Salafi
Salafi User
- Joined
- Feb 23, 2024
- Threads
- 62
- Comments
- 84
- Reactions
- 782
- Thread Author
- #1
জাল হাদীস: শরীয়াত-তরীকাত-মারেফাত-হাকীকত : ইসলাম এই চারভাগে বিভক্ত'
ইসলামের মধ্যে চারটি বিভাজন আমাদের সমাজে খুবই প্রচলিত একটি বিষয়। আমাদের সমাজের অনেক মানুষকে দেখা যায় যে তারা ইসলামের চারটি স্তরবিন্যাস করেন। এই চারটি স্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ নিজেকে নেয়ার চেষ্টা-সাধনা করে। মানুষ নিজে কোন স্তরে অবস্থান করছে তার ওপর নির্ভর করে তার ওপর আল্লাহ্র বিধি-নিষেধ আরোপ হয় । কুরআন-সুন্নাহ্য় ইসলামকে চারভাগে বিভক্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে ইসলামকে শরী'আত, তরীকত, মা'রিফাত ও হাকীকত এই চারভাগে ভাগ করা হয়েছে। আল-কুরআনুল কারীম ও সহীহ্ হাদীসে শরী'আহ্ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ইসলামী শরী'আহ্ নিয়ে কুরআন মাজীদে বিভিন্ন আয়াত ও সহীহ্ সনদে বর্ণিত অসংখ্য হাদীস রয়েছে। কিন্তু ইসলামের চারটি বিভাজন, চারটি স্তর, চারটি বিভাজনের কথা এই (শরী'আত, তরীকত, মা'রিফাত ও হাকীকত) অর্থে কুরআন ও সুন্নাহ্ কোথাও বর্ণিত হয়নি। এমনকি এ ধরনের কোনো পরিভাষাই আল-কুরআনুল কারীম ও সহীহ্ হাদীসে আসেনি।
এমনকি প্রকৃত আলিমগণের বিরোধিতা করতে গিয়ে আমাদের সমাজে অনেকে বলে থাকেন যে হকপন্থি আলিমগণ শরী'আতের স্তর থেকে ওপরে উঠতে পারে নাই বলে তাদের (হকপন্থি আলিমগণ) ইবাদাত-বন্দেগী করতে হয়। চুল উস্কুখুষ্ক-জটবাধা, দাড়িগোঁফ বড় বড়, নখ বিশাল লম্বা, এক ওয়াক্ত সালাতও আদায় করেন না এমন লোকজন নিজেদেরকে হাকীকতে পৌঁছে গেছেন দাবি করেন এবং প্রকৃত আলিমদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। আর সাধারণ মানুষরাও এধরনের ভণ্ড লোকদের বিরাট আল্লাহ্র ওলী ভেবে তাদের ভক্ত বনে যায়। সাধারণ অনেক মুসলিমের ধারণা এমন যে, এ সকল কপট-সাধু কথিত ওলীদের মধ্যে কী আছে তা শরী'আতের আলিমগণ জানেন না ।
আমরা জানি নবী (ﷺ) ওফাতের পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করেছেন, দাড়িগোঁফ বা নখ ছোট করে রেখেছেন মোটকথা শরী'আতের প্রতিটি হুকুম- আহকাম পালন করেছেন। তাহলে তাদের দাবি অনুযায়ী মুহাম্মাদ (ﷺ) শরী'আতের স্তর থেকে তরীকাত, মা'রিফাত কিংবা হাকীকাতের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি। যেই স্তরে স্বয়ং নবী (ﷺ) উন্নীত হননি সেখানে আমাদের পৌঁছারও কোনো প্রয়োজন নেই। সেখানে কোনো মূ'মিনের, রাসূলের সত্যিকার উম্মাতের আরোহণ করা অপ্রয়োজনীয়। সেখানে তো পৌঁছা দরকার শয়তানের। যারা তরীকাতে-হাকীকাতে পৌঁছে গেছেন, যাদের সুন্নাতের প্রয়োজন নেই, তাদের মতো এত উচ্চ স্তরে উন্নীত হওয়া মুসলিম উম্মাহ্র প্রয়োজন নেই ।
