সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
Joynal Bin Tofajjal

মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ - (৫)

Joynal Bin Tofajjal

Student Of Knowledge

Forum Staff
Moderator
Uploader
Exposer
HistoryLover
Salafi User
Credit
5,693

মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ - (৫)​

-আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম


মাতুরীদীদের মূলনীতি এবং তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ​


আক্বীদা-১ : মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকা এবং ‘আরশের উপর উঠা

সৃষ্টির উপরে থাকা মহান আল্লাহর অন্যতম ছিফাত বা বৈশিষ্ট্য। কিন্তু বিদ‘আতী ফের্ক্বার অনুসারীরা এ ছিফাতকে অস্বীকার করে থাকে।[১] তাদের মধ্যে অন্যতম হল মাতুরীদী ফের্ক্বা। তারা এই ছিফাতের অপব্যাখ্যা করে। কুরআনের স্পষ্ট আয়াত ও হাদীছকে অস্বীকার করে। এ ব্যাপারে তাদের বুঝ হল- ‘যদি বলা হয় আল্লাহ তা‘আলা আরশের উপর এবং বান্দার উপর, তাহলে আল্লাহর জন্য দিক নির্ধারণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তখন দিকের ব্যবধান, দূরত্ব ও ক্ষমতা এবং সামর্থ্য নির্ধারণ অপরিহার্য হয়। আল্লাহর জন্য স্থান, ক্ষেত্র, পরিধি, শরীর বা দেহ তথা আকৃতি অপরিহার্য হয়ে পরে। এতে করে সৃষ্টিজগতের বৈশিষ্ট্যসমূহ আল্লাহর মধ্যে বেষ্টিত বা অন্তর্ভুক্ত হয়’।[২]

উপরিউক্ত যুক্তি তাদের একটি ভ্রান্ত ধারণার অন্তর্ভুক্ত। তাদের সন্দেহ, সংশয় এবং অস্পষ্টতার কারণে তারা ‘আল্লাহর উপরে থাকা’ ছিফাতকে অপব্যাখ্যা এবং অস্বীকার করে বলে, إن الله لا داخل العالم ولا خارجه ولا متصلا به ولا منفصلا عنه ‘তিনি সৃষ্টি থেকে পৃথক নন আবার দূরেও নন এবং সৃষ্টিজগতের ভিতরে নন আবার বাইরেও নন’।[৩] তারা আল্লাহ তা‘আলাকে অসম্ভব ও অস্তিত্বহীন বিষয় দ্বারা বিশেষিত করে থাকে। এমনকি তারা এটাও দাবি করে যে, কেউ যদি বলে আল্লাহ উপরে বা আকাশে, তাহলে সে কাফির।[৪]

মাতুরীদীরা মহান আল্লাহর ‘আরশের উপর উঠাকে যুক্তি দিয়ে অস্বীকার করে। তারা বলে, ‘যদি আল্লাহ ‘আরশের উপর উঠেন তাহলে তার জায়গার প্রয়োজন হয়। তাহলে আল্লাহ সত্তার সাথে রূপান্তরিত, স্থানান্তরিত এবং জায়গা বদল করা আপতিত হয়। তাঁর ব্যাপারে এটা কল্পনা করা যায় না। কেননা এগুলো দেহ বা শরীরের (যাদের দেহ বা আকৃতি আছে তাদের) বৈশিষ্ট্য। উপরিউক্ত যুক্তির ভিত্তিতে তারা আল্লাহর ‘আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করে বলে,أنه مستول على العرش وعلى جميع العالم ‘তিনি ‘আরশ এবং সৃষ্টিজগতের উপর কর্তৃত্ব লাভকারী বা প্রভাব বিস্তারকারী’।[৫] আবার কেউ কেউ ইস্তিওয়াকে الاستيلاء বা দখল করা, অধিকারী হওয়া, القهر বা পরাজিত করা অর্থের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে থাকে।[৬] আল্লাহর ‘আরশকে ব্যাখ্যা করে আল্লাহর রাজত্বের মাধ্যমে। তারা বলে, আল্লাহ তা‘আলা ‘আরশের উপর উঠেছেন এর অর্থ হচ্ছে استولى على الملك وقهر غيره ‘তিনি তাঁর রাজত্বের অধিকারী হলেন এবং অন্যদেরকে পরাজিত করলেন’।[৭]

