হজ্জ ও উমরাহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-উসাইমীন (রাহি.)
অনুবাদ : মুহাম্মদ রশীদ
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
- শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-উসাইমীন (রাহি.)
অনুবাদ : মুহাম্মদ রশীদ
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি এই নিখিল বিশ্বের মালিক। দরূদ ও সালাম শেষনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর বংশধর এবং সাহাবীগণের প্রতি।
নিশ্চয়ই হজ্জ অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। কেননা, তা ইসলামের ৫ম স্তম্ভ বা ভিত্তি। যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন। যা ব্যতীত কারো ঈমান ও দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না।
ইবাদত কবুল হওয়ার দু’টি শর্তঃ
ইখলাস অর্থাৎ সকল কাজ একমাত্র আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে করা; যাতে লোক দেখানো, প্রশংসা অর্জন, অথবা দুনিয়া পাওয়ার লোভ লেশ মাত্রও থাকবে না।
কথা এবং কাজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রদর্শিত পথের অনুসারে হতে হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করতে হলে হাদীসের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
হজ্জের প্রকারভেদ
হজ্জ তিন প্রকারঃ (১) তামাত্তু’ (২) ইফরাদ (৩) ক্বিরান।
হজ্জে তামাত্তুঃ হজ্জ মৌসুমে শুধু উমরাহের ইহরাম বেঁধে তাওয়াফ এবং সা‘ঈ করে (ছাফা মারওয়ার দৌড়কে সা‘ঈ বলে) মাথার চুল মুণ্ডন অথবা খাটো করে হালাল হয়ে যাবে। পরে ৮ই জিলহজ্জ শুধু হজ্জের জন্যে ইহরাম বেঁধে হজ্জের সকল কাজ সমাধা করবে।
হজ্জে ইফরাদঃ শুধু হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং মক্কায় পৌঁছে তাওয়াফে কুদূম বা আগমনী তাওয়াফ ও হজ্জের সা‘ঈ করে নিবে। কিন্তু হজ্জে ইফরাদকারী ১০ই জিলহজ্জ ঈদের দিন জামরায়ে আকাবায় পাথর মারা পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকবে। পাথর মেরে হালাল হবে। যদি কেহ সা‘ঈকে হজ্জের তাওয়াফের পরে নিয়ে যায় তাহলে কোনো ক্ষতি নেই।
হজ্জে ক্বিরানঃ উমরাহ্ ও হজ্জের জন্য একসাথে ইহরাম বাঁধবে অথবা প্রথমে উমরাহের জন্য ইহরাম বাঁধবে পরে তাওয়াফ শুরূ করার পূর্বেই হজ্জকে শামিল করে নিবে। ইফরাদকারীর যে কাজ তারও একই কাজ তবে ক্বিরানকারীকে কোরবানী করতে হবে। আর ইফরাদকারীকে কোরবানী করতে হবে না।
উপরোল্লেখিত তিন প্রকারের মধ্যে তামাত্তু হল সবচেয়ে উত্তম। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে তামাত্তু করার আদেশ করেছিলেন। এমনকি কেউ যদি তাওয়াফ ও সা‘ঈ করে ফেলে তবুও সে তামাত্তু করতে পারে। কেননা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সা‘ঈ করার পর সাহাবীদেরকে তামাত্তু করার হুকুম দিলেন এবং বললেন যে যাদের সাথে কোরবানীর জন্তু নেই তারা যেন তামাত্তু করে। তিনি আরও বললেন যে, যদি আমার সাথে কোরবানীর জন্তু না থাকত তাহলে আমিও তাই করতাম যা করতে তোমাদের বলেছি।
উমরাহের বিবরণঃ
উমরাহকারী প্রথমে গোসল করবে, সুগন্ধি আতর দাড়ী ও মাথায় লাগাবে। ইহরামের কাপড় পরিধানের পর যদিও আতরের চিহ্ন বাকী তাকে তাহলেও কোনো ক্ষতি নেই। সকল নারী-পুরুষ এমনকি ঋতুবতী ও নেফাসওয়ালী মেয়েলোকের জন্যও সুন্নত। গোসলের পর ঋতুবতী ও নেফাসওয়ালী মহিলা ছাড়া সকলেই ফরয সালাতের সময় হলে ফরয সালাত আর না হয় দু’রাকাত সুন্নত সালাত তাহিয়্যাতুল ওজুর নিয়তে পড়বে। সালাত শেষে ইহরাম পরিধান করবে এবং তালবিয়া পাঠ করবে। আর তালবিয়া হলঃ
«لبيك عمرة لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك»
উচ্চারণঃ লাব্বাইক উমরাতান। লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইকা, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা-শারিকা লাকা।
অর্থঃ ‘‘উমরাহ আদায়ের জন্যে আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছি, আমি তোমার দরবারে হাজির, হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাজির, তোমার দরবারে হাজির, তোমার কোনো অংশীদার নেই। আমি তোমার দরবারে হাজির। নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নিয়ামত এবং রাজত্ব তোমারই, তোমার কোনো অংশীদার নেই।’’