কুরআন ও সুন্নাহ্ কোথাও এই জাতীয় কোনো বিভাজন নেই। যুগে যুগে বড়মাপের বিশিষ্ট আলিমগণের লিখিত কিতাবসমূহে অনেক জালিয়াতেরা তাদের মনগড়া কথা সংযোজন করে দিয়েছেন। কারণ এ সকল বড় আলিমদের নামে মিথ্যা, মনগড়া কথা বললে লোকেরা সহজেই গ্রহণ করবে। তেমনি বিভিন্ন হাদীস বলে বলে দলিল হিসেবে বলে দেয়া হয় যে, এটা আব্দুল কাদির জিলানী বলেছেন, ঐটা ইমাম গাযালী বলেছেন ইত্যাদি। যেমন প্রসিদ্ধ আলিম শাইখ আব্দুল কাদির জিলানী (র) এর লিখিত একটি কিতাব হলো “সিররুল আস্ত্রার'। এই কিতাবে নিচের হাদীসটি লিখে দলিল হিসেবে ‘আল হাদীস' লিখে দেয়া হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে পরবর্তী কোনো জালিয়াত রাসূল (ﷺ) এর হাদীস হিসেবে সংযোজন করে শাইখ আব্দুল কাদির (রাহি:) এর নামে চালিয়ে দিতে চেয়েছেন।
الشَّرِيعَةُ شَجَرَةٌ وَالطَّرِيقَةُ أَغْصَانُهَا وَالْمَعْرِفَةُ أَوْرَاقُهَا وَالْحَقِيْقَةُ ثَمَرُهَا
অর্থ: “শরী'আত একটি বৃক্ষ, তরীকাত তার শাখা-প্রশাখা, মা'রিফাত তার পাতা এবং হাকীকত তার ফল।”১২৭
শুধু 'আল হাদীস' লেখা থাকলেও তা কোন হাদীসের গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে তা সাধারণত জালিয়াতগণ উল্লেখ করে না। মুহাদ্দিসীনে কিরাম
শুধু 'আল হাদীস' লেখা থাকলেও তা কোন হাদীসের গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে তা সাধারণত জালিয়াতগণ উল্লেখ করে না। মুহাদ্দিসীনে কিরাম
১২৭ সিররুল আসরার, আব্দুল কাদের জীলানী (৫৬১ হি.), পৃ. ৩৩।
অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হাদীসের গ্রন্থে এ ধরনের কোনো হাদীস পাননি। অর্থাৎ এটাসনদবিহীন,মিথ্যা, বানোয়াট, জাল হাদীস।এ সকল জাল হাদীসের ডালপালা এখন এতই ব্যাপক যে অনেক ভ্রান্ত ব্যক্তিগণ অনেক সাধারণ মুসলিমদেরকে তরীকত গ্রহণ না করার কারণে জাহান্নামী ঘোষণা দিয়ে বসেন। এমনকি এই জাল হাদীসটির সূত্র ধরে যার পীর নাই, তার পীর শয়তান', 'তরীকত না ধরলে জান্নাত পাওয়া যাবে না', 'পীরের হাতে বাইয়াত গ্রহণ না করলে জাহিলিয়াতের মৃত্যু' এ ধরনের অসংখ্য কথা আমাদের সমাজে খুবই প্রসিদ্ধ। যেখানে সাহাবায়ে কিরাম, তাবে'য়ীনে কিরাম, তাবে তাবেয়ীনে কিরাম, সালাফে সালেহীনে কিরাম কেউ এ সকল বানানো তরীকতের পথ ধরেননি সেখানে আমাদের সমাজে এই জাতীয় বিষয়ের জন্য সোজা জাহান্নামে পাঠিয়ে দিচ্ছে কিছু কিছু ব্যক্তি ।
মোটকথা এই জাল হাদীসটিকে ভিত্তি করে নানা ডালপালা ছড়িয়ে আমাদের সমাজে অসংখ্য শির্ক, বিদ'আত, হারাম কাজের বিস্তার ঘটেছে। তার মানে মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে যে সকল কাজকর্ম ছড়াবে তার সবই ইসলাম থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দিবে।
সমাজে বহুল প্রচলিত ১০০ জাল হাদীস
ড. মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন
ড. মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন