Salafi
Salafi User
- Joined
- Jun 16, 2023
- Threads
- 70
- Comments
- 97
- Reactions
- 1,066
- Thread Author
- #1
গণতন্ত্র রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ ও এসব তথাকথিত গণতান্ত্রিক ইসলামী দলগুলোর প্রতি শায়েখ রাবী বিন হাদী আল মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ) এর উপদেশ নামা:
"হে ইসলামের উম্মাহ! তোমাদের সঠিক তাওহীদ কোথায়? তোমাদের সঠিক আক্বীদা কোথায়? তোমাদের সঠিক মানহাজ কোথায়?
মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করতে যা করতে হবে তা হলো সমস্ত মুসলিমদেরকে একই আকিদা ও একই মানহাজের অনুসারী অনুসারী হতে হবে। এটা কেবল আল্লাহর কিতাব, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সুন্নাহ এবং আমাদের নেককার পূর্বসূরীদের (সালাফদের) আদর্শের মাধ্যমেই সম্ভব। যারা আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ এবং ঈমান ও ইসলামের সমস্ত বিধানের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন—আকিদা, ইবাদত, আমল, আচরণ, জিহাদ থেকে শুরু করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে। এই উম্মাহর শেষভাগ কখনোই সংশোধিত হবে না, যদি না তার প্রথমভাগের সংশোধনকৃত পথে ফিরে আসে।
তুমি চারদিকে যতই "ইসলাহ" (সংশোধন) খুঁজবে, এখন তাদের কাছে "ইসলাহ" মানে গণতন্ত্র। এখন তাদের সমাধান হলো গণতন্ত্র! "ইসলাহ" আর ইসলাহকারী হিসেবে রাফিজি (শিয়া), বাতিনি, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, পাশ্চাত্যবাদী প্রভৃতি দল একজোট হয়। তারা এই "ইসলাহ"-এর নামে জোটবদ্ধ হয় এবং এ ছাড়া অন্য কোনো পথ তারা চায় না। তাদের যেই পথের দিকে আহবান করছে তা ব্যতীত তারা অন্য কিছু চায় না। এটি সেই "ইসলাহ" যা ইউরোপ, আমেরিকা, ব্যুশ ও শ্যারনের কাছ থেকে আসে! এটি তাদের প্রস্তাবিত "সমাধান"!
পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও ওয়েবসাইটগুলোতে সত্যের স্পষ্ট বাণী ও সুস্থ সমাধানের দিকে আহবান করে এমন লেখা খুবই কম দেখা যায়।
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন: "অচিরেই অন্যান্য জাতিগুলো তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হবে, যেভাবে ক্ষুধার্তরা খাবারের থালার চারিদিকে একত্রিত হয়। একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন: "সেদিন কি আমাদের সংখ্যা কম হবে?" তিনি বললেন: "বরং সেদিন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে, কিন্তু তোমরা হবে বন্যার স্রোতে ভাসমান আবর্জনার মতো নিষ্প্রাণ। আর আল্লাহ শত্রুদের অন্তরে তোমাদের প্রতি ভয়ের পরিবর্তে ঘৃণা ঢেলে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে 'ওয়াহন' (দুর্বলতা) নিক্ষেপ করবেন।"* জিজ্ঞেস করা হলো: "ইয়া রাসূলুল্লাহ! 'ওয়াহন' কী?"* তিনি বললেন: "দুনিয়ার ভালোবাসা ও মৃত্যুকে ভয় পাওয়া।" (সুনানে আবি দাউদ ৪২৯৭)
যারা শত্রুদের অন্তর থেকে মুসলিমদের মর্যাদা উৎখাত করে দিয়েছে, আর মুসলিমদের অন্তরে দুর্বলতা ঢুকিয়ে দিয়েছে, তারা এমন নিচ স্তরে পৌঁছে গেছে যে সেখান থেকে উঠতে চায় না। দুঃখের বিষয়, তাদের অনেক আলিম, চিন্তাবিদও এই "ইসলাহ", "ইসলাহ" বলে -এর নামে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, বিধর্মীয় ভাতৃত্ব, ধর্মের পবিত্রতা ইত্যাদির ডাক দিচ্ছেন!
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর অবমাননা করা হয়, আর আমরা তাদের যেয়ে বলি: "আপনারা আমাদের সমাধান দেন, আপনারা আমাদের সুরক্ষা দেন! হে জাতিসংঘ, আমাদের রক্ষা করুন!" তারা আমাদের দ্বীন ও রাসূলকে বিকৃত ধর্মগুলোর পাশে, এমনকি তাদের দ্বীনের চেয়ে নিচুস্তরে স্থান দিয়ে রেখেছে!
আফসোস! আজ ইরাকে মুসলিমদের রক্ত ঝরছে, কিন্তু কেউ কথা বলছে না। আহলে সুন্নাহকে হত্যা করা হচ্ছে, মসজিদে আগুন দেওয়া হচ্ছে, বাতিনি ও রাফিজিদের হাতে মসজিদ ধ্বংস হচ্ছে, মুসহাফগুলো পদদলিত হচ্ছে—কিন্তু কোনো প্রতিবাদ নেই! কেন? কারণ তারা এখন "প্লাবনের ভাসমান আবর্জনা"। আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরতে হবে, আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করতে হবে, আল্লাহর আদেশ মানতে হবে, তাঁর ডাকে সাড়া দিতে হবে। প্রকৃত মুসলিম হতে হবে—বাহ্যিক ও আন্তরিকভাবে। এই সত্য দ্বীনকে জীবনেও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সাহাবিগণ সংখ্যায় অল্প ও দুর্বল ছিলেন, তবে তাদের ইখলাস, সততা ও আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর প্রতি অটল থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সেই সময়ের সর্বশক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলোর উপর বিজয়ী করে দিয়েছিলেন। তখন তারা ছিল সংখ্যায় সর্বনিম্ন, সম্পদেও সবচেয়ে দুর্বল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাঁর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর উপর একত্র করেছিলেন।
আমি মদিনায় নববী মসজিদে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর এই বাণী স্মরণ হয়: "মদিনা এমন একটি গ্রাম যা সমস্ত শহরকে গ্রাস করবে।"
কীভাবে? মদিনা একটি ছোট গ্রাম হয়েও সমগ্র দুনিয়া জয় করেছিল। আর তখন এর অধিবাসীরা এমন একটি মসজিদে ইবাদত করতো যা বর্তমান মসজিদের পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগও নয়! দেখো, আজ নববী মসজিদ বিশাল প্রাঙ্গণে পরিপূর্ণ, বিভিন্ন জাতির মানুষেরা তাতে ভীড় করে—কিন্তু তারা প্লাবনের ভাসমান আবর্জনার মতো। অথচ সেই সময়ের ছোট মসজিদ ও মদিনাবাসীর মাধ্যমেই আল্লাহ সত্য ঈমান, ইখলাস ও তাঁর উপর তাওয়াক্কুলের বরকতে দুনিয়া বিজয় করিয়েছিলেন। তাদের নিজস্ব শক্তিতে নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনে তারা বিজয়ী হয়েছিলেন। "বিজয় তো কেবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকেই আসে" (সূরা আলে ইমরান: ১২৬)।
হে ইসলামের উম্মাহ! তোমাদের উপর ঐ তাওহীদের অনুসরণ অপরিহার্য, যা কুরআনে বিধৃত এবং সব নবীরা যা নিয়ে এসেছেন। আজ মুসলিম দেশগুলোতে কবরপূজা, কুসংস্কার, ভ্রষ্টতা ও বিদআত ছড়িয়ে পড়েছে। কিভাবে তাদের উপর বিজয় আসবে? কিভাবে সম্মান ফিরে পাবে তারা, যখন তারা অপমানের সব দরজা খুলে দিয়েছে আর ইজ্জত, সুখ, নেতৃত্ব ও মর্যাদার দরজাগুলো এড়িয়ে চলেছে? "আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিভেদ সৃষ্টি কোরো না" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)।
সকলেই আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর—এ রজ্জু কী? তা হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সুন্নাহ। এটি সমগ্র উম্মাহর জন্য নির্দেশ। আজ কি উম্মাহ এই নির্দেশ মানছে? আকিদা, ইবাদত, পদ্ধতি ও কর্মকাণ্ডে কি তারা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে আছে? আল্লাহর কসম! অতি অল্প সংখ্যক মানুষ এই পথের দিকে ডাক দিচ্ছেন। বাকিরা তো এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে!
হে আমার যুবক সন্তানেরা! তোমরা হয়তো জানো না যে আমি এই দেশে (সৌদি আরব) একজন শিক্ষার্থী ছিলাম। তখন আমরা জ্ঞানের সন্ধানে দক্ষিণ থেকে উত্তর, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সর্বত্র ছুটে বেড়াতাম। সব আলিম ও শিক্ষার্থীরা একই পথের অনুসারী ছিলেন। আমি মদিনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতাম এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছি এবং পরে মক্কায় গিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করি। এখানকার সালাফি, আহলে হাদীস সবাই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। নীতিগত বা আকিদার কোনো বিভেদ ছিল না। অবশ্য ছোটখাটো বিষয়ে মতভিন্নতা থাকত—এমনকি সাহাবীদের যুগেও তা ছিল। কিন্তু জীবনযাত্রা, রাজনীতি সবক্ষেত্রে তারা একই পথে চলতেন কোন মতভেদ ছাড়াই।
তারপর শয়তান তাদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করল। ফিতনাবাজরা বিষ ছড়াল, বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করল। ফলে পূর্ব-পশ্চিমে তারা টুকরো টুকরো হয়ে গেল। একসময় তারা আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর উপর একত্র ছিলেন, এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। আজকের তরুণেরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন, বিদ্বেষপূর্ণ। ভালোবাসা, স্নেহ, ভ্রাতৃত্ব, আল্লাহর বিধান মেনে চলা—কিছুই নেই। প্রত্যেকে নিজ আবেগ ও গোঁড়ামিতে চলছে। তারা ভাবে না তাদের পথ সঠিক না ভুল!
বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে—ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: উয়াইনা বিন হিসন তার ভাতিজা হার বিন কায়েসের বাড়িতে উঠলেন। হার ছিলেন উমর (রা.)-এর নিকটবর্তী ব্যক্তিদের একজন। উমর (রা.) তাঁর পরামর্শকদের (যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে) সাথে নিয়মিত বৈঠক করতেন। উয়াইনা বললেন: "ভাতিজা! আমিরের কাছে তোমার সুপারিশ আছে, আমার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি নাও।" হার উমর (রা.)-কে অনুরোধ করলে তিনি উয়াইনাকে অনুমতি দিলেন। উয়াইনা বললেন: "হে ইবনুল খাত্তাব! আল্লাহর কসম! তুমি আমাদের যথাযথ দান করো না, ন্যায়বিচারও করো না।" উমর (রা.) রাগে উত্তপ্ত হয়ে তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। হার বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহ তাঁর নবিকে বলেছেন: 'ক্ষমার নীতি গ্রহণ করো, সৎকাজের আদেশ দাও আর অজ্ঞদের এড়িয়ে চলো' (সূরা আল-আরাফ: ১৯৯)। এই ব্যক্তি তো অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।" উমর (রা.) এই আয়াত শুনমাত্র থেমে গেলেন। তিনি ছিলেন কিতাবুল্লাহের সীমায় অটল। তাঁর রাগ প্রশমিত হলো, এবং আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তিনি উয়াইনাকে ক্ষমা করলেন।
এ ঘটনার শিক্ষা হলো—ইবনে আব্বাস (রা.) উমর (রা.)-এর সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তিনি আল্লাহর কিতাবের সামনে অটল থাকতেন। উমর (রা.) ছিলেন হাদীসের বর্ণনাকারী, ফিকহের ইমাম। তবে তিনি ইজতিহাদে ভুলও করতেন। কেউ তাকে সতর্ক করলে তিনি ফিরে আসতেন। আল্লাহর কিতাবের সীমায় তিনি অবিচল থাকতেন।
আবু ওয়াইল (রা.) বর্ণনা করেন: আমি শাইবার (কাবা ঘরের চাবির রক্ষক বনি শাইবার সদস্য) কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, উমর (রা.) একদিন এখানে আমার পাশে বসে বললেন: "আমি ইচ্ছা করেছি, কাবা ঘরে সঞ্চিত সোনা-রূপা সব মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দেব।"* আমি বললাম: "আপনি তা করবেন না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কেন?" আমি বললাম: "আপনার দুই সাথী (আবু বকর ও উসমান) তা করেননি।" তিনি বললেন: "তারাই অনুসরণীয় আদর্শ।" সাথে সাথেই তিনি এই ইচ্ছা ত্যাগ করলেন।
উমর (রা.)-এর জীবনে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর প্রতি অটল থাকার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু আজ আমরা কি আল্লাহর বিধানের সামনে দাঁড়াতে পারছি?
