সিয়াম রমাযানকে সর্বোত্তমভাবে বরণ করার উপায়

Abu Umar

If you're in doubt ask الله.

Forum Staff
Moderator
Generous
ilm Seeker
Uploader
Exposer
HistoryLover
Q&A Master
Salafi User
Joined
Nov 25, 2022
Threads
668
Comments
1,235
Solutions
17
Reactions
8,118
নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকটই সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের অন্তরের অনিষ্টতা ও পাপকার্য হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তিনি যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন পথ প্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তায়ালা তার উপর, তার পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের উপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম নাযিল করুন।

অতঃপর: আল্লাহর বান্দাগণ! আপনারা যথাযথভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করুন এবং নির্জনে ও গোপনে তাকে ভয় করে চলুন।
হে মুসলমানগণ! ইসলাম ধর্ম অত্যন্ত মজবুত একটি ধর্ম, যা কতগুলো রুকন বা স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই রুকনগুলোকে ওয়াজিব আমলসমূহ শক্তিশালী করে এবং মুস্তাহাব আমলসমূহ সুশোভিত করে। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো তা-ই, যা তিনি বান্দাদের ওপর ফরয করেছেন। আল্লাহ তায়ালা হাদীসে কুদসীতে বলেন: "আমার বান্দা আমার ফরযকৃত আমলের চেয়ে প্রিয় আর কোনো জিনিসের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না।" (সহীহ বুখারী)।

ফরযসমূহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রিয় আমল হলো, ইসলামের পাঁচটি রুকন। এর মধ্যে এমন রুকন রয়েছে, যা দিন-রাত কোনো মুহূর্তেই বান্দার থেকে আলাদা হয় না (অর্থাৎ, সর্বদা পালনীয়)। আর তা হলো, 'আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল'- এ দুটির সাক্ষ্য প্রদান করা। আবার এমন রুকনও রয়েছে যা দিনে ও রাতে একাধিকবার পালন করতে হয়, কোনটা জীবনে মাত্র একবার পালন করা ফরয, আবার কোনটা প্রতি বছর একবার করে ফিরে আসে।

রমাযান মাসের সিয়াম এমন একটি রুকন যা প্রতি বছর আদায় করা ফরয। যখনই এই মাসটি ঘনিয়ে আসতো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন:
"তোমাদের কাছে বরকতময় মাস রমাযান এসেছে, মহান আল্লাহ তোমাদের ওপর এই মাসের সিয়াম ফরয করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় এবং অবাধ্য শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। এই মাসে আল্লাহর এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো।” (সুনানে নাসায়ী)।

আল্লাহ তায়ালা সিয়ামকে বিশেষভাবে নিজের পবিত্র সত্তার সাথে সম্পর্কিত করেছেন এবং এর প্রতিদান নিজেই দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর যখন পরম দাতা আল্লাহ নিজেই কোনো কিছু দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন সেই দানের পরিমাণ বা বিশালতা সম্পর্কে কোনো প্রশ্নই থাকে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মহান আল্লাহ বলেন: আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য কেবল সিয়াম ব্যতীত; কেননা সিয়াম কেবল আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।” (বুখারী ও মুসলিম)।

ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এখানে সিয়াম দ্বারা সেই ব্যক্তির সিয়ামকে উদ্দেশ্য হয়েছে, যার সিয়াম কথা ও কাজের যাবতীয় পাপাচার থেকে মুক্ত থাকে।"

রমাযান মাস হলো সম্মানিত মেহমান এবং মূল্যবান মৌসুম যাকে সুসংবাদ, খুশি ও আনন্দের সাথে বরণ করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন:

قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ​

অর্থ: বলুন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহে ও তার দয়ায়; কাজেই এতে তারা যেন আনন্দিত হয়। তারা যা পুঞ্জীভূত করে তার চেয়ে এটা উত্তম। (সূরা ইউনুস: ৫৮।)