অন্যদিকে বিদ‘আতীদের কেউ কেউ ‘আল্লাহ তা‘আলার ‘আরশের উপর উঠা’-কে অপব্যাখ্যা করে বলে থাকে, ‘আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক সৃষ্টির মধ্যে অবতরণ করেন বা তারা বলে থাকে প্রত্যেক সৃষ্টির অস্তিত্বই তার অস্তিত্ব’।[৮] আবার তাদের কেউ কেউ বলে থাকে الله في كل مكان অর্থাৎ ‘আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক স্থানেই বিরাজমান’।[৯]

পর্যালোচনা

সৃষ্টির উপরে থাকা এবং ‘আরশের উপরে উঠা মহান আল্লাহর সত্তাগত ও কর্মগত ছিফাত বা বৈশিষ্ট্য। শত শত কুরআনের আয়াত, শত শত হাদীছ, আল্লাহর সকল রাসূলদের ঐকমত্য, আল্লাহর নাযিলকৃত সকল কিতাবের ঐকমত্যের ভাষ্য, ছাহাবীগণের ঐকমত্য, সকল গ্রহণযোগ্য তাবে‘ঈ-তাবে‘ঈন, হাদীছের ইমাম, তাফসীরের ইমাম এবং মানব মনের স্বাভাবিক প্রকৃতি এসবই প্রমাণ করছে। মহান আল্লাহ যে সবকিছুর উপরে তাঁর ‘আরশের উপর রয়েছেন সালাফে সালেহীনের সকলেই এ আক্বীদাহ-বিশ্বাস পোষণ করতেন।

আবার অনেকেই আল্লাহর ছিফাত অস্বীকার, অপব্যাখ্যা ও বিকৃতির চরম পন্থা অবলম্বন করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকা, ‘আরশের উপর উঠা ইত্যাদি। এগুলোকে তারা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার মত দুঃসাহস দেখিয়েছে অথবা অপব্যাখ্যা করার মত চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। অথচ এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ সম্পর্কে ঈমান বিশুদ্ধ না হওয়া। আল্লাহর কর্মগত গুণসমূহের অন্যতম গুণ হচ্ছে ‘মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর ‘আরশের উপর উঠা এবং সেখানে থাকা’। এ গুণটি যতক্ষণ কেউ স্বীকার না করবে ততক্ষণ সে ঈমানদার বলে বিবেচিত হবে না; কারণ সে তার রবকে চিনতে পারেনি। তার রবের অবস্থান, মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারেনি।[১০] বস্তুত তখনই একজন মানুষ বিশুদ্ধ আক্বীদার গণ্ডিতে প্রবেশ করতে পারবে, যখন সে আল্লাহর কর্মগত গুণগুলোকে যখাযথভাবে প্রকাশ্য অর্থেই আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করতে পারবে। যারা আল্লাহর কর্মগত গুণ সাব্যস্ত করবে না তারাই এখানে বিভ্রান্তিতে থেকে যাবে।

