Informant
Reporter
Salafi User
- Joined
- Aug 6, 2024
- Threads
- 85
- Comments
- 95
- Solutions
- 1
- Reactions
- 1,226
- Thread Author
- #1
শেখ রাশাদ আদ-দালিঈ (হাফিযাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন:
খাবার বা পানীয় থাকলে পাত্র ঢাকা:
এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, পাত্র ঢেকে রাখার নির্দেশ তখনই প্রযোজ্য যখন তাতে খাবার বা পানীয় থাকে। এর সপক্ষে হাদীসের দুটি বর্ণনা রয়েছে:
১. সহীহ বুখারীতে জাবির (রা.) বর্ণিত হাদীসে নবীজি ﷺ বলেছেন: "খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখো।" এখানে সরাসরি খাবার ও পানীয়র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২. সহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এসেছে: "পাত্রটি উল্টে রাখো।"
উলামায়ে কেরাম এই দুটি নির্দেশনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন:
ক) যদি পাত্রে খাবার বা পানীয় থাকে, তবে তা ঢেকে রাখতে হবে।
খ) যদি পাত্রটি খালি থাকে, তবে তা উল্টে রাখতে হবে।
সুতরাং, খাবার বা পানীয় ভর্তি পাত্র মুখ বন্ধ করে ঢেকে রাখা উচিত, আর খালি পাত্র উল্টে রাখা উচিত। কেউ যদি খালি পাত্র উল্টে না রাখে, তবে রোগবালাই বা ক্ষতিকর কিছু প্রবেশ করার ভয়ে সেটি ঢেকে রাখাও একটি উত্তম ও গ্রহণযোগ্য আমল।
নির্দেশটি কি বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) না কি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)?
অধিকাংশ আলেম এই নির্দেশকে 'মুস্তাহাব' বা সুপারিশমূলক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আলেমদের মতে, দুনিয়াবী উপকারের জন্য প্রদত্ত নির্দেশগুলো সাধারণত বাধ্যতামূলক হয় না। এই বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো আলেম এটিকে বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) বলেছেন বলে জানা যায় না। ইমাম কুরতুবী এবং ইবনে দাকীক আল-ঈদ (রহ.) স্পষ্টভাবে একে 'মুস্তাহাব' বলে উল্লেখ করেছেন।
ভুলে খাবার ঢেকে না রাখলে কি তা খাওয়া যাবে?
যদি কেউ খাবার ঢাকতে ভুলে যায়, তবে মূল নিয়ম হলো যদি তাতে ক্ষতিকর কিছু দেখা না যায়, তবে তা খাওয়া জায়েজ।
সহীহ মুসলিমে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ পানীয় চাইলে তিনি নবীজিকে 'নাবীজ' (খেজুর ভেজানো পানি) দিতে চান। নবীজি ﷺ সম্মতি দিলে জাবির (রা.) একটি খোলা পাত্রে তা নিয়ে আসেন। নবীজি ﷺ বললেন: "তুমি কেন এটি ঢেকে রাখলে না? অন্তত এর ওপর একটি কাঠি আড়াআড়িভাবে রেখে হলেও তো ঢাকতে পারতে।" এরপর তিনি সেটি পান করলেন।
অনুরূপভাবে আবু হুমায়দ আস-সাঈদী (রা.) দুধ নিয়ে এলে নবীজি ﷺ একই কথা বলেন এবং সেই দুধ পান করেন।
আলেমগণ এই হাদীসগুলো থেকে প্রমাণ করেছেন যে, অনাবৃত খাবারের ওপর ক্ষতিকর কিছু না পড়লে তা খাওয়া বা পান করা বৈধ। তবে কেউ যদি রোগবালাইয়ের ভয়ে সতর্কতা হিসেবে তা পরিহার করে, তবে তাতে কোনো গুনাহ নেই এবং একে অপচয় বলা হবে না।
ঢাকনা না থাকলে কী করণীয়?
যদি কোনো পাত্র ঢাকার মতো কিছু না পাওয়া যায়, তবে তার ওপর একটি কাঠি বা কাঠখন্ড আড়াআড়িভাবে রেখে দিলেও তা ঢাকা হিসেবে গণ্য হবে এবং উদ্দেশ্য পূরণ হবে।
ফ্রিজ বা আলমারিতে রাখা খাবারের হুকুম:
বর্তমান সময়ে খাবার যদি ফ্রিজে রাখা হয়, তবে কি আলাদাভাবে ঢাকতে হবে?