রমাযানকে বরণ করে নেওয়ার অন্যতম উৎকৃষ্ট উপায় হলো, এর আগমনের পূর্বেই নেক আমল শুরু করা; কেননা যেকোন কাজের সূচনা তার পরবর্তী অবস্থার সৌন্দর্যের পরিচয় বহন করে। রমাযান মাস হলো (ইবাদতের) ফসল ঘরে তোলার মাস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের জন্য শাবান মাস থেকেই প্রস্তুতি নিতেন। আয়েশা রাঃ বলেন: "আমি নবী সাঃ-কে শাবান মাসের চেয়ে আর কোনো মাসে এতো বেশি সিয়াম রাখতে দেখিনি।” (বুখারী ও মুসলিম)।

এ মাসটি এমন মেহমান যা অতি দ্রুত বিদায় নেয়। সুতরাং, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের উচিত এই মাসে দয়াময় আল্লাহর বিশেষ দানগুলো লুফে নেওয়ার চেষ্টা করা এবং শ্রেষ্ঠ ইবাদত পালনের দৃঢ় সংকল্প করা; সবচেয়ে বড় কর্তব্য বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর তাওহীদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। কেননা তাওহীদের মাধ্যমেই ইবাদতসমূহ সহজতর হয় এবং বান্দা ইবাদতের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে। মহান আল্লাহ মুসা আঃ-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন:

إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي​

অর্থ: নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং আমারই ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত প্রতিষ্ঠা করো। (সূরা ত্ব-হা: ১৪।)

সকল নেক আমলের ভিত্তি হলো, একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করা। মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন:

قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ​

অর্থ: বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি। (সূরা আয-যুমার: ১১)

সিয়ামের মাধ্যমে গুনাহ মাফের বিষয়টি আল্লাহর কাছে সওয়াব পাওয়ার আশার ওপর শর্তযুক্ত করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমাযানের সিয়াম রাখবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" (বুখারী ও মুসলিম)।

অনুরুপ, রমাযানের কিয়ামুল লাইল কবুল হওয়াও এক আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান লাভের আকাঙ্ক্ষার ওপর শর্তযুক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমাযানের কিয়ামুল লাইল আদায় করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম)।

যদি নিয়ত বিশুদ্ধ ও মজবুত হয়, তবে প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন:

مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ​

অর্থ: যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ' দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। (সূরা আল-বাকারা: ২৬১)

ইবনে কাসীর রহঃ বলেছেন: অর্থাৎ, আমলের মধ্যে ব্যক্তির ইখলাস অনুযায়ী এই সওয়াব বৃদ্ধি পায়।

মাসসমূহের মাঝে শ্রেষ্ঠ এই মাস হলো কঠোর পরিশ্রম, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, ধৈর্য ওা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাস। এই মাসের সবচেয়ে সম্মানিত রাতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ​

অর্থ: কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা আল-কদর: ০৩)

জিবরাঈল আঃ এই মাসে নবী করীম সাঃ-এর সাথে কুরআন পরস্পর পাঠ ও পর্যালোচনা করতেন। সালাফদের অবস্থা এমন ছিল যে, রমযান মাস শুরু হলে তারা হাদিস ও ফিকহের মজলিসগুলো স্থগিত রেখে কুরআনের দিকে নিবিষ্ট হতেন।

কাতাদা রহঃ সাধারণত রমযানের প্রতি তিন দিনে একবার কুরআন খতম করতেন। আর যখন শেষ দশক আসত তখন তিনি প্রতি রাতেই একবার কুরআন খতম করতেন। সুতরাং, আপনারা আপনাদের রব আল্লাহর কিতাবকে এই মাসে দিনে ও রাতে বেশি বেশি তিলাওয়াত করুন; কেননা এর মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশস্ত হয়।

আর ফরয সালাতের পর শ্রেষ্ঠ সালাত হলো, রাতের সালাত। আর কিয়ামুল লাইলের জন্য মানুষের এই যে সমবেত হওয়া, তা রমাযান মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত শেষ করে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত কিয়ামুল লাইল আদায় করবে তার আমলনামায় পুরো রাত ইবাদত করার সওয়াব লিখে দেওয়া হবে।" (সুনানে তিরমিযি)।

বান্দা কোনো মুহূর্তের জন্যই আল্লাহর মুখাপেক্ষীহীন হতে পারে না। আর রোজাদার এমন ব্যক্তি যার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। সুতরাং, আপনি আল্লাহর কাছে যা ইচ্ছা চান; কেননা আপনার দোয়া কবুলকারী মহান রব অত্যন্ত দয়ালু। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জমিনের
বুকে এমন কোনো মুসলিম নেই, যে আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে আর আল্লাহ তাকে তা দান করেন না, অথবা সেই দোয়ার সমপরিমাণ কোনো বিপদ তার থেকে দূর করে দেন না, যতক্ষণ না সে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া করে। এ কথা শুনে উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে একজন বলে উঠলেন: তাহলে তো আমরা অনেক বেশি দোয়া করব! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: আল্লাহ তার চেয়েও বেশি দানকারী।” (সুনানে তিরমিযি)।

রমাযান হলো বদান্যতা ও অসহায় লোকদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের মাস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল ব্যক্তির চেয়ে অধিক দানশীল ছিলেন। এ মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জিবরাঈল আঃ যখন সাক্ষাত করতে আসতেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বেশি দান করতেন। (যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি কল্যাণে প্রেরিত বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল হতেন।) সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

বস্তুত প্রবাহিত বায়ুর উপকার হয় সর্বব্যাপী এবং এর কল্যাণ হয় নিরবচ্ছিন্ন। আর সাদকা তার দাতাকে কিয়ামতের দিন ছায়া প্রদান করবে। আর ইবনে উমর রাঃ রমাযান মাসে এতিম ও মিসকিনদের সাথে না নিয়ে কখনও ইফতার করতেন না।

তওবার দরজা সর্বদায়ই খোলা আছে। তওবা ব্যতীত কোনো বান্দার পক্ষেই আল্লাহর পূর্ণ নৈকট্য লাভ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা সকল মুমিনকে তওবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সফলকাম হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন:

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ​

অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আন-নূর: ৩১)

আর বান্দারা যেন আল্লাহর দিকে ফিরে আসে তাই তিনি 'অধিক তওবা কবুলকারী' হিসেবে নিজের নামকরণ করেছেন। বস্তুত যে ব্যক্তি তওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আগ্রসর হয় আল্লাহ তাতে আনন্দিত হন, তাকে আশ্রয় দান করেন এবং তার মন্দ কাজগুলোকে সওয়াবে রুপান্তর করেন। আর বান্দার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন হলো, যেদিন আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।

ইস্তিগফার নেয়ামত টেনে আনে এবং শাস্তি দূর করে। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রহঃ বলেছেন: "বান্দা যখন জানতে পারবে যে, তার পাপের কারণেই তার ওপর অনিষ্ট আপতিত হয়েছে, তখন সে ইস্তিগফার ও তওবা করবে। ফলে তার ক্ষতির কারণটি দূর হয়ে যাবে। এভাবে বান্দা সর্বদা শুকরিয়া আদায়কারী ও ক্ষমা প্রার্থনাকারী হয়; তখন তার জন্য কল্যাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার থেকে অকল্যাণ ও ক্ষতি দূরভীত হয়।"

রমাযানে আল্লাহর যিকির রোজাদারের অলংকার।

ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ বলেছেন: "প্রত্যেক আমলকারীদের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা সে আমলের মধ্যে আল্লাহ তাআলার যিকির সবচেয়ে বেশি করে। সুতরাং রোজাদারদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম, যারা তাদের রোজার সময় আল্লাহ তাআলার যিকির সবচেয়ে বেশি করে অন্তরকে অবাধ্যতা ও গুনাহ থেকে পবিত্র রাখা রোজাদারের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ * إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ​

অর্থ: সেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না।* তবে যে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে সুস্থ (পবিত্র) অন্তর নিয়ে। (সূরা আশ-শু'আরা: ৮৮-৮৯)

ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহঃ বলেছেন: "আমাদের মতে, কেউ বেশি রোজা বা বেশি নামাজের মাধ্যমে (মর্যাদা) অর্জন করতে পারেনি; বরং সে অর্জন করেছে উদার আত্মা ও অন্তরের পবিত্রতার মাধ্যমে।"

রোজা হলো খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকা, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গুনাহ থেকে সংযত রাখা; যেমন গীবত, যা নেক আমল নষ্ট করে দেয়, অথবা হারাম দৃষ্টি, যা রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়। রমাযানে আপনার উপর যেন থাকে ধীরস্থিরতা ও প্রশান্তভাব, আর আপনার রোজার দিন ও রোজা না রাখার দিন যেন সমান না হয়।

পরিশেষে, হে মুসলিমগণ!

রমাযান হলো এক প্রতিযোগিতার ময়দান, যেখানে ইবাদতে অগ্রগামীরা লাভবান হয়। এতে কল্যাণের দরজাগুলো সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত থাকে। বস্তুত সেই ব্যক্তি-ই সৌভাগ্যবান, যে রমাযানে নানাবিধ ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখে। রমাযান মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন নানাবিধ ইবাদত একত্র করতেন, যা তিনি অন্য সময়ে একসাথে করতেন না।

ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ বলেছেন: "যে ব্যক্তি এ দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টিদায়ক ও প্রিয় আমলসমূহে বৈচিত্র্য আনে, সে ঐ জগতে অর্থাৎ জান্নাতে- যেসব নিয়ামত ভোগ করবে তাতেও বৈচিত্র্য থাকবে। দুনিয়াতে তার আমল যত বেশি হবে, সেখানে তার প্রাপ্ত অংশও তত বেশি হবে। আর সেখানে তার আনন্দ, উল্লাস ও নিয়ামত উপভোগ- সবই হবে এ দুনিয়ায় তার আমলের আধিক্য ও বৈচিত্র্যের অনুপাতে।"

আপনারা অলসতা ও উদাসীনতা থেকে সতর্ক থাকুন। কারণ এগুলো তো মাত্র কয়েকটি দিন, যা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং অভিনন্দন তাকে, যে এ মাসকে পেয়েছে; সৌভাগ্য তার জন্য, যে এতে রোজা রেখেছে ও কিয়ামুল্লাইল করেছে, আর এতে বেশি বেশি ইবাদত পালন করেছে।

أعوذ بالله من الشيطان الرجيم يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ.​

অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)

আল্লাহ আমাকে ও আপনাদেরকে মহিমান্বিত কুরআনে বরকত দান করুন।

হে মুসলমানগণ! দিন ও রাতসমূহ আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছে যে আয়ু ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। জ্ঞানী সেই ব্যক্তি, যিনি এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেন। আপনারা স্মরণ করুন তাদেরকে, যারা একসময় আপনাদের সঙ্গে রোজা রেখেছিলেন; অথচ আজ তারা নিজেদের কৃতকর্ম-আমলের সাথে কবরে আবদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। তারা আজ আকাঙ্ক্ষা করছেন- যদি রমাযানের একটি দিনও রোজা রাখার সুযোগ পেতেন! আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে জীবনের অবকাশ দান করেছেন। অতএব, এই সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ার আগে তা যথাযথভাবে কাজে লাগান।

কত মানুষ আছে, যারা একটি দিনকে সামনে পায় কিন্তু তা পূর্ণ করতে পারে না; কত মানুষ আগামীকালের আশা করে, কিন্তু সে তা আর পায় না। আপনারা যদি আয়ুর প্রকৃত অর্থ ও তার গতিপথ অনুধাবন করতে পারতেন, তবে অবশ্যই আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রলোভন ও তার ভ্রান্ত মোহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন।



মসজিদে নববীতে প্রদত্ত জুমার খুতবার অংশ বিশেষ,
শায়খ ড. আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল-কাসেম হাফিঃ​
 
Back
Top