ভাই! প্রত্যেকের উচিত নিজেকে জিজ্ঞাসা করা: আমি সঠিক পথে আছি নাকি ভুলে? সত্যে পৌঁছার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ, তাঁর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহকে নিজের উপর প্রাধান্য দেওয়া। তখনই মানুষ আল্লাহর সীমায় অটল ও সত্যের দিকে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু যদি কেউ নিজেকে স্বেচ্ছাচারিতার মুক্ত করে দেয়, তাহলে তার সামনে কিতাব-সুন্নাহ কোনো বাধা হয় না। ভ্রান্তিই তাকে গ্রাস করে।
আমি নিজেকে, আমার সন্তানদের, ভাইদের, সহকর্মীদের এবং মতভিন্ন সকলকে নসিহত করছি: আল্লাহকে ভয় করো। এই উম্মাহ ও যুবসমাজের হিফাজত করো। আল্লাহর কিতাবের বিধান প্রতিষ্ঠা করো, সবাইকে কিতাব ও সুন্নাহর পতাকাতলে একত্র করো। মসজিদ, স্কুল, ঘর—সর্বত্র আমাদের সন্তানদের এই আদর্শে গড়ে তুলো। খেয়াল রাখো, যেন ব্যক্তিগত প্রবৃত্তি ও উদ্দেশ্য আমাদের বিভ্রান্ত না করে। আল্লাহর কসম! এই প্রবৃত্তিই উম্মাহ ও যুবাদের ছিন্নভিন্ন করেছে।
সাহাবায়ে কেরাম সবাই আল্লাহর কিতাবের সামনে দাঁড়াতেন। নেককার পূর্বসূরিরাও তাই করতেন। ভুল করলে ফিরে আসতেন, গুনাহ করলে তওবা করতেন। রাসূলের যুগে কোনো ব্যক্তি বা নারী যিনা করলে তার অন্তর অশান্তিতে ভুগত। সে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর কাছে গিয়ে স্বীকারোক্তি করত: "আমার উপর হদ্দ জারি করুন।" রাসূল ﷺ বলতেন: "সম্ভবত তুমি চুম্বন করেছ? বা অন্য কিছু?" কিন্তু তারা জিদ ধরে বলত: "না, আমি পূর্ণাঙ্গ পাপ করেছি।" কারণ তাদের অন্তর আল্লাহর কাছে সমর্পিত ছিল। তারা নিষ্পাপ ছিলেন না, আমরা কেউই নই। সবাই ভুল করি, কিন্তু তওবা করা জরুরি। "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো" (সূরা আত-তাহরীম: ৮)।
আকিদা, পদ্ধতি, আচরণ, ইবাদত—যেকোনো ক্ষেত্রে ভুল হলে তওবার দরজা খোলা। এতে লজ্জার কিছু নেই। নবীরাও ভুল করতেন, ফিরে আসতেন। আদম (আ.) তাঁর ভুলের জন্য তওবা করেছিলেন। দাউদ (আ.), মূসা (আ.)-এর ঘটনাও কুরআনে বর্ণিত। তারা বারবার তওবা করতেন, গুনাহের লজ্জায় আক্রান্ত হতেন। এমনকি কিয়ামতের দিন নবীরা যখন মানুষের সুপারিশ করবেন, তখনও তাদের অন্তর গুনাহের অনুশোচনায় ভারাক্রান্ত থাকবে। আদম (আ.) বলবেন: "আমি নিজেই তো পাপী। আমার নিজেরই চিন্তা করুন।" তিনি তাঁর রবের সামনে লজ্জিত। নূহ (আ.) তাঁর দোয়াকে ভুল হিসাবে দেখবেন (যদিও তা ন্যায়সঙ্গত ছিল)। ইব্রাহিম (আ.), মূসা (আ.)—সকলেই নিজেদের ত্রুটির কথা স্বীকার করবেন। আমরা কি এই লজ্জা-ভীতি থেকে বিচ্যুত নই?
ভাই! তুমি যদি সারা জীবন ভুল পথে চলো, নিজেকে সংশোধন না করো, আল্লাহর দিকে ফিরে না আসো—তাহলে তোমার পিছনে হাজারো, লক্ষো মানুষ ভুল পথে চলবে। তোমার নিজের গুনাহের বোঝা ছাড়াও তাদের গুনাহের ভার বইতে হবে। "যে ব্যক্তি কোনো কুপ্রথার সূচনা করবে, সে তার গুনাহ ও অন্যদের গুনাহ বহন করবে। আর যে সুপ্রথা চালু করবে, সে তার সওয়াব ও অন্যদের সওয়াব পাবে" (সহীহ মুসলিম)।
ভাই! নিজেকে রক্ষা করো। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করো। মানুষ যেসব সুন্নাহ ভুলে গেছে বা পরিত্যাগ করেছে, সেগুলো চালু করো। মানুষ যদি তা অনুসরণ করে, তাহলে তুমি তার সওয়াব পাবে। পক্ষান্তরে, তুমি যদি কোনো বিদআত চালু করো এবং মানুষ তা অনুসরণ করে, তবে তাদের গুনাহও তোমার ঘাড়ে চাপবে।
সুতরাং আমাদের সকলকে আল্লাহর দিকে ফিরতে হবে, তাঁর কিতাবকে আঁকড়ে ধরতে হবে। কুরআনে অসংখ্য আয়াতে সৎপথে অবিচল থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। "তুমি যা প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হয়েছ, তার অনুসরণ করো" (সূরা আল-আনআম: ১০৬)। "তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা অনুসরণ করো" (সূরা আল-আরাফ: ৩)। "যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে..." (সূরা হা-মিম সাজদা: ৩০)।
কুরআন আমাদের হাতে আছে। আমরা এটি পড়ি, সন্তানদেরকে মুখস্থ করাই। কিন্তু কোথায় তার আদব? লক্ষ্য শিশু কুরআন মুখস্থ করছে, কিন্তু কোথায় আমল? কুরআন কি আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেয় না? কি আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহকে আকড়ে ধরার নির্দেশ দেয় না? কি বাতিল, বিদআত, শিরক ও পথভ্রষ্টতা ত্যাগের আহ্বান জানায় না?
আল্লাহর দ্বীন বুঝার চেষ্টা করো। প্রত্যেকে নিজেকে গড়ে তুলুক, নিজ পরিবারকে শিক্ষা দিক, স্কুলে মানুষকে ঐ আকিদায় গড়ে তুলুক—যা সব নবীরা নিয়ে এসেছেন। তাদেরকে শিরক থেকে সতর্ক করো: আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা, আল্লাহ ছাড়া অন্য জন্য কোরবানি, গায়েবী সাহায্যের জন্য সৃষ্টির কাছে আবেদন ইত্যাদি। দেখো, আজ অসংখ্য দাঈ পৃথিবী মুখরিত করছে, কিন্তু এসব কাজ তাদের কাছে ‘মুনকার’ (নিষিদ্ধ) নয়! মানুষকে বাতিলে স্থির রেখে তুমি তাদের কী উপকার করলে? তাদের পথভ্রষ্টতা আরও বাড়ালে, তাদেরকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করলে। তাই তো ইসলামী বিশ্বে আজ এদিক-ওদিক থেকে নানা দল-উপদল, মতাদর্শের ছড়াছড়ি। আল্লাহর শপথ! মানুষের মুসিবত বাড়ছেই। কারণ তারা নবীদের ইসলাহ (সংশোধন) পদ্ধতি অনুসরণ করেনি।
নবীদের ইসলাহ শুরু হতো কোথা থেকে? আকিদার সংশোধন থেকে! কোনো নবী যখন তাঁর কওমের কাছে আসতেন, তাদের মধ্যে শিরক, পথভ্রষ্টতা, জীবনব্যাপী ফাসাদ ছেয়ে থাকত। তিনি প্রথমে কী করতেন? আকিদা শুদ্ধ করতেন। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকে, মূর্তি পূজা করে, ফেরেশতা বা নবীদের উপাসনা করে—তাদেরকে তাওহীদের দিকে ডাকতেন।
বর্তমান ইসলামী বিশ্বের দিকে তাকাও—মিসর, সুদান, পাকিস্তানে গেলে অবাক হতে হয়! আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দেশে (সৌদি আরব) কবরপূজা নির্মূল হয়েছে। কিন্তু আজকের কিছু দাঈ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা তাওহীদের দাওয়াতকে গুরুত্বহীন মনে করে।
ভাই! রাসূলুল্লাহ্ ﷺ মাঝে মাঝেই সাহাবাদের সাথে "আল্লাহর সাথে কোনো শিরক না করার" মর্মে অঙ্গীকার করে বায়আত নিতেন। আবু বকর, উমর, ইবনে মাসউদ, উবাদা ইবনুস সামিত (রা.)-সহ সকলকে নিয়ে এই বায়আত নিতেন। প্রশ্ন হলো: আবু বকর-উমর (রা.)-এর মতো মহান ব্যক্তিদের সাথে আবার বাইয়াতের প্রয়োজন কী ছিল? কারণ আকিদা হলো—যার মাঝে নিয়মিত অগ্নিসঞ্চার করতে হয়। একে সতেজ রাখতে স্মরণ করিয়ে দিতে হয়।
যদি আজ কোনো দাঈ মানুষদের শিরক থেকে সতর্ক করে, তারা বলবে: "আমরা কি মুশরিক? আবু বকর-উমর (রা.)-কে শিরকমুক্তির বাইয়াত নেওয়া হল, আর তোমরা আমাদেরকে শিরকের ব্যাপারে সতর্ক করছ?"
ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন: "হে আমার রব! আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখো" (সূরা ইব্রাহিম: ৩৫-৩৬)। তিনি নবীদের পিতা ও আল্লাহর খলীল হয়েও এই দুআ করলেন—অথচ জানতেন তাঁর বংশে বহু নবী আসবেন! তাহলে আমরা নিজেদের নিরাপদ ভাবব কীভাবে?
"হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর সুদৃঢ় রাখো"—রাসূলুল্লাহ্ ﷺ নিজে এই দুআ করতেন এবং সাহাবাদের শিখিয়েছিলেন। অথচ আজ আমরা মনে করি শিরক বা নিফাক থেকে আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ!
সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের নিফাকের ভয়ে কাঁপতেন। ইবনে আবি মুলাইকা (রহ.) বলেন: "আমি মুহাম্মাদ ﷺ-এর ত্রিশজন সাহাবিকে পেয়েছি, যারা প্রত্যেকে নিজের নিফাকের আশঙ্কা করতেন।" মানুষকে নিফাক, শিরক ও অন্তরের বিচ্যুতির ভয় রাখতেই হবে: "হে আমাদের রব! আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তর বিকৃত করো না। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করো। নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা" (সূরা আলে ইমরান: ৮)। "আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত জাতিই নিরাপদ বোধ করে" (সূরা আল-আরাফ: ৯৯)।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তর হিফাজত করেন। ঈমানকে দৃঢ় করার জন্য আমল করতে হবে: আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ, রাত-দিন বিশেষত সাহরীতে ইস্তেগফার, সর্বদা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা—যাতে তিনি আমাদের ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং আমাদের মাধ্যমে অন্যদের হিদায়াত দেন।
হে ভাইয়েরা! মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে—কিতাব-সুন্নাহর ভিত্তিতে, মুনাফেকি বা সামাজিক শিষ্টাচারের নামে নয়। সত্যকে নিজের মধ্যে জাগ্রত করো, অন্যকে তা শেখাও এবং এর দিকে আহ্বান করো।
আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিভেদ সৃষ্টি করো না (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। আমাদের মধ্যে বিভেদের কারণ কী? তা হলো ব্যক্তিগত প্রবৃত্তি। তোমার মত আমার মত, তুমি অমুককে অনুসরণ করো আমি তমুককে—এভাবেই আমরা আল্লাহর কিতাবের বিধানকে উপেক্ষা করি। ফলে বিভেদ, শত্রুতা, বিদ্বেষ, রক্তপাত, ছত্রভঙ্গ হয়ে মুসলিমরা আজ যে দুর্দশায় পতিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করি, তিনি যেন মুসলিমদেরকে সত্যের উপর, আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর উপর একত্র করেন। বিশেষত এই দেশের যুবদেরকে তিনি যেন কিতাব ও সুন্নাহর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেন।
তাদের উচিত ইমাম মুজাদ্দিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দিল ওয়াহহাবের সালাফি দাওয়াতের পূর্বে এই অঞ্চলের অবস্থা স্মরণ করা। তখন কী বিভক্তি, বিশৃঙ্খলা, অজ্ঞতা ছিল! কেউ কেউ তো আখিরাতকে অস্বীকার করত, নামাজ-যাকাত ত্যাগ করত, অসংযত জীবনযাপন করতো। আল্লাহ তাদেরকে কিতাব, সুন্নাহ ও সঠিক আকিদার উপর একত্র করলেন।
ভাইয়েরা! আমাদের এই অন্ধকার অতীত ও উজ্জ্বল বর্তমান স্মরণ করতে হবে। যদি কখনো এই পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া কিংবা এর প্রতি অনীহা জন্মে, তবে ফিরে আসতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জেনে রাখো, পূর্ব-পশ্চিমের কাফির, ইহুদি, ধর্মনিরপেক্ষবাদীসহ ইসলামের সকল শত্রু এই সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করে। কারণ তারা জানে এটি হলো আসল ইসলাম। শিয়া-রাফিজিদের সাথে ইহুদি-খ্রিস্টানদের শত্রুতা আছে—এসব মিথ্যা প্রপাগান্ডা। এগুলো চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা মাত্র।
ইহুদি-নাসারাদের প্রকৃত শত্রু হলো এই মানহাজ (সালাফি পদ্ধতি)। তাদের দার্শনিক, প্রাচ্যবিদরা ইসলাম অধ্যয়ন করে জানে—কোন দলটি ইসলামের প্রকৃত প্রতিনিধি। তারা জানে, সালাফি অনুসারীদেরকেই ভয় করতে হয়, কারণ এই দলটি সত্যের উপর অটল, তাদেরকে বশে আনা যায় না।
"আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধরো" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদের হৃদয়কে তাঁর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর উপর একত্র করুন। ইসলামের সম্মান, মুসলিমদের ঐক্য ও শক্তি আমাদের চোখের সামনে প্রকাশ করুন। গোপনে ও প্রকাশ্যে, মসজিদে-ঘরে সকলেই এই দুআ করুন। আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন।"
মাজমুউ কুতুব ওয়া রাসাঈল ওয়া ফাতাওয়া ফাদ্বিলাতিশ শাইখিল আল্লামা রাবী বিন বাদী বিন উমাইর আল মাদখালি, ৪/৯৯-১০৮
অনুবাদ: সাফিন চৌধুরী
Join Telegram: Ideology Of Salaf
"হে ইসলামের উম্মাহ! তোমাদের সঠিক তাওহীদ কোথায়? তোমাদের সঠিক আক্বীদা কোথায়? তোমাদের সঠিক মানহাজ কোথায়?
মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করতে যা করতে হবে তা হলো সমস্ত মুসলিমদেরকে একই আকিদা ও একই মানহাজের অনুসারী অনুসারী হতে হবে। এটা কেবল আল্লাহর কিতাব, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সুন্নাহ এবং আমাদের নেককার পূর্বসূরীদের (সালাফদের) আদর্শের মাধ্যমেই সম্ভব। যারা আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ এবং ঈমান ও ইসলামের সমস্ত বিধানের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন—আকিদা, ইবাদত, আমল, আচরণ, জিহাদ থেকে শুরু করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে। এই উম্মাহর শেষভাগ কখনোই সংশোধিত হবে না, যদি না তার প্রথমভাগের সংশোধনকৃত পথে ফিরে আসে।
তুমি চারদিকে যতই "ইসলাহ" (সংশোধন) খুঁজবে, এখন তাদের কাছে "ইসলাহ" মানে গণতন্ত্র। এখন তাদের সমাধান হলো গণতন্ত্র! "ইসলাহ" আর ইসলাহকারী হিসেবে রাফিজি (শিয়া), বাতিনি, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, পাশ্চাত্যবাদী প্রভৃতি দল একজোট হয়। তারা এই "ইসলাহ"-এর নামে জোটবদ্ধ হয় এবং এ ছাড়া অন্য কোনো পথ তারা চায় না। তাদের যেই পথের দিকে আহবান করছে তা ব্যতীত তারা অন্য কিছু চায় না। এটি সেই "ইসলাহ" যা ইউরোপ, আমেরিকা, ব্যুশ ও শ্যারনের কাছ থেকে আসে! এটি তাদের প্রস্তাবিত "সমাধান"!
পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও ওয়েবসাইটগুলোতে সত্যের স্পষ্ট বাণী ও সুস্থ সমাধানের দিকে আহবান করে এমন লেখা খুবই কম দেখা যায়।
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন: "অচিরেই অন্যান্য জাতিগুলো তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হবে, যেভাবে ক্ষুধার্তরা খাবারের থালার চারিদিকে একত্রিত হয়। একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন: "সেদিন কি আমাদের সংখ্যা কম হবে?" তিনি বললেন: "বরং সেদিন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে, কিন্তু তোমরা হবে বন্যার স্রোতে ভাসমান আবর্জনার মতো নিষ্প্রাণ। আর আল্লাহ শত্রুদের অন্তরে তোমাদের প্রতি ভয়ের পরিবর্তে ঘৃণা ঢেলে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে 'ওয়াহন' (দুর্বলতা) নিক্ষেপ করবেন।"* জিজ্ঞেস করা হলো: "ইয়া রাসূলুল্লাহ! 'ওয়াহন' কী?"* তিনি বললেন: "দুনিয়ার ভালোবাসা ও মৃত্যুকে ভয় পাওয়া।" (সুনানে আবি দাউদ ৪২৯৭)
যারা শত্রুদের অন্তর থেকে মুসলিমদের মর্যাদা উৎখাত করে দিয়েছে, আর মুসলিমদের অন্তরে দুর্বলতা ঢুকিয়ে দিয়েছে, তারা এমন নিচ স্তরে পৌঁছে গেছে যে সেখান থেকে উঠতে চায় না। দুঃখের বিষয়, তাদের অনেক আলিম, চিন্তাবিদও এই "ইসলাহ", "ইসলাহ" বলে -এর নামে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, বিধর্মীয় ভাতৃত্ব, ধর্মের পবিত্রতা ইত্যাদির ডাক দিচ্ছেন!
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর অবমাননা করা হয়, আর আমরা তাদের যেয়ে বলি: "আপনারা আমাদের সমাধান দেন, আপনারা আমাদের সুরক্ষা দেন! হে জাতিসংঘ, আমাদের রক্ষা করুন!" তারা আমাদের দ্বীন ও রাসূলকে বিকৃত ধর্মগুলোর পাশে, এমনকি তাদের দ্বীনের চেয়ে নিচুস্তরে স্থান দিয়ে রেখেছে!
আফসোস! আজ ইরাকে মুসলিমদের রক্ত ঝরছে, কিন্তু কেউ কথা বলছে না। আহলে সুন্নাহকে হত্যা করা হচ্ছে, মসজিদে আগুন দেওয়া হচ্ছে, বাতিনি ও রাফিজিদের হাতে মসজিদ ধ্বংস হচ্ছে, মুসহাফগুলো পদদলিত হচ্ছে—কিন্তু কোনো প্রতিবাদ নেই! কেন? কারণ তারা এখন "প্লাবনের ভাসমান আবর্জনা"। আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরতে হবে, আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করতে হবে, আল্লাহর আদেশ মানতে হবে, তাঁর ডাকে সাড়া দিতে হবে। প্রকৃত মুসলিম হতে হবে—বাহ্যিক ও আন্তরিকভাবে। এই সত্য দ্বীনকে জীবনেও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সাহাবিগণ সংখ্যায় অল্প ও দুর্বল ছিলেন, তবে তাদের ইখলাস, সততা ও আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর প্রতি অটল থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সেই সময়ের সর্বশক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলোর উপর বিজয়ী করে দিয়েছিলেন। তখন তারা ছিল সংখ্যায় সর্বনিম্ন, সম্পদেও সবচেয়ে দুর্বল। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাঁর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর উপর একত্র করেছিলেন।
আমি মদিনায় নববী মসজিদে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর এই বাণী স্মরণ হয়: "মদিনা এমন একটি গ্রাম যা সমস্ত শহরকে গ্রাস করবে।"
কীভাবে? মদিনা একটি ছোট গ্রাম হয়েও সমগ্র দুনিয়া জয় করেছিল। আর তখন এর অধিবাসীরা এমন একটি মসজিদে ইবাদত করতো যা বর্তমান মসজিদের পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগও নয়! দেখো, আজ নববী মসজিদ বিশাল প্রাঙ্গণে পরিপূর্ণ, বিভিন্ন জাতির মানুষেরা তাতে ভীড় করে—কিন্তু তারা প্লাবনের ভাসমান আবর্জনার মতো। অথচ সেই সময়ের ছোট মসজিদ ও মদিনাবাসীর মাধ্যমেই আল্লাহ সত্য ঈমান, ইখলাস ও তাঁর উপর তাওয়াক্কুলের বরকতে দুনিয়া বিজয় করিয়েছিলেন। তাদের নিজস্ব শক্তিতে নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনে তারা বিজয়ী হয়েছিলেন। "বিজয় তো কেবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকেই আসে" (সূরা আলে ইমরান: ১২৬)।
হে ইসলামের উম্মাহ! তোমাদের উপর ঐ তাওহীদের অনুসরণ অপরিহার্য, যা কুরআনে বিধৃত এবং সব নবীরা যা নিয়ে এসেছেন। আজ মুসলিম দেশগুলোতে কবরপূজা, কুসংস্কার, ভ্রষ্টতা ও বিদআত ছড়িয়ে পড়েছে। কিভাবে তাদের উপর বিজয় আসবে? কিভাবে সম্মান ফিরে পাবে তারা, যখন তারা অপমানের সব দরজা খুলে দিয়েছে আর ইজ্জত, সুখ, নেতৃত্ব ও মর্যাদার দরজাগুলো এড়িয়ে চলেছে? "আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিভেদ সৃষ্টি কোরো না" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)।
সকলেই আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর—এ রজ্জু কী? তা হলো আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সুন্নাহ। এটি সমগ্র উম্মাহর জন্য নির্দেশ। আজ কি উম্মাহ এই নির্দেশ মানছে? আকিদা, ইবাদত, পদ্ধতি ও কর্মকাণ্ডে কি তারা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে আছে? আল্লাহর কসম! অতি অল্প সংখ্যক মানুষ এই পথের দিকে ডাক দিচ্ছেন। বাকিরা তো এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে!
হে আমার যুবক সন্তানেরা! তোমরা হয়তো জানো না যে আমি এই দেশে (সৌদি আরব) একজন শিক্ষার্থী ছিলাম। তখন আমরা জ্ঞানের সন্ধানে দক্ষিণ থেকে উত্তর, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সর্বত্র ছুটে বেড়াতাম। সব আলিম ও শিক্ষার্থীরা একই পথের অনুসারী ছিলেন। আমি মদিনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতাম এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছি এবং পরে মক্কায় গিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করি। এখানকার সালাফি, আহলে হাদীস সবাই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। নীতিগত বা আকিদার কোনো বিভেদ ছিল না। অবশ্য ছোটখাটো বিষয়ে মতভিন্নতা থাকত—এমনকি সাহাবীদের যুগেও তা ছিল। কিন্তু জীবনযাত্রা, রাজনীতি সবক্ষেত্রে তারা একই পথে চলতেন কোন মতভেদ ছাড়াই।
তারপর শয়তান তাদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করল। ফিতনাবাজরা বিষ ছড়াল, বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করল। ফলে পূর্ব-পশ্চিমে তারা টুকরো টুকরো হয়ে গেল। একসময় তারা আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর উপর একত্র ছিলেন, এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। আজকের তরুণেরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন, বিদ্বেষপূর্ণ। ভালোবাসা, স্নেহ, ভ্রাতৃত্ব, আল্লাহর বিধান মেনে চলা—কিছুই নেই। প্রত্যেকে নিজ আবেগ ও গোঁড়ামিতে চলছে। তারা ভাবে না তাদের পথ সঠিক না ভুল!
বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে—ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: উয়াইনা বিন হিসন তার ভাতিজা হার বিন কায়েসের বাড়িতে উঠলেন। হার ছিলেন উমর (রা.)-এর নিকটবর্তী ব্যক্তিদের একজন। উমর (রা.) তাঁর পরামর্শকদের (যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে) সাথে নিয়মিত বৈঠক করতেন। উয়াইনা বললেন: "ভাতিজা! আমিরের কাছে তোমার সুপারিশ আছে, আমার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি নাও।" হার উমর (রা.)-কে অনুরোধ করলে তিনি উয়াইনাকে অনুমতি দিলেন। উয়াইনা বললেন: "হে ইবনুল খাত্তাব! আল্লাহর কসম! তুমি আমাদের যথাযথ দান করো না, ন্যায়বিচারও করো না।" উমর (রা.) রাগে উত্তপ্ত হয়ে তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। হার বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহ তাঁর নবিকে বলেছেন: 'ক্ষমার নীতি গ্রহণ করো, সৎকাজের আদেশ দাও আর অজ্ঞদের এড়িয়ে চলো' (সূরা আল-আরাফ: ১৯৯)। এই ব্যক্তি তো অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।" উমর (রা.) এই আয়াত শুনমাত্র থেমে গেলেন। তিনি ছিলেন কিতাবুল্লাহের সীমায় অটল। তাঁর রাগ প্রশমিত হলো, এবং আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তিনি উয়াইনাকে ক্ষমা করলেন।
এ ঘটনার শিক্ষা হলো—ইবনে আব্বাস (রা.) উমর (রা.)-এর সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তিনি আল্লাহর কিতাবের সামনে অটল থাকতেন। উমর (রা.) ছিলেন হাদীসের বর্ণনাকারী, ফিকহের ইমাম। তবে তিনি ইজতিহাদে ভুলও করতেন। কেউ তাকে সতর্ক করলে তিনি ফিরে আসতেন। আল্লাহর কিতাবের সীমায় তিনি অবিচল থাকতেন।
আবু ওয়াইল (রা.) বর্ণনা করেন: আমি শাইবার (কাবা ঘরের চাবির রক্ষক বনি শাইবার সদস্য) কাছে বসেছিলাম। তিনি বললেন, উমর (রা.) একদিন এখানে আমার পাশে বসে বললেন: "আমি ইচ্ছা করেছি, কাবা ঘরে সঞ্চিত সোনা-রূপা সব মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দেব।"* আমি বললাম: "আপনি তা করবেন না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কেন?" আমি বললাম: "আপনার দুই সাথী (আবু বকর ও উসমান) তা করেননি।" তিনি বললেন: "তারাই অনুসরণীয় আদর্শ।" সাথে সাথেই তিনি এই ইচ্ছা ত্যাগ করলেন।
উমর (রা.)-এর জীবনে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর প্রতি অটল থাকার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। কিন্তু আজ আমরা কি আল্লাহর বিধানের সামনে দাঁড়াতে পারছি?
ভাই! প্রত্যেকের উচিত নিজেকে জিজ্ঞাসা করা: আমি সঠিক পথে আছি নাকি ভুলে? সত্যে পৌঁছার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ, তাঁর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহকে নিজের উপর প্রাধান্য দেওয়া। তখনই মানুষ আল্লাহর সীমায় অটল ও সত্যের দিকে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু যদি কেউ নিজেকে স্বেচ্ছাচারিতার মুক্ত করে দেয়, তাহলে তার সামনে কিতাব-সুন্নাহ কোনো বাধা হয় না। ভ্রান্তিই তাকে গ্রাস করে।
আমি নিজেকে, আমার সন্তানদের, ভাইদের, সহকর্মীদের এবং মতভিন্ন সকলকে নসিহত করছি: আল্লাহকে ভয় করো। এই উম্মাহ ও যুবসমাজের হিফাজত করো। আল্লাহর কিতাবের বিধান প্রতিষ্ঠা করো, সবাইকে কিতাব ও সুন্নাহর পতাকাতলে একত্র করো। মসজিদ, স্কুল, ঘর—সর্বত্র আমাদের সন্তানদের এই আদর্শে গড়ে তুলো। খেয়াল রাখো, যেন ব্যক্তিগত প্রবৃত্তি ও উদ্দেশ্য আমাদের বিভ্রান্ত না করে। আল্লাহর কসম! এই প্রবৃত্তিই উম্মাহ ও যুবাদের ছিন্নভিন্ন করেছে।
সাহাবায়ে কেরাম সবাই আল্লাহর কিতাবের সামনে দাঁড়াতেন। নেককার পূর্বসূরিরাও তাই করতেন। ভুল করলে ফিরে আসতেন, গুনাহ করলে তওবা করতেন। রাসূলের যুগে কোনো ব্যক্তি বা নারী যিনা করলে তার অন্তর অশান্তিতে ভুগত। সে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর কাছে গিয়ে স্বীকারোক্তি করত: "আমার উপর হদ্দ জারি করুন।" রাসূল ﷺ বলতেন: "সম্ভবত তুমি চুম্বন করেছ? বা অন্য কিছু?" কিন্তু তারা জিদ ধরে বলত: "না, আমি পূর্ণাঙ্গ পাপ করেছি।" কারণ তাদের অন্তর আল্লাহর কাছে সমর্পিত ছিল। তারা নিষ্পাপ ছিলেন না, আমরা কেউই নই। সবাই ভুল করি, কিন্তু তওবা করা জরুরি। "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো" (সূরা আত-তাহরীম: ৮)।
আকিদা, পদ্ধতি, আচরণ, ইবাদত—যেকোনো ক্ষেত্রে ভুল হলে তওবার দরজা খোলা। এতে লজ্জার কিছু নেই। নবীরাও ভুল করতেন, ফিরে আসতেন। আদম (আ.) তাঁর ভুলের জন্য তওবা করেছিলেন। দাউদ (আ.), মূসা (আ.)-এর ঘটনাও কুরআনে বর্ণিত। তারা বারবার তওবা করতেন, গুনাহের লজ্জায় আক্রান্ত হতেন। এমনকি কিয়ামতের দিন নবীরা যখন মানুষের সুপারিশ করবেন, তখনও তাদের অন্তর গুনাহের অনুশোচনায় ভারাক্রান্ত থাকবে। আদম (আ.) বলবেন: "আমি নিজেই তো পাপী। আমার নিজেরই চিন্তা করুন।" তিনি তাঁর রবের সামনে লজ্জিত। নূহ (আ.) তাঁর দোয়াকে ভুল হিসাবে দেখবেন (যদিও তা ন্যায়সঙ্গত ছিল)। ইব্রাহিম (আ.), মূসা (আ.)—সকলেই নিজেদের ত্রুটির কথা স্বীকার করবেন। আমরা কি এই লজ্জা-ভীতি থেকে বিচ্যুত নই?
ভাই! তুমি যদি সারা জীবন ভুল পথে চলো, নিজেকে সংশোধন না করো, আল্লাহর দিকে ফিরে না আসো—তাহলে তোমার পিছনে হাজারো, লক্ষো মানুষ ভুল পথে চলবে। তোমার নিজের গুনাহের বোঝা ছাড়াও তাদের গুনাহের ভার বইতে হবে। "যে ব্যক্তি কোনো কুপ্রথার সূচনা করবে, সে তার গুনাহ ও অন্যদের গুনাহ বহন করবে। আর যে সুপ্রথা চালু করবে, সে তার সওয়াব ও অন্যদের সওয়াব পাবে" (সহীহ মুসলিম)।
ভাই! নিজেকে রক্ষা করো। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করো। মানুষ যেসব সুন্নাহ ভুলে গেছে বা পরিত্যাগ করেছে, সেগুলো চালু করো। মানুষ যদি তা অনুসরণ করে, তাহলে তুমি তার সওয়াব পাবে। পক্ষান্তরে, তুমি যদি কোনো বিদআত চালু করো এবং মানুষ তা অনুসরণ করে, তবে তাদের গুনাহও তোমার ঘাড়ে চাপবে।
সুতরাং আমাদের সকলকে আল্লাহর দিকে ফিরতে হবে, তাঁর কিতাবকে আঁকড়ে ধরতে হবে। কুরআনে অসংখ্য আয়াতে সৎপথে অবিচল থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। "তুমি যা প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হয়েছ, তার অনুসরণ করো" (সূরা আল-আনআম: ১০৬)। "তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা অনুসরণ করো" (সূরা আল-আরাফ: ৩)। "যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে..." (সূরা হা-মিম সাজদা: ৩০)।
কুরআন আমাদের হাতে আছে। আমরা এটি পড়ি, সন্তানদেরকে মুখস্থ করাই। কিন্তু কোথায় তার আদব? লক্ষ্য শিশু কুরআন মুখস্থ করছে, কিন্তু কোথায় আমল? কুরআন কি আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেয় না? কি আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহকে আকড়ে ধরার নির্দেশ দেয় না? কি বাতিল, বিদআত, শিরক ও পথভ্রষ্টতা ত্যাগের আহ্বান জানায় না?
আল্লাহর দ্বীন বুঝার চেষ্টা করো। প্রত্যেকে নিজেকে গড়ে তুলুক, নিজ পরিবারকে শিক্ষা দিক, স্কুলে মানুষকে ঐ আকিদায় গড়ে তুলুক—যা সব নবীরা নিয়ে এসেছেন। তাদেরকে শিরক থেকে সতর্ক করো: আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা, আল্লাহ ছাড়া অন্য জন্য কোরবানি, গায়েবী সাহায্যের জন্য সৃষ্টির কাছে আবেদন ইত্যাদি। দেখো, আজ অসংখ্য দাঈ পৃথিবী মুখরিত করছে, কিন্তু এসব কাজ তাদের কাছে ‘মুনকার’ (নিষিদ্ধ) নয়! মানুষকে বাতিলে স্থির রেখে তুমি তাদের কী উপকার করলে? তাদের পথভ্রষ্টতা আরও বাড়ালে, তাদেরকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করলে। তাই তো ইসলামী বিশ্বে আজ এদিক-ওদিক থেকে নানা দল-উপদল, মতাদর্শের ছড়াছড়ি। আল্লাহর শপথ! মানুষের মুসিবত বাড়ছেই। কারণ তারা নবীদের ইসলাহ (সংশোধন) পদ্ধতি অনুসরণ করেনি।
নবীদের ইসলাহ শুরু হতো কোথা থেকে? আকিদার সংশোধন থেকে! কোনো নবী যখন তাঁর কওমের কাছে আসতেন, তাদের মধ্যে শিরক, পথভ্রষ্টতা, জীবনব্যাপী ফাসাদ ছেয়ে থাকত। তিনি প্রথমে কী করতেন? আকিদা শুদ্ধ করতেন। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকে, মূর্তি পূজা করে, ফেরেশতা বা নবীদের উপাসনা করে—তাদেরকে তাওহীদের দিকে ডাকতেন।
বর্তমান ইসলামী বিশ্বের দিকে তাকাও—মিসর, সুদান, পাকিস্তানে গেলে অবাক হতে হয়! আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দেশে (সৌদি আরব) কবরপূজা নির্মূল হয়েছে। কিন্তু আজকের কিছু দাঈ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা তাওহীদের দাওয়াতকে গুরুত্বহীন মনে করে।
ভাই! রাসূলুল্লাহ্ ﷺ মাঝে মাঝেই সাহাবাদের সাথে "আল্লাহর সাথে কোনো শিরক না করার" মর্মে অঙ্গীকার করে বায়আত নিতেন। আবু বকর, উমর, ইবনে মাসউদ, উবাদা ইবনুস সামিত (রা.)-সহ সকলকে নিয়ে এই বায়আত নিতেন। প্রশ্ন হলো: আবু বকর-উমর (রা.)-এর মতো মহান ব্যক্তিদের সাথে আবার বাইয়াতের প্রয়োজন কী ছিল? কারণ আকিদা হলো—যার মাঝে নিয়মিত অগ্নিসঞ্চার করতে হয়। একে সতেজ রাখতে স্মরণ করিয়ে দিতে হয়।
যদি আজ কোনো দাঈ মানুষদের শিরক থেকে সতর্ক করে, তারা বলবে: "আমরা কি মুশরিক? আবু বকর-উমর (রা.)-কে শিরকমুক্তির বাইয়াত নেওয়া হল, আর তোমরা আমাদেরকে শিরকের ব্যাপারে সতর্ক করছ?"
ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন: "হে আমার রব! আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখো" (সূরা ইব্রাহিম: ৩৫-৩৬)। তিনি নবীদের পিতা ও আল্লাহর খলীল হয়েও এই দুআ করলেন—অথচ জানতেন তাঁর বংশে বহু নবী আসবেন! তাহলে আমরা নিজেদের নিরাপদ ভাবব কীভাবে?
"হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর সুদৃঢ় রাখো"—রাসূলুল্লাহ্ ﷺ নিজে এই দুআ করতেন এবং সাহাবাদের শিখিয়েছিলেন। অথচ আজ আমরা মনে করি শিরক বা নিফাক থেকে আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ!
সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের নিফাকের ভয়ে কাঁপতেন। ইবনে আবি মুলাইকা (রহ.) বলেন: "আমি মুহাম্মাদ ﷺ-এর ত্রিশজন সাহাবিকে পেয়েছি, যারা প্রত্যেকে নিজের নিফাকের আশঙ্কা করতেন।" মানুষকে নিফাক, শিরক ও অন্তরের বিচ্যুতির ভয় রাখতেই হবে: "হে আমাদের রব! আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তর বিকৃত করো না। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করো। নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা" (সূরা আলে ইমরান: ৮)। "আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত জাতিই নিরাপদ বোধ করে" (সূরা আল-আরাফ: ৯৯)।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তর হিফাজত করেন। ঈমানকে দৃঢ় করার জন্য আমল করতে হবে: আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ, রাত-দিন বিশেষত সাহরীতে ইস্তেগফার, সর্বদা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা—যাতে তিনি আমাদের ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং আমাদের মাধ্যমে অন্যদের হিদায়াত দেন।
হে ভাইয়েরা! মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে—কিতাব-সুন্নাহর ভিত্তিতে, মুনাফেকি বা সামাজিক শিষ্টাচারের নামে নয়। সত্যকে নিজের মধ্যে জাগ্রত করো, অন্যকে তা শেখাও এবং এর দিকে আহ্বান করো।
আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিভেদ সৃষ্টি করো না (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। আমাদের মধ্যে বিভেদের কারণ কী? তা হলো ব্যক্তিগত প্রবৃত্তি। তোমার মত আমার মত, তুমি অমুককে অনুসরণ করো আমি তমুককে—এভাবেই আমরা আল্লাহর কিতাবের বিধানকে উপেক্ষা করি। ফলে বিভেদ, শত্রুতা, বিদ্বেষ, রক্তপাত, ছত্রভঙ্গ হয়ে মুসলিমরা আজ যে দুর্দশায় পতিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করি, তিনি যেন মুসলিমদেরকে সত্যের উপর, আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর উপর একত্র করেন। বিশেষত এই দেশের যুবদেরকে তিনি যেন কিতাব ও সুন্নাহর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেন।
তাদের উচিত ইমাম মুজাদ্দিদ মুহাম্মাদ বিন আব্দিল ওয়াহহাবের সালাফি দাওয়াতের পূর্বে এই অঞ্চলের অবস্থা স্মরণ করা। তখন কী বিভক্তি, বিশৃঙ্খলা, অজ্ঞতা ছিল! কেউ কেউ তো আখিরাতকে অস্বীকার করত, নামাজ-যাকাত ত্যাগ করত, অসংযত জীবনযাপন করতো। আল্লাহ তাদেরকে কিতাব, সুন্নাহ ও সঠিক আকিদার উপর একত্র করলেন।
ভাইয়েরা! আমাদের এই অন্ধকার অতীত ও উজ্জ্বল বর্তমান স্মরণ করতে হবে। যদি কখনো এই পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া কিংবা এর প্রতি অনীহা জন্মে, তবে ফিরে আসতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জেনে রাখো, পূর্ব-পশ্চিমের কাফির, ইহুদি, ধর্মনিরপেক্ষবাদীসহ ইসলামের সকল শত্রু এই সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করে। কারণ তারা জানে এটি হলো আসল ইসলাম। শিয়া-রাফিজিদের সাথে ইহুদি-খ্রিস্টানদের শত্রুতা আছে—এসব মিথ্যা প্রপাগান্ডা। এগুলো চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা মাত্র।
ইহুদি-নাসারাদের প্রকৃত শত্রু হলো এই মানহাজ (সালাফি পদ্ধতি)। তাদের দার্শনিক, প্রাচ্যবিদরা ইসলাম অধ্যয়ন করে জানে—কোন দলটি ইসলামের প্রকৃত প্রতিনিধি। তারা জানে, সালাফি অনুসারীদেরকেই ভয় করতে হয়, কারণ এই দলটি সত্যের উপর অটল, তাদেরকে বশে আনা যায় না।
"আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধরো" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদের হৃদয়কে তাঁর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর উপর একত্র করুন। ইসলামের সম্মান, মুসলিমদের ঐক্য ও শক্তি আমাদের চোখের সামনে প্রকাশ করুন। গোপনে ও প্রকাশ্যে, মসজিদে-ঘরে সকলেই এই দুআ করুন। আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন।"
يا أمة الإسلام أين التوحيد الصحيح؟أين العقائد الصحيحة؟أين المنهج الصحيح ؟الأمور التي تجمع المسلمين، المسلمون جميعا يجب أن يكونوا على عقيدة واحدة وعلى منهج واحد، ولا يتوفر ذلك إلا في كتاب الله وفي سنة رسول الله ﷺ وفيما كان عليه سلفنا الصالح الذين آمنوا بالله وبكتابه ورسله وبكل قضايا الإيمان والإسلام وطبقوها في حياتهم ؛ عقائد وعبادات وأعمال وسلوك وجهاد وإلى آخر شئون الحياة؛ لا يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها » .مهما نشدت الإصلاح من هنا وهناك؛ الإصلاح الآن ديمقراطية، الآن العلاج عندهم الديمقراطية ؛ الإصلاح والإصلاحيون، والإصلاح والإصلاحيون ويجتمع الروافض والباطنية والعلمانيون والكتابيون وإلى آخره على هذا الإصلاح، يجتمعون على هذا !و متفقون عليه وما يريدون غيره أبدًا، لا يريدون غير هذا الذي يدعون إليه، هذا هو الإصلاح الذي يأتي من أوربا، ومن أمريكا يأتي من بوش ومن شارون هذا هو الإصلاح وهذا هو العلاج !!والصحف والمجلات والمواقع وإلى آخره لا تجد إلا النزر القليل الذي يصدع بكلمة الحق ويدعو إلى العلاج الشافي.يوشك الأمم أن تداعى عليكم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها . فقال قائل : ومن قلة نحن يومئذ ؟ قال : بل أنتم يومئذ كثير ولكنكم غثاء كغثاء السيل، ولينز عن الله من صدور عدوكم المهابة منكم وليقذفن الله في قلوبكم الوهن . فقال قائل : يا رسول الله، وما الوهن ؟ قال : حب الدنيا وكراهية الموت .من نزعت المهابة من صدور الأعداء وقذف الوهن في قلوب المسلمين إلى أن وصلوا إلى حضيض الغنائية وما يريدون أن يخرجوا من هذا ، ومع الأسف كثير . علمائهم وأطبائهم يريدون الإصلاح الإصلاح : حوار الأديان، أخوة الأديان، تقديس الأديان، قداسة الأديان ... وإلى آخره .يهان الرسول ﷺ ونحن نقول : هاتوا لنا العلاج هاتوا لنا الحماية، يا هيئة الأمم احمينا، جعلوا ديننا ورسولنا مع الأديان الفاسدة، جعلوه في ذيل هذه الأديان !!مع الأسف الشديد المسلمون الآن يذبحون في العراق ولا صوت يرتفع أهل السنة يذبحون في العراق وما تسمع كلاما أبدًا - بارك الله فيكم، وحرقت المساجد وهدمت على أيدي الباطنية والروافض بارك الله فيكم وديست المصاحف - بارك الله فيكم ، ولا كلام ، كيف؟ لأنه غثاء، غثاء والله. لا بد أن نعتصم بحبل الله ، لا بد أن نتبع كتاب الله ، لا بد أن نطيع أوامر الله ، ولا بد أن نستجيب لدعوة الله ، لا بد أن نكون مسلمين ظاهرا وباطنا ، نطبق هذا الدين الحق من ألفه إلى ياته.
