অন্যান্য ইসলামের আলোকে ভাষার গুরুত্ব।

Joined
May 20, 2024
Threads
34
Comments
61
Reactions
461
ইসলামের আলোকে ভাষার গুরুত্ব।
ভূমিকা: ভাষা মানবজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। চিন্তা, জ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশ ভাষার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। ইসলাম ভাষাকে শুধু যোগাযোগের উপায় হিসেবে নয়; বরং আল্লাহপ্রদত্ত এক বিশেষ দান, দাওয়াহর হাতিয়ার এবং ইবাদতের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। পবিত্র আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে ভাষার মর্যাদা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান।

ভাষা: আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত: এই মর্মে বিশ্ব সৃষ্টি কর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:
الرَّحْمٰنُ ۝ عَلَّمَ الْقُرْآنَ ۝ خَلَقَ الْإِنسَانَ ۝ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ
“পরম করুণাময়, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাষা (বাকশক্তি) শিখিয়েছেন। (সূরা আর-রহমান ৫৫:১–৪)।
উল্লেখিত আয়াতে “আল বায়ান” শব্দ ব্যবহিত হয়েছে, এর অর্থ হচ্ছে ভাষাশক্তি, যা মানুষের ভাবনা ও চিন্তা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম।

ইসলাম প্রচার ও প্রসারে ভাষার ভূমিকা: ইসলাম প্রচার ও প্রসারে ভাষার ভূমিকা অপরিসীম। বিশ্ব পালনকর্তা আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ
“আমি প্রত্যেক রাসূলকে তার কওমের ভাষাতেই প্রেরণ করেছি।”(সূরা ইবরাহীম ১৪:৪)।
উক্ত আয়াত প্রমাণ করে যে, মানুষকে হেদায়েত দিতে হলে তার ভাষায় কথা বলা অপরিহার্য। একজন দায়ীর কর্তব্য স্বজাতির ভাষা শেখা।

পবিত্র আল কুরআনের ভাষা: পবিত্র আল কুরআনের ভাষা আরবী, পবিত্র আল কুরআন নাযিল হয়েছে আরবি ভাষায়। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:
الر ۚ تِلكَ ءايٰتُ الكِتٰبِ المُبينِ، إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا
আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত।আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।(সূরা ইউসুফ ১২:২)
আরবি ভাষা ইসলামী জ্ঞানের মূলভিত্তি। তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আকীদার প্রকৃত উপলব্ধির জন্য আরবি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসলাম অন্য ভাষাকে অস্বীকার করেনি; বরং ভাষাগত বৈচিত্র্যকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন:
وَمِن ءايٰتِهِ خَلقُ السَّمٰوٰتِ وَالأَرضِ وَاختِلٰفُ أَلسِنَتِكُم وَأَلوٰنِكُم ۚ إِنَّ فى ذٰلِكَ لَءايٰتٍ لِلعٰلِمينَ
তাঁর আর ও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সূরা রূম ৩০:২২)।

ভাষার নৈতিক ব্যবহার: বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে। (সহীহ আল বুখারী: ৬০১৮)।
ভাষা মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে, আবার ধ্বংসও ডেকে আনতে পারে। গীবত, অপবাদ, মিথ্যা ও কটূক্তি সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে, উপদেশ, যিকর, জ্ঞানচর্চা ও সত্যকথন সমাজকে আলোকিত করে। অতএব ভাষা ব্যবহারে সংযম ও সতর্কতা ঈমানের দাবি।

আধুনিক যুগে ভাষার দায়িত্ব: বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্লগ, ইউটিউব ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে ভাষার প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতএব একজন সচেতন মুসলিম লেখক ও বুদ্ধিজীবীর দায়িত্ব: জাতির ভাষার উপর দক্ষতা অর্জন করে স্বজাতির মাঝে ইসলামের দাওয়াত, আকিদা, নৈতিকতা প্রচার ও প্রসার করা।

উপসংহার: ইসলামের আলোকে ভাষা আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামত, হেদায়েতের মাধ্যম, ইলমের বাহন ও নৈতিক দায়িত্বের ক্ষেত্র। সুতরাং আমাদের কর্তব্য ভাষাকে শুদ্ধ করা, সংযত রাখা এবং দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত করা। ভাষার সঠিক ব্যবহার ব্যক্তি, সমাজ ও উম্মাহকে আলোকিত করতে পারে।
 
Similar content Most view View more
Back
Top