সালাফী আকিদা ও মানহাজে - Salafi Forum

Salafi Forum হচ্ছে সালাফী ও সালাফদের আকিদা, মানহাজ শিক্ষায় নিবেদিত একটি সমৃদ্ধ অনলাইন কমিউনিটি ফোরাম। জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় নিযুক্ত হউন, সালাফী আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করুন। আপনার ইলম প্রসারিত করুন, আপনার ঈমানকে শক্তিশালী করুন এবং সালাফিদের সাথে দ্বীনি সম্পর্ক গড়ে তুলুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করতে, ও সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে এবং ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনাকে আলিঙ্গন করতে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন।
Joynal Bin Tofajjal

আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান একজন খারেজি বক্তা - ১ম অধ্যায়

Joynal Bin Tofajjal

Student Of Knowledge

Forum Staff
Moderator
Uploader
Exposer
HistoryLover
Salafi User
Threads
327
Comments
456
Solutions
1
Reactions
4,317
Credit
5,771
১ম পরিচ্ছেদ : খারেজি আবু ত্বহা আদনান গণহারে আরব বিশ্বের মুসলিম নেতাদের কাফির ফতোয়া দেয়

পথভ্রষ্ট বক্তা আবু ত্বহা আদনান তার ‘গৌরবান্বিত খেলাফত হারানোর শতবর্ষ’ শীর্ষক লেকচারে বলেছে, “وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ – তোমাদের মধ্যে হে মুসলিমরা, কেউ যদি ওদের দিকে মুখ ফেরায়, ওদের সাথে বন্ধুত্ব করে, সে এই উম্মাহর কেউ না, সে ওদের অন্তর্ভুক্ত। এজন্য আমরা বলি, আহলে সৌদ-সহ যত গল্ফ কান্ট্রি আছে— কাতার, কুয়েত, আবুধাবি, লেবানন, জর্ডান – যা আছে, সবাই এদের বন্ধু। এরা আমার উম্মতের কেউ না। আপনার কাছে মনে হতে পারে, মুহাম্মাদ বিন সালমান আমিরুল মুমিনিন। আমার কাছে মনে হয়, সে ইহুদিদের একজন এজেন্ট। দ্যাটস অল।” (যদ্দৃষ্ট – সংকলক)
[দ্রষ্টব্য:
(১৩:৫২ মিনিট থেকে ১৪:১৩ মিনিট পর্যন্ত)]

এই বক্তব্যের দরুন আবু ত্বহা আদনানকে ‘পথভ্রষ্ট খারেজি’ ছাড়া আর কী বলা যায়? গণহারে আরব বিশ্বের উপসাগরীয় দেশগুলোর যত মুসলিম নেতা আছে, সবাইকে মুসলিম উম্মত থেকে বের করে দিয়েছেন জনাব আদনান। তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি লেকচারে বলেছেন, “আল্লাহ পাক বলছেন, وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ – মুসলিমদের মধ্যে কেউ যদি ওদের দিকে হাত বাড়ায়, বা ওদের সাথে বন্ধুত্ব করে; فَإِنَّهُ مِنْهُمْ – সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, সে আমাদের উম্মাহর কেউ নয়। এজন্য গল্ফ কান্ট্রিকে আমরা বলি, তোমরা উম্মাহর কেউ না, তোমরা ওদের অন্তর্ভুক্ত। হ্যাঁ, জনগণ থাকতে পারে ভালো, সেটা আলাদা বিষয়। অ্যাজ অ্যা স্টেটের কথা বলছি আমরা।” (যদ্দৃষ্ট – সংকলক) [দ্রষ্টব্য:
(২১ মিনিট থেকে); ‘Al Lahir Media’ নামক এই চ্যানেলের ভিডিয়োগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, আমাদের তৈরিকৃত ভিডিয়োতে দেখুন: ২:২০ মিনিট থেকে ২:৪০ মিনিট পর্যন্ত]

গণহারে মুসলিম নেতাদেরকে কাফির হওয়ার উপযুক্ত কারণ ব্যতিরেকে কাফির ফতোয়া দেওয়ার কারণে বাঙালি সালাফি বিদ্বানগণ আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনানকে খারেজি বলে থাকেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আকিদা বিষয়ক বিশিষ্ট বিদ্বান শাইখ ড. আবুবকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া স্যার হাফিযাহুল্লাহ। স্যার তাঁর এক বক্তব্যে বলেছেন, “আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান, সে হচ্ছে আদনানি-গোষ্ঠী, তামিম আদনানি গোষ্ঠীর লোক। আমরা তার থেকে সাবধান করছি, তার বক্তব্য শোনা থেকে, তার কর্মকাণ্ড থেকে। এবং সে না জেনে—জাহেল প্রকৃতির মানুষ—ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরবে আপনার সামনে। তারা তথাকথিত হয়তো জ্ঞানী হতে পারে, আলোকিত জ্ঞানী, বিভিন্ন কিছু এরকম হতে পারে; দিন থেকে তারা দূরের মানুষ।”
[দেখুন:
(০:১৭ মিনিট থেকে ০:৩৮ মিনিট পর্যন্ত)]

আল্লাহ ড. জাকারিয়া স্যারের কণ্ঠকে সালাফিয়্যার জন্য সমুচ্চ করে দিন। স্যার এই বিপথগামী খারেজি বক্তা আবু ত্বহা আদনান থেকে সতর্ক করে ফরজ দায়িত্ব পালন করেছেন। কারণ উম্মতের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পথভ্রষ্টকারী বক্তা ও লেখকদের ব্যাপারে জেনেশুনে চুপ থাকা না-জায়েজ। বলার মতো উপযুক্ততা থাকলে অবশ্যই বলতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ উদ্ধৃত বক্তব্যে জাকারিয়া স্যার কোনো ভুল কথা বলেননি। শতভাগ সঠিক কথা, ইনশাআল্লাহ। আমরা স্যারের কথার পক্ষে দলিলপ্রমাণ পেশ করব, ইনশাআল্লাহ। কারণ এ বিষয়ে জলঘোলা করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ ওঠেছে, আবু ত্বহা আদনানকে নাকি বিনা দোষে খারেজি বলা হয়েছে!

আবু ত্বহা আদনান সাহেবের কথাই শুনুন। তিনি তার একটি বক্তব্যে বলছেন, “একটা কথা খালি বলেছিলাম যে, উম্মাহর উলামায়ে কেরামদের একটা জায়গায় আসা উচিত। এতেই খারেজি হয়ে গেছি আমি! এই একটা কথার জন্য। একটা কথা যে, উম্মাহর উলামায়ে কেরামদের একটা জায়গায় আসা উচিত, তাঁদের মধ্যে একটা শুরা করা দরকার, একজনকে দায়িত্ব দেওয়া দরকার এবং তাঁর নেতৃত্বে এই উম্মাহকে এগিয়ে নেওয়া দরকার। ব্যস, ট্যাগ লেগে গেছে— খারেজি, খাওয়ারেজ। কী বুঝান জনগণকে? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, يَقْتُلُوْنَ أَهْلَ الإِسْلَامِ وَيَدَعُوْنَ أَهْلَ الأَوْثَانِ। খারেজিদের এক নাম্বার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে— তারা মুসলিমদেরকে হত্যা করবে, আর মুশরেক এবং ইসলামের শত্রু যারা, ওদেরকে ছেড়ে দিবে। এই ওয়ান উম্মাহ কনসেপ্ট কি এটার দিকে নিয়ে যাচ্ছে?” (যদ্দৃষ্ট – সংকলক)
[দেখুন: https://www.youtube.com/watch?v=Y7XCauV_078 (৩৯ মিনিট থেকে); ‘Al Lahir Media’ নামক এই চ্যানেলের ভিডিয়োগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, আমাদের তৈরিকৃত ভিডিয়োতে দেখুন: ১:৫১ মিনিট থেকে ২:২০ মিনিট পর্যন্ত]

প্রকৃতপ্রস্তাবে ঐক্যের ডাক দেওয়ার জন্য বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনানকে সালাফিরা ‘খারেজি’ বলে না। বরং পাইকারিভাবে প্রায় আট-দশটি মুসলিম দেশের নেতাদেরকে কাফির ফতোয়া দেওয়ার জন্য সালাফিরা তাকে খারেজি বলে। এজন্য আমরা সামনে তিনটি ধাপে আলোচনা পেশ করতে চাইছি। প্রথমত, খারেজি কাকে বলে, সে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয়ত, আবু ত্বহা আদনানে যেই দলিলের ভিত্তিতে মুসলিম নেতাদেরকে কাফির বলেছে, সেই দলিল দিয়ে আসলেই কাফির বলা যায় কিনা, তা স্পষ্ট করা হবে। তৃতীয়ত, তাকে আদনানি-গোষ্ঠী বলার দরুন জাকারিয়া স্যারের যেই সমালোচনা করা হয়েছে, তার অসারতা প্রমাণ করা হবে।ইনশাআল্লাহ।
·
প্রথম ধাপ: খারেজি কাকে বলে?
আরবি ‘খারিজি’ শব্দটি একবচন, বহুবচনে ‘খাওয়ারিজ’। ‘খারিজি’ শব্দটি ‘খুরুজ’ শব্দমূল থেকে উদ্‌গত হয়েছে। আভিধানিক অর্থে, “যে তার গোত্র ও সমকক্ষদের ছাড়িয়ে যায় সে-ই খারিজি।” [দেখুন: মুজামুল ওয়াসিত] আমরা বহুলব্যবহৃত হওয়ায় শব্দটিকে বাংলায় ‘খারেজি’ লিখছি।

পরিভাষায়, ধর্মতত্ত্ব ও ফের্কাতত্ত্বের বিখ্যাত পণ্ডিত, ইমাম ইবনু হাযম আল-আন্দালুসি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৪৫৬ হি.) বলেছেন, ومن وافق الخَوارِج من إنْكار التَّحْكِيم وتكفير أصْحاب الكَبائِر والقَوْل بِالخرُوجِ على أئِمَّة الجور وإن أصْحاب الكَبائِر مخلدون فِي النّار وأن الإمامَة جائِزَة فِي غير قُرَيْش فَهُوَ خارجي “সালিস নিযুক্ত করাকে প্রত্যাখ্যান করা, কবিরা গুনাহগারকে কাফির আখ্যা দেওয়া, অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিমত ব্যক্ত করা, কবিরা গুনাহগাররা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে বলে মত পোষণ করা করা, কুরাইশ বংশ ছাড়াও অন্য বংশ থেকে শাসক হওয়া বৈধ মনে করা প্রভৃতির মাধ্যমে যে ব্যক্তি খারেজিদের সাথে একমত পোষণ করে, সে-ই খারেজি।” [আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়ায়ি ওয়ান নিহাল, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৩৭০; গৃহীত: ড. সুলাইমান বিন সালিহ আল-গুসন, আল-খাওয়ারিজু : নাশআতুহুম ফিরাকুহুম সিফাতুহুম আর-রাদ্দু আলা আবরাযি আকায়িদিহিম; পৃষ্ঠা: ৪৭-৪৯]

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৭২৮ হি.) বলেছেন, فَكانَ مِن أوَّلِ البِدَعِ والتَّفَرُّقِ الَّذِي وقَعَ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ «بِدْعَةُ الخَوارِجِ» المُكَفِّرَةِ بِالذَّنْبِ “এই উম্মতের মধ্যে উদ্ভূত সর্বপ্রথম বিদাত ও বিভক্তি হলো খারেজিদের বিদাত; যারা (বড়ো কুফর নয় এমন) গুনাহের দরুন কাফির ফতোয়া দেয়।” [মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ১২; পৃষ্ঠা: ৪৭০]

প্রখ্যাত নাজদি বিদ্বান ইমাম আব্দুর রহমান বিন হাসান আলুশ শাইখ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ১২৮৫ হি.) আরও স্পষ্টরূপে বলেছেন, وأما مذهب الخوارج، فإنهم يكفرون أهل الإيمان بارتكاب الذنوب ما كان منها دون الكفر والشرك “খারেজিদের মতাদর্শ হচ্ছে— এরা কুফর ও শির্কের চেয়ে ছোটো পাপ করার কারণে ইমানদার মানুষদের কাফির ফতোয়া দেয়।” [মাজমুয়াতুর রাসায়িল ওয়াল মাসায়িলিন নাজদিয়্যা, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ৪০৮]

সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহর (মৃত: ১৪২০ হি.) কাছে চরমপন্থার সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, بالتعليم والتوجيه من العلماء، إذا عرفوا عن إنسان أنه يزيد ويبتدع بينوا له، مثل الذي يكفر العصاة، وهذا دين الخوارج، الخوارج هم الذين يكفرون بالمعاصي “উলামাদের তরফ থেকে শিক্ষাপ্রদান ও দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এর সমাধান করতে হবে। যখন কোনো মানুষের ব্যাপারে তাঁরা জানবেন, সে অতিরঞ্জন করছে, বিদাত করছে, তখন তাঁরা তাকে বিষয়টি অবগত করবেন। যেমন সেই ব্যক্তি, যে (মুসলিম) পাপী মানুষদের কাফির ফতোয়া দেয়। এটা খারেজিদের আদর্শ। খারেজি তারাই, যারা পাপকাজের দরুন কাফির ফতোয়া দেয়।” [মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাতুম মুতানাওয়্যাআহ, খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ২৩৬]

ইমাম ইবনু উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহও (মৃত: ১৪২১ হি.) খারেজিদের একই পরিচয় দিয়েছেন। [দেখুন: ইবনু উসাইমিন কৃত মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, খণ্ড: ৯; পৃষ্ঠা: ৫৯৪]

এই সংজ্ঞার পক্ষে সুন্নাহ থেকে দলিল আছে। সাহাবি ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা খারেজিদের প্রসঙ্গে বলেছেন, إِنَّهُمْ انْطَلَقُوا إِلَى آيَاتٍ نَزَلَتْ فِي الْكُفَّارِ فَجَعَلُوهَا عَلَى الْمُؤْمِنِينَ “এরা এমন কিছু আয়াতকে মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করেছে, যা নাজিল হয়েছে কাফিরদের ব্যাপারে।” [সহিহুল বুখারিতে বর্ণিত কাটাসনদের হাদিস, তাওহিদ অধ্যায় (৮৮); পরিচ্ছেদ: ৬; বিশুদ্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন সনদে হাদিসটি তাফসিরুত তাবারিতে এসেছে; দেখুন: ইবনু হাজার কৃত ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১২; পৃষ্ঠা: ২৮৬]
আবু ত্বহা আদনান সাহেব নিজেও খারেজির এই সংজ্ঞা স্বীকার করেন। তিনি বলেছেন, “আরেকদল আছে, যারা মনে করে যে, একজন ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়েছে, মুখে স্বীকৃতি দিয়েছে, মনে বিশ্বাস করেছে, কাজ করতে গিয়ে যদি কবিরা গুনাহ করে ফেলে, তাহলে কাফের হয়ে গেল! কাজ করতে গিয়ে যদি কবিরা গুনাহ করে ফেলে, তাহলে সে কাফের হয়ে যায়, এমনও কিছু মানুষ মনে করে। যারা মনে করে—ভালো করে বোঝেন—যারা মনে করে যে, কবিরা গুনাহ করলে কোনো ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়, এদেরকে বলা হয় খারেজি।” [দেখুন:
(১:২১ মিনিট থেকে ১:৪৮ মিনিট পর্যন্ত)]

আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল, কোনো স্বীকৃত মুসলিম ব্যক্তিকে বড়ো কুফর বা বড়ো শির্ক নয় এমন কবিরা গুনাহ করার দরুন কেউ কাফির ফতোয়া দিলে সেই ব্যক্তি খারেজি হিসেবে বিবেচিত হয়। বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান সেই কাজটিই করেছেন। তিনি কাফির হওয়ার উপযুক্ত কারণ ছাড়াই কাফির ফতোয়া দিয়েছেন।
·
দ্বিতীয় ধাপ: আবু ত্বহা আদনানের কথা অনুযায়ী আরব বিশ্বের মুসলিম নেতারা আসলেই কি কাফির?
আবু ত্বহা আদনান সাহেবের সেই ভয়াবহ বক্তব্য দুটো আলাদা লেকচার থেকে আমরা ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছি। এখন সম্প্রতি খুলনা জেলার একটি মাহফিলে প্রদত্ত লেকচার থেকে সমধর্মী আরেকটি বক্তব্য উল্লেখ করছি। আবু ত্বহা সাহেব বলছেন, “যারা পেট্রোডলার সিস্টেম চালু করেছে, এসব ভোগবিলাসী আরবদেরকে আমরা বলি, এরা হচ্ছে আমিরুল মুমিনিন। নাউজুবিল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! কত অন্ধ হলে মানুষ এদেরকে আমিরুল মুমিনিন মনে করতে পারে! যারা মুসলিমদের প্রোপার্টি সব অ্যামেরিকার হাতে তুলে দিয়েছে। আর সেই প্রোপার্টি দিয়ে এরা বোম্বিং করে করে সারা বিশ্বে মুসলিমদেরকে হত্যা করছে। আল্লাহ পাক সেই যে বলেছেন, সুরা মায়িদার মধ্যে, ৫১ নং আয়াতে, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি এবং ক্রিশ্চিয়ানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ কোরো না।’ কে বলেছেন? আল্লাহর চেয়ে কি আমি জিও-পলিটিক্স ভালো বুঝি? আল্লাহর চেয়ে আমি আমার ভালোমন্দ ভালো বুঝি? কাদেরকে? بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ – ‘যারা একে অপরের বন্ধু।’ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ – ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি এদের দিকে মুখ ফেরায়, তারা এদের অন্তর্ভুক্ত।’ এই উম্মাহর কেউ না তারা। সে যেই হোক। বিশ্বের এসব নামধারী মুসলিম কান্ট্রিদের চাইতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনেক ভালো আছে।”

[দেখুন:
(৩৬:২৭ মিনিট থেকে ৩৭:৪০ মিনিট পর্যন্ত)]

পূর্বের বক্তব্যগুলোতে আবু ত্বহা আদনান গল্ফ কান্ট্রিজ তথা উপসাগরীয় দেশগুলোর মুসলিম নেতাদের কাফির ফতোয়া দিয়েছে। বিনা দলিলে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে ‘ইহুদিদের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে ইসলাম থেকে বের করে দিয়েছে। তার কথা থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পেট্রোডলার চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার কারণে আরব বিশ্বের নেতারা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে। আর যারা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধু বানাবে, তারা কাফির! সুতরাং পেট্রোডলার চুক্তির পরে মুহাম্মাদ বিন সালমান-সহ ইতঃপূর্বে আরব বিশ্বে যত মুসলিম নেতা ছিলেন, সবাই কাফির! কী জলবত-তরলং হিসাব!

পেট্রোডলার চুক্তি কে করেছিলেন, সেটার কথা আবু ত্বহা আদনান সাহেব বলেনি। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন কট্টর ইহুদি-বিরোধী, জায়নবাদীদের চক্ষুশূল, ফিলিস্তিনের বাইতুল মাকদিস পুনরুদ্ধারের স্বপ্নদ্রষ্টা, মুসলিম জাহানের ইমাম, বাদশাহ ফায়সাল বিন আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ। পেট্রোডলারের রাজনীতি আমার গণ্ডিভুক্ত বিষয় নয়। এ বিষয়ে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে যা জানি, সেটা বলছি। আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় মার্কিনিরা ইসরাইলকে সামরিক সাহায্য দেওয়ায় বাদশাহ ফায়সাল-সহ আরব বিশ্বের মুসলিম নেতারা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। আমেরিকাকে শায়েস্তা করার জন্য বাদশাহ ফায়সাল তেল রপ্তানিকারক আরব দেশগুলোকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দোসরদের ওপর তেল বয়কট আরোপ করেন। তেলের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উনিশশো তিয়াত্তরের সেই তেল সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহু পেট্রোলপাম্প এবং অসংখ্য গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বাধ্য হয়ে সৌদি আরবকে তেল বিক্রির জন্য জোরাজুরি করতে থাকে এবং কয়েকগুণ দাম দিয়ে হলেও তেল কিনতে চায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট একটা শর্ত দিয়েছিল, সৌদি আরবকে কেবল ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রি করতে হবে। এতে করে সকল দেশ তেল কেনার সময় পকেটে করে ডলার নিয়ে যেতে বাধ্য হবে। বাদশাহ ফায়সালের সাথে সেসময় কী ঘটেছিল আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি নিক্সনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান এবং তেল রপ্তানিকারক বাকি আরব দেশগুলোকেও উক্ত প্রস্তাবে রাজি করান। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পেট্রোডলার সচল হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি হয়ে ওঠে প্রচণ্ড শক্তিশালী।

এই কারণে আর যাইহোক, বাদশাহ ফায়সাল রাহিমাহুল্লাহর মতো পরীক্ষিত উম্মাহদরদী মুত্তাকি মানুষকে এবং আরব বিশ্বের মুসলিম নেতাদেরকে কাফির ফতোয়া দেওয়া যায় না; যেই কাফির-ফতোয়া আবু ত্বহা আদনানের কথার পরিপ্রেক্ষিতে অপরিহার্যভাবে চলে আসে। এমনকি আমি আধুনিক খারেজিদের ব্যাপারে যথেষ্ট পড়াশোনা করেও আরব বিশ্বের এমন কোনো যশস্বী খারেজিকে দেখিনি, যে কিনা বাদশাহ ফায়সালকে এই কারণে কিংবা অন্য কোনো কারণে কাফির বলে। বাদশাহ ফায়সাল এই উম্মতের রত্ন ছিলেন। এজন্য আমি আবু ত্বহা আদনান ইস্যুতে কিং ফায়সালের ব্যাপারে স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আলোচনা করতে আগ্রহী।

এবার আসুন, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, বাদশাহ ফায়সাল-সহ আরবের মুসলিম নেতারা পেট্রোডলার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে নিজ দেশের ক্ষতি করেছেন। কিন্তু দেশের এমন ক্ষতি করার কারণে বা মুসলিম উম্মাহর সম্পদ নষ্ট করার কারণে কাউকে কাফির বলা হয়েছে শরিয়তে? বলা হয়নি। আপনি যদি এ কারণে কাফির বলেন, তাহলে দলিল নিয়ে আসুন। একটি আয়াত, কিংবা একটি হাদিস। পরন্তু মনে রাখবেন, বাদশাহ ফায়সাল-সহ আরব বিশ্বের মুসলিম নেতাদের এ কাজের দরুন তাঁদেরকে যদি কাফির হতে হয়, তাহলে সাহাবিদের শাসনামল শেষ হওয়ার পর থেকে নিয়ে মুসলিম জাহানের অসংখ্য শাসককে কাফির বলতে হবে। কারণ কোনো না কোনোভাবে তাঁরা সবাই-ই সম্পদ নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন!