যারা আল্লাহকে সর্বত্র বিরাজমান মনে করে তারা দলীল হিসাবে কুরআনের আয়াত পেশ করে। তাহল, মহান আল্লাহ বলেন, ہُوَ اللّٰہُ فِی السَّمٰوٰتِ وَ فِی الۡاَرۡضِ ‘আকাশসমূহে ও পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই সত্য মা‘বূদ রয়েছেন’ (সূরা আল-আন‘আম : ৩)। এ আয়াত থেকে তারা ধারণা করে যে, মহান আল্লাহ আকাশ ও যমীনের মধ্যে অবস্থান করেন। তাদের এমন উদ্ভট ও ভ্রান্ত আক্বীদা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কারণ মহান আল্লাহ এগুলো থেকে মহান এবং সর্বোচ্চ, প্রত্যেকটি জিনিসকে তিনি পরিবেষ্টন করে রেখেছেন, তাঁকে কোন কিছুই পরিবেষ্টন করেনি, ক্বিয়ামতের দিন আসমানসমূহ এবং যমীন তাঁর হাতের মধ্যে থাকবে।[১১] আসমান যমীন যদি তাঁর হাতের মধ্যে থাকে, তাহলে কিভাবে বলা যায় যে, তিনি আসমান ও যমীনের মধ্যে বা সর্বত্র বিরাজমান বা প্রত্যেকটি অংশই তাঁর অংশ?

কক্ষনো নয়! বরং প্রত্যেক জিনিস থেকে তিনি ঊর্ধ্বে, তিনি মহান, সম্মানিত, প্রতিটি জিনিসকে তিনি পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাঁর ঊর্ধ্বে কিছুই নয়।[১২] মহান আল্লাহ বলেন,

لَا یَعۡزُبُ عَنۡہُ مِثۡقَالُ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ وَ لَاۤ اَصۡغَرُ مِنۡ ذٰلِکَ وَ لَاۤ اَکۡبَرُ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ

‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁর অগোচর নয় অণু পরিমাণ কিছু কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু; বরং এর প্রত্যেকটি লিপিবদ্ধ আছে সুস্পষ্ট কিতাবে’ (সূরা সাবা : ৩)। প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও গুণাবলী মানব জ্ঞান আয়ত্ত করতে অক্ষম। মহান আল্লাহ বলেন, یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَ مَا خَلۡفَہُمۡ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِہٖ عِلۡمًا ‘তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত; কিন্তু তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না’ (সূরা ত্বা-হা : ১১০)।

অতএব যারা মহান আল্লাহ থেকে দিক নাকোচ করার মাধ্যমে সৃষ্টির উপর তাঁর সমুন্নত হওয়া নাকোচ করতে চায়, তাদের জবাবে ইমাম ত্বাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,أَنَّهُ تَعَالى مُحِيْطٌ بِكُلِ شَيْءٍ وَفَوْقَهُ ‘তিনিই সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন এবং তিনি রয়েছেন সবকিছুর উপরে’। তিনি আরো বলেন,لَا تَحْوِيْهِ الْجِهَاتُ السِّتُّ كَسَائِرِ الْمُبْتَدَعَاتِ ‘সকল সৃষ্ট বস্তুকে যেমন ছয়টি দিক পরিবেষ্টন করে রাখে, দিকসমূহ তাকে পরিবেষ্টন করতে পারে না’।[১৩] আহলুল ‘ইলম ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, من نفى علو الله عز وجل على خلقه فهو كافر ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর বান্দার উপরে সমুন্নত হওয়াকে অস্বীকার করবে, সে কাফির’।[১৪]

মহান আল্লাহ সৃষ্টির উপরে থাকা এবং ‘আরশের উপর উঠার দলীল

মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকার বহু প্রমাণ রয়েছে। যেমন,

১. মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকাকে আল-কুরআনে (صعود) ছ‘ঊদ শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর ছ‘ঊদ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ করা বা উপরে উঠা। মহান আল্লাহ বলেন, اِلَیۡہِ یَصۡعَدُ الۡکَلِمُ الطَّیِّبُ وَ الۡعَمَلُ الصَّالِحُ یَرۡفَعُہٗ ‘পবিত্র বাক্যসমূহ[১৫] তাঁরই দিকেই উঠে এবং সৎকর্মকে তিনি উন্নীত করেন’ (সূরা ফাতির : ১০)।

২. মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকাকে আল-কুরআনে (عروج) ‘ঊরূজ দ্বারা ব্যাখা করা হয়েছে। আর ‘ঊরূজ শব্দের অর্থ উপরে উঠা। মহান আল্লাহ বলেন,تَعۡرُجُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَ الرُّوۡحُ اِلَیۡہِ ‘ফেরেশতা এবং রূহ (জিবরীল (আলাইহিস সালাম)) তাঁর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়’ (সূরা আল-মা‘আরিজ : ৪)।

