সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
Habib Bin Tofajjal

সালাতের উদ্দেশ্যে হাঁটার আদাব

Habib Bin Tofajjal

If you're in doubt ask الله.

Forum Staff
Moderator
Generous
ilm Seeker
Uploader
Exposer
Q&A Master
Salafi User
Credit
17,595
বিনয়ের সাথে পবিত্র অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করা সুন্নাত। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কোনো ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযূ করে তারপর সে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে যেন তার আঙ্গুলগুলো এটির মাঝে অপরটি প্রবেশ না করায়। কারণ সে তখন সালাতেই থাকে।” এবং যখন সে বাড়ী হতে বের হবে—যদিও সালাত ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে বের হয়—তখন সে বলবে:

بسم الله آمنت بالله ، اعتصمت بالله ، توكلت على الله ولا حول ولا قوة إلا بالله ، اللهم إني أعوذ بك أن أضل أو أُضل أو أَزل أو أُزل أو أَظلم أو أُظلم أو أَجهل أو يُجهل علي

“আল্লাহর নামে শুরু করলাম। আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর, আল্লাহকেই আঁকড়ে ধরেছি আর আল্লাহর উপরেই নির্ভর করেছি। আল্লাহর পক্ষ হতে আসা ব্যতীত কোনো সাহায্য ও শক্তি নেই। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন আমি কাউকে পথভ্রষ্ট না করি আর নিজেও পথভ্রষ্ট না হই, আমি যেন কাউকে বিচ্যুত না করি আর নিজেও বিচ্যুত না হই। আমি কারো উপরে জুলুম না করি আর আমিও যেন জুলুুমের শিকার না হই। আর আমি যেন কাউকে অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষেপ না করি আর নিজেও অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষিপ্ত না হই।”

এবং শান্তচিত্তে ও ভাব-গাম্ভীর্য সহকারে সালাতের জন্যে হেঁটে যাবে। যেহেতু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা ইকামাত শুনতে পাবে, তখন তোমরা এমন অবস্থায় হেঁটে যাবে যে, তোমাদের ওপর শান্তচিত্তভাব রয়েছে। এরপরে সালাতের যেটুকু পাবে আদায় করবে আর যা ছুটে যাবে তা কাযা করবে।” সে তার পা কাছাকাছি ফেলবে আর বলবে:

اللهم إني أسألك بحق السائلين عليك وبحق ممشاي هذا فإني لم أخرج أشراً ولا بطراً ولا رياء ولا سمعة خرجت اتقاء سخطك وابتغاء مرضاتك أسألك أن تنقذني من النار وأن تغفر لي ذنوبي جميعاً إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি তোমার নিকট প্রার্থনাকারীদের তোমার উপরে যে হক রয়েছে তার মাধ্যমে, আর আমার এ গমনের হকের মাধ্যমে। যেহেতু কোনো গৌরব, অহংকার, লোক দেখানো অথবা প্রসিদ্ধি লাভের কারণে আমি বের হইনি। আমি বের হয়েছি তোমার অসন্তুষ্টির ভয়ে এবং তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায়। (তাই) আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি যে, তুমি জাহান্নাম থেকে আমাকে রক্ষা করো এবং আমার সমস্ত গুনাহকে ক্ষমা করো। কারণ তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।” এবং এরপরে বলবে:

اللهم اجعل في قلبي نوراً وفي لساني نوراً واجعل في بصري نوراً وفي سمعي نوراً وأمامي نوراً وخلفي نوراً وعن يميني نوراً وعن شمالي نوراً وفوقي نوراً وتحتي نوراً اللهم أعطني نوراً

‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে নূর দান কর, আমার জিহ্বায় নূর দান কর, আমার দৃষ্টিতে নূর দান কর, আমার শ্রবণে নূর দান কর, আমার সামনে নূর দান কর, আমার পিছনে নূর দান কর, আমার ডানে নূর দান কর, আমার বামে নূর দান কর, আমার উপরে নূর দান কর, আমার নিচে নূর দান কর। হে আল্লাহ! আমাকে নূর প্রদান কর।’’

আর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে তখন তার জন্য ডান পা আগে দেওয়া এবং এ কথা বলা মুস্তাহাব:

بسم الله أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم اللهم صل على محمد اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك

“আল্লাহর নামে, আমি মহান আল্লাহর কাছে, তাঁর সম্মানিত চেহারা ও তাঁর প্রাচীন রাজত্বের উসিলায় বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন আর আমার পাপসমূহকে ক্ষমা করে দিন। এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন।” এবং বের হওয়ার সময়ে বাম পা আগে দিবে এবং বলবে:

وافتح لي أبواب فضلك

“আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন।”

যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন দুই রাকআত [তাহিয়্যাতুল মসজিদ] সালাত আদায় না করে বসবে না; কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যখন তোমাদের কেউ মসজিদ প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দুই রাক‘আত সালাত না পড়া পর্যন্ত না বসে।” এবং সে আল্লাহর যিকির নিয়ে মশগুল হবে অথবা চুপ থাকবে। দুনিয়াবী কোনো কথায় মশগুল হবে না। যতক্ষণ সে এমনভাবে থাকবে, ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যেই গণ্য হবে। আর ফেরেশতারা তার ক্ষমার জন্য দুয়া করতে থাকবে যতক্ষণ না সে কষ্ট দেয় অথবা অপবিত্র হয়ে পড়ে।



- শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওহাহ্হাব (রাহি.)
কৃতজ্ঞতায়: ইসলাম হাউজ।​
 
Top