ফাযায়েলে আমল ফেরেশতাদের দোআয় ধন্য যারা। (১৫টি আমল আপনিও করুন)

  • Thread Author
✪ ফেরেশতাদের দোআয় ধন্য যারা।


1️⃣ নবীকুল শিরোমণি মুহাম্মাদ (ﷺ)।


◑ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন‚


اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓئِكَتَهٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡهِ وَ سَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا


নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তার ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দোআ-ইসতেগফার করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর সালাত (দরূদ) পাঠ কর এবং তাকে যথাযথ ভাবে সালাম জানাও।


2️⃣ যারা রাসূল (ﷺ) এর উপর দরূদ পেশ করেন।


عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَر: مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي عَلَيَّ صَلاةً إِلا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلائِكَةُ ، مَا دَامَ يُصَلِّي عَلَيَّ ، فَلْيُقِلَّ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ


আব্দুল্লাহ বিন আমের বিন রাবিয়া তার পিতা (আমের) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মিম্বারে বক্তব্য দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পেশ করবে ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করবে। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত দুয়া করতে থাকবে যতক্ষণ সে দরুদ পেশ করতে থাকে। সুতরাং কম হোক বেশী হোক যা ইচ্ছা সে দরুদ পেশ করতে পারে।” (মুসনাদ তায়ালুসী, হাদিস নং ১২২৫, হাসান, আলবানী। দেখুন: সহীহুল জামে হাদিস নং ৫৭৪৪)




عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ مَنْ صَلَّى عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَاةً صَلَّى اللهُ وَمَلَائِكَتُهُ سَبْعِينَ صَلَاةً فَلْيُقِلَّ عَبْدُ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ.


আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর একবার সালাত (দরূদ) পড়ে, আল্লাহর ফেরেশতাগণ ঐ বান্দার জন্য ৭০ বার (কল্যাণের) দোআ করেন। অতএব কোনো বান্দার ইচ্ছা-সে রাসূলের উপর সালাত কম পাঠ করবে অথবা বেশি পাঠ করবে।




✪ মুসনাদ আহমাদ, হা. ৬৬০৫ (মাকতাবা শামেলা),


✔ ইমাম হাফেয মুনযিরী, হাফেয হায়সামী, সাখাওয়ী ও আহমাদ শাকের হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।


📕 ফেরেশতার দোআয় ধন্য যারা পৃষ্ঠা ২।


3️⃣ নামাযের স্থানে বসে থাকা।


◑ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে সালাতের পর হাদাসের পূর্ব পর্যন্ত যেখানে সে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছ সেখানে যতক্ষণ বসে থাকে ততক্ষণ ফিরিশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। তাঁরা বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন! হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন।


[সহিহ বুখারি - ৪৪৫, মান : সহিহ]


◑ আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,


لا تَزَالُ الْمَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَسْجِدِهِ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، مَا لَمْ يُحْدِثْ


“তোমাদের কোন ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদের ভেতরে (অন্য বর্ণনায়, তার নামাজের স্থানে) অবস্থান করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য এ বলে দুয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দাও, তার প্রতি রহম কর। তার ওযু না ছুটে যাওয়া পর্যন্ত তারা তার জন্য এভাবে দুয়া করতে থাকে।”


হাজরা মাউতে এক লোক এ হাদিস শুনে আবু হুরায়রা রা. কে জিজ্ঞেস করল, হে আবু হুরায়রা, ওযু ছুটার অর্থ কী? তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। ওযু ছুটে যাওয়া মানে বায়ু বের হওয়া। [আল মুজামুল কাবীর (আল জুযউল মাফকূদ) তবরানী, হাদিস নং ১৪, শামেলা]


4️⃣ সামনের কাতারসমূহে উপস্থিত মুসল্লীগন।


◑ বারা ইবনে আযিব রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি:


إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ


“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীদের জন্য।” (সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ: প্রথম কাতারে মর্যাদা, হাদিস নং ৯৮৭, সনদ হাসান-আলবানী, দ্রষ্টব্য: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১১৮)


◑ ‎ বারা’ বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের লোকের উপর রহমত বর্ষণ করেন।


[নাসায়ী ৮১১, আবূ দাঊদ ৬৬৪, আহমাদ ১৮০৪৫, ১৮১৪২, ১৮১৪৭, ১৮১৬৬, ১৮১৭২; দারিমী ১২৬৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৬৭০, মিশকাত ১১০১ সুনানে ইবনে মাজাহ -৯৯৭, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস]


5️⃣ কাতারের ডানে অবস্থিত মুসল্লীগন।


◑ আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,


إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصُّفُوفِ


“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের জন্য যারা কাতারের ডান পাশে সালাত আদায় করে।” (সুনান আবু দাউদ, ৬৭৬, সনদ হাসান-আলবানী, ইবনু হিব্বান ২১৬০, ইবনে মাজাহ ১০০৫, ইবনু হাজার এর সনদকে হাসান বলেছেন। ফেরেশতার দোআয় ধন্য যারা -১৯ পৃ:)