কিন্তু আবু ত্বহা আদনান আসলে ইহুদি-খ্রিষ্টানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করার কারণে কাফির বলেছে। পেট্রোডলার চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া মুসলিম নেতাগণ আদনান সাহেবের কথা অনুযায়ী ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। অথচ এই চুক্তি করা মাত্রই প্রমাণিত হয় না, বাদশাহ ফায়সালের মতো মানুষ ইহুদি-খ্রিষ্টানের বন্ধু হয়ে গেছেন। যিনি কিনা আমৃত্যু ইসরাইলের বিরোধিতা করে গেছেন। এমনকি ধারণা করা হয়, বাদশাহ ফায়সালকে খুন করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল এবং এর কারণ ছিল তিয়াত্তরের তেল সংকট তৈরি করে ফিরিঙ্গিদের কোনঠাসা করা।

ইহুদি-খ্রিষ্টানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা সর্বক্ষেত্রে কুফর নয়। এক্ষেত্রে বিশদ বিবরণের অবকাশ রয়েছে। এমন না যে, আপনার কোনো খ্রিষ্টান বা কাফির বন্ধু আছে, এজন্য আপনি কাফির। যদিও কাফির বন্ধুবান্ধব থাকা মোটেও ভালো কাজ নয়, বরং না-জায়েজ। সুরা মায়িদার ৫১ নং আয়াত দিয়ে আবু ত্বহা আদনান তার কথার পক্ষে দলিল দিয়েছেন। আয়াতে বলা হয়েছে, وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ “তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে (ইহুদি-খ্রিষ্টানকে) বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” [সুরা মায়িদা: ৫১]

আজঅবধি কোনো ইমাম এই আয়াতকে ব্যাপকভাবে সবার জন্য প্রয়োগ করেননি। ইমামগণ এ আয়াত অনুযায়ী কাদেরকে কাফির বলেছেন, আমি তার কয়েকটি নমুনা দেখাচ্ছি। আহলুস সুন্নাহর বিখ্যাত তাফসিরকারক ইমাম বাগাবি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৫১০ হি.) বলেছেন, ومَن يَتَوَلَّهُمْ مِنكُمْ، فيوافقهم ويعينهم، فَإنَّهُ مِنهُمْ “যে ব্যক্তি ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, তাদের সাথে একমত হয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” [তাফসিরুল বাগাবি, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ৫৯; তাহকিক: আব্দুর রাজ্জাক আল-মাহদি; দারু ইহইয়ায়িত তুরাসিল আরাবি (বৈরুত) কর্তৃক প্রকাশিত; প্রকাশকাল: ১৪২০ হিজরি (১ম প্রকাশ)]
তিনি আয়াতটির ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যারা ইহুদি-খ্রিষ্টানদেরকে তাদের কুফরির প্রতি সম্মতি জানিয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে, তারা তাদের মতো কাফির হিসেবে গণ্য হবে। একই কথা শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহও (মৃত: ৭২৮ হি.) বলেছেন। [দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ২৫; পৃষ্ঠা: ৩২৬]

প্রখ্যাত তাফসিরকারক ইমাম শিহাবুদ্দিন আল-আলুসি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ১২৭০ হি.) বলেছেন, وقيل: المراد ومَن يَتَوَلَّهُمْ مِنكُمْ فَإنَّهُ كافر مثلهم حقيقة، وحكي عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما، ولعل ذلك إذا كان توليهم من حيث كونهم يهودا أو نصارى “বলা হয়ে থাকে, আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে— যারা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই মতো সত্যিকারের কাফির হিসেবে বিবেচিত হবে। বিষয়টি ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে। সম্ভবত তখনই কাফির হবে, যখন কেউ ‘ওরা ইহুদি-খ্রিষ্টান হওয়ার কারণেই’ ওদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে।” [আলুসি কৃত রুহুল মাআনি, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৩২৫]
এজন্য বর্তমান যুগে আকিদার সবচেয়ে বড়ো আলিমদের অন্যতম আল্লামা আব্দুল আযিয আর-রাজিহি হাফিযাহুল্লাহ (জন্ম: ১৩৬০ হি.) বলেছেন, وأما الموالاة بمعنى المعاشرة والمصادقة بدون محبة القلب فهذه كبيرة من كبائر الذنوب “অন্তরের ভালোবাসা ব্যতিরেকে কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করা, মেলামেশা করাই যদি হয় তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করার মানে, তাহলে এ কাজ একটি কবিরা গুনাহ (কুফর নয়)।” [শাইখ রাজিহি কৃত শারহু কিতাবিল ইমানিল আওসাত, উক্ত কিতাবের দারসের ৬নং অডিয়ো ক্লিপের ট্রান্সক্রিপ্ট, পৃষ্ঠা: ৪]

সহজ কথায়, পুরো ব্যাপারটা অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। কেউ যদি কাফিরদের ধর্মের কারণে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তাহলে সেও তাদের মতো কাফির হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে দুনিয়াবি স্বার্থে যদি তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে পাপী মুসলিম হবে, কাফির হবে না। আর অন্তরস্থ কুফর কখনোই লিখিত বা মৌখিক স্বীকারোক্তি ছাড়া জানা যায় না। এখন কাফিরদেরকে ভালোবাসা কিংবা মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করার বিধান কী, সেটা ক্লিয়ার করি। তার আগে বলে রাখছি, আমার কাছে সুরা মায়িদার ৫১ নং আয়াতাংশটির সবচেয়ে ভালো অনুবাদ— “যারা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে, তারা ওদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” ‘বন্ধুরূপে গ্রহণ করার’ অনুবাদটিও ভুল নয়।

কাফিরদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে পৃষ্ঠপোষকতা বা সাহায্য করার তাফসিলি (ব্যাখ্যাপূর্ণ) বিধান কী হবে, সেটা আমাদের অনুবাদ-পরিকল্পনাধীন কিতাব আল্লামা সুলাইমান আর-রুহাইলি হাফিযাহুল্লাহ বিরচিত ‘শারহু নাওয়াকিদিল ইসলাম’ থেকে তুলে ধরছি। আমি মূল আলোচনার সারাংশ বলছি। কাফিরদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্য করার বিধান তিন রকমের। যথা:
  • ১. কাফিরদেরকে তাদের ধর্মের জন্য সাহায্য করা বড়ো কুফর। ইসলামের ওপর তাদের ধর্মের বিজয় হোক এই অভিপ্রায় নিয়ে কিংবা তাদের ধর্ম ঠিক আছে এমন মনে করে তাদেরকে সাহায্য করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে।
  • ২. কাফিরদের ধর্মকে ঘৃণা করে, ইসলামের ওপর তাদের ধর্মের বিজয়কে ঘৃণা করে, স্রেফ দুনিয়াবি স্বার্থে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করা গুনাহের কাজ এবং চরম অপরাধ।
  • ৩. বিপথে যাওয়া সন্ত্রাসী ও ক্রিমিনাল মুসলিমদের নৈরাজ্য প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা বৈধ। এ কাজ নিষিদ্ধ নয়। [দেখুন: শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলি কৃত আল-ইফাদাতু ওয়াল ইলাম বি ফাওয়ায়িদি রিসালাতি নাওয়াকিদিল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ৪৪-৪৬]
বলবেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেও কাফির না হওয়ার দলিল কী? দলিল হলো— সুন্নাহ এবং উলামাদের সর্ববাদিসম্মত অভিমত। বদরবাসী সাহাবি হাতিব বিন আবু বালতাআ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা আমরা সবাই জানি। তিনি মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোপন পরিকল্পনার তথ্য দিয়ে মক্কার মুশরিকদের কাছে এক মহিলার মারফতে চিঠি প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে মুরতাদ হিসেবে হত্যা করার অনুমতি চান। কিন্তু নবিজি তাঁকে মুরতাদ গণ্য করেননি। তিনি তাঁর কাছে জানতেন চান, কেন তিনি এমনটি করলেন। জানতে চাওয়াটাই বড়ো দলিল— মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করামাত্র কেউ কাফির হয় না। কাফির হলে নবিজি এভাবে জানতে চাইতেন না।

হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব দেন, ‘হে আল্লাহর রসুল, আমার ব্যাপারে কোনো তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আসলে আমি কুরাইশ বংশোদ্ভূত নই। তবে তাদের সঙ্গে মিশে ছিলাম। আর যারা আপনার সঙ্গে মুহাজিরগণ রয়েছেন, তাদের সকলেরই মক্কাবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে তাঁদের পরিবারপরিজন ও ধনসম্পদ নিরাপদ। তাই আমি চেয়েছি, যেহেতু আমার বংশগতভাবে এ সম্পর্ক নেই, কাজেই আমি তাদের প্রতি এমন কিছু অনুগ্রহ দেখাই, যার দরুন অন্তত তারা আমার আপনজনদের রক্ষা করবে। আর আমি এ কাজ কুফরি কিংবা মুরতাদ হবার উদ্দেশ্যে করিনি এবং কুফরির প্রতি আকৃষ্ট হবার কারণেও নয়।’ প্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হাতিব তোমাদেরকে সত্য কথাই বলছে।’ [দীর্ঘ হাদিসটি দেখুন: সহিহুল বুখারি, হা: ৩০০৭; সহিহ মুসলিম, হা: ২৪৯৪]

হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু যা করেছিলেন, তা কাফিরদের প্রতি মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্য ছিল। এরপরেও তাঁকে কাফির গণ্য করা হয়নি। যদিও উক্ত কাজটি বড়ো অপরাধ ছিল, কবিরা গুনাহ ছিল। কিন্তু তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবি হওয়ায় তাঁকে ক্ষমা করা হয়।

এজন্য ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৩২১ হি.) উলামাদের ইজমা তথা সর্ববাদিসম্মত অভিমত বর্ণনা করেছেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্যকারী মুসলিম গুপ্তচর কাফির নয়, তার রক্ত হালাল নয়। [বিস্তারিত দেখুন: ইবনু হাজার বিরচিত ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১২; পৃষ্ঠা: ৩১০] আমি আলোচনা সংক্ষেপ করছি। অন্যথায় হাফিয ইবনু হাজার রাহিমাহুল্লাহর মূল্যবান কথা উদ্ধৃত করে তার ব্যাখ্যা করতাম।

জগদ্বিখ্যাত ইমাম শাফিয়ি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ২০৪ হি.) সাহাবি হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস প্রসঙ্গে আলোচনা করতে যেয়ে বলেছেন, فِي هَذا الحَدِيثِ مَعَ ما وصَفْنا لَك طَرْحُ الحُكْمِ بِاسْتِعْمالِ الظُّنُونِ لِأنَّهُ لَمّا كانَ الكِتابُ يَحْتَمِلُ أنْ يَكُونَ ما قالَ حاطِبٌ كَما قالَ مِن أنَّهُ لَمْ يَفْعَلْهُ شاكًّا فِي الإسْلامِ وأنَّهُ فَعَلَهُ لِيَمْنَعَ أهْلَهُ ويُحْتَمَلُ أنْ يَكُونَ زَلَّةً لا رَغْبَةً عَنْ الإسْلامِ واحْتَمَلَ المَعْنى الأقْبَحَ كانَ القَوْلُ قَوْلَهُ فِيما اُحْتُمِلَ فِعْلُهُ وحُكْمُ رَسُولِ اللَّهِ - ﷺ - فِيهِ بِأنْ لَمْ يَقْتُلْهُ ولَمْ يَسْتَعْمِلْ عَلَيْهِ الأغْلَبَ “আমরা তোমাকে যা বললাম, এছাড়াও এ হাদিস থেকে জানা যায়— নানাবিধ ধারণা ব্যবহার করে হুকুমকে প্রত্যাখ্যান করা যায়। কেননা চিঠি লেখার বিষয়টি এরূপ সম্ভাবনা রাখে, যেমনটি হাতিব নিজের ব্যাপারে বলেছেন যে, তিনি ইসলামের প্রতি সংশয়াবিষ্ট হয়ে কাজটি করেননি, বরং আপন পরিজনকে রক্ষার জন্য এমন কাজ করেছেন। আবার এরূপ সম্ভাবনা রাখে, কাজটি ইসলাম থেকে বিমুখ হওয়ার মতো বিষয় নয়, বরং সেটা ছিল একটি স্খলন বা গুনাহের কাজ। আবার সেটা সবচেয়ে কদর্য অর্থেরও (অর্থাৎ কাফির হওয়ারও) সম্ভাবনা রাখে। বিষয়টি যখন এমনই, তখন হাতিবের কর্ম এবং তাঁর ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিদ্ধান্তের এরূপ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে হাতিবের কথাকেই প্রকৃত কথা হিসেবে বিবেচনা করা হবে; যাঁর ব্যাপারে নবিজি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তিনি তাঁকে হত্যা করবেন না এবং তাঁর ওপর প্রয়োগ করবেন না প্রবল ধারণা (যেহেতু প্রবল ধারণা অনুযায়ী এরূপ কাজ মুনাফেকরাই করে থাকে – অনুবাদক)।” [ইমাম শাফিয়ি কৃত আল-উম, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ২৬৪]

আর শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৭২৮ হি.) বলেছেন, فإن التكفير لا يكون بأمر محتمل “কোনো সম্ভাবনাময় বিষয়ের জন্য কাউকে কাফির বলা যাবে না।” [শাইখুল ইসলাম কৃত আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রসুল, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৫১৭]

ইমাম শাফিয়ি ছাড়াও হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাজ-সহ সমধর্মী কাজকে বড়ো কুফর নয় এমন কবিরা গুনাহ মনে করেছেন আরও অনেক ইমাম। আমরা তাঁদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি।

১. ইমাম ইবনুল আরাবি আল-মালিকি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৫৪৩ হি.)। [ইবনুল আরাবি কৃত আহকামুল কুরআন, খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ২২৫]

২. ইমাম কাদি ইয়াদ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৫৪৪ হি.)। [কাদি ইয়াদ কৃত ইকমালুল মুলিম বি ফাওয়ায়িদি মুসলিম, খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৫৩৯]

৩. ইমাম আবুল আব্বাস আল-কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৬৫৬ হি.)। [কুরতুবি কৃত আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম, খণ্ড: ৬; পৃষ্ঠা: ৪৪২]

৪. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৭২৮ হি.)। [মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৫২৩]

৫. ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৭৫১ হি.)। [ইবনুল কাইয়্যিম কৃত যাদুল মাআদ, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৪২৩-৪২৪]

৬. হাফিজ ইবনু হাজার আল-আসকালানি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৮৫২ হি.)। [ইবনু হাজার কৃত ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১২; পৃষ্ঠা: ৩১০]

৭. খ্যাতনামা নাজদি বিদ্বান ইমাম আব্দুল লাতিফ বিন আব্দুর রহমান আলুশ শাইখ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ১২৯৩ হি.)। [উসুল ওয়া দাওয়াবিত ফিত তাকফির, পৃষ্ঠা: ২৫-২৬; আদ-দুরারুস সানিয়্যা, খণ্ড: ১৫; পৃষ্ঠা: ৪৮৩]

৮. বিশিষ্ট নাজদি বিদ্বান আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আযিয আল-আনকারি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ১৩৯১ হি.)। [আদ-দুরারুস সানিয়্যা, খণ্ড: ৯; পৃষ্ঠা: ১৫৭-১৫৮]

