সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
Abdullah Rakib

কিতাবুছ ছুন্নাহ্ লি ইমাম আব্দুল্লাহ্ ইবনু আহমাদ— ১ম পর্ব

Abdullah Rakib

Susceptible

Exposer
Salafi User
Threads
25
Comments
26
Reactions
163
Credit
126
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ্’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ্’র জন্য। অজস্র সালাত ও সালাম অবতীর্ণ হোক প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি, তাঁর পরিবারের প্রতি, সাহাবীদের প্রতি এবং সত্য অনুসন্ধানকারীদের প্রতি। অতঃপর ইমাম আহমাদের ছেলে আবু ‘আব্দির রহমান আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ্’র বই ‘কিতাব আছ-ছুন্নাহ্’র অনুবাদ পেশ করা হল।

||| পরিচ্ছেদ ০১: তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ভ্রান্ত জাহমিয়্যাদের কাফির মনে করা এবং তাদের পিছনে সালাত পড়া সম্পর্কে আলিমগণ কি বলেছেন?

❏ আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ্ বলেন:

১. আমি আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি: “যে বলে: কুর’আন মাখলূক, তাহলে আমাদের জন্য সে কাফির। কারণ কুর’আন হল আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লার ইলম থেকে, এবং এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লার নামসমূহ।”

২. আমি আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি: “যদি কোন ব্যক্তি বলে: “[আল্লাহ্'র] ইলম্ মাখলূক, তাহলে সে কাফির। কারণ সে দাবি করে যে, তিনি [আল্লাহ্] এটি সৃষ্টি করা না পর্যন্ত তাঁর কোন ইলম্ ছিল না।”

৩. আমি আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি: “যে বলে: কুর’আন মাখলূক, তাহলে আমাদের জন্য সে কাফির৷ কারণ কুর'আন আল্লাহ্ আযযা ওয়া যালের ইলম্ থেকে প্রাপ্ত। তিনি আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: فَمَنْ حَآجَّكَ فِيهِ مِن بَعْدِ مَا جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ “তোমার নিকট জ্ঞান [কুর'আন] আসার পর যে ব্যক্তি তোমার সাথে বিতর্ক করবে” [আলে-ইমরান: ৬১ নং আয়াত]। এবং তিনি, আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: وَلَن تَرْضَى عَنكَ الْيَهُودُ وَلاَ النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم بَعْدَ الَّذِي جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللهِ مِن وَلِيٍّ وَلاَ نَصِيرٍ “ইয়াহূদী ও নাসারারা তোমার প্রতি রাজী হবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, ‘আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ এবং তুমি যদি জ্ঞান [অর্থাৎ কুর'আন] আসার পরেও এদের ইচ্ছে অনুযায়ী চল, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহ্'র ক্রোধ হতে রক্ষা করার মত কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না” [বাক্বারাহ্: ১২০ নং আয়াত]। আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা [আরও] বলেন: وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَّا تَبِعُواْ قِبْلَتَكَ وَمَا أَنتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم مِّن بَعْدِ مَا جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذَاً لَّمِنَ الظَّالِمِينَ “আর যদি তুমি ক্বিতাবধারীদের সামনে সমুদয় দলীল হাজির কর, তবুও তারা তোমার ক্বিবলার অনুসরণ করবে না আর তুমিও তাদের ক্বিবলার অনুসরণকারী নও, আর তারা একে অপরের ক্বিবলার অনুসরণকারী নয়। যদি তুমি তোমার নিকট জ্ঞান [অর্থাৎ কুর'আন] আসার পরেও তাদের মনগড়া মতবাদসমূহের অনুসরণ কর, সে অবস্থায় তুমিও অবাধ্য দলেরই অন্তর্ভুক্ত হবে”
[বাক্বারাহ্: ১৪৫ নং আয়াত]। এবং তিনি, আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ “জেনে রেখ, সৃষ্টি তাঁর, হুকুমও তাঁর, বরকতময় আল্লাহ্ বিশ্বজগতের প্রতিপালক” [আরাফ: ৫৪ নং আয়াত]। আমার বাবা বলেছেন:

“এবং সৃষ্টি হল আদেশ ব্যতীত অন্য কিছু।” এবং তিনি, আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, وَمَن يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الأَحْزَابِ “আর যে এটিকে অস্বীকার করবে [বিভিন্ন] দলের মধ্যে হতে” [হুদ: ১৭ নং আয়াত]।

আমার বাবা বলেন: “সাঈদ ইবনে যুবাঈর বলেছেন: ‘এবং দলগুলো হল: ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্মগুলো’। «فالنار موعده» ‘জাহান্নামই হল তাদের প্রতিশ্রুত স্থান” [হুদ: ১৭ নং আয়াত]।

«وَمِنَ الأَحْزَابِ مَن يُنكِرُ بَعْضَهُ قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلا أُشْرِكَ بِهِ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ * وَكَذَلِكَ أَنزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم بَعْدَ مَا جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللهِ مِن وَلِيٍّ وَلاَ وَاقٍ»
“কিন্তু কতক দল তার [ক্বিতাবের] কোন কোন কথা মানে না। বল, ‘আমি আল্লাহ্'র ‘ইবাদাত করার জন্য এবং তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক না করার জন্য নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি, আমি তাঁর দিকেই আহবান জানাই, আর আমার প্রত্যাবর্তন তাঁর দিকেই’। এভাবে আমি একে বিধানরূপে নাযিল করেছি আরবী ভাষায়। তোমার কাছে জ্ঞান আসার পরেও তুমি যদি তাদের খাহেশের অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ্'র মোকাবালায় তোমার কোন অভিভাবক থাকবে না, থাকবে না কোন রক্ষাকারী” [রাদ: ৩৬-৩৭ নং আয়াত]।

৪. আমি আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি:
“যে এই মতামতটি [গ্রহণ] করে, তাহলে আল-জুমু’আহ্ তার পিছনে পড়া হয় না এবং না অন্যান্য [সালাত]। তাছাড়া আমরা সালাতে আসা ছেড়ে দিই না৷ তাই যদি কোন মানুষ সালাত আদায় করে, তাহলে সে সালাত পুনরায় আদায় করবে। ইয়ানি তার পিছনে যে বলে: কুর'আন মাখলূক।”