6️⃣ যারা কাতার সংযুক্ত রাখে এবং কাতারের মধ্যে ফাঁক রাখে না।


◑ আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,


إِنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ وَمَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً


“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের প্রতি যারা কাতারের সাথে মিলিত হয়ে সালাত আদায় করে এবং যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে আল্লাহ তায়ালা এর কারণে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।”


(সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ, কাতার সোজা করা, হাদিস নং ৯৮৫। সনদ হাসান-আলবানী। দ্রষ্টব্য: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১২১, আহমাদ ২৪৩৮১, আবু দাউদ ৬৭৬, ইবনু হিব্বান ২১৬৪, শাইখ শুআইব আরনাওত এর সনদ কে শক্তিশালী বলেছেন। ইবনু খুজাইমাহ ১৫৫০, আযামী এর সনদকে হাসান বলেছেন)


◑ আনাস (রাঃ) বলেন আমাদের প্রত্যেকেই তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম। (সহিহ বুখারি ৭২৫)


7️⃣ ইমামের সূরা ফাতিহা শেষে আমীন পাঠকারী।


◑ ‎আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম ' غَيرِ المَغضوُبِ عَلَيهِم وَلاَ الضّاَلّين ' পড়লে তোমরা ‘আমীন’ বলো। কেননা, যার এ (আমীন) বলা মালাকগণের (আমীন) বলার সাথে একই সময় হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।


(সহিহ বুখারী, ৭৮২, আবু দাউদ ৯৩৬, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)


8️⃣ যে ব্যক্তি ওজু অবস্থায় ঘুমায়।


◑ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : কেউ অযু করে রাত্রি যাপন করলে তার কাছাকাছি একজন ফিরিশতা রাত্রি যাপন করেন। সে জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত (বা জাগ্রত হলে) ঐ ফিরিশতা তার জন্য এই বলে দু'আ করেন : হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দিন কেননা সে পবিত্রতা অর্জন করে রাত্রি যাপন করেছে।


[ সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ--২৫৩৯। সহীহ আত তারগীব--৫৯৭। মাজমাউয যাওয়ায়িদ--১৭০৭৪। ইবনু হিব্বান--১০৫৭। হাদিসের মানঃ হাসান সহীহ।]


9️⃣ যে ব্যক্তি ফজর ও আসরের সালাত জামাআতে আদায় করে।


◑ আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী (ﷺ) রাত ও দিনের ফেরেশতামণ্ডলী ফজর ও আসর সলাতের সময় একত্রিত হয়। যখন তারা ফজরের সময় একত্রিত হয় রাতের ফেরেশতাগণ আকাশে চলে যায় এবং দিনের ফেরেশতাগণ থেকে যায়। আবার আসরের সময়ও তারা একত্রিত হয়—তখন দিনের ফেরেশতা আকাশে উঠে যায় আর রাতের ফেরেশতাগণ থেকে যায়। আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাগণকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় ছেড়ে এলে? তারা উত্তরে বলেন, আমরা তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখন তারা সালাত আদায় করছিল, আবার যখন ছেড়ে এলাম তখনও সালাত আদায় করছিল। অতএব তুমি কিয়ামতের দিন তাদেরকে ক্ষমা করে দিও।


(আহমাদ ৮৫৩৮, ইবনু খুযাইমা ৩২২, ইবনু হিব্বান, সনদ সহীহ।)


🔟 কারো অসাক্ষাতে দোআকারী।


◑ ‎ উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, কোন মুসলিম তার ভাইয়ের অবর্তমানে তার জন্য নেক দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকট একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য নেক দুআ করে, তখনই ফেরেশতা বলেন, ‘আমীন এবং তোমার জন্যও অনুরূপ।”


[ মুসলিম ২৭৩২, ২৭৩৩, আবূ দাউদ ১৫৩৪, ইবনু মাজাহ ২৮৯৫, আহমাদ ২১২০০, ২৭০১০, রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৫০৩, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস]


1️⃣1️⃣ আল্লাহর পথে দানকারী :


◑ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।


[ সহিহ বুখারী-১৪৪২, ✔ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস]


1️⃣2️⃣ সাওম রাখতে যারা সাহরী খায়।


◑ আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,


السَّحُورُ أَكْلُهُ بَرَكَةٌ، فَلَا تَدَعُوهُ، وَلَوْ أَنْ يَجْرَعَ أَحَدُكُمْ جُرْعَةً مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ


“সেহেরী খাওয়া বরকতের বিষয়। অত:এব তোমরা তা পরিত্যাগ করিও না। এমনকি এক ঢোক পানি পান করে হলেও। কারণ আল্লাহ তায়ালা যারা সেহেরী খায় তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলীও তাদের জন্য দুয়া করেন।” (মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং ১১৮৭, শামেলা। হাসান লি গাইরেহী, দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৫৮)