أصحاب الرسول كانوا في ذلة وقلة، لكن بإخلاصهم وصدقهم وتمسكهم بكتاب ربهم وسنة نبيهم، نصرهم الله له على أقوى الدول وأعتاها، في ذلك الوقت كانوا أقل الناس عددًا وأقلهم عدة وإلى آخره . جمعهم الله - تبارك وتعالى - على كتاب الله وعلى سنة رسول الله - عليه الصلاة والسلام.أنا كنت في المدينة في المسجد النبوي وأذكر قول النبي ﷺ : إن المدينة قرية تأكل القرى .تأكل القرى، كيف؟ المدينة قرية فتحت الدنيا كلها وكان أهلها في مسجد لا يساوي جزءا من خمسين جزءا من هذا المسجد الموجود الآن، انظر المسجد النبوي الآن مليء من الساحات، ومليان من الأمم وهم غثاء .وفي ذلك الوقت مسجد الرسول وقرية الرسول عليه الصلاة والسلام، مسجد الرسول صغير لا يأتي ولا جزء من خمسين جزءا من مسجد اليوم، فتح الله بهم الدنيا بصدق الإيمان والإخلاص والتوكل على الله ؛ ما فتحوا الدنيا بقوتهم وإنما بنصر من الله وتأييد منه ، ﴿وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ ﴾ [ال عمران: ١٢٦].يا أمة الإسلام عليكم بالتوحيد الذي حواه القرآن والذي جاء به جميع الأنبياء، بلدان المسلمين تنتشر فيها القبور والخرافات والضلالات والبدع وإلى آخره ؛ كيف يأتيهم النصر، وكيف تأتيهم العزة وهم ما تركوا بابا من أبواب الذل إلا وطرقوه والعياذ بالله ولا بابا من أبواب العزة والسعادة والسيادة والكرامة إلاوتحايده الكثير ؟!وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ﴾ [آل عمران : ١٠٢] .كلكم اعتصموا بحبل الله ، ما هو حبل الله ؟ كتاب الله وسنة رسول الله - عليه الصلاة والسلام، هذا أمر لجميع الأمة، هل الأمة استجابت الآن لهذا الأمر ؟هل الأمة الآن معتصمة بحبل الله في عقائدها وعباداتها ومناهجها ونشاطاتها ؟كلا والله، قليل ؛ قليل جدا الذين يدعون إلى هذا المنهج وإلى الاعتصام بحبل الله مع الأسف، والباقون والله يحاربون هذا المنهج وهذه الدعوة.أنا أعرف يا أولادي؛ وأنتم ما تعرفون؛ نحن كنا في هذا البلد طلاب علم يرحل طالب العلم من جنوب المملكة إلى شمالها ومن شرقها إلى غربها ما نجد طلاب العلم والعلماء إلا إخوة على منهج واحد، وكنت طالب علم في الجامعة الإسلامية ومدرسا وإلى آخره ونزلت مكة لأكمل دراستي، يلتقي السلفيون أهل الحديث والسلفيون من هنا كلهم على قلب رجل واحد لا خلاف بينهم في المناهج ولا في أي شيء من الأشياء، طبعا قد تكون أشياء جزئية خفيفة هذا ما يخلو حتى زمن الصحابة، لكن المنهج والعقيدة وأمور الحياة كلها حتى السياسة تجدهم على منهج واحد لا خلاف بينهم.ثم جاء الشيطان ينزغ بينهم وجاء أهل الفتن ونفثوا السموم والفرقة والتمزيق فمزقوهم شر ممزق في مشارق الأرض ومغاربها ، كانوا جماعة واحدة على كتاب الله وعلى سنة رسول الله عليه الصلاة والسلام، تجدهم الآن متفرقين تجد الشباب في هذه البلاد متفرقين متنا كرين مع الأسف الشديد، ما فيه محبة، ما فيه مودة، ما فيه تألف ما فيه تآخ ما فيه تحكيم لله ، كل واحد يحكم عاطفته ويشحنونه بأفكار ما يريد أن يغيرها ولا يعرف أنه على خطأ أو على حق ، لا يا أخي .أنا أقرأ في البخاري كما جاء عن ابن عباس له قال : قدم عيينة بن حصن بن حذيفة، فنزل على ابن أخيه الحر بن قيس وكان من النفر الذين يدنيهم عمر، وكان القراء أصحاب مجالس عمر ومشاورته كهولا كانوا أو شبانًا . فقال عيينة لابن أخيه : يا بن أخي لك وجه عند هذا الأمير فاستأذن لي عليه . قال : سأستأذن لك عليه . قال ابن عباس : فاستأذن الحر لعيينة فأذن له عمر، فلما دخل عليه قال : هيه يا بن الخطاب، فوالله ما تعطينا الجزل ولا تحكم بيننا بالعدل، فغضب عمر حتى هم به، فقال له الحر : يا أمير المؤمنين إن الله تعالى قال لنبيه ﷺ : ﴿خُذِ الْعَفْوَ وَأمر بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَهِلِينَ) [الأعراف: ۱۹۹]. وإن هذا من الجاهلين، والله ما جاوزها عمر حين تلاها عليه، وكان وقافا عند كتاب الله .هدأ غضبه، ذهبت عنه سورة الغضب وعفا عن هذا الإنسان كما أمره الله تبارك وتعالى.الشاهد من هذا : أن ابن عباس يشهد لعمر أنه كان وقافا عند كتاب الله .عمر كان محدثاً ، كان فقيها إماما ، لكن قد يجتهد فيخطئ، وإذا نبهه أحد رجع، وقاف عند كتاب الله .وله قصة أخرى لله، قال أبو وائل : جلست إلى شيبة - يعني : الحجبي كانت مفاتيح الكعبة عنده ولا تزال عند بني شيبة في الجاهلية والإسلام، الرسول أعطاهم مفاتيح الكعبة. قال أبو وائل : جلست إلى شيبة في هذا المسجد، قال : جلس إلي عمر في مجلسك هذا . فقال : هممت ألا أدع فيها صفراء ولا بيضاء إلا قسمتها بين المسلمين ، قلت : ما أنت بفاعل . قال : لم ؟ قلت : لم يفعله صاحباك . قال : هما المرآن يقتدى بهما، وقف .الأمثلة كثيرة في حياة عمر في وقوفه عند كتاب الله وعند سنة رسول الله - عليهالصلاة والسلام.لكن الآن، هل نحن وقانون عند كتاب الله ؟!يا أخي، لابد الواحد يحاسب نفسه ويقول : هل أنا على حق أو على خطأ في القضية الفلانية والقضية الفلانية؟ هل أنا على حق أو على خطأ؟لا يصل إلى الحق إلا إذا استسلم لله وانقاد لله وحكم كتاب الله في نفسه وحكم سنة رسول الله في نفسه ؛ فحينئذ يمكن أن يكون وقافا، يمكن أن يكون رجاعًا للحق ، لكن إذا أرسل لنفسه العنان فلا يقف في وجهه شيء لا كتاب ولا سنة رسول الله ﷺ ؛ فإن الباطل سيستولي عليه .فأنا أنصح نفسي وأنصح أبنائي وأنصح إخواني وأنصح زملائي وأنصح من يخالفني : أن نتقي الله في أنفسنا وفي هذه الأمة وفي هذا الشباب، فنحكم كتاب الله ونجمعهم على كتاب الله وعلى سنة رسول الله، ونربي أبناءنا في مساجدنا ومدارسنا وبيوتنا على هذه الأمور وعلى هذا المنهج، وأن نتقي الله في الأهواء والأغراض ؛ فإنها - والله - شتتت الأمة وشتتت الشباب.كان الصحابة كلهم وقافون عند كتاب الله، وكان السلف الصالح كلهم وقافون عند كتاب الله، والذي يخطئ يرجع، والذي يذنب يتوب .كان الرجل يزني في عهد الرسول والمرأة تزني فلا يقر له قرار ولا يستريح أبدًا إلا أن يذهب إلى رسول الله ويعترف ويقول : أقم علي الحد، ويقول رسول الله : لعلك كذا لعلك كذا ، أبدًا ، يعترف؛ لأنه لا يرتاح أبدا ويكره الحياة، لماذا ؟لأنهم أناس استسلموا لله، وليسوا بمعصومين، نحن لسنا بمعصومين، كلنا نقع في الأخطاء لكن يجب على الإنسان أن يتوب : يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا) [التحريم: ۸] .وقعت في الخطأ، في العقيدة في المنهج في السلوك، في العبادة، في شيء.ارتكبت خطأ؛ فباب التوبة مفتوح وليس من العار، بل الأنبياء يخطئون ويرجعون، الأنبياء يخطئون ويرجعون؛ حكى الله عن آدم أنه تاب من خطيئته، وحكى الله عن داود، وحكى الله عن موسى ... يتوب ويتوب ويتوب ويستحي من هذا الذنب .وحتى يأتي يوم القيامة هؤلاء الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام - وتطلب منهم الشفاعة، وهو لا يزال ضميره يؤنبه حتى آخر لحظة تاب تاب تاب لكن هذا الإحساس لا يُمحى من ضميره.يطلبون من آدم الشفاعة فيقول : أنا أذنبت وأخطأت نفسي نفسي، يستحي من ربه ، يقول : إني أستحي من ربي .ثم يأتون إلى نوح فيقول : أنا أذنبت وأخطأت نوح ماذا أخطأ؟ دعا على قومه، اعتبرها خطيئة وهي حق، فيستحي أن يشفع .إبراهيم أخطأ في ذات الله له ويقول : أذنبت، وموسى كذلك يقول : أذنبت - بارك الله فيكم - أين نحن من هذا الحياء من الله ﷺ ؟يا أخي، تعيش عمرك على باطل حياتك كلها ولا تعالج نفسك، ولا ترجع إلى الله تبارك وتعالى، ويمكن وراءك ألوف بل ملايين يتبعونك على هذا الخطأ، فتحمل وزر نفسك وأوزار الآخرين من سن سنة سيئة فعليه وزرها ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة، ومن سن سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة .يا أخي ارحم نفسك، سُنَّ للناس سنة حسنة، أنت لست تشرع الآن، لكن أحي سنة الرسول عليه الصلاة والسلام، تكون كأنك سننت للناس سنة حسنة بارك الله فيكم ؛ أشياء قصر فيها الناس أو ماتت هذه السنة فأحييتها ، الناس إذا أقبلوا عليها وعملوا بها ، فأنت تكسب أجرها ؛ أجرك وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة .وكذا إذا تعلقت ببدعة وتبعك الناس عليها ، فتحمل وزرك ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة .الشاهد أننا يجب أن نرجع جميعا إلى الله، وأن نعتصم بكتاب الله، وأن نتبع كتاب الله آيات كثيرة يأمر الله فيها بالاستقامة آيات كثيرة يأمر فيها الله بالاتباع، آيات كثيرة يأمر فيها الله رسوله بالاتباع : «اتبع ما أنزل إليك» .اتبع ما أُوحِيَ إِلَيْكَ﴾ [الأنعام: ١٠٦].اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ﴾ [الأعراف : ٣] .ويقول تعالى : ﴿إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا [فصلت : ٣٠].أوامر كثيرة ونواه كثيرة عن المعصية وعن المخالفات وعن وعن ... لماذا ؟كتاب الله بين أيدينا وندرسه ونحفظه أولادنا، وتحفيظ القرآن، لكن أينالآداب؟نحفظ الألوف والألوف والحفظ مطلوب، لكن أين العمل أين العمل؟القرآن ألا يدعونا إلى الاجتماع ؟!ألا يدعونا إلى الاعتصام بالكتاب والسنة ؟!ألا يدعونا إلى ترك الباطل ؟!ألا يدعونا إلى ترك البدع ؟ألا يدعونا إلى محاربة الشرك والضلال ؟!
نتفقه في دين الله ويحاول كل واحد يعمل في نفسه ويحاول أن يعلم أسرته، ويحاول أن يربي الناس في مدرسته على هذا المنهج وعلى هذه العقيدة التي جاء بها جميع الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، ويحذرهم من الشرك دعاء غير له، والذبح لغير الله، والاستغاثة بغير الله إلى آخره، تجد دعاة يملئون الدنيا، لكن هذه ليست من المنكرات عندهم، ماذا استفاد الناس منك وأنت تقرهم على الباطل ؟!
ما تزيدهم إلا ضلالاً ولا تزيدهم إلا غثائية، ولهذا كثرت الدعوات في العالم الإسلامي من هنا وهناك وكثرت الأحزاب، والله لا يزداد الناس إلا بلاء، لماذا ؟
لأنهم ما سلكوا طريق الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام في الإصلاح .
إصلاح الأنبياء يبدأ بماذا ؟ بالإصلاح العقائدي ؛ يأتي النبي قومه وعندهم شرك، عندهم ضلالات، فساد طويل عريض في الحياة كلها يبدءون بماذا ؟ يبدءون بإصلاح العقيدة؛ يأتي إلى قوم يدعون غير الله يذبحون لغير الله، يتعلقون بالأصنام، يعبدون الملائكة، يعبدون لأشجار، يعبدون الأنبياء إلى آخره، فيبدأ
بتصحيح العقيدة، يصحح العقيدة .
انظر إلى العالم الإسلامي الآن، اذهب إلى مصر، اذهب إلى السودان اذهب إلى باكستان ترى العجائب، في هذه البلاد محيت القبور - ولله الحمد، ولكن دعوات الآن هيأت الناس لهذه الأوضاع المردية، وربما يستنكرون التركيز على الدعوة إلى التوحيد.
يا أخي ؛ الرسول - عليه الصلاة والسلام - كان بين الفينة والفينة يبايع أصحابه على ألا يشركوا بالله شيئًا، يبايع أبا بكر وعمر وابن مسعود وعبادة بن الصامت وغيرهم، يبايعهم على ألا يشركوا بالله شيئًا وأن يقيموا الصلاة وإلى آخره، كيف يبايع أبا بكر وعمر ؟! لأن العقيدة دائما تحتاج إلى إذكاء، إلى تجديد، إلى تنبيه .
العقيدة هذه لا بد أن نغرسها في أنفسنا وفي أوساطنا ونذكر بها .
كيف يبايع الرسول ﷺ أصحابه على ألا يشركوا بالله شيئًا ؟
الآن لو قلت لواحد : تعالى أبايعك على ألا تشرك بالله شيئا كيف يفعلون ؟!!
لو وجد الآن داعية يحذرهم من الشرك، يقولون : وهل نحن مشركون؟ كيف أبو بكر وعمر يبايعون على ألا يشركوا بالله شيئا وأنتم لا تُحذِّرون من
الشرك ؟!
إبراهيم يقول : وَاجْنُبْنِي وَبَنِي أَن تَعْبُدَ الْأَصْنَامَ .
إبراهيم أبو الأنبياء وخليل الرحمن يقول : ﴿وَاجْنُبْنِي وَبَنِي أَن تَعْبُدَ الْأَصْنَامَ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ) [إبراهيم: ٣٥-٣٦] - عليه الصلاة والسلام.
وهو يعلم أن أبناءه سيأتي فيهم الأنبياء الكثير ومع هذا يخاف ، كيف نأمن على أنفسنا ؟!