আমি আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্কে আহলুল বিদা’র পিছনে সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন: “কেউ [যেন] তাদের পিছনে সালাত আদায় না করে, যেমন: জাহমিয়্যাহ্ এবং মুতা'যিলাহ্।”

৬. আমি আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি: “যদি কাদ্বী জাহমি হয়, তাহলে তাকে সাক্ষ্য দিবে না।”

৭. আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারাকের মাওলা আল-হাসান ইবনু ‘ঈসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে হাম্মাদ ইবনু ক্বিরাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমি ইবরাহীম ইবনু তাহমানকে বলতে শুনেছি: “জাহমিয়্যাহরা কুফফার এবং কাদা’রিয়্যাহ্’রাও কুফফার।”

৮. বানু হাশিমের মাওলা মুহাম্মদ ইবনু সালিহ আল-বাছরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে আব্দুল মালিক ইবনু ক্বারিব আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে আল-মু’তামির বিন সুলায়মান আত্ব-তায়মী তাঁর পিতা হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেছেন: “এমন কোন লোক নেই যারা জাহমিয়্যাহ্ এবং কাদারিয়্যাহ্’র চেয়ে ইসলামকে বেশি ব্যর্থ করে৷ জাহমিয়্যাহ্ সম্পর্কে, তাহলে তারা মহান আল্লাহ্’র সাথে যুদ্ধ করেছিল৷ এবং কাদারিয়্যাহ্ সম্পর্কে, তাহলে তারা আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে [খারাপ কথা] বলেছিল।”

৯. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহাইর ইবনু নু’আইম আস-সিজিস্তানি আল-বাবী ছিক্বাহ্ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি সালাম ইবনু আবী মু’তীকে বলতে শুনেছি: “জাহমিয়্যাহরা কুফফার এবং কেউ [যেন] তাদের পিছনে সালাত আদায় না করে।”

১০. আহমাদ ইবনু সা’ঈদ আবূ জাফর আদ-দারিমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আমার বাবাকে বলতে শুনেছি, আমি খারিজাহ্কে বলতে শুনেছি: “জাহমিয়্যাহ্’রা কুফফার, তাদের মহিলাদের জানিয়ে দাও যে তারা তালাকপ্রাপ্তা এবং তারা তাদের স্বামীদের জন্য নাজায়েয। তাদের অসুস্থদের সাথে দেখা করবে না এবং তাদের জানাযায় অংশ নিবে না। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন:

‘ত্ব-হা। তোমাকে ক্লেশ দেওয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুর'আন নাযিল করিনি।’ [ত্ব-হা: ১-২ নং আয়াত]

তাঁর— আযযা ওয়া জাল্লা পর্যন্ত কথা: ‘রহমান আরশের উপর উঠেছেন।’ [ত্ব-হা: ৫ নং আয়াত]

[এবং তিনি বলেছেন:] ‘এবং ইস্তিওয়া [উপরে উঠা] কি বসা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে?”
তাহকীক: [সানাদের খারীজাহ কাযযাব, সা’ঈদ বিন ছাখর মাজহুল, এই মতনে ইস্তিওয়ার বিষয়ে সালাফদের মাযহাবের বিরুদ্ধ কথা রয়েছে]

১১. আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, সুরাইয ইবনু আন-নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনু ‘নাফি আমাকে সংবাদ দিলেন [এবং] বলেছেন, মালিক ইবনু আনাছ রাহিমাহুল্লাহ্ বলতেন: “যে বলে কু’রআন মাখলূক [তাকে] পিটিয়ে আঘাত করা হবে এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখতে হবে।’ এবং মালিক ইবনু আনাস বলেন: “আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা আকাশে এবং তাঁর ইলম্ সর্বত্র; এটি থেকে কোন [স্থানেই] মুক্ত নয়।’ এবং তিনি এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন:

‘তিনজনের মধ্যে এমন কোন নাজওয়া হয় না যাতে চতুর্থজন আল্লাহ্ হন না, আর পাঁচজনেও হয় না, ষষ্ঠজন তিনি ছাড়া।’ [আল-মুজাদিলাহ্: ৫৮/৭] এবং তিনি এই সম্পর্কিত শব্দগুলোকে মুখ্য কিছু হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন এবং তিনি এটিকে জঘন্য বলে মনে করেছিলেন৷

১২. বছরাতে একজন শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ্ আবূ মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আল-মুবারাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমি সুফিয়ান আছ-ছাওরীকে বলতে শুনেছি: “যে দাবি করে যে, আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লার ক্বওল: ‘হে মূসা! আমি সত্যিই আল্লাহ্, আল-আযীয— আল-হাকিম।’ [আন-নামল: ২৭/৯]— মাখলূক, সে একটা কাফির যিন্দীক, এবং তার রক্ত হালাল।”

১৩. মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক্ব আস-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন ইবনু আবী হারুন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হিব্বান ইবনু মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু আল-মুবারাক থেকে, সুফিয়ান থেকে— যিনি বলেছেন: “যে বলে: নিশ্চয়ই কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ মাখলূক, সে একটা কাফির।”

১৪. আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবনু আল-হুসাইন ইবনু ইবরাহীম ইবনু ইশকাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আমার বাবা এবং আল-হাইসাম ইবনু খারিজাহকে বলতে শুনেছি, যারা দু’জনই বলেছেন: আমি আবূ ইউসুফ আল-কাদ্বীকে খুরাসানে বলতে শুনেছি: “এইখানে পৃথিবীতে দুটি দলের চেয়ে খারাপ কিছুই নেই: জাহমিয়্যাহ্ এবং মুকাতিলিয়্যাহ্।”

❏ আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারাক রাহিমাহুল্লাহ্

১৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনু আল-মুবারাকের মাওলা আল-হাসান ইবনু ঈসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইবনু আল-মুবারাক বলতেন: “জাহমিয়্যাহরা কুফফার্।“

১৬. আমি আল-হাসান ইবনু ‘ঈসাকে বলতে শুনেছি: “জাহমিয়্যাহ্। এবং জাহমীদের কুফরী সম্পর্কে কে সন্দেহ পোষণ করে?”