৯. বর্তমান সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ নাজদি বিদ্বান আল্লামা সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ (জন্ম: ১৩৫৪ হি.)। [দুরুসুন ফি শারহি নাওয়াকিদিল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ১৫৯-১৬০]

১০. নাজদিদের আরেক সুযোগ্য সব্যসাচী বিদ্বান আল্লামা সালিহ বিন আব্দুল আযিয আলুশ শাইখ হাফিযাহুল্লাহ (জন্ম: ১৩৭৮ হি.)। [শাইখ সালিহ আলুশ শাইখের শারহু মাসায়িলিল জাহিলিয়্যার রেকর্ডেড টেপ; গৃহীত: মুহাম্মাদ আল-কাহতানি সংকলিত ফাতাওয়াল আয়িম্মা ফিন নাওয়াযিলিল মুদালাহাম্মা, পৃষ্ঠা: ২৫৭-২৬০]

উল্লেখ্য যে, কতিপয় নাজদি ইমামের ব্যাখ্যাহীন অভিমত দিয়ে খারেজিরা প্রচার করে, নাজদি ইমামদের মতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করলেই ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়। অথচ তাঁদের ব্যাখ্যাহীন বক্তব্যকে অন্য নাজদি ইমামদের ব্যাখ্যাসংবলিত বক্তব্য অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে হবে। খারেজিদের খণ্ডন করে এ কথা ব্যক্ত করেছেন নাজদি পণ্ডিত আল্লামা আব্দুল্লাহ আল-আনকারি রাহিমাহুল্লাহ। [আদ-দুরারুস সানিয়্যা, খণ্ড: ৯; পৃষ্ঠা: ১৫৭-১৫৮]

একইকথা বলেছেন নাজদিদের হেরিটেজ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মাদ হিশাম তাহিরি তাঁর পিএইচডি অভিসন্দর্ভ ‘তাকরিরাতু আয়িম্মাতিদ দাওয়াহ’ গ্রন্থে, যেই সন্দর্ভটি সুপারভাইজ করেছেন প্রখ্যাত নাজদি বিদ্বান বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল আযিয আলুশ শাইখ হাফিযাহুল্লাহ। [দেখুন: ড. মুহাম্মাদ তাহিরি কৃত তাকরিরাতু আয়িম্মাতিদ দাওয়াহ ফি মুখালাফাতি মাযহাবিল খাওয়ারিজি ওয়া ইবতালিহি, পৃষ্ঠা: ৮৭৩-৮৭৫]

অনুরূপভাবে কাফিরদেরকে ভালোবাসার বিধানও তিন ধরনের। যথা:
  • ১. কাফিরদের ধর্মের কারণে তাদেরকে ভালোবাসা। এই ভালোবাসা পোষণ করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়।
  • ২. স্বভাবজাত ভালোবাসা। যেমন সন্তান তার পিতাকে ভালোবাসে। আমাদের প্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিধর্মী পিতৃব্য আবু তালিবকে ভালোবেসেছেন। স্বয়ং আল্লাহ জানিয়েছেন এ কথা কুরআনে। [সুরা কাসাস: ৫৬]
  • ৩. ধর্মের কারণেও নয়, আবার না চাইতেই অন্তরে উদ্রেক হওয়া স্বভাবজাত ভালোবাসাও নয়, এমন ধরনের ভালোবাসা। এই ভালোবাসা দুনিয়াবি স্বার্থে বা অন্য কোনো কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে অর্জন করতে হয়। এরূপ ভালোবাসা হারাম। [দেখুন: শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলি কৃত আল-ইফাদাতু ওয়াল ইলাম বি ফাওয়ায়িদি রিসালাতি নাওয়াকিদিল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ৪৬-৪৭]
কাফিরদের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকা মাত্র সেটাকে কুফর মনে করা, ‘বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে’ বলে বেড়ানো আহলুস সুন্নাহর স্বভাব নয়, এগুলো চরমপন্থিদের লক্ষণ। জজবাতি যুবকদের এই সমস্যা ইমাম ইবনু উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ১৪২১ হি.) ঠিকই ধরে ফেলেছিলেন। এজন্য তিনি বলেছেন, “কিছু যুবক মনে করে, কাফিরদের সাথে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ মাত্রই সেটা কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা বা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করার শামিল; অথচ বিষয়টি সেরকম নয়।” [লিকাআতুল বাবিল মাফতুহ, খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৪৬৬; লিকা নং: ৬৭; প্রশ্ন: ১৫০৭]

ইমাম সালিহ আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহও (জন্ম: ১৩৫৪ হি.) এরকম অনেক বিষয়ের কথা আলোচনা করেছেন, যেগুলোকে অজ্ঞ মানুষজন কুফর মনে করে, বিধর্মীদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করার শামিল মনে করে, অথচ বাস্তবে বিষয়গুলো সেরকম নয়। যেমন: বিধর্মীদের সাথে ক্রয়বিক্রয় করা, উপহার বিনিময় করা, বিধর্মীর অধীনে চাকরি করা, বিধর্মীদের সাথে শান্তিচুক্তি বা সন্ধি করা, মুসলিমদেরকে বিপদ থেকে রক্ষার্থে বিধর্মী প্রতিপক্ষের সাথে মোসাহেবি করা প্রভৃতি।

ইমাম সালিহ আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে বলেছেন, “এসব বিষয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ফাকিহ ও উলামা ছাড়া অন্য কেউ এর মধ্যে আসবে না। তালিবুল ইলমরা ও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এসবের মধ্যে ঢুকবে না। তারা এসব বিষয়ে বাতিল আলাপে লিপ্ত হবে না, ইচ্ছামতো হালাল-হারামের ঘোষণা দেবে না, মানুষদেরকে অভিযুক্ত করে বলবে না, ‘এটা কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা।’ অথচ তারা বিষয়টি জানে না, শরিয়তের বিধান জানে না। এটা ভয়াবহ বিষয়, কথকের জন্য এ কথা বিপজ্জনক। কেননা সে না জেনে আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলেছে।” [বিস্তারিত দ্রষ্টব্য: শাইখ উসামা বিন আতায়া আল-উতাইবি বিরচিত আল-হুজাজুল কাউয়িয়্যাহ আলা উজুবিদ দিফায়ি আনিদ দাওলাতিস সাউদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৩২২-৩২৩; মাকতাবাতুর রুশদ (রিয়াদ) কর্তৃক প্রকাশিত; প্রকাশকাল: ১৪২৬ হিজরি (১ম প্রকাশ)]

তথাপি দলিলের বাহ্যিকতা দেখেই যদি আমরা মুসলিম উম্মত থেকে খারিজ করতে থাকি, তাহলে এরকম আরও অসংখ্য দলিলের ক্ষেত্রেও বাহ্যিক অর্থ দেখে মানুষদের মুসলিম উম্মত থেকে খারিজ করতে হবে। যেমন একটি হাদিস থেকে নমুনা দেখাচ্ছি। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ “যে ব্যক্তি বিধর্মীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত গণ্য হবে।” [আবু দাউদ, হা: ৪০৩১; সনদ: সহিহ] এখন বলুন, বিধর্মী খেলোয়াড়, বা বিধর্মী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাথে মিল রেখে অসংখ্য মুসলিম নিজেদের লাইফস্টাইল চেইঞ্জ করে কিনা? মুসলিম যুবারা তাদের মতো ড্রেসআপ ও সাজসজ্জা গ্রহণ করে কিনা? কাফিরদের অনুকরণে হারাম নাটক-সিরিয়াল দেখে কিনা? এখন বাংলাদেশে মুসলমান খুঁজে বের করেন। আবু ত্বহা আদনানের জলবত-তরলং হিসাব অনুযায়ী এরা কেউ আর মুসলিম উম্মতের মধ্যে নাই, সবাই কাফির হয়ে গেছে!