৩. মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকাকে (رفع) রফ‘ঊ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর রফ‘ঊ শব্দের অর্থ উঠিয়ে নেয়া বা উঠানো। মহান আল্লাহ বলেন, اِذۡ قَالَ اللّٰہُ یٰعِیۡسٰۤی اِنِّیۡ مُتَوَفِّیۡکَ وَ رَافِعُکَ اِلَیَّ ‘হে ঈসা! নিশ্চয় আমি তোমাকে মৃত্যু (নিদ্রা) দান করব। অতঃপর তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নিব’ (সূরা আলে ‘ইমরান : ৫৫)। মহান আল্লাহ বলেন, بَلۡ رَّفَعَہُ اللّٰہُ اِلَیۡہِ ؕ وَ کَانَ اللّٰہُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ‘বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ প্রবল শক্তিধর ও প্রজ্ঞাবান’ (সূরা আন-নিসা : ১৫৮)।

উসামা বিন যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! শা‘বান মাসে আপনি যে পরিমাণ ছিয়াম রাখেন অন্য কোন মাসে আপনাকে এত ছিয়াম রাখতে দেখি না! তিনি বললেন,

ذَاكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ وَهُوَ شَهْرٌ يُرْفَعُ فِيْهِ الْأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِيْنَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِىْ وَأَنَا صَائِمٌ

‘রজব ও রামাযান মাসের মধ্যবর্তী ঐ শা‘বান মাস সম্পর্কে লোকজন গাফেল থাকে; অথচ ঐ মাসে মানুষের আমল আল্লাহ রব্বুল আ‘লামীনের দরবারে উঠানো হয়, আর আমি এটাই ভালোবাসি যে, আমার আমল এমন অবস্থায় উঠানো হোক যখন আমি ছিয়াম পালনকারী’।[১৬]

৪. মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকাকে (فوق) ফাওকুন দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর ফাওকুন শব্দের অর্থ উপর। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে বলেন, یَخَافُوۡنَ رَبَّہُمۡ مِّنۡ فَوۡقِہِمۡ ‘তাঁরা ভয় করে, তাঁদের উপর পরাক্রমশালী তাঁদের প্রতিপালককে’ (সূরা আন-নাহল : ৫০)। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ ہُوَ الۡقَاہِرُ فَوۡقَ عِبَادِہٖ وَ ہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ‘তিনিই তাঁর বান্দাদের উপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী, তিনিই প্রজ্ঞাময় ও সর্ব বিষয়ে ওয়াকিফহাল’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৮)।

৫. মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকাকে (نزول) নুযূল তথা ফেরেশতা ও কিতাব অবতরণ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফেরেশতা ও কিতাব মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতরণ হয়। আর অবতরণ উপর থেকেই হয়। মহান আল্লাহ বলেন, قُلۡ نَزَّلَہٗ رُوۡحُ الۡقُدُسِ مِنۡ رَّبِّکَ بِالۡحَقِّ ‘আপনি বলুন, আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে রূহুলকুদুস (জিবরীল (আলাইহিস সালাম)) সত্যসহ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন’ (সূরা আন-নাহল : ১০২ )। মহান আল্লাহ বলেন, تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ‘এই কিতাব অবতীর্ণ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাপূর্ণ আল্লাহর নিকট হতে’ (সূরা আয-যুমার : ১)।

৬. মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপরে থাকাকে আকাশের উপরে থাকার দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

ءَاَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یَّخۡسِفَ بِکُمُ الۡاَرۡضَ فَاِذَا ہِیَ تَمُوۡرُ - اَمۡ اَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یُّرۡسِلَ عَلَیۡکُمۡ حَاصِبًا ؕ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ کَیۡفَ نَذِیۡرِ