১৭. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহরায ইবনু আউন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবূ সাহল ইয়াহইয়া ইবনু ইবরাহীম— যাকে রাহুইয়া নামে ডাকা হতো— আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ইবনু আল-মুবারাক বলেছেন: “জাহমিয়ারা কোনকিছুর ইবাদাত করে না।”

১৮. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সালিম ইবনু রুস্তুম আবূ সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু ইবরাহীম আবূ সাহল রাহুইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: “আমি জাহমিয়াদের বিরুদ্ধে [আল্লাহ্কে] ডাকতাম, এটা আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারাকের কাছে উল্লেখ করলাম কারণ এই বিষয়ে কিছু [আপত্তি] আমার হৃদয়ে প্রবেশ করেছিল, কাজেই তিনি বলেন: ‘[এই বিষয়ে] তোমার হৃদয়ে কিছু প্রবেশ করা উচিত নয়, নিশ্চয়ই তুমি যে রবের ইবাদাত করো তারা তাকে শূণ্য বানিয়ে নিয়েছে৷”

১৯. আবূ জাফর আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ-দারিমী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি মুহাম্মদ ইবনু আইয়ুনকে [বলতে] শুনেছি, আমি আন-নাদর ইবনু মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি: “যে বলে:
‘প্রকৃতই আমি আল্লাহ্, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ‘ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে সালাত কায়িম কর।’ [ত্বা-হা: ১৪] — মাখলূক, সে একটা কাফির।’ তাই আমি ইবনু আল-মুবারাকের নিকট গেলাম এবং তাকে বললাম: ‘আপনি কি অবাক নন যে আবূ মুহাম্মদ এমন এমন বলেন?’ তিনি বললেন: ‘এবং ব্যাপারটা কি এরকম ছাড়া? এবং এটা বলে কি পালানো সম্ভব?”

২০. আবূ ‘আমর মুহাম্মদ ইবনু আব্দিল-আযিয ইবনু আবি রিযমাহ্ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আবূ আল-ওয়াযীর মুহাম্মদ ইবনু আইয়ুনকে বলতে শুনেছি যিনি বলেছেন, আমি আন-নাদর ইবনু মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি: “যে কেউ এই আয়াহ্ সম্পর্কে বলবে: ‘প্রকৃতই আমি আল্লাহ্, আমি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, কাজেই আমার ‘ইবাদাত কর, আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে সালাত কায়িম কর।’ [ত্বা-হা: ১৪]— যে এটা মাখলূক, সে একটা কাফির।” তাই আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের কাছে গিয়ে তাকে জানালাম। তিনি বললেন: ‘আবূ মুহাম্মদ সত্য বলেছেন, আল্লাহ্ তাকে রক্ষা করুন। আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা মাখলূক কোন কিছুর ইবাদাত করার নির্দেশ দিবেন না।”

২১. এবং আবূ বকর ইবনু আবি আত্তাব আল আইয়ুন উল্লেখ করেছেন, হামযাহ— মার্ভের একজন শায়খ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ইবনুল মুবারাককে বলতে শুনেছি: “যে কেউ বলে কুর’আন মাখলুক, সে একটা যিন্দীক।”

২২. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনু আল-হাসান ইবনু শাকীক্ব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আল-মুবারাককে জিজ্ঞেস করলাম: “আমাদের রব আযযা ওয়া জাল্লাকে কিভাবে জানবো?’ তিনি বললেন: ‘সিংহাসনে সাত আসমানের উপরে। এবং আমরা বলি না জাহমিয়্যাহদের মতো কথা, যে তিনি নিশ্চয়ই পৃথিবীতে আছেন।”

২৩. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনু আল-হাসান ইবনু শাক্বীক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাককে বলতে শুনেছি: “আমরা প্রকৃতপক্ষে ইয়াহুদী এবং খ্রিষ্টানদের কথা উল্লেখ করার অনুমতি দিই, কিন্তু আমরা জাহমিয়াদের কথা উল্লেখ করার অনুমতি দিই না।”

২৪. মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনু নাসর ইবনু মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, একজন লোক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুবারাক থেকে, যিনি বলেছেন যে এক লোক তাকে বলেছিল: “হে আবূ আব্দির রহমান আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লাকে ভয় করি, এ কারণে যে, আমি জাহমিয়াদের বিরুদ্ধে [আল্লাহ্কে] ডাকছি।’ তিনি বললেন: “ভয় পেও না, কারণ তারা দাবি করে যে তোমার রব্ব যিনি সাত আসমানের উপর আছেন তিনি কিছুই নন/শূন্য।”

❏ সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ রাহিমাহুল্লাহ্

২৫. গিয়াস ইবনু জাফর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ্কে [বলতে] শুনেছি: “কুর’আন হল আল্লাহ্ আযযা ওয়া যাল্লার কথা। যে বলবে মাখলুক, সে কাফির। এবং যে কেউ তার কুফর সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে, সেও কাফির।”

২৬. মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক্ব আস-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনু আব্দির রহমান আল-মুজরিযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনু জুনায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ থেকে— যিনি বলেছেন: “যে কেউ বলে যে কুর’আন মাখলুক [তাকে] পাহাড়ের উপর ক্রুশবিদ্ধ করা প্রয়োজন।”

❏ আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীস রাহিমাহুল্লাহ্

২৭. আর-ফাদল ইবনু আস-সাব্বাহ আস-সিমসার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, এবং আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন: “তাঁর মধ্যে কোন ক্ষতি নেই।” এবং বলেছেন: “আমি আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীস রাহিমাহুল্লাহ্'র সাথে ছিলাম, যখন আমাদের সাথে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে কিছু আসহাবুল হাদীস তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং বলেছিলেন: “আপনি জাহমিয়াদের সম্পর্কে কি বলেন, তাদের পিছনে সালাত আদায় করা কি উচিত?” আল-ফাদল বলেছেন: ‘তখন আমি একজন মানুষের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, তাই ইবনু ইদরীস কি উত্তর দিয়েছিলেন তা আমি বুঝতে পারিনি। তাই আমি জিজ্ঞেসকারীকে বললাম: ‘তিনি তোমাকে কি বলেছেন?’ অতএব সে বললো: ‘এরা কি মুসলিম? না, এবং কোন সম্মান নেই [তাদের]। কেউ তাদের পিছনে সালাত আদায় করে না।” আমি ফাদল ইবনু আস-সাব্বাহকে বললাম: আপনি কি তাকে ইবনু ইদরীসকে এই কথা বলতে শুনেছেন যখন আপনি উপস্থিত ছিলেন?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, আমি বলতে শুনেছি।’

২৮. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবূ জাফর আস-সুয়াইদি আমার নিকট মুক্বাতিল থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেছেন: “আমি আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীসকে জাহমিয়াদের পিছনে সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছিলেন: ‘তারা কি মু’মিন?’