অথচ ব্যাপারটি মোটেও এরকম নয়। ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহর নেতৃত্বে সৌদি ফতোয়া বোর্ডের উলামাগণ বলেছেন, “কাফিরদের সাথে সাদৃশ্যের বিধান বিভিন্ন রকম হতে পারে। এটা কতকক্ষেত্রে (বড়ো) কুফর হতে পারে। যেমন: কবরবাসীদের কাছে ফরিয়াদ করা, ক্রুশের কাছে বরকত কামনা করা এবং ক্রুশকে ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা। আবার কখনো কখনো এটা কেবল হারাম হতে পারে। যেমন: দাড়ি মুণ্ডন করা, বিধর্মীদেরকে তাদের উৎসবে সম্ভাষণ জানানো ইত্যাদি। তবে বিধর্মীদের সাথে এরূপ হারাম সাদৃশ্যস্থাপনের ব্যাপারটিও কখনো কখনো কুফরের দিকে নিয়ে যায়।” [দেখুন: ফাতাওয়া লাজনা দায়িমা (১ম গুচ্ছ); খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ৪২৯; রিয়াসাতু ইদারাতিল বুহুসিল ইলমিয়্যা ওয়াল ইফতা (রিয়াদ) কর্তৃক প্রকাশিত]

এ আলোচনা থেকে সূর্যালোকের মতো উদ্ভাসিত ও প্রতিভাত হয়ে গেল, আবু ত্বহা আদনানের দাবি মোতাবেক আরব বিশ্বের মুসলিম নেতারা কাফির নয়। বরং কাফির হওয়ার উপযুক্ত কারণ ব্যতিরেকে গণহারে আরব বিশ্বের মুসলিম নেতাদেরকে কাফির ফতোয়া দেওয়ায় আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান খারেজি সাব্যস্ত হলো। কেননা কাফির হওয়ার উপযুক্ত দলিলসম্মত কারণ ব্যতিরেকে যারা মুসলিমদের কাফির ফতোয়া দেয়, তারাই খারেজি।

সুপ্রিয় পাঠক, আপনার জ্ঞাতার্থে বলছি, আবু ত্বহা আদনান যেই আয়াতটি দলিল হিসেবে পেশ করে কাফির ফতোয়া দিয়েছে, সেই আয়াতটি তথা সুরা মায়িদার ৫১ নং আয়াতটি তৎকালীন মুনাফেকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। অনেক তাফসিরকারক বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। যেমন ইমাম আবু জাফর আত-তাবারি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত: ৩১০ হি.) বলেছেন, لا شَكَّ أنَّ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي مُنافِقٍ كانَ يُوالِي يَهُودَ أوْ نَصارى، خَوْفًا عَلى نَفْسِهِ مِن دَوائِرِ الدَّهْرِ، لِأنَّ الآيَةَ الَّتِي بَعْدَ هَذِهِ تَدُلُّ عَلى ذَلِكَ، وذَلِكَ قَوْلُهُ: فَتَرى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشى أنْ تُصِيبَنا دائِرَةٌ “নিঃসন্দেহে এই আয়াত জনৈক মুনাফেকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যে কিনা যুগের দুর্বিপাকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইহুদি বা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষকতা করত। পরবর্তী আয়াতটিই এর প্রমাণ। যে আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘সুতরাং যাদের অন্তরে রয়েছে রোগ, আপনি তাদেরকে দ্রুততার সাথে তাদের সঙ্গে মিলিত হতে দেখবেন এ কথা বলে যে, আমরা আশঙ্কা করছি, কোনো বিপদ আমাদের আক্রান্ত করে ফেলবে।’ (সুরা মায়িদা: ৫২)” [তাফসিরুত তাবারি, খণ্ড: ৮; পৃষ্ঠা: ৫০৬]

যারা কাফিরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হওয়া আয়াত কাফির হওয়ার উপযুক্ত কারণ ছাড়াই মুসলিমদের ওপর ফিট করে, এরাই খারেজি। সাহাবি ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা খারেজিদের প্রসঙ্গে বলেছেন, إِنَّهُمْ انْطَلَقُوا إِلَى آيَاتٍ نَزَلَتْ فِي الْكُفَّارِ فَجَعَلُوهَا عَلَى الْمُؤْمِنِينَ “এরা এমন কিছু আয়াতকে মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করে, যা কাফিরদের ব্যাপারে নাজিল হয়েছে।” [সহিহুল বুখারিতে বর্ণিত কাটাসনদের হাদিস, তাওহিদ অধ্যায় (৮৮); পরিচ্ছেদ: ৬; বিশুদ্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন সনদে হাদিসটি তাফসিরুত তাবারিতে এসেছে; দেখুন: ইবনু হাজার কৃত ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১২; পৃষ্ঠা: ২৮৬]

আরেকটি বিষয়ের প্রতি প্রিয় ভাই ও বোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কেউ বড়ো কুফর করা মাত্রই কাফির হয় না। আপনারা কি ওই মানুষটির কথা শোনেননি, যিনি আল্লাহর মহাক্ষমতার প্রতি কুফরি (অস্বীকার) করে, আল্লাহর ভয়ে আপন পুত্রদের অসিয়ত করেছিলেন, তারা যেন তাঁকে পুড়িয়ে ছাই করে সেই ছাই বাতাসে উড়িয়ে দেয়? তিনি মনে করেছিলেন, এরকম করলে আল্লাহ তাঁকে পুনরায় জীবিত করতে পারবেন না! এরকম বিশ্বাস করলে মানুষ কাফির হয়ে যায়। এ সত্ত্বেও আল্লাহ ব্যক্তিটিকে মাফ করে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত করেন। [সহিহুল বুখারি, হা: ৬৪৮০; সহিহ মুসলিম, হা: ২৭৫৬]

কেউ বড়ো কুফর করলেও বেশকিছু শর্ত পূরণ করে এবং এ সংক্রান্ত বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা দূর হলে কেবল তখনই একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্টভাবে কাফির ফতোয়া দেওয়া যায়। অথচ আবু ত্বহা আদনান সাহেব এসব থেকে জোজন-জোজন দূরে অবস্থান করছেন। আচ্ছামতো কুরআনের বিশেষ আয়াতগুলো নিয়ে এসে ম্যাস-তাকফির করে বেড়াচ্ছেন। তাওহিদের দেশের বিরুদ্ধে গায়ের জ্বালা মিটিয়ে বলার পরে সুন্দর করে স্বঘোষিত সেকুলারিজমের ধারক রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করছেন! কারণ তার জানা আছে, সংশ্লিষ্ট দেশটির সেকুলার নীতি, কট্টর হিন্দুবাদীদের প্রতি উৎকট সমর্থন এবং পুকুরচুরি টাইপের দুর্নীতি করে মুসলিম দেশের সম্পদ ফিরিঙ্গিদের দেশে পাচার করার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে বললে ‘এগ-থেরাপির’ বন্দোবস্ত হতে দেরি হবে না। কিন্তু আরব বিশ্বের মুসলিম নেতাদের কাফির ফতোয়া দিয়ে বেড়ালে আমায় ধরে কে?! এসব নিকৃষ্ট খারেজিদের মুনাফেকি কত ভয়ংকর, চিন্তা করেন!