1️⃣3️⃣ রোগীকে দেখতে যাওয়া ব্যক্তি।


◑ সুওয়াইর (রহঃ) হতে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমার হাত ধরে আলী (রাঃ) বললেন, আমার সাথে চল, অসুস্থ হুসাইনকে দেখে আসি। আমরা তার নিকটে গিয়ে মূসা (রাঃ)-কে হাযির পেলাম। আলী (রাঃ) বললেন, হে আবূ মূসা! আপনি কি রোগী দেখতে এসেছেন না এমনি বেড়াতে এসেছেন? তিনি বললেন, না, রোগী দেখতে এসেছি। আলী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলমান যদি অন্যকোন মুসলিম রোগীকে সকাল বেলা দেখতে যায় তাহলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু'আ করতে থাকে। সে যদি সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যায় তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা ভোর পর্যন্ত তার জন্য দু'আ করতে থাকে এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ফলের বাগান তৈরী হয়।


[ তিরমিজি/-৯৬৯। মান: সহিহ হাদিস।]


1️⃣4️⃣ অসুস্থ ও মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে ভালো মন্তব্যকারী।


◑ ‎উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রোগী কিংবা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে (তার সম্পর্কে) ভালো কথা বলবে। কেননা তোমরা যা বলবে, ফেরেশতারা তার উপর আমীন’ বলবেন। আবূ সালামাহ (রাঃ) ইনতিকাল করলে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আবূ সালামাহ ইন্তিকাল করেছেন। তিনি বলেন, তুমি বলো, “হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ও তাকে ক্ষমা করো এবং আমাকে তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান দাও।” রাবী বলেন, আমি তাই করলাম। আল্লাহ্ আমাকে তার চাইতেও উত্তম বিনিময় মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দান করেছেন।


[মুসলিম ৯১৮, ৯১৯, ৯২০, তিরমিযী ৯৭৭, নাসায়ী ১৮২৫, আবূ দাউদ ৩১১৯, ৩১১৫, আহমাদ ২৫৯৫৮, ২৬০৬৮, ২৬০৯৫, ২৬১২৯, ২৬১৫৭, মুয়াত্তা মালেক ৫৫৮, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ ১৪৪৭,হাদিসের মান: সহিহ হাদিস]


1️⃣5️⃣ মানুষকে দীনের জ্ঞান ও কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দানকারী।


◑ ‎আবূ উমামাহ্‌ আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, দু’জন লোকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আলোচনা করা হল। তাদের একজন আবিদ (সাধক) এবং অন্যজন ‘আলিম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার যতখানি মর্যাদা, ঠিক তেমনি একজন ‘আলিমের মর্যাদা একজন ‘আবিদের উপর। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং আসমান-যামীনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া এবং পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দু’আ করে যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়।


[সহীহঃ মিশকাত, তাহক্বীক্ব সানী (২১৩), তা’লীকুর রাগীব (১/৬০)। জামে' আত-তিরমিজি ২৬৮৫, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস]




1️⃣6️⃣ ঈমানদার, তাওবাকরী এবং আল্লাহর আনুগত্যকারী।


◑ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,


اَلَّذِیۡنَ یَحۡمِلُوۡنَ الۡعَرۡشَ وَ مَنۡ حَوۡلَهٗ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّهِمۡ وَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِهٖ وَ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۚ رَبَّنَا وَسِعۡتَ كُلَّ شَیۡءٍ رَّحۡمَۃً وَّ عِلۡمًا فَاغۡفِرۡ لِلَّذِیۡنَ تَابُوۡا وَ اتَّبَعُوۡا سَبِیۡلَكَ وَ قِهِمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ


رَبَّنَا وَ اَدۡخِلۡهُمۡ جَنّٰتِ عَدۡنِۣ الَّتِیۡ وَعَدۡتَّهُمۡ وَ مَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِهِمۡ وَ اَزۡوَاجِهِمۡ وَ ذُرِّیّٰتِهِمۡ ؕ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ ۙ﴿۸﴾


وَ قِهِمُ السَّیِّاٰتِ ؕ وَ مَنۡ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوۡمَئِذٍ فَقَدۡ رَحِمۡتَهٗ ؕ وَ ذٰلِكَ هُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ﴿۹﴾


◑ যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে যে, ‘হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন’।


◑ ‘হে আমাদের রব, আর আপনি তাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন। আর তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নি ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদেরকেও। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।’


◑ ‘আর আপনি তাদের অপরাধের আযাব হতে রক্ষা করুন এবং সেদিন আপনি যাকে অপরাধের আযাব থেকে রক্ষা করবেন, অবশ্যই তাকে অনুগ্রহ করবেন। আর এটিই মহাসাফল্য।’


[সূরা মু'মিন ৪০ : ৭-৯]


✍️ রাজিব রেজা (স্নাতক, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ)


📜 ফেরেশতাদের দোআয় ধন্য যারা গ্রন্থ ও আব্দুল্লাহিল হাদি (হাফিজাহুল্লাহ) এর লেখা আর্টিকেল অবলম্বনে।
 

Attachments

  • AddText_02-14-03.10.01.jpg
    AddText_02-14-03.10.01.jpg
    307.2 KB · Views: 1
Back
Top