‘তোমরা কি নিরাপত্তা পেয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধসিয়ে দিবেন না? আর ওটা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী বাতাস প্রেরণ করবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী!’ (সূরা আল-মুলক : ১৬-১৭)। এখানে (في السماء) দ্বারা উদ্দেশ্য (على السماء)।

ইমাম লালকাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,هذه الآيات أنه تعالى في السماء وعلمه بكل مكان من أرضه وسمائه ‘উপরিউক্ত আয়াত সমূহ প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহ আকাশে এবং তাঁর ইলম আসমান ও যমীনের সর্বত্র’। ছাহাবী ওমর, ইবনু মাস‘ঊদ, ইবনু আব্বাস, উম্মু সালামাহ হ থেকে এমনটাই বর্ণিত হয়েছে। তাবেঈ রবী‘আহ বিন আবী আব্দির রহমান, সুলাইমান আত-তাইমী, মুক্বাতিল ইবনু হিব্বান (রাহিমাহুমুল্লাহ) এবং ফক্বীহ মালিক ইবনু আনাস, সুফইয়ান ছাওরী এবং আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুমুল্লাহ) থেকেও এমনটা বর্ণিত হয়েছে।[১৭]

হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, মু‘আবিয়া ইবনু হাকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার একটি দাসী আছে, যে উহুদ ও জাওয়্যানিয়ের দিকে আমার ছাগল চরায়। একদিন আমি তার নিকট গেলাম, অতঃপর নেকড়ে বাঘ আমার একটি ছাগল নিয়ে গেছে। আর আমি একজন মানুষ, তাই আমারও রাগ হয় যেমন অন্য মানুষের হয়। অতঃপর আমি তাকে একটি থাপ্পড় দিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। তিনি আমার এই কাজকে গুরুতর অন্যায় মনে করলেন। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি কি তাকে মুক্ত করে দিব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তাকে আমার নিকট নিয়ে আস’। আমি তাকে তাঁর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, أَيْنَ اللهُ؟ ‘আল্লাহ কোথায়? সে বলল,فِي السَّمَاءِ ‘আকাশে’। আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, مَنْ أَنَا؟ ‘আমি কে?’ সে বলল, أَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ‘আপনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)’। তখন তিনি বললেন, أَعْتِقْهَا فَإنَّهَا مُؤْمِنَةٌ ‘এটাকে আযাদ করে দাও, নিশ্চয় সে মুমিনা’।[১৮]

জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জের ভাষণে ছাহাবীদের লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘তোমরা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, তখন তোমরা কী বলবে? তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, নিশ্চয় আপনি আমাদেরকে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, আপন কর্তব্য সম্পাদন করেছেন এবং সতর্ক করেছেন। তখন তিনি আপন শাহাদত অঙ্গুলি আকাশের দিকে উঠালেন এবং তা দ্বারা মানুষের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, أَللّٰهُمَّ اشْهَدْ أَللّٰهُمَّ اشْهَدْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ‘হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, এভাবে তিনি তিনবার বললেন’।[১৯]

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী যায়নাব বিনতু জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) অন্য স্ত্রীদের সামনে গর্ব করে বলতেন, زَوَّجَكُنَّ أَهَالِيْكُنَّ وَزَوَّجَنِى اللهُ تَعَالَى مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَوَاتٍ ‘তোমাদেরকে তোমাদের পরিবারের লোকেরা বিয়ে দিয়েছেন, আর আমাকে বিয়ে দিয়েছেন সাত আসমানের উপর হতে মহান আল্লাহ’।[২০]

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, الرَّاحِمُوْنَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ اِرْحَمُوْا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ ‘দয়াবান ব্যক্তিদের প্রতি আল্লাহ রহমানুর-রহীম অনুগ্রহ করেন। অতএব তোমরা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দয়া কর, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন’।[২১]