এজন্য আমরা বলি, আবু ত্বহা আদনানকে খারেজি বলা মোটেও দোষণীয় না। বরং মুসলিম সমাজকে সতর্ক করার জন্য আবু ত্বহা আদনানকে খারেজি বলা এবং তার থেকে সতর্ক-সাবধান করা জরুরি। শাইখ ড. জাকারিয়া স্যার অলরেডি তাকে আদনানী-গোষ্ঠী বলে খারেজি ফতোয়া দিয়েছেন। বাংলাদেশের আরেকজন সালাফি বিদ্বান শাইখ আখতারুল আমান বিন আব্দুস সালাম মাদানি হাফিযাহুল্লাহও সম্প্রতি আমার এক ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন, “আবূ তোহা আদনান পাক্কা খারেজী জাহেল!”
বাংলাভাষায় লিখন-জগতের দিকপাল, শাইখ আব্দুল হামিদ ফাইযি মাদানি হাফিযাহুল্লাহকে ভ্রষ্ট বক্তা তামিম আল-আদনানি এবং আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, “জাননেওয়ালা যারা, তাঁরা বলেছেন, এরা হচ্ছে খারেজি।... নির্ভরযোগ্য আলিম যখন বলবেন, অমুক খারেজি, তখন আমরা নিশ্চয় মনে করব যে, সে খারেজি। যখন তার কাছে দলিল আছে, প্রমাণ আছে। এবং আপনাকে ভিডিয়ো দিয়ে প্রমাণ করছেন, দেখুন, তারা কী বলছে।” [দেখুন: "খারেজীদের বৈশিষ্ট্য কি?আবু ত্বহা আদনান কি খারেজী?শায়খ আব্দুল হামিদ ফাইযী আল মাদানী হাফিজাহুল্লাহ্ (৩:২৭ মিনিট থেকে ৩:৫৬ মিনিট পর্যন্ত)]

❏ তৃতীয় ধাপ: আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনানকে আদনানি-গোষ্ঠীভুক্ত বলা কি ভুল?
ড. জাকারিয়া স্যার আবু ত্বহা আদনান থেকে সতর্ক করার সময় বলেছেন, “আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনান, সে হচ্ছে আদনানি-গোষ্ঠী, তামিম আদনানি গোষ্ঠীর লোক।” [দেখুন: https://youtu.be/W73CvFq1dGs (০:১৭ মিনিট থেকে ০:৩৮ মিনিট পর্যন্ত)]
আবু ত্বহা আদনান এ কথার জবাবে বলেছে, “কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা লিখনী যদি কোনো ব্যক্তির সাথে আংশিক মিলে যায়, তার মানে এই নয় যে, সেই ব্যক্তি সেই গোষ্ঠীর, বা ঘরানার। ফর এক্সাম্পল, কেউ যদি বলে থাকেন, সে আদনানি-গোষ্ঠীর মানুষ, আমার নামের শেষে আদনান থাকলেই কি আদনানি-গোষ্ঠী হয়ে যাব?” (যদ্দৃষ্ট – সংকলক) [দেখুন: খারেজী, ইহুদীদের এজেন্ট? - অভিযোগের জবাব || আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান || Abu Toha Muhammad Adnan (৮:০২ মিনিট থেকে ৮:১৬ মিনিট পর্যন্ত)]

সত্যিকারার্থে নামের শেষে আদনান থাকার কারণে আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদননাকে আদনানি-গোষ্ঠী বলা হয়নি। বরং স্যার তাকে আদনানি-গোষ্ঠী বলেছেন পথভ্রষ্ট তামিম আল-আদনানির সাথে তার আদর্শগত মিল থাকার কারণে। ড. জাকারিয়া স্যার তাঁর অন্যান্য বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, তামিম আল-আদনানি খারেজি মতাদর্শের দিকে মানুষদের আহ্বান করে। একইভাবে আবু ত্বহা মুহাম্মাদ আদনানও তার বিভিন্ন বক্তব্যে খারেজি মতাদর্শ প্রচার করে। আর তামিম আল-আদনানি খারেজি হিসেবে একপ্রকার প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে মানুষের মধ্যে। এখন কাউকে আদনানি-গোষ্ঠী বলামাত্র জনগণ বুঝে যাবেন, এই লোকের মতাদর্শ আদনানিদের মতো। তখন তার থেকে সতর্ক হবেন।

এরকম বলায় কোনো দোষ নেই। আমি দলিল দিচ্ছি। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খারেজিদের জনক যুল-খুওয়াইসিরা এবং খারেজি সম্প্রদায় থেকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “এই লোকের এমন এক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় হবে, যাদের নামাজ-রোজা দেখে তোমরা নিজেদের নামাজ-রোজাকে তুচ্ছ মনে করবে।” [সহিহুল বুখারি, হা: ৩৬১০; সহিহ মুসলিম, হা: ১০৬৪] এটা সর্বজনবিদিত যে, এই হাদিস খারেজিদের ব্যাপারে বলা হয়েছে। খারেজিদের মৌলিক মতাদর্শের ক্ষেত্রে সবার মধ্যে মিল থাকলেও খারেজিদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ আছে এবং আমাদের উলামাগণ খারেজিদের সবাইকে একই স্তরের মনে করেন না। কিন্তু স্তরের এই তারতম্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে যুল-খুওয়াইসিরার গোষ্ঠীর লোক বলা হয়। [দেখুন: শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়ার মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড: ২৮; পৃষ্ঠা: ৪৭১]

এমনকি জনৈক ব্যক্তি ছন্দাকারে শরিয়তবিরোধী কথা বললে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ‘এ তো গণকদের ভাই!’ গণকরা ছন্দবদ্ধ কথা বলে নিজেদের বাতিল কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটায়। কেবল এই বিষয়ে মিল থাকার জন্য নবিজি সেই ব্যক্তিকে ‘গণকদের ভাই’ আখ্যা দেন। [সহিহুল বুখারি, হা: ৫৪২৬; ইবনু হাজার কৃত ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১০; পৃষ্ঠা: ২২৬]
আলোচ্য পরিচ্ছেদের শেষে এসে সালাফদের যুগের একজন মহান ইমাম, তাবেয়ি মুহাম্মাদ বিন সিরিন রাহিমাহুল্লাহর [মৃত: ১১০ হি.] বক্তব্য উল্লেখ করে আবু ত্বহা আদনানদের মতো ভ্রষ্টকারী বিদাতি খারেজি বক্তা থেকে সুপ্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনদের সতর্ক করছি। আসমা বিন উবাইদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “দুজন বিদাতি ইবনু সিরিনের নিকট প্রবেশ করে বলল, ‘হে আবু বকর, আমরা আপনার কাছে একটি হাদিস বর্ণনা করি?’ তিনি বললেন, ‘না।’ তখন তারা দুজন বলল, ‘তাহলে আমরা আপনাকে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পড়ে শোনাই?’ তিনি বললেন, ‘না; হয় তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে চলে যাবে, অথবা আমি উঠে চলে যাব।’ বর্ণনাকারী বলছেন, তারা দুজন প্রস্থান করলে এক ব্যক্তি বলে উঠল, ‘হে আবু বকর, আপনার কী ক্ষতি হতো, যদি তারা দুজন আপনাকে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পড়ে শোনাত?’ ইবনু সিরিন বললেন, ‘নিশ্চয় আমি আশঙ্কা করেছি যে, তারা দুজন আমার কাছে একটি আয়াত পড়বে, অতঃপর তারা সে আয়াতে বিকৃতিসাধন করবে, ফলে তা গেঁথে যাবে আমার অন্তরে’।” [দারিমি, হা: ৪১১; সনদ: সাহিহ (তাহকিক: হুসাইন সালিম আসাদ); ইবনু বাত্তাহ, আল-ইবানাহ; বর্ণনা নং: ৩৯৮; লালাকায়ি, শারহু উসুলি ইতিকাদ, বর্ণনা নং: ২৪২; আজুর্রি, আশ-শারিয়াহ; বর্ণনা নং: ৬২]







লিখেছেন: মুহাম্মাদ আব্দুল্ললাহ মৃধা।​
 
Top