পুরুষেরা উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে। আর মহিলারা এমনভাবে পাঠ করবে যেন তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তি শুনতে পায়। ইহরাম বাঁধার পর বেশী বেশী করে তালবিয়া পাঠ করবে। বিশেষ করে উঁচু স্থানে উঠতে বা নিচে নামতে, রাত অথবা দিনের আগমনে বেশী বেশী করে তালবিয়া পাঠ করবে এবং আল্লাহর কাছে তাঁর সন্তুষ্টি লাভ ও জান্নাতের জন্য মোনাজাত করবে। জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। ইহরাম বাঁধা থেকে নিয়ে তাওয়াফ শুরু করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করবে। তবে হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা থেকে নিয়ে ঈদের দিন জামরাতুল আকাবায় পাথর মারা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করবে। যখন হারামে প্রবেশ করবে তখন ডান পা প্রথমে রাখবে এবং এ দো‘আ পড়বেঃ
«بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، اللهم اغفرلي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وبسلطانه القديم من الشيطان الرجيم»
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহ আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনূবী ওয়াফ্তাহলী আবওয়া-বা রাহমাতিকা, আঊযুবিল্লাহিল্ আযীমি ওয়া বিওয়াজহিহিল্ কারীমি ওয়া বিসুলতানিহিল কাদীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম।
অর্থঃ ‘‘আল্লাহর নামে। সালাত ও সালম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের উপর। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ্সমূহ মাফ করো। এবং তোমার রহমতের দরজাগুলো আমার জন্য খুলে দাও। আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর মহিয়ান সত্তা ও সনাতন রাজত্বের ওসিলায় বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’’
এরপর তাওয়াফ শুরু করার জন্য হাজরে আসওয়াদের নিকট গিয়ে ডান হাত দিয়ে হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করতঃ চুম্বন করবে। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে হাত দিয়ে ইশারা করবে, চুম্বন করবে না। কারণ চুমু দিতে গিয়ে অন্যকে কষ্ট দেয়া যাবে না। চুমু অথবা ইশারা করার সময় এ দো‘আ পড়বেঃ
«بسم الله والله أكبر اللهم إيمانا بك وتصديقا بكتابك ووفاء بعهدك وإتّباعا لسنّة نبيّك محمد صلى الله عليه وسلم»
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার, আল্লা-হুম্মা ঈমা-নামবিকা ওয়া তাসদীক্বাম বিকিতা-বিকা ওয়া ওয়াফা-আন বি আহদিকা ওয়া ইত্তিবা-আন লিসুন্নাতি নাবিইয়্যিকা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’’।
অর্থঃ ‘‘আল্লাহর নামে, আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ ! তোমার উপর ঈমান রেখে, তোমার কিতাবকে (কুরআন) সত্যায়ন করে, তোমার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করে এবং তোমার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের অনুসরণ করে (তাওয়াফ আদায় করছি)।’’
এবং তাওয়াফ শুরু করবে। অতঃপর রুকনে ইয়ামানিতে আসলে হাত দ্বারা স্পর্শ করবে, চুম্বন করবে না আর রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যস্থলে এ দো‘আ পড়বেঃ
﴿رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ٢٠١ ﴾ [البقرة: ٢٠١]
«اللهم إنّي أسئلك العفو والعافية في الدنيا والآخرة»
«اللهم إنّي أسئلك العفو والعافية في الدنيا والآخرة»
উচ্চারণঃ রাববানা- আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতান ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াত ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।’’
অর্থঃ ‘‘হে আমাদের রব, তুমি আমাদেরকে দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ দান করো এবং জাহান্নামের আযাব হতে মুক্তি দান করো।
হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ ও নিরাপত্তা ভিক্ষা চাই।’’
যখনই হাজরে আসওয়াদের কাছে আসবে তখনি হাত দ্বারা ইশারা অথবা চুমু দিয়ে তাকবীর বলবে। আর বাকী তাওয়াফে নিজ ইচ্ছানুযায়ী যিকর, তিলাওয়াত ও দো‘আ করতে থাকবে। কেননা, কা‘বা ঘরের তাওয়াফ, ছাফা-মারওয়ার সা‘ঈ এবং জামারায় পাথর নিক্ষেপে আল্লাহ তা‘আলার যিকরই উদ্দেশ্য। আর এ তাওয়াফ অর্থাৎ আগমনী তাওয়াফে পুরুষের জন্য দু’টি কাজ করতে হবে।