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


[১]. সর্বপ্রথম জাহম ইবনু ছাফওয়ান (জাহমিয়্যা মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা) মহান আল্লাহর সৃষ্টির উপর সমুন্নত হওয়াকে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে জাহমিয়্যারা এ আক্বীদা লালন করে। তারা এ মাস’আলা নিয়ে দু’টি দলে বিভক্ত হয়েছে। তাদের পাশাপাশি মু‘তাযিলা, আশ‘আরীরা এবং মাতুরীদীরাও এ আক্বীদা পোষণ করে। মহান আল্লাহর সমুন্নত হওয়া নিয়ে বিদ‘আতী ফের্ক্বার কয়েকটি মত রয়েছে। যে মতগুলো প্রত্যেকটিই কুফরী মতবাদ। যেমন,

হুলূলিয়্যাহ জাহমিয়্যাহ মতবাদ : তারা বলে, আল্লাহ সমুন্নত হওয়ার গুণে গুণানিত্ব নয় এবং তিনি আরশের উপরও নন। তারা বলে,
إن الله ليس فوق العرش ولا هو فوق السماوات بل هو في كل مكان ‘আল্লাহ আরশের উপর না এবং আসমানের উপরও না। বরং তিনি সর্বত্র বিরাজমান’।

মু‘আত্ত্বিলা জাহমিয়্যাহ মতবাদ : তারা বলে, أن الله لا داخل العالم ولا خارجه ولا فوقه ولا تحته ولا متصلا به ولا منفصلا عنه ‘তিনি সৃষ্টিজগতের ভিতরে নন আবার বাইরেও নন, উপরে নন, নিচেও নন এবং সৃষ্টি থেকে পৃথক নন, আবার দূরেও নন’। এমন কুফরী কথা আগে কেউ কখনো বলেনি। অধিকাংশ মু‘তাযিলা এবং আশ‘আরীরা এ মতের প্রবক্তা।

বিদ‘আতী ও ছূফী মতবাদ : তারা বলে, أن الله فوق العرش بذاته وهو في كل مكان بذاته ‘আল্লাহ তাঁর সত্তার সাথে ‘আরশের উপর এবং সর্বত্র বিরাজমান’।

দ্র. আবূ জা‘ফর মুহাম্মাদ ইবনু ‘উছমান ইবনু আবি শায়বাহ, আল-‘আরশ ওয়ামা রুবিয়া ফীহি, মুহাম্মাদ ইবনু খলীফা আত-তামীমী (রিয়াদ : মাকতাবাতুর রুশদ্, ১৪১৮ হি.), পৃ. ১১৯; শামসুদ্দীন আবূ আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আয-যাহাবী, আল-‘আরশ, তাহক্বীক্ব : মুহাম্মাদ ইবনু খলীফা, ১ম খণ্ড (মদীনা : ‘ইমাদাতুল বুহূছিল ‘ইলমী, ১৪২৪ হি.), পৃ. ১৫৬; তাক্বীউদ্দীন আবুল ‘আব্বাস আহমাদ ইবনু আব্দুল হালীম ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল-ঈমান, তাহক্বীক্ব : মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (আম্মান : আল-মাকতাবাতুল ইসলামী, ১৪১৬ হি.), পৃ. ২৯৯; আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ আর-রাজিহী, দুরূসু ফিল আক্বীদাহ, ১৮তম খণ্ড (আশ-শাবাকাতুল ইসলামিয়্যাহ, তা.বি.), পৃ. ৩, ২০।

