দন জানালেন। আর তালহার এ বিষয়টি কখনো ভুলব না।" (বুখারী ও মুসলিম)
আর আবু বকর (রা.)- তিনি সর্বসম্মতিক্রমে সাহাবাদের মধ্যে পরিপূর্ণ (সৎকাজে) প্রতিযোগী ছিলেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য নিজের সমস্ত সম্পদ দান করেছিলেন। উমর (রা.) বলেন: "একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন। সে সময় আমার কাছে কিছু সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম- আজ যদি কোনো দিন আবু বকরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়, তবে আজই। তাই আমি আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে উপস্থিত হলাম। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?' আমি বললাম: 'এর সমপরিমাণ।' এরপর আবু বকর (রা.) তার কাছে যা কিছু ছিল- সবই নিয়ে এলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?' তিনি বললেন: 'আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি।' তখন আমি বললাম: 'আমি আর কখনো কোনো বিষয়ে আপনার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জিততে পারবো না।” (তিরমিজি)
আর একদিন আবু বকর (রা.) সওম পালন করলেন, জানাযায় গেলেন, একজন মিসকিনকে খাবার দিলেন এবং একজন রোগীর সেবা করলেন। তখন রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এই গুণগুলো কোন ব্যক্তির মধ্যে একত্রিত হলে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (মুসলিম)
উমর (রা.) বলেন: "তিনি সৎকাজে দ্রুতগামী ছিলেন। আমরা কখনোই কোনো সৎকাজে অগ্রসর হতে চাইলেই আবু বকর (রা.) আমাদের আগেই চলে যেতেন।" (আহমাদ)
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম অগ্রগামী ছিলেন- যারা মক্কা বিজয়ের আগেই আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করেছেন ও জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা অন্যান্য সাহাবাদের চেয়ে উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী। আর এই প্রথম অগ্রগামীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন চার খলিফা; আর তাদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ আবু বকর, তারপর উমর (রা.)।
এই উম্মতের মধ্যেও এমন মানুষ আছেন, যারা যারা প্রচেষ্টা করেছেন এবং সৎকর্মে দ্রুত অগ্রসর হয়ে অন্যদের অতিক্রম করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
অর্থ: "আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহর অনুমতিক্রমে সৎকাজে অগ্রগামী।” (সূরা ফাতির: ৩২)
মুমিনদের সৎকাজে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার যেসব গুণ তাদের মর্যাদা উচ্চে তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছে: তারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে সদা সন্ত্রস্ত থাকে; তারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহে ঈমান রাখে; তারা তাদের রবের সঙ্গে কাউকে শরিক করে না; আর তারা যা কিছু দান করার, তা দান করেও তাদের অন্তর থাকে শঙ্কিত- এ জন্য যে, তারা তাদের প্রতিপালকের কাছেই প্রত্যাবর্তন করবে।
যার জন্য আল্লাহ নৈকট্য ও আনুগত্যের পথ সহজতর হয়, তার উচিত তাতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া এবং সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করা। কারণ দৃঢ় সংকল্প ও উচ্চ মনোবল খুব দ্রুত ভেঙে পড়ে- খুব কম সময়ই তা স্থির থাকে।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেন যার জন্য তিনি সৎকাজের একটি দরজা খুলে দেন, আর সে তা গ্রহণ করে না। এর শাস্তি হলো তিনি তার অন্তর ও তার ইচ্ছার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেন, ফলে তাকে তার ইচ্ছা পূরণের সুযোগ দেন না, এটি তার শাস্তি স্বরূপ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তাকে ডাকেন তখন সাড়া দেয় না, আল্লাহ তার এবং তার অন্তর ও ইচ্ছার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেন। ফলে সে এরপর আর সাড়া দিতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: 'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে। আর জেনে রাখো, আল্লাহ মানুষের ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেন।'"
নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৎকাজে দ্রুতগামী হতে উৎসাহিত করেছেন, তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আগে এবং ক্রমবর্ধমান, স্তূপীকৃত ও নিপতিত ফিতনাসমূহ দ্বারা ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার আগেই। তিনি বলেছেন: "তোমরা সৎকাজে দ্রুতগামী হও, এমন ফিতনার আগে যা অন্ধকার রাতের টুকরার মতো। সকালে মানুষ মুমিন থাকবে আর সন্ধ্যায় কাফির হবে -অথবা: সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে আর সকালে কাফির হবে। সে তার দ্বীনকে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করবে।" (মুসলিম)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন কিছু আমলের কথা জানিয়েছেন যেগুলোর সওয়াব মানুষ যদি সত্যিই জানত, তবে তারা সেগুলো অর্জনের জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করত। তিনি বলেছেন: “মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের ফজিলত জানত, তবে তা পাওয়ার জন্য লটারির আশ্রয় নিতে হলেও নিত। আর মানুষ যদি আগেভাগে নামাজে উপস্থিত হওয়ার ফজিলত জানত, তবে তাতে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। আর মানুষ যদি ইশা ও ফজরের নামাজের ফজিলত জানত, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সেগুলো আদায় করতে আসত।” (বুখারী ও মুসলিম)
আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সৎকাজে প্রতিযোগিতা করে এবং অগ্রগামী হয়, সে আখিরাতেও জান্নাতে প্রবেশে অগ্রগামী হবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
অর্থ: "আর যারা অগ্রগামী, তারাই তো অগ্রগামী।* তারাই আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত* নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতসমূহে।" (সূরা আল-ওয়াকিয়াহ: ১০-১২)
পরিশেষে হে মুসলমানগণ!
সুতরাং, সৎকাজে পরিপূর্ণতা অর্জনে দ্রুতগামী হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করুন। আর যদি আপনি পারেন যে আল্লাহর কাছে কেউ আপনাকে ছাড়িয়ে না যায়, তবে তাই করুন। বস্তুত সৎকাজ ও ইবাদতের ক্ষেত্র বহুবিধ, সুতরাং যদি কেউ আপনাকে কোনো একটি কাজে ছাড়িয়ে যায়, তবে সে যেন আপনাকে অন্য কাজে ছাড়িয়ে না যায়। আর যাকে প্রতিযোগিতা থেকে কোনো ওজর আটকে রাখে, তার জন্য সত্যিকারের নিস্ত (ইচ্ছা) আমলের স্থলাভিষিক্ত হয়।
আর যার অন্তর বিশুদ্ধ, সে তার আগে যারা নেককাজে অগ্রগামী হয়েছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে:
অর্থ: "আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকে ক্ষমা করুন, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে।" (সূরা আল-হাশর: ১০)।
আর যে ব্যক্তি সৎকাজের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং অগ্রগামী হয়, সে যেন আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্যের জন্য প্রশংসা করে, আর নিজের আমল নিয়ে গর্ব না করে, যাতে তা বরবাদ না হয়।
আঊযুবিল্লাহি মিনাশ-শায়তানির রাজীম
অর্থ: অতঃপর আমি এ কিতাবটির উত্তরাধীকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তারপর তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি যুলমকারী এবং কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। আবার তাদের কেউ কেউ আল্লাহর অনুমতিসাপেক্ষে কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী।
এটাই হলো মহা অনুগ্রহ। (সূরা ফাতির: ৩২।)
দ্বিতীয় খুতবা:
হে মুসলমানগণ: অনেক বিতর্ক বহু সৎকাজ সম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করে, তাড়াতাড়ি করার প্রশ্ন তো দূরের কথা। যখন মুশরিকরা মুমিনদের কিবলা পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ মুমিনদের তাদের সাথে বিতর্ক করতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে তারা সৎকাজ থেকে বিরত না থাকে, এবং তিনি তাদের সৎকাজে দ্রুতগামী হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন:
অর্থ: "আর প্রত্যেকের একটি দিক রয়েছে, যে দিকে সে চেহারা ফিরায়। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর।" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৪৮)
