• আমি সমাজের লোকজনের ভুলভাল বোঝানোর কারনে ইসলামকে আমার জীবনের ১৬ বছর বয়স অব্ধি সেইভাবে খুব একটা পছন্দও করতাম না। যেমন- এই মেয়েদেরকে বঞ্চিত মত করে সবসময় ইসলামকে কিছু মানুষের ভুল বোঝানো, আর সেইগুলোকেই সত্যি ভেবে। পরে আমি যখন নিজে ইসলামের ব্যাখাগুলো বাংলাতে পড়ি, তখন আমি ইসলামের প্রেমে পড়ে যাই। আর তারপর থেকেই ইসলাম মানার প্রতি আমার মন নরম আর বিনয়ী হয়ে যায়।

    আলহামদুলিল্লাহ!
    সবথেকে বড় জিহাদ হলোঃ নিজের কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে নিজের জিহাদ, সেই প্রবৃত্তি নিজের অনেক ভালোলাগার হলেও।
    "মরণশীলতার ঊর্ধ্বে যদি কোনো কিছুর অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তা হলেন সৃষ্টিকর্তা—আল্লাহ।”
    [রজত বোস]
    কখন বুঝবেন যে, আল্লাহ সত্যিই আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসেন?

    যখন দেখবেন যে, কোনো কিছু আপনি মনে মনে চাচ্ছেন, তখনও কাউকে বলেননি, এমনকি তখনও দুয়াতেও বলা শুরু করেননি, তবুও আল্লাহ পাক আপনার মনের সেই ইচ্ছাটাকে পূরণ করে দিলেন। আরও যখন দেখবেন যে, আল্লাহ নিজেই আপনাকে যেকোনোভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ার থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন, হোক সে আপনাকে অনেক বেশি কষ্ট পাইয়ে হলেও। তখন বুঝবেন, যে, আল্লাহ পাক সত্যিই আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসেন।
    কথাগুলো বলতে গিয়ে আমার নিজেরই চোখ দিয়ে অশ্রু এসে গেল! সুবহানআল্লাহ!
    "যার সাথে থাকলে গুনাহ করতে লজ্জা লাগে, এমন সঙ্গী গ্রহণ করা উচিত! এবং যার সাথে থাকলে ইবাদত করতে সংকোচ লাগে, এমন সঙ্গী পরিহার করা উচিত!"

    — [শাইখ আতিক উল্লাহ হাফি:]
    কখনোই কোনো কিছুকে আল্লাহর থেকে বেশি ভালোবাসবেন না। কারন আল্লাহ বলেছেন, “যে জিনিসকেই তুমি আল্লাহর থেকে বেশি ভালোবাসবে, তার দ্বারাই তুমি সবথেকে বেশি কষ্টটা পাবে”।
    إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ ۚ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

    নিশ্চয়ই তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে হিদায়াত দিতে পারবে না;
    বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকেই হিদায়াত দেন।
    আর কারা সৎপথপ্রাপ্ত—তিনি তাদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।”
    [সুরা আল-কাসাস, আয়াত: ৫৬]
    আমাদের খুব ভালোবাসার কেউ, যাকে আমরা খুব চেয়েছিলাম এমন, যখন আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায়, তখন আমরা অত্যন্ত কষ্ট পাই। কিন্তু, তখন আমরা ভুলে যাই যে, অবশ্যই আল্লাহ পাক যিনি আমার রব, তিনি সবথেকে ভালো জানেন, যে, কোন্‌টা আমার জন্য কল্যাণকর, আর কোন্‌টা কল্যাণকর না। আর তাই তো তিনি কিছু মানুষকে আমাদের জীবন থেকে সরিয়ে দেন। আর তা প্রতিস্থাপিত করে দেন, এমন কিছু দিয়ে যা সত্যিই আমাদের জন্য এত বেশি কল্যাণকর, যা হয়ত আমাদের কল্পনারও বাইরে। কারন – আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন যে, “অবশ্যই তুমি পাবে, যা তুমি হারিয়েছ, তার চাইতে উত্তম”। আর আল্লাহই সর্বাধিক ওয়াদা রক্ষাকারী। এই জন্য আল্লাহর পরিকল্পনার ওপরে ভরসা রাখতে হয়, কারন অবশ্যই এটাও আল্লাহর ওয়াদা, যে, “শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দিবেন, যে তুমি তাতে খুশী হয়ে যাবে”।
    يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ
    ارْجِعِي إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً
    فَادْخُلِي فِي عِبَادِي
    وَادْخُلِي جَنَّتِي

    ইয়া আইয়্যাতুহান নাফসুল মুতমাইন্নাহ্,
    ইরজিঈ ইলা রাব্বিকি রাদিয়াতাম মারদিয়্যাহ্,
    ফাদখুলি ফি ‘ইবাদী,
    ওয়াদখুলি জান্নাতী।

    “হে প্রশান্ত আত্মা!
    তুমি সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন অবস্থায় তোমার রবের নিকটে ফিরে যাও।
    অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও
    এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।”

    [সুরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭-৩০]
    যে কথাগুলো আমার অন্তর কাঁপিয়ে দেয়ঃ-

    হেদায়াত আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যেটা আল্লাহ দয়া করে, মায়া করে, ভালোবেসে দান করেন। আর হেদায়াতের পথে টিকে থাকতে হয়, নিজের সাথে, নিজের নফসের সাথে যুদ্ধ করে। যেটা সবাই পারে না, আর তাই তো তারা হিদায়াত থেকে ছিটকে পড়ে। পড়ে যায় নফসের ধোঁকায়, শয়তানের কু-মন্ত্রনায়। কারন - পরীক্ষা তো আসবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই, হেদায়াত পাওয়া যতটা সহজ, হিদায়াতের পথে টিকে থাকা ঠিক ততটাই কঠিন। হেদায়াতের পথে টিকে থাকতে গেলে নিজের সাথে নিজে লড়াই করে যেতে হয় মৃত্যু পর্যন্ত।

    اللَّهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
    আল্লাহুম্মা ইয়্যা মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বালবি ‘আলা দীনিক।
    অর্থঃ হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর সুদৃঢ় করে রাখো।

    আমীন, ইয়া রব! সুম্মা আমীন!
    দুনিয়ার জীবনের কালো দিকগুলো যখন তুমি বুঝে যাবে, তখন তোমার থেকে দুনিয়ার প্রতি মোহমায়া কমে যাবে। আর তখনই তুমি উপলব্ধি করতে পারবে যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর সত্যিকারের নিঃস্বার্থ ভাবে কেউই তোমার ভালোবাসেনা। আর আল্লাহর মত করে কেউই তোমায় বোঝে না। একমাত্র আল্লাহই জীবনের শেষ গন্তব্য! আর একমাত্র আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনেই জীবনের আসল শান্তি।
  • Loading…
  • Loading…
  • Loading…
Back
Top