বিশুদ্ধ মত হলো, ফ্রিজ বা আলমারির মতো সংরক্ষিত স্থানগুলো পাত্র ঢাকার কাজই সম্পন্ন করে। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে পাত্রটি ঢাকা হিসেবেই গণ্য হবে। যদি ফ্রিজ খোলা থাকে তবেই কেবল খাবার পড়ে যাওয়ার বা কিছু ঢোকার ভয় থাকে। তাই ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে আলাদা ঢাকনা না দিলেও চলে, তবে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ঢেকে রাখা আরও উত্তম।
সূত্র:
Madrasatuna || مدرستنا
খাবার বা পানীয় থাকলে পাত্র ঢাকা:
এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, পাত্র ঢেকে রাখার নির্দেশ তখনই প্রযোজ্য যখন তাতে খাবার বা পানীয় থাকে। এর সপক্ষে হাদীসের দুটি বর্ণনা রয়েছে:
১. সহীহ বুখারীতে জাবির (রা.) বর্ণিত হাদীসে নবীজি ﷺ বলেছেন: "খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখো।" এখানে সরাসরি খাবার ও পানীয়র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২. সহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এসেছে: "পাত্রটি উল্টে রাখো।"
উলামায়ে কেরাম এই দুটি নির্দেশনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন:
ক) যদি পাত্রে খাবার বা পানীয় থাকে, তবে তা ঢেকে রাখতে হবে।
খ) যদি পাত্রটি খালি থাকে, তবে তা উল্টে রাখতে হবে।
সুতরাং, খাবার বা পানীয় ভর্তি পাত্র মুখ বন্ধ করে ঢেকে রাখা উচিত, আর খালি পাত্র উল্টে রাখা উচিত। কেউ যদি খালি পাত্র উল্টে না রাখে, তবে রোগবালাই বা ক্ষতিকর কিছু প্রবেশ করার ভয়ে সেটি ঢেকে রাখাও একটি উত্তম ও গ্রহণযোগ্য আমল।
নির্দেশটি কি বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) না কি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)?
অধিকাংশ আলেম এই নির্দেশকে 'মুস্তাহাব' বা সুপারিশমূলক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আলেমদের মতে, দুনিয়াবী উপকারের জন্য প্রদত্ত নির্দেশগুলো সাধারণত বাধ্যতামূলক হয় না। এই বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো আলেম এটিকে বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) বলেছেন বলে জানা যায় না। ইমাম কুরতুবী এবং ইবনে দাকীক আল-ঈদ (রহ.) স্পষ্টভাবে একে 'মুস্তাহাব' বলে উল্লেখ করেছেন।
ভুলে খাবার ঢেকে না রাখলে কি তা খাওয়া যাবে?
যদি কেউ খাবার ঢাকতে ভুলে যায়, তবে মূল নিয়ম হলো যদি তাতে ক্ষতিকর কিছু দেখা না যায়, তবে তা খাওয়া জায়েজ।
সহীহ মুসলিমে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ পানীয় চাইলে তিনি নবীজিকে 'নাবীজ' (খেজুর ভেজানো পানি) দিতে চান। নবীজি ﷺ সম্মতি দিলে জাবির (রা.) একটি খোলা পাত্রে তা নিয়ে আসেন। নবীজি ﷺ বললেন: "তুমি কেন এটি ঢেকে রাখলে না? অন্তত এর ওপর একটি কাঠি আড়াআড়িভাবে রেখে হলেও তো ঢাকতে পারতে।" এরপর তিনি সেটি পান করলেন।
অনুরূপভাবে আবু হুমায়দ আস-সাঈদী (রা.) দুধ নিয়ে এলে নবীজি ﷺ একই কথা বলেন এবং সেই দুধ পান করেন।
আলেমগণ এই হাদীসগুলো থেকে প্রমাণ করেছেন যে, অনাবৃত খাবারের ওপর ক্ষতিকর কিছু না পড়লে তা খাওয়া বা পান করা বৈধ। তবে কেউ যদি রোগবালাইয়ের ভয়ে সতর্কতা হিসেবে তা পরিহার করে, তবে তাতে কোনো গুনাহ নেই এবং একে অপচয় বলা হবে না।
ঢাকনা না থাকলে কী করণীয়?
যদি কোনো পাত্র ঢাকার মতো কিছু না পাওয়া যায়, তবে তার ওপর একটি কাঠি বা কাঠখন্ড আড়াআড়িভাবে রেখে দিলেও তা ঢাকা হিসেবে গণ্য হবে এবং উদ্দেশ্য পূরণ হবে।
ফ্রিজ বা আলমারিতে রাখা খাবারের হুকুম:
বর্তমান সময়ে খাবার যদি ফ্রিজে রাখা হয়, তবে কি আলাদাভাবে ঢাকতে হবে?
বিশুদ্ধ মত হলো, ফ্রিজ বা আলমারির মতো সংরক্ষিত স্থানগুলো পাত্র ঢাকার কাজই সম্পন্ন করে। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে পাত্রটি ঢাকা হিসেবেই গণ্য হবে। যদি ফ্রিজ খোলা থাকে তবেই কেবল খাবার পড়ে যাওয়ার বা কিছু ঢোকার ভয় থাকে। তাই ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে আলাদা ঢাকনা না দিলেও চলে, তবে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ঢেকে রাখা আরও উত্তম।
সূত্র:
Madrasatuna || مدرستنا