يا مقلب القلوب ثبت قلوبنا على دينك . رسول الله - عليه الصلاة والسلام يقول هذا ويعلم أصحابه أن يقولوا هذا ، نحن الآن كأن عندنا ضمانًا أننا لا نقع في الشرك ولا في النفاق .
كان الصحابة يخافون على أنفسهم النفاق ؛ يقول ابن أبي مليكة : أدركت ثلاثين من أصحاب محمد كلهم يخاف على نفسه النفاق .
الإنسان لابد أن يخاف من النفاق، يخاف من الوقوع في الشرك، يخاف أن يزيغ قلبه : ربنا لا تزغ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
[آل عمران: ۸] .
فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَسِرُونَ﴾ [الأعراف: ٩٩] .
ندعو الله أن يحفظ قلوبنا، ونبذل الأسباب التي ترسخ الإيمان في نفوسنا ، نبذل الأسباب ؛ من طاعة الله، من الاستسلام لله ل ، من الاستغفار لله في الليل والنهار وبالأسحار ونضرع إليه دائما أن يثبتنا على الإسلام وأن
يهدي الله على أيدينا من يريد هدايته .
ولابد يا إخوة من إحياء المحبة والمودة والأخوة في أوساط المسلمين على أساس الكتاب والسنة وليس على أساس النفاق والمجاملات، على أساس الحق أحي الحق في نفسك وآخ عليه الناس وادع إليه .
ولابد من هذا التلاحم وهذا التآخي بين المسلمين : ﴿وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ
جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ﴾ [آل عمران : ۱۰۲] .
وما الذي يفرقنا ؟! الأهواء؛ الذي يفرق الأهواء، أنت لك رأي وأنا لي رأي، وأنت تتبع فلانا وأنا أتبع فلانا ، ثم لا نحكم كتاب الله، جاءت حينئذ الفرقة وجاءت العداوة وجاءت البغضاء، وجاء سفك الدماء، وجاء التفرق والضياع إلى الحالة التي وصل إليها المسلمون .
فأسأل الله - تبارك وتعالى - أن يجمع المسلمين على الحق، على كتاب الله وعلى سنة رسول الله، وأن يجمع شباب هذا البلد خاصة على كتاب الله وعلى سنة
رسول الله - عليه الصلاة والسلام ..
وعليهم أن يتذكروا حال الجزيرة قبل أن تأتي الدعوة السلفية على يد الإمام المجدد محمد بن عبد الوهاب، أن يتذكروا التفرق والتمزق والضياع - بارك الله فيكم - حتى إن بعضهم وصل به الجهل أنه ينكر البعث، دع عنك ترك الصلاة وترك الزكاة واللعب إلى آخره، فجمعهم الله على كتاب الله وعلى سنة رسول الله وعلى هذه العقيدة الصحيحة .
فيجب يا إخوة أن نتذكر هذا الواقع المظلم الأول والواقع المضيء الثاني ونرجع إليه إذا حصل منا مجافاة أو نفرة عن هذا أو تنفير عنه، أن نرجع إليه وأن نتاخی .
وأن ندرك أن أعداء الإسلام في مشارق الأرض ومغاربها من الكفار واليهود والعلمانيون كلهم ما يتكالبون إلا على هذه الدعوة الدعوة السلفية التي جددها الإمام محمد ابن عبد الوهاب؛ لأنهم يعرفون أنها هي الإسلام الحق، لا تصدقوا أن بين الروافض وبين اليهود والنصارى عداوة أبدا ، كل هذا كذب وضحك على الناس، لا تصدقوا هذا التهريج الكاذب، كل هذا من ذر الرماد في العيون .
لا يُعادي اليهود والنصارى إلا هذا المنهج، لأن فيهم فلاسفة ومفكرين ومستشرقين يدرسون الإسلام ويعرفون من هي الفرقة التي يمكن أن تكون ذنبا لنا وعونا لنا على الإسلام والمسلمين جميعا، ويعرفون من هي الجماعة التي على الحق ولا يمكن أن تنقاد لهم ولا يجدون هذا إلا عند أتباع المنهج السلفي .
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا) [آل عمران : ۱۰۲] .
نسأل الله أن يجمع قلوبنا جميعا على كتابه وعلى سنة نبيه، وأن يرينا عيانا ما نتمناه من عزة الإسلام وعزة المسلمين واجتماعهم في صعيد واحد على كتاب الله وعلى سنة رسول الله، أسأل الله أن يحقق ذلك، وادعوا الله جميعا في خلواتكم وفي مساجدكم أن يحقق ذلك . وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين .
أصحاب الرسول كانوا في ذلة وقلة، لكن بإخلاصهم وصدقهم وتمسكهم بكتاب ربهم وسنة نبيهم، نصرهم الله له على أقوى الدول وأعتاها، في ذلك الوقت كانوا أقل الناس عددًا وأقلهم عدة وإلى آخره . جمعهم الله - تبارك وتعالى - على كتاب الله وعلى سنة رسول الله - عليه الصلاة والسلام.أنا كنت في المدينة في المسجد النبوي وأذكر قول النبي ﷺ : إن المدينة قرية تأكل القرى .تأكل القرى، كيف؟ المدينة قرية فتحت الدنيا كلها وكان أهلها في مسجد لا يساوي جزءا من خمسين جزءا من هذا المسجد الموجود الآن، انظر المسجد النبوي الآن مليء من الساحات، ومليان من الأمم وهم غثاء .وفي ذلك الوقت مسجد الرسول وقرية الرسول عليه الصلاة والسلام، مسجد الرسول صغير لا يأتي ولا جزء من خمسين جزءا من مسجد اليوم، فتح الله بهم الدنيا بصدق الإيمان والإخلاص والتوكل على الله ؛ ما فتحوا الدنيا بقوتهم وإنما بنصر من الله وتأييد منه ، ﴿وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ ﴾ [ال عمران: ١٢٦].يا أمة الإسلام عليكم بالتوحيد الذي حواه القرآن والذي جاء به جميع الأنبياء، بلدان المسلمين تنتشر فيها القبور والخرافات والضلالات والبدع وإلى آخره ؛ كيف يأتيهم النصر، وكيف تأتيهم العزة وهم ما تركوا بابا من أبواب الذل إلا وطرقوه والعياذ بالله ولا بابا من أبواب العزة والسعادة والسيادة والكرامة إلاوتحايده الكثير ؟!وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ﴾ [آل عمران : ١٠٢] .كلكم اعتصموا بحبل الله ، ما هو حبل الله ؟ كتاب الله وسنة رسول الله - عليه الصلاة والسلام، هذا أمر لجميع الأمة، هل الأمة استجابت الآن لهذا الأمر ؟هل الأمة الآن معتصمة بحبل الله في عقائدها وعباداتها ومناهجها ونشاطاتها ؟كلا والله، قليل ؛ قليل جدا الذين يدعون إلى هذا المنهج وإلى الاعتصام بحبل الله مع الأسف، والباقون والله يحاربون هذا المنهج وهذه الدعوة.أنا أعرف يا أولادي؛ وأنتم ما تعرفون؛ نحن كنا في هذا البلد طلاب علم يرحل طالب العلم من جنوب المملكة إلى شمالها ومن شرقها إلى غربها ما نجد طلاب العلم والعلماء إلا إخوة على منهج واحد، وكنت طالب علم في الجامعة الإسلامية ومدرسا وإلى آخره ونزلت مكة لأكمل دراستي، يلتقي السلفيون أهل الحديث والسلفيون من هنا كلهم على قلب رجل واحد لا خلاف بينهم في المناهج ولا في أي شيء من الأشياء، طبعا قد تكون أشياء جزئية خفيفة هذا ما يخلو حتى زمن الصحابة، لكن المنهج والعقيدة وأمور الحياة كلها حتى السياسة تجدهم على منهج واحد لا خلاف بينهم.ثم جاء الشيطان ينزغ بينهم وجاء أهل الفتن ونفثوا السموم والفرقة والتمزيق فمزقوهم شر ممزق في مشارق الأرض ومغاربها ، كانوا جماعة واحدة على كتاب الله وعلى سنة رسول الله عليه الصلاة والسلام، تجدهم الآن متفرقين تجد الشباب في هذه البلاد متفرقين متنا كرين مع الأسف الشديد، ما فيه محبة، ما فيه مودة، ما فيه تألف ما فيه تآخ ما فيه تحكيم لله ، كل واحد يحكم عاطفته ويشحنونه بأفكار ما يريد أن يغيرها ولا يعرف أنه على خطأ أو على حق ، لا يا أخي .أنا أقرأ في البخاري كما جاء عن ابن عباس له قال : قدم عيينة بن حصن بن حذيفة، فنزل على ابن أخيه الحر بن قيس وكان من النفر الذين يدنيهم عمر، وكان القراء أصحاب مجالس عمر ومشاورته كهولا كانوا أو شبانًا . فقال عيينة لابن أخيه : يا بن أخي لك وجه عند هذا الأمير فاستأذن لي عليه . قال : سأستأذن لك عليه . قال ابن عباس : فاستأذن الحر لعيينة فأذن له عمر، فلما دخل عليه قال : هيه يا بن الخطاب، فوالله ما تعطينا الجزل ولا تحكم بيننا بالعدل، فغضب عمر حتى هم به، فقال له الحر : يا أمير المؤمنين إن الله تعالى قال لنبيه ﷺ : ﴿خُذِ الْعَفْوَ وَأمر بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَهِلِينَ) [الأعراف: ۱۹۹]. وإن هذا من الجاهلين، والله ما جاوزها عمر حين تلاها عليه، وكان وقافا عند كتاب الله .هدأ غضبه، ذهبت عنه سورة الغضب وعفا عن هذا الإنسان كما أمره الله تبارك وتعالى.الشاهد من هذا : أن ابن عباس يشهد لعمر أنه كان وقافا عند كتاب الله .عمر كان محدثاً ، كان فقيها إماما ، لكن قد يجتهد فيخطئ، وإذا نبهه أحد رجع، وقاف عند كتاب الله .وله قصة أخرى لله، قال أبو وائل : جلست إلى شيبة - يعني : الحجبي كانت مفاتيح الكعبة عنده ولا تزال عند بني شيبة في الجاهلية والإسلام، الرسول أعطاهم مفاتيح الكعبة. قال أبو وائل : جلست إلى شيبة في هذا المسجد، قال : جلس إلي عمر في مجلسك هذا . فقال : هممت ألا أدع فيها صفراء ولا بيضاء إلا قسمتها بين المسلمين ، قلت : ما أنت بفاعل . قال : لم ؟ قلت : لم يفعله صاحباك . قال : هما المرآن يقتدى بهما، وقف .الأمثلة كثيرة في حياة عمر في وقوفه عند كتاب الله وعند سنة رسول الله - عليهالصلاة والسلام.لكن الآن، هل نحن وقانون عند كتاب الله ؟!يا أخي، لابد الواحد يحاسب نفسه ويقول : هل أنا على حق أو على خطأ في القضية الفلانية والقضية الفلانية؟ هل أنا على حق أو على خطأ؟لا يصل إلى الحق إلا إذا استسلم لله وانقاد لله وحكم كتاب الله في نفسه وحكم سنة رسول الله في نفسه ؛ فحينئذ يمكن أن يكون وقافا، يمكن أن يكون رجاعًا للحق ، لكن إذا أرسل لنفسه العنان فلا يقف في وجهه شيء لا كتاب ولا سنة رسول الله ﷺ ؛ فإن الباطل سيستولي عليه .فأنا أنصح نفسي وأنصح أبنائي وأنصح إخواني وأنصح زملائي وأنصح من يخالفني : أن نتقي الله في أنفسنا وفي هذه الأمة وفي هذا الشباب، فنحكم كتاب الله ونجمعهم على كتاب الله وعلى سنة رسول الله، ونربي أبناءنا في مساجدنا ومدارسنا وبيوتنا على هذه الأمور وعلى هذا المنهج، وأن نتقي الله في الأهواء والأغراض ؛ فإنها - والله - شتتت الأمة وشتتت الشباب.كان الصحابة كلهم وقافون عند كتاب الله، وكان السلف الصالح كلهم وقافون عند كتاب الله، والذي يخطئ يرجع، والذي يذنب يتوب .