- ইদ্বতিবা, অর্থাৎ তাওয়াফকারী গায়ের চাদরের মধ্যভাগ ডান কাঁধের নিচে রেখে উভয় কিনারা বাম কাঁধের উপর রাখবে। তাওয়াফ শেষ হওয়ার পর পূর্বের মত চাদর গায়ে দিবে। কেননা ইদ্বতিবা শুধু তাওয়াফেই করতে হয়।
- তাওয়াফের প্রথম তিন চক্রে রমল অর্থাৎ ছোট ছোট কদমে কিছুটা দ্রুতগতিতে চলবে এবং বাকী চার চক্রে স্বাভাবিক গতিতে চলবে। যখন তাওয়াফ শেষ হয়ে যাবে তখন এ আয়াতটি পড়বেঃ
﴿وَٱتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبۡرَٰهِۧمَ مُصَلّٗىۖ ﴾ [البقرة: ١٢٥]
উচ্চারণঃ (ওয়াত্তাখিযু মিম মাক্বা-মি ইবরাহীমা মোসাল্লা)
অর্থাৎ ‘‘এবং তোমরা মাক্বামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান বানাও’’
এবং সূরা ফাতিহার পর প্রথম রাকা‘আতে সূরায়ে কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরাতুল ইখলাছ পাঠ করে দু’রাকাআত সালাত মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে পড়বে। সালাত শেষে সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে গিয়ে স্পর্শ করবে। এরপর ছাফা পাহাড়ের দিকে যাবে। যখন ছাফার নিকটবর্তী হবে তখন এ আয়াতটি পাঠ করবেঃ
﴿ ۞إِنَّ ٱلصَّفَا وَٱلۡمَرۡوَةَ مِن شَعَآئِرِ ٱللَّهِۖ﴾ [البقرة: ١٥٨]
উচ্চারণঃ ইন্নাচ্ছাফা- ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আ-ইরিল্লা-হ
অর্থঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা এবং মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত।’’
তারপর সাফা পাহাড়ে উঠে কা‘বার দিকে মুখ করে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করে নিজ ইচ্ছা মত দো‘আ করবে। এ স্থলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নলিখিত দো‘আ করতেনঃ
«لا إله إلا الله وحمه لا شريك له ، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير - لا إله إلا الله وحده انجز وعده ونصر عبده وهزم الأحزاب وحده»
উচ্চারণঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা-কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদীর। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়া‘দাহু ওয়া নাছারা আবদাহূ ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহূ।
অর্থঃ ‘‘আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোনো মা‘বুদ নেই। তিনি একা। তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং তাঁরই জন্যে সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোনো মা‘বুদ নেই। তিনি একা। তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং সবক’টি দলকে একাই পরাজিত করেছেন।’’
এই দো‘আটি তিনবার পড়বে। এবং এর সাথে অন্যান্য দো‘আও করবে। এরপর সাফা থেকে নেমে মারওয়ার দিকে চলবে। যখন সবুজ চিহ্নে পৌঁছাবে তখন যথাসম্ভব দ্রুত গতিতে চলবে। আর যখন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্নে পৌঁছাবে তখন স্বাভাবিক গতিতে চলে মারওয়ায় যাবে। মারওয়ায় পৌঁছে কিবলার দিকে মুখ করে দু’হাত উঠিয়ে ছাফায় যেভাবে দো‘আ করেছিলে তেমনি দো‘আ করবে। তারপর মারওয়া থেকে ছাফা’র দিকে যাবে এবং যেখাবে দ্রুত গতিতে প্রথমে চলেছিল সেখানে দ্রুত গতিতে চলবে আর যেখানে স্বাভাবিক গতিতে চলেছিল সেখানে স্বাভাবিক গতিতে চলবে। যখন ছাফায় পৌঁছাবে তখন আগের মতো দো‘আ ইত্যাদি করবে, এভাবে মারওয়ায়ও করবে। ছাফা থেকে মারওয়ায় যাওয়া এক চক্র এবং মারওয়া থেকে ছাফায় আসা আরেক চক্র। এভাবে সাত চক্র পূর্ণ করবে। আর সা‘ঈতে নিজ ইচ্ছানুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত, যিকর ও দো‘আ করতে থাকবে। সা‘ঈ শেষে পুরুষের জন্য সম্পূর্ণ মাথার চুল মুণ্ডন অথবা খাটো করতে হবে। আর মহিলাদের জন্য আঙ্গুলির অগ্রভাগ পরিমাণ চুল কাটতে হবে। পুরুষের জন্য মাথার চুল মুণ্ডন করাই উত্তম। হ্যাঁ যদি হজ্জের সময় অতি নিকটবর্তী হয় তাহলে চুল ছোট করাই উত্তম, যাতে হজ্জের সময় চুল মুণ্ডন করা যায়। এরই সাথে উমরাহ সম্পন্ন হয়ে গেল। আর ইহরামের কারণে যে সমস্ত কাজ হারাম ছিল, যেমন পোষাক, সুগন্ধি ব্যবহার, স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি সবকিছুই হালাল হয়ে গেল।
Attachments