আর যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে আনুগত্যের দিকে প্রতিযোগিতা করা থেকে বঞ্চিত হয়। আল্লাহ রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রবৃত্তিপরায়ণ লোকদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন এবং সৎকাজে প্রতিযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
অর্থ: "আর যে সত্য আপনার নিকট এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমরা একটা করে শরীয়ত ও স্পষ্টপথ নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে এক উম্মত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। কাজেই সৎকাজে তোমরা প্রতিযোগিতা কর।" (সূরা আল-মায়িদা: ৪৮)
আর আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিমুখতার একটি লক্ষণ এই যে, তিনি তাকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রাখেন যা তার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। আর যাকে অনুগ্রহ করা হয়েছে সে সেই ব্যক্তি, যাকে ইবাদাতের তাওফীক দেওয়া হয়েছে এবং সে তাতে দ্রুতগামী হয়েছে।
অতঃপর আপনারা জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে তাঁর নবীর উপর দরুদ ও সালাম পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন....।
সমাপ্ত
হে মুসলমনগণ! মহান আল্লাহ তাঁর একান্ত ইবাদাতের জন্য সৃষ্টিকে সৃি করেছেন এবং এই দুনিয়াকে আখিরাতের জন্য ক্ষেত্রস্বরূপ, তাঁর আনুগতে প্রতিযোগিতার ময়দান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি ভালো কাজে অগ্রগামী হওয়ার এবং নৈকট্য অর্জনের জন্য অগ্রসর হতে আহ্বান করেছেন আর সৎকর্মে প্রতিযোগিতা শুধু সৎকর্ম করার আদেশের চেয়ে বেশি কিছু; বর এতে রয়েছে তা সম্পাদন, পূর্ণতা দান এবং সর্বোত্তম পন্থায় তা বাস্তবায়ন আর এটাই হলো পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দাসত্বের প্রকাশ। তাছাড়া মহ আত্মাগুলো অগ্রগামী হতে ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভের স্পৃহায় প্রতিযোগিতা দ্বারা উপকৃত হয়। এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মহৎ চেতনা এবং গুণী মানুষের অনুকরণের পরিচ বহন করে।
আর সৎকর্মে অগ্রগামিতা ব্যক্তির সবচেয়ে প্রশংসনীয় গুণগুলোর একটি কারণ এতে আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার গভীর আগ্রহে-প্রমাণ মেলে। নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সর্বদ অগ্রগামী ছিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বলেছেন:
وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى
অর্থ: "হে আমার রব! আমি তাড়াতাড়ি আপনার কাছে ছুটে এসেছি- যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।” (সূরা ত্ব-হা: ৮৪)
আর আমাদের নবী মুহাম্মদ (সল্লাল্লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন তার সাহাবিদের সঙ্গে সালাত আদায় করলেন তারপর তিনি দ্রুত উঠে পড়লেন এবং মানুষের কাঁধ ডিঙিয়ে তার স্ত্রীদের কোনো একটি কক্ষে প্রবেশ করলেন। তার এই দ্রুততার কারণে লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তখন তিনি বললেন:
"আমাদের কাছে সদকার কিছু সোনার টুকরো থাকার কথা আমার মনে পড়ে গেল। আমি অপছন্দ করলাম যে তা আমাকে (কল্যাণের কাজে) আটকে রাখুক। তাই আমি তা বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছি।" (সহীহ বুখারী)
আল্লাহ্ তা'আলা জানিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী উম্মতের মুমিনদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যে:
و يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ
অর্থ: "আর তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে এবং সৎকাজে দ্রুতগামী হয়।" (সূরা আলে ইমরান: ১১৪)।
আর আল্লাহ্ তা'আলা এই উম্মতকে তাঁর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুতগামী হতে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضِ
অর্থ: "আর তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সে জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার বিস্তৃতি আসমানসমূহ ও যমীন।" (সূরা আলে ইমরান: ১৩৩)।
আর তিনি তাদের এতে প্রতিযোগিতা করতে উৎসাহিত করে বলেছেন:
سَابِقُوا إلى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ .
অর্থ: "তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সে জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতা কর, যার প্রস্থ আসমান ও যমীনের প্রন্থের ন্যায়।" (সূরা আল-হাদীদ: ২১)।
রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবিরাও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা অর্জনে সদা অগ্রসর থাকতেন। একবার নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এই পতাকাটি এমন এক ব্যক্তিকে দেব, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন; সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাকে ভালোবাসেন।" (বুখারী ও মুসলিম)
সহল (রা.) বলেন: "সেদিন লোকেরা সারারাত এ নিয়েই কাটাল- কার হাতে এটি দেওয়া হবে। পরদিন সকালে সবাই এই আশায় উপস্থিত হলো যে, এটি তাকে দেওয়া হবে।"
তারা নবীর আতিথেয়তা লাভের জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেন যে, কে তা লাভ করবে। বারা (রা.) বলেন: "আমরা মদিনায় আগমন করলাম -অর্থাৎ হিজরতের সময়- তখন লোকেরা এ নিয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ল যে, কার বাড়িতে আল্লাহর রাসূল অবস্থান করবেন। তখন তিনি বললেন: 'আমি বনু নাজ্জারের কাছে অবস্থান করব। তারা আবদুল মুত্তালিবের মাতুলগোষ্ঠী; এর মাধ্যমে আমি তাদের সম্মানিত করব।” (সহীহ মুসলিম)
তারা রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতেন: "তারা মসজিদের ইট একটি একটি করে বহন করতো, আর আম্মার ইবনে ইয়াসির দু'টি করে ইট বহন করতেন।" (সহীহ বুখারী)
মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় আরো উল্লেখ আছে যে: "তখন রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: 'হে আম্মার, তুমি কেন তোমার সঙ্গীদের মতো একটি করে ইট বহন করছ না?' তিনি বললেন: 'আমি আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াব চাই।'"
তারা চেষ্টা করতেন যাতে কেউ তাদের থেকে ইবাদতে এগিয়ে না যেতে পারে। গরীব মুহাজিররা রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: "ধনীরা সর্বোচ্চ মর্যাদা ও চিরস্থায়ী নেয়ামত নিয়ে গেলেন।"
তিনি বললেন: 'সেটা কীভাবে?' তারা বললেন: 'তারা আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের মতো সাওম পালন করে, কিন্তু তারা সদকা করে আমরা সদকা করি না, তারা দাসমুক্ত করে আমরা দাসমুক্ত করি না।" (বুখারী ও মুসলিম)
আর তারা নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ জানার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন, যাতে তা অনুসরণ করতে পারেন: "মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উসামা, বিলাল ও উসমান ইবন তালহা (রা.)-কে নিয়ে কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন, এবং দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। তারপর তিনি বের হলেন এবং লোকেরা ভেতরে প্রবেশের জন্য দৌড়াতে লাগল।"
ইবন উমর (রা.) বলেন: "আমি তাদের আগে ঢুকে বিলালকে দরজার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: 'রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোথায় সালাত আদায় করেছেন?'" (বুখারী ও মুসলিম)
আর তারা নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রতি যা আহ্বান করতেন, তার দিকে দ্রুত ধাবিত হতেন এবং নিজেদের উপর তা অগ্রাধিকার দিতেন, এমনকি যদি তাদের নিজেদেরই তার প্রয়োজন থাকতো: "এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: আমি ক্ষুধায় কাতর হয়ে আছি।' তিনি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'কে আজ রাতে তাকে মেহমানদারি করবে, আল্লাহ তাকে রহম করবেন?' আনসারদের মধ্য থেকে একজন উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি।' তিনি তাকে মেহমানদারি করলেন, অথচ তার কাছে তার বাচ্চাদের খাবার ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন: কোন জিনিস দ্বারা তাদেরকে ভুলিয়ে রাখ, আর যখন আমাদের মেহমান আসবে, তখন বাতি নিভিয়ে দিও, আর তার কাছে এই ভান করবে যে আমরাও খাচ্ছি। যখন সে খেতে যাবে, তখন তুমি বাতির কাছে গিয়ে সেটা নিভিয়ে দিও।' অতঃপর তারা বসে পড়লেন এবং মেহমান খেলেন। সকাল হলে সে নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেল। তিনি বললেন: 'নিজ মেহমানের সাথে তোমাদের দু'জনের আজকের রাতে তোমাদের ব্যবহারে আল্লাহ বিস্মিত হয়েছেন!" (বুখারী ও মুসলিম)