كان الرجل يزني في عهد الرسول والمرأة تزني فلا يقر له قرار ولا يستريح أبدًا إلا أن يذهب إلى رسول الله ويعترف ويقول : أقم علي الحد، ويقول رسول الله : لعلك كذا لعلك كذا ، أبدًا ، يعترف؛ لأنه لا يرتاح أبدا ويكره الحياة، لماذا ؟لأنهم أناس استسلموا لله، وليسوا بمعصومين، نحن لسنا بمعصومين، كلنا نقع في الأخطاء لكن يجب على الإنسان أن يتوب : يَتَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا) [التحريم: ۸] .وقعت في الخطأ، في العقيدة في المنهج في السلوك، في العبادة، في شيء.ارتكبت خطأ؛ فباب التوبة مفتوح وليس من العار، بل الأنبياء يخطئون ويرجعون، الأنبياء يخطئون ويرجعون؛ حكى الله عن آدم أنه تاب من خطيئته، وحكى الله عن داود، وحكى الله عن موسى ... يتوب ويتوب ويتوب ويستحي من هذا الذنب .وحتى يأتي يوم القيامة هؤلاء الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام - وتطلب منهم الشفاعة، وهو لا يزال ضميره يؤنبه حتى آخر لحظة تاب تاب تاب لكن هذا الإحساس لا يُمحى من ضميره.يطلبون من آدم الشفاعة فيقول : أنا أذنبت وأخطأت نفسي نفسي، يستحي من ربه ، يقول : إني أستحي من ربي .ثم يأتون إلى نوح فيقول : أنا أذنبت وأخطأت نوح ماذا أخطأ؟ دعا على قومه، اعتبرها خطيئة وهي حق، فيستحي أن يشفع .إبراهيم أخطأ في ذات الله له ويقول : أذنبت، وموسى كذلك يقول : أذنبت - بارك الله فيكم - أين نحن من هذا الحياء من الله ﷺ ؟يا أخي، تعيش عمرك على باطل حياتك كلها ولا تعالج نفسك، ولا ترجع إلى الله تبارك وتعالى، ويمكن وراءك ألوف بل ملايين يتبعونك على هذا الخطأ، فتحمل وزر نفسك وأوزار الآخرين من سن سنة سيئة فعليه وزرها ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة، ومن سن سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة .يا أخي ارحم نفسك، سُنَّ للناس سنة حسنة، أنت لست تشرع الآن، لكن أحي سنة الرسول عليه الصلاة والسلام، تكون كأنك سننت للناس سنة حسنة بارك الله فيكم ؛ أشياء قصر فيها الناس أو ماتت هذه السنة فأحييتها ، الناس إذا أقبلوا عليها وعملوا بها ، فأنت تكسب أجرها ؛ أجرك وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة .وكذا إذا تعلقت ببدعة وتبعك الناس عليها ، فتحمل وزرك ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة .الشاهد أننا يجب أن نرجع جميعا إلى الله، وأن نعتصم بكتاب الله، وأن نتبع كتاب الله آيات كثيرة يأمر الله فيها بالاستقامة آيات كثيرة يأمر فيها الله بالاتباع، آيات كثيرة يأمر فيها الله رسوله بالاتباع : «اتبع ما أنزل إليك» .اتبع ما أُوحِيَ إِلَيْكَ﴾ [الأنعام: ١٠٦].اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ﴾ [الأعراف : ٣] .ويقول تعالى : ﴿إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا [فصلت : ٣٠].أوامر كثيرة ونواه كثيرة عن المعصية وعن المخالفات وعن وعن ... لماذا ؟كتاب الله بين أيدينا وندرسه ونحفظه أولادنا، وتحفيظ القرآن، لكن أينالآداب؟نحفظ الألوف والألوف والحفظ مطلوب، لكن أين العمل أين العمل؟القرآن ألا يدعونا إلى الاجتماع ؟!ألا يدعونا إلى الاعتصام بالكتاب والسنة ؟!ألا يدعونا إلى ترك الباطل ؟!ألا يدعونا إلى ترك البدع ؟ألا يدعونا إلى محاربة الشرك والضلال ؟!
نتفقه في دين الله ويحاول كل واحد يعمل في نفسه ويحاول أن يعلم أسرته، ويحاول أن يربي الناس في مدرسته على هذا المنهج وعلى هذه العقيدة التي جاء بها جميع الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، ويحذرهم من الشرك دعاء غير له، والذبح لغير الله، والاستغاثة بغير الله إلى آخره، تجد دعاة يملئون الدنيا، لكن هذه ليست من المنكرات عندهم، ماذا استفاد الناس منك وأنت تقرهم على الباطل ؟!
ما تزيدهم إلا ضلالاً ولا تزيدهم إلا غثائية، ولهذا كثرت الدعوات في العالم الإسلامي من هنا وهناك وكثرت الأحزاب، والله لا يزداد الناس إلا بلاء، لماذا ؟
لأنهم ما سلكوا طريق الأنبياء - عليهم الصلاة والسلام في الإصلاح .
إصلاح الأنبياء يبدأ بماذا ؟ بالإصلاح العقائدي ؛ يأتي النبي قومه وعندهم شرك، عندهم ضلالات، فساد طويل عريض في الحياة كلها يبدءون بماذا ؟ يبدءون بإصلاح العقيدة؛ يأتي إلى قوم يدعون غير الله يذبحون لغير الله، يتعلقون بالأصنام، يعبدون الملائكة، يعبدون لأشجار، يعبدون الأنبياء إلى آخره، فيبدأ
بتصحيح العقيدة، يصحح العقيدة .
انظر إلى العالم الإسلامي الآن، اذهب إلى مصر، اذهب إلى السودان اذهب إلى باكستان ترى العجائب، في هذه البلاد محيت القبور - ولله الحمد، ولكن دعوات الآن هيأت الناس لهذه الأوضاع المردية، وربما يستنكرون التركيز على الدعوة إلى التوحيد.
يا أخي ؛ الرسول - عليه الصلاة والسلام - كان بين الفينة والفينة يبايع أصحابه على ألا يشركوا بالله شيئًا، يبايع أبا بكر وعمر وابن مسعود وعبادة بن الصامت وغيرهم، يبايعهم على ألا يشركوا بالله شيئًا وأن يقيموا الصلاة وإلى آخره، كيف يبايع أبا بكر وعمر ؟! لأن العقيدة دائما تحتاج إلى إذكاء، إلى تجديد، إلى تنبيه .
العقيدة هذه لا بد أن نغرسها في أنفسنا وفي أوساطنا ونذكر بها .
كيف يبايع الرسول ﷺ أصحابه على ألا يشركوا بالله شيئًا ؟
الآن لو قلت لواحد : تعالى أبايعك على ألا تشرك بالله شيئا كيف يفعلون ؟!!
لو وجد الآن داعية يحذرهم من الشرك، يقولون : وهل نحن مشركون؟ كيف أبو بكر وعمر يبايعون على ألا يشركوا بالله شيئا وأنتم لا تُحذِّرون من
الشرك ؟!
إبراهيم يقول : وَاجْنُبْنِي وَبَنِي أَن تَعْبُدَ الْأَصْنَامَ .
إبراهيم أبو الأنبياء وخليل الرحمن يقول : ﴿وَاجْنُبْنِي وَبَنِي أَن تَعْبُدَ الْأَصْنَامَ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ) [إبراهيم: ٣٥-٣٦] - عليه الصلاة والسلام.
وهو يعلم أن أبناءه سيأتي فيهم الأنبياء الكثير ومع هذا يخاف ، كيف نأمن على أنفسنا ؟!
يا مقلب القلوب ثبت قلوبنا على دينك . رسول الله - عليه الصلاة والسلام يقول هذا ويعلم أصحابه أن يقولوا هذا ، نحن الآن كأن عندنا ضمانًا أننا لا نقع في الشرك ولا في النفاق .
كان الصحابة يخافون على أنفسهم النفاق ؛ يقول ابن أبي مليكة : أدركت ثلاثين من أصحاب محمد كلهم يخاف على نفسه النفاق .
الإنسان لابد أن يخاف من النفاق، يخاف من الوقوع في الشرك، يخاف أن يزيغ قلبه : ربنا لا تزغ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
[آل عمران: ۸] .
فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَسِرُونَ﴾ [الأعراف: ٩٩] .
ندعو الله أن يحفظ قلوبنا، ونبذل الأسباب التي ترسخ الإيمان في نفوسنا ، نبذل الأسباب ؛ من طاعة الله، من الاستسلام لله ل ، من الاستغفار لله في الليل والنهار وبالأسحار ونضرع إليه دائما أن يثبتنا على الإسلام وأن
يهدي الله على أيدينا من يريد هدايته .
ولابد يا إخوة من إحياء المحبة والمودة والأخوة في أوساط المسلمين على أساس الكتاب والسنة وليس على أساس النفاق والمجاملات، على أساس الحق أحي الحق في نفسك وآخ عليه الناس وادع إليه .
ولابد من هذا التلاحم وهذا التآخي بين المسلمين : ﴿وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ
جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ﴾ [آل عمران : ۱۰۲] .
وما الذي يفرقنا ؟! الأهواء؛ الذي يفرق الأهواء، أنت لك رأي وأنا لي رأي، وأنت تتبع فلانا وأنا أتبع فلانا ، ثم لا نحكم كتاب الله، جاءت حينئذ الفرقة وجاءت العداوة وجاءت البغضاء، وجاء سفك الدماء، وجاء التفرق والضياع إلى الحالة التي وصل إليها المسلمون .
فأسأل الله - تبارك وتعالى - أن يجمع المسلمين على الحق، على كتاب الله وعلى سنة رسول الله، وأن يجمع شباب هذا البلد خاصة على كتاب الله وعلى سنة
رسول الله - عليه الصلاة والسلام ..
وعليهم أن يتذكروا حال الجزيرة قبل أن تأتي الدعوة السلفية على يد الإمام المجدد محمد بن عبد الوهاب، أن يتذكروا التفرق والتمزق والضياع - بارك الله فيكم - حتى إن بعضهم وصل به الجهل أنه ينكر البعث، دع عنك ترك الصلاة وترك الزكاة واللعب إلى آخره، فجمعهم الله على كتاب الله وعلى سنة رسول الله وعلى هذه العقيدة الصحيحة .
فيجب يا إخوة أن نتذكر هذا الواقع المظلم الأول والواقع المضيء الثاني ونرجع إليه إذا حصل منا مجافاة أو نفرة عن هذا أو تنفير عنه، أن نرجع إليه وأن نتاخی .
وأن ندرك أن أعداء الإسلام في مشارق الأرض ومغاربها من الكفار واليهود والعلمانيون كلهم ما يتكالبون إلا على هذه الدعوة الدعوة السلفية التي جددها الإمام محمد ابن عبد الوهاب؛ لأنهم يعرفون أنها هي الإسلام الحق، لا تصدقوا أن بين الروافض وبين اليهود والنصارى عداوة أبدا ، كل هذا كذب وضحك على الناس، لا تصدقوا هذا التهريج الكاذب، كل هذا من ذر الرماد في العيون .
لا يُعادي اليهود والنصارى إلا هذا المنهج، لأن فيهم فلاسفة ومفكرين ومستشرقين يدرسون الإسلام ويعرفون من هي الفرقة التي يمكن أن تكون ذنبا لنا وعونا لنا على الإسلام والمسلمين جميعا، ويعرفون من هي الجماعة التي على الحق ولا يمكن أن تنقاد لهم ولا يجدون هذا إلا عند أتباع المنهج السلفي .
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا) [آل عمران : ۱۰۲] .
نسأل الله أن يجمع قلوبنا جميعا على كتابه وعلى سنة نبيه، وأن يرينا عيانا ما نتمناه من عزة الإسلام وعزة المسلمين واجتماعهم في صعيد واحد على كتاب الله وعلى سنة رسول الله، أسأل الله أن يحقق ذلك، وادعوا الله جميعا في خلواتكم وفي مساجدكم أن يحقق ذلك . وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين .
মাজমুউ কুতুব ওয়া রাসাঈল ওয়া ফাতাওয়া ফাদ্বিলাতিশ শাইখিল আল্লামা রাবী বিন বাদী বিন উমাইর আল মাদখালি, ৪/৯৯-১০৮
অনুবাদ: সাফিন চৌধুরী
Join Telegram: Ideology Of Salaf