২৯ [ক]. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু ইউসূফ আয-যিমমী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: “আমি আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীসের সাথে ছিলাম যখন এক লোক তাকে বলেছিল: ‘হে আবূ মুহাম্মদ! আমাদের সামনে এমন লোক [আছে] যারা বলে: নিশ্চয়ই কুর’আন মাখলূক।’ তখন তিনি বললেন: ‘ইয়াহুদীদের কাছ থেকে?’ সে বলল: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘তাহলে খ্রিষ্টানদের থেকে?’ সে বলল: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘তাহলে মাজুস থেকে?’ সে বলল: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘তাহলে কার কাছ থেকে?’ সে বলল: ‘মুওয়াহীদুন থেকে।’ তিনি বললেন: ‘তারা মিথ্যা বলেছে। এরা মুওয়াহীদুন নয়, এরা যানাদিক্বাহ্। যে কেউ দাবি করে যে কুর’আন মাখলূক, সে সত্যিকার অর্থে দাবি করে যে আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা মাখলূক। এবং যে দাবি করে আল্লাহ্ তা’য়ালা মাখলূক, সে সত্যিই কুফরী করেছে। এরা হল যানাদিক্বাহ, এরা হল যানাদিক্বাহ।”

২৯ [খ]. ইবনু আদ-দাওরাকী বলেছেন: “এবং আমাদের কিছু সঙ্গী আমাকে সংবাদ দিলেন, আয-যিমমী থেকে যিনি বলেছেন: এবং ইবনু ইদরীস তেলাওয়াত করলেন: “বিসমিল্লাহীর-রাহমানির রাহীম, অতঃপর তিনি বললেন: ‘আল্লাহ্ কি মাখলূক?’ আর-রাহমান আর-রাহীম কি মাখলূক?’ এরা [জাহমিয়্যাহ] হল যানাদিক্বাহ্।”

৩০. মুহাম্মদ ইবনু হারুন আবূ নাশিত আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনু ঈসা আস-তাব্বা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ইবনু ইদরীসকে শুনেছি যখন তাকে কিছু লোকের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যারা বলে যে কুর’আন মাখলূক। তিনি এটিকে অসহ্য মনে করেছিলেন এবং বলেছিলেন: “সুবহান-আল্লাহ্ তার সৃষ্ট কিছু।” এবং তিনি তার মুখের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করেছিলেন।

❏ ওয়াকি ইবনু আল-জাররাহ রাহিমাহুল্লাহ

৩১. আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-ওয়াসিতি আদ-দারির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ওয়াকি ইবনু আল-জাররাহকে বলতে শুনেছি: “জাহমি সম্পর্কে, আমি তাকে সত্যই তওবা করতে বলি। তারপরে সে হয় তওবা করবে অথবা আমি তাকে হত্যা করবো।”

৩২. আবূ বাকর ইবনু আবী শাইবাহ্ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ওয়াকীর বিষয়ে আমার নিকট খবর পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: ”যে কেউ দাবি করে যে কুর’আন মাখলূক, প্রকৃতপক্ষে সে দাবি করেছে যে এটি মুহদাছ, এবং যে দাবি করে যে এটি মুহদাছ, প্রকৃতপক্ষে সে কুফরী করেছে।”

৩৩. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবূ জাফর আস-সুয়াইদি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ওয়াকিকে শুনেছি যখন তাকে বলা হয়েছিল: “প্রকৃতপক্ষে ফুলান বলে: নিশ্চয়ই কুর’আন মুহদাছ।” তখন তিনি বললেন: “সুবহানাল্লাহ্, এটি কুফর।” আস-সুয়াইদি বলেন: “এবং আমি ওয়াকিকে জাহমিয়ার পিছনে সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, অতএব তিনি বললেন: “তাদের পিছনে সালাত পড়ো না।”

৩৪. আহমাদ ইবনু আল-হাসান আবূল হাসান আত-তিরমিযী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি মালিহ ইবনু ওয়াকিকে বলতে শুনেছি, আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি: “যে কেউ দাবি করে যে কুর’আন মাখলূক, প্রকৃতপক্ষে সে দাবি করেছে যে এটি মুহদাছ। তাকে তওবা করতে বলা হবে। তারপর সে হয় তওবা করবে অথবা তার শিরশ্ছেদ করা হবে।”

৩৫. আমি আবূ খাইছামাহ জুহাইর ইবনু হারবকে বলতে শুনেছি, মুছান্না এবং আমার মধ্যে বিরোধ ছিল, তাই মুছান্না বলল: “কুর’আন হল মাখলূক। এবং আমি বললাম: ‘আল্লাহ্’র কথা।” তখন ওয়াকি বলেছিলেন যখন আমি শুনছিলাম: “এটা কুফর। যে বলে যে কুর’আন মাখলুক, তাহলে এটি কুফর।” অতএব মুছান্না বলল: “হে আবূ সুফইয়ান, আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: ‘তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যখনই কোন মুহদাছ [নতুন] উপদেশ আসে..।’[আনবিয়া: ০২]

...তাহলে এটা কি?’ অতএব ওয়াকি বললেন: “কে বলে যে কুর’আন মাখলূক? এটা কুফর।”

৩৬. সাওয়ার ইবনু আব্দিল্লাহ আল-কাদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, একজন লোক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাওয়ার তার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি তার নাম ভুলে গিয়েছি, এবং বলেছেন, আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি: “যে বলে যে কুর’আন মাখলূক, সে কাফির।”