এবং তারা প্রশংসনীয় গুণাবলী অর্জনের জন্য সদা সচেষ্ট থাকত, এমনকি তা যদি তাদের জন্মভূমি ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমেও হয়। একদল লোক রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে একজন আমানতদার লোক পাঠান।" তিনি বললেন: 'আমি অবশ্যই তোমাদের সাথে একজন প্রকৃত আমানতদার লোক পাঠাব।' রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবাগণ এ জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তিনি বললেন: 'হে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, উঠে দাঁড়াও।" (বুখারী ও মুসলিম)
যখন নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানালেন যে এই উম্মতের মধ্যে কিছু লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন উক্কাশা (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন: 'আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, যেন তিনি আমাকেও তাদের একজন করে দেন।' তিনি বললেন: 'তুমি তাদেরই একজন।' তখন আরেকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: 'হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, আমিও যেন তাদের একজন হই।' তখন তিনি বললেন: 'উক্কাশা এতে তোমার আগেই চলে গেছে।" (বুখারী ও মুসলিম)
আর যেমনিভাবে তারা ইবাদাতে প্রতিযোগিতা করতো, তেমনিভাবে সৃষ্টির মনে আনন্দ দেওয়ার ক্ষেত্রেও দ্রুতগামী হতো। কা'ব ইবন মালিক (রা.) বলেন: "যখন আমার তাওবা কবুলের আয়াত নাজিল হলো, তখন আমি একজন ঘোষকের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, যে জাবালে সালা'র উপর দাঁড়িয়ে তার উচ্চ কণ্ঠে বলছিল: 'হে কা'ব ইবন মালিক, সুসংবাদ গ্রহণ করো।' আর রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের উপর আল্লাহর তাওবা কবুলের ঘোষণা করলেন। তখন লোকজন আমাদের সুসংবাদ দিতে ছুটে এলো। আমার দু'জন সাথীর দিকেও সুসংবাদদাতারা গেল। আসলাম গোত্রের অপর এক ব্যক্তিদ্রুত আগমন করে পর্বতের উপর আরোহণ করতঃ চীৎকার দিতে থাকে। তার চীৎকারের শব্দ ঘোড়া অপেক্ষাও দ্রুত পৌঁছল। আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে রওনা দিলাম, লোকেরা দলবেঁধে আমার সাথে সাক্ষাত করতে লাগল, তাওবা কবুলের জন্য আমাকে অভিনন্দন জানাতে লাগল, অবশেষে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। দেখলাম রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে আছেন, তার চারপাশে লোকজন। তালহা ইবন উবাইদুল্লাহ দৌড়ে আমার দিকে উঠে এলেন, আমার সাথে মুসাফাহা করলেন এবং আমাকে অভিনন্দন জানালেন। আর তালহার এ বিষয়টি কখনো ভুলব না।" (বুখারী ও মুসলিম)
আর আবু বকর (রা.)- তিনি সর্বসম্মতিক্রমে সাহাবাদের মধ্যে পরিপূর্ণ (সৎকাজে) প্রতিযোগী ছিলেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য নিজের সমস্ত সম্পদ দান করেছিলেন। উমর (রা.) বলেন: "একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন। সে সময় আমার কাছে কিছু সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম- আজ যদি কোনো দিন আবু বকরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়, তবে আজই। তাই আমি আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে উপস্থিত হলাম। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?' আমি বললাম: 'এর সমপরিমাণ।' এরপর আবু বকর (রা.) তার কাছে যা কিছু ছিল- সবই নিয়ে এলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?' তিনি বললেন: 'আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি।' তখন আমি বললাম: 'আমি আর কখনো কোনো বিষয়ে আপনার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জিততে পারবো না।” (তিরমিজি)
আর একদিন আবু বকর (রা.) সওম পালন করলেন, জানাযায় গেলেন, একজন মিসকিনকে খাবার দিলেন এবং একজন রোগীর সেবা করলেন। তখন রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এই গুণগুলো কোন ব্যক্তির মধ্যে একত্রিত হলে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (মুসলিম)
উমর (রা.) বলেন: "তিনি সৎকাজে দ্রুতগামী ছিলেন। আমরা কখনোই কোনো সৎকাজে অগ্রসর হতে চাইলেই আবু বকর (রা.) আমাদের আগেই চলে যেতেন।" (আহমাদ)