[২]. আদা’ঊ মাতুরীদীয়াতি লিল আক্বীদাতিত সালাফিয়্যা আল-মাতুরীদীয়া- আল-মাতুরীদীয়া ওয়া মাওক্বিফুহুম মিন তাওহীদিল আসমা’ই ওয়াছ ছিফাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫১৪।
[৩]. প্রাগুক্ত; মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান আল-খুমাইস, তাওযীহু মাক্বাছিদিল মুছত্বলিহাতিল ‘ইলমিয়্যাহ ফির রিসালাতিল তাদমিরিয়্যাহ (রিয়াদ : দারুছ ছমী‘ঈ, ১৪১৬ হি.), পৃ. ৪০; রাইদ ইবনু ছাবরী ইবনু আবি ‘আলফা, মু‘জামুল বিদ‘ঈ (দারুল ‘আছিমাহ, ১৪১৭ হি.), পৃ. ৪৭৪।
[৪]. এ সম্পর্কে মু‘তাযিলা, পরবর্তী আশ‘আরী এবং হানাফী মাতুরীদীরা বলে,
إن الله لا فوق العالم ولا تحته ولا يمين العالم ولا شماله ولا أمام العالم ولا خلفه.وأنه ليس على العرش ولا فوق العرش. ولا فوق العالم. وأن من وصف الله بأنه في السماء أو بأنه فوق فهو كافر.
দ্র. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দির রহমান আল-খমীস, ই‘তিকাদু আইম্মাতিস সালাফি আহলিল হাদীছ (কুয়েত : দারু ই’লাফিল দাওলিয়্যাহ, ১৪২০ হি.), পৃ. ১৪৭।

[৫]. আবুল উসরা মুহাম্মাদ আল-বাযদূবী, উছূলুদ দ্বীন (কায়রো : মাকতাবাতুল আযহারী, ১৪২৪ হি./২০০৩ খৃ), পৃ. ৪১; আদা’ঊ মাতুরীদীয়াতি লিল আক্বীদাতিত সালাফিয়্যা আল-মাতুরীদীয়া- আল-মাতুরীদীয়া ওয়া মাওক্বিফুহুম মিন তাওহীদিল আসমা’ই ওয়াছ ছিফাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫১৫।
[৬]. এ সম্পর্কে মু‘তাযিলা, জাহমিয়া এবং হারূরিয়্যারা বলে, اسْتَوى অর্থ তিনি মালিক হয়েছেন এবং পরাজিত করেছেন। তারা মহান আল্লাহর ‘আরশে উঠাকে অস্বীকার করে। দ্র. আবুল হাসান মুক্বাতিল ইবনু সুলাইমান, তাফসীর মুক্বাতিল ইবনু সুলাইমান, ৫ম খণ্ড (বৈরূত : দারু ইহইয়াইত তুরাছ, ১৪২৩ হি.), পৃ. ১০২; শামসুদ্দীন আবুল ‘আওন মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আল-হানবালী, লাওয়ামি‘ঊল আনওয়ারিল বাহিয়্যাতি ওয়া সাওয়াত্বি‘ইল আসরার, ১ম খণ্ড (দামেষ্ক : মুওয়াসসাসাতুল খাফিক্বীন, ১৪০২ হি.), পৃ. ১৯৭।
[৭]. শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বিয়্যা, পৃ. ১৬২।
[৮]. এ সম্পর্কে ছূফী হুলূলিয়্যাহরা বলে, الله في كل شيء حتى في الكلب والخنزير والقرد والفهد ‘আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক জিনিসের মধ্যেই বিরাজমান। এমনকি কুকুর, শূকর, বানর এবং চিতাবাঘের মধ্যেও’। তাদের এ বক্তব্য খ্রিষ্টানদের বক্তব্যের চেয়েও নিকৃষ্ট।

ছূফী ইত্তিহাদিয়্যারা বলে, الله في كل شيء حتى الخنزير! والفرج والذكر ‘আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক জিনিসের মধ্যেই বিরাজমান। এমনকি শূকর, নারীদের যৌনাঙ্গ এবং পুরুষাঙ্গের মধ্যেও’ (না‘ঊযুবিল্লাহ)। প্রকৃতপক্ষে এরা ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, অগ্নিপূজক, হিন্দু এবং মুশরিকদের চেয়েও বড় অস্বীকারকারী। দ্র. ই‘তিক্বাদু আইম্মাতিস সালাফি আহলিল হাদীছ, পৃ. ১৪৬।