৩৭. আবূ বাকর ইবনু জানযুয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু দাঊদ আল-হাররানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি: “কুর’আন হল আল্লাহ্' আযযা ওয়া জাল্লার কথা। জিবরীল মুহাম্মদ [আলইহিমা আস-সালাম] এর নিকট এটি এনেছিলেন। প্রত্যেক হাওয়ার অনুসারী আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লাকে জানে, এবং সে জানে সে কার ইবাদাত করছে, জাহমিয়া ছাড়া। তারা জানে না তারা কার ইবাদাত করছে। বিশর আল-মারিসী এবং তার সঙ্গীরা।”

৩৮. আবূ আব্দির রহমান বলেন, হাসান ইবনু আল-বাযযার উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, ইসহাক্ব ইবনু আবি আমর আমাকে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন: “জাহমিয়া [কর্তৃক] জবাই করাকে ওয়াকির নিকট উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এটি খাওয়া হয় না। তারা মুরতাদ্দুন।”

৩৯. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব আস-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবূ হাতিম আত-তা’উয়ীল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ওয়াকি বলেছেন: “যে কেউ বলে যে তাঁর কথা তাঁর থেকে নয়, তাহলে নিশ্চয়ই সে কুফরী করেছে। এবং যে কেউ বলে যে তাঁর কোনো কিছু মাখলূক, নিশ্চয়ই সে কুফরী করেছে।”

৪০. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব আস-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আস-সুয়াইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি: “যে কেউ বলে যে কুর’আন মাখলূক নিশ্চয়ই কুফরী করেছে।”

❏ হাম্মাদ ইবনু যায়েদ এবং মু’তামির ইবনু সুলায়মান রাহিমাহুমুল্লাহ্

৪১. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকী এবং
আলী ইবনু মুসলিম আত-তুসি উভয়ই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, সুলায়মান ইবনু হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি হাম্মাদ ইবনু যায়েদকে শুনেছি যখন এই জাহমিয়াদের উল্লেখ করা হয়েছিল— তিনি বলেছিলেন: “তারা সত্যই বলার চেষ্টা করে যে আকাশে কিছুই নেই।”

৪২. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব আস-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ইউসূফ ইবনু আল-হাজ্জাজ আল-জুবাইরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফিতর ইবনু হামমাদ ইবনু আবি উমার আস-সাফফার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি মু’তামির ইবনু সুলায়মানকে জিজ্ঞেস করে বললাম: “হে আবূ মুহাম্মাদ, মানুষের ইমাম বলেছেন: ‘কুর’আন মাখলূক। আমি কি তার পিছনে সালাত আদায় করব?’ সুতরাং তিনি বললেন: “তার শিরশ্ছেদ করা উচিত।” ফিতর বলেছেন: “এবং আমি হাম্মাদ ইবনু যায়েদকে জিজ্ঞেস করে বললাম: “হে আবি ইসমাঈল, আমাদের একজন ইমাম রয়েছে যে বলে: ‘কুর’আন মাখলূক। আমি কি তাঁর পিছনে সালাত আদায় করবো?’ তিনি বললেন: “একজন মুসলিমের পিছনে সালাত আদায় করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।” এবং আমি ইয়াযিদ ইবনু যুরা’ঈকে জিজ্ঞেস করে বললাম: “হে আবূ মু’আউয়ীইয়া, লোকেদের ইমাম বলেছে: ‘কুর’আন হল মাখলূক। আমি কি তাঁর পিছনে সালাত আদায় করবো?” তিনি বললেন: “না, এবং কোন সম্মান নেই [তাদের]।” আবূ আব্দির রহমান বলেন: আমি ফিতর থেকে শুনেছি, কিন্তু আমি এই হাদীছটি শুনিনি।

৪৩ [ক]. আবূ বাকর মুহাম্মাদ ইবনু আবি আইয়ুব আল-মুয়াদদিব আল-কারখ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ফিতর ইবনু হামমাদ ইবনু ওয়াক্বীদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আমার বাবাকে বলতে শুনেছি, আমি মালিক ইবনু দিনারকে বলতে শুনেছি: “লোকেরা বলে মালিক ইবনু দিনার একজন যাহিদ। মালিক ইবনু দিনার কি যাহিদ? প্রকৃতপক্ষে যাহিদ হলেন উমার ইবনু আব্দিল-আযিয, যার কাছে দুনিয়া এসেছিল, কিন্তু তিনি পরিত্যাগ করেছিলেন।”

৪৩ [খ]. আবূ আব্দির রহমান বলেন, আল-কাদ্বী ইয়ানি ইসমাঈল ইবনু ইসহাক্ব বলেছেন, আমি নাদর ইবনু আলিকে বলতে শুনেছি: “আহমাদ ইবনু হান্বল, তাঁর ব্যাপারটা আখিরাত সম্পর্কিত। তিনি ভাল কারণ দুনিয়া তাঁর কাছে এসেছিল কিন্তু তিনি এটাকে নিজের থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন।”

❏ আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী রাহিমাহুল্লাহ্

৪৪. আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদীকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি দাবি করে যে, আল্লাহ্ তা’য়ালা মূসা সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহির সাথে কথা বলেননি, তাকে তওবা করতে বলা হবে। তারপর হয় সে তওবা করবে অথবা তার শিরশ্ছেদ করা হবে।”

৪৫. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনু ইউনূস ইবনু আব্দির রহমান ইবনু মাহদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার চাচা মূসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আমার বাবা আব্দুর রহমান ইবনু মাহদীকে বলতে শুনেছি: “আমি বিশ্বাস করি না যে আমাদের জাহমিয়্যাহদের তওবা করতে বলা উচিত।”

৪৬. হারিন ইবনু আব্দিল্লাহ আল-হামমাল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনু যিয়াদ সাবালান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদীকে বলতে শুনেছি: “যদি আমার কোন ক্ষমতা থাকতো তবে আমি অবশ্যই একটি সেতুর উপর দাঁড়িয়ে থাকতাম, এবং জাহমিয়্যাদের থেকে কেউ আমার পাশ দিয়ে যাবে না, তাকে কুর’আন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা ব্যতীত। তারপরে যদি সে বলে যে এটা মাখলূক, আমি তার মাথায় আঘাত করবো এবং এটিকে পানিতে ফেলে দিবো।”