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম অগ্রগামী ছিলেন- যারা মক্কা বিজয়ের আগেই আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করেছেন ও জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা অন্যান্য সাহাবাদের চেয়ে উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী। আর এই প্রথম অগ্রগামীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন চার খলিফা; আর তাদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ আবু বকর, তারপর উমর (রা.)।
এই উম্মতের মধ্যেও এমন মানুষ আছেন, যারা যারা প্রচেষ্টা করেছেন এবং সৎকর্মে দ্রুত অগ্রসর হয়ে অন্যদের অতিক্রম করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ
অর্থ: "আর তাদের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহর অনুমতিক্রমে সৎকাজে অগ্রগামী।” (সূরা ফাতির: ৩২)
মুমিনদের সৎকাজে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার যেসব গুণ তাদের মর্যাদা উচ্চে তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছে: তারা তাদের প্রতিপালকের ভয়ে সদা সন্ত্রস্ত থাকে; তারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহে ঈমান রাখে; তারা তাদের রবের সঙ্গে কাউকে শরিক করে না; আর তারা যা কিছু দান করার, তা দান করেও তাদের অন্তর থাকে শঙ্কিত- এ জন্য যে, তারা তাদের প্রতিপালকের কাছেই প্রত্যাবর্তন করবে।
যার জন্য আল্লাহ নৈকট্য ও আনুগত্যের পথ সহজতর হয়, তার উচিত তাতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া এবং সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করা। কারণ দৃঢ় সংকল্প ও উচ্চ মনোবল খুব দ্রুত ভেঙে পড়ে- খুব কম সময়ই তা স্থির থাকে।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেন যার জন্য তিনি সৎকাজের একটি দরজা খুলে দেন, আর সে তা গ্রহণ করে না। এর শাস্তি হলো তিনি তার অন্তর ও তার ইচ্ছার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেন, ফলে তাকে তার ইচ্ছা পূরণের সুযোগ দেন না, এটি তার শাস্তি স্বরূপ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তাকে ডাকেন তখন সাড়া দেয় না, আল্লাহ তার এবং তার অন্তর ও ইচ্ছার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেন। ফলে সে এরপর আর সাড়া দিতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: 'হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে। আর জেনে রাখো, আল্লাহ মানুষের ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেন।'"
নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৎকাজে দ্রুতগামী হতে উৎসাহিত করেছেন, তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আগে এবং ক্রমবর্ধমান, স্তূপীকৃত ও নিপতিত ফিতনাসমূহ দ্বারা ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার আগেই। তিনি বলেছেন: "তোমরা সৎকাজে দ্রুতগামী হও, এমন ফিতনার আগে যা অন্ধকার রাতের টুকরার মতো। সকালে মানুষ মুমিন থাকবে আর সন্ধ্যায় কাফির হবে -অথবা: সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে আর সকালে কাফির হবে। সে তার দ্বীনকে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করবে।" (মুসলিম)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন কিছু আমলের কথা জানিয়েছেন যেগুলোর সওয়াব মানুষ যদি সত্যিই জানত, তবে তারা সেগুলো অর্জনের জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করত। তিনি বলেছেন: “মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের ফজিলত জানত, তবে তা পাওয়ার জন্য লটারির আশ্রয় নিতে হলেও নিত। আর মানুষ যদি আগেভাগে নামাজে উপস্থিত হওয়ার ফজিলত জানত, তবে তাতে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। আর মানুষ যদি ইশা ও ফজরের নামাজের ফজিলত জানত, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সেগুলো আদায় করতে আসত।” (বুখারী ও মুসলিম)
আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সৎকাজে প্রতিযোগিতা করে এবং অগ্রগামী হয়, সে আখিরাতেও জান্নাতে প্রবেশে অগ্রগামী হবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ * أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ * فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ.
অর্থ: "আর যারা অগ্রগামী, তারাই তো অগ্রগামী।* তারাই আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত* নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতসমূহে।" (সূরা আল-ওয়াকিয়াহ: ১০-১২)
পরিশেষে হে মুসলমানগণ!
সুতরাং, সৎকাজে পরিপূর্ণতা অর্জনে দ্রুতগামী হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করুন। আর যদি আপনি পারেন যে আল্লাহর কাছে কেউ আপনাকে ছাড়িয়ে না যায়, তবে তাই করুন। বস্তুত সৎকাজ ও ইবাদতের ক্ষেত্র বহুবিধ, সুতরাং যদি কেউ আপনাকে কোনো একটি কাজে ছাড়িয়ে যায়, তবে সে যেন আপনাকে অন্য কাজে ছাড়িয়ে না যায়। আর যাকে প্রতিযোগিতা থেকে কোনো ওজর আটকে রাখে, তার জন্য সত্যিকারের নিস্ত (ইচ্ছা) আমলের স্থলাভিষিক্ত হয়।
আর যার অন্তর বিশুদ্ধ, সে তার আগে যারা নেককাজে অগ্রগামী হয়েছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে:
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ
অর্থ: "আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকে ক্ষমা করুন, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে।" (সূরা আল-হাশর: ১০)।
আর যে ব্যক্তি সৎকাজের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং অগ্রগামী হয়, সে যেন আল্লাহর তাওফীক ও সাহায্যের জন্য প্রশংসা করে, আর নিজের আমল নিয়ে গর্ব না করে, যাতে তা বরবাদ না হয়।
আঊযুবিল্লাহি মিনাশ-শায়তানির রাজীম
ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَامٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ .
অর্থ: অতঃপর আমি এ কিতাবটির উত্তরাধীকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তারপর তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি যুলমকারী এবং কেউ কেউ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। আবার তাদের কেউ কেউ আল্লাহর অনুমতিসাপেক্ষে কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী।
এটাই হলো মহা অনুগ্রহ। (সূরা ফাতির: ৩২।)
بارك الله لي ولكم....
দ্বিতীয় খুতবা:
الحمد لله على إحسانه، والشكر له على توفيقه وامتنانه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له تعظيماً لشأنه، وأشهد أن نبينا محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليماً مزيداً.
হে মুসলমানগণ: অনেক বিতর্ক বহু সৎকাজ সম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করে, তাড়াতাড়ি করার প্রশ্ন তো দূরের কথা। যখন মুশরিকরা মুমিনদের কিবলা পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল, আল্লাহ মুমিনদের তাদের সাথে বিতর্ক করতে নিষেধ করেছিলেন, যাতে তারা সৎকাজ থেকে বিরত না থাকে, এবং তিনি তাদের সৎকাজে দ্রুতগামী হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন:
وَلِكُلِّ وَجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ
অর্থ: "আর প্রত্যেকের একটি দিক রয়েছে, যে দিকে সে চেহারা ফিরায়। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর।" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৪৮)
আর যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে আনুগত্যের দিকে প্রতিযোগিতা করা থেকে বঞ্চিত হয়। আল্লাহ রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রবৃত্তিপরায়ণ লোকদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন এবং সৎকাজে প্রতিযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
وَلا تَتَّبِعُ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلِّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ
অর্থ: "আর যে সত্য আপনার নিকট এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমরা একটা করে শরীয়ত ও স্পষ্টপথ নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে এক উম্মত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা দিয়ে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। কাজেই সৎকাজে তোমরা প্রতিযোগিতা কর।" (সূরা আল-মায়িদা: ৪৮)
আর আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিমুখতার একটি লক্ষণ এই যে, তিনি তাকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রাখেন যা তার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। আর যাকে অনুগ্রহ করা হয়েছে সে সেই ব্যক্তি, যাকে ইবাদাতের তাওফীক দেওয়া হয়েছে এবং সে তাতে দ্রুতগামী হয়েছে।
অতঃপর আপনারা জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে তাঁর নবীর উপর দরুদ ও সালাম পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন....।
সমাপ্ত
মসজিদে নববীর জুমার খুতবার বঙ্গানুবাদ
খতীব: শাইখ ড. আব্দুল মুহসিন আল কাসেম হাফিযাহুল্লাহ
তারিখ: ২৬/১২/২০২৫ ইং
খতীব: শাইখ ড. আব্দুল মুহসিন আল কাসেম হাফিযাহুল্লাহ
তারিখ: ২৬/১২/২০২৫ ইং