[৯]. জাহমিয়ারা প্রথমে এই আক্বীদার প্রচলন করে। তারা বলে, الله في كل مكان ‘আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক স্থানেই বিরাজমান’। দ্র. শায়খুল ইমাম মাইমূন ইবনু মুহাম্মাদ আন-নাসাফী, বাহরুল কালাম, তাহক্বীক্ব : ড. ওয়ালীউদ্দীন মুহাম্মাদ ছালিহ আল-ফুরফূর (মাকতাবাতু দারুল ফুরফূর, ২য় সংস্করণ, ১৪২১ হি.), পৃ. ১২০; শারহুল আক্বীদা আত-ত্বাহাবিয়্যা, পৃ. ৩৭২; আবূ সা‘ঈদ ‘উছমান ইবনু সা‘ঈদ আদ-দারিমী, আর-রাদ্দু ‘আলাল জাহমিয়্যাহ, ১ম খণ্ড (কুয়েত : দারু ইবনিল আছীর, ১৪১৬ হি.), পৃ. ৪০, হা/৪৮; শামসুদ্দীন আয-যাহাবী, আল-‘আরশ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৮২; ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল-ঈমান, পৃ. ২৯৮;
ক্বাদারিয়্যারা বলে, إن الله في كل مكان ‘আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান’। দ্র. আল-কাযী মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল্লাহ আবূ বকর আল-‘আরাবী আল-মালিকী, আন-নাচ্ছুল কামিল লি কিতাবিল ‘আওয়াছিমি মিনাল ক্বাওয়াছিম (মিশর : মাকতাবাতু দারিত তুরাছ, তা.বি.), পৃ. ২২৫।
বিদ‘আতী ও ছূফীরা বলে, وهو في كل مكان بذاته ‘আল্লাহ তাঁর সত্তার সাথে সর্বত্র বিরাজমান’। দ্র. দুরূসু ফিল আক্বীদাহ, ১৮তম খণ্ড, পৃ. ৩, ২০।

[১০]. প্রফেসর ড. আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া, রহমান ‘আরশের উপর উঠেছেন (গাজীপুর : মাদানী গার্ডেন, তা.বি.), পৃ. ৬৫।
মু‘তাযিলারা বলে, اسْتَوى অর্থ তিনি মালিক হয়েছেন এবং পরাজিত করেছেন। দ্র. তাফসীর মুক্বাতিল ইবনু সুলাইমান, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১০২।

[১১]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৪১২, ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৯।
[১২]. আবুল মুনযির মাহমূদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুছত্বফা, জুমূ‘ঊল বাহিয়্যাতু লিল ‘আক্বীদাতিস সালাফিয়্যা, ১ম খণ্ড (মিশর : মাকতাবাতু ইবনু ‘আব্বাস, ১৪২৬ হি.), পৃ. ১৬৯।
[১৩]. শারহুল আক্বীদা আত-ত্বাহাবিয়্যা, পৃ. ৩৭৩ ও ৩৬৮।
[১৪]. খালিদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-মুছলিহ, শারহুল আক্বীদা আল-ওয়াসিত্বিয়্যা, ১০ম খণ্ড, পৃ. ৪।
[১৫]. কালামুত ত্বায়্যিব বা পবিত্র বাক্যসমূহ হল যিকর এবং দু‘আ।
[১৬]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৮০১; নাসাঈ, হা/২৩৫৭।
[১৭]. আবুল ক্বাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-লালকাঈ, শারহু উছূলি ‘ইতিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত, তাহক্বীক্ব : আহমাদ ইবনু সা‘দ ইবনু হামদান আল-গামিদী, ৩য় খণ্ড (সঊদী আরব : দারুত ত্বায়্যিবাহ, ১৪২৩ হি.), পৃ. ৪২৯।
[১৮]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৩৭; মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/২৮৭৫; মিশকাত, হা/৩৩০৩।
[১৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; মিশকাত, হা/২৫৫৫।
[২০]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৪২০; তিরমিযী, হা/৩২১৩।
[২১]. আবু দাঊদ, হা/৪৯৪১; তিরমিযী, হা/১৯২৪; মিশকাত, হা/৪৯৬৯, সনদ হাসান লিগাইরিহী।
 
Top