৪৭. আল-আব্বাস আল-আম্বারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদ ইয়ানি আবূ বাকর ইবনু আল-আসওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি শুনেছি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদীকে ইয়াহইয়া ইবনু সা’ঈদকে বলতে যখন তিনি তাঁর ছাদে ছিলেন: “হে আবূ সা’ঈদ, যদি একটা জাহমী ব্যক্তি মারা যায় এবং আমি তার উত্তরাধিকারী, আমি উত্তরাধিকার সূত্রে তার থেকে পাওয়া কোন কিছুই গ্রহণ করা জায়েয মনে করবো না।”

৪৮. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব আস-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনু হাশিম আত্ব-তুসী আবূ আব্দির রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনু মাহদীকে বলতে শুনেছি: “জাহমিয়্যাহদের তওবার জন্য বলা হবে৷ তারপরে তারা হয় তওবা করবে অথবা তাদের শিরশ্ছেদ করা হবে।”

❏ ইয়াযিদ ইবনু হারুন রাহিমাহুল্লাহ্

৪৯. জন্মচিহ্ন সহ ব্যক্তি ইয়ানি আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু আল-আব্বাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ইয়াযিদ ইবনু হারুনকে বলতে শুনেছি যখন জাহমিয়্যাহ্দের উল্লেখ করা হয়েছিল, সুতরাং তিনি বলেছিলেন: “তারা, আল্লাহ্'র কসম, যানাদিক্বাহ্৷ তাদের উপর আল্লাহ্'র লাণত পড়ুক।”

৫০. মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি শাদ ইবনু ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, এবং তিনি তাকে উত্তম শব্দ দ্বারা প্রশংসা করেছেন, যিনি বলেছেন, ইয়াযিদ ইবনু হারুন তাঁর বাড়িতে আমার নিকট শপথ করে বলেছিলেন: “আল্লাহ্’র কসম, যিনি ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কেউ নয়, অদৃশ্য ও দৃশ্যের আলিম, আর-রাহমান আর-রাহিম, যে বলে যে কুর’আন মাখলূক, সে যিন্দীক।”

৫১. ইবরাহীম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বাশার আল-ওয়াসি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমরা ইয়াযিদ ইবনু হারুনের সাথে ছিলাম যখন শাদ ইবনু ইয়াহইয়া ‘আল মারিসির কিছু ব্যাপার নিয়ে তার সাথে বিতর্ক করছিল, যখন সে তার বিরুদ্ধে [আল্লাহ্কে] আহ্বান করছিল। সুতরাং আমরা আলাদা হয়ে গেলাম— যে ইয়াজিদ বলেছিল: “যে বলে যে কুর’আন মাখলূক, আল্লাহ্’র কসম, যিনি ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য কেউ নেই, সে যিন্দীক।”

৫২. আব্বাস আল আন্বরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, শাদ ইবনু ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ইয়াযিদ ইবনু হারুনকে বলতে শুনেছি: “যে বলে যে কুর’আন মাখলূক, সে কাফির।” এবং শাদ ইবনু ইয়াহইয়া আলি-মারিসিকে লাণত দিতে শুরু করেন।

৫৩. আমার নিকট আবূ জাফর মুহাম্মদ বিন ইসকাব অথবা হুসাইন বিন ইসকাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার বাবাকে বলতে শুনেছি, আমি কাযী ইউসুফকে বলতে শুনেছি— তিনি বলেন, “তোমরা আমার নিকট এমন দুজন সাক্ষী নিয়ে আসো যারা মারিসির বিপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে। আল্লাহ্’র কসম! আমি তার পুরো দেহে বেত্রাঘাত করবো। সে নাকি বলে কুরআন মাখলুক?”

৫৪. আব্বাস আল-আন্বরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, শাদ ইবনু ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ইয়াযিদ ইবনু হারুনকে শুনেছি যখন তাকে বলা হয়েছিল: “জাহমিয়্যাহ্ কারা?” ফলে তিনি বলেছিলেন: “যে কেউ দাবি করে যে আর-রাহমান আরশের উপরে উঠেছেন তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে যা প্রতিষ্ঠি তার চেয়ে আলাদা, সে একটা জাহমি।”

৫৫. ইসহাক্ব ইবনু বুহহিল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ইয়াযিদ ইবনু হারুনকে বললাম: “আমি কি জাহমিয়্যাহ্’দের পিছনে সালাত আদায় করবো?” তিনি বললেন: ‘না।’ আমি বললাম: “আমি কি মূরজিয়াহ্দের পিছনে সালাত আদায় করবো?” তিনি বললেন: ‘প্রকৃতপক্ষে তারা নোংরা সম্প্রদায়।”

❏ আলিমদের একদল রাহিমাহুমুল্লাহ্

৫৬. আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈ’দ আল-কাত্তান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আমার বাবাকে বলতে শুনেছি, আমি মুআয ইবনু মুআযকে বলতে শুনেছি: “যে বলে যে কুরআন মাখলূক, সে কাফির।” আবূ ‘আবদির রহমান বলেন: এবং আমি সত্যই আবূ মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈ’দকে এই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ফলে তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তাঁর বাবা ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈ’দ তাকে মুয়ায ইবনু মুয়াযের নিকট পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা মুখস্থ করিনি। তাই আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ তাঁর পিতার নিকট থেকে আমাকে এই বর্ণনা করেছেন।

৫৭. ইসমাইল ইবনু উবাইদ ইবনু আবি ‘কারিমাহ্ আল-হাররানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি শাবাবাহ্ ইবনু ছাওয়ারকে বলতে শুনেছি: “আমার মত এবং আবূ নাদর হাশিম ইবনু কাসিম এবং একদল আলিমের মত হল যে আমরা সবাই একমত যে আল-মারিসী একটা কাফির জাহিদ, এবং আমরা বিশ্বাস করি যে তাকে তওবা করতে বলা উচিত। তারপর হয় সে তওবা করবে অথবা তার শিরচ্ছেদ করা হবে।”

