সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
Golam Rabby

প্রশ্নোত্তর একই পশু দিয়ে কুরবানী ও আকিকা দেওয়ার বিধান কী?

Golam Rabby

Knowledge Sharer

ilm Seeker
HistoryLover
Q&A Master
Salafi User
Credit
3,477
উত্তরঃ
এ মাসয়ালায় আলেমগণের দুইটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম অভিমত: কোরবানীর পশু আকিকা হিসেবে জায়েয হবে না। এটি মালেকী, শাফেয়ি ও এক বর্ণনা মতে, ইমাম আহমাদের অভিমত।

এ মতাবলম্বীদের দলিল হল: আকিকা ও কোরবানী উভয়টি সত্তাগতভাবে উদ্দিষ্ট। এ কারণে একটি অপরটির পক্ষ থেকে জায়েয হবে না। তাছাড়া যেহেতু প্রত্যেকটির বিশেষ কারণ রয়েছে, যে কারণদ্বয় ভিন্ন ভিন্ন। তাই একটি অপরটির স্থলাভিষিক্ত হবে না। যেভাবে ফিদিয়া-র দম (পশু) তামাত্তু-এর দম (পশু) এর স্থলাভিষিক্ত হয় না।

হাইতামি 'তুহফাতুল মুহতাজ শারহুল মিনহাজ' গ্রন্থে (৯/৩৭১) বলেন: "আমাদের মাযহাবের আলেমগণের উক্তির বাহ্যিক মর্ম হল, যদি একটি ভেড়া দিয়ে কোরবানী ও আকিকার নিয়ত করা হয় তাহলে দুইটার কোনটা আদায় হবে না। এটি সুস্পষ্ট বিষয়। যেহেতু এ দুটোর প্রত্যেকটি উদ্দিষ্ট সুন্নত।"

আল-হাত্তাব (রহঃ) 'মাওয়াহিবুল জালিল' গ্রন্থে (৩/২৫৯) বলেন: "কেউ যদি তার কোরবানীর পশু কোরবানী হিসেবে ও আকিকা হিসেবে জবাই করে কিংবা ভোজ হিসেবে খাইয়ে দেয়: 'যাখিরা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আল-কাবাস' গ্রন্থাকার বলেন: আমাদের শাইখ আবু বকর আল-ফিহরি বলেন: যদি তার কোরবানীর পশুকে কোরবানী ও আকিকা হিসেবে জবাই করে তাহলে জায়েয হবে না। আর যদি ভোজ হিসেবে খাইয়ে দেয় তাহলে জায়েয হবে। এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য হল: প্রথম দুইটির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্তপাত করা। তাই দুইটি পশুর রক্তপাতের বদলে একটি পশুর রক্তপাত জায়েয হবে না। আর ভোজের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হচ্ছে খাওয়ানো। এটি রক্তপাতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাই দুটো নিয়ত একত্রিত হওয়া সম্ভব।"

দ্বিতীয় অভিমত: কোরবানীর পশু আকিকা হিসেবেও যথেষ্ট হবে। এটি হানাফি মাযহাবের অভিমত এবং এক বর্ণনা মতে, এটি ইমাম আহমাদের অভিমত। তাছাড়া এটি হাসান বসরি, মুহাম্মদ বিন সিরিন ও কাতাদা প্রমুখের অভিমত।

এ মতাবলম্বীদের দলিল হচ্ছে‑

এ দুটো আমলের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হচ্ছে পশু জবাই করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নৈকট্য হাছিল করা। তাই একটি অপরটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যেমনিভাবে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (মসিজদে প্রবেশের সালাত) ফরয নামাযের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে।

ইবনে আবু শাইবা (রহঃ) "আল-মুসান্নাফ" গ্রন্থে (৫/৫৩৪) বলেন: হাসান থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন: কেউ যদি ছেলের পক্ষ থেকে কোরবানী করে তাহলে সেটা আকিকা হিসেবে যথেষ্ট হবে।

হিশাম ও ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত আছে তারা উভয়ে বলেন: তার পক্ষ থেকে কোরবানী করলে সেটা আকিকা হিসেবে যথেষ্ট হবে।

কাতাদা থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন: আকিকা হিসেবে জবাই করা না হলে সেটা যথেষ্ট হবে না।

আল-বুহুতি (রহঃ) "শারহু মুনতাহাল ইরাদাত" গ্রন্থে (১/৬১৭) বলেন: "যদি আকিকার সময় ও কোরবানীর সময় একত্রে পড়ে; অর্থাৎ কোরবানীর দিনগুলোতে শিশু জন্মের সপ্তম দিন বা অনুরূপ কোন দিন পড়ে এবং তার আকিকা করা হয় তাহলে সেটা কোরবানী হিসেবে যথেষ্ট হবে। কিংবা যদি কোরবানী করা হয় তাহলে সেটা আকিকা হিসেবে যথেষ্ট হবে। যেমনিভাবে যদি ঈদের দিন ও জুমার দিন একই দিনে পড়ে তখন একটার জন্য গোসল করলে অপরটার গোসল হিসেবে যথেষ্ট হবে এবং যেমনিভাবে তামাত্তু হজ্জকারী কিংবা ক্বিরান হজ্জকারী যদি কোরবানীর দিন একটি ভেড়া জবাই করে সেটা হজ্জের ফরয হাদি ও কোরবানী হিসেবে যথেষ্ট হবে।"[সমাপ্ত]

তিনি "কাশ্শাফুল ক্বিনা" গ্রন্থে (৩/৩০) আরও বলেন: "যদি আকিকা ও কোরবানী একই সময়ে পড়ে এবং একটি পশু জবাই করার মাধ্যমে উভয়টির তথা আকিকা ও কোরবানীর নিয়ত করা হয় তাহলে উভয়টি আদায় হয়ে যাবে‑ ইমাম আহমাদের সুস্পষ্ট উক্তির আলোকে।"

এ অভিমতটি শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম (রহঃ)ও মনোনীত করেছেন। তিনি বলেন: যদি কোরবানী ও আকিকা একত্রে পড়ে এবং পরিবারের কর্তার কোরবানী করার দৃঢ় সংকল্প থাকে এবং তিনি পশু জবাই করেন তাহলে এ পশু কোরবানীর পশু এবং এর মধ্যে আকিকাও ঢুকে পড়বে।

এক্ষেত্রে কিছু কিছু আলেমের কথায় পাওয়া যায় যে, উভয় জবাই একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে: অর্থাৎ কোরবানী ও আকিকা নবজাতকের পক্ষ থেকে হতে হবে। আর কিছু কিছু আলেমের মতে, তা শর্ত নয়। যদি পিতা কোরবানী করেন তাহলে কোরবানী পিতার পক্ষ থেকে, আর আকিকা ছেলের পক্ষ থেকে।

সারকথা: যদি কোরবানীর পশুকে কোরবানী ও আকিকার নিয়তে জবাই করা হয় তাহলে সেটা জায়েয হবে।

[ফাতাওয়াস শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম (৬/১৫৯)]

সূত্রঃ islamqa.info, Fatwa No. 106630
 
Top