সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
Joynal Bin Tofajjal

উসূলুল হাদিস রাবী পরিচিতি - ৭

Joynal Bin Tofajjal

Student Of Knowledge

Forum Staff
Moderator
Uploader
Exposer
HistoryLover
Salafi User
Threads
327
Comments
456
Solutions
1
Reactions
4,314
Credit
5,761
আলী ইবনু যায়েদ ইবনু জুদ‘আন
ভূমিকা

আলী ইবনু যায়েদ ইবনে জুদ‘আন একজন প্রসিদ্ধ রাবী। তার অনেকগুলো হাদীছ ও রেওয়ায়াত বিভিন্ন গ্রন্থের একাধিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে। তিনি যঈফ রাবী নাকি ছিক্বাহ রাবী তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। আমরা আমাদের আলোচ্য নিবন্ধে প্রমাণ করব তার ব্যাপারে সঠিক অবস্থান।

নাম : তিনি হলেন আলী ইবনু যায়েদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবূ মুলায়কা যুহাইর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুদ‘আন আত-তায়মী, আবুল হাসান আল-বাছরী। তিনি একজন অন্ধ ফক্বীহ ছিলেন। কিন্তু তিনি ছিক্বাহ এবং শক্তিশালী রাবী ছিলেন না।[1]

উস্তাযগণ : তিনি অসংখ্য উস্তায থেকে হাদীছ শ্রবণ করেছেন। তন্মধ্যে আনাস ইবনু মালেক, উছমান নাহদী, সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব এবং তাবেঈদের একটি জামাআত সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

ছাত্রগণ : তার উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের কতিপয় হলেন ক্বতাদা, ইবনু আউন, উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার, সুফিয়ান ছাওরী, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা, হাম্মাদ ইবনু সুলায়মান, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, শু‘বাহ, ইবনু আবী আরূবাহসহ আরও অনেকেই।[2]


হাদীছের রাবী হিসেবে ইমামদের দৃষ্টিতে তার অবস্থান


ফিক্বহে তিনি বিশেষ খ্যাতি লাভ করলেও হাদীছের রাবী হিসেবে ছিলেন যথেষ্ট দুর্বল। এ ব্যাপারে ইমামদের অভিমত নিম্নে প্রদত্ত হলো—

অভিমত—১ : ইমাম শাওক্বানী বলেছেন,فِي عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ مَقَالٌ مَعْرُوفٌ ‘আলী ইবনু যায়েদ ইবনু জুদ‘আনের ব্যাপারে সমালোচনাগুলো প্রসিদ্ধ’।[3] অন্যত্র তিনি তাকে যঈফ বলেছেন।[4]

অভিমত—২ : ইমাম নাসাঈ বলেছেন,عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ ضَعِيفٌ ‘আলী ইবনু যায়েদ একজন যঈফ রাবী’।[5]

অভিমত—৩ : হানাফী ইমাম আল্লামা ইবনুত তুরকুমানী তার যঈফ রাবী হওয়ার ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন।[6]

অভিমত—৪ : ইমাম দারাকুত্বনী তাকে বিতর্কিত রাবী বলেছেন।[7]

অভিমত—৫ : ইমাম বায়হাক্বী ‘তিনি শক্তিশালী রাবী নন’ বলেছেন।[8]

অভিমত—৬ : ইমাম ইবনু ক্বাছীর তাকে যঈফ বলেছেন।[9] এছাড়াও হাফেয যাহাবী ,[10] ইমাম ইবনু সা‘দ ,[11] ইমাম ইজলী [12] প্রমুখ বিদ্বানগণ তাকে যঈফ ও সমালোচিত রাবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম ইবনু হিব্বান তার সম্পর্কে চমৎকার বলেছেন,

كَانَ شَيخا جَلِيلًا وَكَانَ يهم فِي الْأَخْبَار ويخطء فِي الْآثَار حَتَّى كثر ذَلِك فِي أخباره وَتبين فِيهَا الْمَنَاكِير الَّتِي يَرْوِيهَا عَن الْمَشَاهِير فَاسْتحقَّ ترك الِاحْتِجَاج بِهِ.​

‘তিনি একজন জালীলুল ক্বদর শায়েখ ছিলেন। তিনি ইতিহাস বর্ণনায় ভ্রমে পতিত হতেন। হাদীছ বর্ণনায় ভুল করতেন। এভাবে তিনি ইতিহাস বর্ণনায় প্রচুর পরিমাণে ভুল করতে লাগলেন। আর তিনি প্রসিদ্ধ রাবীদের থেকে যে সকল বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন সেগুলোর মুনকার হওয়া স্পষ্ট হয়ে গেল। ফলে তার দ্বারা দলীল পেশ করা বর্জিত হয়ে গেল’।[13]

আলী ইবনু যায়েদ -এর হাদীছ : তিনি বেশ কিছু ছহীহ হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তবে তার যঈফ হাদীছের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। নিচে একটি যঈফ হাদীছ নমুনা হিসেবে প্রদত্ত হলো।—

عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ الْجَالِبُ مَرْزُوقٌ وَالْمُحْتَكِرُ مَلْعُونٌ.​

‘আমদানী পণ্য সরবরাহকারী ব্যবসায়ী রিযিক্বপ্রাপ্ত হয় এবং মজুতদার অভিশপ্ত হয়’।[14]

তাহক্বীক্ব : শায়েখ আলবানী যঈফ বলেছেন।[15]

মৃত্যু : তিনি ১২৯ হিজরীতে মারা গিয়েছেন।[16] আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার উপর রহম করুন। আমীন।

উপসংহার

উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, প্রসিদ্ধ রাবী আলী ইবনু যায়েদ ইবনে জুদ‘আন একজন যঈফ রাবী ছিলেন। সুতরাং তার বর্ণনা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!


[1]. তাহযীবুত তাহযীব, ৭/৩২২।
[2]. তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত, রাবী নং ৪২৮।
[3]. ফাতহুল ক্বাদীর, ৪/৭৭।
[4]. ফাতহুল ক্বাদীর, ৪/৪৬৭।
[5]. নাসাঈ, হা/৩৮৫০।
[6]. আল-জাওহারুন নাকী, ১/৫৩।
[7]. আল-ই‘লালুল ওয়ারিদাহ, ৪/১৩৩।
[8] মুখতাছার খেলাফিয়্যাত, ১/১৮৬।
[9]. মু‘জিযাতুন নবী a, পৃ. ২৪৯।
[10]. তারীখুল ইসলাম, ১/৫০১।
[11]. তাবাক্বাত ইবনু সা‘দ, রাবী নং ৩১৯৫।
[12]. আছ-ছিক্বাত, রাবী নং ১১৮৬।
[13]. ইবনু হিব্বান, আল-মাজরূহীন, রাবী নং ৬৭৩।
[14]. ইবনু মাজাহ, হা/২১৫৩।
[15]. তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/২৮৯৩; যঈফ তারগীব, হা/১১০১।
[16]. তাহযীবুত তাহযীব, ৭/৩২২।
 
Last edited:
Top