৫৮. ইসমাঈল ইবনু উবাইদ ইবনু আবি ‘কারিমাহ্ আল-হাররানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি শাবাবাহ্ ইবনু ছাওয়ার এবং 'আব্দুল আযিয ইবনু ‘আবান আল কুরাশী উভয়কে বলতে শুনেছি: “কুরআন আল্লাহ্’ আযযা ওয়া জাল্লা’র কালাম। এবং যে দাবি করে যে এটি মাখলূক, সে একটা কাফির।”

৫৯. মুহাম্মদ ইবনু হারুন আল-হারবি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আবূ তাওবাহ্ আল-হালাবীকে বলতে শুনেছি: “যে বলে যে কুর’আন মাখলূক, তার উপর তাক্বফীর ঘোষণা করা হয়।”

৬০. মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: “আমি নু’আইম ইবনু হাম্মাদকে তাদের উপর তাক্বফীর করতে শুনেছি।” তিনি বলেছেন: “আমি ইবরাহীম ইবনু মাহদীকে তাদের উপর তাক্বফীর করতে শুনেছি।” আবূ নাশিত বলেছেন: “এই কথাগুলো বিশর ইবনু হারিছের কাছে বর্ণিত হয়েছিল, তিনি চুপ ছিলেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেননি৷”

৬১. আমাদের কিছু সাথী— এবং তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আলী ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আমার বাবাকে বলতে শুনেছি, আমি বিশর ইবনু আল-হারিছকে বলতে শুনেছি: "তাদের সাথে বসবে না এবং তাদের সাথে কথা বলবে না। যদি তারা অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে তাদের সাথে দেখা করবে না, এবং যদি তারা মারা যায় তাহলে তাদের [জানাযায়] যোগদান করবে না।’ যদি আপনি তাদের সাথে এই কাজগুলো করেন তাহলে তারা কিভাবে [হক্বের দিকে] ফিরে আসবে?’ তিনি বললেন: ইয়ানি জাহমিয়্যাহ্ [সম্পর্কিত]।

৬২. মুহাম্মাদ ইবনু সাহল ইবনু ‘আসকার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আবূ মারঈয়ামকে বলতে শুনেছি: “যে কেউ দাবি করবে কুর’আন মাখলূক, সে একটা কাফির।”

৬৩. মুহাম্মাদ ইবনু সাহল ইবনু ‘আসকার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ‘আমর ইবনু আর-রাবি ইবনু তারিককে বলতে শুনেছি: “কুর’আন হল আল্লাহ্'র কথা। যে কেউ দাবি করবে কুর’আন মাখলূক, সে একটা কাফির।”

৬৪. মুহাম্মাদ ইবনু সাহল ইবনু ‘আসকার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আসওয়াদ আন-নাদর ইবনু আব্দিল-জাব্বারকে বলতে শুনেছি: “কুর’আন হল আল্লাহ্ ‘আযযা ওয়া জাল্লার কথা। যে কেউ বলবে কুর’আন মাখলূক, সে একটা কাফির। ওগুলো যানাদিকাহদের কথা।”

৬৫. যিয়াদ ইবনু আইয়ুব দাল্লুওয়ায়েহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু ইসমাঈল আল-ওয়াসিতিকে বলতে শুনেছি, যিনি বলেছেন, আমি ‘আব্বাদ ইবনু আল-আওয়ামকে বলতে শুনেছি: “আমি বিশর মারিসি এবং বিশরের আসহাবদের সাথে কথা বলেছিলাম, এবং আমি দেখেছি যে তাদের কথার উপসংহার তাদের এই বলে শেষ হয়েছে যে আকাশে কিছুই নেই।”

৬৬. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মাসউদি আল-কাদি থেকে মুহাম্মদ ইবনু নুহ আল-মাদরুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি হারিন ‘আমির আল-মুমিনিনকে বলতে শুনেছি: “আমার কাছে [সংবাদ] পৌঁছেছে যে বিশর আল-মারিসি দাবি করে যে কুর’আন মাখলূক। আল্লাহ্'র কসম, যদি সে আমাকে তাকে ধরতে দেয়, তাহলে তাকে এমনভাবে হত্যা করবো যে আমি আগে কাউকে হত্যা করিনি।

৬৭. হারিন ইবনু ‘আব্দিল্লাহ আল-হামমাল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হারিন ইবনু মা’রুফ আমকে বলেছেন: “যে কেউ বলে যে কুর’আন মাখলূক, সে একটি প্রতিমার ইবাদাত করছে।” তারপর তিনি আমাকে বললেন: “আমার কাছ থেকে এটি পৌঁছে দিন।”

৬৮. হাসাইন ইবনু ‘আলী ইবনু ইয়াযিদ আস-সুদাঈ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈনকে বলতে শুনেছি: “যে কেউ বলবে কুর’আন মাখলূক, সে একটা কাফির।”

৬৯. ইবরাহীম ইবনু ‘আব্দিল্লাহ ইবনু বাশার আল-ওয়াসিতি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, একজন শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, একজন লোক হুশাইমকে বললেন: “সত্যই ফুলান বলে: কুর’আন মাখলূক।” সুতরাং তিনি বললেন: “তার কাছে যাও এবং তার নিকটে আল-হাদীদের প্রথম অংশ এবং আল-হাশরের শেষ অংশটি পড়ো। যদি সে দাবি করে যে এই দু্টি মাখলূক, তাহলে তার শিরশ্ছেদ করো।” তিনি বলেছেন: “অতএব আমি আবূ হাশিম আল-গাসসানীর কাছে গেলাম এবং তাকে লোকটির কথাটি সম্পর্কে অবহিত করলাম, সুতরাং তিনি আমাকে হুশাইমের মতোই বললেন। তিনি কিছু যোগ বা অপসারণ করেননি।

৭০. আব্বাস আল-আনবারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আলী ইবনু ‘আব্দিল্লাহ আল-মাদানীকে বলতে শুনেছি, আমি বিশর ইবনু আল-মুফাদদালকে বলতে শুনেছি যখন ইবনু খালুবার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তিনি বললেন: “সে সর্বশক্তিমান আল্লাহ’য় কাফির।”

