প্রশ্ন গল্প উপন্যাস পড়া কি জায়েজ? বিশেষ করে, প্রেমের উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান কি?

Golam Rabby

Knowledge Sharer

ilm Seeker
HistoryLover
Q&A Master
Salafi User
Joined
Jan 3, 2023
Threads
1,171
Comments
1,363
Solutions
1
Reactions
13,205
আসসালামু আলাইকুম।

গল্প উপন্যাস পড়া কি জায়েজ? বিশেষ করে, প্রেমের উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান কি?
 
Solution
গল্প-উপন্যাস পড়া জায়েজ। শর্ত হচ্ছে দুটি। প্রথমত, অশ্লীল ও যৌন সুড়সুড়ি দেয় এমন কিছু হতে পারবে না। কারণ, এগুলো পড়লে এর মাধ্যমে আপনি নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হবেন। অনেক গল্প আছে, যেগুলোতে মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য অনৈতিক কথাবার্তা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, ইসলামী শরিয়তে হারাম, নিষিদ্ধ, গর্হিত—এ ধরনের কোনো বিষয় যদি সেখানে এসে যায়, তাহলে সেটাও নিষিদ্ধ হবে। যেমন শিরক শিক্ষা দিচ্ছে, যৌনতার শিক্ষা দিচ্ছে, মাদকাসক্ত হওয়ার জন্য শিক্ষা দিচ্ছে, যদি এমনি কিছু সেখানে থাকে, তাহলে সেগুলো পড়বেন না।

কিন্তু এমন গল্প, যেখানে সামাজিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সমাজের হতদরিদ্র মানুষের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে বা বিজ্ঞানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে বা বর্তমান প্রাণিজগৎ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে, তাহলে সেগুলো পড়লে মানুষের...
আসসালামু আলাইকুম।

গল্প উপন্যাসের পাঠঃ
গল্প উপন্যাস হল সাহিত্যিক রচনার এক ধরণ, যেখানে লেখকগণ তাদের মতামত, কল্পনা এবং জীবনের সময়কে নিয়ে সুন্দর ও সাহসী গল্প গড়ে তোলেন। জীবনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর, জীবনের অভিজ্ঞতা, সুখে-দুঃখের পাত্রগুলি এখানে উপস্থাপন করা হয়। সাধারণতঃ গল্প উপন্যাস উপন্যাসাদির চেয়ে লম্বা এবং মার্মিক হয়।

প্রেমের উপন্যাসের পাঠঃ
প্রেমের উপন্যাস হল গল্পের একটি বিষয়বস্তু, যেখানে দুটি মানুষ প্রেমে আবদ্ধ হয়ে যায় এবং তাদের প্রেমের উপর গল্পের প্লট নির্ভর করে। এই উপন্যাসগুলি পড়তে অনেকের মনে হয় ব্যাপারটি ইসলামের বিধান মেনে চলে না।

ইসলামের বিধানঃ
ইসলামের দৃষ্টিতে, যেকোনো লিখিত বা বস্তুনিষ্ঠ শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় গল্পের পাঠ করা যায় না। ইসলাম ধর্মে প্রেমের ফিকহ অনুযায়ী নির্ধারণ করে যেগুলো মেনে চলতে পারেন তা হলঃ

1. দয়া ও মেহেরবানি: ইসলামে প্রেম বা ভালবাসার মূল বিষয় হল মেহেরবানি ও দয়া। প্রেমে অন্য ব্যক্তির সাথে আচরণে মেহেরবান ও দয়াশীল থাকা উচিত।

2. পাত্র-পাত্রীর পরিচয়: প্রেমের মাধ্যমে বিবাহের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকা যেমন সামান্যতম প্রেমেও না হলেই প্রেমের উপন্যাস পড়া যায়। দুই জন প্রেমিকদের পরিচয় আইনের ধারায় পরস্পর জানেনা হয়ে প্রেমের উপন্যাস পড়া মেনে চলা সাবধান।

3. বিয়ের আদালতের অনুসারে: ইসলামিক শরিয়তে বিয়ে করার নিয়মগুলো আছে। প্রেম নিয়ে উপন্যাসের পড়ার সময়ে এগুলো মনে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের দিকে নিয়মাবলী মেনে চলার দাবি বোঝায় যে প্রেমের উপন্যাস পড়া জাইজ হলেও বিয়ের অনুসারে চলতে হবে।

এইভাবে মনরেখা করে আপনি প্রেমের উপন্যাস পড়তে পারেন যা ইসলামের বিধান মেনে চলে। ধন্যবাদ।
 
গল্প-উপন্যাস পড়া জায়েজ। শর্ত হচ্ছে দুটি। প্রথমত, অশ্লীল ও যৌন সুড়সুড়ি দেয় এমন কিছু হতে পারবে না। কারণ, এগুলো পড়লে এর মাধ্যমে আপনি নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হবেন। অনেক গল্প আছে, যেগুলোতে মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য অনৈতিক কথাবার্তা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, ইসলামী শরিয়তে হারাম, নিষিদ্ধ, গর্হিত—এ ধরনের কোনো বিষয় যদি সেখানে এসে যায়, তাহলে সেটাও নিষিদ্ধ হবে। যেমন শিরক শিক্ষা দিচ্ছে, যৌনতার শিক্ষা দিচ্ছে, মাদকাসক্ত হওয়ার জন্য শিক্ষা দিচ্ছে, যদি এমনি কিছু সেখানে থাকে, তাহলে সেগুলো পড়বেন না।

কিন্তু এমন গল্প, যেখানে সামাজিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সমাজের হতদরিদ্র মানুষের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে বা বিজ্ঞানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে বা বর্তমান প্রাণিজগৎ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে, তাহলে সেগুলো পড়লে মানুষের জ্ঞান সমৃদ্ধ হয় এবং মানুষের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো জ্ঞানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এ জন্য এ ক্ষেত্রে সেগুলো জায়েজ। কারণ, নিষিদ্ধ বা হারাম কাজ সেখানে নেই।

সুতরাং আমরা যে দুটি শর্ত বলেছি, এই দুটি শর্ত যদি না থাকে, তাহলে এ ধরনের উপন্যাস, গল্প, কবিতা পড়া জায়েজ।

সোর্স: গল্প-উপন্যাস পড়া কি জায়েজ?
 
Solution
Back
Top