৭১. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আছ-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আবূ ‘উবাইদকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি বলে যে কুর’আন মাখলূক, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে এবং তাঁর সম্পর্কে [এমন কিছু] বলেছে যা ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টানরাও বলে নাই।

৭২. ইসহাক ইবনু আল-বুহলীল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আনাস ইবনু ইয়াদ আবূ দামরাহকে বললাম: “আমি কি জাহমিয়্যাদের পিছনে সালাত পড়ব?” তিনি বললেন: “না।”

“আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে কক্ষনো তার সেই দ্বীন কবূল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
[সূরা আলে ইমরান: ৮৫]

৭৩ [ক]. আহমাদ ইবনু আদ-দাওরাকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি যুহাইর ইবনু আল-বাবীকে বলতে শুনেছি: “যদি তুমি নিশ্চিত হও যে সে একটা জাহমী, তাহলে তুমি তার [পিছনে যে সালাত আদায় করেছিলে] জুমু’আহ এবং এ ছাড়া অন্যগুলো, তা পুনরায় আদায় করবে।”

৭৩ [খ]. এবং খোরাসানের লোকদের একজন শাইখ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, যখন ইবনু ‘উলাইইয়া [কুরআন প্রসঙ্গে] কথা বলেছিল তখন আমি আল- হাজ্জাজ আল-‘আওয়ারকে বলেছিলাম: “আমাদের বুঝিয়ে বলুন, আমাদের শেখান, তারা [এটি] মাখলূক বলে কি বুঝাচ্ছে?” তিনি বলেছিলেন: “তারা বুঝাচ্ছে যে তিনি কিছুই নন।” তিনি আরেকবার বললেন: “আমি আল-হাজ্জাজকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যারা বলে যে কুর’আন মাখলূক; তারা কি বুঝাতে চাচ্ছে?” তিনি বললেন: “আত-তা’তীল।”

৭৪. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব আস-ছাগানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবূ হাতিম আত-তাওয়ীল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবূ তৈয়বের ভাই হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: “আমরা ‘ঈসা ইবনু ইউনূসের সাথে ছিলাম যখন একজন লোক তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল ‘যে বলে কুর’আন মাখলূক’, তখন তিনি বললেন: “কাফির।” অথবা: “সে কুফরী করেছে।”

৭৫. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ-দাওরাকি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি আবূ উবাইদ আল-কাসিম ইবনু সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যদি জুমু’আর দিনে পঞ্চাশজন লোক সালাতে নেতৃত্ব দেয়— যারা বলে না যে কুর’আন মাখলূক, যখন তারা একে অপরকে সালাতের নেতৃত্ব দেওয়ার আদেশ দেয়, তবে যে ইমাম তাদের উপর আদেশ দেয়— এটা বলে [কুর’আন মাখলূক], তাহলে আমি বিশ্বাস করি যে এটি পুনরায় পড়া উচিত, কারণ জুমা’আর সালাত ইমাম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।” অতঃপর আমি আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্কে আবী ‘উবাইদের কথা সম্পর্কে অবহিত করেছিলাম, ফলে তিনি বলেছিলেন: “এটি জিনিসগুলোকে লোকদের জন্য খুব কঠিন করে তোলে। যে আমাদের সালাতের নেতৃত্ব দেয়, সে যদি এইসব কথা না বলে, আমি তার পিছনে সালাত আদায় করতাম। কিন্তু যে আমাদের সালাতের নেতৃত্ব দেয়, [সে যদি] এসব বক্তব্যের একটাও বলে, তাহলে আমি তার পিছনে [পড়া] সালাতটি পুনরায় পড়তাম।”

৭৬. আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে যখন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হারুন আল-মামূন প্রকাশ্যে যা দেখিয়েছে তা দেখিয়েছে, ইয়ানি কুর’আন মাখলূক তখন থেকে আমি জুমু’আর সালাত পুনরায় আদায় করি।”

৭৭. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনু আল-হাসান ইবনু শাকিক্ব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি খারিজাহকে বলতে শুনেছি: “জাহমিয়ারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ক্বিতাবের বেশ কয়েকটি স্থানে কুফর করেছে। তাদের ক্বওল: প্রকৃতপক্ষে জান্নাতের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে, যেখানে আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: “এ হল আমার দেয়া রিযক্ব, যা কখনও ফুরাবে না” [সূরা সা’দ: ৫৪ নং আয়াত]। অতএব যে বলে এটা শেষ হয়ে যাবে, কুফরী করেছে। এবং তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: “তার ফলফলাদি চিরস্থায়ী, এবং এর ছায়াও” [সূরা রা’দ: ৩৫ নং আয়াত]। অতএব যে কেউ বলে যে এটি স্থায়ী হবে না সে প্রকৃতপক্ষে কুফরী করেছে। এবং তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: “এ হল এক ধ্বংস ছাড়া পুরষ্কার” [সূরা হুদ: ১০৮ নং আয়াত]। অতএব যে কেউ বলে যে এটি শেষ করে দেওয়া হবে সে প্রকৃতপক্ষে কুফরী করেছে। এবং তিনি বলেছেন: “যা কখনও শেষ হবে না, কখনও নিষিদ্ধ হবে না” [সূরা ওয়াক্বীয়া: ৩৩ নং আয়াত]। অতএব যে কেউ বলে যে এটি শেষ করে দেওয়া হবে সে প্রকৃতপক্ষে কুফরী করেছে।”

৭৮ [ক]. আমার বাবা রাহিমাহুল্লাহ্ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমরা এটি ইবনু ‘উলাইইয়া থেকে শুনেছি এবং মানসূর ইবনু ‘আমমার তাঁর কাছে এসেছিলেন, তাই ইবনু উলাইইয়া বলেছিলেন: “যে বলে যে কুর’আন মাখলূক, সে একটা বিদ’য়াতী।”

৭৮ [খ]. এবং আবূ বাকর আল-আইয়ান উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইউসূফ আল-ফিরিয়াবীকে বলতে শুনেছি: “যে বলে যে কুর’আন মাখলূক, সে একটা কাফির।”

বঙ্গানুবাদ: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ রাকিব খান।
 
Top